Profile Photo

Md shohag ranaOffline

  • shohag9011
  • Profile picture of Md shohag rana

    Md shohag rana

    2 years ago

    ———- #জীবনের_জন্য
    ————————— #সোহাগ_রানা
    অনিকা যখন ক্লাস নাইনে পড়ে তখন সুহাসের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়েতে অনিকার ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও পরিবারের
    চাপে বিয়েতে রাজি হয়। আজকে সমাজের মানুষ এখনো মুর্খতার ছোঁয়া থেকে বাঁচতে শেখনি। মেয়ে একটু বড় হলেই মনে হয় বাবা-মায়ের ঘারের বোঝা হয়ে যায়। বাবা মা ও সমাজের মানুষের নানান ইংগিতের কথার প্রকোপ থেকে বাঁচতে মেয়েদের কে তারাতাড়ি বিয়ে দিতে উদ্যত হয়ে ওঠে।
    আর আমাদের সমাজে সবচেয়ে বেশি মা বাবা মেয়েকে বিয়ে দিতে ঘটকের মিষ্টি কথার বেড়াজালে আটকে যায়। মেয়ের ভূত ভবিষ্যৎ চিন্তার অবকাশ রাখেন না। অনিকার আরো লেখা পড়া করার বিরল ইচ্ছে আছে। কয়েকদিন যেতে না যেতেই অনিকাকে শশুর বাড়ির সংসারে পদার্পন করতে হয়।
    লেখা পড়া বই পুস্তক ওখানেই শেষ। সুহাস সামান্য শিক্ষিত। ক্লাস সেভেনে পরে আর লেখা পড়া করে নি। বাবার মোটামুটি টাকা পয়সা আছে, সংসারে কোন অভাব নেই। বন্ধুদের সাথে মিশে বখাটে ছেলেদের মতো হয়ে গেছে। সংসার কি জিনিস তা বোঝার মতো দিগ্বিদিক জ্ঞান তার নেই। আশে পাশের বন্ধুরা বিয়ে করে তাই দেখে সে ও বিয়ে করেছে। তার কাছে সংসারের চেয়ে বউ ই অনেক প্রিয়। সুহাসের কথা কাজে অনিকার কোনো আপত্তি নেই। তারা উভয় উভয়কে খুব ভালোবাসে। কাউকে ছাড়া কেউ মুহুর্তের আড়াল হতে পারে না। দিন যতো বেশি যায় স্বামী- স্ত্রীর সম্পর্ক ততো বেশি হয়।
    এক জনকে ছাড়া আরেকজন খাবার টা পর্যন্ত খায় না। একদিন রাতে গল্প করে হাসতে ছিলো, হঠাৎ করে অনিকা মাথা ঘুরে খাটের উপর পড়ে গেলো। সুহাস দিগ্বিদিক জ্ঞান হারিয়ে একটা চিৎকার দিয়ে মা কে ডাক দিল মা! অনিকা কেমন যেনো করছে,,। ঐদিন রাতেই গাড়ি এনে শহরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অনিকার সাথে সুহাসের মা হাসপাতালে থেকে যায়। গাইনী ও প্রসূতি ডাক্তার কিছু পরিক্ষা নিরীক্ষা দেয়। এই পরিক্ষাগুলো করার পরে পরের দিন সকালে ডাক্তার জানায় যে অনিকা অন্তঃসত্ত্বা। সে মা হতে চলেছে। এখবর শুনে সবার মুখ থেকে যেনো হতাশার চিন্তা কেটে সুখের মুচকি হাসি ফুটে উঠলো। ডাক্তার বলেছে তাকে দিয়ে কোনো ভারি কাজ করানো যাবে না। এখন সুহাসের দায়িত্ব অনিকার প্রতি আরো বেড়ে গেলো। এক দিকে অনিকার বয়স কম অপরদিকে বাচ্চার মা হতে চলছে বিষয়টা একটু জটিল মনে হচ্ছে তার কাছে। সে যে এত তারাতারি বাচ্চার মা হয়ে যাবে তা কখনো ভাবে নি। নিজের মধ্যে সবসময় একটা দুশ্চিন্তা কাজ করছে। কয়েকমাস পর ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হলে ডেলিভারির ডেট নির্ধারন করে দেয়। ডাক্তার এবং নার্স রোগীর অবস্থা দেখে ডেলিভারি নরমালে হবে বলে জানায়। তাকে যখন ডেলিভারি থিয়েটারে নেয়া হয়। ডেলিভারির কাজ শুরু হওয়ার পরেই অনিকার অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়। ডাক্তার এবং নার্সেরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যায়। অনিকা আরো ভীতু হয়ে শোচনীয় অবস্থা হয়ে যায়। তখন ডাক্তার সিদ্ধান্ত নেয় নরমালে হবে না সিজার করিয়ে বাচ্চা বের করা ছাড়া উপায় নেই। ডাক্তার সবাইকে জানায় বাচ্চা বের করতে হলে মা কে বাচাঁনো না ও জেতে পারে, হয় বাচ্চা বেঁচে থাকবে নয় তো বাচ্চার মা বেঁচে থাকবে। গাছ বাঁচাতে হলে ফল পাওয়া জাবে না, আর ফল চাইলে গাছ পাওয়া যাবেনা। একথা শোনার পর সুহাস নির্বাক হয়ে গেলো। ডাক্তার অতি কষ্ট ও কৌশলে বাচ্চা খালাস করার দুই ঘন্টা পরে অনিকার জীবন প্রদীপ নিভে গেল। পৃথিবীর মুখ আর দেখা হলো না।,,,, জীবন চলে গেলো নতুন জীবনের জন্য।

    2
    1 Comment
    • এই জীবনটাকে নিয়ে আমাদের বড্ড তাড়া!
      কোথায় গিয়ে পৌঁছুবো জানা নেই, অথচ ছুটে চলেছি সবাই দ্বিগবিদিক জ্ঞান হারিয়ে!

Skip to toolbar