-
সকল মা”য়ের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা এবং সালাম।
কবিতাটির সম্পর্কে কিছু কথাঃ আমি ঠিক কোন কথাটি বলব, বুঝে উঠতে পারছি না। কতোশত ছবি থাকে মা”য়ের সাথে। মহা মূল্যবান স্মৃতির কোন ছবি বা এলবাম নেই আমার কাছে। একটি মাত্র ছবি শুধু রয়ে গেছে। যদিও ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। স্মৃতির কথা বলছি। সন্তানের কাছে মহামূল্যবান
মা”য়ের হাজার হাজার স্মৃতি জমা রয়ে যায়।
কখনো ম্লান হয় না। তেমনই আমি লালন করে যাচ্ছি।
আমার এমন একটি স্মৃতি আছে, যেমন ভয়ংকর
তেমন ছিল কষ্টদায়ক ! আমার মা”য়ের প্রয়াণ দিবস
অর্থাৎ চিরলোক গমন করেছেন যেদিন, মা”য়ের জন্য
মাটির ঘরে চিরস্থায়ী শয়নের সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করে
বাসা থেকে আমি বেড়িয়ে আসি।
একা একা এলোপাথাড়ি ঘুরতে ঘুরতে এক সময়
আমি একুশের বই মেলায় প্রবেশ করি। সেখানে কতক্ষণ ছিলাম মনে নেই। তবে খেয়াল ছিল, স্যার
হুমায়ূন আহমেদ”এর হিমু”র একটি বই কিনে মাগরিব এর
আজানের আগে বাসায় ফিরে যাই।
বইটি আমি রাতে একাটানা নিঃসঙ্গ মনে পড়ে শেষ
করি। যতক্ষণ পড়েছি চোখের জলে মা”কে স্মরণ করেছি। তারপরে সারা রাতে বইটির সাদা পাতায়
মা”য়ের প্রস্থানের কথা লিখে সাক্ষর করেছি। এবং স্যার হুমায়ূন আহমেদ “এর প্রতি কৃতজ্ঞচিত্তে আমি
সেই লগ্নের নাম দিয়েছি ➖
” সে আসে ধীরে ” ! ! ! (০৪/০২/২০০৩ )“সে আসে ধীরে ” ! ! !
⚫⚫⚫⚫⚫⚫⚫⚫⚫⚫
মোঃ মনিরুজ্জামান খানসময় যেন মাইল মিটার বেগে ছুটে যাচ্ছে !
রাত অনেক হয়েছে।
উৎসুক ঝুলন্ত আকাশটা নীচে
কিছু একটা বা কী জানি দেখছে।
মাটিতে একটি ঘর না ঘুমিয়ে উদাসী উদভ্রান্ত।
ঘরটির পশ্চিমে লাগোয়া প্রশস্ত রাস্তা,
মাঝখানে সীমান্ত ভাগ করে দিয়েছে
পাঁচ ফূট তিন ইঞ্চি উচ্চতার দেয়াল আর
দেয়ালটির নীচে পায়ে চলা পথ।
দিন ভর বিভিন্ন যানবাহন মিলে
ভীষন ব্যস্ত রাখে এই সড়কটিকে।
রাতে অনেকটা চাপ কমে আসে।
একদিকে চলাচলে শব্দ দূষণের
তালিকায় শীর্ষে ট্রাক। জরুরী রপ্তানি
কাজে ব্যবহৃত কভার্ড ভ্যানও কম যায় না।
ওগুলোর এক একটি বাম কানে ঢুকে ডান
দিকে বেড়িয়ে ছুটে যায় জয়কালি মন্দির অভিমুখে।
হাটখোলা বাড়িটির দরজা বন্ধ।
বন্ধ দরজার ওপাশে অপেক্ষামান মৃত্যুদূত।
মৃত্যু ! সে আসে ধীরে !
সত্যি ভারী আশ্চর্যজনক ধীর গতিতে
একজন “মহীয়সী নারী”র পরমায়ুর
সমাপনী আয়োজন ভাগ্যগুনে আমি
দেখতে পেয়েছি। দৃশ্যটির
আয়োজক ছিলেন আমারই “পরম করুণাময় “।
পূর্ব থেকেই তাঁর মঙ্গল নির্দেশনা ছিল শিরোধার্য।
এদিকে কী প্রকারের মঙ্গল হতে পারে,
আজকের মঙ্গলবারে আগাম জানতে
অনর্থক ছটফট কোন কাজে আসেনি।
আবার এভাবে অলস বসে থাকাটাও সহ্যের বাইরে। পঁচাত্তরের শেষে এসে
ধারণা ছিল “মহতী মহিলা” তাঁর দমের
সাথে আমাকেও যুক্ত করেছেন।
তা কিন্তু তিনি করেননি।
প্রশান্ত মহাসাগর একটি চোখের এক ফোটা অশ্রু,
এতটাই অতলস্পর্শ তাঁর স্নেহ মায়া।
অতীতকে পিঠে রেখে এখনকার রূপালী
পোকাটিকে আধার দিচ্ছি
সে অজুহাতে যা যা করেছি,
সব নিরলস “দয়াময়ী”র ঠোঁটের কিনারায়
চিরহরিৎ হাসির ইপ্সিত লোভে। আমার মতে,
এটা আমার জন্য এক ও অভীন্ন রূপালী অভিলাষ।
অথচ এখন !
বালিশ আর কানের মাঝামাঝি দূর ওপ্রান্তের ডাক।
লক্ষ করে দেখি, দুচোখে স্পষ্ট মৌন সম্মতি।
কী আর করবো, আমিও প্রস্তুত।
আয়োজন শুরু হয় আগের দিন সোমবার।
সকাল গেল যেমন তেমন।
দুপুর চলে যায় বিষন্নতার আবরণে।
বিকেলে শুধুই ছটফট। সন্ধ্যা আসে
শেষ বিদায়ের খবর নিয়ে। রাত আর
কাটেনা, কিছুতেই মনকে বুঝাতে পারছি না।
মধ্য রাত পেরিয়ে শুরু হয় রাত্রি তিন প্রহর।
কিছুক্ষণ পরেই মৃত্যু অবধারিত নিয়মের সমাপ্তি ঘটবে। দর্শনার্থী আর কেউ নয়, আমি একা।
এখানে এসে লুকানো আবেগী চর্চা আর
কোনভাবেই দমন করা গেল না।
অদম্য কান্না পেয়ে বসলো।
এক মুহূর্তের জন্য, তারপর থামিয়ে
দিচ্ছি…….আবার শুরু হয়।
থামিয়ে দিচ্ছি…….আবারও…..।
অগত্যা ফিরিয়ে আনি পাথুরে স্বভাব,
বেরিয়ে আসে কথায়…..”এটা দুশ্চিন্তার না ?
আমার যে কিছু কাজ ছিল। এটা কেমন কাজ “?
জবাবে শুনেছি – “কী রে ” !
আমার পাল্টা উত্তর – এই যে “…..!
যা বলতাম ভয়ে আর পুরোটা বলা হয়নি।
তারপরেও আমি তো জানি,
একটু পরেই আমি কী হারাবো !
আর সহ্য হলো না, একটা প্রবল ধাক্কায়
দু’চোখে জল আর জল।
বুক পিঠ থর থর কম্পমান।
চলে যাচ্ছেন ! একেবারে প্রস্থানকাল !
গাল থেকে বুক পর্যন্ত মূল্যবান স্নেহার্দ্র
হাতের উষ্ণময় আদর দিচ্ছে মুহুর্মুহু।
আমি যে তার ছোট মনি !
আর আমার প্রচার ছিল আমি পাথরের তৈরী।
সেই আমার সামনে এখন গভীর রাত।
ঘরে বাইরে আশমানী আলোর ঝলকানি দীপ্তিমান।
জেগে জেগে চার প্রহরের রাত যায় যায় অবস্থা।
হায় ! সময় যেন জিদ ধরেছে ও আর থামবে না।
সর্বোচ্চবেগে ভোর নিয়ে আসে কালচে
নীল আলো মৃত্যুপুরীতে।
ভোরের পর এলো সেই সকাল।
অনেকগুলো সময় মন্থর গতিতে পার করে
তবেইনা এই মাহেন্দ্রক্ষণ আমি পেয়েছি।
বিদায়….সংযুক্ত ঈমান আমল। সমাপনী আয়োজন এই মাত্র শেষ হলো —
“ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন”
কেন জানি কাউকে বলতে ইচ্ছে করেনি,
আমার মা”য়ের পরলোক প্রাপ্তি ঘটেছে।
মৃত্যুবরণ করেছেন
আমার সকল দুঃখের “শ্রেষ্ঠ মমতাময়ী মা” !7 Comments-
তুলট কাগজ” এবং ADMIN PANEL” কে অশেষ ধন্যবাদ ও অফুরান শুভকামনা। সে আসে ধীরে আজকে একটি জনপ্রিয় অবদান ! আসলে আমাদের “মা জননী”র অবদানই সবসময় জনপ্রিয় অবদান । যে দানে আমি আজকের মোঃ মনিরুজ্জামান খান, তুলট লেখক মঞ্চে সেই মা”য়ের নামে কবিতাই জনপ্রিয় অবদান হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। আর তাই মা” য়ের তুলনা মহামূল্যবান। তুলট পরিবারের সমৃদ্ধি কামনায়….M. ZAMAN

Md.Monyruzzaman Khan
- লিখতে ভীষণ ভাল লাগে।কিন্তু কিছুই জানি না।প্রিয় বই লোটা কম্বল! কাশ ও শিমুল ফুল প্রিয়। আরো প্রিয় রঙের হলুদ শর্ষে ফুল। প্রিয় লেখক স্যার হুমায়ুন আহমেদ। চিঠি লেখা আমার প্রিয় মাধ্যম। ভালবাসাবাসিও আমাকে দ্বীপ্ত করে। প্রেম অন্য রকমের আকর্ষণ করে, ব্যাপারটি অজানা। জ্যোৎস্না সবসময়ই আলোকিত রাখে আমাকে।
" বোকা জামান এবং অধরা জলপরীর কাব্যনামা" শিরোনামে একক কাব্যগ্রন্থ বের করার স্বপ্ন দেখছি। আমার লেখা ও সুরে দুটি গান সঙ্গীতা মিউজিক রিলিজ করেছে। গান লিখতে বেশি সাচ্ছন্দ্য বোধ করি। যদিও লিরিক্স লেখা অনেক জটিল কাজ মনে হয়।
তুলট" পরিবারের সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন এবং অফুরান ভালোবাসা। জয়তু তুলট পরিবার"!
Friends
শায়েরুল ইসলাম
@shaerulislam
Ekhtiar Uddin
@ekhtiar2003
Abu Said Vuia
@shahadatur-rahman-sohel
রিফায়াত নিগার
@refayat-nigar
শরীফ এমদাদ হোসেন
@sharif-emdad-hossain
Md Zaker Hayat Khan [ Zaker Aditya ] [ জাকের আদিত্য ]
@md-zaker-hayat-khan
Jannatun Nur
@jannatun-nur
আজীমি
@azeemi
AdabenTatali
@adabentatali




শ্রদ্ধাঞ্জলি মায়ের জন্য। এমন মধুর কবিতা বহুদিন পড়িনা।অভিনন্দন কবি।