-
অদ্ভুত বাস্তবতা
এক নিস্তব্ধ ,অন্ধকার পরিবেশ।সাল ২০৭০,যেখানে মানুষ রয়েছে জাদুঘরে,আর বাইরে রয়েছে প্রযুক্তি।কিন্তু বেঁচে রয়েছে একজন ব্যক্তি।যে কিনা প্রযুক্তিকে করতে চেয়েছিল নিজের হাতের মুঠোয়,সে আজ নিজেই আফসোস করছে।
নাম তার সাগরিকা রহমান,বয়স প্রায় ৭০ এর কাছাকাছি। স্বপ্ন ছিল পৃথিবীর এমন কোন কাজ করে সে বিখ্যাত হবে যাতে গিনেসবুকে তার নাম লিখা হয়।ছোটবেলা থেকে বিভিন্ন গবেষণা করে সে।সময়ের সাথে সাথে সাগরিকা বড় হয়,বিভিন্ন প্রযুক্তির আবিষ্কার হয়।তাই তার মনে ক্ষোভ জাগে। একটা খুব অদ্ভুত ক্ষোভ!মানুষ যে বিখ্যাত হচ্ছে সেটা সে মানতে পারেনাশুরু করে ইন্টারনেটে গবেষণা করা,যেখানে সে খারাপই আগে গ্রহণ করলো,সাগরিকা বাসা থেকে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।শুরু করে এক নতুন জীবন!যেহেতু ততদিনে সে বেশ বড়ই হয়ে গেছিলো,তাই কাজ করার যোগ্যতা তার ছিল,আস্তে আস্তে সে একটা নিজের গবেষণাগার বানায়,আর সেটাই হয়ে যায় তার বাসা।অল্প বয়সে অনেক আবিষ্কার করা হয়ে গেছে তার। সময় যাচ্ছে বয়স বাড়ছে। একসময় সে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করত আজ প্রযুক্তি তাকে ব্যবহার করছে। সাগরিকা তৈরি করে বিভিন্ন ধরনের রোবট যেখানে তার একটি ছিল খুব পছন্দের, এবং সেটার সাথে সে সব সময় থাকতো। সে গবেষণায় এতটাই মগ্ন ছিল যে সে তার নিজের দেহের ভিতরেও বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটাতে লাগলো আর তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ পরিবর্তন করতে লাগলো একটা সময় আসলো যখন তার দেহের হৃদপিণ্ড ছাড়া সবকিছুই আর্টিফিশিয়াল। যেহেতু তার দেহ হয়ে গেল দুর্বল তাই রোবটগুলো হয়ে গেল শক্তিশালী। রোবটগুলো তার মালিক ,এলাকা ,শহর, দেশ ,বিদেশ একে একে সব কিছুকে নিজের আওতায় নিয়ে আনলো। অর্থাৎ বলা যায় সবকিছুই এখন সাগরিকার রোবট এর কন্ট্রোলে। কিন্তু সেই সময়ও মানুষ দেশ ধ্বংসের কথা আশা করেছিল না। রোবটগুলো যে কাজগুলো করছিল সাগরিকা কিন্তু তখনও বেশ খুশি ছিল কারণ তার স্বপ্নগুলো সে বাস্তবায়িত হতে দেখছে। একটা সময় আসলো যখন তার রোবটগুলো বিশ্ব খ্যাতি অর্জন করল। বিশ্ব খ্যাতি অর্জন করার ফলে সাগরিকার সুনাম ও বেড়ে গেল কিন্তু তার মধ্যে একটা অহংকার ঢুকে গেল। যেমনটা বলা হয় না অতি লোভে তাঁতি নষ্ট ঠিক সে রকমই। তার রোবটগুলোকে আরো বিভিন্ন স্টাইলে উপস্থাপন করতে শুরু করলো।জিনিসটা শুনতে খুবই অদ্ভুত,কিন্তু সত্যি। তার আবিষ্কার একে একে ভুল প্রমাণিত হতে লাগলো। একসময় সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে যেয়ে । আর্টিফিশিয়াল বস্তুগুলো একে একে মানুষ হত্যা করতে শুরু করলো পুরো পৃথিবী জুড়ে মানুষের সংখ্যা কমতে থাকলো। আশেপাশে দেখা গেল শুধু রোবট আর রোবট। একটা সময় আসলো যখন সাগরিকার সাথে কথা বলার মানুষও থাকলো না। সাগরিকার মনে দেখা গেল এক ভয়! মানুষকে খুঁজে পাওয়া গেল জাদুঘরে। লুকিয়ে থাকা কিছু মানুষ রইলো বেঁচে সাথে থাকলো সাগরিকা। রোবটগুলো সাগরিকাকে মেরে ফেলতে চাইনি কারণ সেই আর্টিফিশিয়াল জিনিসের নিয়ন্ত্রণ বা কোন সমস্যা হলে সে সমাধান গুলো একমাত্র সাগরিকায় জানতো। সবকিছুই আর্টিফিশিয়াল হয়ে গেল! গাছপালা পশু পাখি আরো কত কি! সাগরিকা সে সময় হতে লাগলো দুর্বল, তখনো সে নিজেকে বিখ্যাত মনে করতো কারণ পৃথিবীতে তখন তার মত একজনই রয়েছে। যখন সবকিছু আর্টিফিশিয়াল হয়ে গেল তখন আর্টিফিশিয়াল বস্তুগুলো সাগরিকাকে বাঁচিয়ে রাখার কোন মানে রাখল না। সেই প্রিয় রোবটটি খেয়াল করল সবকিছুই যখন আর্টিফিশিয়াল , সবকিছুই কিন্তু সেই প্রিয় রোবটটির প্রতিনিধিত্বেই চলছে তখন সাগরিকাকে হত্যা করার প্রস্তুতি শুরু করা হলো।সাগরিকা তখন মনে মনে একটাই আফসোস করে যে , সে যে রাজ করতে চেয়েছিল এক আর্টিফিসিয়াল দুনিয়ায়, যেখানে সবই হবে তার,সেখানে সেই আর্টিফিসিয়াল দুনিয়া তাকে করে দিল ধ্বংস।সে বিখ্যাত হয়ে গেলও গিনিস বুকে তার নাম লিখার মানুষটি রইল না ।হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় সাগরিকার,গায়ে হাত বুলিয়ে দেখে সব ঠিক আছে।সব কিছুই ছিল স্বপ্ন।কি ভয়ঙ্কর একটা স্বপ্ন! অর্থাৎ,প্রকৃতির সৌন্দর্য তার স্বাভাবিকতায় বিদ্যমান।6 Comments
Friends
Shohanur Rahman
@shohan051
Md.Al Amin
@inshaallah
Riadul Hoque
@riadhoque27gmail-com
Jannatul Maliha
@jannatulmaliha
Forhad Ehsan ( Jehoba Sumonder)
@jehobasumonder
Shimul Dutta
@shimul1dutta
mehedi hassan
@mehedihassan10
Kaniz Fatema Sazin
@kf-sazin
ইফতিশা খানম
@eftishakhanam


খুব ভালো লিখেছেন। যতটা মনে করতে পারি তুলটে এ জনরার লেখা তেমন একটা পাওয়া যায় নাই।