Profile Photo

Nipun ChandraOffline

  • nipunch
  • Profile picture of Nipun Chandra

    Nipun Chandra

    4 years, 6 months ago

    মানুষের নৃগোষ্ঠীগত পরিচয়
    নরগোষ্ঠী বলতে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত কতকগুলো সাধারণ দৈহিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে সৃষ্ট মানবপ্রজাতির উপবিভাগকে বুঝায়। এক্ষেত্রে বিবেচ্য দৈহিক বৈশিষ্ট্যগুলো হলো মাথার চুল, মাথার আকৃতি, নাকের ধরন, চোখের গঠন ও চোখের মণির রঙ, মুখমন্ডলের গঠন, ঠোঁটের প্রকৃতি, গায়ের রঙ, দৈহিক উচ্চতা ইত্যাদি। এছাড়া কখনও কখনও চোখের ভ্রু, কানের প্রকৃতি, কপালের বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি বিষয়গুলোও বিবেচিত হয়ে থাকে। বাঙালি জাতির নৃতাত্ত্বিক পরিচয় নির্ণয় করা সহজ নয়। বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্য পর্যালোচনার মাধ্যমে মনীষীরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, বাঙালি জাতি মূলত একটি মিশ্র বা সংকর নৃগোষ্ঠী। মিশ্রতা সত্ত্বেও বাঙালি জাতিকে অনেকে ‘অস্ট্রোএশিয়াটিক বা অস্ট্রিক’ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী বলেও অভিহিত করেছেন। কেবল দৈহিক বৈশিষ্ট্যেই নয়, বাঙালি সংস্কৃতি বিনির্মাণেও অস্ট্রিক তথা আদি-অস্ট্রেলীয়দের প্রভাব সর্বাধিক। সম্প্রতি ভেলাম ভ্যান সেন্ডেল উল্লেখ করেন, বাংলা ভাষায় টিবেটো-বার্মা, অস্ট্রো-এশিয়াটিক এবং দ্রাবিড়ীয় ভাষার প্রভাব আছে। যার অর্থ হচ্ছে বাঙালি নৃগোষ্ঠীর মধ্যেও এদের প্রভাব সুস্পষ্ট।
    নরগোষ্ঠী এবং নৃগোষ্ঠীকে অনেকে সমার্থক অর্থে ব্যবহার করেন। তবে প্রত্যয় দু’টির ব্যবহার এবং ধারণার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। নরগোষ্ঠী হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট বংশধারা থেকে উত্তরাধীকারসূেত্র প্রাপ্ত অভিন্ন শারীরিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী জনগোষ্ঠী। আর নৃগোষ্ঠী হচ্ছে সাধারণত একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় অভিন্ন সংস্কৃিতর উত্তরাধীকারী জনগোষ্ঠী। নরগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে অভিন্ন দৈহিক বৈশিষ্ট্য এবং নৃগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে অভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য প্রাধান্য পায়। তবে একই নরগোষ্ঠীর সদস্যরা প্রায়ই অভিন্ন সংস্কৃতির চর্চা করেন। আবার অভিন্ন নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে একই নরগোষ্ঠীর দৈহিক বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়।

    মানুেষর বৈজ্ঞানিক নাম হল- ‘হোমো-সেপিয়েন্স’। মানুষের মধ্যে শরীরগত নানা পার্থক্য রয়েছে। শরীরগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মানবপ্রজাতির এক একটি উপবিভাগকে বোঝাতে নরগোষ্ঠী বা নৃগোষ্ঠী প্রত্যয়টি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ইংরেজ লেখকরা সাংস্কৃিতক গোষ্ঠী বোঝাতে এ পদটি ব্যবহার করেন; যেমন- আইরিস রেস, স্কটিস রেস। কখনো কখনো ধর্মীয় দল-উপদলকে বোঝাতেও প্রত্যয়টি ব্যবহৃত হয়। নরগোষ্ঠীর সংজ্ঞা নরগোষ্ঠীকে এমন একটি মানবসমষ্টি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যায়, যার সদস্যদের জন্মগতভাবে প্রাপ্ত অভিন্ন কিছুদৈহিক বৈশিষ্ট থাকে যা তাদেরকে অন্যান্য মানবগোষ্ঠী থেকে পৃথক করে। সামাজিক নৃবিজ্ঞানীদের মতে, নরগোষ্ঠী হল স্বাতন্ত্র্যসূচক এবং জন্মসূত্রে বর্তায় এমন দৈহিক বৈশিষ্ট্যসমূহের সমন্নয়ে গঠিত মানবজাতির একটি প্রধান বিভাগ। সাধারণ সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে এমন জনগোষ্ঠীকেও তিনি নৃগোষ্ঠী বলে অভিহিত করেছেন। সমাজবিজ্ঞানীরা বলেন, গোষ্ঠী হচ্ছে জনসংখ্যার সেই এক বিশেষ অংশ যারা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত কতগুলো দৃিষ্টগোচর দৈহিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। নৃবিজ্ঞানী মেয়ার এর মতে, নরগোষ্ঠী হল একটি সুনির্দিষ্ট এলাকায় বসবাসকারী এমন একদল মানুষ যাদের মধ্যে সাধারণ দৈহিক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান এবং যারা অন্যদের থেকে দৈহিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে ভিন্ন। সুতরাং নরগোষ্ঠী হচ্ছে উত্তরাধিকার সূেত্র প্রাপ্ত অভিন্ন দৈহিক বৈশিষ্ট্যেে অধিকারী মানগোষ্ঠী, যারা বিশ্বের নির্দিষ্ট একটি ভৌগোলিক অঞ্চলে অভিন্ন সংস্কৃিতর অনুসারী হয়ে বসবাস করে। একটি নরগোষ্ঠীর সদস্যগণ সাধারণত অন্য নরগোষ্ঠীর সদস্যদের থেকে সাংস্কৃতিক ও দৈহিক বৈশিষ্ট্যে ভিন্নতর হয়ে থাকে। নরগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য উপর্যুক্ত সংজ্ঞাগুলোর আলোকে নরগোষ্ঠীর কতিপয় বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়।
    যেমন: (ক) নরগোষ্ঠী হচ্ছে মানবজাতির অন্যতম প্রধান উপবিভাগ; (খ) নরগোষ্ঠীর মূেল রয়েছে স্বতন্ত্র ও সাধারণ কিছুদৈহিক বৈশিষ্ট্য, যা সহজেই দৃিষ্টগোচর হয়; (গ) সাধারণত মাথার গড়ন, মুেখর চোয়াল, চুেলর রং ও ধরন, গায়ের রং, নাক, চোখ, শারীরিক গঠন ও উচ্চতার মাধ্যমে নরগোষ্ঠী নির্ধারিত হয়; (ঘ) বংশগতভাবে প্রাপ্ত শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতেই নরগোষ্ঠীকে পৃথক করা হয়; (ঙ) নরগোষ্ঠী মানুষের স্থায়ী বৈশিষ্ট্য যা বংশ পরম্পরায় অব্যাহত থাকে; বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্বিবিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র ইউনিট পৃষ্ঠা ৪৩ (চ) নির্দিষ্ট নরগোষ্ঠী প্রায়শ একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক পরিমণ্ডলে বসবাস করে; (ছ) প্ের ত্যক নরগোষ্ঠীর নিজস্ব স্বতন্ত্র সংস্কৃতি রয়েছে।

    বাংলাদেশে বসবাসকারী মানুষের প্রাক-ইতিহাস যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ সমর্থিত নয়। আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার অভাবে জীবাশ্মবিজ্ঞানের গবেষণা এখানে তেমন হয়নি। আর সেকারণেই বাংলাদেশের মানুষের আদি পরিচয় ও জন্ম-উৎস এখনো অনেকটা অমীমাংসিত। এ অঞ্চলে প্রথম অস্ট্রিক জনগোষ্ঠীর লোকরা আসে এবং সেটি সম্ভবত পাঁচ-ছয় হাজার বছর পূের্ব ইন্দোচীন থেকে। এরপর একে একে দ্রাবিড়, আর্য, মঙ্গোল, শক, সেন, বর্মণ, তুর্কি, পাঠান, ইরানি, আরবীয়, আবিসিনীয়, ইংরেজ, পর্তুগিজ, মগ, ওলন্দাজ, আলপাইন প্রভৃতি ধারার মানুষদের আগমন ঘটে। এসব নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মিলন-মিশ্রণে বাঙ্গালীরা একটি সংকর জনগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। অনেকের মতে সংকর জনগোষ্ঠী হওয়া সত্ত্বেও বাঙ্গালীদের দেহবৈশিষ্ট্যে আদি অস্ট্রেলীয় বা অস্ট্রিক তথা ভেড্ডিড জনগোষ্ঠীর দৈহিক বৈশিষ্ট্য বেশি প্রকট। মানবজীবাশ্ম সম্বন্ধীয় অনুসন্ধানের ঘাটতি থাকার কারণে বাংলাদেশের মানুেষর নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় নির্ণয় করা সহজ নয়। সাধারণভাবে স্বীকৃত মতামত হলো, এ অঞ্চলে আদি মানুেষর বসবাস ছিল না। ফলে এখানে একসময় যারা বসতি স্থাপন করেছে তারা সবাই বহিরাগত। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর মানুষের মিলন-বিরোধের ফলে বাংলাদেশে একটা সংকর জনগোষ্ঠী সৃষ্টি হয়েছে। স্যার হার্বার্ট রিজলে ভারতীয় উপমহাদেশের জনসমষ্টিকে সাতটি উপবিভাগে বিভক্ত করেন। এগুলো হচ্ছে: ১. তুর্কীয়-ইরানীয়; ২. ভারতীয় আর্য; ৩. শক-দ্রাবিড়; ৪. আযর্- দ্রাবিড়; ৫. মঙ্গোল-দ্রাবিড়; ৬. মঙ্গোলীয় এবং ৭. দ্রাবিড়ীয়। রিজলের মতে বাঙালিরা হল মঙ্গোল-দ্রাবিড়-প্রভাবিত একটা সংকর জনগোষ্ঠী। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন যে, বাঙালির শ্যামলা ও পীত গায়ের রং, চওড়া (গোল) মাথা, মধ্যমাকৃতি থেকে চওড়া নাক এবং মাঝারি উচ্চতা মঙ্গোলীয় প্রভাবের সাক্ষ্য দেয়। আবার বাদামি-কালো গায়ের রং, লম্বা মাথা, চওড়া নাক, চোখের রং ও গঠন, মুখে দাড়ি-গোঁফের আধিক্য দ্রাবিড়-প্রভাবেরই ফল। জে. হুটন ভারতীয় উপমহাদেশের জনসমষ্টিকে মোট আটটি ভাগে বিভক্ত করেছেন। এগুলো হলো: ১. নেগ্রিটো বা নিগ্রোবটু; ২. আদি-অস্ট্রেলীয়; ৩. আদি-মেডিটেরিয়ান; ৪. সভ্য-মেডিটেরিয়ান; ৫. আর্মানীয়; ৬. আলপাইন; ৭. বৈদিক-আর্য এবং ৮. মঙ্গোলীয়। পন্ডিত বিরজাসংকর গুহ ভারত উপমহাদেশের জনসমষ্টিকে ছয়টি নৃতাত্ত্বিক ধারায় ভাগ করেছেন। এগুলো হল: ১. নিগ্রোবটু; ২. আদি অস্ট্রেলীয়; ৩. মঙ্গোলীয়; ৪. মেডিটেরিয়ান; ৫. আলপো-দিনারীয় এবং ৬. নর্ডিক। বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র ইউনিট পৃষ্ঠা ৪৭ নৃতত্ত্ববিদ ভন আইকস্টেড্ট ভারতীয় উপমহাদেশের মানবগোষ্ঠীকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেন। এগুলো হল: ১. ভেড্ডিড-প্রাচিন অধিবাসী; ২. মেলানীড-কৃষ্ণকায় অধিবাসী এবং ৩. ইন্ডিড-আধুনিক অধিবাসী। ভারতীয় পন্ডিত রমাপ্রসাদ চন্দ মনে করেন যে, বাঙালিরা বৈদিক-আর্যভাষি জাতিসমূহ দ্বারা প্রভাবিত। বাঙালির ইতিহাস গ্ের ন্থ (আদিপর্ব) নীহাররঞ্জন রায় উল্লেখ করেছেন, বাঙালির নৃগোষ্ঠী গঠনে আদি অস্ট্রেলীয় ও দ্রাবিড় প্রভাবের পাশাপাশি আর্যপ্রভাবও রয়েছে। নৃতাত্ত্বিকরা বাংলাদেশী মানুষের দেহে নিগ্রোবটুদের প্রভাবও লক্ষ্য করেছেন। এই প্রভাবের ফলে বাংলাদেশীদের মধ্যে খর্বাকৃতি দেহ, গায়ের রং কৃষ্ণাভ, পুরু ঠোঁট, চ্যাপ্টা নাক দৃিষ্টগোচর হয়। বাংলাদেশের প্রাচীন মানুেষর বিভিন্ন পর্যায়ে ভেড্ডিড রক্তের ছাপ পরিলক্ষিত হয়। সাঁওতাল, মুন্ডা, পোদ, শূদ্র, বাগদী, চন্ডাল, এমনকি ব্রাহ্মণ-বৈদ্য-কায়স্থদের মধ্যেও এ ভেড্ডিড জাতির রক্তপ্রবাহ বহমান। বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর আগমন ঘটে যারা রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ ও পার্বত্য চট্টগ্রামে বসতি স্থাপন করেছিল। বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় অনেক বহিরাগত রাজবংশ যেমন- সেন, বর্মণ, খড়গ ও চন্দ্র বাঙালির দৈহিক কাঠামোতে প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া তুর্কি, পাঠান, মোঘল, ইরানি, আবিসিনীয় ও আরবীয় রক্তের ধারাও বাঙালির ধমনিতে প্রবহমান। ষোড়শ শতাব্দীতে বহিরাগত ইংরেজ, পর্তুগীজ, ডাচ, ফরাসি, দিনেমার এবং আরাকানের মগ জলদস্যুদের প্রভাবও বাঙালির রক্তে বিদ্যমান। এসবের দীর্ঘ ও পর্যায়ক্রমিক সংমিশ্রনে বাংলাদেশে সংকর বা মিশ্র জনগোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। সংকর জাতি হওয়া সত্ত্বেও বাঙালির স্বকীয় দৈহিক বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। বাঙালির লম্বা প্রকৃতির মাথা, কালো চুল, চোখের মণি বাদামি বা কালো, গায়ের রং কালো-বাদামি, মাঝারি দৈহিক উচ্চতা, মুখাকৃতি লম্বা, মধ্যমাকৃতির নাসিকা এবং মুেখ দাড়ি-গোঁফের প্রাচুর্য স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের পরিচয় বহন করে। নৃতাত্ত্বিকদের মতে, এ বৈশিষ্ট্য অনেকটাই অস্ট্রিক প্রভাবিত। বাঙালির সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও অস্ট্রিক ভাষার প্রকট প্রভাব রয়েছে। তবে বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতিতে টিবেটোবার্মা, অস্ট্রো-এশিয়াটিক এবং দ্রাবিড়ীয় ভাষার প্রভাবও অনস্বীকার্য।

    প্রাচীন কাল থেকেই বাংলাদেশে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর বাস। এখানে প্রধান নৃগোষ্ঠী হচ্ছে বাঙালি- যাদের ভাষা বাংলা এবং অধিকাংশই সমতল ভূমিতে বসবাস করে। এছাড়া বাংলাদেশে প্রায় ৫২টির মতো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রয়েছে যাদের ভাষা, সংস্কৃতি, রীতিনীতি, আচার-অনুষ্ঠান বাঙালি নৃগোষ্ঠী থেকে পৃথক। কেবল বাঙালি নৃগোষ্ঠী নয়, প্রতিটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অন্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী থেকেও আলাদা। এ অঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী মধ্যে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, রাখাইন, সাঁওতাল, কুকি, তঞ্চঙ্গ্যা, কুমি, লুসাই, পাংখো, খুমি, খিয়াং, বনযোগী, মণিপুরী, খাসিয়া, গারো, হাজং, কোচ, ডালুই, রাজবংশী, মুন্ডা, ওঁরাও প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংজ্ঞা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী একটি স্বতন্ত্র নরবংশ বা নরগোষ্ঠী। এরা সংখ্যায় এরা ক্ষুদ্রও হতে পরে আবার বড়ও হতে পারে। নৃেেগাষ্ঠী বলতে এমন একটি জনসমষ্টিকে বুঝায় যারা একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে সংগঠিতভাবে বসবাস করে, যাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃিত রয়েছে যা অন্য জাতিগোষ্ঠী থেকে পৃথক। বৃটিশ নৃবিজ্ঞানী ঊ.ই. বলেন, গাষ্ঠী স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। সাংস্কৃতিক ঐক্যই এদেরকে সংগঠিত করে রাখে । গাষ্ঠী হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাসরত জনসমষ্টি যারা নিজস্ব প্রথা, ভাষা, ধর্ম ইত্যাদির অনুসারী। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হচ্ছে মানুেষর এমন একটি গোষ্ঠী যারা স্বতন্ত্র ইতিহাসের সম্মিলিত অনুভূতি থেকে উদ্ভুত পরিচয় বহন করে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বলতে এমন এক মানবগোষ্ঠীকে বুঝায় যাদের একটি সাধারণ সাংস্কৃিতক ঐতিহ্য রয়েছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যরা নিজস্ব পরিচিতিসহ বৃহৎ কোনো সমাজের উপ-গোষ্ঠী হিসেবে বসবাস করে। সমাজবিজ্ঞানী জড়নব বলেন, যারা অভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করে তাদেরকে সামাজিকভাবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যায়। সুতরাং নৃগোষ্ঠী বলতে এমন একটি সম্প্রদায়কে বোঝায় যারা কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাস করে, যাদের স্বকীয় ভাষা, জীবনধারা এবং সাংস্কৃিতক ঐতিহ্য রয়েছে। একটি নৃগোষ্ঠী অন্য নৃগোষ্ঠী থেকে স্বতন্ত্র এবং তারা তাদের স্বতন্ত্র পরিচয় সম্পর্কে সচেতন। বাংলাদেশ উš§ুক্ত বিশ^বিদ্যালয় সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র ইউনিট পৃষ্ঠা ৪৯ বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বাংলাদেশের প্রধান নরগোষ্ঠী বাঙালি। তবে আবহমান কাল থেকে এখানে অনেকগুলো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করছে। বাংলাদেশে এখন প্রায় ৫৭ টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রয়েছে। তবে ২০১১ সালের আদমশুমারিতে দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে ২৭টি। এ শুমারি অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যার ১.১৩ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অন্তর্গত। দেশে মোট ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জনসংখ্যা হচ্ছে ১৫,৪৮,১৪১ জন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী চাকমা নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা সর্বাধিক (৪,৪৪,৭৪৮জন)। দ্বতীয় অবস্থানে রয়ে মারমা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। এদের সংখ্যা ২,০২,৯৭৪ জন (সূত্র: আদম শুমারি ২০১১)। বাংলাদেশের প্রধান চারটি অঞ্চলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। এগুলো হচ্ছে: ক) দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল (চট্টগ্রাম ও পার্বত্য এলাকা), খ) উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল গ) মধ্য-উত্তরাঞ্চল এবং ঘ) বৃহত্তর উত্তরবঙ্গ। এসব অঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে চাকমা, মারমা (মগ), মুরং (ম্রো), ত্রিপুরা, সাঁওতাল, গারো, মণিপুরি, রাখাইন, হাজং, ভূঁইয়া, ভূমাজি, রাজবংশী, হোদি, পালোয়া, পাংখো, পাঙন, ডালুই, খরিয়া, সেন্ধুজ, কোটস, মাহাতো, খ্যাং, ওঁরাও, সাক, মুণ্ডা, খাসিয়া, তোড়ি, খারওয়ার, বর্মণ, মালো, ব্যোম, খোড়া, কুকি, তঞ্চঙ্গ্যা, লুসাই, কুকি, খুমি, বনযোগী,কাছাড়ি, পাহাড়িয়া ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের প্রতিটি নৃেেগাষ্ঠী স্বকীয় বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। এদের প্ের ত্যকের ভাষা, ধর্ম, আচার-অনুষ্ঠান, সংস্কৃতি, রীতিনীতি, ঐতিহ্য এককথায় সামগ্রিক জীবনধারা অপরাপর জনগোষ্ঠী থেকে স্বতন্ত্র। এরা সাধারণত কৃষি, পশুপালন এবং কুটির শিল্পজাত দ্রব্য উৎপাদন করে জীবিকা নির্বাহ করে। কিছু নৃেেগাষ্ঠীর মধ্যে পিতৃতান্ত্রিক ও পিতৃসূত্রীয়, আবার কোনো সম্প্রদায়ের মধে

    4
    3 Comments

Nipun Chandra

News and literary personalities

আমি বৈচিত্রময় পৃথিবী গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পেশায় সাংবাদিক। ছোট গল্প, উপন্যাস, ভ্রমন কাহিনী, কেসস্ট্যাডি, কবিতা বর্ণনা লেখা আমার শখ। যা দেখিনি দুনয়নে, তা বলবনা বদনে। তাই অতি বিশ্বাসীরা আমাকে এড়িয়ে চলবেন।

আমার ব্যাক্তিগত লেখা তথ্যাদি পেতে ফেসবুকে লাইক ম্যাসেজ করে সাথে থাকুন (নীচের নামে ক্লিক করুন ডাইরেক্ট ফেসবুক)

ফেসবুক: Click now

Email: Click now

তাৎক্ষণিক প্রচার Click now

 ঠিকানা Click now

Skip to toolbar