<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Zaman. com | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/zaman-com/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/zaman-com/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Zaman. com.</description>
	<lastBuildDate>Mon, 21 Sep 2026 10:30:12 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">a18bb3a73a74463aa010ab8d22b0f3ec</guid>
				<title>মনের না-বলা কথা
মানুষের ভেতরে কিছু কথা জন্ম নেয়, অথচ কোনোদিন ভাষা খুঁজে পায় না।
কিছু অনুভূতি থাকে—যেগুলো বলা যায় না, আবার ভুলেও থাকা যায় না। তারা নীরবে হৃদয়ের কোনো এক কোণে জমে থাকে; সময়ের সঙ্গে মুছে যায় না, বরং আরও গভীরে শেকড় গেড়ে বসে।
কখনো ভালোবাসা মুখে আসে না,
কখনো অভিমান প্রকাশ পায় না,
কখনো কষ্টেরও কোনো নাম থাকে না।
মানুষ অনেক সময় সত্যিটা বলতে চেয়েও থেমে যায়—প্রিয় মানুষটিকে হারানোর ভয়ে, সম্পর্কের ভাঙন এড়ানোর জন্য, কিংবা সমাজের অদৃশ্য দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে। তারপর নিজের ভেতরের ঝড়কে নিজেই শান্ত করার অভিনয় করে।
অদ্ভুত ব্যাপার হলো—
মানুষের সবচেয়ে গভীর ক্ষতগুলো অনেক সময় চোখে দেখা যায় না। শরীরের ক্ষত শুকিয়ে যায়, কিন্তু মনের কিছু ক্ষত সময় পেরিয়েও নিজের অস্তিত্ব জানান দেয়। একটি না-বলা কথা, একটি অসমাপ্ত বাক্য, কিংবা কাউকে বলা হয়নি এমন একটি সত্য—কখনো কখনো মানুষের ভেতরে বহু বছরের নীরবতা হয়ে বেঁচে থাকে।
হয়তো এ কারণেই মানুষ ভিড়ের মধ্যেও একা হয়ে যায়।
চারপাশে অনেক মানুষ থাকে, অথচ এমন একজন মানুষ থাকে না, যার কাছে নিজের ভেতরের দরজাটা সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া যায়।
তবু সব কথা কাউকে বলা সম্ভব না হলেও, কথাগুলোকে চিরকাল বন্দী করে রাখাও কি সম্ভব?
হয়তো কিছু কথা কাগজকে বলতে হয়,
কিছু কথা কবিতাকে,
কিছু কথা রাতের নীরবতাকে।
কারণ মনেরও এক ধরনের ভার আছে।
সে ভার চোখে দেখা যায় না, হাতে ধরা যায় না—শুধু অনুভব করা যায়।
আর কখনো কখনো মানুষ বেঁচে থাকে শুধু এই আশায়—
একদিন এমন কেউ আসবে, যার সামনে আর কোনো কথা লুকিয়ে রাখতে হবে না।
সেদিন হয়তো বোঝা যাবে,
সবচেয়ে বড় মুক্তি কখনো কোনো বন্ধন ছিন্ন করার মধ্যে নয়;
কখনো কখনো মুক্তি শুধু নিজের না-বলা কথাগুলো বলে ফেলতে পারার মধ্যে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/276618/</link>
				<pubDate>Mon, 21 Sep 2026 08:26:40 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মনের না-বলা কথা<br />
মানুষের ভেতরে কিছু কথা জন্ম নেয়, অথচ কোনোদিন ভাষা খুঁজে পায় না।<br />
কিছু অনুভূতি থাকে—যেগুলো বলা যায় না, আবার ভুলেও থাকা যায় না। তারা নীরবে হৃদয়ের কোনো এক কোণে জমে থাকে; সময়ের সঙ্গে মুছে যায় না, বরং আরও গভীরে শেকড় গেড়ে বসে।<br />
কখনো ভালোবাসা মুখে আসে না,<br />
কখনো অভিমান প্রকাশ পায় না,<br />
কখনো কষ্টেরও কোনো নাম থাকে না।<br />
মানুষ অনেক সময় সত্য&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-276618"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/276618/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1715d03a5ed3ff8d96acaa54da4b4768</guid>
				<title>একটি প্রাণী কত দিন বাঁচে—হাতির ষাট বছর কিংবা কোয়াক্কার মিষ্টি হাসি নিয়ে ভাবতে গিয়ে হুট করেই মাথায় একটা অদ্ভুত চিন্তা এলো।
​আমরা সাধারণত দীর্ঘায়ুকেই জীবনের বড় সাফল্য বা আনন্দের মাপকাঠি মনে করি। কিন্তু একটু গভীরে ভাবলে কি উল্টোটা মনে হয় না?
​জীবন যত দীর্ঘ হয়, বেঁচে থাকার লড়াই, মানসিক চাপ, প্রিয়জন হারানোর শোক, রোগব্যাধি আর ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তার সুযোগও তত বাড়ে। যে প্রাণী মাত্র কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন বাঁচে—যেমন মে-ফ্লাই—তার জীবনে কোনো সঞ্চয়ের চিন্তা নেই, বার্ধক্যের শারীরিক ক্ষয় নেই, কিংবা অতীত-ভবিষ্যতের কোনো মানসিক টানাপোড়েন নেই।
​দার্শনিক শোপেনহাউয়ারের একটি কথা মনে পড়ে যায়—অস্তিত্ব যত দীর্ঘ, যন্ত্রণার পাল্লাও তত ভারী। তাই জাগতিক মায়া আর দীর্ঘমেয়াদী কষ্টের দিক থেকে দেখলে, হয়তো সংক্ষিপ্ত জীবনের প্রাণীরাই সবচেয়ে বেশি ভারমুক্ত ও শান্তিতে থাকে।
​দীর্ঘ জীবনের দীর্ঘ যন্ত্রণা নাকি স্বল্প সময়ের নিশ্চিন্ত নীরবতা—কোনটা আসলে শ্রেষ্ঠ?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/276561/</link>
				<pubDate>Mon, 21 Sep 2026 06:57:44 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>একটি প্রাণী কত দিন বাঁচে—হাতির ষাট বছর কিংবা কোয়াক্কার মিষ্টি হাসি নিয়ে ভাবতে গিয়ে হুট করেই মাথায় একটা অদ্ভুত চিন্তা এলো।<br />
​আমরা সাধারণত দীর্ঘায়ুকেই জীবনের বড় সাফল্য বা আনন্দের মাপকাঠি মনে করি। কিন্তু একটু গভীরে ভাবলে কি উল্টোটা মনে হয় না?<br />
​জীবন যত দীর্ঘ হয়, বেঁচে থাকার লড়াই, মানসিক চাপ, প্রিয়জন হারানোর শোক, রোগব্যাধি আর ভবিষ্যতের দুশ্চি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-276561"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/276561/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ea6e720f9bd7a1f6c8ff9aeebfe30e0d</guid>
				<title>স্থান: মাটির নীচের এক নীরব জগৎ

চরিত্র: ধনীষেক (কোটি টাকার কবরে শায়িত) ও গরীবী (সাধারণ মাটির কবরে শায়িত)
​গরীবী: (ধীরে শান্ত গলায়) ভাই, এই আঁধার জগতে তো আর কোনো তাড়া নেই। একটু কথা বলবে? তোমার বাড়ি কোথায় ছিল ভাই? মাটির ওপর তোমাকে নিয়ে অনেক শোরগোল শুনতাম।

​ধনীষেক: (দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে) আমার বাড়ি ছিল শহরের এক আলো ঝলমলে রাজপ্রাসাদে। চারপাশে শত শত গাড়ি, দাস-দাসী আর অগাধ ধন-সম্পদ। কিন্তু তুমি আগে তোমার কথা বলো তো, তুমি কোত্থেকে এলে?

​গরীবী: আমার জন্ম হয়েছিল রূপসী বাংলা নদীর ধারের এক ছোট্ট ছনঘেরা ঘরে, গ্রামটার নাম ছিল &#039;মেঘনাপুর&#039;। সারাদিন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে কাদা-মাটিতে ধান কাটতাম। দু&#039;বেলা দু&#039;মুঠো ভাত জোটাতে জীবন কেটে গেল। অসুস্থ হলে চিকিৎসার টাকাও ছিল না। একদিন এভাবেই কাজ করতে করতে ক্লান্ত শরীরটা ঢলে পড়ল, আর গ্রামের মানুষরা ভালোবেসে এই কাঁচা মাটিতে শুইয়ে দিয়ে গেল। তা ভাই, তোমার নাম যেন কী? তুমি কীভাবে এখানে এলে?

​ধনীষেক: আমার নাম ছিল ধনীষেক। আমি জন্ম থেকেই মুখে সোনার চামচ নিয়ে বড় হয়েছি। পৃথিবীর সব দামি গাড়িতে চড়েছি, বিলাসিতার শেষ ছিল না। যা চেয়েছি, তা-ই পেয়েছি। কিন্তু এক অচেনা রোগ যখন ধরল, পৃথিবীর কোনো কোটি টাকার ডাক্তার আমাকে বাঁচাতে পারল না। আর দেখো, আমার পরিবার আমাকে ঢাকার এক অভিজাত কবরস্থানে কোটি টাকা দিয়ে মার্বেল পাথরে বাঁধানো জায়গায় দাফন করে গেল।

​গরীবী: (মৃদু হেসে) কোটি টাকার মার্বেল পাথর! কিন্তু ভাই, তোমার গায়ে কি শীত কম লাগছে? নাকি ওই মার্বেল পাথরগুলো তোমার কাফনের কাপড়ে কোনো সোনা ছড়িয়ে দিয়েছে?

​ধনীষেক: (কিছুক্ষণ চুপ থেকে, থমকে গিয়ে) না ভাই... আশ্চর্য বিষয় হলো, মাটির ওপরে তারা কয়েক কোটি টাকা খরচ করে রাজপ্রাসাদের মতো কবর বানিয়ে দিল, কিন্তু এখানে এসে দেখছি চারপাশের এই নীরবতা আর অন্ধকার একদম এক। আমার দামি মার্বেল পাথর আমাকে এতটুকু বাড়তি আলো বা আরাম দিতে পারছে না।

​গরীবী: সত্যি ভাই। মাটির ওপরের সেই রাজপ্রাসাদ আর আমার ভাঙা কুঁড়েঘরের দূরত্বটা কত বিশাল ছিল, তাই না? অথচ মাটির নিচে এসে দেখা গেল, তুমিও যা, আমিও তাই। এখানে কোটি টাকাও শূন্য, আর আমার অভাবটাও শূন্য।

​ধনীষেক: এখন বুঝতে পারছি, মাটির ওপরে আমরা অহংকার করতাম শুধুই মিথ্যে ছায়াকে নিয়ে। আসল সত্যিটা তো আজ আমাদের এই পাশাপাশি শুয়ে থাকা। এখানে কোনো ধনী নেই, কোনো গরীব নেই—আমরা কেবলই দুজন সাধারণ কবরবাসী।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/276277/</link>
				<pubDate>Sun, 20 Sep 2026 11:19:27 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>স্থান: মাটির নীচের এক নীরব জগৎ</p>
<p>চরিত্র: ধনীষেক (কোটি টাকার কবরে শায়িত) ও গরীবী (সাধারণ মাটির কবরে শায়িত)<br />
​গরীবী: (ধীরে শান্ত গলায়) ভাই, এই আঁধার জগতে তো আর কোনো তাড়া নেই। একটু কথা বলবে? তোমার বাড়ি কোথায় ছিল ভাই? মাটির ওপর তোমাকে নিয়ে অনেক শোরগোল শুনতাম।</p>
<p>​ধনীষেক: (দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে) আমার বাড়ি ছিল শহরের এক আলো ঝলমলে রাজপ্রাসাদে। চারপাশে শত শত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-276277"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/276277/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f622433e3304f24befd16c1a2b85e054</guid>
				<title>লোহার খাটে ঘুন ধরে না
​ঘটনাটি অনেক বছর আগের। সামিউলের বয়স তখন খুব বেশি হলে ছয় বা সাত। মধ্যবিত্ত সংসারে বাবার জমানো টাকায় ঘরে এসেছিল চমৎকার এক কাঠের খাট। পলিশ করা কাঠে রোদের আলো পড়লে সামিউলের মনটা আনন্দে ভরে উঠত। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিদিন টেকেনি। বছরখানেক যেতে না যেতেই দেখা গেল খাটের নিচে মেঝেজুড়ে কাঠের গুঁড়ো। ঘুনপোকা ভেতরে ঢুকে খাটটাকে নিঃশব্দে ফাঁপা করে ফেলেছে। একদিন সামান্য ওজনেই মটমট করে ভেঙে পড়ল খাটের একটা কোণা।
​সেদিন সামিউলের মন খারাপ দেখে বাবা তাকে কাছে টেনে নিয়ে বলেছিলেন, &quot;মন খারাপ করিস না বাপ। এবার তোকে এমন এক খাট কিনে দেব, যাতে কখনো ঘুন ধরে না! লোহা দিয়ে বানানো খাট... আয়ু তার হাজার বছর!&quot;
​কয়েকদিনের মধ্যেই ঘরে এলো একটা শক্তপোক্ত কালো লোহার খাট। ছোট্ট সামিউল বাবার সেই কথাটা মন-প্রাণ দিয়ে বিশ্বাস করে নিল—‘লোহার খাটে ঘুন ধরে না’।
​সময় তার নিজস্ব নিয়মে বয়ে চলল। দিন গেল, মাস গেল, বছর পার হলো। ছোট সামিউল একসময় বড় হলো, আর মাথার ওপর ছায়া হয়ে থাকা বাবাও একদিন পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে নিঃশব্দে হারিয়ে গেলেন। কিন্তু বাবার বলে যাওয়া সেই একটা বাক্য সামিউলের মনের ভেতর একদম অমলিন রয়ে গেল।
​এই বিশ্বাসটা সামিউলের ভেতরে এমন এক অন্ধ ধারণার জন্ম দিয়েছিল যে, ঘুন ধরে না মানে এই খাট আর কোনোদিনও নষ্ট হতে পারে না! এটা চিরস্থায়ী।
​বহু বছর ধরে নিশ্চিন্ত মনে সেই খাটে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে বয়স পার করে দিল সামিউল। খাটটির দিকে বাড়তি খেয়াল রাখার বা রক্ষণাবেক্ষণ করার প্রয়োজন সে কখনো অনুভব করেনি। কারণ তার মনে তো চিরদিনের জন্য ছাপা হয়ে গেছে—লোহার খাট কোনোদিন নষ্ট হয় না!
​কিন্তু সামিউলের সরল আর অন্ধ মাথার ভেতর কখনো এই সাধারণ হিসাবটা আসেনি যে—লোহার খাটে ঘুন ধরে না ঠিকই, কিন্তু জং তো ধরতে পারে!
​সামিউলের অজান্তেই, বহুকাল ধরে ভেতরে ভেতরে জং ধরে ধরে খাটটির লোহা ক্ষয়ে একবারে শেষ পর্যায়ে চলে এসেছিল। বাইরে থেকে দেখতে কালো রঙের প্রলেপ থাকলেও ভেতরটা হয়ে গিয়েছিল ভঙ্গুর ও মরণাপন্ন।
​একদিন রাতে নিশ্চিন্ত মনে সামিউল যেই না খাটে শুতে গেল, অমনি মড়মড় শব্দে পুরো খাট ভেঙে গুঁড়ো হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল!
​হুট করে নিচে আছড়ে পড়ে অন্ধকার ঘরের ধুলোবালির মধ্যে স্তব্ধ হয়ে বসে রইল সামিউল। আঘাতের চেয়েও বড় ধাক্কা লাগল তার মনে। মাথায় এতদিনে হুশ ফিরে এলো! মনে মনে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে হলো, &quot;বাবা তো বলেছিল লোহার খাটে কখনো ঘুন ধরে না... কিন্তু লোহার খাটে যে জং ধরে, এ কথা তো বাবা আমাকে কখনো বলেনি!&quot;
​আসলে এই পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষই বড্ড সরল। তারা কোনো কথার উপরিভাগটুকু দেখে সিদ্ধান্ত নেয়, গভীরে লুকিয়ে থাকা পূর্ণাঙ্গ সত্যটা বিচার করে দেখতে শেখে না। বিশেষ করে যেখানে আবেগ, অন্ধবিশ্বাস আর কুসংস্কারের সূক্ষ্ম সীমান্তরেখা এসে মিশে যায়, সেখানে মানুষের যুক্তি ও চিন্তাশক্তি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে।
​বাস্তব জীবনে এই একই মানুষ বাজারে গিয়ে মাত্র পাঁচ টাকার একটা বিস্কুট কেনার সময়েও কত সতর্ক! বিস্কুটের প্যাকেটের গায়ে মেয়াদের তারিখ আছে কি না, প্যাকেটটা বাতাস ঢুকে নরম হয়ে গেছে কি না—কত শত উপায়ে যাচাই-বাছাই করে নেয়। কিন্তু জীবনের পরম সত্য, ধর্মীয় চেতনা কিংবা মানসিক শান্তির জায়গায় পৌঁছালে এই মানুষগুলোই নিজেদের যুক্তি বুদ্ধি বন্ধ করে দেয়। কোনো এক পানি পড়া, ভণ্ড পীরের ফু, জাদু-তাবিজ কিংবা বংশপরম্পরায় চলে আসা কাল্পনিক প্রথার পেছনে অকাতরে হাজার হাজার টাকা আর অমূল্য সময় ঢেলে দেয়।
​কেন তারা এটা করে? কারণ ‘কেউ একজন বলেছে’, কিংবা ‘কারো মুখে শুনেছে’। ওই যে ছোটবেলায় শোনা &quot;লোহার খাটে ঘুন ধরে না&quot;—ঠিক তেমনই একেকটা আংশিক সত্য বা কাল্পনিক প্রথাকে মানুষ জীবনের চরম সত্য বলে ধরে নেয়। কেউ তাদের শিখিয়ে দেয়নি যে, কোনো একটি নির্দিষ্ট বিপদের পথ বন্ধ হওয়ার অর্থই বিপদ চিরতরে শেষ হয়ে যাওয়া নয়। ঘুনপোকার হাত থেকে বাঁচলেও জং ধরে যে অস্তিত্ব বিলীন হতে পারে—এই সহজ সত্যটুকু বোঝার জন্য যে সচেতনতা আর বুদ্ধি প্রয়োজন, অন্ধবিশ্বাস মানুষকে সেই বুদ্ধি খাটাতে দেয় না।
​অন্ধ অনুকরণ আর সত্য অনুসন্ধানের অভাবই মানুষকে অন্ধবিশ্বাসের ফাঁদে ফেলে। বাহ্যিক কিছু রূপক আর আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে মানুষ যখন নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ে, ঠিক তখনই তার অজান্তে ভেতরে জমে উঠতে থাকে অসচেতনতার জং। বিশ্বাস সুন্দর, কিন্তু বিবেক ও যুক্তিহীন অন্ধবিশ্বাস একটা বড় অভিশাপ। যতক্ষণ না মানুষ নিজে থেকে প্রশ্ন করতে শিখবে, যতক্ষণ না অন্যের মুখে শোনা সত্যকে নিজের বোধশক্তি দিয়ে পরখ করে নেবে—ততক্ষণ পর্যন্ত এই সমাজের অসংখ্য সামিউলকে ভুল বিশ্বাসের ওপর ভর দিয়ে বাঁচতে হবে এবং একদিন হঠাৎ অন্ধবিশ্বাসের সেই ভাঙা খাটের ওপরেই আছড়ে পড়ে চরম মাশুল গুনতে হবে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/276168/</link>
				<pubDate>Sun, 20 Sep 2026 08:09:29 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>লোহার খাটে ঘুন ধরে না<br />
​ঘটনাটি অনেক বছর আগের। সামিউলের বয়স তখন খুব বেশি হলে ছয় বা সাত। মধ্যবিত্ত সংসারে বাবার জমানো টাকায় ঘরে এসেছিল চমৎকার এক কাঠের খাট। পলিশ করা কাঠে রোদের আলো পড়লে সামিউলের মনটা আনন্দে ভরে উঠত। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিদিন টেকেনি। বছরখানেক যেতে না যেতেই দেখা গেল খাটের নিচে মেঝেজুড়ে কাঠের গুঁড়ো। ঘুনপোকা ভেতরে ঢুকে খাটটাকে নিঃশব্দে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-276168"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/276168/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">273df0a1b69d9644a7970c1a6740928f</guid>
				<title>Zaman. com changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/276082/</link>
				<pubDate>Sun, 20 Sep 2026 05:39:58 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c454671aec8a76929d6cb187aba94c9e</guid>
				<title>অধিকারের ইতি
​চল্লিশ ছুঁইছুঁই বয়সে এসেও দারিদ্র্য যার নিত্যসঙ্গী, দুঃখের সাথে তার সখ্যতা জন্মসূত্রের। খুব বেশি দূর লেখাপড়া করা হয়নি আমার, ভাগ্যটাও কখনো সহায় হয়নি। অভাবের সংসারে বাবা মারা গেছেন বছর তিনেক আগে। সারাজীবন বাবা মাকে খুব সুখে রাখতে পারেননি, আর বড় ছেলে হয়ে আমিও যে খুব পেরেছি—তা নয়। ঢাকায় ছোটখাটো একটা কাজ করি, আর স্ত্রী-সন্তানেরা গ্রামেই থাকে।
​মা চিরকালই অভাবের সংসারে খিটখিটে মেজাজের ছিলেন। বকাঝকা করতেন, বউ-শাশুড়ির ঝগড়া লাগত, আমি চড়া গলায় মায়ের সাথে কত তর্ক করেছি! কিন্তু অভাব যেমনই হোক, মা তো মা-ই। বাবার মৃত্যুর পর থেকেই গুঞ্জন ছিল মা হয়তো অন্য কোথাও চলে যাবেন। অভাবের কারণে মাকে কাছে এনে আগলে রাখার সাধ্যও আমার ছিল না। মা কখনো গ্রামে, কখনো অন্য ভাইবোনের কাছেই থাকতেন।
​হঠাৎ একদিন গ্রাম থেকে খবর এলো—মা অন্য জায়গায় বিয়ে করে চলে গেছেন।
​খবরটা শুনে মাথার ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। বুকটা ফেটে চুরমার হয়ে যাচ্ছিল, চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছিল। বাবাকে হারালাম কিছুদিন আগে, আর আজ মা-ও চলে গেল? আমার সন্তানেরাও বুঝতে পারল—বাবার এই চরম আর্থিক টানাপোড়েন আর দারিদ্র্যই আজ দাদিকে দূরে ঠেলে দিল।
​প্রথমে রাগ, ক্ষোভ আর ঘৃণায় ছেয়ে গিয়েছিল মনটা। কিন্তু দিন যত যেতে লাগল, রাগটা কেমন যেন এক অজানা আশঙ্কায় রূপ নিল। মা কেমন আছে? ভালো আছে তো? কোনো খারাপ মানুষের পাল্লায় পড়ল না তো?
​আর থাকতে না পেরে একদিন মাকে ফোন দিলাম। মায়ের কাঁপা কাঁপা গলার আওয়াজ পেয়েই মনটা নরম হয়ে গেল। নিয়মিত খোঁজ নিতে নিতে একদিন বুঝলাম—মা সেখানে সত্যি ভালো আছে। অভাব-অনটন নেই, লোকটাও যত্ন নেয়। মায়ের চেহারায় আর জীবনের সেই জীর্ণতাটুকু নেই। মা সুখে আছে দেখে আমার মনটা হালকা হলো, পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নিলাম।
​কিন্তু, এখন আর আমি সেই আগের মা-কে খুঁজে পাই না।
​আগে যে মায়ের সাথে বাজে ব্যবহার করতাম, চেঁচিয়ে কথা বলতাম—আজ সেই মায়ের সাথে অচেনা আন্টি বা খালাদের মতো ভীষণ ভদ্রভাবে কথা বলি। কোনো উঁচু গলা নেই, কোনো রাগ নেই। মা যা বলে, এক বাধ্য ছেলের মতো কেবল &#039;হ্যাঁ&#039; বলে যাই। মা-ও একদিন কেঁদে কেঁদে ক্ষমা চাইল, &quot;বাবা আমাকে ক্ষমা করে দিস...&quot;
​আসলে মায়ের ওপর আজ আর আমার কোনো রাগ বা ক্ষোভ নেই। সারাজীবন কষ্ট পাওয়া মা আমার শেষ বয়সে এসে সুখে আছে, এটাই তো অনেক।
​তবুও বুকের ভেতর কোথায় যেন একটা বিশাল শূন্যতা হাহাকার করে ওঠে। মনে হয় পরম মূল্যের কিছু একটা হারিয়ে ফেলেছি। বুঝে গেছি—যে মা কোনোদিন সন্তানের ওপর থেকে অধিকার ছাড়েনি, অভাবের নির্মম টানে আজ আমার সেই মায়ের ওপর শাসন করার, রাগ করার কিংবা অধিকার দেখানোর কোনো সুযোগ আর অবশিষ্ট নেই।
​মায়ের প্রতি আজ আর কোনো অধিকার নেই, রয়ে গেছে শুধু দূর থেকে পালন করা কিছু দায়িত্ব।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/276081/</link>
				<pubDate>Sun, 20 Sep 2026 05:36:46 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অধিকারের ইতি<br />
​চল্লিশ ছুঁইছুঁই বয়সে এসেও দারিদ্র্য যার নিত্যসঙ্গী, দুঃখের সাথে তার সখ্যতা জন্মসূত্রের। খুব বেশি দূর লেখাপড়া করা হয়নি আমার, ভাগ্যটাও কখনো সহায় হয়নি। অভাবের সংসারে বাবা মারা গেছেন বছর তিনেক আগে। সারাজীবন বাবা মাকে খুব সুখে রাখতে পারেননি, আর বড় ছেলে হয়ে আমিও যে খুব পেরেছি—তা নয়। ঢাকায় ছোটখাটো একটা কাজ করি, আর স্ত্রী-সন্তানেরা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-276081"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/276081/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>