Profile Photo

মীর রাফিদ হোসেনOffline

  • rafid567@
  • Profile picture of মীর রাফিদ হোসেন

    একাডেমিক পড়াশোনা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং হলেও ভার্সিটি লাইফের শুরু থেকেই বিজনেস ডেভলপেন্ট, স্টার্ট আপ, ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং নিয়ে আমার ছিল একটু বেশি আগ্রহ। যদি ওই আগ্রহটা মনের মধ্যে রাখার চেয়ে বাইরে প্রাকটিক্যালি ব্যবহার করতে এসে বুঝতে পারছিলাম জিনিসগুলো কিওয়ার্ড আকারে শুনতে যে রকম সুন্দর লাগে তেমনি এই ব্যাপারগুলো প্রাক্টিকাল প্রয়োগ অনেক বেশি জটিল। ভার্সিটি লাইফের দীর্ঘই সময়ে নিজের টুকটাক বিজনেসের পাশাপাশি স্টার্টআপ নিয়ে প্রচুর ঘাঁটাঘাটি করা হয়েছে। এই লাইনের মানুষের সাথে ওঠাবসাও করা হয়েছে প্রচুর। আজকে হঠাৎ করে মনে হল স্টার্টআপ জার্নি নিয়ে অনেক মানুষের সত্য জীবন কাহিনী আমার জানা । যেহেতু টুকটাক কন্টেন্ট লিখি আর আপাতত কাম কাজ নাই তাই এই মানুষগুলোর রিয়েল লাইফ নিয়ে কয়েকটি পর্বর স্টোরি আপনাদের সাথে শেয়ার করা যাক।
    ও হ্যাঁ আরেকটা জিনিস, সবার নাম পরিচয় গোপন রেখে গল্পগুলো সাজানো।
    গল্প এক:
    আমাদের সমাজে কিছু মানুষ থাকে ইংরেজিতে দারুন একটা ওয়ার্ডে এদের প্রকাশ করা হয়। ওয়ার্ডটা আপাতত মনে পড়তেছে না তাই বাংলা জিনিসটা বোঝানোর চেষ্টা করি । ধরেন, আপনার মধ্যে স্কিল আছে , আপনি নিজেও জানেন আপনার দৌড় কতদূর কিন্তু সমস্যা হচ্ছে যেকোনো ছোট খাটো ব্যাপারকে আপনি অত্যন্ত বড় করে দেখেন। তেমনি একজন স্কিলফুল ছেলে আছে এদেশে । প্রোগ্রামিং আর কোডিং এ যার নলেজ মারাত্মক লেভেলের। ছেলেটির এক মিউচুয়াল ফ্রেন্ড দারুন এক স্টার্টআপ আইডিয়া নিয়ে হাজির হলো ছেলেটির কাছে। ছেলেটি জানে ছেলেটি দৌড় কতদূর তাই ছেলেটি ছোট একটি আইডিয়াকে অনেক বড় করে নিজের মত করে সাজানো শুরু করল। আইডিয়া মাথায় ঘোরার সাথে সাথে ছেলেটি ধরেই নিল তার স্কিলের জোরে ইনভেস্টার পাওয়া কোন ব্যাপার না। পড়াশোনার পাশাপাশি মিউচুয়াল ফ্রেন্ডের টাকা আর নিজের স্কিলের জোরে কাজের দিকে আগতে থাকল দুইজন। কিন্তু সমস্যা হয়ে গেল আরেকটি জায়গায় ঐযে ছোট যে কোন জিনিসকে অনেক বড় করে দেখার ব্যাপারটা। নরমাল আইডিয়াকে ছেলেটি এত বিস্তারভাবে বাড়ানো শুরু করল যে এক বছর পর নিজেই নিজের স্কিলের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেল। পার্টনার যখন যখন জানতে চাইল কাজের আপডেট হচ্ছে না কেন, তখন ছেলেটি খুব স্বাভাবিক ভাবেই জানালো : সে বাসার বড় ছেলে। তার বাবা কয়েক বছর যাবত বিছানা গত আছে। তাই একবারে বড় কাজ করলে আর বড় আইডিয়া নিয়ে ইনভেস্টরদের কাছে গেলে অনেক বেশি টাকা পাওয়া যাবে। সেই টাকা দিয়ে সে প্রথমে তার বাবাকে দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসা করাবে।
    এতক্ষণ পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক ছিল কিন্তু প্রবলেম হলো আইডিয়া মাথায় আসার ২ বছর পরেও কোনো ইনভেস্টারদের কাছে পিচ করার জন্য তাদের কাজ প্রস্তুত ছিল না। এদিকে সপ্তাহখানেক আগে ছেলেটির বাবা মারা গিয়েছে। বাবা মারা যাওয়ার পরে সংসারের সব দায়িত্ব পড়ে গিয়েছে ছেলেটির উপরে। বাসা থেকে এখন অনেক বেশি প্রেসার যে কোন একটা চাকরিতে ঢুকে সলিড টাকা সংসারে দেওয়ার। আপাতত স্টার্টআপ এর সব কাজ থমকে আছে।
    টাকা পরিশ্রম এর রেজাল্ট কি ! সেটাও দুজনের কাছে এখন অজানা……

    4
    4 Comments
Skip to toolbar