Profile Photo

naznin shamimOffline

  • nazninshamim
  • Profile picture of naznin shamim

    naznin shamim

    • 1 week, 2 days ago

    ​ছায়ামুখী ঘড়ি”
    নাজনীন শামীম
    চট্টগ্রাম থেকে
    ৩রা অক্টোবর ২০২৬ইং

    ​আহমেদ সাহেবের বসার ঘরের দেওয়ালঘড়িটা প্রতিদিন বিকেল ৪টা ৪ মিনিটে ঠিক তিন সেকেন্ডের জন্য পিছনের দিকে ঘোরে।
    ​বিষয়টা প্রথম লক্ষ্য করেছিলেন তাঁর স্ত্রী সুচরিতা। কিন্তু আহমেদ সাহেব তখন তা হেসেই উড়িয়ে দিয়েছিলেন। আজ সুচরিতা নেই, কিন্তু ঘড়িটার এই অদ্ভুত খেয়াল বদলায়নি। গত তিন বছর ধরে ঠিক চারটে চার মিনিটে ঘড়ির কাঁটা দুটো উল্টো ঘুরে ৪টা ৩ মিনিটে চলে যায়, আর ঠিক তিন সেকেন্ড পর আবার স্বাভাবিক নিয়মে টিকটিক করে এগোতে থাকে।
    ​আজ বিকেলে আহমেদ সাহেব ঘড়িটার ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। হাতে একটা পুরনো ডায়রি আর আতশ কাঁচ। ঠিক চারটে ৩ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড… ৫৯ সেকেন্ড…
    ​হঠাৎ ঘরের তাপমাত্রা যেন এক ধাক্কায় অনেকটা নেমে গেল। ঘড়ির সেকেন্ডের কাঁটাটা থমকে দাঁড়িয়ে ৪টা ৪ মিনিটে না গিয়ে উল্টো দিকে ছুটল। ঠিক তিন সেকেন্ডের সেই সময়টুকুতে আহমেদ সাহেব দেওয়ালের দিকে তাকিয়ে স্তব্ধ হয়ে গেলেন।
    ​ঘড়ির কাঁটার ছায়াটায় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে একটা হাতের আঙুল—যেটা কাঁটাটাকে জোর করে টেনে পিছনে নিয়ে যাচ্ছে! আর সেই হাতের আঙুলে জ্বলজ্বল করছে একটি চেনা রূপোর আংটি। ঠিক যে আংটিটা সুচরিতা মারা যাওয়ার দিন তাঁর আঙুল থেকে হারিয়ে গিয়েছিল!
    ​তিন সেকেন্ড শেষ হতেই ঘড়ি আবার স্বাভাবিকভাবে টিকটিক করে চলতে শুরু করল। কিন্তু দেওয়ালঘড়ির কাঁচের ভেতরে জমে উঠেছে হালকা বাষ্প, আর তাতে সদ্য আঙুল দিয়ে লেখা তিনটি শব্দ:
    ​”ফাইলটা খুলো না।”
    ​আহমেদ সাহেবের টেবিলের ওপর ঠিক ওই মুহূর্তেই রাখা ছিল সুচরিতার মৃত্যুর তদন্ত সংক্রান্ত এতদিন ধরে বন্ধ থাকা গোপন পুলিশ ফাইলটি…

    1
    2 Comments
    • নাজনীন শামীম, আপনার লেখা এই রহস্যময় গল্পটা পড়ে একদম গা ছমছম করে উঠল। সত্যি বলতে, গল্পের ক্লাইম্যাক্সটা যেভাবে সাজিয়েছেন তা বেশ দারুণ লেগেছে। একদম অল্প কথায় এমন সাসপেন্স তৈরি করা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না।

    • কি আছে ফাইলে উৎসুক আমার মন

Friends

Skip to toolbar