-
“এর থেকে তো বরং পরাধীন থাকাই শ্রেয় ছিলো। তখন না হয় পরাধীনতার দোহাই দিয়ে কপাল চাপড়াতাম। নিজ দেশে স্বাধীনতার নামে যদি নারকীয়তায় ভুগতে হয়, তবে তো পরাধীনতার শিকল পরেই ভোগা উত্তম। কারণ বেঁধে মারলে সবকিছুই হজম হয়। কেননা পরাধীন দেশে পরাধীনতার কোনো আইন কিংবা বিচার নেই। কিন্তু স্বাধীন দেশেই যদি আইন কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভুগতে হয় পরাধীনতার স্বাদ তবে তার থেকে মৃত্যুই শ্রেয়। পরিস্থিতি এখন এমনটাই যে, “জন্মই যেন আজন্ম পাপ।” গত এক দশক ধরে যে হারে এই নারকীয়তার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে মনে হচ্ছে যেন কোনো কোম্পানির টি.আর.পি বৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় আমরা লিপ্ত। আগামী এক দশক পরে এ যেন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে। “মেয়ে হয়ে যখন জন্মেছ তখন এটা তোমার প্রাপ্য। আর ছেলে হয়ে যখন জন্মেছি তখন এটা আমার প্রাপ্তি। ”
দেশের এই ক্রমবর্ধমান নারকীয়তার শেষ কোথায় তা আমার জানা নেই। শুধু এইটুকু জানি আপনারা যারা আপনাদের এই স্বল্পময় কামবাসনা মেটাবার লক্ষ্যে ঝাপিয়ে পড়েন একটি মাংসপিন্ডে, সেই মাংসপিন্ড ঠিক আপনার মা, বোন ও স্ত্রীর মতোই। তাহলে আপনার কাছেতো এই মাংসপিন্ডের ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। আর প্রশ্ন রইলো সেই মায়ের প্রতি, “কেমন সন্তান জন্ম দিলে হে জননী, সন্তান তোমার লজ্জা!”
“তোমার গর্ভে জন্ম লইয়া
অসুর নামক মনুষ্যরুপ ধরিয়া
দংশিতেছে যারে,
সেও তোমারি মতন
মাংসপিন্ডে বাড়িতেছে যখন
তখনই দংশিল তারে।”ডিজিটালের নামে আজকাল সবকিছুই ডিজিটাল। তাই প্রতিবাদ কিংবা প্রতিরোধ সবকিছুই হয় ডিজিটাল ভাবে। নারকীয়তার দৃশ্য গুলো আমরা মোবাইল বের করে ভিডিও করতে পারি, কিন্তু তৎক্ষনাৎ সংঘবদ্ধভাবে এর প্রতিরোধ করতে পারিনা। আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে ছড়িয়ে দিয়ে তার বাদ বাকি সত্তাটাকেও বাধ্য করি নিঃশেষ করে দিতে। তারাও আবার আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে খূঁজে নেয় তাদের পরবর্তী শিকার। এ যেন এক শিকার আর শিকারীর খেলা। আমরা তো দর্শক মাত্র। আইন যেখানে মিথ্যে তাসের ঘর, সেখানে পরিবার হোক পরিণতি।
এ থেকে পরিত্রাণের দুটো সুযোগ আছে। জন্মই যেখানে আজন্ম পাপ, সেখানে জন্মকে করা হোক মৃত্যুর ঠিকানা। এক নাহয় ছেলে শিশু জন্মের পরেই তাকে মেরে ফেলা হোক। বড় হয়ে ধর্ষক কিংবা শোষন কারী হওয়ার আগে। তবেই হয়তো পুরুষ বিহীন এই দেশে নারীরা থাকবে সুরক্ষিত। আরেক নাহয় মেয়ে শিশু জন্মের পরেই তাকে মেরে ফেলা হোক। কারো ধর্ষিতা কিংবা ভুক্তভোগী হওয়ার আগে। এ ব্যতীত অন্য কোন মাধ্যম আমার জানা নেই।
এখন আর আমার সোনার বাংলা বলে জাতীয় সংগীত গাইনা। এখন বলিনা –” এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি। ”এই কথাগুলো এখন নিতান্তই হাস্যকর। রবীন্দ্রনাথের মতো এখন আর বলি না,
“স্বার্থক জনম আমার জন্মেছি এই দেশে,
স্বার্থক জনম মাগো তোমায় ভালোবেসে।”রবীন্দ্রনাথ যদি এই সময়ে থাকতেন তবে বোধহয় তিনিও বলতেন এইভাবে, ” লজ্জা জনম আমার জন্মেছি এই দেশে, লজ্জা জনম মাগো তোমার কোলে এসে।”
লেখকঃ- সৌরভ ঘোষ
3 Comments
Friends
Md Majnur Rahman John (Krishno John)
@krishno-john
Asif Rahman
@asifaaron62
Abu Said Vuia
@shahadatur-rahman-sohel
তাওহীদ সুফিয়ান
@tawhidsufian
Hujaifa Muhammad
@hujaifa-muhammad
নাদিম হোসাইন
@nadim-hossain
Rejwana Khan
@rejwana-khan
অনুভূতির ডাইরি
@onuvutir-dairi
AdabenTatali
@adabentatali


মানবজন্ম নিয়ে দুঃখ করতে নেই। জীবন এক সংগ্রামের নাম। পুঁজিবাদী ব্যাবস্থাকে গুড়িয়ে না দিলে মুক্তি নাই। লেখো।ভাবো। অভিনন্দন।