-
শিরোনামঃ শাসন ব্যবস্থার নতুন দিগন্ত
মেধাভিত্তিক যোগ্যতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এইচপিডি মতবাদের উন্মেষণ ও প্রস্তাবনা
অবতরণিকা
আমরা বাস্তবতায় প্রত্যক্ষণ করছি যে প্রচলিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, জনগণের প্রকৃত ও উপযুক্ত চাহিদা পূরণ, আকাঙক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদী কল্যাণ পূরণে প্রত্যাশিত সক্ষমতা অর্জনে ব্যর্থতায় পর্যবশিত হচ্ছে ।সংখ্যাগড়িষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রায়শই যোগ্যতা প্রজ্ঞা ও নৈতিক দায়িত্বের পরিবর্তে জনপ্রিয়তা, আবেগ এবং এবং সার্থ প্রাধান্য পায় ।গণতন্ত্রের কাঠামোর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সরকারি দল ও বিরোধী দলের অস্তিত্ত জনগণের মধ্যে স্থায়ী বিভাজনের সৃষ্টি করে ।সরকারি দল যে পরিমাণে সুযোগ সুবিধা ভোগ করে, বিরোধীদল প্রায সমপরিমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় ।এই বৈষম্য সমাজের একটি বড় অংশের মধ্যে বঞ্চনা ও অবিচারের অনুভূতি জন্ম দেয় ।অপরদিকে, বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংখ্যাগরিষ্ঠ পদ্ধতির মাধ্যমে সরকার গঠিত হয কিন্তু দেখা যায়, বেশিরভাগ জনগোষ্ঠি বিরোধীদের পক্ষে অবস্থান নেয় ।ফলে, সুবিধা বঞ্চিত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় ।এই বঞ্চনার প্রতিক্রিয়া স্বরূপ, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধা বঞ্চিত শ্রেণীগুলোর প্রায়শই আন্দোলন অবরোধ ধর্মঘট ভাঙচূর ঘেরাও ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের উৎপত্তি ঘটে ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পথে অগ্রসর হয ।এরফলে জাতীয় ঐক্য ও সমষ্টিগত অগ্রগতির পরিবর্তে সংঘাত বৃদ্ধি পায়, সামাজিক স্থিতিশীলতা ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদী রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয় ।
গণতন্ত্রের অবাধ রাজনীতিতে বর্তমানে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যবসাভিত্তিক রাজনীতিতে অনৈতিক অনুপ্রবেশ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে ।
ছাত্র রাজনীতি ও তৃণমূল রাজনীতির একটি অংশ আদর্শচ্যুত হয়ে ক্ষমতা দখলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে ।এরফলে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, মাদকব্যবসা ও নানা ধরনের অপকর্ম সংঘঠিত হচ্ছে ।দূর্ণীতি এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয, এটি সমাজের প্রায় সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়েছে, যা গণতন্ত্রের মূল চেতনা ও সুশাসনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে ।
গণতন্ত্রে প্রতিনিধি নির্বাচন একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ।কিন্তু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মিথ্যচার, শত্রুতা সৃষ্টি, অবৈধ অর্থের ব্যবহার, সংঘর্ষ, হানাহানি ও হত্যার মতো নানা অপকর্ম সংঘঠিত হয় ।এরফলে, নাগরিক সমাজ নৈতিকতা থেকে বিচ্যূত হয়ে অসৎপথে পা বাড়ায় এবং চরিত্রগত অবক্ষয়ের শিকার হয় ।
সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ধর্মীয় মূল্যবোধে কোনো স্বীকৃতি দেওয়া হয় না ।অথচ পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ কোনো না কোনো ধর্ম অনুসরণ করে থাকে ।এরফলে, মানুষের ধর্ম পালন অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় ।ফলে, মানবজীবনের আদর্শগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা গুরুতরভাবে ব্যাহত হয় ।
ধর্মীয় শাসন ব্যবস্থায ইহকালীন ও পরকালীন শান্তি কামনা করা হয় ।কিন্ত নিজ ধর্মের অনুসারী ছাড়া অন্যান্য ধর্মালম্বীদের আপনজন বন্ধু হিসেবে বা এক ই নাগরিক মূল্যায়ন শর্তে না বিবেচনা করে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হয় ।অথচ ধর্মের মূল শিক্ষা হলো শান্তি সহমর্মিতা ও মানব কল্যাণ ।তবুও বাস্তবে নাগরিকদের মানুষ হিসেবে যথাযথ মূল্যায়ন না করে বিভাজন সৃষ্টি করা হয় এবং শত্রুতার বীজ রোপন করা হয় ।
এই সব গভীর গবেষণা ও অনুসন্ধানের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি নতুন মতাদর্শের উন্মেষ ঘটেছে; যার নাম মেধাভিত্তিক যোগ্যতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ” মানবতা শান্তি উন্নয়ন “humanity peace development (HPD) ।
এই এইচপিডি মতাদর্শের মূল লক্ষ্য হলো, রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনায় মেধা যোগ্যতা সেবা ও নৈতিকতার সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্মিলিত মানব কল্যাণ, সামাজিক শান্তি ও নীতিগত টেকস ই উন্নয়ন নিশ্চিত করা ।এতে সকল জনগণ তাদের নীতিগত অধিকার অটো পদ্ধতিতে প্রাপ্ত হবে ।ধন্যবাদ সবাইকে ।পরবর্তীতে ধীরে ধীরে এইচপিডির বিস্তারিত প্রবন্ধ প্রকাশ করা হবে ।
লেখক মো মহসীন আলী
স্বাধীন গবেষক ও দার্শনিক লেখক ।5 Comments-
আপনার লেখাটি বেশ সময়োপযোগী এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনেক গভীর চিন্তার খোরাক জোগাল। প্রচলিত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাগুলো যেভাবে তুলে ধরেছেন তা সত্যিই ভাবার মতো। আপনাদের প্রস্তাবিত এই ‘এইচপিডি’ মতবাদটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলো কী কী হতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
Friends
Tonzim Sumon
@tonzimsumon
মামুনর রশীদ রাজু
@mamunorrashidrazzu
সজীব মিস্ত্রী সূর্য
@radha
কাজী গিয়াস আহমেদ
@kazigiashahmed
Nazmul Islam
@nazmulislam
Abdul kader master
@abdulkadermaster
Drako Shajib
@drako
Neel tripura
@neel
Prithula Zaman
@prithula


গনতন্ত্র কবেই শেষ হয়ে গেছে ।