ভূমিকা: এসো চুল খুলে পথে নামি

ভূমিকা: এসো চুল খুলে পথে নামি

নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের বাংলা গান—গানের নদী চুড়ান্তরকম ভাবে প্রবাহিত হয়। অনেকটা প্রায় বর্ষাকালের নদীর মতো। এই দশকে বাংলা সংগীতের সকল শাখাতেই অগণিত অসংখ্য হৃদয়ছোঁয়া কালজয়ী গানের জন্ম হতে থাকে। এর মধ্যে সবচে বড় বিস্ফোরণ হলো সেই সময়ের ব্যান্ডগুলি। বাংলাদেশে নব্বই দশকের‘ব্যান্ডের গান’তুমুল শ্রোতাপ্রিয়তা লাভ করে। তরুণদের প্রিয় ও হৃদয়ের কাছের হয়ে ওঠে সেই সময়ের ব্যান্ডগুলি। এই দশকের শুরুতে এই দেশে ব্যান্ডের গানকে খারাপ ভাবা হত! ভাবা হত অপসংস্কৃতি! কিন্তু এই দশকের শেষ দিকে এই ব্যান্ডের গানই একটা তুমুল জনপ্রিয়তার দিকে ধাবিত হতে থাকে। আর আজ? আপনি বাংলা-গানের একটা ভেন ডায়াগ্রাম আঁকেন… সেখানে, নজরুল বসান, রবীন্দ্রনাথকে বসান, হাসন রাজা, লালন সাঁইজি, আবদুল করিম আরো যা যা বসানোর—যাকে যাকে বসানোর—বসান। বসাইছেন? মনে করেন সবাই বসে গেছে। খালি নাইন্টিজের ব্যান্ড মিউজিকটা বসে নাই। দেখেন, ভালো করে দেখেন, অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকেন ভেন ডায়াগ্রামের দিকে… চোখ বন্ধ করে আবার দেখেন। আপনার প্রিয় অনেকগুলি গান এই ডায়াগ্রামে নাই। অনেকগুলি মনের আবেগ মিসিং। অনেক কান্নার শব্দ এই ডায়াগ্রামে—গানের নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে না। কথা গুলি যদি দুর্বোধ্য মনে হয়, তাহলে নাইন্টিজের বাংলা ব্যান্ডের গান সহ এবং এটি ছাড়া দুটি ডায়াগ্রাম পাশাপাশি রাখুন। রেখে দেখুন, কীরকম দেখাচ্ছে…

পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, নাইন্টিজের সেই ব্যান্ড মিউজিক ছাড়া এখন এই মুহূর্তে বাংলা গানের ইতিহাস অসম্পূর্ণ। এবং এই বাক্যটি অমোঘ—বিন্দুমাত্র খাদ নেই।

১৯৯৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর আনিসুল হকের উপস্থাপনায় ‘জলসা’ নামে একটি টিভি অনুষ্ঠানে দুজন পুরাতনী শিক্ষাবিদ ও শিল্পী বলেন, নতুন প্রজন্মের ব্যান্ড মিউজিক বাংলা গানকে নষ্ট করছে। এইগুলি অপসংস্কৃতি—এই গান টিকবে না—ধ্বসে যাবে। কিন্তু সেই একই অনুষ্ঠানে খান আতাউর বলেন, ওরা বাংলা গানকে আরও সমৃদ্ধ করছে। ওরা নতুন নতুন সব নিরীক্ষা করছে তো, তাই মেনে নিতে একটু কষ্ট হচ্ছে পুরনোদের—৫০ বছর পরে এইটা নরমাল হয়ে যাবে। দিন যত যাবে এই গান তত স্পষ্ট ও সুদূরপ্রসারী হবে।  

নব্বই এর এই নদীর ঠিক পেছনেই আরও একটি নদী আছে, গানের—সুরের—ষাটের নদী।  এর আগে বাংলা-গান বিস্ফোরিত হয় ষাটের দশকে। এই বিস্ফোরণটা ঘটে মুলতঃ সিনেমার গানে এবং একইসাথে রেডিও টিভির আধুনিক-গানে। এইগানগুলি অবশ্য প্রায় একই গীতিকার সুরকারেরা লিখতেন, এমনকি গাইতেন-ও প্রায় একই শিল্পীরা । গানের যে কোমল ধরণ সেটা একই রকম। শুধু কোন গান শ্রোতার নিকটে আসছে সিনেমার মাধ্যমে। আধুনিক গান গুলি রেডিও টিভির মাধ্যমে। আবার, সিনেমার গানগুলিও পরে রেডিও-তে টিভি-তে প্রচারিত হত। এই সময়ের মধ্যেই লং প্লে থেকে ক্যাসেট যুগের আধিপত্য বাড়তে থাকে। এটি একইসাথে প্রযুক্তির রূপান্তর এবং শ্রুতিমধুর গানে সমৃদ্ধ এক নতুন হাওয়ার আভাস। এই নদীতে যেসব মাছেরা ছিলেন—পাখিরা ছিলেন তাদের কয়েকজন হলেন: শাহনাজ রহমাতুল্লাহ, মাহমুদুন্নবী,  নীলুফার ইয়াসমিন, আঞ্জুমান আরা বেগম, খুরশীদ আলম …

তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, বাংলা গান একবার ষাটের দশকে বিস্ফোরিত হলো এরপরে আবার নব্বইয়ে। সত্তর আর আশির দশকে শ্লথ গতিতে সামনের দিকে এগিয়ে চললো গানের এই নদী, নদীর ধারা। এই বিশ বছরে একধরনের সৃজনগত বিরতি ছিল। আগের ধারাবাহিকতাতেই সমৃদ্ধ হয়েছে সময়। নতুন কিছু আসে নি তেমন। এটাও এক ধরনের খরা। এই খরা হয়তো সাবলীল। হয়তো এটাই প্রকৃতির নিয়ম। আজ যে আনন্দে আছে—কাল সে দুখে থাকবে। আজ যে দুঃখে আছে—কাল সে আনন্দে থাকবে। ঢেউয়ের উঁচু রেখার সামনে ও পেছনে থাকে নিচু নিচু রেখা। উঁচু রেখাটি তৈরি হবে বলেই হয়তো এইসব নিচু রেখার দরকার হয়। নব্বইয়ের দশকে বাংলা গানে বৃহৎ বিস্ফোরণ ঘটায় মুলতঃ ব্যান্ডগুলি। প্রতিটি সময়ের একটা নিজস্ব ভাষা থাকে। সময় তার নিজের মতো করে নিজের ভাষাটিকে ‘রূপ’ দেয়। একদল যুবক তাদের জীবন যৌবন ধন ও মান খরচ করে একটি সময়কে সকলে মিলে তুমুল-ভাবে সমৃদ্ধ করে তুললো—গানে গানে।  এখন খেয়াল করা যেতে পারে, ২০০৬ এর ‘অনিকেত প্রান্তর’ অ্যালবাম’র পর আর কোন গানের অ্যালবাম খুব একটা রেশ ফেলতে পারে নি। পাখির চোখ থেকে দেখলে সহজেই অনুধাবন করা যায় যে, এই বিশ বছরেও বাংলা গানে একটি খরা-ই চলেছে। এক প্রবল খরা। এক প্রবল হাহাকার। বিশ বছরে সব মিলিয়ে ২০ টি ‘হয়ে ওঠা গান’এর জন্ম হয়েছে কী না সেটি নিশ্চিত করে বলা যায় না। একটা চলমান মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি—একটা প্রবহমান নদী কিভাবে দেখতে দেখতে ‘নাই’ হয়ে গেলো। সে অন্য আর এক বিস্ময়! নব্বই দশকের শেষের দিকে প্রতি ঈদে দুইশো আড়াইশো গানের ক্যাসেট বের হত এবং সেইসব ক্যাসেট ফুরিয়েও যেত চন্দ্র-রাতের আগেই। ঈদের দুইদিন পর ক্যাসেট কিনতে গেছেন মানে আপনি সবচাইতে মধুর ক্যাসেট-গুলি মিস করবেন। আপনি ‘দুঃখিনী দুঃখ করো না’ পাবেন না, ‘পিয়ানো’ পাবেন না, ‘এখন-ও দুচোখে বন্যা’ পাবেন না। আপনি পাবেন, ‘খেলারাম খেলে যা’! আপনি পাবেন ‘সাত রঙ এর কষ্ট’, আপনি পাবেন ‘একটি নারী অবুঝ’ … একটি কথা না বললেই নয়, এই ক্যাসেটগুলি যে আগেই ফুরিয়ে যেত। এইটা কারা করতো? কার কার বাসায় এইসব ক্যাসেট থাকত—যেগুলি তাদের কাছ থেকে ধার নিয়ে শুনত অনেকে। সব সময়েই সময়ের সাথে আপডেটেড বা অল্প একটু এগিয়ে থাকা কিছু মানুষ থাকে। তারা এই পত্রিকা, সেই ম্যাগাজিন, বিভিন্ন বিনোদন পাতা থেকে গানের অ্যালবাম সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতো। তারপর সেই তথ্যের উপর ভিত্তি করে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে একটা সিদ্ধান্তে আসত। অমুক ব্যান্ডের অমুক অ্যালবামটা কিনতেই হবে। অমুক মিক্সড ক্যাসেট-টা আমার লাগবেই। তালিকায় প্রথমে থাকা সেই ক্যাসেটগুলিই আমাদের প্রসঙ্গ। বাদবাকি আরও কিছু গান এবং অ্যালবাম তো থেকেই যায়। ঈদের পরে সেইসব গানের মধ্যে ভালো ও হিট গানগুলি কোন একটা ক্যাসেটের দোকানে গানের তালিকা ও ব্ল্যাংক ক্যাসেট দিয়ে আসলে তারা সুন্দর করে রেকর্ডিং করে দিত। এতে অবশ্য কপিরাইট যারা হোল্ড করতেন তারা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। তাই এধরণের রেকর্ডিং-কে একটা সময় পর্যন্ত নিরুৎসাহিত করা হতো। কিন্তু এই ইন্ডাস্ট্রি এরপরে আরও অনেক বড় ক্ষত ও ক্ষতির সামনে পড়ে। গানের বাজারটাই হারিয়ে যায়। অতীতের দুটি ক্ষতির মধ্যে আমরা যখন তুলনা করি তখন ছোট ক্ষতিকে অনেকটাই ম্রিয়মাণ মনে হয়। সেই বিস্তারিত গল্প যেন আরেকটি গবেষণাপত্র। আমরা সেটি বিশ্লেষণের চেষ্টা করবো অন্য কোন বাহাসে, আড্ডায়, চা খেতে খেতে। তাহলে, এই বিশ বছর, দুই হাজার সাল থেকে ২০২০ পর্যন্ত; একটা খরার পর এখন কী তাহলে চলমান দশকে বাংলা গান আবার বিস্ফোরিত হবে?

শুরুটা আমরা করেছিলাম নব্বই দশক থেকে, পরে সুযোগ বের করে ঘুরে এসেছি ষাটের দশক থেকে। চলেন, ট্রেনে করে একটু অবিভক্ত শহর কোলকাতা থেকে ঘুরে আসি। সময়টা ত্রিশের দশক। উঠেছি, ধরুন কোর্ট কুষ্টিয়া থেকে—কিংবা ধরুন কুমারখালি বা কালুখালী থেকে। ঈদের তিন দিন বাকী আছে। টুকিটাকি শপিং আর কিছু লংপ্লে কিনতে হবে। অনেক দিন ধরে এইচএমভির কিছু আধিকারিক ভাবনা চিন্তা করছেন—পুজোয় যেভাবে গান শোনার এবং গান বাজানোর রীতি। গানের একটা বিশাল বাজার, একইভাবে ঈদেও নয় কেন? এখানে তো অনেক মুসলমান এবং একইসাথে তারা গান-ও শোনে। আর, চাইলে ঈদ নিয়ে দুই একটা গান সৃজনের মধ্য দিয়েই জিনিসটা শুরু করে দেয়া যায়। একটা রীতি—একটা রেওয়াজ—একটা চল। তারই নাকি একটা গবেষণা চলছে। সেটা এরকম—কাজী নজরুল ইসলামকে দিয়ে তো যেকোনো ধরণের গানই করানো সম্ভব। উনার তরিকাই হলো এরকম যে, যে কেউ যদি উনার কাছে গিয়ে বলেন অমুক বিষয় নিয়ে একটি গান লিখে দিন। উনি সাথে সাথে সেটা করে দিতেন। সুতরাং কাজী সাহেবকে দিয়ে গান করানো কোন বিষয়-ই না। সুতরাং ঈদের বাজার ধরতে টেকনিক্যাল কোন সমস্যা নাই। এখন প্রশ্ন হলো গান কে গাইবে? তখন আরেকজন যুবক ‘রক ঘরানার ফোক গান’ গেয়ে মানুষের মন জয় করে ফেলেছেন। তাঁর নাম আব্বাস উদ্দিন আহমেদ। এইচএমভির কর্তারা ভাবনাটিকে বাস্তবেও আনলেন। রোজার মাসের শুরু কিংবা মাঝামাঝির দিকে ঈদ নিয়ে করা ‘ও মন রমজানের এই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’ গানটি দোকানে দোকানে লং-প্লে তে বাজানো শুরু করার পর মানুষ এটাকে লুফে নিলো—লুপে নিলো। একটি গানই একের পর এক বেজে যাচ্ছে, মন থেকে মগজে, মগজ থেকে কানের ভিতর দিয়ে মরমে ঢুকে যাচ্ছে একটি বাংলা গান, একটি সফল এক্সপেরিমেন্ট, অনেক-টা মঙ্গল গ্রহে মিশন চালিয়ে জেযেরো ক্রেটার খুঁজে সেখানে স্ট্রবেরী চাষের মতো।

কথা হচ্ছিল—একটা খরার পর এখন এই সময়ে এসে চলমান দশকে বাংলা গান আবার বিস্ফোরিত হবে কী না সেটা নিয়ে। আমার মনে হয়, হ্যাঁ এটা নিশ্চিতভাবেই হবে। ইতিমধ্যেই হচ্ছে। তবে এই সময়ে ব্যান্ড আর আলাদা করে বিস্ফোরিত হবার কিছু নেই। এই সময়টা একটু অস্থির। এখানে চার পাঁচ জন মানুষকে এক জায়গায় মিলিত করা একটু কঠিন। তবে অসম্ভব নয়।

আবার ধরুন, এমনও হতে পারে আগের মডেলেই ঝামেলা ছিল। একটা ব্যান্ডের কাজ—গান উৎপাদন করা। এইজন্য আপনার প্রথমেই দরকার হবে একজন কবি অথবা গীতিকার, আরও ভাল হয় যদি তাঁর মধ্যে ‘সুর’ও থাকে। লক্ষ্য করুন, নব্বই দশকে কোন ব্যান্ড কিন্তু এই গান যিনি লেখেন সেই গীতিকার-কে ব্যান্ডে একটা জায়গা দেবার মতো সাহস অর্জন করতে পারে নি।  যদি দেয়া যেত তাহলে গল্প হয়তো আরও অন্য-রকম হত। তাই যদি হয়? আগের রাউন্ডে আপনি গান লেখিয়ে ছেলেটিকে বা ধরুন সুর-ও সে করতে পারে; তাঁকে ব্যান্ডে জায়গা দেন নাই। তাঁর গান করেছেন, কিন্তু ব্যান্ডের সদস্য হিসেবে ভাবতে পারেন নাই। এটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়—সেই পরিপক্বতা আর তার রঙ হয়তো তখনো আসে নাই। তাহলে, এই রাউন্ডে তিনি নিজেই নিজের কিছু গান গুছিয়ে এনেছেন, তিনি নিজেই বাজাবেন, নিজেই গাইবেন। এটা তো হতেই পারে, তাই না? এখন, আপনি চুপটি করে বসুন, আপনার মনের সকল দ্বন্দ্ব, ক্লাইমেক্স, হা হা হি হি, ঊর্ধ্বায়ন নিম্নায়ন সবকিছু নিতম্বের তলে রেখে শান্ত হয়ে বসুন—যদি গান শুনতে চান।  

এই-সময়রেখা ধরে এখন একদল যুবক আসবেন যারা নিজের গান নিজেই লিখবেন সুর করবেন এবং গাইবেন-ও। এনারা হচ্ছেন সিঙ্গার-সং-রাইটার। বাংলাদেশে এই কনসেপ্ট অনেকটাই নতুন। সং-রাইটার শব্দটি শুনে অনেকে গীতিকার ভেবে থাকেন। গীতিকার শুধু বানী লেখেন। কিন্তু সং-রাইটার পুরো গানটিকেই সৃজন করেন, সেখানে সুর আর গায়কী-ও থাকে। এর আগেও অনেকে এসেছেন। রুদ্র মোহম্মদ শহীদুল্লার যে একটি গান আমরা বিভিন্ন ভয়েসে বিভিন্নভাবে শুনে থাকি, এই ভদ্রলোক ছিলেন একজন কবি। এবং উনি সুরে সুরে গান-ও বেঁধে ফেলতে পারতেন। এই যে ‘গান বেঁধে ফেলার’ যে ক্ষমতাটা, এবং সাহস করে গেয়েও ফেলা। এইটা যার থাকে আমরা আসলে এক্স্যাক্টলি তাদের কথা বলছি। ধরুন  সঞ্জীব চৌধুরী বাপ্পা মজুমদারকে চেনেন না। কোন ব্যান্ড ট্যান্ড কিচ্ছু করেন নাই। একটা গিটার, বা ধরুন খালি গলাতেই দেয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে নিয়েই নিজের গান করেন। তিনিই সিংগার-সং-রাইটার। কিন্তু এবার এইসব যুবকেরা একটি বিপ্লব ঘটাবেন। নব্বইয়ের যোদ্ধারা যেমন মানুষের মনে ব্যান্ড ব্যাপারটির সফল ইনস্টলমেন্ট করেছিলেন। এবার এইসব গানের পাখিরা তাদের মত চিন্তা ও দর্শন প্রকাশ করবে নিজের নামেই। তবে ব্যান্ড-ও যে থাকবে না বা ব্যান্ড থেকে যে সিংগার সং-রাইটার-রা গান করতে পারেন না ব্যাপারটা সেরকমও নয়। নতুন নতুন সুরে, এক্সপেরিমেন্টে, স্বরে, নতুন নতুন তালে, বিভিন্নভাবে সেই গানগুলি প্রকাশিত হবে। নতুন তাল? হতেই পারে, বাংলা কবিতা তো স্বরবৃত্ত আর মাত্রাবৃত্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি। আজকের কবি তাঁকে অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়েছেন। সেটা হয়তো একটা প্যারাগ্রাফের মতো দেখতে। কবিতার জগত তাতে সমৃদ্ধ হয়েছে। এভাবেই নতুন কিছুতে একটা কিছু সমৃদ্ধ হয়। শুধু সেক্রেটারিয়েট … ছায়ানট—চিরকাল একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে। এখান থেকে আরেকটি রবীন্দ্রনাথ জন্মাবার কোন পথ খোলা নেই। এখানে জেমসের গান এখনো অশুদ্ধ সংগীত, তারা সেটি পড়াবেন না কখনো! পথ ছেড়ে সরে দাঁড়াবেন না, আরেকটি জেমস জন্ম নিয়ে বের হয়ে আসবার রাস্তা থেকে। এখানে জেমস একটি নাম মাত্র। যে নিজের চিন্তা ও স্বকীয়তা দিয়ে একটি সময়কে সাজায়—সমৃদ্ধ করে সেই ‘জেমস’। রবীন্দ্রনাথের সময়ে রবীন্দ্রনাথ-ও ‘জেমস’ … লালন সাঁইজি-ও ‘জেমস’। আজকে যে মোহন শরীফ তাঁর নিজের গান নিজের স্টাইলে করছে, এই বাচ্চাটাও একটা ‘জেমস’-ই। কালকে যে নিজের পথ ধরে—নিজের মত নিয়ে হেঁটে আসবে, তিনি-ও তো ‘জেমস’। ইতিমধ্যেই আমরা এরকম কয়েকজনকে এই সময়ের মধ্যেই প্রকাশ হতে দেখেছি। ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান (মানে ব্যান্ড আর কি!) হিসেবে মোহন শরীফ, আসীর আরমান, মুয়ীয মাহফুয, প্রগতা নওহা, হাসান ইথার, প্রবর রিপনসহ আরো অনেককে আমরা অলরেডি পেয়ে গেছি। আর ব্যান্ডের নামেও এক বা একাধিক সিঙ্গার-সং-রাইটার প্রকাশিত হবেন—হচ্ছেন—হয়েছেন। ইনাদের কেউ কেউ ব্যান্ডের লাইন আপে গাইলেও এইসব দলে একজন সিঙ্গার সং-রাইটার আছেন। যিনি প্রধান গায়ক, নিজেই গান লেখেন—সুর করেন। কখনো কখনো বাজান-ও। এই পাইপলাইনে আরও অন্তত আড়াইশ’ তিনশো সিঙ্গার সং রাইটার এই নগরীতে প্রকাশিত হবার অপেক্ষায়—আশংকায় আছেন। কী চমকাচ্ছেন? আমার তো মনে হচ্ছে কম বলে ফেললাম নাকি?

ইতিমধ্যেই আমরা তাদের দেখা পেয়েছি নগরীর  বিভিন্ন গানঘরে।  প্রচলিত অপ্রচলিত এইসব গানঘর থেকে তারা যদি একদিন রাস্তায় নেমে পড়েন, যেভাবে গল্পে, গানে ‘কবর ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় সকল ইনসান’ তবে বাংলা-গানের আরেকটি মহাবিপ্লব হতে বাধ্য। এইসব সিংগার সং-রাইটারদের সড়ক সংগীতজ্ঞে পরিণত হওয়াটা খুব জরুরী। ঘরের বাইরে আসাটা জরুরী। চুল খুলে ঘরের বাইরে রাস্তার ধারে এলেই না এদিক দিয়ে বাসায় ফেরা অমুক, পাশের বাড়ির তমুক ও পাশের বাড়ির ঘরে ওরই মতো আরেকটা ‘জমুক’—একটা নতুন গান শুনতে পাবে। একটা নতুন গান। নতুন একটা গান শোনা খুব জরুরী। একটা নতুন গান গানের নদীকে সমৃদ্ধ করে। সেখানে আপনি যদি মেয়ে পটানোর পুরনো পদ্ধতি অবলম্বন করে একটা পুরনো গান গিটার বাজিয়ে গাইতে থাকেন তবে—মেয়েও পটবেনা—বাংলা গান-ও সমৃদ্ধ হবে না। আপনি চুপ করে থাকলে বরং যে ছেলেটির নিজের গান আছে সে তার গানটি গেয়ে উঠবে। আপনি চুপ করে শুনুন। আপনি কাভার  গান গাইলে লোকে বাহবা দিত এখন এখানে সেরকম কিছু হবে না। এই গান হয়তো প্রথমবারের মতো কেউ শুনছে— আপনি শুনছেন। আপনার কাভার গানের মতো কমপ্যাক্ট ও হবে না তার পারফরমেন্স। আজকে না হলে কালকে হবে। আর আপনি যদি অন্য লোকের গান গেয়ে নিজেকে শানিত করতে চান তবে সেটা আপনি বাথরুমে বসেও করতে পারেন। বাইরে জনসম্মুখে আসাটা অত জরুরী না। মনে রাখুন যে নিজের গান গাইছে আর যে অন্য লোকের গান গাইছে দুজনের তফাত রাত আর দিন। সুতরাং যখন বুঝবেন কেউ নিজের গান গাইছে মিউট হয়ে যান—জগতের সকল কাভার-ওয়ালারা মিউট হয়ে যান।  এটা  অস্বাভাবিক কিংবা অসম্ভব নয়। এটি যেকোনো মুহূর্তেই ঘটে যেতে পারে। এমন তো হতেই পারে, যে সড়কে দাঁড়িয়ে ছেলেটি কিংবা মেয়েটি গাইছে নিজের গান। পথ দিয়ে যেতে যেতে তুমি থামলে, ছুঁড়ে মারলে চুমু কিংবা মুদ্রা … ভালো একটি সময় সময়কে তৈরি করতে—সমৃদ্ধ করতে অনেককেই অনেককেই অনেক কিছু দিতে হয়। সেটা ছাড়া আজ অব্দি কোথাও কোন ভাষা—কোন সভ্যতা—কোন নদীর পাড় তৈরি হয় নি। আমরা তো ভেসে চলেছি একটি গানের নদীর তীর ধরে। এই ভ্রমণ-প্রস্তুতি আর কিছু নয়, শুধু একটি সময়কে সমৃদ্ধ করা।

 এই শহরে যে গানের সংকট গত বিশ বছরে আমাদেরকে দুঃস্বপ্নের মতো ঘিরে রেখেছে সেখান থেকে মুক্তি ঘটাবেন এইসব নাবিকেরা। এই নাবিকেরা আগের নাবিকদের চেয়েও আরেকটু গতিশীল—এগিয়ে থাকা। তারা নিজেরাই আইন নিজের হাতে তুলে—গান রান্না করে ফেলেন। নিজেরা সেটি প্রকাশ-ও করেন কখনো কখনো।

তবে এখানেও একটি বাজার তৈরি হতে পারে—হবে—হতে হবে। গান আগে মানুষের কাছে পৌঁছেছে ক্যাসেটের মাধ্যমে, সিডির মাধ্যমে। এখন হয়তো একটি বিকল্প মাধ্যম খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে—যেভাবে গান শ্রোতার হাতে, বিছানায়, পড়ার টেবিলে, আড্ডার টেবিলে, রেস্টুরেন্টে, চায়ের দোকানে, পত্রিকার স্ট্যান্ডে পৌঁছাবে—পড়ে থাকবে। এখন গান রিলিজ দিতে হয় ভিডিও বা ফিল্ম সহ। মানে একটি অডিও ও একটি ভিডিও ফাইল তাদেরকে প্রস্তুত করতে হয়। অচিরেই হয়তো গান প্রকাশের বিভিন্ন মাধ্যম জনপ্রিয় হবে। তার জন্য গানের ইন্ট্যাঞ্জিবল ফর্ম ছাড়াও একটি দৃশ্যমান, স্পর্শ যোগ্য একটা অস্তিত্ব প্রয়োজন (ট্যাঞ্জিবল ফর্ম) হতে পারে । যার গায়ে বারকোডের মাধ্যমে গানের অডিও ও ভিডিও লিংক থাকবে। এটি হতে পারে একটি পোষ্ট কার্ড কিংবা একটা পোস্টার কিংবা একটা ক্যালেন্ডার অথবা ধরুন একটা আর্ট ওয়ার্ক সহ চাবির রিং । যার একপাশে গানটির (সিঙ্গেল) একটি থিমেটিক চিত্রকর্ম, অন্যপাশে গানের কথা ও বারকোড থাকবে। শ্রোতা বিভিন্নভাবে সেই গান পেতে পারবে। ইউনিভার্সিটির চায়ের দোকানগুলিতে স্মোকিং পেপার, সিগারেটের পাশাপাশি গান-ও বিক্রি হবে। সেইসব দৃশ্যমান পোস্টকার্ড ইত্যাদি ইত্যাদির মাধ্যমে। একটি বালক চাইলে প্রিয় গানটি প্রিয় বালিকাকে উপহার দিতে পারবে। আগে যেমন ভালোবাসার গানের ক্যাসেট উপহার দেবার মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশের রীতি ছিল। সেটি নতুন ভাবে ফিরে আসতে পারে। কয়েকটা সিঙ্গেল-স একসাথে করে অ্যালবাম আকারেও শ্রোতার কাছে আসতে পারে। এটা একটা ফিল্মের মাধ্যমেও মুক্তি পেতে পারে কিংবা একটা বুকলেটের মাধ্যমেও। সেই বুকলেটে গানগুলির পেছনের গল্প, পেছনের আবেগ, তার গদ্য, লিরিক, কর্ড ইত্যাদি পুস্তক আকারে প্রকাশ পেতে পারে। ধরা যাক এরকম একটি পুস্তক, ৮-১২ টি গানের পোস্টকার্ড নিয়ে একটি অ্যালবাম এলো। এতে অ্যালবাম দেখতে অনেকটা অ্যালবামের মতোই হলো। বা শুধু একটি টি-শার্টের মাধ্যমেও গানের অ্যালবাম মুক্তি পেতে পারে। তবে—তার আগে তৈরি হতে হবে শ্রোতাদের। তাদের বুঝতে হবে ফ্রি তে দরিদ্র ডট কম থেকে গান নামানো বা চুরির কৌশল চর্চা করতে গিয়ে একটি মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি কিভাবে ‘নাই’ হয়ে গিয়েছিল। গান কিনে শুনতে হবে এটাই স্বাভাবিক। শ্রোতাকে তৈরি করতে হবে তার কান আর গান কেনার মন। নতুন সময়ের গানগুলি হবে সব নতুন নতুন নিরীক্ষার। আর এর সাথে অবশ্যই সিংগার-স্বনিতদেরকেও নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে হবে একটু শানিত ভঙ্গিতে—বিচিত্র-ভাবে—গভীরভাবে। তারা আসছেন—আসবেন বিভিন্ন জায়গা থেকে। কেউ ভেঙ্গে যাওয়া গানের দল থেকে, কেউ স্কুল পালিয়ে, কেউ সাহিত্যের মাঠ থেকে, কেউ থিয়েটার থেকে, কেউ অফিস থেকে, কেউ আত্মহত্যার বিকল্প পথ ধরে এবং কেউ কোন কারণ ছাড়াই—যেকোনো কোথাও থেকে…

অনন্তকাল ধরে—নীলনদের পাড় থেকে—এভাবেই নাবিকেরা হেঁটে আসেন।

গত একশো বছরে বাংলা গানের ইতিহাসে জেমস-ই একমাত্র রকস্টার। বাকীরা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ; —কিন্তু কেউ পরিপূর্ণ ‘রকস্টার’ নন—মিউজিসিয়ান। জীবনানন্দ দাশকেই যেমন শুধু শুদ্ধতম কবি হিসেবে গ্রাহ্য করা হয়, তিনিই বাংলা কবিতার সবশেষে মাইলফলক। তারপরে অনেকেই এসেছেন কিন্তু কেউ শুদ্ধতম কবি নন। আর কেউ জীবনানন্দের মতো গোটা জীবন কবিতার খাতে ঢেলে দেননি—একইসাথে তিনি যা দিয়েছেন অন্য কেউ অন্য কেউ সেটা দিতে পারেন নি। যেন সেটা তারই দেবার কথা ছিল।। এটা একটা কারণ, আরও অজস্র অসংখ্য কারণ রয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে আমার বিশ্বাস, ধরণী ধ্বংস হয়ে যাবার পরেও অসীম শূন্যতার মাঝে জেমসের গান বাজতে থাকবে। কারণ জেমসের গান—হয়ে ওঠা গান। সব গান গান নয়। সব গান—হয়ে ওঠা গান-ও নয়। একটি সৃষ্টি যখন হয়ে ওঠে তখন সেটির নিজ শক্তিতেই প্রকাশ হয় এবং নিজ শক্তিতেই সেটি টিকে থাকে। জেমসের গানে আমরা পাই একদম শেকড়ে হাত দেবার বিষয়। তে-বাড়িয়ার হাটে কে মলম বেচে, সেটা নিয়ে কেউ করেছে কোনদিন? রিকশাওয়ালার জীবন নিয়েও তো কেউ কখনো গান করে নাই। করে নাই একজন পোশাক নির্মাণ শিল্পীর জীবন নিয়েও গান। জেমস ভালোবেসে যাকে বললেন, সেলাই দিদিমণি। ‘হারাগাছের নুরজাহান’ যে দীঘির জলে সিনান করে—আঁচলের যৌবন উঠানে শুকায়— এটা জেমসের আগে কেউ কখনই বলতে পারে নাই। বাংলার লাঠিয়াল হচ্ছে এই অঞ্চলের আসল পুরুষ—মানুষদের মধ্যে পৌরুষময়। যে হাঁক দিয়ে বলতে পারে—খবরদার এক পা নড়বি না আর! জোতদার মোদ্দার পোদ্দার কাউকেই চুদি না। এই অনুভূতিগুলি আমাদের রক্তের খুব গভীরে মিশে আছে। মিশে থাকে—মোছা যায় না। মোছা যায় না বলেই—গুলশান দুই নম্বরের ৬৬ নাম্বার সড়কের একটি বাড়ির নাম হয় ‘রূপপুর হাউস’  

জেমসের আগে বাংলা-গানে আরেকটি মাইলফলক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন লালন সাঁই। লালন হচ্ছেন বাংলা গানের ইতিহাসের প্রথম রকস্টার। রকস্টার কিন্তু সাইলেন্ট রকস্টার!!!

২০০০ সাল। বিসিবি মেগা কনসার্ট হচ্ছে মিরপুর স্টেডিয়ামে। মঞ্চে—দুনিয়া কাঁপাচ্ছেন নগরবাউল। দরাজ গলায় পাঁচ মিনিটের গানের সাড়ে চার মিনিটে আলফা থেকে বেটা পার হয়ে গামা লেভেলে আছেন নগরবাউল। গলা দিয়ে বেরোচ্ছে ‘ইয়া রব ইয়া রব বলে ইয়া রব ইয়া রব’ এরই মাঝে এক ভক্ত মঞ্চে উঠে পড়ে লুটিয়ে পড়লো নগরবাউলের পায়ের উপর! এই ঘটনার ভেতরে কোন ইংগিত থেকে থাকতে পারে। এরকম পায়ের উপর লুটিয়ে পড়ার ঘটনা সাধারণত লালন সাঁইজির মতো পীর মুরশিদদের জীবনরেখায় ঘটে থাকে। বাবা লোকনাথের মতো জীবন্ত দেবতাদের জীবনে ঘটে থাকে। এত কিছু বলার মানে হলো—জেমস একটা ঘটনা। জেমস কোনো নরমাল কেস না। 

জেমসকে পুরোপুরি বুঝতে হয়তো আরও একশো বছর লেগে যাবে আমাদের। যেমন, জীবনানন্দকে বুঝতে একশো বছর লেগেছে। এই একটা কারণেই এই সময়ে ‘জেমস’ পাঠ জরুরী। বিশেষ করে যারা এই সময়কে গানে গানে সমৃদ্ধ করতে এসেছে ও আসবে—তাদের জন্য আরও বেশী জরুরী। মহাকালের যাত্রা একটি ধারা। একটি ইটের পরে আরও একটি ইট—তারও আগে গাঁথুনি। পয়গম্বরকে যেমন জানতে বুঝতে হয়—আগের পয়গম্বর কী বলেছেন—তাকে শুরু করতে হয় তার পর থেকে। যে কথা বলা হয়ে গ্যাছে—সেটি আর একই ফরম্যাটে বলবার দরকার নেই। প্রতিটি নতুন কথাই কবিতা—প্রতিটি নতুন কথাই গান। শিল্প হোক—সাহিত্য হোক—লোকজ কোন গান—গল্প—মিথ হোক—ইতিহাস হোক—সময় হোক—সব একই ‘ভাবে’ আগায়। একই নিয়ম মেনে সমৃদ্ধ হয়। সব কিছু মিলে ‘এক’। এই রচনার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো বব ডিলান জন লেনন কে যেভাবে পাঠ করা হয় হয়—বব মারলি কে যেভাবে পাঠ করা হয়। জেমসকে এখনো সেভাবে পাঠ করা হয় না। যদিও তিনি তাঁর এসাইনমেন্ট অনেক আগেই শেষ করেছেন। সেই ধরনের পাঠের একটা শুরুটা এখান থেকে হোক। ঠিক আছে তাহলে, এই সময়ের সিঙ্গার-সং-রাইটারগণ, উঠে পড়ুন নৌকায়। জেমস নামে বাংলা গানের যে একটি নদী আছে—তারই দিকে আমাদের এই যাত্রা। এই একটি পুস্তকে কোনভাবেই পুরোটা জেমসকে ধরা যাবে না। তবে শুরুটা করা যাবে নিশ্চয়ই। চিয়ার্স!!!

(জেমসের গানের উপর প্রকাশিতব্য একটি গ্রন্থের ভূমিকাংশ এটি–লেখক)

এ পাতায় ব্যবহৃত ছবি:
Faisal Akram from Dhaka, Bangladesh, CC BY-SA 2.0, via Wikimedia Commons

Loading

Leave a Reply

Skip to toolbar