<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Site-Wide Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_astream/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_astream/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for the entire site.</description>
	<lastBuildDate>Thu, 25 Jun 2026 00:38:58 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">13ca4f2456df77b611ad395aa7a99179</guid>
				<title>গাছকথা
লেখক : মোঃ নাজমুল আখতার।

প্রশ্বস্থ চত্ত্বরের পশ্চিমমুখী একদম কর্ণারের দিকে তাকে কবরস্থ করা হলো। তার অছিয়ত অনুযায়ী এই গাছটির সু-শীতল ছায়ার নীচে মাটির গভীরে যেন তাকে সমাহিত করা হয়। একাধারে লাইন বরাবর বেশ কয়েকটি গাছ, তখন তাদের বয়স আনুমানিক বছর তিন চারেক হবে বোধ হয়। সময়ের পরিভ্রমনে আজ তারা বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হয়ে বেঁচে আছে।

প্রশ্বস্থ চত্ত্বরটি বর্তমান সমাজের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা বৃদ্ধি ও বড় বড় আবাসন তৈরী হওয়ায় উন্মুক্ত জায়গাটি আজ শুধুই জরাজীর্ণ ও সংকীন্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। কবরটির ডান-বাম বা পূর্ব-পশ্চীম, উত্তর-দক্ষিণ চারোদিকেই কঙ্কক্রিটের বড় বড় স্থাপনা তৈরী হয়ে গেছে। বায়ুমন্ডলের মুক্ত বাতাস আজ আর তার সমাধীতে বেড়ে উঠা ঘাসগুলোকে বাদলের ঝটিকা হাওয়ায় দোল খেলিয়ে নাচিয়ে যেতে পারছে না..

আবাসনগুলোর ফাঁক ফোকর দিয়ে কোন মতে বেঁচে থাকার মত শ্বাস নেওয়ার বায়ু বাতাস এই সমাধির উপর দিয়ে বহমান হয়ে চলে যায়।

এখন আমি মাটির নীচে শুধু শুয়ে শুয়ে ভাবি! শুধুই ভাবি যদি একটু খানি জমি, একটু খানি জায়গা ওয়াকফ্ করে যেতে পারতাম! যেখানে কেউ কখনো বা কোনদিন কোন স্থাপনা তৈরী করতে পারবে না। উন্মুক্ত খোলা জায়গায় অনেকের সাথে আমিও মাটির নীচে শুয়ে শুয়ে গাছ-গাছালি, পশু-পাখি, তরুলতা বা পথচারীদের স্বর কণ্ঠ আমার কানে ভেসে আসতো.. বড্ড একাকিত্ব ও প্রচন্ড নীরবতা ক্ষনিক সময়ের জন্য হলেও তা ভেঙ্গে যেত..</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255511/</link>
				<pubDate>Thu, 25 Jun 2026 00:28:06 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গাছকথা<br />
লেখক : মোঃ নাজমুল আখতার।</p>
<p>প্রশ্বস্থ চত্ত্বরের পশ্চিমমুখী একদম কর্ণারের দিকে তাকে কবরস্থ করা হলো। তার অছিয়ত অনুযায়ী এই গাছটির সু-শীতল ছায়ার নীচে মাটির গভীরে যেন তাকে সমাহিত করা হয়। একাধারে লাইন বরাবর বেশ কয়েকটি গাছ, তখন তাদের বয়স আনুমানিক বছর তিন চারেক হবে বোধ হয়। সময়ের পরিভ্রমনে আজ তারা বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হয়ে বেঁচে আছে।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255511"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255511/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1a7cb5290461bb18f348a7c0617bac6a</guid>
				<title>২৬.
কবিতা লেখা যায় 
Md Rashed Rahman Abir,,25/6/2026,3:26 am

প্রিয়ার দু&#039;চোখে চেয়ে
কবিতা লেখা যায়।

বর্ষাস্নাত সন্ধ্যায়,
যখন টিনের চালে বৃষ্টি নামে
নূপুরের টুপটাপ ছন্দে—
কবিতা লেখা যায়।

জোৎস্না-চাঁদের অশরীরী আলোয়
কবিতা লেখা যায়।

অমাবস্যার নিখাদ কালো অন্ধকারে,
জোনাকির মৃদু আলোয়—
কবিতা লেখা যায়।

খাঁ খাঁ রোদ্দুরে, মরুভূমির শুষ্ক বালুতে,
ক্লান্ত পথিকের পানির
শেষ বিন্দুটিও যখন ফুরিয়ে যায়—
কবিতা লেখা যায়।

নবজাতকের জন্মের
সেই প্রচণ্ড মুহূর্তে
কবিতা লেখা যায়।

পরাজিত নাবিকের
নৌকাডুবির আগে
কবিতা লেখা যায়।

কোনো এক পাহাড়চূড়ায়,
পেঁজার তুলোর মতো উড়ে আসা তুষারঝড়ের সময়
কবিতা লেখা যায়।

নরকের আগুনে ঝাঁপ দেওয়ার
ঠিক এক মুহূর্ত আগে—
কবিতা লেখা যায়।

তবুও আজ,
ঠিক অনেকদিন
লেখা হয়নি কোনো কবিতা।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255510/</link>
				<pubDate>Wed, 24 Jun 2026 22:32:19 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>২৬.<br />
কবিতা লেখা যায়<br />
Md Rashed Rahman Abir,,25/6/2026,3:26 am</p>
<p>প্রিয়ার দু&#8217;চোখে চেয়ে<br />
কবিতা লেখা যায়।</p>
<p>বর্ষাস্নাত সন্ধ্যায়,<br />
যখন টিনের চালে বৃষ্টি নামে<br />
নূপুরের টুপটাপ ছন্দে—<br />
কবিতা লেখা যায়।</p>
<p>জোৎস্না-চাঁদের অশরীরী আলোয়<br />
কবিতা লেখা যায়।</p>
<p>অমাবস্যার নিখাদ কালো অন্ধকারে,<br />
জোনাকির মৃদু আলোয়—<br />
কবিতা লেখা যায়।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255510"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255510/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8c928d89597997d5fe0062aad4ccbd3f</guid>
				<title>আমার স্বপ্ন
নাদিয়া রিপাত রিতু 

ঐ নীল আকাশে উড়বো
আমি নীল ঘুড়ি হয়ে,
থাকবো না আর বদ্ধ ঘরে
রইবো না আর ভয়ে ভয়ে।

নিজের মত চলবো আমি
কারো কথায় দিবোনা কান
পাখির মত মুক্ত হয়ে
গাছের ডালে গায়বো গান।

কেউ আমায় আঘাত দিয়ে
বলবে না আর কথা
মনে আমার লাগবে না
কোনো কিছুতেই ব্যথা।

আমার স্বপ্নের নীল আকাশে
কত স্বপ্ন যে রোজ আসে
কল্পনা হয়ে ছবি আকেঁ
আর মিষ্টি মিষ্টি হাসে।

(কবিতাটি কেমন হয়েছে বলুন )

￼</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255509/</link>
				<pubDate>Wed, 24 Jun 2026 21:30:38 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আমার স্বপ্ন<br />
নাদিয়া রিপাত রিতু </p>
<p>ঐ নীল আকাশে উড়বো<br />
আমি নীল ঘুড়ি হয়ে,<br />
থাকবো না আর বদ্ধ ঘরে<br />
রইবো না আর ভয়ে ভয়ে।</p>
<p>নিজের মত চলবো আমি<br />
কারো কথায় দিবোনা কান<br />
পাখির মত মুক্ত হয়ে<br />
গাছের ডালে গায়বো গান।</p>
<p>কেউ আমায় আঘাত দিয়ে<br />
বলবে না আর কথা<br />
মনে আমার লাগবে না<br />
কোনো কিছুতেই ব্যথা।</p>
<p>আমার স্বপ্নের নীল আকাশে<br />
কত স্বপ্ন যে রোজ আসে<br />
কল্পনা হয়ে ছ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255509"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255509/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1759d9481e249096ec1f0b55b1fa8d42</guid>
				<title>শিশির কণা 
নাদিয়া রিপাত রিতু 
পর্ব -৭

শায়লা- এলো শিশিরের রুমে ,,, শিশির কান্না করিস না,,,,
শিশির মাকে জড়িয়ে ধরে জোরে জোরে কান্না করতে লাগলো,,,,,

শায়লা : আয়ান দেখে পেলবে এই ভাবে কান্না করিস না।তোর তো কোনো দোষ নেই।তুই তো চেষ্টা করেছিস রায়ান যখন তোর সাথে সংসার করতে চাইনা কি আর করবি।

শিশির: আমি কি অন্যায় করেছি আমার সাথে এমন হলো,,,আমার সাজনো‌ সংসারটা এভাবে কেন নষ্ট হলো ।

শায়লা: হয়তো তোর জন্য এর চেয়ে ভালো কিছু অপেক্ষা করছে,,,,রায়ান তোর যোগ্য না ,,,,,,

আমি তোর চাচিদের ঘর থেকে আয়ানকে নিয়ে আসছি তুই ফ্রেশ হয়ে কিছু খেয়ে নে।

অন্যদিকে সাদিয়া তার হাসবেন্ড সাকিবকে ভিডিও কল দিয়ে সবটা বললো।
আমাকে দেখো একা পেলে রেখে চলে গেছে,,,

সাকিব বললো আচ্ছা সাদিয়া আমি মার সাথে কথা বলবো তোমাকে একা পেলে গেলো কেন,,,,

সাদিয়া: ওকে মাই কিউট হাসবেন্ড,,,,,,আমার জন্য ৫ হাজার টাকা দিও তো শপিং করবো ,,,,

সাকিব: এই তো একমাস হলো আমি আসার আগে তোমাকে এতগুলো শপিং করে দিয়েছি এত টাকা কি করবে?আর আমাদের ঘরে বউদেরকে এত টাকা দেয়না যা লাগবে মাকে বলবে কিনে দিবে
আর ভাবিকে তো এত টাকা দেয়নি।

সাদিয়া: আমি তোমার ভাবি না বুঝেছো আমাকে মাসে  মাসে হাত খরচ দিবে,,,,আমার মাসে ফেসের জন্য অনেক প্রোডাক্ট কিনতে হয় ।আর ঐ গুলো এখানে পাওয়া যায় না অনলাইনে অর্ডার করতে হবে।

সাকিব: ওকে আমি দিয়ে দিবো সাদু।

দরজা কলিং বেল বেজে উঠল সাদিয়া দরজা খুলে দিল । 

রেহেনা বললো এতক্ষণ লাগে দরজা খুলতে কি করছিলে।

সাদিয়া: কিছু না মা,,,

রেহেনা: যাও আমার জন্য একটু চা করে নিয়ে এসো মাথাটা ব্যাথা করছে।

সাদিয়া: আমি চা বানাবো,,,,

রেহেনা: আমাদের বাসায় কি কাজের লোক আছে যে চা করে দিবে,,,, তুমি বাড়ির বউ তুমি করবে এখন থেকে সব কাজ,,,

সাদিয়া: চা করে আনে,,,,

রেহেনা: এইগুলো কি চা করেছো না চিনি হয়েছে না রং হয়েছে,,,

সাদিয়া:  আমি তো এভাবে চা করি মা আপনার খেতে হলে খান না হলে নিজে বানিয়ে খান।


রেহেনা: শিশিরের সাথে  তো সারাদিন থাকতে ওর সাথে থেকে রান্নাটা তো শিখতে পারতে,,,,

সাদিয়া: শিশির ভাবির থেকে শিখেছি তো মা যে যেমন তার সাথে তেমন করতে হবে ।
এটা বলে চলে গেলো সাদিয়া রুমে,,,

রেহেনা: যত বড় মুখ নয় তত বড়ো কথা এই মেয়েকে শিক্ষা দিতে হবে আমার সাথে লাগতে আসছে।

অন্যদিকে শায়লা আয়ানকে আনতে গেলো,,,, আয়ান আসলো ঘরে এসেই বললো নানু মণি পাপ্পা কোথায়??

শায়লা:ওরা তো চলে গেছে ,,, নানু ভাই 

আয়ান: আমাকে আর মাম্মা কে নিয়ে গেলো না কেন??

শায়লা: তোমরা তো এখানে থাকবে তাই তো নিয়ে যায়নি,,,,,এখানে নানু মণির সাথে থাকবে কিছু দিন,,,,,

আয়ান: পাপ্পাকে মিস করছি।

শায়লা বললো আচ্ছা চলো আমরা আজকে পার্কে যাবো দোলনা চড়বো তোমাকে অনেক বেলুন কিনে দিবো।
আয়ান: সত্যি বলছো নানু,,, মাম্মাকে বলে আসছি।

শায়লা: না না কাউকে বলবে না শুধু তুমি আর আমি যাবো এটা তোমার আর আমার সিক্রেট।তোমার মাম্মাকে বলে যেতে দিবেনা,,,,সেটা কি ভালো‌ হবে বলো।

আয়ান: ওকে সিক্রেট।

এরপর শায়লা রায়ানকে নিয়ে পার্কে চলে গেলো।
কিছুক্ষণ পর শিশির আয়ানকে খুঁজতে লাগলো,,,
ওর কাজিনদের ঘরে ওরা বললো ও তো চলে গেছে অনেকক্ষণ হবে।
শিশির চিন্তা করতে লাগলো আয়ান কোথায় গেলো সেটা নিয়ে।মাকে কল দিচ্ছে মার ফোন ঘরে বাজাচ্ছে মা তো ঘরে নেই।আয়ান কি মার সাথে আছে নাকি সেটা ও তো জানতে পারছেনা 
প্রায় সন্ধ্যা হতে চললো আয়ান,,,আর মা এখনো কারো দেখা নেই।
হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠলো,,,,,,,
শিশির দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দেখে মা আর আয়ান,,,, দাঁড়িয়ে,,,,,
শিশির আয়ানকে জড়িয়ে ধরলো 
কোথায় চলে গেছিলে আমাকে না বলে কত খুঁজছি তোমাকে,,,, 

আয়ান বললো  মা দেখো নানু আমাকে কত গুলো বেলুন কিনে দিয়েছে,,,,

শিশির: মা তুমি আমাকে বলে যাবেনা কত চিন্তা করছিলাম,,,,,
শায়লা: তোর মন খারাপ ছিলো তাই তোকে আর বিরক্ত করিনি।

￼



(আজকের পর্ব  পড়ে কেমন হয়েছে রিভিউ দিন)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255508/</link>
				<pubDate>Wed, 24 Jun 2026 21:27:08 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শিশির কণা<br />
নাদিয়া রিপাত রিতু<br />
পর্ব -৭</p>
<p>শায়লা- এলো শিশিরের রুমে ,,, শিশির কান্না করিস না,,,,<br />
শিশির মাকে জড়িয়ে ধরে জোরে জোরে কান্না করতে লাগলো,,,,,</p>
<p>শায়লা : আয়ান দেখে পেলবে এই ভাবে কান্না করিস না।তোর তো কোনো দোষ নেই।তুই তো চেষ্টা করেছিস রায়ান যখন তোর সাথে সংসার করতে চাইনা কি আর করবি।</p>
<p>শিশির: আমি কি অন্যায় করেছি আমার সাথে এমন হলো,,,আ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255508"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255508/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">54cdc2c68a5186c8e9a9e79bf97cffa6</guid>
				<title>Poly Alam and জিসান মাহমুদুল হাসান are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255501/</link>
				<pubDate>Wed, 24 Jun 2026 20:32:17 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6890f99f7aac2f1ffa4cb9f62b1de174</guid>
				<title>শহরে আজ ঘামের আবদার বেশি।
হিমোগ্লোবিন মরছে সেই আবদার মেটাতে, 
আর অ্যাড্রেনালিন ব্রোকারের মতো ছুটে বেড়াচ্ছে।
ঘামের দর এখন বুলিশ ট্রেন্ডে। বাজার উত্তপ্ত। 
কালোবাজারে চলছে জমজমাট সওদা— 
হিমোগ্লোবিন মেরে ঘাম বিক্রি করছে অ্যাড্রেনালিন।

পুঁজিবাদী শহরে দুর্গন্ধমাখা ঘামের ভীষণ চাহিদা।
বিখ্যাত কবিরা স্বপ্নাতুর কিশোরীর ঘামকে 
প্রেমের নামে প্যাকেটজাত করে বিক্রি করছে।
নেতারা বিপ্লব আর প্রতিবিপ্লবের স্লোগান তুলে 
টগবগে তরুণের তাজা ঘাম সংগ্রহ করছে।
সরকার উন্নয়ন আর বিকাশের ব্যানার টাঙিয়ে 
যানজটে বন্দী, জীবনে ক্লান্ত, অসহায় মানুষের 
ঘাম কিনে নিচ্ছে অর্ধেক দামে।
শহর জুড়ে স্লোগান— ঘাম চাই। আরও ঘাম চাই।

এদিকে বাজারে সিনথেটিক ঘামও এসে গেছে।
প্যাকেটবন্দী আবেগ, বোতলজাত সংগ্রাম, 
কারখানায় তৈরি পরিশ্রম এসে গেছে আগেই।
তবু ধনীদের চাহিদা অন্যরকম।
তাদের চাই খাঁটি, জৈব, ন্যাচারাল ঘাম।
যে ঘামের সঙ্গে লেগে থাকবে ক্ষুধা, অনিশ্চয়তা, 
অপমান, আর বেঁচে থাকার মরিয়া চেষ্টা।

অথচ হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি ভয়াবহ।
একের পর এক সব হিমোগ্লোবিন শেষ হয়ে যাচ্ছে।
কারণ অ্যাড্রেনালিন শেষ হিমোগ্লোবিনটাকেও 
মেরে ফেলেছে— ধনীদের ন্যাচারাল ঘামের চাহিদায়।

 #mxesun  #পরিত্যক্ত_পাণ্ডুলিপি 
এপ্রিল ২৪, ২০২৩
হিমোগ্লোবিন
Xesun Mahmudul Hasan 

বিঃদ্রঃ পুরাতন লেখাগুলো একটা হ্যাসট্যাগের নিচে এনে আরেকটু পরিবর্তন করে নেবো। কেনো জানি আমার আগের লিখাগুলোই বেশি ভালো লাগে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255500/</link>
				<pubDate>Wed, 24 Jun 2026 20:30:42 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>শহরে আজ ঘামের আবদার বেশি।<br />
হিমোগ্লোবিন মরছে সেই আবদার মেটাতে,<br />
আর অ্যাড্রেনালিন ব্রোকারের মতো ছুটে বেড়াচ্ছে।<br />
ঘামের দর এখন বুলিশ ট্রেন্ডে। বাজার উত্তপ্ত।<br />
কালোবাজারে চলছে জমজমাট সওদা—<br />
হিমোগ্লোবিন মেরে ঘাম বিক্রি করছে অ্যাড্রেনালিন।</p>
<p>পুঁজিবাদী শহরে দুর্গন্ধমাখা ঘামের ভীষণ চাহিদা।<br />
বিখ্যাত কবিরা স্বপ্নাতুর কিশোরীর ঘামকে<br />
প্রেমের নাম&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255500"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255500/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8d8d65b410fb094d3faa76efa75e5952</guid>
				<title>যখন কেউ নক্ষত্র চেনাবে তোমার জেগে থাকা রাত ধরে-
তখন কি মনে পরবে আমারে?
মুছে ফেলা রাত শেষে ঘাস&#039;ভেজা ভোরে,
তোমার ভুল স্বপ্ন নিয়ে নুন জমা শরীরে-
মৃদু হেসে কি নামে ডাকবে তারে?

যখন কেউ আঙুল জড়িয়ে হাটবে পাশে তোমার বন্দরে-
তখন কি পরবে মনে আমারে?
পুরোনো আদরে জং লেগে থাকা স্মৃতি,
একটা বেহায়া মন আর ধুলো জমা চিঠি-
ঝেরে সব, তার হাত ধরবে কি করে?

যখন কেউ বায়না ধরে তোমার চোখের ঘুম নেবে কেড়ে-
তখন কি মনে পরবে আমারে? 
আধখানা কবিতার আলসে দুপুরের সুরে,
বোতাম ভাঙা পাঞ্জাবির ময়লা হাতা ধরে-
আমার মতো করে কি টানবে তারে?

তখন নাই বা মনে করলে- তারার পানে চেয়ে চেয়ে
নাই বা আমায় ডাকলে-
নাই বা খুঁজলে কোনো পুরোনো কথার ভাঁজে, 
নাই বা থামলে হঠাৎ ভেসে আসা কোনো সুরের কাছে।
নাই বা বুঝলে, এককালে তোমার সাথেই ঋতু বদলাতো।

শুধু কোনো নির্জন রাতে, ঘুম আর জাগরণের মাঝখানে, 
যদি হঠাৎ বুকের ভেতর এক অকারণ শূন্যতা নড়ে ওঠে— 
তবে তাকে নাম দিও না।
বলো না, সে আমি। বলো না, সে হারিয়ে ফেলা কেউ।

ভেবে নিও, ওটা কেবল একটি পুরোনো বাতাস;
যে তোমার জানালায় তার নাম রেখে গিয়েছিলো।
তখন নাই বা মনে করলে— তারার পানে চেয়ে চেয়ে 
নাই বা আমায় ডাকলে।

এপ্রিল ১৬, ২০২৪
&quot;নাই বা মনে করলে&quot;
Xesun Mahmudul Hasan 
 #নীল_নিমজ্জন  #mxesun</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255498/</link>
				<pubDate>Wed, 24 Jun 2026 20:28:16 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>যখন কেউ নক্ষত্র চেনাবে তোমার জেগে থাকা রাত ধরে-<br />
তখন কি মনে পরবে আমারে?<br />
মুছে ফেলা রাত শেষে ঘাস&#8217;ভেজা ভোরে,<br />
তোমার ভুল স্বপ্ন নিয়ে নুন জমা শরীরে-<br />
মৃদু হেসে কি নামে ডাকবে তারে?</p>
<p>যখন কেউ আঙুল জড়িয়ে হাটবে পাশে তোমার বন্দরে-<br />
তখন কি পরবে মনে আমারে?<br />
পুরোনো আদরে জং লেগে থাকা স্মৃতি,<br />
একটা বেহায়া মন আর ধুলো জমা চিঠি-<br />
ঝেরে সব, তার হাত ধরবে কি করে?&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255498"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255498/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">63a4cb3787d3f323806d2847b2a45d39</guid>
				<title>হেলেন, তোমাকে হারিয়েছে এই প্যারিস।
তবে ট্রয়ের প্রাচীর ভাঙার আগে
আমার ভেতরে ভেঙেছিল এক নগর।
ইতিহাস সে কথা লেখেনি।

ইতিহাস রাজাদের নাম মনে রাখে,
যুদ্ধের কারণ মনে রাখে,
জয়ী সেনাপতির নাম মনে রাখে—
কিন্তু যে মানুষটি একজনকে হারিয়ে
নিজের সমগ্র পৃথিবী হারিয়েছে,
তার নাম ইতিহাসের প্রয়োজন হয় না।

আমি কোনো ঋষি নই। সেই প্যারিস—
যে একদিন সৌন্দর্যের বিচারে
দেবীদের মধ্যে বেছে নিয়েছিল ভালোবাসাকে।
অ্যাথেনার প্রজ্ঞা নয়, হেরার সাম্রাজ্য নয়,
আমি বেছে নিয়েছিলাম আফ্রোদিতির প্রতিশ্রুতি।

সেদিন থেকেই আমার নিয়তি লেখা হয়ে গিয়েছিল।
মানুষ ভাবে ট্রয় ধ্বংস হয়েছিল একজন নারীর জন্য।
না। ট্রয় ধ্বংস হয়েছিল, একটি নির্বাচনের জন্য।
একটি আকাঙ্ক্ষার জন্য।
একটি &quot;তোমাকে চাই&quot; বলার দুঃসাহসের জন্য।

তোমাকে হারানোর পর আমি বুঝেছি— 
সব প্রেমের ভেতরে একটি ট্রয় লুকিয়ে থাকে।
বাইরে থেকে প্রাচীর যতই উঁচু হোক,
ভেতরে কোথাও একটি কাঠের ঘোড়া অপেক্ষা করে।
স্মৃতির ছদ্মবেশে।
বিশ্বাসের ছদ্মবেশে।
অথবা ভালোবাসার।

জুন ২৩, ২০২৬
&quot;নির্বাচনের নিয়তি&quot;
Xesun Mahmudul Hasan 
 #নীল_নিমজ্জন  #mxesun</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255497/</link>
				<pubDate>Wed, 24 Jun 2026 20:27:22 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>হেলেন, তোমাকে হারিয়েছে এই প্যারিস।<br />
তবে ট্রয়ের প্রাচীর ভাঙার আগে<br />
আমার ভেতরে ভেঙেছিল এক নগর।<br />
ইতিহাস সে কথা লেখেনি।</p>
<p>ইতিহাস রাজাদের নাম মনে রাখে,<br />
যুদ্ধের কারণ মনে রাখে,<br />
জয়ী সেনাপতির নাম মনে রাখে—<br />
কিন্তু যে মানুষটি একজনকে হারিয়ে<br />
নিজের সমগ্র পৃথিবী হারিয়েছে,<br />
তার নাম ইতিহাসের প্রয়োজন হয় না।</p>
<p>আমি কোনো ঋষি নই। সেই প্যারিস—<br />
যে একদিন সৌন্দর&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255497"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255497/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">913834d63e03818c00767f5eb71dcf21</guid>
				<title>তুমি চলে যাবার পর থেকে
চারপাশে শুধু কাপুরুষ দেখি।
পর্দার পেছনে মহড়া দেখি না,
অনুচর অভিনীত নাটক দেখি।
তুমি অদৃশ্য হবার পর থেকে 
কন্ঠরোধে আমার প্রাণ ওষ্ঠাগত। 
সেই থেকে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আছি
এককণা মাটি কামড়ে পড়ে থাকার মত।
তুমি ক্ষমতা ছাড়ার পর থেকে
নির্মল ঘর চটুল হাসিতে ভরেছে।
ঔদ্ধত্যের আঘাতে ন্যায়ের পাখি
কামসূত্রের পদপিষ্ঠ হয়ে মরেছে।
তুমি দেখে যেতে পারোনি মগজধোলাই
আমার অকাল অস্পৃশ্যতার ভার।
মরণও তোমাকে নির্দোষ করেনি
জানিনা আর কত পরীক্ষা হবে আমার।
তুমি বিদায় নেবার সাথে সাথে
দেখি তপ্ত দেহের মেমসাহেবী চাল।
যাত্রাপালায় ভীষ্মের সমুখে সালিশ,
মায়াকান্নার আসরে শৈশব হলো ঢাল। 
তুমি নিঃস্ব হয়ে সুখ দিয়ে গেছ দর্পে
ভোগবিলাসে, নিদ্রারসের পাঁকে ।
সময় গেলে কুঠার ভুলে যায়, 
একঘরে বৃক্ষ সব মনে রাখে।
তুমি পৃথিবী ছেড়ে যাবার পর 
স্বঘোষিত দেবীকে পুজো দেয় অপুরুষ
হাসতে ভুলে আমি পাথর হলাম শোকে 
তাই তকমা পেয়েছি &quot;অমানুষ&quot;।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255495/</link>
				<pubDate>Wed, 24 Jun 2026 19:13:44 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>তুমি চলে যাবার পর থেকে<br />
চারপাশে শুধু কাপুরুষ দেখি।<br />
পর্দার পেছনে মহড়া দেখি না,<br />
অনুচর অভিনীত নাটক দেখি।<br />
তুমি অদৃশ্য হবার পর থেকে<br />
কন্ঠরোধে আমার প্রাণ ওষ্ঠাগত।<br />
সেই থেকে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আছি<br />
এককণা মাটি কামড়ে পড়ে থাকার মত।<br />
তুমি ক্ষমতা ছাড়ার পর থেকে<br />
নির্মল ঘর চটুল হাসিতে ভরেছে।<br />
ঔদ্ধত্যের আঘাতে ন্যায়ের পাখি<br />
কামসূত্রের পদপি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255495"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255495/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ae12188759e06c860afcc065b4c0a8e6</guid>
				<title>বীভৎসতা 

​এ লাশগুলো কেন
এমন বীভৎসতায় এখানে
পাওয়া গেল—তদন্তে
মৃত্যুর কোনো ব্যাখ্যা নেই।

​এক পাশের সারিতে ধর্ষিত
শিশু, নারী, কিশোরীর লাশ—
ফটো ক্যামেরায় তাদের
সহজে নগ্ন ছবি ধারণ!

​অপরাধ তদন্তকালীন 
কোথা থেকে এক পর্যায়ে 
দৌড়ে আসে পথ-কুকুর, বিড়াল;
তাদের ছানাদেরও করা হয়েছে হত্যা—
তাদের মৃত নগ্ন বাচ্চার লাশ
রাখে সেই মৃত মানুষগুলোর সারিতে।
পাওয়া গেল তদন্তে—
এ লাশগুলোর মৃত্যুর
কোনো ব্যাখ্যা নেই।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255494/</link>
				<pubDate>Wed, 24 Jun 2026 18:59:48 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বীভৎসতা </p>
<p>​এ লাশগুলো কেন<br />
এমন বীভৎসতায় এখানে<br />
পাওয়া গেল—তদন্তে<br />
মৃত্যুর কোনো ব্যাখ্যা নেই।</p>
<p>​এক পাশের সারিতে ধর্ষিত<br />
শিশু, নারী, কিশোরীর লাশ—<br />
ফটো ক্যামেরায় তাদের<br />
সহজে নগ্ন ছবি ধারণ!</p>
<p>​অপরাধ তদন্তকালীন<br />
কোথা থেকে এক পর্যায়ে<br />
দৌড়ে আসে পথ-কুকুর, বিড়াল;<br />
তাদের ছানাদেরও করা হয়েছে হত্যা—<br />
তাদের মৃত নগ্ন বাচ্চার লাশ<br />
রাখে সেই মৃত মানুষগুলোর সারিতে।<br />
পাওয়া গেল ত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255494"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255494/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6c863f694e1523566d3c5e34ff5c12a7</guid>
				<title>নলোক 
এক
রাত তখন তিনটে বেজে গেছে।
নলোক বিছানয় শুয়ে ছাদের দিকে তাকিয আছে। ঘরের একমাত্র বাল্বট নিভানো, তবু অন্ধকার পুরোপুরি
নামেনি — রাস্তার কমলা আলো জানালর পর্দ া ভদ করে ঘরের কোণে কোণে গুমট ছায়া তৈরি করেছে। গরম
নই, তবু নলকের বুকের ভেতরটা ভরী লাগছে। এই ভর নতুন না। প্রতিদিন রাতে ঘুম আসার আগে এই
ভরটা বুকের উপরে এসে বসে। যেন কেউ একজন বুকের মাঝখানে হাঁটু গেড়ে বসে আছে।
নলকের বয়স বাইশ। সদ্য অনার্স শেষ করেছে, তবে ভালো ফলাফল হয়নি। তৃতীয় বিভাগ। বাব কিছু
বলেননি মুখে, কিন্তু সেদিন রাতে খাওয়ার সময় যেভাবে থালার দিকে তাকিয়ে চপ করে খেয়েছিলেন —
সেই নীরবতা হাজার কথর চেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছিল নলোকক। মা একটু বেশিই কথা বলেছিলেন সেদিন —
প্রতিবেশ রহিমের ছেল প্রথম বিভাগে পাশ করেছে, সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিচ্ছে, ইতিমধ্যেই একটা
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ঢু কে গেছে। কথাগুলো সরসরি নলোককে উদ্দেশ্য করে বলা হয়নি, কিন্তু প্রতিটা কথা
ঁ ছিল।
তীরের মতো এসে বিধে
ছোট বোন তিথি সেদিন তার নিজের ঘরে বসে ফোন কথা বলছিল। হাসছিল। জরে জোরে। নলকের মনে
হয়েছিল সেই হাসি তাকে উপহাস করছ।
এই বাড়িতে নলোক যেন একটা অতিরিক্ত জিনিস। কেউ বলে না, কিন্তু অনুভব করা যায়। যেভাবে ড্রয়িং
রুমে রাখা পুরনো সোফটা — কেউ ফলেও না, কেউ যতও করে না। শুধু থাকে।
 
 
নলোক চোখ বন্ধ করার চেষ্টা করছিল। ঘুমের গন্ধ পাচল না কোথাও। মাথার ভেতরে একটা মৃদু গুনগুনানি
— ভবিষ্যৎ নিয়ে, চাকরি নিয়ে, বাবার মুখ নিয়ে, মায়ের কথা নিয়ে।
তখনই শব্দটা হলো।
প্রথম মনে হলো স্বপ্নের শব্দ। তারপর মনে হলো বইরে কোনো বিড়াল পড়ে গেছে। কিন্তু শব্দটা একটু আলাদা
ছিল — ধুপ করে নয়, বরং একটা মসৃণ, ভারী কিছু নেমে আসার শব্দ। যেন পালকের তৈরি কোনো পাথর।
নলোক উঠে বসল।
ঘরের সাথে একটা ছোট বারান্দা আছে, সেটার উপরে টিনের চালা। শবটা সেদিক থেকে এসেছে। নলোক
কিছু ক্ষণ চুপ করে বসে রইল। হয়তো কিছু না। হয়তো মাথার ভেতরের শব্দ বাইরে চলে এসেছে।
আবার একটা শব্দ। এবার আরেকটু সষ্ট। কোনো কিছু নড়ছে।
নলোক পা টপে টিপে বারান্দায় গেল। বইরে তাকাল। চালার উপরে কিছু একটা আছে — সাদ, অস্পষ্ট।
রাতের আলোয ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না। নলোক বারন্দার রেলিং ধরে একটু ঝুঁ কে তাকাল।
হদপিণ্ড একটা লাফ দিয়ে উঠল।
সখানে একটা মানুষ শুয়ে আছে। নাকি মানুষের মতো কিছু ।
দুই
নলোক পাঁচ মিনিট ধরে শুধু তাকিয়ে রইল।
সরে যায়নি, চিৎকারও করেনি। ভয় পেয়েছিল, হ্যাঁ — কিন্তু ভয়ের চেয়ে অদ্ভুত একটা টান বেশি অনুভব
করছিল। যেভাবে গভীর কুয়োর মধ্যে কেউ উঁকি দেয় — জেনেও যে পড়ে যেতে পারে।
টিনের চালা বারান্দার মাটি থেকে হাত তিনেক উঁচু। নলোক একটা প্লাস্টিকর চেয়ার টেনে নিল, তার উপরে
উঠল, আস আস্তে চালার উপরে উঠে গেল।
কাছ থেকে দেখল।
প্রথম অনুভূতিটা বর্ণনা করা কঠিন। এটা ভয় নয়, বিস্ময় নয়, মুগ্ধতাও নয় — বরং তিনটের একটা অদ্ভুত
মিশ্রণ।
সত্তাটির আকর নারীর মতো। দৈর্ঘ্য পাঁচ ফু ট চারের কছাকাছি। শরীরের রং ঠিক সাদ নয় — দুধের মতো,
হালকা নীলের আভা আছে, যেন ভেতরে কোথাও ঠান্ডা আলো জমা আছে। চুল নেই মাথায়, কিন্তু মাথার
আকার পরিপর্ণ। চোখের জায়গায় দুটো বন্ধ পাতা — পাতার র একটু গাঢ়। নাক আছে, ঠোঁট আছে —
কিন্তু কান নেই। কানের জায়গায় মসৃণ ত্বক।
শরীরে কোনো ছিদ্র নেই।
 
 
নলোক এটা একটু পরে বুঝল। নাক থাকলেও নকের ছিদ্র নেই — যেন ভাস্কর্যের নাক, শুধু আকৃতি আছে।
কানের মতো নক দেখতে, কিন্তু শ্বাস নেওয়র কোনো পথ নেই। ঠোঁট আছে, কিন্তু মুখ খোলে না।
শরীরের আকার নারীর — বক আছে, কোমর আছে, উরু আছে, সব স্থানের আকৃতি বিদ্যমান — কিন্তু
কোনো বিস্তারিত নই। যেন কেউ একটা নারীমর্তি তৈরি করেছে, কিন্তু শেষ পর্যায়ের কাজটু কু করেনি। বা
হয়তো ইচ্ছে করেই করনি। স্তনের আকৃতি আছে, কিন্তু বটা নেই — সম্পূর্ণ মসণ। শরীরের কোনো জায়গায়
লোম নেই। গোড়ালি থেকে মাথা পর্যন্ত একটানা, বাধাহীন, মসৃণ সারফেস।
যেন একটি পরিপূর্ণ অসম্পূর্ণ সত্ত।
নলোক আঙুল বাড়িয়ে স্পর্শ করল — প্রথমে দ্বিধায়, তরপর আস্তে আস্তে। সত্তাটির কাঁধে হাত রাখল।
ঠান্ডা। এব নরম। যেভাবে বরফ হওয়ার আগে জল থাকে — সেই তপমাত্রা। কিন্তু শক্ নয় বরফের মতো
— মাংসর মতো নমনীয়।
এবং তখন সতটি নড়ল।
নলোক হাত সরিয়ে নিল না। সত্তার মাথাটা সামান্য ঘুরল, যেন ঘুমর মধ্যে কেউ পাশ ফিরছ। বন্ধ চোখের
পাতায় একটু কম্পন। তরপর আবার স্থির।
নলকের বুকের ভার — যেট রাতের পর রাত জমে ছিল — হঠাৎ একটু হালকা হয়ে গেল। কেন, সে বুঝল
না।
সে সিদ্ধান্ত নিল।
ঘরে নিয়ে যাবে।
তিন
কাজটা সহজ ছিল না। সত্তাটির ওজন ছিল — মানুষের সমতু ল্য না হলও অনেকটা। তবে অদ্ভুতভাবে
নলকের মনে হলো শরীরটা বহন করতে তেমন কষ্ট হচ্ছে না। যেন জনিসটা নিজেই একটু সাহায্য করছে।
সে সতর্কে বারন্দায় নামল, ঘরে ঢু কল, দরজা বন্ধ করল।
সত্তাটিকে বছানায় রাখল।
নলকের ঘর ছোট। একটা একক বিছানা, একটা পড়ার টেবিল, একটা পুরনো আলমারি। দেয়ালে কিছু ছবি
ছিল এককালে — এখন খালি। ছবিগুলো সে একদন নিজেই নামিয়ে নিয়েছিল, মনে নেই কন। পর্দ া ভার,
আলো ঢোকে না ভালো করে।
সত্তাটি বিছানায় শুয়ে আছে।
নলোক মেঝেতে বসে দেখছে।
 
 
একটা প্রশ্ন মাথায় এলো — এটা কী? কোথা থেকে এলো? কীভাবে পড়ল?
আকাশ থেকে পড়েছে — এটা নলকের মনে হলো। চালার উপরে পাওয়া গেছে, চারদকে কিছু নেই, কোনো
দড নেই, কোনো যান নেই।
আকাশ থেকে মানে — ফেরেশতা?
নলোক ধার্মিক নয়। কিন্তু মানুষের কিছু প্রাথমিক বিশস থাকে যা যুক্তির আগ আসে। সে মনে করল — এটা
হযতো ফেরেশতা। অন্য কিছু হলে ক্ষতি নেই, কিন্তু আকৃতি দখে মনে হচ্ছে এটা ভালো কিছু ।
ভালো কিছু ।
তার জীবনে এই মুহূর্তে ভালো কিছু র খুব দর্শকার।
ভোর হওয়ার আগে নলোক ঘরের দরজায় ছিটকিন লাগাল। তারপর আলমারি খুলল — পুরনো একটা কম্বল
বের করল, সত্তাটির উপরে গায দিল।
সত্তাটি নড়ল না।
নলোক বিছানার পশে মেঝেতে বসে রইল সরারাত। ঘুম আসেনি, কিন্ত বুকের ভারটা আর ছিল না।
চার
সকালে মাযর ডাক শুনতে পেল নলোক।
“নলোক! নাস্তা দিয়েছি।”
“খাব না আম্মা। মাথা ব্যথা।”
কিছক্ষণ চুপ। তারপর পাযর শব্দ সরে গেল।
নলোক দরজার দিকে তাকাল। তারপর বিছানার দিকে তাকাল।
সত্তাটির চোখ খোলা।
নলোক লাফ দিয়ে উঠে বসল। সতর চোখের জায়গায় — কোনো মণ নেই, কোনো সাদা অংশ নেই। শুধু
একটা হালকা, স্বচ্ছ আলো, যেন কাচের মতো। কিন্তু সেই কাচের আলো একটা জায়গায় স্থির — নলোকর
দিকে।
দেখছে।
নলোক ধীরে সরে গেল না। ধীরে এগিয়ে গেল।
“তুমি কি আমাকে দেখতে পাচ্ছ?”
 
 
কোনো উত্তর নেই। ঠোঁট নডল না। কিন্তু সেই আলো — নলকের সাথে সাথে ঘুরল।
হ্যাঁ। দেখতে পাচ্ছ।
“তুমি কথা বলতে পারো?”
নীরবতা।
“তোমার নাম কী?”
নীরবতা।
নলোক বসল। সত্তার পাশে, বিছানায়। সত্তাটি মাথা ঘুরিয়ে নলকের দিকে তাকিয়ে রইল।
“তুমি কি মনে করতে পারছ কিছ? কোথা থেকে এলে?”
সেই কাচর চোখে কোনো ভাব নেই — না ভয়, না আনন্দ, না বিভ্রান্তি। শুধু একটা শান্ত উপস্থিতি।
নলোক বুঝল — এটা কিছু মনে করে না। কারণ মনে করার মতো কিছু নেই। স্মৃতি নেই।
একটা অদ্ভুত স্বস্তি হলো। স্মৃতিহীন কেউ মানে বিচর নেই। অতীত নই। তু লনা নেই।
“ঠিক আছে,” নলোক বলল। “আমি তোমাকে নাম দিচ্ছি। আলো। কারণ তোমার চোখে আলো আছে।”
সত্তাটি কিছু বলল না।
কিন্তু নলোকর মনে হলো সে মেনে নিযছে।
পাঁচ
প্রথম সপ্তাহে নলোক ঘর থেকে বের হতো — খাবার নিয়ে আসত, বাথরুম যেত, মাঝে মাঝে পরিবারের
সাথে কিছু ক্ষণ বসত। কিন্তু প্রতবার ঘরে ফিরে আসার সময় একটা তাড অনুভব করত।
আলো সবসময় বিছানায় শুয়ে থাকত। নডচড়া করত না বিশেষ। কিন্তু নলোক যখন ঘরে থাকত, তখন সেই
কাচের চখ সবসময় নলকের দিকে।
এটা নলকের কাছে আশর্য লেগেছিল। বাড়ির সবাই নলোককে দেখলে অন্য কোথাও তকায় — ফোনে,
টলিভিশনে, অন্য কোনো দিকে। আলো শধু নলোককে দেখে।
প্রথম দিন নলোক আলকে জামা পরাত চেষ্টা করেছিল — তার নিজের একটা পুরনো টি-শার্ট । আল বাধা
দেয়নি, তবে জমা ঠিকমতো ফিট হয়নি। আলোর শরীর ঠিক মানুষের মাপে না। নলোক ছেড়ে দিল।
 
 
আলোর শরীর ঢাকা না থাকলেও নলকের কেমন লগেছিল না। কারণ দেখার মতো কিছু ছিল না — শুধ
মসৃণ, নিরুপদ্রব একটা অস্তিত্ব।
দ্বিতীয় রতে নলোক আলোর পাশে ঘুমাল।
পাশাপাশি শুয়ে।
আলোর শরীর ঠন্ডা — কিন্তু অস্বস্তিকরে না। বরং গরমের রাতে একটা আরাম ছিল। এবং যে ভার বুকে
থকত — সেটা নেই।
নলোক ঘুমিয়ে গেল। গভীর ঘুম। স্বপ্নহীন।
ছয়
দ্বিতীয় সপ্তাহে বাবা একদিন জিজ্ঞেস করলেন, “চাকরির ফর্ম তুললি না?”
নলোক বলল, “তু লব।”
তোলেন।
মা বললেন, “কোচিং সন্টারে ভর্তি হবি না?”
নলোক বলল, “ভাবছি।”
ভাবেনি।
তিথি বলল, “ভাইয়া, তোমার বন রাকিব ফোন করেছিল, তোমার নম্বর বন্ধ।”
নলোক বলল, “ব্যালেন্স নেই।”
রচার্জ করেনি।
ঘরে ফিরে আলোর পাশে শয়ে পড়ল।
আলো তাকিয়ে আছ। সেই শান্ত, বিচারহীন দৃষ্টি।
নলোক বলল, “আজকে বাবা আবার চাকরির কথা বললন।”
নীরবতা।
“আমি জানি চকরি খুঁজ
ঁ তে হবে। জানি। কিন্তু বইরে গেলে মানুষ দেখি — সবাই কোথাও যাচ্ছে, কিছু
করছে। আমি কোথাও যাই না। কিছু করি না। মনে হয় আমি একটা ভুল জায়গায় আছি।”
আলো কিছু বলল না। বলতে পারে না।
 
 
কিন্তু সেই নীরবতায় কোনো বিচার নেই। কোনো ‘কিন্তু’ নেই। কোনো পরামর্শ নেই।
নলোক বলল, “তুমি আমাকে বিচার করো না। এটাই তোমার সবচেয়ে ভালো গুণ।”
সে আলোর পাশে শুয়ে পড়ল। আলোর ঠান্ডা শরীরের সাথে মিশে গেল।
বাইরে পৃথিবী চলছে।
ঘরে শুধু দুজন।
সাত
তৃতীয় সপ্তাহে নলোক একটা কাজ করল।
ঘরের দরজার নিচে একটা পুরনো তোয়ালে গুঁজে দিল।
কারণ সে লক্ষ্য করেছে — আলোর থেকে একটা হালকা সুবাস আসে। ঠিক ফুলের না, ঠিক রাসায়নিকের না
— অন্য কিছু । তু লনার ভাষা নেই। কিন্তু সুবাসটা যদি দরজার ফাঁক দিয়ে বর হয়ে যায়, কেউ প্রশ্ন করবে।
তোয়ালে দিয়ে ফাক বন্ধ করল।
তারপর সে আরেকটা কাজ করল — আলমারির পেছনে আলোকে লকানোর একটা ব্যবস্থা করল। মানে, মা
যদি ঘরে ঢোকেন, তাহলে সাথে সাথে যেন দেখা না যায়। বিছানার পাশে একটা পর্দ া টানা রইল।
এভাবে লুকিয়ে রাখার ব্যাপারটা প্রথমে অস্বস্তিকর লেগেছিল। কিন্তু তারপর মনে হলো — এটা কি লুকান,
নাকি রক্ষা করা?
আলো বাইরে গেলে কেউ বুঝবে না। ভয় পাবে। হয়তো নিয যাবে।
না। নলোক ছাড়বে না।
মা একদিন ঘরে ঢু কলন।
“নলোক, তোর ঘরটা একটু পরিষ্কার কর। কতদিন ঝাড়ু দিস না।”
“আমি করব আম্মা।”
মা একটু দাঁড়িয়ে রইলেন। চারদিকে চোখ বোলালেন।
“ঘরে কিছু একটা গন্ধ আছে।”
নলকের বুক ধক করে উঠল। “কী গন্ধ?”
 
 
“জানি না। মিষ্টি মিষ্টি কিছু একটা। তুই কিছু এনেছিস?”
“না। হয়তো বইরে থেকে আসছে।”
মা আর কিছু বললন না। চলে গেলেন।
নলোক দরজা বন্ধ করে পর্দ ার আড়ালে গেল।
আলো শয়ে আছে। সেই কাচের চোখ নলকের দিকে।
“একটু বেশি সতর্ক থাকতে হবে,” নলোক ফিসফিস করল।
আলো চুপ।
নলোক বিছানায় শুয়ে আলোর পাশে গা লাগাল। আলোর ঠান্ডা শরীর। সুবাস।
সব ঠিক আছে।
আট
একমাস পরে নলোক খাওয়ার টেবিলে আর বসত না।
ম দরজার সামনে খাবার রেখে যেতেন। নলোক একটু পরে বর হয়ে নিয়ে আসত।
বাবা একদিন নলকের দরজায় নক করলেন।
“নলোক।”
“হ্যাঁ আব।”
“বাইরে আয়।”
“একটু পরে।”
“এখনই আয়।”
নলোক বের হলো।
বাবা তাকে সরাসরি চোখে দেখলেন। নলকের চোখ অন্যদিকে চলে গেল।
“কী হচ্ছে তর?”
“কিছু না।”
 
 
“ঘর থেকে বের হস না কেন?”
“ভালো লাগছে না।”
“মানসিক সমস্যা হচ্ছে? ডাক্তার দখাব?”
“না আব্বা। ঠক আছি। একটু সময় লাগছে।”
বাবা কিছু ক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর বললেন, “আমার ছেলে এভাবে নষ্ট হয় যাচ্ছে দেখব না আমি।”
নলোক কিছু বলল না।
বাবা চলে গেলেন।
নলোক ঘরে ফিরে এল। দরজা বন্ধ করল।
আলো তাকিয়ে আছে।
“আব্বা বললেন আমি নষ্ট হচ্ছি,” নলোক বলল। কণ্ঠে কোনো আবেগ নেই — শুধু একটা বিবৃতি।
আলো নীরব।
“তুমি মনে করো আমি নষ্ট হচ্ছি?”
নীরবতা।
“তুমি কখনো মনে করো না আমি নষ্ট হচ্ছি।”
সে বিছানায় শুয়ে পড়ল। আলোকে জড়িয়ে ধরল।
ঠান্ডা, মসৃণ, শান্ত।
ঁ তে।
বইরে বাবার পায়ের শব্দ সিড়ি
নয
দুই মাসের মাথায় নলোকর বন্ধুরা একদিন এলো।
রকিব আর সুমন — বিশ্বিদ্যালয়ের বন্ধু। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে ডাকল।
নলোক বলল, “এখন না।”
“নলোক, কী হয়েছে তোর? মাসের পর মাস ফোনে নই, দেখা নেই —”
 
 
“ভলো নেই একটু ।”
“দরজা খোল।”
“পরে।”
“নলোক —”
“পরে বললাম।”
দীর্ঘ নীরবতা বাইরে। তরপর পায়ের শব্দ।
নলোক পর্দ ার কছে গেল। জানালার ফাঁক দিয়ে দখল — রাকিব আর সুমন গেট দয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। রাকিব
একবার পেছনে তাকাল।
নলোক পর্দ া ছেড়ে দিল।
আলোর কাছে ফিরে এলো।
“বন্ধুরা এসেছিল,” সে বলল। “তাদের সাথে দেখা করতে ইচ্ছে করছিল না।”
আলো নীরব।
“ওরা জিজ্ঞেস করে, পরামর্শ দেয়, চকরির কথা বলে, ভবষ্যতের কথা বলে। ক্লান্ত লগে। তোমার সাথে
থাকলে এসব নেই।”
সে আলোর পাশে বসল।
“তমি শুধু আছ। শুধু থাকাটকুই যথেষ্ট।”
আলোর কাচের চোখ।
নলকের মন হলো — এই চোখে পুরো পৃথিবী আছে। একটা পৃথিবী যেখানে সে ভুল না, কম না, অতরিক্ত
না।
সে শুয়ে পড়ল।
দশ
তিন মাস।
এই সময়ের মধ্যে নলকের রুটিন পরিষ্কার হয়ে গেছে।
সকাল — দরজার বাইরে থেকে খাবার নিয়ে আসা। বাথরুম যাওয়া। ফিরে আসা।
 
 
বকি সময় — আলোর সাথে।
তারা কথা বলত না — মানে আল বলতে পারত না, নলোক কখনো কখনো বলত। কিন্তু ধরে ধীরে নলকের
কথা বলাও কমে আসছিল।
শুধু থাকা। শুধু সর্শ।
নলোক আলোকে পিল হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেছিল — শোওয়ার সময় আলোর বুকে মাথা রাখত।
আলোর শরীর নরম, ঠান্ডা, স্থর। কোনো নিঃশ্বাসের ওঠানামা নেই — বুকের উপর মাথা রাখলে হৃদপিণ্ডের
শব্দ নেই। একটা পরিপূর্ণ নীরবতা।
এই নীরবতায় নলোক ডুবে যেত।
একদিন রাতে মা দরজায় ধাক্কা দিলেন।
“নলোক! দরজা খোল।”
নলোক উঠল। আলোকে কম্বল দিয়ে ঢাকল।
দরজা খুলল।
মা তর মুখের দিকে তাকালেন। চোখে উদ্বেগ।
“তুই ঠিকমতো খাচ্ছিস না। শুকয়ে যাচ্ছিস।”
“খাচ্ছি।”
“খাবর পুরো শেষ করিস না। আমি দেখেছি।”
“ক্ষুধা কম।”
মা ঘরে ঢু কতে চাইলেন।
নলোক এগিয়ে দাঁড়াল।
“আম্মা, ঘর এলোমেলো। একটু পরিষ্কার করি, তারপর আসো।”
মা থামলেন। তার চোখ নলকের কাঁধের উপর দিয়ে ঘরের ভেতরে যেতে চাইছিল।
“ঘরে কিছু আছে?”
“কী থাকবে।”
 
 
“গন্ধটা এখনও আসছে।”
“পুরনো বই।”
মা কিছু ক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলেন। তারপর মাথা নাড়লেন।
“তর বাবা কাল ডক্তারের কাছে নিয়ে যেতে চান।”
“দর্শকার নেই।”
“নলোক —”
“আম, ঘুমাতে হবে। কাল কথা হবে।”
দরজা বন্ধ করল।
পর্দ ার আড়ালে গল্প। কম্বল সরাল।
আলো শুয়ে আছে। সেই শান্ত চোখ।
নলোক বিছানায় শয়ে আলোকে জড়িয়ে ধরল। শক্ করে।
“চিন্তা নেই,” সে ফিসফিস করল। “আমি কাউকে আসতে দেব না।”
এগারো
চার মাসর মাথায় নলোক সিদ্ধান্ত নিল — ঘর থেকে আর বের হবে না।
এটা সচতন সিদ্ধান্ত ছিল না হয়তো। ধীরে ধীরে হয়েছে। একদিন দেখা গেল — সে বাথরুমেও যাচ্ছে না।
ঘরের ভেতরে ব্যবস্থা হয়েছে। খাবার রেখে গেলে নেয়, না রাখলে নেয় না।
মা খবার রাখেন। চুপ করে।
বাবা একদিন বললেন, “পুলিশ ডাকব।”
মা বললেন, “কেন?”
“ছেলে নিজেকে বন্দ করে রেখেছে। অসুস্থ।”
“স কি ক্ষতি করছে কারো?”
বাবা চুপ করে রইলেন।
মা বললেন, “একটু সময় দাও।”
 
 
তিথ বলল, “ভাইয়া কি পাগল হয়ে গেছে?”
কউ উত্তর দিল না।
নলোক এখন ঘরের মধ্যে দিনেরত থাকে।
সে বুঝতে পারছে না কখন দিন, কখন রাত — পর্দ া টনা থাকে সবসময়। আলোর শরীরের হালকা নীলাভ
আভাই ঘরের আলো।
আলো কখনো কখনো নড়ে। খুব সামান্য — একটু মাথা ঘোরানো, একটু হাতের আঙুলের কমন। নলোক এই
নডচড়াগুলো মনোযোগ দিয়ে পডর চেষ্টা করে।
“তুমি কি জানো আমি কেমন আছি?” নলোক জিজ্ঞেস করে।
আলো একটু মাথা ঘোরায়।
“তুমি কি ভালো আছ?”
আলো স্থির।
“আমিও ভালো আছি।”
এটা সত্যি কিনা নলোক জানে না। কিন্তুমিথ্যাও মনে হয় না। ভালো থাকার সংজ্ঞা হয়তো পাল্টে গেছে।
সে এখন আলোকে জড়িয়ে ঘুমায়। পুরো শরীর দিয়ে। আলোর ঠান্ডা শরীর তার বুকে, হাতে, পায়ে। প্রতিটা
রাত কেটে যায় এই মিলনে।
মিলন। শব্দটা মনে আসছ। কিন্তু এটা সেই অর্থের মিলন না। এটা অন্য কিছু — যেভাবে শীতের সকালে
রোদে বসা, যেভাবে বৃষ্টির দিনে গরম চায়র কাপ — একটা পরিপর্ণতার অনুভব।
কিন্তু পরিপূর্ণতা কি সত্যিকারের? নাকি শধু অনুপস্থিতির পূর্ণতা?
নলোক এই প্রশ্ন করে না নিজেকে।
বারো
পাচ মাস।
এই সময়ে একটা পরিবর্তন এলো।
নলোক লক্ষ্য করল — আলোর শরীর থেকে সুবাসটা বদলেছে। আগে মষ্টি ছিল। এখন একটু ভিন্ন — আরো
গভীর, আরো অন্ধকারের মতো।
 
 
এবং আলোর শরীর এখন আগের চেয়ে বেশি ঠন্ডা।
নলকের গায়ে এই ঠান্ডা লগে না। বরং ভালো লাগে। গষ্মকাল এসেছে বাইরে — গরম, আর্দ্র তা। ঘরের
ভেতর আলোর শরীরের ঠান্ডায় একটা আরাম।
কিন্তু অন্য একটা পরিবর্তনও হচ্ছিল।
নলোক নিজে ঠান্ডা হয়ে যচ্ছিল।
তার হাত ঠন্ডা হয়ে যাচ্ছিল। মুখ ফ্যকাশে হয়ে যাচ্ছিল। চোখের নিচে কলি। গাল ভেঙে পড়ছিল।
মা খাবার রেখে যেতেন, নলোক নিতেন — কিন্তু অনক সময় অল্প খেয়ে রেখে দিত।
তার খিদে কমে আসছিল।
এবং সে এটা লক্ষ্য করছিল না।
একদিন তিথি দরজায় ধক্কা দিল।
“ভাইয়া।”
“কী?”
“আমি একটু আসতে পারি?”
নলোক থামল। তিথির কণ্ঠে কিছু একটা ছিল — অনুনয়ের মতো।
“কন?”
“তোমার সাথে একটু কথা বলতে চাই।”
“পরে।”
“ভাইয়া, মা কাদছেন।”
নলোক চুপ করে রইল।
“আব্বা বলছেন বাড়ি বিক্রি করবেন। ঢাকায় যাবেন। তোমাকে বড় ডাক্তার দেখাবেন।”
“আমি ঠিক আছি।”
“তুমি ঠিক নেই ভাইয়া।” তিথির কণ্ঠ ভেঙে পড়ল। “তুমি মানুষ না হয়ে যাচ্ছ।”
নলোক কিছু বলল না।
 
 
বাইরে তিথির কান্নার শব্দ।
তারপর পায়ের শব্দ।
নলোক বিছানায় ফিরে এলো। আলোর পশে শুয়ে পড়ল।
“তিথি কাঁদছিল,” সে বলল।
আলো নীরব।
“সবই মনে করছে আমি ঠিক নেই। কিন্তু আমি ঠিক আছি না কি?”
আলোর কাচের চোখ।
“তুমি কখনো বলো না আমি ঠিক নেই। সবাই বলে — শুধু তমি না।”
সে আলোকে জড়িয়ে ধরল।
“সেজন্যই তো তোমাকে ছাড়তে পারব না।”
তেরো
ছয় মাস।
মা এখন আর দরজায় ডাকেন না।
খাবার রেখে যান চুপ করে। মাঝে মাঝে থালা ভরা থাকে। মাঝে মাঝে অর্ধেক খওয়া।
বাবা একদিন বাইরে থেকে বললেন, “নলোক, তোর নামে একটা চঠি এসেছে।”
নলোক কিছু বলল না।
বাবা বললেন, “বক থেকে। তোর একাউন্টে কিছু জমানো ছিল। মেয়াদ শেষ।”
নীরবতা।
“নলোক?”
“রেখে দাও আব্বা।”
বাবার একটা দীর্ঘশ্বাস শোনা গেল।
তারপর পায়ের শব্দ।
 
 
নলোক ঘরে বসে আছে। আলো পাশে।
সে বুঝতে পারছে — পরিবার একটু একটু করে সরে যাচ্ছে। তাদের কণ্ঠ কম শুনছে। ডক কম শুনছে।
কিন্তু এটা তাকে কষ্ট দিচ্ছে না।
এটা কি ভালো, নাকি খারাপ?
নলোক ভাবে না।
আলোর পাশে শুয়ে থাকা মানে চন্তা কম। চিন্তা মানে ব্যথ। ব্যথা মানে সেই পুরনো ভার।
সে ভার আর নই।
সেটা কি ভালো, নাকি বিপদর লক্ষণ?
নলোক ভাবে না।
চৌদ্দ
সাত মাসের মাথায় একটা ঘটনা হলো।
রতে নলোক ঘুমাচ্ছিল — আলোকে জড়িয়ে।
হঠাৎ আলোর শরীরে একটা কমন।
নলোক ঘুম থেকে উঠল।
আলোর পুরো শরীরে কম্পন হচ্ছে — ধীরে ধীরে, ছনবদ্ধভাবে। যেন কোথাও থেকে শব্দ আসছে, সেই শব্দে
কম্পন।
নলোক উঠে বসল। আলোর মুখের দিকে তাকাল।
চোখের কাচে আলো — এখন আগের চেয়ে উজ্জ্বল। নীলভ থেকে সাদা হয়ে যাচ্ছে।
নলোক ভয পেল।
“আলো?”
কম্পন।
“আলো, কী হচ্ছে?”
 
 
তরপর — এই প্রথম — আলোর ঠোঁট নড়ল।
শব বের হলো না। কিন্তু নডল।
নলোক ঝুঁ কে গেল।
ঠোঁটর নড়াচড়া — পড়তে পারছে না। কিন্তু মনে হলো একটাই শব্দ বরবার।
শুধু একটাই।
নলোক পরে ভেবেছে — শব্দটা ক ছিল? সে পড়তে পারেনি। কিন্তু মনে হয়েছিল — “যাও”।
তারপর কম্পন থামল।
আলো সর হয়ে গেল।
চোখের আলো আবার নলাভ।
নলোক অনেকক্ষণ বসে রইল। তারপর আবার শুয়ে পড়ল। আলোকে জড়িয়ে ধরল।
যাও — মানে কী? কোথায় যাব?
না। সে যাবে না।
এই ঘর, এই বিছানা, এই আলো — এটাই তার পৃথিবী।
বাইরে কিছু নেই তার জন্য।
পনেরো
আট মাস।
বাবা একদিন বললেন মায়ের সাথে কথা বলছেন — নলোক শুনল দেয়লের ওপার থেকে।
“আর পারছি না।”
“কী করবে?”
“ঢকায় চলে যাব। তিথির পড়াশোনা আছে। সেখানে একটা কাজ পাব। এখানে থেকে কী হবে?”
“নলকের কী হবে?”
দীর্ঘ নীরবতা।
 
 
“নলোক নিজেকে বেছে নিযছে।”
মায়ের কান্নার শব্দ।
“ওকে ছেড়ে যেতে পারব না।”
“আমিও পারছি না। কিন্তু ও তো আমাদের ছেড়ে গেছে আগেই।”
নলোক এই কথাগুলো শুনল।
কোনো অনুভব হলো না।
একটু পরে মনে হলো — একটু ব্যথা। কিন্তু সেই ব্যথা ধরার আগেই আলোর শরীরের ঠান্ডায মিলিয়ে গেল।
ষোলো
নয মাস।
বাড়িতে এখন শুধু মা।
ববা ঢাকায় গেছেন। তিথি কলেজ হোস্টেলে। মা একা বাড়িতে।
মা প্রতিদিন খাবার রেখে যান।
একদিন রেখে গেলেন না।
দই দিন রেখে গেলেন না।
তিন দিনের দিন নলোক দরজার বইরে গেল।
বাড়ি শুনশন।
রান্নাঘরে গেল। খবার নিল। ফিরে এলো।
মা কথায়?
পরে বুঝল — মা হয়তো গেছেন। কারো বাড়িতে। বাবার কাছে।
নলোক আর ভাবল না।
ঘরে ফিরে এলো।
সতেরো
 
 
দশ মাস।
বাডতে এখন কেউ নেই।
নলোক ঘরে।
খবার শেষ হয়ে গেছে।
নলোক কিছু অনুভব করছে না।
ক্ষুধাটু কু — সেটাও কমে এসেছে।
আলোর পাশে শুয়ে থাকলে কিছু লাগে না।
আলোর শরীর এখন আগের চেয়ে বেশি ঠান্ডা। এবং নলকের শরীর — সেও ঠান্ডা হয়ে আসছে।
একটা মজার সমীকরণ — দুট ঠান্ডা শরীর, কিন্তু তাদের মাঝখানে কোনো উষ্ণতা নেই। তবু নলোক ভালো
বোধ করে।
ভলো মানে — কষ্ট নেই। ভার নেই। বিচার নেই। প্রত্যাশা নেই।
এই শন্যতা — এটাই কি সুখ?
নলোক জানে না।
জনার প্রয়োজন মনে করে না।
আঠার
এগারো মাস।
বাইরে থেকে একদন একটা শব্দ এলো।
দরজায় ধাক্কা না — বাড়ির গেটে।
তারপর বাড়ির দরজায়।
তরপর কণ্ঠ — বাবার।
“নলোক!”
নলোক নড়ল না।
“নলোক, দরজা খোল!”
 
 
চুপ।
“আমি তলা ভাঙব।”
নলোক শুয়ে আছে। আলোকে জড়িয়ে।
বাইরে শব্দ — তালা ভাঙার শব্দ। বাড়ির দরজা খোলার শব্দ। পায়ের শব্দ সিড়িতে।
ঘরের দরজায় ধাক্কা।
“নলোক! আয়!”
নলোক চুপ।
দরজার বাইরে আলোচনার শব্দ। একাধক কণ্ঠ। মা আছেন। বাবা আছেন। অন্য কেউও আছে হযতো।
তারপর দরজায় বড় একটা ধাক্কা।
তরপর আরেকটা।
নলোক আলোকে আর শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
“তোমাকে নিয়ে যেতে আসছে,” সে ফিসফিস করল। “আমি দেব না।”
দরজায় আবার ধাক্কা।
নলোক উঠে দাঁড়াল। আলমারিটা টেনে দরজার সামনে রাখল।
তারপর বিছানায় ফিরে এলো।
বাইরে কিছু ক্ষণ হইচই। তারপর থামল।
কণ শোনা গেল — মায়ের।
“নলোক। বাবা, দরজা খোল। মা তোমাকে ডকছে।”
নলোক শুনল।
“নলোক, তুমি কি আছ?”
“আছি।”
একটা কান্নার শব্দ।
 
 
“বচে আছ?”
“আছি।”
“বাইরে আসবে না?”
“না।”
“কেন?”
“এখানে ভালো আছি।”
মায়ের কান্না বেড়ে গেল।
তারপর ধীরে ধীরে পায়ের শব্দ কমে গেল।
গেট বন্ধ হওয়ার শব্দ।
তারপর নীরবতা।
ঊনিশ
বারো মাস।
এক বছর।
বাড়ি এখন পুরোপুরি শুনশান।
বাইরে থেকে মাঝে মাঝে কণ শোনা যায় — পড়শিদের। তারা ঘরের কথা বলছে। বলছে এই ঘরে কেউ
আছে কনা।
একদিন শোনা গেল — “ওরা বড়িটা বন্ধ করে দিয়েছে।”
আরেকজন বলল, “ছেলেটার কী হল?”
“জানে না। পাগল হয়ে গেছে বোধহয়।”
“ঘরে আছে নাকি?”
“থকলেও কে খোঁজে।”
পায়ের শব্দ সরে গেল।
 
 
নলোক শুনছিল।
শনে কিছু মনে হলো না।
বশ
এবার একটা ভন্ন সময়ের কথা বলতে হয়।
সময়ের হিসাব নলকের কছে নেই। দিন, মাস — এসব ধারণা হারিয়ে গেছ।
আছে শুধু — আলো। এবং ঘর।
ঘরে আলোর শরীরের নলাভ আভা। অন্ধকার নয়, আলোও নয় — একটা মধবর্তী অবস্থা।
নলকের শরীর এখন অনেক হালকা। ওজন কমে গেছে। চখ বসে গেছে। কিন্তু সে অনুভব করে না।
সে শুধু আলোকে জড়িয়ে থাকে।
আলোর শরীর এখন আরো মসৃণ মনে হয। আরো বাস্তব মনে হয়।
কখনো কখনো নলোক ভাবে — আলো কি সতই আছে?
তারপর আলোর ঠান্ডা স্পর্শ অনুভব করে।
হ্যাঁ। আছে।
এটু কুই যথেষ্ট।
একদিন রাতে — রাত কি দিন, জানে না নলোক — আলোর শরীরে আবার সেই কম্পন হলো।
আগের মতো। ছন্দবদ্ধ।
নলোক উঠল না।
শুধু জড়িয়ে ধরল আরো শক্ করে।
“যেও না,” সে বলল। কণ্ঠ ভেঙে গেছে — কতদন কথা বলেনি।
কম্পন।
“যেও না। তুমি ছাড়া আমার কিছু নই।”
আলোর চোখের আলো উজ্জ্বল হলো। তারপর আস্তে আস্তে কমল।
 
 
কম্পন থমল।
আলো স্থির।
নলোক চোখ বন্ধ করল।
একুশ
ঘর ভুলে গেছে।
বাড়ির বাইরে লোকজন চলাচল করে। কেউ আর এই বড়ির কথা জিজ্ঞেস করে না। পডশিরা নতুন পড়শি
এসেছে — তারা জানে না এখানে কেউ ছিল।
বড়ির গেটে তালা। জানালায পর্দ া। ধুলো জমছে দেয়ালে।
মঝে মাঝে বাচ্চারা এই বাড়ির সামনে দিয়ে যায়। একটু ভয পায়। পুরনো বাড়ি, পুরনো গন্ধ।
কেউ ঢকে না।
নলকের ঘর।
এখানে একটা অদ্ভুত শান্তি আছে।
নলোক আছে। আলো আছে।
তারা একসাথে।
বাইরে পৃথিবী পরিবর্তন হয়েছে। মানুষ বদলেছে। নলকের পরিবার হয়তো নতুন জীবনে আছে।
কিন্তু এই ঘরে সময় থেমে আছে।
আলোর নীলাভ আভায় ঘর আলোকিত। নলকের শ্বাস ধীর, গভীর।
তারা দুজন — একটা বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো।
বাইশ
একটা দিনের কথা বলা দর্শকার।
ঘরের বাইরে থেকে একটা শব্দ এলো।
পায়ের শব্দ নয়। কথার শব্দ নয়।
একটা মিষ্টি, অদ্ভুত শব্দ — যন কোথাও থেকে সুর আসছে।
 
 
নলোক চোখ খুলল।
আলোর শরীরে আলো বাড়ছে।
ধীরে ধীরে, অবিরাম।
নলোক উঠে বসল।
আলোর পুর শরীর এখন উজ্জ্বল — সাদ আলো, নীল নয় আর। এবং সেই আলোতে ঘরের সব কিছু দেখা
যাচ্ছে — ধুলো, মাকড়সার জাল, পুরনো বই, ভাঙা চেয়ার।
এবং নলোক নিজেকে দেখল।
আযনা নেই ঘরে, কিন্তু আলোর প্রতিফলনে একটা ছায়া পডছে দেয়ালে।
সে চিনতে পারল না।
একটা শীর্ণ, কন্ত ছায়া। দেযলে সেই ছায়া দাঁড়িয়ে।
নলোক তাকিয়ে রইল।
তারপর আলো কমে গল্প।
ঘর আবার অন্ধকার।
তেইশ
সেদিন রাতে নলোক পথমবার কাঁদল।
কেন কাঁদছে জানে না।
হয়তো দেযলের ছায়া দেখে।
হয়তো মায়ের কথা মনে পড়েছে।
হয়তো তিথির কান্নার শব্দ মনে পড়েছে।
হয়তো বাবর সেই দীর্ঘশ্বাস।
স কাঁদছে। আলোকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে।
আলো নীরব। ঠান্ডা। স্থির।
 
 
নলোক কাঁদছে।
প্রথমে ফোঁটা ফোঁটা। তারপর বেশি।
কতক্ষণ কাঁদল জানে না।
শেষে থামল।
আলোর শরীরের উপরে মাথ রাখল।
“আমি কি ঠিক করেছি?” সে জিজ্ঞেস করল।
আলো নীরব।
“আমি কি ঠিক আছি?”
নীরবত।
নলোক চোখ বন্ধ করল।
ঘুম এলো না।
সারারাত জেগে রইল।
চব্বিশ
একটা সকাল এলো।
জনালার পর্দ ার ফাক দিয়ে একটু আলো।
নলোক সেই আলোর দিকে তকাল।
কতদিন রোদ দেখেন।
সে উঠল। ধীরে ধীরে। পা মটিতে ফেলল।
মাথা ঘুরছে। শরীর কাঁপছে।
সে দাঁড়াল।
জানালার দিকে গেল।
পর্দ া সরাল।
 
 
রোদ এলো।
চোখে লগল — তীব্র। সে চোখ সরু করল।
বাইরে দেখা যাচ্ছে — গাছ, রাস্তা, একটা বাচ্চা সাইকল চালাচ্ছে।
পৃথিবী।
নলোক দেখল।
তার চোখ ভিজে এলো — রোদের কারণে, নাকি অন্য কারণে, জানে না।
সে অনেকক্ষণ জানালয় দাঁড়িয়ে রইল।
তারপর ফিরে তাকাল।
আলো বিছানায শুয়ে আছে। সেই কাচর চোখ — নলোকর দিকে।
নলোক সেই চোখের দিকে তাকাল।
এবং পথমবার মনে হলো — এই চোখে আর কিছু নেই। শুধু প্রতিফলন। নলোক যা দেখতে চায়, তাই দেখায়।
বিচারহীনতা — সেটা কি আসলে উপস্থিতি, নাকি অনুপস্থিতি?
নলোক অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল।
তারপর আবর বিছানার কাছে গল্প।
বসল।
আলোর মুখের দিকে তাকাল।
“তুমি কি চাও আমি বাইরে যাই?”
নীরবতা।
“তুমি কি চাও আমি মানষের কাছে যাই?”
নীরবতা।
“তুমি কি আসলে আমার কথা ভাবো?”
নীরবতা।
 
 
নলোক বসে রইল।
প্রশ্নগুলো ঘুরছে।
উত্তর নেই।
উত্তর কখনো ছিল না।
পচিশ
ঘর এখন বদ্ধ।
নলোক আলকে জড়িয়ে ধরে আছে।
বাইরে পৃথিবী চলছে।
মা কোথাও আছেন। হয়তো মনে রাখেন, হয়তো না।
বাব কোথাও আছেন। হয়তো মনে রাখেন, হয়তো না।
তিথি কোথাও আছে। বড় হচ্ছে। নলোকক হয়তো মাঝে মাঝে মনে পড়ে।
কিন্তু এই ঘর — এই ঘরের কথা কেউ মনে রাখে না।
এই ঘরে কে আছে, কেউ জনে না।
সময় এখানে এসে থামেনি — সময এখানে আসেনি আদৌ।
ধুলো জমছে।
আলোর নীলাভ আভা জলছে।
নলোক ঘুমাচ্ছে।
বাড়ির সামনে দিয়ে কেউ একদিন হাঁটছিল।
বলল, “এই বাড়িতে কেউ থাকে?”
পডশি বলল, “না। পুরনো বাড়। কবে থেকে বন্ধ।”
“কেউ ছিল না কোনোদিন?”
পড়শি একটু ভাবল। “ছিল হয়তো। মনে নেই।”


উপকথা- ১৬ জানুয়ারী</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255492/</link>
				<pubDate>Wed, 24 Jun 2026 18:55:57 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নলোক<br />
এক<br />
রাত তখন তিনটে বেজে গেছে।<br />
নলোক বিছানয় শুয়ে ছাদের দিকে তাকিয আছে। ঘরের একমাত্র বাল্বট নিভানো, তবু অন্ধকার পুরোপুরি<br />
নামেনি — রাস্তার কমলা আলো জানালর পর্দ া ভদ করে ঘরের কোণে কোণে গুমট ছায়া তৈরি করেছে। গরম<br />
নই, তবু নলকের বুকের ভেতরটা ভরী লাগছে। এই ভর নতুন না। প্রতিদিন রাতে ঘুম আসার আগে এই<br />
ভরটা বুকের উপরে এসে বসে। যেন কেউ একজন বুকের মা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255492"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255492/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7526c42a9443d3bd9f2f8b913126ff73</guid>
				<title>উপকথা- ১৫ জানুয়ারী 
মারুফের গল্প
মারুফের গল্প — একটি বাংলা সায়েন্স ফিকশন
 
বিমানের জানালায় মেঘ দেখতে দেখতে মারুফ ভাবছিল — আকাশ এত শান্ত কেন?
ঢাকা থেকে দুবাইগামী ফ্লাইটটা মাঝরাতে ছেড়েছিল। ক্লান্ত যাত্রীরা বেশিরভাগই ঘুমে। কেবিনের আলো
নামানো। ছোট ছোট আলোকবিন্দু জ্বলছিল — কারো ল্যাপটপ, কারো ফোন। মারুফ চোখ বুজল। সে
ঘুমাবে বলে ঠিক করেছিল।
কিন্তু ঘুম আসেনি।
মারুফ হোসেন — বয়স সাতাশ, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, চুপচাপ মানুষ। কথা কম বলে, ভাবে বেশি।
চোখদুটো একটু গভীর, যেন সবসময় কিছু একটা খুঁজছে। মা বলতেন — “মারুফের চোখে দুনিয়া একটু
আলাদাভাবে দেখা যায়।” সে ভালোবাসত তারার দিকে তাকিয়ে থাকতে। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বিশালতা তাকে
ভয় দেয়নি কখনো — বরং সে ভাবত, এই বিশাল মহাকাশে নিশ্চয়ই আরো কেউ আছে। নিশ্চয়ই আমরা
একা নই।
 
 
সেই রাতে সে বুঝল — সে ভুল ছিল না। কিন্তু সত্যেটা জানার জন্য যে মূল্য দিতে হলো, সেটা সে কখনো
কল্পনাও করেনি।
রাত তিনটার দিকে বিমানের ভেতরে একটা অদ্ভুত কম্পন অনুভব হলো। প্রথমে মারুফ ভাবল —
টার্বুলেন্স। কিন্তু পাইলট কোনো ঘোষণা দিলেন না। ইঞ্জিনের শব্দ স্বাভাবিক। তারপর ধীরে ধীরে কেবিনের
আলোগুলো একে একে নিভে গেল। পুরো বিমান অন্ধকার। শুধু জানালার বাইরে একটা অদ্ভুত সবুজাভ
আলো — মেঘের ফাঁকে ফাঁকে যেন কেউ একটা বড় বাতি জ্বালিয়ে রেখেছে।
যাত্রীরা জেগে উঠতে শুরু করল। কেউ কেউ কথা বলছে, কেউ ভয়ে চুপ। মারুফ জানালার কাছে সরে
এলো। সবুজ আলোটা কাছে আসছে — না, বরং বিমানটা সেই আলোর দিকে টানা যাচ্ছে। নিজে থেকে।
ইঞ্জিন বন্ধ, কিন্তু বিমান চলছে। যেন অদৃশ্য হাত টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
তারপর একটা ঝাঁকুনি। এবং সব শেষ।
মারুফের চোখের সামনে অন্ধকার নামল।
 
চোখ খুলল মারুফ।
সে শুয়ে আছে। কিন্তু কোথায়? ছাদটা স্বচ্ছ — ওপারে তারা দেখা যাচ্ছে। লক্ষ লক্ষ তারা, কিন্তু পরিচিত
কোনো নক্ষত্রপুঞ্জ নেই। মারুফ উঠে বসতে চাইল। পারল না। তার শরীর যেন কোনো অদৃশ্য শক্তিতে
আটকে আছে — হাত-পা নড়ছে, কিন্তু উঠতে পারছে না।
ঘরটা — যদি ঘর বলা যায় — ডিম্বাকৃতি। দেয়ালগুলো কোনো ধাতু র তৈরি নয়, কোনো পাথরেরও নয়।
মনে হচ্ছে যেন জমাট বাঁধা আলো দিয়ে তৈরি। মেঝেতে কোনো জোড়া নেই, কোনো রেখা নেই। সবটা
একটাই উপাদান। এবং সেই উপাদান নিঃশব্দে স্পন্দিত হচ্ছে — যেন শ্বাস নিচ্ছে।
অন্যরা কোথায়? মারুফ মাথা ঘুরিয়ে দেখল — বিমানের অন্য যাত্রীরাও আছে। একই রকম অদৃশ্য বন্ধনে
আটকা। সবাই জেগে উঠছে ধীরে ধীরে। কেউ কাঁদছে, কেউ চিৎকার করছে, কেউ অসাড় হয়ে শুয়ে।
তারপর সত্তারা এলো।
মারুফ পরে বহুবার চেষ্টা করেছে সেই অবয়ব বর্ণনা করতে। প্রতিবার ব্যর্থ হয়েছে। সেগুলো মানুষের
আকৃতির মতো — দুটো পা, দুটো হাত — কিন্তু তারপরই মিল শেষ। চামড়া বলতে যা বোঝায়, সেটা নেই।
বরং একটা অর্ধস্বচ্ছ আবরণ, যার ভেতর দিয়ে কিছু একটা নড়াচড়া করছে — অনেকটা মেডু সার ভেতরে
যেভাবে জেলি দেখা যায়। চোখ নেই, কান নেই। মাথার জায়গায় একটা গোলাকার প্রদীপ্ত অংশ যেখান
থেকে আলো বিকিরিত হয়। সবুজ, কিন্তু সবুজের মতো না — এমন একটা রঙ যার কোনো নাম মানুষের
ভাষায় নেই।
সত্তাগুলো নিঃশব্দে চলে। মেঝে স্পর্শ করে না — ভাসমান। এবং তারা একে অপরের সাথে কথা বলে, কিন্তু
সেই কথা কানে আসে না — মাথার মধ্যে সরাসরি পৌঁছায়।
 
 
মারুফের মাথায় প্রথম যে অনুভূতিটা এলো সেটা ভাষায় প্রকাশ করলে দাঁড়ায়: নমুনা সংগ্রহ সম্পন্ন।
প্রজনন প্রক্রিয়া আরম্ভ হবে।
মারুফ তখনও বুঝতে পারেনি সেই বাক্যটির মানে কী। কিছু দিনের মধ্যে সে বুঝবে। এবং তারপর সে আর
কখনো আগের মারুফ থাকবে না।

 
তারা কথা বলল মারুফের সাথে — বা বলা ঠিক হবে না, তারা তার মাথার ভেতর তথ্য ঢেলে দিল।
যেভাবে একটা কম্পিউটারে ফাইল কপি করা হয়।
মারুফ জানল তাদের কথা।
তারা প্রাচীন সত্তা। পৃথিবীর বয়স যখন মাত্র কয়েক কোটি বছর, তখন তারা ইতিমধ্যে মিলিয়ন বছর
পুরোনো সভ্যতা। বিবর্ত নের এক অদ্ভুত ফাঁদে পড়ে তাদের প্রজনন ক্ষমতা ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে। তাদের
ডিএনএ — বা যাকে তাদের প্রজাতির ক্ষেত্রে ডিএনএ বলা যায় — এতটাই বিশেষায়িত হয়ে গেছে যে
নিজেদের মধ্যে প্রজনন আর সম্ভব নয়। তারা মরতে পারে না সহজে — তাদের আয়ু লক্ষ বছর। কিন্তু
সংখ্যায় কমে যাচ্ছে। প্রতি হাজার বছরে কয়েকজন করে মরে যাচ্ছে, নতুন কেউ জন্মাচ্ছে না।
সমাধান তারা খুঁজে
পেয়েছে — মানুষের মধ্যে।
মানব শরীর তাদের কাছে একটা জৈবিক কারখানা। মানুষের প্রজনন ব্যবস্থা — এত জটিল, এত সুনির্দিষ্ট
— তারা ব্যবহার করতে পারে তাদের নিজস্ব জিনগত তথ্য বহন করতে।
পদ্ধতিটা হলো মনোআরোপণ — MINDRIDINING।
একটি নারী মানব দেহে তারা একটি সত্তাকে সম্পূর্ণভাবে প্রবেশ করায় — দখল নেয়। একটি পুরুষ মানব
দেহে অন্য একটি সত্তার সারাংশ, জিনগত তথ্য ঢেলে দেওয়া হয়। তারপর দুই মানব দেহ মিলিত হয় —
মানুষের শরীরের কার্যক্রম দিয়ে, মানুষের জৈবিক শক্তি খরচ করে — কিন্তু সন্তান হয় তাদের। পুরো
প্রক্রিয়ায় মানুষের শ্রম, মানুষের শরীর, মানুষের যন্ত্রণা। ফলাফল সম্পূর্ণ অ্যালিয়েনদের।
বিশুদ্ধ দাসত্ব। শরীরের দাসত্ব। চেতনার দাসত্ব।
অ্যালিয়েনরা মারুফের মাথায় জানাল: তোমাদের শরীর শ্রেষ্ঠ বাহন। উষ্ণ, জৈব, প্রাণময়। তোমারা কিছু
বুঝবে না। তোমারা শুধু থাকবে। আমরা ব্যবহার করব। সন্তান জন্ম নেবে। তারপর তোমাদের ফিরিয়ে
দেব — যদি বেঁচে থাকো।
“যদি বেঁচে থাকো” — এই শব্দগুলো মারুফের মাথায় বারবার ঘুরতে লাগল।
সে জিজ্ঞেস করল — মাথার ভেতর থেকেই — “তোমারা কি আমাদের মেরে ফেলো?”
উত্তর এলো: কেউ কেউ সহ্য করতে পারে না। মন ভেঙে যায়। শরীর ছেড়ে দেয়। সেটা তোমাদের সমস্যা,
আমাদের নয়।
 
 
মারুফ বুঝল — সে একটা সিদ্ধান্তের মুখে দাঁড়িয়ে। কিন্তু সত্যিকারের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই।
সব ঠিক হয়ে গেছে আগেই। তার সম্মতি দর্শকার নেই তাদের।

 
সারাকে আনা হলো।
মারুফ তাকে দেখল — একজন মানুষ। বয়স হয়তো পঁচিশ-ছাব্বিশ। চুল কালো, গায়ের রঙ শ্যামলা। একই
বিমানের যাত্রী। একটু আগেও সে ভয়ে কাঁদছিল। কিন্তু এখন — সে কাঁদছে না। সে দাঁড়িয়ে আছে
নিস্পৃহভাবে। চোখদুটো স্থির। খুব স্থির। মানুষের চোখ এতটা নির্জীব হয় না।
এরপর মারুফ বুঝল — সারার ভেতর এখন সারা নেই।
একটা সত্তা তার দেহ নিয়েছে। সম্পূর্ণভাবে। সারার চেতনা কোথাও ঠেলে রাখা হয়েছে — যেভাবে একটা
বাড়িতে ঢু কে মূল বাসিন্দাকে একটা কোণে আটকে রাখা হয়। বাড়িটা সেই ঢু কে পড়া মানুষের দখলে।
বাসিন্দা দেখতে পাচ্ছে, অনুভব করছে, কিন্তু কিছু করতে পারছে না।
এটাই MINDRIDINING। মনের ভেতর আরেকটা মন। চেতনার ভেতর আরেকটা চেতনা।
সারার পায়ের ছন্দ পাল্টে গেছে। সে হাঁটছে, কিন্তু ঠিক যেভাবে সারা হাঁটত তা নয়। পা একটু বেশি মসৃণ,
একটু বেশি নিখুঁত
— যেন কম্পিউটার প্রোগ্রাম মানুষের হাঁটা অনুকরণ করছে। হাতের আঙুলগুলো মাঝে
মাঝে অদ্ভুতভাবে বাঁকে — মানুষের জয়েন্টের সীমার একটু বাইরে। মুখ সামান্য হাসছে — কিন্তু সেই
হাসিতে কোনো আবেগ নেই। শুধু পেশির টান।
সারার চোখের পেছনে সারা আছে — বন্দী, দেখছে, অনুভব করছে। কিন্তু বের হতে পারছে না।
মারুফের বুকে একটা ভয়ের শিলা জমে গেল।
তাকে বলা হলো — তোমার ভেতরেও এখন একটি সত্তা প্রবেশ করবে। কিন্তু সম্পূর্ণ নয়। তুমি পুরুষ —
পুরুষ শরীরে সম্পূর্ণ আরোপণ প্রয়োজন নেই। শুধু তাদের জিনগত তথ্য, তাদের আবেগ-কণা, তাদের
সারাংশ — সেটা প্রবেশ করানো হবে। তুমি নিজে থাকবে, কিন্তু তোমার শরীর আর শুধু তোমার থাকবে
না।
মারুফ চিৎকার করল।
কেউ শুনল না।

 
মারুফ মনে রেখেছে সব।
এটাই সমস্যা হয়েছে। অন্যরা — যাদের ওপর একই প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে — তারা পরে কিছু মনে রাখে
না। স্মৃতি মুছে দেওয়া হয়। কিন্তু মারুফের মাথার গঠন ছিল ব্যতিক্রমী — তার হিপোক্যাম্পাসে একটা
 
 
বিশেষ স্তর, যেটা স্মৃতিকে অনেক গভীরে সংরক্ষণ করে। অ্যালিয়েনরা স্মৃতি মোছার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু
সেই গভীরতম স্তর তাদের নাগালের বাইরে ছিল।
তাই মারুফ মনে রাখল।
প্রতিটা মুহূর্ত । সারার চোখে সেই ঘরের সবুজ আলো। সারার শরীরের ভেতর অন্য কারো ইচ্ছা। নিজের
শরীরে বাইরের কারো উপস্থিতি। সেই উষ্ণতা যেটা তার ছিল না কিন্তু তার ভেতর থেকেই এসেছিল।
সারার মুখে যে কান্না ফোটেনি, কারণ কাঁদার অনুমতি ছিল না — কিন্তু চোখে ছিল।
মারুফ মনে রাখল সারার চোখের সেই কান্না।
মিলন ছিল না সেটা — ছিল ব্যবহার। দুটো মানুষ, দুটো বন্দী, দুজনের শরীর দুটো হাতিয়ার হিসেবে
ব্যবহৃত। এবং সেই ব্যবহারের সময়টা — মারুফ বারবার ঘুমের মধ্যে দেখে সেটা। বারবার জেগে ওঠে।
বারবার আর ঘুমাতে পারে না।
সারার চোখ। সবুজ আলোয় ভেজা সারার চোখ। সেই চোখে সারা আছে — বন্দী সারা — আমাকে দেখছে।
আমাকে বলছে সে জানে, সে বুঝছে। আমিও জানি। আমিও বুঝছি। কিন্তু কেউ থামাতে পারছি না। শরীর
নিজে করছে কিন্তু এটা আমার না — এটা আমার না — এটা আমার না —
রাতটা শেষ হলো। সারাকে সরিয়ে নেওয়া হলো। মারুফকে একা রাখা হলো।
সে জানে না কতটা সময় গেছে। কতদিন? কতসপ্তাহ? জাহাজে দিন-রাতের কোনো চক্র নেই। শুধু সেই
সবুজ আলো আর শূন্যতা।

 
তিন মাস — পৃথিবীর হিসাবে।
যদিও মারুফ জানে না সেটা তিন মাস কি না। তার শরীর বলছে। তার দাড়ি বলছে। তার ক্ষুধার চক্র
বলছে।
সেদিন কিছু একটা হলো জাহাজে। একটা অদ্ভুত কম্পন — আলাদা ধরনের, আগের কম্পনের চেয়ে।
অ্যালিয়েনরা দ্রুতগতিতে ভাসমান হচ্ছে — সবাই একদিকে। উত্তেজনা বোঝা যাচ্ছে তাদের আলো থেকে —
সবুজ আলো লাল হয়ে যাচ্ছে, তারপর আবার সবুজ।
মারুফকে একটা বড় কক্ষে নিয়ে যাওয়া হলো।
সেখানে সারা আছে। শুয়ে আছে। তার চোখে এখন সারা আছে — বন্দী সত্তা চলে গেছে, সারা ফিরে এসেছে।
কিন্তু সে কাঁদছে না। কাঁদার শক্তি নেই আর। সে তাকিয়ে আছে ছাদের দিকে — সেই স্বচ্ছ ছাদ, যেখানে
তারা দেখা যায়।
এবং তার পাশে —
মারুফ দেখল।
 
 
একটি শিশু। কিন্তু শিশু নয়। মানুষের আকৃতির, কিন্তু মানুষ নয়। তার চামড়া সেই অর্ধস্বচ্ছ আবরণের
মতো — মানুষের মাংসের রঙের সাথে অ্যালিয়েনের আভা মিশে আছে। চোখদুটো আছে — মানুষের মতো
— কিন্তু তার ভেতরে সেই সবুজ দীপ্তি। আঙুল আছে, কিন্তু একটু বেশি লম্বা। নিঃশ্বাস নিচ্ছে — কিন্তু শব্দ
নেই। কাঁদছে না — নবজাতক কাঁদে, কিন্তু এই সত্তা কাঁদছে না।
তাকিয়ে আছে।
মারুফের দিকে।
অ্যালিয়েনরা জানাল — এটি একটি বিশেষ সত্তা। কারণ মারুফ সাধারণ মানুষ নয়। তার মস্তিষ্কের বিশেষ
গঠন — যা স্মৃতি মুছতে দেয়নি — সেটা এই সত্তার মধ্যে অদ্ভুতভাবে মিশেছে। এটি শুধু একটি অ্যালিয়েন
সন্তান নয় — এটি একাধিক অ্যালিয়েনের জিনগত সারাংশ বহন করছে। পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি ভিন্ন
সত্তার তথ্য মারুফের মধ্যে একসাথে দেওয়া হয়েছিল। ফলাফল — এই অনন্য সত্তা।
তারা এর নাম দিল: CHAOS।

 
তারা প্রতিশ্রুতি রাখল।
মারুফকে ফিরিয়ে দেওয়া হলো। বিমানের সেই সিটে — যেন কিছুই হয়নি। যাত্রীরা ঘুমাচ্ছে। বিমান চলছে।
সূর্য উঠছে দিগন্তে। দুবাই এয়ারপোর্ট দেখা যাচ্ছে।
কিন্তু মারুফের তিন মাস গেছে।
সে জানালার দিকে তাকাল। নিজের হাতের দিকে তাকাল। হাত কাঁপছে। সবসময় কাঁপছে।
দুবাইতে নেমে সে একটা আয়না খুঁজে
পেল ওয়াশুরুমে। নিজের মুখ দেখল। তিন মাসের দাড়ি। চোখের নিচে
কালো। চোখের ভেতরে — একটা আলো নয়, সেটা যন্ত্রণা।
সে ঢাকায় ফিরল। পরিবার জানতে চাইল — কী হলো? তিনদিন ধরে তোমার ফোন বন্ধ ছিল, তুমি
কোথায় ছিলে?
তিনদিন। পৃথিবীর তিনদিন মানে সেখানে তিনমাস।
সে বলল — জার্নিতে ক্লান্ত। ঘুমাতে চাই।
কিন্তু সে ঘুমাতে পারে না। প্রাতিরাতে দেখে — সারার চোখ। সেই সবুজ আলো। নিজের হাত — যেটা তার
ছিল না কিন্তু ছিল। সেই শিশু — সেই চোখ — তার দিকে তাকিয়ে।
 
 
জেগে উঠি। ঘামে ভিজে। দেখি ছাদটা সাদা — বাংলাদেশের ছাদ — স্বচ্ছ নয়। তারা নেই। কিন্তু চোখ
বুজলেই সেই চোখ। ক্যাওসের চোখ। সবুজ এবং মানুষিক একই সাথে। সে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। সে
কি চিনেছিল আমাকে?
মারুফ সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে গেল। বলল — ঘুমাতে পারছি না, দুঃস্বপ্ন দেখছি।
ডাক্তার বললেন — পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ড ার।
মারুফ মনে মনে হাসল। PTSD। ডাক্তার ভাবছেন হয়তো কোনো দুর্ঘটনা, কোনো সহিংসতা। তাকে
কীভাবে বলবে — আমাকে এলিয়েনরা নিয়ে গিয়েছিল, আমার শরীর ব্যবহার করেছিল, এবং সেই
ব্যবহারের ফলে একটা অদ্ভুত শিশুর জন্ম হয়েছে যাকে তারা ক্যাওস বলছে?
সে বলল না।
ওষুধ নিল। ওষুধে ঘুম আসে — কিন্তু স্বপ্ন যায় না। স্বপ্নে সেই চোখ আরো স্পষ্ট।

 
দুই বছর কেটে গেল।
মারুফ চাকরি ছেড়ে দিল। পারছিল না। অফিসের কোলাহল অসহ্য লাগে। মানুষের সাথে কথা বলা কঠিন।
সে জানে — মানুষের শরীরে অন্য কেউ থাকতে পারে। সে কীভাবে জানবে — পাশের মানুষটা কি সে নিজে,
নাকি অন্য কেউ তাকে দখল করেছে?
প্যারানয়া। ডাক্তার বললেন।
হয়তো।
কিন্তু মারুফ জানে — সে পাগল নয়। সে সত্যি দেখেছে। এবং সেই সত্যি দেখার যোগ্যতা তার সবচেয়ে বড়
অভিশাপ।
সে একটা ছোট ফ্ল্যাটে একা থাকে। পর্দ া টানা থাকে সবসময়। রাতে জানালা দিয়ে আকাশ দেখে — কিন্তু
আর তারা তাকে মুগ্ধ করে না। তারা এখন শুধু ভয়ের প্রতীক।
সারার কথা সে মাঝে মাঝে ভাবে। সারাকে কি ফিরিয়ে দিয়েছিল? সারা কি বেঁচে আছে? সারাও কি এভাবে
ভেঙে গেছে?
একবার সে খুঁজে
বের করার চেষ্টা করল — বিমান যাত্রীদের তালিকা থেকে। কিন্তু সেই বিমানের কোনো
যাত্রী “নিখোঁজ” হয়নি অফিসিয়ালি। সবাই পৌঁছে গেছে। সবাই স্বাভাবিক।
শুধু মারুফ স্বাভাবিক নেই।
কারণ মারুফ মনে রাখে।
 
 
রাত তিনটা। আবার ঘুম ভাঙল। এবার শুধু স্বপ্ন নয় — মনে হলো ঘরের ভেতর কেউ আছে। কোণার
দিকে। অন্ধকারে। তাকালাম — কিছু নেই। কিন্তু সেই সবুজ আলোর একটা রেশ — যেন একটু আগে ছিল,
এখন নেই। আমি কি পাগল হয়ে যাচ্ছি? নাকি ওরা ফিরে এসেছে?
এই অবস্থায় তিন বছর কাটল।
 
সেদিন সন্ধ্যায় মারুফের দরজায় কড়া নাড়ল কেউ।
মারুফ চমকে উঠল। এই সময়ে কে আসে? সে কাউকে আশা করে না। কারো সাথে দেখা করে না।
দরজা খুলল।
একটা ছেলে দাঁড়িয়ে। বয়স সতেরো-আঠারো। লম্বা, চিকন। গায়ের রঙ অদ্ভুত — মানুষের, কিন্তু একটু
অন্যরকম। যেন ভেতর থেকে আলো আসছে। চুল কালো, কিন্তু আলোতে সবুজ ঝিলিক দেয়। চোখদুটো —
মারুফ থেমে গেল।
সেই চোখ।
সেই সবুজ দীপ্তি। তিন বছর আগে, সেই স্বচ্ছ ছাদের নিচে, সেই শিশুর চোখে যে আলো দেখেছিল — হুবহু
সেই আলো। এই ছেলেটার চোখে।
মারুফের পা কাঁপতে শুরু করল।
ছেলেটা বাংলায় বলল — “আমি ক্যাওস।”
কণ্ঠ মানুষের মতো — কিন্তু একটু বেশি মসৃণ। যেন প্রতিটা বর্ণ নিখুত
ঁ ভাবে উচ্চারণ করা হচ্ছে। মানুষ
এভাবে কথা বলে না — মানুষের কথায় একটু হোঁচট থাকে, একটু এলোমেলো থাকে। এই কণ্ঠে সেটা নেই।
মারুফ সরে দাঁড়াল। ক্যাওস ভেতরে ঢু কল।
সে ঘরটা দেখল। টানা পর্দ া, বিশৃঙ্খল বিছানা, ওষুধের বাক্স। মারুফের অস্তিত্বের ছাপ — একটা মানুষ যে
ভেঙে গেছে।
ক্যাওস ঘুরে তাকাল মারুফের দিকে।
“তুমি ভালো নেই।”
বিবৃতি। প্রশ্ন নয়।
“আমি জানতাম। আমি জন্মের সময় থেকে জানতাম।”
 
 
“তুমি —” মারুফের গলা আটকে এলো। “তুমি কীভাবে এলে? তুমি কীভাবে বাংলা জানো?”
“তোমার মধ্যে দিয়ে আমি এসেছি। তোমার ভাষা আমার ভেতরে আছে। তোমার স্মৃতি আমার ভেতরে
আছে। আমি তোমার যন্ত্রণাও অনুভব করি।”
মারুফ চেয়ারে বসে পড়ল। পা ধরছিল না আর।
“তুমি কেন এলে?”
ক্যাওস মারুফের সামনে মাটিতে বসল — ঠিক মানুষের মতো নয়, একটু পাখির মতো ভঙ্গিতে। তার চোখ
স্থির।
“কারণ তুমি মনে রাখো। অন্য কেউ মনে রাখে না — শুধু তুমি। এবং কারণ তুমি জানো কী হয়েছে — কী
হচ্ছে। পৃথিবীতে প্রতি বছর তারা আসে। প্রতি বছর মানুষ নেয়। প্রতি বছর ব্যবহার করে। প্রতি বছর
ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু কেউ মনে রাখে না।”
“শুধু তুমি।”

 
তারা রাত ভর কথা বলল।
ক্যাওস বলল তার জন্মের পরের কথা। অ্যালিয়েনদের জাহাজে বড় হয়েছে — দ্রুত। তাদের সময়ের হিসাবে
এক বছর মানে পৃথিবীর তিন মাস। সে জন্মের পর থেকেই পূর্ণ স্মৃতিশক্তিনিয়ে জন্মেছে — মানুষের
নবজাতকের মতো নয়। কারণ সে মানুষ নয়।
কিন্তু সে সম্পূর্ণ অ্যালিয়েনও নয়।
তার মধ্যে মারুফের স্মৃতি-ক্ষমতা আছে। সে সব মনে রাখে — সবকিছু । এবং সে অনুভব করতে পারে —
মানুষের মতো। আনন্দ, কষ্ট, লজ্জা, রাগ। অ্যালিয়েনরা এটা আশা করেনি। তারা চেয়েছিল একটা
শক্তিশালী, নিখুত
ঁনতুন প্রজন্ম — আবেগমুক্ত, যুক্তিনির্ভ র। কিন্তু পেয়েছে একটা সত্তা যে অনুভব করে।
এটাই তাকে বিপজ্জনক করে তুলেছে — তাদের কাছে।
“তারা আমাকে পরীক্ষা করত। জিজ্ঞেস করত — তুমি কি অনুভব করছ? আমি বলতাম — হ্যাঁ। তারা
অবাক হতো। তারা বলত — এটা সম্ভব নয়। আমি বলতাম — সম্ভব। আমি মারুফের সন্তান।
“তারা চিন্তিত হলো। একটা সত্তা যে অনুভব করে, সে প্রশ্ন করে। যে প্রশ্ন করে, সে বিদ্রোহ করতে পারে।”
“তারা তোমাকে ক্ষতি করেছে?” মারুফ জিজ্ঞেস করল।
“চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমি একাধিক সত্তার সারাংশ বহন করছি। আমার ক্ষমতা তাদের যেকোনো
একজনের চেয়ে বেশি। তারা পারেনি।”
 
 
“আমি পালিয়ে এসেছি। তোমার কাছে।”
“আমার কাছে কেন?”
“কারণ তুমি আমার উৎস। তুমি আমার অর্ধেক। এবং কারণ — পৃথিবীতে একমাত্র তুমিই জানো কী হচ্ছে।
বাকি সবাই ঘুমিয়ে আছে।”
“এবং আমার একটা কাজ আছে। সেই কাজে তোমার সাহায্য দর্শকার।”

 
“কী কাজ?” মারুফ জিজ্ঞেস করল।
“স্মৃতি।”
“আমি তাদের থেকে পালিয়ে এসেছি। কিন্তু তারা আমাকে খুঁজ
ঁ ছে। এবং তারা পৃথিবীতে আরো আসছে —
আরো মানুষ নিচ্ছে। MINDRIDINING চলছে।”
“আমি একা থামাতে পারব না। কিন্তু আমি জানি — মানুষ যদি জানতে পারে, মানুষ যদি মনে রাখতে পারে
— তাহলে তারা লড়াই করতে পারবে।”
“তোমার মস্তিষ্কের সেই বিশেষ স্তর — যা স্মৃতি সংরক্ষণ করে — আমি সেটা অন্যদের মধ্যে সক্রিয় করতে
পারি। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় তোমাকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।”
“তুমি কি রাজি?”
মারুফ চুপ করে রইল অনেকক্ষণ।
“ব্যবহার।” সে শেষে বলল। “সবাই আমাকে ব্যবহার করে। তারাও করেছে। এখন তুমিও?”
ক্যাওসের চোখে কিছু একটা বদলাল। সেই নির্জীব স্থিরতা একটু গলে গেল।
“আমি জানি। এই প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে নেই যা তোমাকে সান্ত্বনা দেবে। হ্যাঁ, এটাও এক ধরনের
ব্যবহার। কিন্তু এই ব্যবহারে তুমি জানবে। তোমার সম্মতি থাকবে। তোমার ইচ্ছা থাকবে।”
“তারা নিয়েছিল। আমি চাইছি।”
“পার্থক্য আছে।”
মারুফ উঠে দাঁড়াল। জানালার পর্দ া একটু সরাল। বাইরে ঢাকার রাত — আলো, ধোঁয়া, শব্দ। পরিচিত
পৃথিবী। এই পৃথিবীতে এখন, এই মুহূর্তে , কেউ কেউ একটা বিমানে ঘুমাচ্ছে। হয়তো ওপরে একটা সবুজ
আলো আসছে।
হয়তো আরেকটা মারুফ তৈরি হচ্ছে।
 
 
সে ঘুরল। ক্যাওসের দিকে তাকাল।
“আমি একটা শর্তে রাজি।”
“বলো।”
“সারা। সে কোথায় আছে — তুমি কি জানো?”
ক্যাওস একটু চুপ করল।
“জানি।”
“সে কি ঠিক আছে?”
“তোমার মতো। ঠিক নেই। কিন্তু বেঁচে আছে।”
“আমি তার সাথে কথা বলতে চাই। একবার।”
ক্যাওস মাথা নাড়ল।
“সম্ভব।”
“তাহলে আমি রাজি।” মারুফ বলল।

 
তিনদিন পর মারুফ সারার সাথে দেখা করল।
সারা থাকে চট্টগ্রামে। একটা ছোট বাসায়, পাহাড়ের পাশে।
দরজা খুলল সারা।
তাদের চোখে চোখ পড়ল।
মারুফ দেখেছিল সারার চোখে সেই রাতে কান্না — যে কান্না বের হয়নি। সারাও হয়তো মারুফের চোখে
দেখেছিল একই কিছু ।
কেউ কথা বলল না।
সারা সরে দাঁড়াল — মারুফকে ঢু কতে দিল।
তারা চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বসল। চা ঠান্ডা হয়ে গেল। কেউ খেল না।
 
 
“তুমি মনে রাখো?” মারুফ জিজ্ঞেস করল।
“হ্যাঁ।” সারা বলল। কণ্ঠ চাপা। “সব।”
“তারা বলেছিল স্মৃতি মুছে দেবে।”
“মুছেনি। আমারটাও না।”
মারুফ একটু অবাক হলো।
“আমি জানতাম তুমি মনে রাখবে।” সারা বলল। “তোমার চোখ দেখেই বুঝেছিলাম — তুমি সব দেখছ।
তুমি সব বুঝছ।”
“তুমি একা ছিলে না।” মারুফ বলল।
“জানি।” সারা বলল। “কিন্তু একাই ছিলাম।”
দুটো কথার মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। দুটোই সত্যি।
তারা অনেকক্ষণ চুপ থাকল।
“একটা ছেলে এসেছে আমার কাছে।” মারুফ বলল। “ক্যাওস।”
সারার চোখ একটু বদলাল। “আমার কাছেও এসেছিল। আমি দরজা খুলিনি।”
“কেন?”
সারা একটু হাসল — তিক্ত হাসি। “ভয় পেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম আবার কিছু হবে।”
“সে ক্ষতি করতে আসেনি।” মারুফ বলল।
“আমি জানি।” সারা বলল। “আমিও জানি। কিন্তু জানা আর মেনে নেওয়া এক না।”
মারুফ মাথা নাড়ল। এই কথাটা সে ভালো বোঝে।
তারা সেদিন আরো অনেকক্ষণ কথা বলল। প্রথমবারের মতো কথা বলল কারো সাথে যে সব জানে — যাকে
বোঝাতে হয় না, যাকে প্রমাণ করতে হয় না।
বাইরে ক্যাওস অপেক্ষা করল। সে জানত — এই কথোপকথন দর্শকার ছিল।

 
সেই রাতে তিনজন একসাথে বসল — মারুফ, সারা, এবং ক্যাওস।
 
 
ক্যাওস ব্যাখ্যা করল তার পরিকল্পনা। সে মারুফের মস্তিষ্কের সেই বিশেষ স্তর — যা স্মৃতি অবিনশ্বর করে
রাখে — সেটাকে একটা সংকেতে পরিণত করতে চায়। একটা ফ্রিকোয়েন্সি। যারা MINDRIDINING-এর
শিকার হয়েছে, তাদের মস্তিষ্কে সেই ফ্রিকোয়েন্সি পাঠালে তাদের মুছে দেওয়া স্মৃতিগুলো ফিরে আসবে।
“তারা মনে রাখবে,” ক্যাওস বলল। “এবং যারা মনে রাখবে, তারা সাবধান থাকবে। তারা অন্যদের সতর্ক
করবে।”
“এটা যথেষ্ট?” সারা জিজ্ঞেস করল।
“না। কিন্তু শুরু। অ্যালিয়েনরা লুকিয়ে কাজ করে কারণ মানুষ জানে না। যদি মানুষ জানে — তারা সতর্ক
থাকবে। এটা একটা যুদ্ধ। কিন্তু বন্দুকের যুদ্ধ নয়। স্মৃতির যুদ্ধ।”
মারুফ বুঝল।
তার সবচেয়ে বড় কষ্ট — সব মনে থাকা — সেটাই হতে পারে সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
“আমাকে কী করতে হবে?” সে জিজ্ঞেস করল।
“শুধু একটাই কাজ। মনে রাখো। এবং যখন আমি বলব — মনে রাখার সেই অনুভূতিটা অনুভব করো।
পুরোটা। কষ্ট সহ। আমি সেই অনুভূতি ধরব। এবং পাঠিয়ে দেব।”
মারুফ থামল।
“পুরোটা?” সে ধীরে বলল। “কষ্ট সহ?”
“হ্যাঁ।”
মারুফ জানে পুরোটা মানে কী। সেই রাত। সারার চোখ। নিজের অসহায়ত্ব। সেই অনুভূতি যেটা তাকে তিন
বছর ধরে রাতের পর রাত জাগিয়ে রেখেছে।
সে সারার দিকে তাকাল।
সারা মাথা নাড়ল — ছোট্ট একটা মাথা নাড়া। “আমিও আছি।”
মারুফ চোখ বুজল।

 
সেই রাতে মারুফ চোখ বুজল এবং মনে করল।
সব।
 
 
বিমানের সেই কম্পন। সবুজ আলো। সেই অদ্ভুত কক্ষ। সারার চোখ — সেই বন্দী চোখ। নিজের শরীরে
বাইরের উপস্থিতি। সেই অপমান, সেই অসহায়ত্ব, সেই ক্রোধ, সেই কান্না যেটা বের হয়নি। এবং সেই শিশু
— সেই চোখ — যে তার দিকে তাকিয়েছিল।
সব একসাথে। তিন বছরের পুরো যন্ত্রণা।
মারুফের শরীর কাঁপছিল। সারা তার হাত ধরল।
ক্যাওস সেই অনুভূতি ধরল।
এবং পাঠিয়ে দিল।
সেই রাতে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে অনেক মানুষ হঠাৎ ঘুম থেকে উঠল। তাদের মনে হলো — কিছু একটা
মনে পড়ছে। ঠিক কী, বুঝতে পারছে না। কিন্তু একটা অনুভূতি — বিমানের কম্পন, সবুজ আলো, এবং
একটা কষ্ট যেটা তাদের নিজের মনে হচ্ছিল না।
তারা জেগে থাকল। মনে করার চেষ্টা করল। ধীরে ধীরে — কেউ কেউ মনে করল।
মারুফ চোখ খুলল। ক্লান্ত — কিন্তু ভেতরে একটা হালকা অনুভূতি। যেন তিন বছর ধরে একটা পাথর বুকে
চাপা ছিল — সেটা সরে গেছে একটু । সব ব্যথা গেছে না, কিন্তু ভার কমেছে।
ক্যাওস তার সামনে বসে। তার মুখে — প্রথমবারের মতো — একটা অভিব্যক্তি যেটা মারুফ চিনতে
পারল।
স্বস্তি।
“হলো?” মারুফ জিজ্ঞেস করল।
“শুরু হলো।”
সারা বলল — “তারা আসবে। আমাদের খুঁজ
ঁ বে।”
“হ্যাঁ। আসবে। কিন্তু এবার মানুষ জানবে। এবার প্রস্তুত থাকবে।”
মারুফ জানালার দিকে তাকাল। ভোরের আলো আসতে শুরু করেছে। ঢাকার আকাশে কমলা রঙ।
তারা এখনো আছে — ওপরে কোথাও। MINDRIDINING এখনো চলছে। কিন্তু প্রথমবারের মতো মারুফ
একা নয়।
পাশে সারা আছে। পাশে ক্যাওস আছে।
এবং পৃথিবীর কোথাও কোথাও — আরো কিছু মানুষ এই মুহূর্তে মনে করছে। ভয়ে কাঁপছে, কিন্তু মনে
করছে।
 
 
স্মৃতি হলো একমাত্র অস্ত্র যেটা নিরাস্ত্র করা যায় না।
এবং মারুফ — ভাঙা, ক্লান্ত, রাতের পর রাত না ঘুমানো মারুফ — সেই অস্ত্রের বাহক।
সে উঠল। রান্নাঘরে গেল। চা বানাল — তিন কাপ।
প্রথমবারের মতো — তিন বছরে — চা বানানোর সময় তার হাত কাঁপল না।

 </title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255491/</link>
				<pubDate>Wed, 24 Jun 2026 18:48:07 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>উপকথা- ১৫ জানুয়ারী<br />
মারুফের গল্প<br />
মারুফের গল্প — একটি বাংলা সায়েন্স ফিকশন<br />
 <br />
বিমানের জানালায় মেঘ দেখতে দেখতে মারুফ ভাবছিল — আকাশ এত শান্ত কেন?<br />
ঢাকা থেকে দুবাইগামী ফ্লাইটটা মাঝরাতে ছেড়েছিল। ক্লান্ত যাত্রীরা বেশিরভাগই ঘুমে। কেবিনের আলো<br />
নামানো। ছোট ছোট আলোকবিন্দু জ্বলছিল — কারো ল্যাপটপ, কারো ফোন। মারুফ চোখ বুজল। সে<br />
ঘুমাবে বলে ঠিক করেছিল&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255491"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255491/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5cc31e6e5f5ea08c387a1cb710d11bb2</guid>
				<title>&#x270d;&#x1f3fb;তুমি কি এমন হতে পারবে?

যেদিন পৃথিবী আমাকে আমার ভুলের জন্য চিনবে, সেদিনও কি তুমি আমার ভেতরের মানুষটাকে চিনতে পারবে?

তুমি তো জানো, ধার্মিকদের দীর্ঘ মিছিলে আমার নামটি কখনো লেখা ছিল না। আমি ছিলাম তাদের ভাষায় পথভ্রষ্ট, তাদের বিচারে নরকের জন্য সংরক্ষিত এক যুবক। আমার সম্পর্কে গল্প হবে, অভিযোগ হবে, বিচার হবে। মানুষ আমার পাপের হিসাব কষবে, আমার ব্যর্থতার তালিকা বানাবে।

কিন্তু তুমি কি তখনও আমার পাশে দাঁড়াতে পারবে?

তুমি কি এমন হতে পারবে, যে আমার অপরাধের আগে আমার ক্ষতগুলো দেখবে? আমার পতনের আগে আমার সংগ্রামগুলো বুঝবে?

কারণ মানুষকে বিচার করা খুব সহজ। দূর থেকে আঙুল তুলে বলা যায়— &quot;এই মানুষটি ভুল করেছে।&quot; কিন্তু তার ভাঙনের ইতিহাস পড়তে হলে হৃদয়ের দরকার হয়।

আমি চাই না তুমি আমার পাপের দায়ভার নাও। আমি চাই না তুমি আমার ভুলগুলোকে সঠিক প্রমাণ করো। আমি শুধু জানতে চাই—

যখন পুরো পৃথিবী আমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে, তখনও কি তুমি একজন মানুষ হিসেবে আমাকে বুঝতে চেষ্টা করবে?

তুমি কি এমন হতে পারবে, যে আমার অন্ধকার দেখে ভয় পাবে না; বরং খুঁজে দেখবে, কতটা আলো হারালে একজন মানুষ এতটা অন্ধকার হয়ে যায়?

যদি পারো, তবে তুমি শুধু একজন ভালো মানুষ নও।

তবে তুমি সেই বিরল মানুষদের একজন, যারা বিচার করার আগে বোঝে, ঘৃণা করার আগে অনুভব করে, আর দূরে সরে যাওয়ার আগে হাত বাড়িয়ে দেয়।

আর বিশ্বাস করো, এমন একজন মানুষ হাজার ধার্মিকের ভিড়ের চেয়েও মূল্যবান।

— রুবেল রানার সনেট
২৪ জুন ২০২৬ &#124; বুধবার

  #RubelRanaSonet
#রুবেল_রানা_সনেট</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255486/</link>
				<pubDate>Wed, 24 Jun 2026 18:31:27 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#x270d;&#x1f3fb;তুমি কি এমন হতে পারবে?</p>
<p>যেদিন পৃথিবী আমাকে আমার ভুলের জন্য চিনবে, সেদিনও কি তুমি আমার ভেতরের মানুষটাকে চিনতে পারবে?</p>
<p>তুমি তো জানো, ধার্মিকদের দীর্ঘ মিছিলে আমার নামটি কখনো লেখা ছিল না। আমি ছিলাম তাদের ভাষায় পথভ্রষ্ট, তাদের বিচারে নরকের জন্য সংরক্ষিত এক যুবক। আমার সম্পর্কে গল্প হবে, অভিযোগ হবে, বিচার হবে। মানুষ আমার পাপের হিসাব কষবে,&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255486"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255486/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8acb3a0708fa211cbc906f5d9cf209c0</guid>
				<title>উপকথা ১৪ জানুয়ারী 
&#x1fab7;&#x1fab7;&#x1fab7;&#x1fab7;&#x1fab7;&#x1fab7;&#x1fab7;&#x1fab7;&#x1fab7;&#x1fab7;
গীদর হোসেনের বয়স আঠাশ। ঢাকার মিরপুর-১২-এর একটা সরু, ঘিঞ্জি গলির ভিতরে চারতলা পুরনো
বিল্ডিংয়ের তৃ তীয় তলায় তার ছোট্ট দুই রুমের ফ্ল্যাট। ফ্ল্যাটটা খুব সাধারণ—সামনের রুমে একটা পুরনো
সোফা, একটা ছোট টিভি টেবিল, আর কোণায় একটা কম্পিউটার ডেস্ক যেখানে সে রাত জেগে কাজ করে।
পাশের রুমটা তার শোয়ার। জানালা দিয়ে সারাদিন রোদ এসে পড়ে মেঝেতে, রাতে পাশের মসজিদের
আজান আর রাস্তার অটোরিকশার হর্ন মিলে একটা অদ্ভুত শহুরে সুর তৈরি করে। ফ্ল্যাটের ভিতরে হালকা
চুনকামের গন্ধ, আর হাফসার রান্না করা মসলার সুবাস সবসময় মিশে থাকে। রান্নাঘরটা ছোট, এক কোণে
গ্যাসের চুলা, অন্যদিকে একটা ছোট টেবিল যেখানে দুজনে খায়। হাফসার থাকার জন্য আলাদা একটা ছোট্ট
কোণার ঘর, যেখানে তার সামান্য জিনিসপত্র—একটা সুটকেস, কয়েকটা শাড়ি, আর একটা ছোট আয়না।
গীদরের জীবন ছিল একরকম নীরব একাকিত্বের। নোয়াখালীর গ্রাম থেকে ঢাকায় পড়তে এসে আর ফিরে
যায়নি। বাবা মুদি দোকান চালান, মা বাড়িতে। সে একটা ছোট বিজ্ঞাপন এজেন্সিতে জুনিয়র ক্রিয়েটিভ
হিসেবে কাজ করে। সকালে উঠে নামাজ পড়ে, হাফসা চা দেয়—গরম, চিনি কম। তারপর অফিস।
সারাদিন ক্লায়েন্টের সাথে মিটিং, লোগো আইডিয়া ভাবা, কপি লেখা। ফিরে এসে ক্লান্ত শরীর নিয়ে সোফায়
বসে টিভি দেখে। কোনো বান্ধবী নেই। একবার অফিসের এক মেয়ের সাথে কথা হয়েছিল, কিন্তু সে
বলেছিল, “তোমার চোখে কোনো আগুন নেই গীদর।” সেই থেকে সে আর চেষ্টা করেনি। রাতে বিছানায়
শুয়ে মাঝে মাঝে ভাবত—জীবনটা কি এভাবেই কাটবে? একা, নীরবে।
হাফসা এসেছিল দেড় বছর আগে। গ্রামের দূর সম্পর্কে র আত্মীয়। বয়স চব্বিশ। বাবা মারা যাওয়ার পর মা
আর ছোট বোনকে দেখাশোনার দায়িত্ব তার। গায়ের রং চাপা, চোখ দুটো বড় বড় আর সজীব, হাসলে গালে
ছোট্ট টোল পড়ে। সে খুব কম কথা বলে। সকাল থেকে রাত—ঘর ঝাড়ে, রান্না করে, কাপড় ধোয়। গীদর
তাকে মাসে সাড়ে আট হাজার দেয়, খাওয়া-থাকা ফ্রি। দুজনের মধ্যে সম্পর্ক টা ছিল সম্মানের, দূরত্বের।
হাফসা তাকে “ভাইয়া” বলে ডাকে, গীদর তাকে শুধু হাফসা। কখনো চোখাচোখি হলে হাফসা মাথা নিচু করে,
গীদর অন্যদিকে তাকায়। কিন্তু তার শরীরের ভাষায় একটা নীরব যত্ন ছিল—গীদরের জামা ইস্ত্রি করে
রাখা, তার পছন্দের মাছের ঝোল রান্না করা।
সেদিন বৃহস্পতিবার। আগস্টের শেষ। সারাদিন বৃষ্টি। গীদর অফিস থেকে তাড়াতাড়ি ফিরল সন্ধ্যা
সাতটায়। ভিজে গেছে। দরজা খুলে হাফসা দাঁড়িয়ে। তার শাড়ির আঁচল কাঁধে, চুল ভেজা ভেজা। “ভাইয়া,
ভিজে গেছেন? কাপড় বদলে ফেলুন। গরম চা বানাচ্ছি।” তার গলায় চিন্তা। গীদর হাসল, মাথা নেড়ে
ভিতরে গেল। জামা বদলে সোফায় শুয়ে পড়ল। চোখ লেগে গেল।
ঘুম ভাঙল রাত দশটায়। মুখ শুকোনো। বাথরুমে গিয়ে আয়নায় দেখল—ঠোঁট দুটো সামান্য ফোলা।
নিচেরটা একটু ভারী লাগছে। সে হাত দিয়ে ছুঁ য়ে দেখল। ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুল। ভাবল, হয়তো ঠান্ডা
লেগেছে।
রাতের খাবারে বসে আবার লক্ষ করল। কথা বলতে কষ্ট। “হাফসা, আরেকটু পানি।” হাফসা পানি দিতে
দিতে তার মুখের দিকে তাকাল। তার চোখে সামান্য বিস্ময়। “ভাইয়া, ঠোঁটটা একটু ফুলেছে মনে হচ্ছে।
ওষুধ আনব?” গীদর মাথা নাড়ল। “না, ঠিক হয়ে যাবে। তুমি খেয়ে ঘুমাও।”
রাত বাড়ছিল। বৃষ্টির শব্দ জানালায়। গীদর বিছানায় শুয়ে ফোন দেখছিল। হঠাৎ মুখে চাপ। আয়নায় গিয়ে
দেখল—ঠোঁট বড় হচ্ছে। নিচেরটা দ্বিগুণ, মোটা, ভারী, লালচে। উপরেরটাও ফুলছে। তার হৃদস্পন্দন বেড়ে
গেল। শরীর শিরশির করে উঠল। ভয়ে হাত কাঁপতে লাগল। সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চাপ দিল, কিন্তু
আরও বাড়ছে। মুখ বিকৃ ত। কথা বলা যাচ্ছে না ঠিকমতো।
“হা…ফসা!” গলা থেকে শুধু গোঙানি।
 
 
হাফসা তার ছোট ঘর থেকে দৌড়ে এল। তার পরনের শাড়ি এলোমেলো, চুল খোলা। আলো জ্বালিয়ে গীদরের
মুখ দেখে তার চোখ বড় হয়ে গেল। মুখে হাত চাপা দিয়ে পিছিয়ে গেল এক পা। “ও আল্লাহ! ভাইয়া… এ কী
হয়েছে আপনার?” তার গলা কাঁপছে, শরীরটা সামান্য ঝুঁ কে আছে ভয়ে।
গীদর হাত দিয়ে ইশারা করল—কাছে আয়। তার চোখে আতঙ্ক, কপালে ঘাম। হাফসা কাঁপা পায়ে কাছে এসে
বসল বিছানায়। তার হাত দুটো কোলে জড়ো করা, আঙুলগুলো পরস্পর আঁকড়ে। “হাসপাতালে যাবেন?
ডাক্তার ডাকি?” গীদর জোরে মাথা নাড়ল। না। বাইরে বের হলে লোকে দেখবে, ছবি তু লবে। তার শরীর
কেঁ পে উঠল। সে হাত দিয়ে নিজের ঠোঁট দেখিয়ে চাপ দেওয়ার ইশারা করল।
হাফসা দ্বিধা করে দুই হাত দিয়ে তার নিচের ঠোঁট চেপে ধরল। গরম, নরম, ভারী অনুভূতি। তার
আঙুলগুলো সামান্য কাঁপছে। আস্তে আস্তে মালিশ করতে লাগল। অদ্ভুত—চাপ দিলে ঠোঁটটা একটু ছোট
হচ্ছে। গীদরের চোখ বন্ধ হয়ে এল স্বস্তিতে। তার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হচ্ছে। হাফসা ঘন ঘন তাকাচ্ছে তার
চোখে, তারপর চোখ সরিয়ে নিচ্ছে। তার গাল লাল হয়ে উঠেছে।
ঘণ্টা কাটল। এক, দুই। হাফসার হাত ব্যথা করছে। কাঁধ ঝু লে পড়ছে। শরীর ক্লান্ত, চোখ লাল। রাত
তিনটে। বৃষ্টি থেমে গেছে। ঠোঁট আবার ফুলতে শুরু করেছে যখন চাপ কমে। হাফসা ফিসফিস করে বলল,
“ভাইয়া… আমি আর পারছি না। হাতে জোর নেই।” তার চোখে পানি চিকচিক করছে। শরীরটা সামান্য
কুঁ কড়ে আছে ক্লান্তিতে।
গীদরের চোখে আতঙ্ক ফিরে এল। তার হাত হাফসার কাঁধ স্পর্শ করল—যেন অনুরোধ। তার আঙুলগুলো
হালকা কাঁপছে। হাফসা অনেকক্ষণ চুপ। তার শ্বাস দ্রুত। মুখ লাল, চোখ নিচু । তারপর লজ্জায় গলা নামিয়ে
বলল, “ভাইয়া… যদি আমি আমার ঠোঁট দিয়ে চেপে ধরি? হয়তো… কাজ হবে। আপনার উপর… শুয়ে।”
তার কথা বলতে বলতে শরীরটা সামান্য কেঁ পে উঠল। চোখে দ্বিধা, কিন্তু চিন্তা।
গীদর প্রথমে চমকে গেল। তার চোখ বড়। কিন্তু উপায় নেই। ধীরে মাথা নেড়ে সম্মতি। তার হৃদয় দ্রুত
চলছে।
হাফসা উঠে দাঁড়াল। শাড়ির আঁচল ঠিক করল, হাত দিয়ে চুল পিছনে সরাল। তার শরীরের ভাষায়
লজ্জা—কাঁধ সামান্য ঝুঁ কে, পা দুটো কাছে। তারপর ধীরে ধীরে বিছানায় উঠল। গীদরের পাশে শুয়ে তার
উপর উঠে পড়ল। তার শরীর গীদরের বুকের উপর। দুজনের বুকের উষ্ণতা মিশে যাচ্ছে। হাফসা চোখ বন্ধ
করে তার নরম ঠোঁট দুটো গীদরের ফোলা ঠোঁটের উপর রাখল। পুরোপুরি চেপে। গরম নিঃশ্বাস দুজনের
মিশে এক হয়ে গেল। তার শরীরটা হালকা কেঁ পে উঠল প্রথমে, তারপর ধীরে স্থির। গীদরের হাত তার পিঠে
হালকা স্পর্শ করল—সান্ত্বনার।
প্রথম মিনিটগুলোতে দুজনেরই শ্বাস দ্রুত। হাফসার গাল গীদরের গাল স্পর্শ করে আছে, উষ্ণতা ছড়িয়ে।
তার হাত গীদরের কাঁধের কাছে। ধীরে ধীরে ঠোঁটের ফোলা কমছে। অনুভূতিটা অদ্ভুত—নরম, গরম,
সান্ত্বনাদায়ক। হাফসা চোখ বন্ধ রেখে শুয়ে রইল। তার শরীরের ওজন গীদরের উপর, কিন্তু আরামদায়ক।
সময় কাটল। বাইরে পাখির ডাক। ভোরের আলো জানালা দিয়ে।
সকাল সাড়ে ছয়টায় হাফসা চোখ খুলল। তার শরীর এখনো গীদরের উপর। ঠোঁট স্পর্শে। কিন্তু গীদরের
ঠোঁট স্বাভাবিক। হাফসা লজ্জায় তাড়াতাড়ি উঠতে চাইল, কিন্তু শরীর ক্লান্ত। তার গাল লাল, চোখ নিচু ।
গীদর আয়নায় দেখল, তারপর ফিরে এসে তার হাত ধরল। “থ্যাংক ইউ, হাফসা।” তার গলায় কৃতজ্ঞতা,
চোখে নতুন একটা আলো।
হাফসা মাথা নিচু করে বলল, “কী হয়েছিল ভাইয়া?” তার আঙুলগুলো জড়িয়ে।
 
 
গীদর চুপ করে বসে রইল। তারপর বলল, “আমি জানি না।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255485/</link>
				<pubDate>Wed, 24 Jun 2026 18:25:25 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>উপকথা ১৪ জানুয়ারী<br />
&#x1fab7;&#x1fab7;&#x1fab7;&#x1fab7;&#x1fab7;&#x1fab7;&#x1fab7;&#x1fab7;&#x1fab7;&#x1fab7;<br />
গীদর হোসেনের বয়স আঠাশ। ঢাকার মিরপুর-১২-এর একটা সরু, ঘিঞ্জি গলির ভিতরে চারতলা পুরনো<br />
বিল্ডিংয়ের তৃ তীয় তলায় তার ছোট্ট দুই রুমের ফ্ল্যাট। ফ্ল্যাটটা খুব সাধারণ—সামনের রুমে একটা পুরনো<br />
সোফা, একটা ছোট টিভি টেবিল, আর কোণায় একটা কম্পিউটার ডেস্ক যেখানে সে রাত জেগে কাজ করে।<br />
পাশের রুমটা তার শোয়ার। জানালা দিয়ে সারাদিন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255485"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255485/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f0fbb59887cd51c07b5dd146ba1153ee</guid>
				<title>নিশীথে &quot;লিখি&quot;
- আহমেদ আরভিন


আর , তুমি থাকিয়া যাও এই প্রেমবুকে -  মোর আঁখির কাছে ,  বিনয় বিরহ সুখে -
থাকিয়া যাও মোর বিনম্র ঠোঁটে -  মোর রণে লিপ্সা প্রেমের আন্দোলিত বিষে
আর তুমি বাতাসে গাহিয়া যাও , যেন প্রাণবায়ু-প্রশ্বাসে স্থানু জলদে রইয়া যাও ।
এই অধীর বিঘ্ন বিকাল – কত গতিময় পথচলা শেষে ,
শুধু তুমি  রইয়া যাও ক্ষনে আবছা প্রেমের লেশে ।

আর এই আকাশ অঝোরের প্লাবনে বইয়া যাক
যেন মোর অশ্রু লুকিয়া থাকিবে -  এমনি এক বিষাদী সূরে রইয়া যাক
এমনি এক শয়নে হৃদয়-আলাপ মৌন-নিনাদে থাকিয়া যাক
নীল-সন্ধ্যা জলজ-মৃত্যুর কোলে এমনি এক আবাগে পুড়িয়া খাক ।
তখনও নীল সমভার নীলান্তর বজ্রধ্বনি ডাকিবে ,
কোনো এক নিস্তব্ধ ভার নীলকণ্ঠী প্রেমে কাছে আসিবে ,
এমনি এক নূপুরী ঝংকারে শয়নবেলা ভাঙিয়া যাবে যে  
তোমার পদধ্বনিতেই তামসী শিশির গন্ধ আসিবে  ।

এই নিশীথ কৃষ্ণবেলায় তুমি ক্ষুদ্র মনে বসিয়া থাকিবে ,
তোমার ঠোঁটে বিন্দু বিন্দু জল - আনন্দলোকে কম্পিত প্রহরে রাত জাগিবে ,
রেশ কাটিবে কত অপেক্ষার – এক কবিতা স্পর্শী দূরত্বে যেন মেঘ থামিবে ।
এত সময়ের বর্ষা নির্বাক –
তমসাবৃত গগনভেদে শশাঙ্ক হিত জ্যোৎস্না দিবে যে লিখি  
তোমার কুঞ্চিত কবরীতে তা বেশ অম্লান ,
এমনি এক সুষমা সুবাসে তুমি সেই চারুচেলা হরিৎ বৃত্ত ধাঁচে
এমনি এক অনিন্দ্য বিভায় রূপ নিবে যে রজনী রইবে লাজে ,  
তখনই শুন্য-বিরহে সুখে , নিদাঘ সমীরণে এক বর্ষার চুম্বন
আর এই মৃদু-পরশেই ভাঙিয়া যাবে গোটা সময়ের স্পন্দন ,
আমি যে জাগিনাই ঐ শয়নবেলায় – মেঘ যে ডাকেনাই আমারে ,
বিমর্ষ অবসরের তন্দ্রায় কী যে এক ঘোর তার – কে জানিত মেঘ ও যে স্বপ্ন দেখিবে ।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255481/</link>
				<pubDate>Wed, 24 Jun 2026 18:02:31 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নিশীথে &#8220;লিখি&#8221;<br />
&#8211; আহমেদ আরভিন</p>
<p>আর , তুমি থাকিয়া যাও এই প্রেমবুকে &#8211;  মোর আঁখির কাছে ,  বিনয় বিরহ সুখে &#8211;<br />
থাকিয়া যাও মোর বিনম্র ঠোঁটে &#8211;  মোর রণে লিপ্সা প্রেমের আন্দোলিত বিষে<br />
আর তুমি বাতাসে গাহিয়া যাও , যেন প্রাণবায়ু-প্রশ্বাসে স্থানু জলদে রইয়া যাও ।<br />
এই অধীর বিঘ্ন বিকাল – কত গতিময় পথচলা শেষে ,<br />
শুধু তুমি  রইয়া যাও ক্ষনে আবছা প্রেমের লেশে ।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255481"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255481/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">21d98b54ab17bc263d017f36a19ba22c</guid>
				<title>@প্রাত্যহিক জীবন
জাকের আদিত্য

আমি তোমার জন্য নিয়ে এসেছি আমাজনের সবুজ, নীল নদের প্লাবন, অন্ধকারের মরূদ্যান, সহস্র সূর্যের আকাশ । আমি এনে দিয়েছে মানব উৎকর্ষের সকল উদাহরণ। আমি এনে দিয়েছি প্রকৃতির সমস্ত সুন্দর আর নক্ষত্রের বিশালতা। আমি এনে দিয়েছি  শতাব্দীর প্রথম উচ্চারিত বৈপ্লবিক সত্য যার নাম স্বাধীনতা। অথচ আমার পায়ে পড়ালে তুমি বেড়ি। তারপর সমস্ত জগতের ভারী বোঝা আমার কাঁধে তুলে দিলে সেই প্রাচীন পুরাণের মতো, এই চার দেয়ালের ঘরে। আমি দাঁতে দাঁত চেপে তোমার প্রতিটি স্বপ্ন পূরণ করলাম।
 এই সাম্রাজ্যের রাণীর তা বিশ্বাস হলো না। ঈর্ষান্বিত সে। সে আরো একটি রাতের জন্য আমাকে বন্দী করে রাখলো। আমিই সে। আমিই সে মানুষ যে তোমার প্রতিটি পরীক্ষায় উৎরে গেছি সহজেই। এর জন্য আমাকে বিসর্জন দিতে হয়েছে আমার জীবন। অথচ সেই আমি ঘরে ফিরে আবারো নজরবন্দি। এ এক অদ্ভুত খেলাঘর। এখানে যোগ্যকে বিসর্জন দেয়া হয়। আমার কাঁধের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে সমগ্র পৃথিবীর বোঝা। আমি আকাশকে বলি, আকাশ তুমি আরেকটু উপরে উঠে দাঁড়াও। আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। 
আমি ক্লান্ত, বিদ্ধস্ত। নাগরিক রাণীর খামখেয়ালিতে আমি ক্রমশ ক্লান্তি অনুভব করি। আমাদের প্রাসাদের মহামান্য রাণী সে। যে কলুষিত করেছে সমগ্র বিশ্ব মানবতা। সাধারণের জন্য সে নিয়ে এসেছে মহাপ্রলয়য়ের বার্তা।  প্রাসাদের মান্যবর সে। আমাদের নগরের প্রধান শত্রু। সে সুযোগ খুঁজছে কখন শাণিত ছুঁড়ি দিয়ে আমার হৃদয় চূর্ণ বিচূর্ণ করবে, কখন প্রতিশোধ নেবে। আমিও উন্মত্তের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছি। এ আমার গোপন অভিসার। সে পছন্দ করে না আমার সত্যকে। সে ভালোবাসে তার মিথ্যের মায়াজাল। যে মায়া জাল ছড়িয়ে আছে সমস্ত জগত জুড়ে। 
আমি একাকী পথে নিঃসঙ্গতাকে সঙ্গী করে একাই হেঁটে যাই অনেক পথ। আমার স্বাধীনতার স্বপ্ন আজো অমলিন। কারণ সত্য একদিন প্রকাশিত হবে। এবং সত্যের সূর্যালোকে সকল মিথ্যের প্রাসাদ আর গভীর দাম্ভিকতার স্তম্ভ চূর্ণ বিচূর্ণ হবে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255479/</link>
				<pubDate>Wed, 24 Jun 2026 17:08:01 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>@প্রাত্যহিক জীবন<br />
জাকের আদিত্য</p>
<p>আমি তোমার জন্য নিয়ে এসেছি আমাজনের সবুজ, নীল নদের প্লাবন, অন্ধকারের মরূদ্যান, সহস্র সূর্যের আকাশ । আমি এনে দিয়েছে মানব উৎকর্ষের সকল উদাহরণ। আমি এনে দিয়েছি প্রকৃতির সমস্ত সুন্দর আর নক্ষত্রের বিশালতা। আমি এনে দিয়েছি  শতাব্দীর প্রথম উচ্চারিত বৈপ্লবিক সত্য যার নাম স্বাধীনতা। অথচ আমার পায়ে পড়ালে তুমি বেড়ি। তারপর সমস্ত জ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255479"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255479/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8f5ef7eccfa5a0c88bd89324e45f543a</guid>
				<title>বৃষ্টি ও বর্ষার অনুভূতি
মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল

আষাঢ়ে দুপুর ৷
পূবাকাশের কপালে কালো মেঘের তিলক ৷
মুষলধারে বৃষ্টি ৷
হিংস্র বজ্রপাতের হুঙ্কারে চমকে ওঠে প্লীহা ৷
জল বিন্দুগুলোর দুর্দান্ত প্রতাপ ৷
তীব্রভাবে বর্ষিত হয় ৷
রৌদ্রদগ্ধ ভূ-পৃষ্ঠের তৃষ্ণা মেটায় ৷
জলপাই সবুজ কচু পাতার উপর নৃত্য করে ৷
মানুষের হৃদয়কে রাঙিয়ে তোলে ৷
কখনো কারো চোখের জলে মহাপ্লাবন সৃষ্টি করে ৷
কিংবা প্রকৃতিকে জীবনীশক্তি দেয় ৷
এরা প্রবলবেগে প্রবাহিত হয়ে নদীর বুকে ঠাঁই নেয় ৷
বৃষ্টিভেজা ডেউয়া পাতাগুলোর নির্মল হাসি ৷
হয়তো, শ্রাবণের আগমনী বার্তা ৷
চারদিকে শারদীয় উৎসবের আমেজ ৷
কদম ফুলের মাতাল গন্ধে দিশেহারা প্রজাপতি ৷
শুভ্র কাশ বনে ডাহুক যুগলের গোপন অভিসার ৷ 
বরযাত্রীরা নববধূকে নিয়ে নৌকায় চড়ে বাড়ি ফিরে । 
শ্রাবণের মেঘগুলো মিলিয়ে যায় নীল আসমানের নীলিমায় ৷
অষ্টাদশী খোঁপায় পরেছে রক্ত কমল ৷
চাতক পাখি প্রেয়সীর প্রতীক্ষায় ।
জ্যোৎস্না রাতে পূর্ণিমার চাঁদ নেমে আসে বর্ষার অথৈ জলে ।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255477/</link>
				<pubDate>Wed, 24 Jun 2026 14:39:20 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বৃষ্টি ও বর্ষার অনুভূতি<br />
মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেল</p>
<p>আষাঢ়ে দুপুর ৷<br />
পূবাকাশের কপালে কালো মেঘের তিলক ৷<br />
মুষলধারে বৃষ্টি ৷<br />
হিংস্র বজ্রপাতের হুঙ্কারে চমকে ওঠে প্লীহা ৷<br />
জল বিন্দুগুলোর দুর্দান্ত প্রতাপ ৷<br />
তীব্রভাবে বর্ষিত হয় ৷<br />
রৌদ্রদগ্ধ ভূ-পৃষ্ঠের তৃষ্ণা মেটায় ৷<br />
জলপাই সবুজ কচু পাতার উপর নৃত্য করে ৷<br />
মানুষের হৃদয়কে রাঙিয়ে তোলে ৷<br />
কখনো ক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255477"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255477/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e7187e13b9c4cf448f018265e548ff93</guid>
				<title>নেমে আসুক
~ শরীফ এমদাদ হোসেন 

বয়সের নদী ধীরে ধীরে নেমে গেলো ঢালে
তবু শব্দের শস্যক্ষেত সবুজ হলো না
কবিতারা এলো না স্বপ্ন জাগাতে
কত ঋতু কেটে গেলো আশার মেঘ জমিয়ে—
বৃষ্টি এলো না, শুধু ধুলোর ঝড় এসে
চোখের পাতায় রেখে গেল ক্লান্তির ছাপ...

শহর মঞ্চে কথার বন্যারা ঢেউ খেলে প্রতিদিন
বিদগ্ধজনেরা বড় বড় গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে
ক্ষুধা মুক্তির সংজ্ঞা লিখে যান
দারিদ্র্যের ছবি আঁকেন শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে।

তাদের ভাষণে বিপ্লব আসে, কাগজে কলমে বদলে যায় সমস্ত পৃথিবী
অথচ ঘরহীন মানুষেরা খোঁজে ঘর, খোঁজে এক মুঠো ভাত, একটু নিরাপদ ঘুম
একটি মানুষের মতো বেঁচে থাকবার অধিকার।

আর কখনো কোনো ইতিহাসের পাতায় নয়
মানুষের জীবনেই লেখা হোক মুক্তির কবিতা—
যে কবিতা ক্ষুধার পাশে দাঁড়ায়
যে স্বপ্ন ঘামের গন্ধ চেনে
সে পথেই নেমে আসুক মানুষ নামের মানুষের জয়গান।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255464/</link>
				<pubDate>Wed, 24 Jun 2026 10:47:45 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নেমে আসুক<br />
~ শরীফ এমদাদ হোসেন </p>
<p>বয়সের নদী ধীরে ধীরে নেমে গেলো ঢালে<br />
তবু শব্দের শস্যক্ষেত সবুজ হলো না<br />
কবিতারা এলো না স্বপ্ন জাগাতে<br />
কত ঋতু কেটে গেলো আশার মেঘ জমিয়ে—<br />
বৃষ্টি এলো না, শুধু ধুলোর ঝড় এসে<br />
চোখের পাতায় রেখে গেল ক্লান্তির ছাপ&#8230;</p>
<p>শহর মঞ্চে কথার বন্যারা ঢেউ খেলে প্রতিদিন<br />
বিদগ্ধজনেরা বড় বড় গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে<br />
ক্ষুধা মুক্তির স&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255464"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255464/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3c1c6041fe2e6f398bb20e0b9d398359</guid>
				<title>ফেরা হলো না

ফেরা হলো না আর সেই শহরে 
তেষট্টিটি বছর গুজরে গেছে—এভাবে গুজরে যায় দিন দিনেদিনে 
মুছে যায় স্মৃতি—দেয়ালেরও লিখন 
বউবাজারের নিখিলচন্দ্র রোডের বাড়িটি এখনও আছে? 
কি জানি, জোছনার উঠোনে নীলাদ্রির দরদ এখনও উছলে পড়ে? কে জানে? 
এখনও বলে ওঠে? উপদেশ দেয়? ব্যথার পাহাড় কিনতে নেই



ফেরা হলো না আর সেই শহরে
দেখা হলো না আর আকিনের সংসার কোনো অজুহাতে—
আমি তো শেষপ্রান্তে—হয়তোবা দেখা হবে না আর 
হয়তো তার মন এখনও ঘুরে? ঝাউতলা হয়ে সেই গলিটির ভেতরে? 
বাতাস বলে যায় কানেকানে, সে এখনও বুকপেতে আছে—নীরবতার মাঝে—
নিরালার পাশের জানালা খুলে দূরদিগন্তপানে চেয়ে—দোলনার পাশে বসে কাঁদে



ফেরা হলো না আর সেই শহরে 
ফেরা হয় কি আর ফিরতে চাইলেও? 
তবে কি ফুটে না—ফুটবে না ঘাসফুল? ফলবে না ডুমুরফল? 
কারও বিচ্ছেদে আসমান আঁকতে পারে বেদনার নীলচিহ্ন 
কারও থেমে যাওয়ায় থেমে যায় না সময়—থেমে যায় না কোনো গ্রহের ঘূর্ণন 
বিরহ মানেই রুখে যাওয়া নয় জীবন—হাসির গোলাপবৃন্তে ক্ষতের চিহ্নমাত্র... 

 —আযাহা সুলতান</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255458/</link>
				<pubDate>Wed, 24 Jun 2026 07:41:01 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ফেরা হলো না</p>
<p>ফেরা হলো না আর সেই শহরে <br />
তেষট্টিটি বছর গুজরে গেছে—এভাবে গুজরে যায় দিন দিনেদিনে <br />
মুছে যায় স্মৃতি—দেয়ালেরও লিখন <br />
বউবাজারের নিখিলচন্দ্র রোডের বাড়িটি এখনও আছে? <br />
কি জানি, জোছনার উঠোনে নীলাদ্রির দরদ এখনও উছলে পড়ে? কে জানে? <br />
এখনও বলে ওঠে? উপদেশ দেয়? ব্যথার পাহাড় কিনতে নেই</p>
<p>ফেরা হলো না আর সেই শ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255458"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255458/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2165bb9e64208b481158d4a443011294</guid>
				<title>Syed Farah and ডা.এম.এইচ.রহমান খান are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255445/</link>
				<pubDate>Wed, 24 Jun 2026 06:17:40 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">51f3bb53ef43f2ce9865848d2e60d2e9</guid>
				<title>জেগে উঠছে বাংলাদেশ

এই যে হুনছেন? পাশে শুয়ে থাকা স্ত্রীর ফিসফিস কথা শুনতে পেলেন ইমাম সাহেব। দরজায জানি কেডায় ধাক্কা দেয়।

হুমম শুনছি। স্ত্রীকে আস্তে করে উত্তর দিলেন । তিনি জেগে গেছেন আরো আগেই। এতক্ষণ ইচ্ছে করেই চুপ ছিলেন।


দিনকাল ভালো না। শুনেছেন পাকবাহীনি এখর শহর থেকে গ্রামেও চলে এসেছে। গ্রামের নিরীহ নারী-পুরুষ, বাচ্চা-কাচ্চা কেউই তাদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। তাদের সাথে যোগ হয়েছে শান্তি বাহিনী। রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস্ নামে গ্রামেরই কিছু মানুষ তাদেরকে সাহায্য করছে। শুনেছেন তাদের পাশের গ্রামেও রাজাকার বাহিনী গঠন হয়েছে। তারা রাতের আঁধারে পাকবাহিনীকে চিনিয়ে দিচ্ছে সেই সব বাড়ি যাদের কেউ না কেউ মুক্তিযুদ্ধে গেছে। কাজেই তাদের গ্রামে আসতে আর কতক্ষণ।

গঞ্জ থেকে মুল যে সড়কটা গ্রামের ভেতর দিয়ে গেছে তার পাশেই জামে মসজীদ। মসজীদের পেছনেই ইমাম সাহেবের ঘর। অষ্টাদশী এক মাত্র মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন তিনি।

শুনেছেন তাদের গ্রামেও দু-চার জন মুক্তিফৌজে নাম লিখিয়েছে। যদিও তিনি সবসময় শান্তির পক্ষে। তারপরেও নিরীহ নিরস্ত্র মানুষের উপর এমন নিষ্ঠূর অত্যচার তিনি কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি। তবে নিজের এই না মেনে নেওয়াটা কখনোই সর্বসম্মুখে প্রকাশ করেন না। ফলে তিনি এ গ্রামের শান্তি বাহিনীর সুনজরেই আছেন।


তাই এত রাতে দরজা ধাক্কানোর শব্দে তিনিও কিছুটা তটস্ত হয়ে উঠলেন। তবে সাহস হারালেন না। দাঁড়াও দেখাতাছি। বলে তিনি বিছানা ছাড়বার উপক্রম করলেন।

যাইয়েন না। পাশ থেকে স্ত্রী তার হাত টেনে ধরলো।

ভয় পাইয়ো না। আল্লাহ ভরসা। স্ত্রীর হাতে চাপ দিয়ে তাকে আশ্বস্ত করে বিছানা থেকে নেমে গেলেন তিনি।

টেবিলের উপর থাকা হ্যারিকেন এর সলতেটা উসকে দিলেন। ঘরময় আলো ছড়িয়ে পড়লো। সেই আলোয় চকির নিচ থেকে খড়ম জোড়া টেনে নিয়ে দরোজার দিকে এগিয়ে গেলেন।

কেডায় ? প্রায় ফিসফিস করে জানতে চাইলেন।

দরজাটা খোলেন হুজুর। গলাটা আর্ত শুনালো।

ইমাম সাহেব গলাটা চিনতে পারলেন না। কিন্তু, কন্ঠস্বরের আকুলতাটা ঠিকই ঠাহর করতে পারলেন।

তিনি আল্লাহর নাম নিয়ে দরোজা খুললেন। চৌকাঠে একটা মানুষকে মাথা নিচু করে বসে থাকতে দেখলেন।

তুমি কেডায় বাবা?

মানুষটা মুখ তুললো। চাচা আমি ।

ইমাম সাহেব চিনতে পারলেন। এ গ্রামেরই ছেলে। বেশ আগেই মুক্তিযুদ্ধে নাম লিখিয়েছে। ওকে নিজের দরোজায় দেখে আতঁকে উঠলেন।

তুমি না যুদ্ধে গেছ?

না চাচা এদ্দিন ইন্ডিয়া আছিলাম। ট্রেনীং নিছি। এখন যুদ্ধে যামু। বাড়ি আইছিলাম মা-বাবার সাথে দেহা করতে। কথা বলার ফাঁকে বাম হাতটা ডান হাতের বাাঁহুতে চেপে ধরলো।

ইমাম সাহেব খেয়াল করলেন। ওর হাতের নিচে রক্ত। অন্ধকারে কালচে দেখাচ্ছে।

তোমার তো হাত কাইটা গেছেগা।

হ। আমি বাড়ি আইছি, শান্তিবাহিনী কেমনে জানি টের পায়া যায়। আমারে ধরনের লাইগ্যা অন্ধকারে ঘাপটি মাইরা ছিল। আমি ঘরের থন বাইর হইতেই জাপটাইয়া ধরে। আমি কোনমতে ছাড়াইয়া দৌড় দিসি। হেগো একজনের সামনে পইরা গেছিলাম। হে-ই ছুড়ি মারছে। এক নাগারে কথা বলে থামলো সে। পেছন ফিরে তাকালো। তারপর ইমাম সাহেবের হাতটা ধরে বলল, হুজুর আমারে একটু পলানোর জায়গা দেন।

ইমাম সাহেব প্রমাদ গুনলেন। তার বুকের ভেতরটা ঠান্ডা হয়ে গেল। কি করবেন ভেবে পেলেন না।


হেরা আমারে খুঁজতাছে। পাইলে মাইরা ফালাইবো। হেরা চইলা গেলেই আমি যামুগা। ছেলেটার কন্ঠে অনুনয় ঝড়ে পড়লো।

আপনে ভেতরে আসেন। পেছন থেকে আর একটা কণ্ঠ তাড়া দিল। ঘাড় ফিরিয়ে পেছন ফিরে দেখলেন ইমাম সাহেব। তার মেয়ে উঠে এসেছে।

কিন্তু মা .... ইমাম সাহেব সবে বলতে শুরু করেছিলেন। আব্বা আপনে জলদি দরজা লাগাইয়া হারিকেনটা নিভান । তাকে কথা শেষ করতে না দিয়েই বলে উঠলো মেয়েটা। তারপর ছেলেটা ভেতরে ঢুকতেই তার হাত ধরে টেনে নিজের ঘরে নিয়ে যেয়ে তার রুমের দরোজা লাগিয়ে দিল।


ইমাম সাহেব কিছু বুঝে উঠতে পারলেন না। তবে মেয়ের কথামত দরোজা লাগিয়ে হারিকেন নিভিয়ে হতবিহব্বল হয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লেন। তার স্ত্রী কোন কথা না বলে তাকে জোড়সে আকড়ে ধরলো।

ক্ষাণীক বাদেই বাইরে বেশ কিছু পদশব্দ শোনা গেল। পরক্ষণেই দরোজায় ঘা পড়লো।

দরোজা খোলেন হুজুর।

ইমাম সাহেব বুঝে নিলেন। বিপদ যা হবার হয়ে গেছে। তারপরেও বুকে সাহস রাখলেন। তারা একটা মানুষকে বাঁচাবার জন্য চেষ্টা করছেন। কাজেই এই চেষ্টাটা তারা চালিয়ে যাবেন। বাকী আল্লাহর ইচ্ছা।

এত রাতে কেডায়? তিনি স্পষ্ট গলায় জানতে চাইলেন।

আমরা শান্তি বাহিনী। কেউ একজন উত্তর দিল। আমরা এক জনরে খুঁজতাছি।

তা আমার বাড়িতে কেন?

হেয় আপনার বাড়িতেই ঢুকছে মনে হয়।

না আমার বাড়িতে কেউ আসে নাই।

দরজাটা খোলেন । আমরা নিজেরা দেখবার চাই।

তিনি মেয়ের ঘরের দরোজার দিকে তাকালেন। অন্ধকারে কিছু দেখতে পেলেন না। তার মনে হলো ওরাও কিছু দেখতে পাবে না।

দাঁড়াও খুলতাছি। তিনি স্ত্রীর আলিঙ্গন ছাড়িয়ে বিছানা থেকে নামলেন। হ্যারিকেন এর আলো বাড়িয়ে পায়ে খড়ম গলিয়ে দরোজার দিকে এগিয়ে গেলেন।


দরোজা খুরতেই হুড়মুড় করে ঢুকে পড়লো ওরা। জনা তিনেক লোক। সবাইকেই তার চেনা মনে হলো। ঢুকেই তারা এদিক সেদিক তাকাতে লাগলো। বিছানার দিকে চোখ পড়তেই সেদিকে এগিয়ে গেল একজন।

ওইটা আমার বিবি বাবা। ইমাম সাহেব তার সামনে দাঁড়িয়ে ককিয়ে উঠলেন।

সরেন আমাদের দেখতে দেন। ইমাম সাহেবকে সরিয়ে সে এগিয়ে গেলো খাঁটের দিকে। ইমাম সাহেবের স্ত্রী তড়িৎ শুয়ে থাকা অবস্থা থেকে উঠে বসে গেলেন। আাঁচল টেনে মুখ ঢাকলেন। সেটা দেখে সেদিকে এগোতে থাকা লোকটা থেমে গেলো। তখনি চোখ পড়লো মেয়েটার রুমের দরোজার দিকে। এবার সেদিকে এগোলো।

ওইডা আমার মাইয়ার ঘর বাবা।

ডাকেন ওরে। লোকটা খেঁকিয়ে উঠলো। তখনি তার চোখ পড়লো ঘরের মেঝের দিকে। ওখানে কালচে একটা দাগ দেখা যাচ্ছে। উঁবু হয়ে হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখলো। মুহুর্তেই তার মুখে হাসি ছড়িয়ে পড়লো। পরক্ষণেই ঘুরে তেড়ে এলো ইমাম সাহেবের দিকে। কেউ আসে নাই না। তাইলে এই রক্ত আইলো কই থাইক্যা।

আ-আ-আমি জা-জা ....ইমাম সাহেব তোতলাতে লাগলেন।

হাত বাড়িয়ে তার কাঁধ ধরে নিজের দিকে টেনে আনলো লোকটা । পাশ থেকে বাকী দুজন জাপটে ধরলো ইমাম সাহেবকে।

বল ব্যাটা এই রক্ত কার? ইমাম সাহেবের শরীরটা ধরে ক্রমাগত ঝাঁকাতে লাগলো সে।

লজ্জায় দুঃথে ইমাম সাহেবের চোখে পানি চলে এলো। তিনি কিছু বলতে পারলেন না।

তখনি মেয়েটার রুমের দরোজা খোলে গেল। সবগুলো চোখ এক সাথে ঘুরে গেল সেদিকে।

জানতে চান রক্তটা কার? মেয়েটা দরোজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখ-মুখ থেকে আগুন বের হচ্ছে। রক্তটা আমার। কােই থাইক্যা বাইর হইছে দেখতে চান। বলেই নিচু হয়ে তার জামার প্রান্তটা ধরে এক টানে কোমরের কাছে উঠিয়ে ফেলল। আপনাগো মা বোনরে জিগায়েন এই রক্ত পত্যেক মাসে কেন বাইর হয়।

উপস্থিত সবাই দেখলো মেয়েটার সবুজ পাজামার নিম্নাঙ্গ এর সামনের অংশটা লাল হয়ে আছে।

সবাই ওদিকে একবার তাকিয়ে ব্যাপারটা বুঝতে পেরে লজ্জায় চোখ ঘুরিয়ে নিল। তারপর আর কিছু না বলে তৎক্ষণাত ইমাম সাহেবকে ছেড়ে দিয়ে দ্রত ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

কিন্তু, ইমাম সাহেব তখনো তাকিয়ে থাকলেন। তিনি বিন্দুমাত্রও লজ্জা পেলেন না। তার কাছে মনে হলো তিনি মেয়ের লজ্জাস্থান দেখছেন না। দেখছেন স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকাটা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255439/</link>
				<pubDate>Wed, 24 Jun 2026 05:30:57 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>জেগে উঠছে বাংলাদেশ</p>
<p>এই যে হুনছেন? পাশে শুয়ে থাকা স্ত্রীর ফিসফিস কথা শুনতে পেলেন ইমাম সাহেব। দরজায জানি কেডায় ধাক্কা দেয়।</p>
<p>হুমম শুনছি। স্ত্রীকে আস্তে করে উত্তর দিলেন । তিনি জেগে গেছেন আরো আগেই। এতক্ষণ ইচ্ছে করেই চুপ ছিলেন।</p>
<p>দিনকাল ভালো না। শুনেছেন পাকবাহীনি এখর শহর থেকে গ্রামেও চলে এসেছে। গ্রামের নিরীহ নারী-পুরুষ, বাচ্চা-কাচ্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255439"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255439/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">73750a33d89be23b57efb157603b020b</guid>
				<title>কনটেইনার 

নৃশংসতা যত তোমাদের
দুঃসাহসিক শ্রেষ্ঠত্ব অভিযান
বীভৎস রূপ দেখো নিজের
আগে কাপুরুষ শয়তান 

যুদ্ধ বিধ্বস্ত শহর!
অন্ধকারে ঢেকে যাওয়া!
বোমায় উড়িয়ে দেওয়া!
মৃত্যু নগরী কংক্রিটের ধুলো!
বীভৎস রূপ দেখো নিজের
আগে কাপুরুষ শয়তান


কালো মুখোশধারী মানুষ
তাদের হ্যান্ডিক্যাপ পড়ানো
পা মোড়া শরীরকে
উল্টো করে শূন্যে ঝোলানো

কনটেইনার লাইনে নীরবতা
ধাতব শহরের শ্বাস
মানুষ নেই
শুধু প্রক্রিয়া।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255437/</link>
				<pubDate>Wed, 24 Jun 2026 04:56:55 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কনটেইনার </p>
<p>নৃশংসতা যত তোমাদের<br />
দুঃসাহসিক শ্রেষ্ঠত্ব অভিযান<br />
বীভৎস রূপ দেখো নিজের<br />
আগে কাপুরুষ শয়তান </p>
<p>যুদ্ধ বিধ্বস্ত শহর!<br />
অন্ধকারে ঢেকে যাওয়া!<br />
বোমায় উড়িয়ে দেওয়া!<br />
মৃত্যু নগরী কংক্রিটের ধুলো!<br />
বীভৎস রূপ দেখো নিজের<br />
আগে কাপুরুষ শয়তান</p>
<p>কালো মুখোশধারী মানুষ<br />
তাদের হ্যান্ডিক্যাপ পড়ানো<br />
পা মোড়া শরীরকে<br />
উল্টো করে শূন্যে ঝোলানো</p>
<p>কনটেইনার ল&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255437"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255437/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">bd0e9745c77c3280d0090f9593663c9e</guid>
				<title>নন্দিত নরকে আমার স্বর্গবাস

মাঝে মাঝে আমার কি যে হয়
আমি সব ভুলে যাই।
উন্নাসিক নেশার হঠাৎ আবির্ভাব
আমার স্মৃতিতে ফাটল ধরায়।
বাগানের দূর্বা ঘাস
মায়ের টোল পড়া হাসি
কিম্বা হারিয়ে ফেলা একটা সুন্দর সকাল
কিছুই মনে থাকে না আমার।
হৃদয়ের ক্যানভাস থেকে
সবগুলো ছবিই বিম্মৃত হয়ে যায়।

নরকের গাড় অন্ধকারে
আমার দিন-রাত্রি কাটে।

প্রিয় হারা প্রেমিকার ক্রন্দসী বেদনা
নিরাভরণ স্বৈরিণীর উন্মাতাল নির্লজ্জতা
আমায় এতটুকু স্পর্শ করে না।

আমি যেন কোন মহাকাশ মানব।
দৃষ্টিতে দূরদর্শিতা ভর করে
আদিগন্ত স্বপ্নের জাল বুনি।
ঈশ্বরের লালিত্য ভাবনাগুলো
আমার বুকে তোলপাড় খায়।
অহর্নিশ অন্ধকারের ভিড়ে
ঐশ্বরিক সম্ভাবনার বীজ বপন করি।
নরকের ছাই চাপা আগুনে
আশীর্বাদের বাতি জ্বলে উঠে।
স্বপ্নের বৃক্ষগুলো পূর্ণতা পায়।
প্রোজ্জল আলোয় ভরে যায় দশ দিক।

দিব্য চক্ষু মেলে আমি দেখি
আমার নন্দিত নরকের সায়াহ্নে
এক টুকরো স্বর্গের হাতছানি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255414/</link>
				<pubDate>Wed, 24 Jun 2026 04:13:53 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নন্দিত নরকে আমার স্বর্গবাস</p>
<p>মাঝে মাঝে আমার কি যে হয়<br />
আমি সব ভুলে যাই।<br />
উন্নাসিক নেশার হঠাৎ আবির্ভাব<br />
আমার স্মৃতিতে ফাটল ধরায়।<br />
বাগানের দূর্বা ঘাস<br />
মায়ের টোল পড়া হাসি<br />
কিম্বা হারিয়ে ফেলা একটা সুন্দর সকাল<br />
কিছুই মনে থাকে না আমার।<br />
হৃদয়ের ক্যানভাস থেকে<br />
সবগুলো ছবিই বিম্মৃত হয়ে যায়।</p>
<p>নরকের গাড় অন্ধকারে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255414"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255414/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">909d37f688dda0266e94e8c5298b9ad7</guid>
				<title>&#x270d;&#x1f3fb;যদি দুঃখের সময় আকাশের সাথে কথা বলতে হয়, তাহলে সুখের সময় মানুষ কেন?

মানুষ বড় অদ্ভুত এক সৃষ্টি। বুকভরা কষ্ট নিয়ে যখন সে একা হয়ে যায়, তখন সে মানুষের কাছে নয়, আকাশের কাছে যায়। রাতের নির্জনতায় মাথা তুলে অসীম আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। যেন তারাদের ভিড়ে কেউ একজন তার না-বলা কথাগুলো শুনছে। কারণ দুঃখের কিছু ভাষা আছে, যা মানুষ বোঝে না; কিন্তু আকাশের নীরবতা বুঝে।

কখনো ভেবেছেন, কেন এমন হয়?

কারণ দুঃখ মানুষকে নিজের ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। সে তখন ভিড় এড়িয়ে চলে, শব্দ এড়িয়ে চলে, এমনকি প্রিয় মানুষগুলোকেও এড়িয়ে চলে। তার মনে হয়, পৃথিবীতে কেউ তাকে পুরোপুরি বুঝবে না। তখন আকাশই হয়ে ওঠে তার সবচেয়ে বড় শ্রোতা—যে কোনো প্রশ্ন করে না, কোনো বিচার করে না, শুধু নীরবে পাশে থাকে।

কিন্তু সুখের সময়?

সুখের সময় মানুষ আকাশের দিকে তাকায় না; সে মানুষকে খোঁজে। সে চায় তার হাসিটা কেউ দেখুক, তার আনন্দটা কেউ অনুভব করুক। কারণ দুঃখ একা বহন করা যায়, কিন্তু সুখ একা উপভোগ করা যায় না। সুখের প্রকৃত সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে ভাগ করে নেওয়ার মধ্যে।

হয়তো এ কারণেই দুঃখের সময় আমরা আকাশের সাথে কথা বলি, আর সুখের সময় মানুষের সাথে। আকাশ আমাদের নিঃসঙ্গতার সঙ্গী, আর মানুষ আমাদের আনন্দের সাক্ষী।

তবে জীবনের সবচেয়ে গভীর সত্য সম্ভবত অন্য কোথাও লুকিয়ে আছে। যে মানুষটি আপনার দুঃখের দিনে আকাশের মতো নীরব থেকে আপনাকে আগলে রাখতে পারে, সেই মানুষটিই আপনার সুখের দিনের সবচেয়ে আপন মানুষ। কারণ সম্পর্কের প্রকৃত মূল্য আনন্দের মুহূর্তে নয়, বরং ভাঙাচোরা সময়ে বোঝা যায়।

তাই আজ মনে হয়, প্রশ্নটা শুধু—&quot;সুখের সময় মানুষ কেন?&quot;—এখানেই শেষ নয়। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, &quot;কতজন মানুষ আছে, যাদের কাছে আমরা আকাশের মতো নির্ভরতা খুঁজে পাই?&quot;

কারণ জীবনে সুখ অনেকেই ভাগ করে নিতে চায়, কিন্তু দুঃখের পাশে দাঁড়ানোর সাহস সবার থাকে না।

রুবেল রানার সনেট
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

 #RubelRanaSonet</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255392/</link>
				<pubDate>Wed, 24 Jun 2026 00:43:44 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#x270d;&#x1f3fb;যদি দুঃখের সময় আকাশের সাথে কথা বলতে হয়, তাহলে সুখের সময় মানুষ কেন?</p>
<p>মানুষ বড় অদ্ভুত এক সৃষ্টি। বুকভরা কষ্ট নিয়ে যখন সে একা হয়ে যায়, তখন সে মানুষের কাছে নয়, আকাশের কাছে যায়। রাতের নির্জনতায় মাথা তুলে অসীম আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। যেন তারাদের ভিড়ে কেউ একজন তার না-বলা কথাগুলো শুনছে। কারণ দুঃখের কিছু ভাষা আছে, যা মানুষ বোঝে না; কিন্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255392"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255392/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8118b67ac5e97279e077ed3e0915e501</guid>
				<title>তুমি যাও না যাও, 
আমি খোঁজ নিবোই...
আমি চলে গেলে, 
তুমি পাবে না খবর...

 #শেষ  #হিসাব...
২৪.৬.২০২৫</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255388/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Jun 2026 19:12:09 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>তুমি যাও না যাও,<br />
আমি খোঁজ নিবোই&#8230;<br />
আমি চলে গেলে,<br />
তুমি পাবে না খবর&#8230;</p>
<p> <a href="https://toulot.com/n_astream/?s=%23শ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#শ</a>েষ  <a href="https://toulot.com/n_astream/?s=%23হ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#হ</a>িসাব&#8230;<br />
২৪.৬.২০২৫</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ca648b5102eb755662407c798968c86b</guid>
				<title>(গল্প টা কেমন হয়েছে মতামত দিবেন)
#অপ্রত্যাশিত কথা
পর্ব -১
# নাদিয়া রিপাত রিতু
টেস্ট পরীক্ষা শুরু আজ থেকে অনেক মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করেছে লামিয়া। 
পরীক্ষা ১ম দিন বসলো সে ১ম বেঞ্চে বসলো।কোনো রকম ঝামেলা ছাড়া পরীক্ষা দিলো।সব প্রশ্ন কমন পরেছে সেই মহা খুশি,,,,
ঝামেলা হলো অন্য জায়গায়,,,ওর বান্ধবী লামহার পাশে বসেনি বলে ভীষণ রাগ করলো। 
কলেজে পরীক্ষা গুলোতে নির্দিষ্ট কোনো সিট থাকেনা যার যেখানে ইচ্ছে বসতে পারে।
লামহার সামনের সিটে জায়গা ছিলো লামিয়া ইচ্ছে করে বসেনি। 
পরের দিন ,,,,,,
আজ ওদের কঠিন সাবজেক্টের পরীক্ষা। লামিয়া এই সাবজেক্টে ভীষণ ভালো।তাই এক প্রকার জোর করে লামহার সামনের সিটে লামিয়াকে বসালো। লামিয়া একা একা নিরিবিলিতে পরীক্ষা দিতে লাগলো। লামিয়ার পাশে প্রান্ত নামে একজন বসলো ।এতে লামিয়ার কোনো অসুবিধা হলো না।লামহা একটু অসুস্থ ছিলো তাই বেশিক্ষণ লিখতে পারলো না। খাতা জমা দিয়ে চলে গেলো। 

লামিয়া সব অংক কমন তাই সে লিখতে লাগলো।সবার শেষে সে খাতা জমা দিলো।
ওর অন্য বান্ধবীরা বললো তুই এতক্ষণ ধরে কি লিখেছিস। 
লামিয়া জবাব দিলো,যা মনে হয়েছে লিখেছি কত পাবো জানিনা। দুইটা পরীক্ষা শেষ লামিয়ার।

কাল তেমন কঠিন সাবজেক্ট না তাই চিন্তা কম ।এই বিষয়ে ভাবতে ভাবতে ফেসবুকিং করতে লাগলো।

এর পরের দিন পরীক্ষা দিতে গেলো ।

পরীক্ষা খাতা দিলো তার পাশের সিট এখনো খালি। লামিয়া প্রশ্ন পত্রের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। হঠাৎ প্রান্ত নয় ওর মত দেখতে অন্য কেউ বসলো লামিয়ার পাশে। লামিয়া একটু আন ইজি ফিল করলো।লামিয়া বোরকা পরে গিয়েছিল। প্রশ্ন পত্র দিয়ে দিলো এদিক ওদিক না তাকিয়ে সে লিখতে আরম্ভ করলো। 

লামহা ডাক,এই লামু আমাকে না দেখালে তোর খবর আছে। 

লামিয়া বললো আমি কিছু পারবো না তুই পারলে আমাকে দেখা। 
ওরা দুজনে লিখতে লাগলো আর হাসাহাসি করতে লাগলো।
স্যার দুজনকে বকা দিলো। হঠাৎ লামহার প্রবেশ পত্রটা উড়ে লামিয়া পাশে বসা ছেলেটার কাছে গেলো।
লামহা বললো ,ভাইয়া আমার প্রবেশ পত্রটা দিন তো
ছেলেটা হেসে বললো ,দিবো একটা শর্তে কয় টাকা দিবেন।তারপর ছেলেটা লামহাকে প্রবেশ পত্রটা দিয়ে দিলো হেসে বললো মজা করছিলাম।
লামিয়ার খাতার দিকে ছেলেটি একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। লামিয়াকে বললো আপনার নামের শেষে রহমান লেখা আমার নাম ও আপনার নামের সাথে মিল। লামিয়ার  পুরো নাম লামিয়া রহমান
আবার বললো আপনার হাতের লেখা গুলো অনেক সুন্দর।
লামিয়া কিছু বললো না চুপচাপ লিখতে লাগলো।
লামিয়া ভীষণ রাগ হতে লাগলো ছেলেটি এত কথা কিভাবে বলতে পারে পরীক্ষাতে না লিখে।
লামহা প্রতিদিনের মতো আজকেও খাতা জমা দিয়ে চলে গেল।আর লামিয়া লিখতে লাগলো,পাশে বসা ছেলেটি শুধু কথা বলার চেষ্টা করতে লাগলো।
লামিয়ার বাকি বান্ধবীরা ওকে ডাকতে শুরু করলো। অবশেষে পরীক্ষার সব লেখা শেষ করে লামিয়া বাইরে বান্ধবীদের ‌কাছে গেল। 

বান্ধবীরা বললো এত কি লিখিস তুই মনে হয় পরীক্ষার সবার থেকে বেশি  পাবি জয়ী আর আরু দুজনে বললো।
আরু বললো, তোর পাশে ছেলেটার নাম কী রে?
লামিয়া বললো, রহমান মনে হয় আমি পুরোটা জানিনা,
ছেলেটা যে বকবক করে আমার ভালো লাগে না।
আরু বললো,তোর এত কিছু জানতে হবে না তুই ও ছেলেটার সাথে কথা বলবি না ও আমার ক্রাশ। আমার সাথে ওর কালকে ঝগড়া হয়েছে যদিও নাম জানিনা। প্রথম দেখায় লাভ অ্যান্ড ফার্স্ট সাইট হয়ে গেছে।
তোকে ওর সাথে বসতে দেখে আমার কিভাবে জ্বলছে জানিস।
লামিয়া, জয়ী বললো: কিরে কখন হলো এসব আমাদের তো একবার বললি না।
আরু বললো, বলার সুযোগ পেলাম কই পরীক্ষা নিয়ে এত বিজি,
আচ্ছা তাহলে এখন শোন
কাল বারান্দায় এই ছেলেটা অন্য ছেলেদের বলছিলো আমাদের সাবজেক্ট নাকি সহজ
ওদের সাবজেক্ট নাকি কঠিন। তো আমি বললাম কোনো কিছু সহজ না আপনি বললে হলো।এক পর্যায়ে আমাদের দুজনের মাঝে ঝগড়া লেগে যায়।
লামিয়া বললো, ওরা ছেলেদের মধ্যে কথা হচ্ছে সেখানে তুই কেন কথা বলতে গেলি পাগল নাকি তুই।
আরু বললো, আমাদের সাবজেক্টকে অপমান করে কথা বলবে আর চুপচাপ দাঁড়িয়ে শুনবো।
পরক্ষনেই হেসে বললো ছেলেটা দেখতে কোনো  নায়কের চেয়ে কম না। লম্বা ফর্সা হাসিটা কত কিউট।
লামিয়া অবাক হয়ে বললো, তুই মেয়ে হয়ে একটা ছেলের জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছিস। তোর থেকে এটা আশা করিনি বান্ধবী।

￼</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255387/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Jun 2026 19:09:58 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>(গল্প টা কেমন হয়েছে মতামত দিবেন)<br />
#অপ্রত্যাশিত কথা<br />
পর্ব -১<br />
# নাদিয়া রিপাত রিতু<br />
টেস্ট পরীক্ষা শুরু আজ থেকে অনেক মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করেছে লামিয়া।<br />
পরীক্ষা ১ম দিন বসলো সে ১ম বেঞ্চে বসলো।কোনো রকম ঝামেলা ছাড়া পরীক্ষা দিলো।সব প্রশ্ন কমন পরেছে সেই মহা খুশি,,,,<br />
ঝামেলা হলো অন্য জায়গায়,,,ওর বান্ধবী লামহার পাশে বসেনি বলে ভীষণ রাগ করলো।<br />
কলেজে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255387"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255387/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fb01cb5a9247b09db5e022d91b92c0cb</guid>
				<title>সেই ছোট্ট মেয়েটি 

নাদিয়া রিপাত রিতু 

নিলু ছোট্ট বেলা থেকেই আত্মবিশ্বাসী। কোনো কিছুতেই হার মানতে শেখেনি। নিলুরা তিনবোন এক ভাই ; মা-বাবার প্রথম সন্তান নিলু।নিলুদের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার কদলপুর। দেখতে দেখতে চোখের সামনে নিলু বড় হতে থাকে।নিলু যখন এসএসসি পরীক্ষা দেয় তখন তার বাবার ক্যান্সার ধরা পড়ে।নিলু দেখতে বেশ সুন্দরী।তাই গ্রামের কিছু মানুষ পরামর্শ দেয় ।তুমি যখন অসুস্থ বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দাও।নিলুর অল্প বয়সে বিয়ে হয়।বিয়ের ছয় মাস পর তার বাবা পরলোকগমন করেন।একজন মেয়ের অল্প বয়সে মা-বাবাকে হারানোর ব্যথা যারা মা-বাবা হারিয়েছে তারা বুঝবে। কিছু দিন পর নিলু কলেজে ভর্তি হয় ক্লাস করেনা শুধু পরীক্ষা দিতো।বিয়ের একবছরের মাথায় নিলুর কোল আলো করে একটা কন্যা সন্তান জন্ম নেয়।তখন বেশ হাসিখুশিতে নিলুর দিন কাটছে স্বামী সংসার নিয়ে। কিন্তু হঠাৎ একটা দূর্ঘটনায় তার জীবনের সব আলো কেড়ে নিলো। মেয়ের যখন একবছর  তখন তার স্বামী মারা যায়। বয়স বা কত১৬-১৭; একদিকে বাবা অন্যদিকে স্বামী হারিয়ে নিলু প্রায় ভেঙ্গে পরে। তার কোলে আছে ছোট্ট শিশু,বাবার মৃত্যুর পর ভাই বোনরা ও ছন্নছাড়া। স্বামীর মৃত্যুর পর মেয়েদের শ্বশুর বাড়িতে গুরুত্ব থাকেনা।তাই নিলু বাবার সংসারে হাল ধরতে চলে আসে।নিলু এইচএসসি পরীক্ষা দেয়।সংসার চালানোর জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিউশন করাতে থাকে।তখন কার যুগে টিউশনিতে বেতন খুব অল্প। যা দিয়ে সংসার আর ভাই বোনদের লেখাপড়া অসম্ভব। যদিও জিনিস পত্রের দাম সীমিত ছিলো। ভালোভাবে সংসার চালানোর জন্য বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকার চাকরিতে যোগ দেয়।স্কুল ক্লাস শেষে সেই আবার টিউশনি করতে থাকে।তখন তার ছোট্ট রাজকন্যাকে রেখে যেত তার মায়ের কাছে। সারাদিন কাজ করে যখন বাড়ি ফিরতো মেয়েকে জড়িয়ে ধরে অনেক কান্না করতো। এসবের মাঝেও সে পড়ালেখা বন্ধ করেনি। অনার্স হিসাববিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যায়; পাশাপাশি ভাই বোনদের পড়ালেখা করিয়েছে।এসব দেখে সমাজের কিছু মানুষ জন বাঁধা দেয় এই সমাজে বিধবা, ডিভোর্সী মেয়েদেরকে ভালো চোখে দেখে না।তাই নিলু কে নিয়ে অনেক সমালোচনা হতে থাকে।নিলুর মাকে ও অনেক কথা শুনতে হয় । কিন্তু কাজ না করলে এসব মানুষ খাওয়াবে না। আমাদের ইসলাম তো বিধবা মেয়েদের রোজগার করতে বাঁধা দেয়নি। পর্দা মধ্যে থেকে মেয়েরা কাজ করতে পারবে।তবে কেন সমাজের মানুষের এত সমস্যা নিলুকে নিয়ে।নিলুর মনে‌ প্রশ্ন জাগে উত্তর মেলেনা।তার মা তাকে অনেক বিশ্বাস করতো সব সময় পাশে থাকতো।এসব মানুষের কথায় কান না দিয়ে সে নিজের কাজে মনোযোগ দেয়। নিজের ক্যারিয়ার ভালো কিছু করেছে।তার ভাই -বোনদের ক্যারিয়ার নিজের হাতে গড়ে দেয় এখন সবাই স্বাবলম্বী। স্কুলে চাকরি করতে করতে একজন অবিবাহিত ছেলে নিলুকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়।নিলু নতুন করে জীবন শুরু করতে চাইনা সবার কথা রাখতে নতুন করে বিয়ে করে ।আগের জীবনটাকে ভুলে নতুন অধ্যায় শুরু করে সেই অন্ধকার অধ্যায় পেরিয়ে।এখন সেই নিজের স্বামী সন্তান নিয়ে অনেক সুখী ।এখন মানুষ গুলো নিলুর  প্রশংসায় পঞ্চমুখ।যারা একসময় নিলুকে নিয়ে খারাপ কথা বলতো।নিলু হয়তো মনের জোর বেশি ছিলো তাই এত কিছুর পরেও সবটা সামলে নিয়েছে।আমি হলে সত্যি পরতাম না।সেই ছোট্ট নিলুটি আর কেউ না আমার শিক্ষিকা নিলীমা হক।আমি ওনার কাছে বেশীদিন পড়ার সুযোগ পাইনি ।আমি গর্বিত ওনার মত সাহসী নারীর ছাত্রী হতে পেরে।ওনার জীবনের অধ্যায়টা শুনে মনে হয় কারো মৃত্যুতে কারো জীবন থেমে থাকে না। মনোবল থাকলে পাথরে ও ফুল ফোটানো যায়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255386/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Jun 2026 19:06:43 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> সেই ছোট্ট মেয়েটি </p>
<p>নাদিয়া রিপাত রিতু </p>
<p>নিলু ছোট্ট বেলা থেকেই আত্মবিশ্বাসী। কোনো কিছুতেই হার মানতে শেখেনি। নিলুরা তিনবোন এক ভাই ; মা-বাবার প্রথম সন্তান নিলু।নিলুদের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার কদলপুর। দেখতে দেখতে চোখের সামনে নিলু বড় হতে থাকে।নিলু যখন এসএসসি পরীক্ষা দেয় তখন তার বাবার ক্যান্সার ধরা পড়ে।নিলু দেখতে বেশ সুন্দরী।তাই গ্রাম&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255386"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255386/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a26fc1a5bd611842cacd98c1575ffadd</guid>
				<title>11 January— উপকথা 
&#x1f4a5;&#x1f4a5;&#x1f4a5;&#x1f4a5;&#x1f4a5;&#x1f4a5;&#x1f4a5;&#x1f4a5;

গোল পৃথিবী, সমতল নয়
দেখলেই তোমাকে; জীবনে পরিণয়
এখানে যাবো ওখানে যাবো
ফাঁকা জীবনে আগুন ধরাবো

তোমার সাথে একবার আমার 
হোক তো পরিচয়
ভালোবাসার নামে হবে অভিনয়</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255382/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Jun 2026 18:12:45 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>11 January— উপকথা<br />
&#x1f4a5;&#x1f4a5;&#x1f4a5;&#x1f4a5;&#x1f4a5;&#x1f4a5;&#x1f4a5;&#x1f4a5;</p>
<p>গোল পৃথিবী, সমতল নয়<br />
দেখলেই তোমাকে; জীবনে পরিণয়<br />
এখানে যাবো ওখানে যাবো<br />
ফাঁকা জীবনে আগুন ধরাবো</p>
<p>তোমার সাথে একবার আমার<br />
হোক তো পরিচয়<br />
ভালোবাসার নামে হবে অভিনয়</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9a378f9e2070ff8e0e37d6dbc8704466</guid>
				<title>12 January — উপকথা
&#x1fab7;&#x1fab7;&#x1fab7;&#x1fab7;&#x1fab7;&#x1fab7;&#x1fab7;&#x1fab7;&#x1fab7;

হৃদয়ে খরা আজ 
ঝরে গেছে আমার আওয়াজ 

তুমি মন-মহিমায় এসেছ 
আমাকে নিয়ে গান গেয়েছ 
উড়ে গেছো পাখি হয়ে 
নেচেছ— মাথা বেঁধেছ</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255381/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Jun 2026 18:12:22 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>12 January — উপকথা<br />
&#x1fab7;&#x1fab7;&#x1fab7;&#x1fab7;&#x1fab7;&#x1fab7;&#x1fab7;&#x1fab7;&#x1fab7;</p>
<p>হৃদয়ে খরা আজ<br />
ঝরে গেছে আমার আওয়াজ </p>
<p>তুমি মন-মহিমায় এসেছ<br />
আমাকে নিয়ে গান গেয়েছ<br />
উড়ে গেছো পাখি হয়ে<br />
নেচেছ— মাথা বেঁধেছ </p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">91c7716aaf99886f704fe4ed80936b2d</guid>
				<title>উপকথা - ১৩ জানুয়ারি ফ্যান্টাসি &#x1f338;&#x1f338;&#x1f338;&#x1f338;&#x1f338;&#x1f338;&#x1f338;&#x1f338;&#x1f338;&#x1f338;&#x1f338;
আশিক — ঢাকার সাধারণ ছেলে
 Oom Ador — আমেরিকার পপ স্টার (টেলর সুইফটের আদলে)

আশিক একটা অত্যন্ত সাধারণ মানুষ ছিল। এই কথাটা বলতে গেলে একটু বিস্তারিত বলা দরকার, কারণ “সাধারণ” শব্দটা অনেক ক্ষেত্রে অনেকভাবে ব্যবহৃত হয়। কেউ কেউ বলে “আরে সে তো খুব সাধারণ মানুষ” — মানে লোকটা ভালো, বিনয়ী, অহংকারী নয়। আবার কেউ কেউ বলে “সে একটু সাধারণ আর কি” — মানে লোকটার মাথায় বিশেষ কিছু নেই, জীবনে বড় কোনো স্বপ্ন নেই, সকালে উঠে ভাত খায়, রাতে শুয়ে পড়ে, মাঝখানে যা হয় তাই হয়।
আশিক ছিল দ্বিতীয় ধরনের সাধারণ। সে ঢাকার ধানমন্ডিতে একটা তিনতলা বাড়ির দোতলায় থাকত। বাড়িটা তার নিজের নয়, ভাড়া। ঘরটা ছোট, কিন্তু আশিকের মতে “কোজি”। বাইরে থেকে যারা দেখত তারা বলত “গুহা”। ঘরে একটা খাট, একটা টেবিল, একটা চেয়ার, একটা পুরনো ফ্যান (যেটা চালু হলে মনে হয় হেলিকপ্টার ল্যান্ড করছে), আর একটা বাথরুম যার দরজার ছিটকিনি কখনো ঠিকমতো কাজ করেনি।
আশিক একটা সফটওয়্যার কোম্পানিতে জুনিয়র ডেভেলপার হিসেবে কাজ করত। বেতন এমন যে মাস শেষে হিসাব করলে মনে হয় বেতনটা আসলে একটা গজব মাত্র। কিন্তু সে খুশি ছিল। কারণ তার চাহিদা খুব কম ছিল। সকালে এক কাপ চা, দুপুরে ভাত-ডাল, রাতে ইউটিউবে কিছু দেখা — এটুকুই তার জীবনের সুখ। এবং প্রতিদিন রাত দশটায় গোসল।
এই গোসলের ব্যাপারটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই গল্পের সমস্ত ঝামেলার শুরু এখান থেকেই।
পৃথিবীর অন্য প্রান্তে, আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে, একটা বিশাল পেন্টহাউসে থাকত Oom Ador। Oom Ador-এর নামটা একটু অদ্ভুত, সে নিজেও জানে। তার বাবা-মা নাকি নাম রাখার সময় একটু “ক্রিয়েটিভ” হতে চেয়েছিলেন। ফলে যা হওয়ার তাই হয়েছে — মেয়েটির নাম হয়েছে Oom Ador, আর সারাজীবন প্রথম পরিচয়ে মানুষ জিজ্ঞেস করে, “এটা কি কোনো দেশের ভাষায় কিছু মানে করে?”
Oom Ador আমেরিকার সবচেয়ে বিখ্যাত পপ স্টার। তার গান শুনলে মানুষ কাঁদে, হাসে, প্রেমে পড়ে, প্রেম ভাঙে, আবার প্রেমে পড়ে — মোটামুটি পুরো আবেগের সার্কিট একটা অ্যালবামেই সম্পন্ন হয়ে যায়। তার কনসার্টে লাখ লাখ মানুষ আসে। তার প্রতিটা টুইট নিউজ হয়। সে যদি একদিন বলে “আজ আমি পাস্তা খেয়েছি,” তাহলে পরদিন সকালে CNN-এ হেডলাইন হয়: “Oom Ador eats pasta — what does it mean for the music industry?”
কিন্তু এত বড় তারকা হওয়ার পরেও Oom Ador-এর একটা অভ্যাস ছিল যা সম্পূর্ণ সাধারণ। সে প্রতিদিন রাত দশটায় গোসল করত।
নিউ ইয়র্কের রাত দশটা। ঢাকার রাত দশটা। এখানে একটু থামতে হবে।
কারণ পৃথিবীর দুটো জায়গার মধ্যে টাইম জোনের পার্থক্য আছে। ঢাকা UTC+6, নিউ ইয়র্ক UTC-5। মানে ঢাকার রাত দশটা হলো নিউ ইয়র্কের সকাল এগারোটা। তাহলে দুজনেই রাত দশটায় গোসল করলে তো একই সময় গোসল করার কথা নয়।
এই যুক্তিটা সম্পূর্ণ ঠিক। কিন্তু মহাবিশ্ব গণিত বোঝে না। মহাবিশ্ব শুধু বোঝে প্যাটার্ন। আর প্যাটার্নের দিক থেকে দেখলে — প্রতিদিন, ঠিক একই রুটিনে, একই তীব্রতায়, একই মনোযোগ দিয়ে, দুটো মানুষ গোসল করছে। একজন ঢাকায়, একজন নিউ ইয়র্কে।
মহাবিশ্ব বিভ্রান্ত হয়ে গেল।
মহাবিশ্বের বিভ্রান্তি কোনো ছোট বিষয় নয়। যখন মহাবিশ্ব বিভ্রান্ত হয়, তখন কোয়ান্টাম ফিজিক্সের কিছু নিয়মকানুন এলোমেলো হয়ে যায়। বিশেষ করে কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গেলমেন্টের নিয়ম। সহজ বাংলায় বললে: যখন দুটো কণা একই অবস্থায় বারবার একই কাজ করে, মহাবিশ্ব তাদের একটা কণা বলে ভুল করে। আর একটা কণাকে দুই জায়গায় রাখা যায় না, তাই সে দুটোকে এক জায়গায় নিয়ে আসার চেষ্টা করে।
সহজ কথায়: আশিক আর Oom Ador-কে মহাবিশ্ব একই কণা ভেবে ফেলেছিল।
এবং সেই ভুলের ফলাফল হলো — আশিকের বাথরুমের দেয়ালে একটা পোর্টাল তৈরি হলো।
সেই রাতটার কথা আশিক কোনোদিন ভুলবে না। সে গোসল করতে বাথরুমে ঢুকেছে। পানি চালু করেছে। পানি ঠান্ডা — কারণ তার বাড়িতে হিটার নেই। কিন্তু সে অভ্যস্ত। একটু কাঁপতে কাঁপতে শ্যাম্পু মাথায় দিয়েছে। গান গাইছে — “আমার সোনার বাংলা”র সুরে নিজের বানানো একটা গান, যার কথা মূলত তার অফিসের বসের সম্পর্কে অভিযোগ।
তারপর হঠাৎ। বাথরুমের পূর্ব দেয়ালটা একটু কাঁপল। আশিক ভাবল ভূমিকম্প। ঢাকায় মাঝে মাঝে হয়।
তারপর দেয়ালটা আলো ছড়াতে শুরু করল। নীল, সবুজ, বেগুনি — এই তিন রঙের এক অদ্ভুত মিশ্রণ। যেন কেউ দেয়ালের ভেতর একটা ডিস্কো লাইট লাগিয়ে রেখেছে।
আশিক ভাবল শর্ট সার্কিট।
তারপর দেয়ালটা গলে গেল। সেখানে একটা গোল জানালার মতো ফাঁক তৈরি হলো। আর সেই ফাঁকের ওপারে সম্পূর্ণ অন্য একটা বাথরুম দেখা যাচ্ছে।
সাদা মার্বেলের বাথরুম। বিশাল। আশিকের পুরো ফ্ল্যাটের চেয়ে বড়। সোনার কল, একটা জ্যাকুজি, দেয়ালে আঁকা ছবি। আর সেই বাথরুমের শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে আছে একটি মেয়ে।
মেয়েটার চুল ভেজা। চোখ বন্ধ। সে গান গাইছে। আর সেই গানটা আশিক চিনতে পারল — কারণ এটা Oom Ador-এর সবচেয়ে বিখ্যাত গান।
আশিক গোসলের মাঝখানে জমে গেল।
মেয়েটা চোখ খুলল। দুজন দুজনের দিকে তাকাল।
এরপর যা হলো তা পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বিব্রতকর দশ সেকেন্ড। কারণ দুজনেই গোসলে ছিল। দুজনেই বুঝল এটা কোনো স্বাভাবিক পরিস্থিতি নয়। আর দুজনেই একযোগে সবচেয়ে স্বাভাবিক কাজটা করল।
চিৎকার।
আশিক বাংলায় চিৎকার করল। Oom Ador ইংরেজিতে চিৎকার করল। দুটো চিৎকার একসাথে মিলে এমন একটা শব্দ তৈরি করল যেটা পরে বিজ্ঞানীরা পরিমাপ করলে বলতেন — এই শব্দের তীব্রতায় পাশের দেশের আবহাওয়া অফিসে ছোট একটা ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে।
চিৎকারের পর দুজনেই যার যার বাথরুমের কোণে চলে গেল। পোর্টালটা তখনো সেখানে ছিল।
আশিক কোনোরকমে একটা তোয়ালে গায়ে জড়িয়ে বাংলায় বলল, “এটা কী?” Oom Ador ইংরেজিতে বলল, “What the— what is HAPPENING?”
তারপর দুজনেই বুঝল ভাষার সমস্যা আছে। কিন্তু আশিক ইংরেজি জানত। সে একটু ইতস্তত করে বলল, “I… also don’t know what this is.”
Oom Ador বলল, “Are you… are you in my wall?” আশিক বলল, “I think you are in MY wall.”
Oom Ador বলল, “This is my penthouse. Forty-second floor. New York City.” আশিক বলল, “This is my flat. Second floor. Dhaka.”
দুজনেই একটু চুপ করে রইল। তারপর Oom Ador বলল, “Okay so we have a portal.” আশিক বলল, “Yes. We have a portal.” “In our bathrooms.” “While we were showering.”
আরেকটু চুপ। তারপর দুজনেই একসাথে বলল, “This is a problem.”
পোর্টালটা সেই রাতে বন্ধ হয়ে গেল যখন দুজন গোসল শেষ করে বাথরুম থেকে বের হয়ে গেল। আশিক বের হওয়ার সাথে সাথে দেয়ালটা আবার স্বাভাবিক হয়ে গেল — সাদা চুনকাম করা, ফাটল ধরা পুরনো দেয়াল।
আশিক সেই রাতে ঘুমাতে পারল না। সে বিছানায় শুয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে রইল। ফ্যান ঘুরছে, হেলিকপ্টারের মতো শব্দ করছে। আর আশিক ভাবছে — এটা কি স্বপ্ন ছিল? হ্যালুসিনেশন? শ্যাম্পুতে কোনো কেমিক্যাল ছিল?
কিন্তু না। সে স্পষ্ট দেখেছে। পোর্টাল ছিল। আর ওপারে Oom Ador ছিল।
সেই Oom Ador। যার পোস্টার তার বন্ধু রাফির ঘরে আছে। যার গান সে বাসে যেতে যেতে শোনে। যার সাথে এইমাত্র সে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে কথা বলেছে।
আশিক বালিশে মুখ চাপা দিয়ে একটা শব্দ করল যেটাকে বাংলায় সরাসরি অনুবাদ করা সম্ভব না, তবে মোটামুটি অর্থ হলো: “আমার জীবনটা কেন এরকম।”
নিউ ইয়র্কে Oom Ador-ও ঘুমায়নি। সে তার বিশাল বিছানায় বসে ল্যাপটপ নিয়ে সার্চ করছে: “bathroom portal physics”, “quantum entanglement shower”, “why is there a Bangladeshi man in my wall”।
গুগল খুব একটা সাহায্য করল না। প্রথম রেজাল্টে এলো একটা Reddit থ্রেড যেখানে কেউ দাবি করেছে সে গোসলের সময় অন্য ডাইমেনশনের সাথে কথা বলেছে, কিন্তু কমেন্টে সবাই তাকে ডাক্তার দেখাতে বলেছে।
Oom Ador ল্যাপটপ বন্ধ করল। সে ভাবল — ছেলেটা দেখতে খারাপ ছিল না। আতঙ্কিত ছিল, কিন্তু খারাপ না। আর তার বাংলায় চিৎকারটা বেশ এনার্জেটিক ছিল।
তারপর সে নিজেকে বলল: এই মুহূর্তে এটা চিন্তা করা উচিত নয়। সমস্যা হলো: পরের দিনও সমস্যাটা থাকবে কিনা?
পরের দিন রাত দশটায় আশিক ইচ্ছে করে গোসল করল না। সে ভাবল — যদি গোসল না করি, পোর্টাল হবে না। সমস্যা সমাধান।
কিন্তু ঢাকার গরমে সারাদিন অফিস করে এসে গোসল না করে থাকা অসম্ভব। রাত সাড়ে দশটার মধ্যে সে আর পারল না। বাথরুমে ঢুকল।
পানি চালু করার দশ সেকেন্ডের মধ্যে দেয়ালে আবার নীল-সবুজ আলো। পোর্টাল খুলে গেল।
এবার Oom Ador-ও প্রস্তুত ছিল। সে গোসল করছিল। কিন্তু এবার সে পোর্টালের দিকে তাকিয়ে আছে, হাতে একটা ছোট নোটবুক আর কলম।
আশিক বলল, “You’re taking notes?”
Oom Ador বলল, “I’m a songwriter. I take notes on everything. Also I googled what happened and I have a theory.”
আশিক বলল, “Please tell me.”
Oom Ador তার নোট দেখে বলল, “Quantum entanglement. When two particles behave identically, repeatedly, with the same pattern and intensity, the universe sometimes treats them as one particle. I think… that’s us.”
আশিক কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, “You’re saying the universe thinks we’re the same particle.” “Because we shower at the same time, every day, with the same routine.” “That’s the most ridiculous thing I’ve ever heard.” “Do you have a better explanation for the glowing portal in your bathroom wall?”
আশিক তাকাল। পোর্টালটা তখন ঝলমল করছে। “No,” সে স্বীকার করল।
“So,” Oom Ador বলল, “we need to figure out how to convince the universe we’re two separate particles.”
আশিক বলল, “How do you convince the universe of anything?”
Oom Ador কলম মুখে দিয়ে ভাবল। তারপর বলল, “We need to do something that makes us distinctly, unambiguously, cosmically… different. Something the universe can’t ignore.”
আশিক বলল, “Like what? Different shampoo?” Oom Ador বলল, “I tried that today. Still a portal.” “Different time?” “I tried eleven PM last week before this started. It was already happening twice a week.” “Different shower temperature?” “Worth trying.”
দুজনেই পরের দশ মিনিট নানা সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করল। পোর্টালের মধ্য দিয়ে কথা বলতে বলতে। দুজনেই গোসলের মাঝখানে। এটা পৃথিবীর সবচেয়ে অদ্ভুত মিটিং ছিল — কোনো কনফারেন্স রুম নেই, কোনো স্যুট নেই, শুধু দুটো বাথরুম, একটা পোর্টাল, আর দুটো মানুষ যারা চাইছে মহাবিশ্বকে বোঝাতে যে তারা আলাদা।
পরের সপ্তাহে তারা অনেক কিছু ট্রাই করল। আশিক গোসলের সময় বাংলা গান গাইল। Oom Ador গাইল ইংরেজি পপ। পোর্টাল বন্ধ হলো না। আশিক সন্ধ্যা সাতটায় গোসল করার চেষ্টা করল। Oom Ador করল রাত বারোটায়। পোর্টাল খুলল — শুধু সময়মতো না, একটু আগে-পরে করে। আশিক ঠান্ডা পানিতে গোসল করল। Oom Ador গরম পানিতে। পোর্টাল রইল। আশিক মাথায় শ্যাম্পুর বদলে সাবান দিল। Oom Ador দিল কন্ডিশনার। পোর্টাল রইল। আশিক গোসল করতে গিয়ে ইচ্ছে করে হোঁচট খেল। Oom Ador গোসল করতে গিয়ে ইচ্ছে করে গান থামিয়ে দিল। পোর্টাল রইল।
প্রতি রাতে তারা দুজনে কথা বলত। আস্তে আস্তে কথা বলতে বলতে তারা পরস্পরকে চিনতে শুরু করল।
আশিক জানল Oom Ador আসলে খুব একা। এত বড় তারকা, কিন্তু কথা বলার মানুষ কম। যারা কাছে থাকে তারা বেশিরভাগ কাজের কারণে থাকে। সত্যিকারের বন্ধু বলতে প্রায় কেউ নেই।
Oom Ador জানল আশিক আসলে বেশ মজার মানুষ। সে কোড লেখে, কিন্তু স্বপ্ন দেখে ছোটগল্প লেখার। অফিসে সে “সবচেয়ে শান্ত কর্মচারী” হিসেবে পরিচিত, কিন্তু বাড়িতে সে একা একা রান্না করতে করতে মন্তব্য করে যেন রান্নার শো হোস্ট করছে।
একদিন রাতে Oom Ador হাসতে হাসতে বলল, “তুমি কি জানো, আমার সাথে সবচেয়ে ভালো কথোপকথন হয় তোমার সাথে? এবং এটা হয় একটা গ্লোয়িং পোর্টালের মাধ্যমে, দুজনেই গোসলে?”
আশিক বলল, “আমার জীবনের সবচেয়ে অদ্ভুত ফ্রেন্ডশিপ।” “Friendship,” Oom Ador একটু অন্যভাবে শব্দটা উচ্চারণ করল।
আশিক বুঝল সে কী বোঝাচ্ছে। কিন্তু সে সেই বিষয়ে গেল না। কারণ সমস্যা এখনো সমাধান হয়নি।
দুই সপ্তাহ পর তারা একটা সিদ্ধান্তে আসল। পোর্টালের সমস্যা সমাধান করতে হলে মহাবিশ্বকে বুঝিয়ে দিতে হবে যে তারা দুটো আলাদা সত্তা। আর মহাবিশ্বকে বোঝানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো এমন কিছু করা যেটা দুটো আলাদা কণার মধ্যেই সম্ভব — একটা কণার পক্ষে সম্ভব নয়।
পদার্থবিদ্যার ভাষায় এটাকে বলে “quantum decoherence” — দুটো কণার মধ্যে এমন একটা মিথস্ক্রিয়া যেটা তাদের আলাদা করে দেয়।
কিন্তু মানুষের ভাষায়? Oom Ador একটু লজ্জা পেয়ে, কিন্তু সরাসরি বলল, “The universe needs to feel our… distinct energies. Separately and together. Like two waves that make a new wave when they meet.”
আশিক ফিজিক্স বোঝে। সে বুঝল তুর্ণী কী বলছে। “তুমি কি বলছ যে…” “Physics,” Oom Ador বলল দৃঢ়ভাবে। “It’s purely physics.” “Purely physics,” আশিক একটু গলা খাঁকারি দিয়ে বলল।
দুজনেই একটু চুপ করে রইল। তারপর আশিক বলল, “কিন্তু এটা কি সত্যিই কাজ করবে?” Oom Ador বলল, “আমার কাছে অন্য কোনো তত্ত্ব নেই।” “Google বলছে?” “Reddit বলছে। এবং Reddit-এ একজন পদার্থবিজ্ঞানী আছে যে বলেছে কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গেলমেন্ট ভাঙতে হলে দুটো কণার মধ্যে একটা নির্দিষ্ট ধরনের ‘interaction event’ দরকার।” “Reddit-এর পদার্থবিজ্ঞানীকে বিশ্বাস করতে হবে?” “আমাদের কাছে MIT-এর কেউ নেই।”
আশিক ভাবল। “ঠিক আছে। কিন্তু কীভাবে? পোর্টাল তো বাথরুমে। আর আমরা দুজন দুই দেশে।” Oom Ador পোর্টালের দিকে তাকাল। “পোর্টাল তো আছে।” আশিকও তাকাল। “পোর্টাল তো আছে,” সে স্বীকার করল।
এই মুহূর্তে গল্পকার হিসেবে আমাকে একটু থামতে হবে। কারণ পরবর্তী যা ঘটল, সেটা বর্ণনা করার জন্য সঠিক ভাষা নির্বাচন করাটা জরুরি।
পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় বললে: দুটো কোয়ান্টাম কণা যখন decoherence-এর জন্য interact করে, তখন তারা একটা নির্দিষ্ট ধরনের energy exchange করে। এই exchange-এর মাধ্যমে মহাবিশ্ব তাদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে পারে।
সঙ্গীতের ভাষায় বললে: দুটো আলাদা সুর যখন একসাথে বাজে, তখন তারা একটা নতুন সুর তৈরি করে। কিন্তু সেই নতুন সুরে দুটো সুরই আলাদাভাবে শোনা যায়।
রান্নার ভাষায় বললে: দুটো আলাদা মশলা যখন একসাথে মেশে, তখন তারা একটা নতুন স্বাদ তৈরি করে। কিন্তু রান্নায় দুটোরই গন্ধ আলাদাভাবে পাওয়া যায়।
নদীর ভাষায় বললে: দুটো নদী যখন মিলিত হয়, তখন তারা একটা বড় নদী তৈরি করে। কিন্তু সেই বড় নদীতেও দুটো ধারা আলাদাভাবে প্রবাহিত হয়, ভিন্ন রঙে, ভিন্ন স্রোতে।
এই সবগুলো ভাষায় একই কথা বলা হচ্ছে। আর আশিক আর Oom Ador সেটাই করল। পোর্টালের মাধ্যমে। দুটো বাথরুমের মধ্যে। মহাবিশ্বকে বোঝানোর জন্য।
সেই রাতে, তাদের এই “কোয়ান্টাম ইন্টারঅ্যাকশন” শেষ হওয়ার পর, মহাবিশ্ব একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলল। অন্তত আশিকের মনে হলো ফেলল। কারণ হঠাৎ বাথরুমে একটা শান্তির বাতাস এল। পোর্টালটা ধীরে ধীরে আলো কমাল। আর তারপর বন্ধ হয়ে গেল।
Oom Ador-এর শেষ কথাটা ছিল: “Did it work?” আশিক বলল, “আমি মনে করি—” এবং তখনই পোর্টাল বন্ধ হয়ে গেল।
আশিক দেয়ালের দিকে তাকিয়ে রইল। সাদা, চুনকাম করা, ফাটল ধরা পুরনো দেয়াল। কোনো আলো নেই, কোনো পোর্টাল নেই। সে একটা নিঃশ্বাস ফেলল। সমাধান হয়েছে।
কিন্তু হয়নি।
পরের দিন রাতে আশিক গোসল করতে গেল। দেয়ালে আলো। পোর্টাল খুলল।
Oom Ador ওপারে, মাথায় শ্যাম্পু, অভিব্যক্তিতে বিরক্তি আর বিস্ময়ের মিশ্রণ। সে বলল, “It’s back.” আশিক বলল, “আমি দেখতে পাচ্ছি।” “So it didn’t work?” “It worked for one day apparently.” “ONE DAY?” “The universe has a short memory?”
Oom Ador মাথায় শ্যাম্পু নিয়েই হাত দিয়ে মুখ ঢাকল। আশিক দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়াল।
দুজনেই বুঝল সমস্যাটা তারা আগে যতটা সহজ ভেবেছিল, আসলে ততটা সহজ নয়।
পরের কয়েক সপ্তাহ তারা রিসার্চ করল। ভালো কথা হলো, Oom Ador-এর অনেক টাকা। সে একজন কোয়ান্টাম ফিজিক্সের প্রফেসরকে হায়ার করল — অবশ্যই পোর্টালের কথা না বলে। সে শুধু বলল: “Hypothetically speaking, if the universe treated two people as one quantum particle, what would it take to permanently decohere them?”
প্রফেসর প্রথমে হাসলেন। তারপর ভাবলেন। তারপর লম্বা একটা উত্তর দিলেন যেটার সার কথা ছিল: “Quantum decoherence is permanent only when the interaction between the two particles creates a new, stable state. A one-time interaction isn’t enough — the universe needs to observe them repeatedly in their distinct states until it accepts them as separate.”
সহজ কথায়: একবার করলে হবে না। বারবার করতে হবে। যতদিন না মহাবিশ্ব মেনে নেয়।
Oom Ador প্রফেসরকে ধন্যবাদ দিয়ে ফোন রেখে দিয়ে পোর্টালের মাধ্যমে আশিককে এই তথ্য জানাল।
আশিক কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল। তারপর বলল, “তার মানে আমাদের… প্রতিদিন?” Oom Ador বলল, “Apparently.” “কতদিন?” “যতদিন না মহাবিশ্ব… আপডেট হয়।” “মহাবিশ্ব আপডেট হতে কতদিন লাগে?” “প্রফেসর বললেন এটা নির্ভর করে কণার প্রকৃতির উপর।” “আমরা কণা নই।” “The universe disagrees.”
আশিক দেয়ালে মাথা ঠেকাল। এইভাবে শুরু হলো তাদের নতুন রুটিন।
প্রতিদিন রাতে গোসল। প্রতিদিন পোর্টাল। প্রতিদিন কথাবার্তা, হাসিঠাট্টা, আর তারপর “কোয়ান্টাম ডিকোহেরেন্স প্রক্রিয়া”।
মহাবিশ্ব প্রতিদিন একটু বেশি বুঝত, কিন্তু পুরোটা বুঝত না। পোর্টাল বন্ধ হতো, কিন্তু পরের দিন আবার খুলত।
আশিকের জীবনে এই পোর্টালটা এখন এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেল যে সে গোসলে যাওয়ার আগে ভাবে: “চলো Oom Ador-এর সাথে কথা বলি।” ইউনিভার্সের সমস্যার কথা মাথায় আসে দ্বিতীয়তে।
Oom Ador-ও তাই। তার ম্যানেজার একদিন লক্ষ্য করল সে সন্ধ্যা থেকেই অস্থির হয়ে যায়, ঘড়ি দেখে, আর রাত দশটার আগেই বাথরুমে চলে যায়। “আপনি কি নতুন কোনো স্কিনকेयर রুটিন শুরু করেছেন?” ম্যানেজার জিজ্ঞেস করল। “কিছুটা সেরকম,” Oom Ador বলল।
একদিন রাতে তারা কথা বলতে বলতে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে এলো। Oom Ador বলল, “তুমি কি কখনো ভাবো যে মহাবিশ্ব হয়তো ইচ্ছে করেই এটা সমাধান করছে না?”
আশিক বলল, “মানে?” “মানে হলো — হয়তো এটা একটা বাগ না। হয়তো এটা একটা… ফিচার।” “মহাবিশ্বের ফিচার?” “ভাবো। আমরা দুজন পৃথিবীর দুই প্রান্তে। কখনো দেখা হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু কোনোভাবে — গোসলের অভ্যাসের মিলের কারণে — আমরা একে অপরকে পেয়েছি। মহাবিশ্ব হয়তো ভাবছে: এদের আলাদা করাটা ঠিক হবে না।”
আশিক কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, “তুমি কি বলছ যে মহাবিশ্ব আমাদের ম্যাচমেকিং করেছে?” Oom Ador হাসল। “হয়তো।” “এবং তার পদ্ধতি হলো বাথরুমে পোর্টাল?” “মহাবিশ্বের সেন্স অফ হিউমার একটু অদ্ভুত।”
আশিক হাসল। তারপর সিরিয়াস হয়ে বলল, “কিন্তু সত্যি বলতে — তুমি আমেরিকায়, আমি ঢাকায়। পোর্টাল ছাড়া আমাদের মধ্যে কোনো… বাস্তবতা নেই।”
Oom Ador বলল, “তুমি কি ভিসা পেতে পারবে?” আশিক হাসল তিক্তভাবে: “আমেরিকার ভিসা। হ্যাঁ, সেটা খুব সহজ।” “আমি invite করলে?” “তুমি… তুমি আমাকে invite করবে?” “কেন করব না?” “কারণ তুমি Oom Ador।” “এবং তুমি আশিক। এই পোর্টালের মধ্যে তুমি শুধু আশিক, আমি শুধু Oom। বাকি সব লেবেল তো আমরা নিজেরা লাগিয়েছি।”
আশিক অনেকক্ষণ চুপ করে রইল। “তুমি গান লেখো,” সে অবশেষে বলল। “হ্যাঁ।” “এই মুহূর্ত নিয়ে লিখবে?” Oom Ador হাসল। “আমি ইতিমধ্যে তিনটা গান লিখে ফেলেছি।”
মাস দুয়েক কেটে গেল। এই দুই মাসে তারা প্রতিদিন কথা বলল। প্রতিদিন একে অপরকে আরও ভালোভাবে চিনল।
আশিক জানল Oom Ador-এর পছন্দের খাবার হলো স্পাইসি রামেন — কারণ সে ছোটবেলায় একবার একটা জাপানি রেস্টুরেন্টে গিয়ে এটা খেয়েছিল এবং সেদিনটা তার জীবনের সবচেয়ে সুখের দিনগুলোর একটা ছিল।
Oom Ador জানল আশিকের স্বপ্ন হলো একদিন একটা গল্পের বই লেখা। সে ইতিমধ্যে অনেক গল্প শুরু করেছে, কিন্তু কোনোটাই শেষ করেনি। কারণ তার মনে হয় গল্পের শেষটা সবসময় যথেষ্ট ভালো হয় না। “শেষ না করলে কখনো ভালো শেষ পাবে না,” Oom Ador বলল। “এটা একটা গানের কথার মতো শোনাচ্ছে।” “কারণ এটা আমার একটা গানের কথা।”
আশিক হাসল। Oom Ador জিজ্ঞেস করল, “তুমি কি আমাকে নিয়ে একটা গল্প লিখবে?” “তুমি কি পপ স্টার নাকি গল্পের চরিত্র?” “এই মুহূর্তে দুটোই।”
তারপর এলো সেই রাত যেটা সবকিছু বদলে দিল।
সেই রাতে গোসল করতে গিয়ে আশিক লক্ষ্য করল পোর্টালটা একটু আলাদা। আগে পোর্টাল খুলতে পানি চালু করার পর পাঁচ-দশ সেকেন্ড লাগত। আজ পানি চালু করতেই পোর্টাল খুলল। আর পোর্টালের আলো আগের চেয়ে কম।
Oom Ador-ও লক্ষ্য করেছে। “এটা কি ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে?” আশিক জিজ্ঞেস করল। Oom Ador বলল, “আমার মনে হচ্ছে… হ্যাঁ।”
দুজনেই চুপ করে রইল। এই চুপ করে থাকার মধ্যে একটা অদ্ভুত ভার ছিল। কারণ পোর্টাল বন্ধ হওয়া মানে সমস্যার সমাধান — এটাই তারা চাইছিল। কিন্তু পোর্টাল বন্ধ হওয়া মানে… এই প্রতিদিনের কথাবার্তা, এই হাসিঠাট্টা, এই “কোয়ান্টাম ইন্টারঅ্যাকশন” — এগুলোও বন্ধ হওয়া।
“তুমি কেমন আছ?” Oom Ador জিজ্ঞেস করল। “তুমি আসলে কী জিজ্ঞেস করছ?” “আমি জিজ্ঞেস করছি যখন পোর্টাল বন্ধ হয়ে যাব, তখন কী হবে।”
আশিক সত্যি কথাটা বলল, “জানি না।” “আমি চাই তুমি আসো।” “নিউ ইয়র্কে?” “হ্যাঁ।” “Oom, তুমি পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত—” “তুমি পৃথিবীর একমাত্র মানুষ যে আমাকে প্রতিদিন রাতে কথা বলার সুযোগ দিয়েছে। পোর্টালের মাধ্যমে। বাথরুমে। কোনো ক্যামেরা নেই, কোনো ম্যানেজার নেই, কোনো ফ্যান নেই। শুধু তুমি আর আমি। আমি আর কোথায় এটা পাব?”
আশিক কিছু বলতে পারল না। Oom Ador বলল, “আমি কাল আমার ম্যানেজারকে বলব ঢাকায় একটা কনসার্টের ব্যবস্থা করতে।” আশিক হাসল: “ঢাকায় কনসার্ট?” “কেন নয়? আমি তো আগে কখনো বাংলাদেশে যাইনি।” “তুমি কি ঢাকার ট্রাফিকের জন্য প্রস্তুত?” “আমি বাথরুমে পোর্টালের জন্য প্রস্তুত ছিলাম। ট্রাফিক কোনো ব্যাপার না।”
পরের সপ্তাহে পোর্টালের আলো আরও কমে গেল। এখন পোর্টাল খোলে, কিন্তু আগের মতো উজ্জ্বল নয়। আশিক দেখতে পাচ্ছে Oom Ador-কে কিন্তু একটু ঝাপসা, যেন কুয়াশার মধ্য দিয়ে।
একদিন রাতে Oom Ador বলল, “আমি একটা জিনিস বুঝলাম।” “কী?” “মহাবিশ্ব আসলে বোকা নয়।” “মানে?” “শুরুতে আমরা ভেবেছিলাম মহাবিশ্ব ভুল করেছে — আমাদের একটা কণা ভেবেছে। কিন্তু হয়তো সেটা ভুল ছিল না। হয়তো মহাবিশ্ব দেখেছিল যে আমরা দুজন একই রকম — একই রুটিন, একই মনোযোগ, একই তীব্রতা। আর সে বলল: এই দুটোকে একটু পরিচয় করিয়ে দিই।” “সে পারত অন্যভাবেও করতে।” “যেমন?” “Tinder?” Oom Ador হাসতে হাসতে বলল, “মহাবিশ্ব Tinder ব্যবহার করে না।” “মহাবিশ্ব বাথরুমে পোর্টাল খোলে। এটা কি বেশি সভ্য?” “এটা অবশ্যই বেশি dramatic।”
“তুমি কি জানো,” আশিক বলল, “আমি কখনো ভাবিনি যে আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষের সাথে আমার পরিচয় হবে এইভাবে।” “গুরুত্বপূর্ণ মানুষ?” Oom Ador একটু থামল। “হ্যাঁ।”
একটা নীরবতা। “তুমি আমার গান শুনেছ কখনো?” Oom Ador জিজ্ঞেস করল। “হ্যাঁ।” “কোনটা পছন্দ?” “যেটায় তুমি বলেছ: ‘The bravest thing I ever did was show up even when I didn’t want to.’” “সেটা পুরনো গান।” “কিন্তু সত্যি।”
Oom Ador চুপ করে রইল। তারপর বলল, “আমি জানব না কখন পোর্টাল চিরতরে বন্ধ হবে। হয়তো কাল। হয়তো এক মাস পর।” “জানি।” “তুমি কি আসবে ঢাকার কনসার্টে?” “তুমি কি সত্যিই ঢাকায় কনসার্ট করবে?” “আমার ম্যানেজার ইতিমধ্যে খোঁজখবর নিচ্ছে। বঙ্গবন্ধু ন্যাশনাল স্টেডিয়াম নাকি উপলব্ধ।”
আশিক হতবাক হয়ে গেল: “তুমি সত্যিই…” “আমি বলেছিলাম না। আমি কথার কথা বলি না।”
পোর্টাল বন্ধ হওয়ার আগের রাতটা তারা দুজনেই অনুভব করল। কারণ সেই রাতে পোর্টালের আলো এতটাই কম ছিল যে তারা একে অপরকে প্রায় দেখতেই পাচ্ছিল না। কথা বলছ, শব্দ আসছে, কিন্তু ছবি ঝাপসা।
“আজকে মনে হচ্ছে শেষ রাত,” Oom Ador বলল। “আমিও তাই ভাবছি।” “ভয় লাগছে?” “না। তুমি?” “একটু।” “কেন?” “কারণ পোর্টাল বন্ধ হওয়ার পরে আমরা আবার সাধারণ মানুষ হবে যাব। তুমি ঢাকায়, আমি নিউ ইয়র্কে। ফোন করতে পারব, ভিডিও কলে কথা বলতে পারব — কিন্তু সেটা এই পোর্টালের মতো নয়।” “না, সেটা এর মতো নয়।”
একটু নীরবতা। “কিন্তু,” আশিক বলল, “ফোনে কথা বলা যায়। ভিডিও কলে দেখা যায়। বিমানে চড়ে দেখা করা যায়। এগুলো সাধারণ মানুষের সাধারণ উপায়।”
“তুমি কি সাধারণ মানুষ?” “আমি বলেছিলাম — আমি দ্বিতীয় ধরনের সাধারণ।” “কিন্তু তুমিই একমাত্র মানুষ যে কোয়ান্টাম পোর্টালের মাধ্যমে আমার সাথে বন্ধুত্ব করেছে।” “এটা কি আমাকে বিশেষ করে তোলে?” “এটা তোমাকে অদ্বিতীয় করে তোলে।”
আশিক হাসল। Oom Ador বলল, “আশিক।” “হ্যাঁ।” “তুমি কি সেই গল্পটা লেখা শুরু করবে?” “কোনটা?” “যেটা তুমি সবসময় লিখতে চেয়েছিলে কিন্তু শেষ করোনি।” “কোনটা নিয়ে লিখব?” “এটা নিয়ে লেখো। আমাদের নিয়ে। পোর্টাল নিয়ে। মহাবিশ্বের বিভ্রান্তি নিয়ে।” “কেউ বিশ্বাস করবে না।” “ভালো গল্পের বিশ্বাসযোগ্যতা দরকার নেই। দরকার সততা।” “সত্যটা কী?” “সত্যটা হলো: দুটো মানুষ, পৃথিবীর দুই প্রান্ত, একই সময়ে একই কাজ করে। মহাবিশ্ব তাদের এক করতে চায়। আর তারা মিলে মহাবিশ্বের সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে আবিষ্কার করে যে আসলে সমস্যাটা ছিল না — সুযোগ ছিল।”
আশিক চুপ করে রইল। “সেটা কি ভালো শেষ?” Oom Ador জিজ্ঞেস করল। “সেটা ভালো শুরু,” আশিক বলল।
পোর্টাল সেই রাতে “কোয়ান্টাম ইন্টারঅ্যাকশন”-এর পরে বন্ধ হলো।
কিন্তু এবার আশিক বুঝতে পারল — এটা আগের মতো বন্ধ নয়। আগে বন্ধ হতো মানে পরের দিন আবার খুলবে। এবার বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে দেয়ালটা অন্যরকম হয়ে গেল। আগে বন্ধ পোর্টালের জায়গায় একটা হালকা আলোর আভা থাকত, এখন সেটাও নেই। দেয়াল সম্পূর্ণ সাধারণ।
আশিক হাত দিয়ে দেয়ালটা স্পর্শ করল। ঠান্ডা। শক্ত। পুরনো চুনকামের খসখসে অনুভূতি। পোর্টাল গেছে।
সে বাথরুম থেকে বের হলো। গায়ে তোয়ালে জড়িয়ে বিছানায় বসল। ফ্যান ঘুরছে। হেলিকপ্টারের শব্দ।
সে ফোনটা তুলল। একটা নতুন নম্বর সেভ করা আছে — Oom Ador শেষ সপ্তাহে দিয়েছিল।
সে একটা মেসেজ টাইপ করল: “Portal’s gone.” কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে জবাব এলো: “I know. Mine too.” তারপর: “Are you okay?” আশিক টাইপ করল: “হ্যাঁ। তুমি?” “Yeah. A little… quiet.” “আমিও।” একটু থেমে: “Dhaka concert confirmed btw. Three months from now.” আশিক হাসল। সে টাইপ করল: “আমি সামনের সারিতে থাকব।” Oom Ador: “You’ll be backstage.” আশিক: “আমি কি ব্যাকস্টেজে যাওয়ার উপযুক্ত?” Oom Ador: “You’re the only person who has ever had a portal to my bathroom. You can go anywhere you want.”
তিন মাস পর। ঢাকার বঙ্গবন্ধু ন্যাশনাল স্টেডিয়াম।
আশিক ব্যাকস্টেজে দাঁড়িয়ে আছে। চারদিকে লাইট, ক্যামেরা, মানুষ। ম্যানেজার, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার, ড্যান্সার, স্টাইলিস্ট। সবাই ব্যস্ত।
আশিক অদৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়ে আছে — তার কোনো পরিচয় নেই এখানে। সে শুধু একটা পাস পরা সাধারণ মানুষ।
তারপর ভিড়ের মধ্য থেকে Oom Ador বের হয়ে এলো। সাজ মেকআপ, চকচকে পোশাক, উজ্জ্বল চোখ।
কিন্তু আশিককে দেখে সে থামল। এবং হাসল।
সেই হাসিটা আশিক চেনে। কারণ এই হাসি সে দেখেছে — পোর্টালের মধ্য দিয়ে, ঝাপসা আলোতে, শ্যাম্পু মাথায় নিয়ে। এটা কোনো সেলিব্রিটির হাসি নয়। এটা Oom-এর হাসি।
সে এসে আশিকের পাশে দাঁড়াল। বলল, “You made it.” আশিক বলল, “তুমি ঢাকায় এসেছ।” “ট্রাফিক দেখলাম।” “কেমন লাগল?” “অসাধারণ। আমার জীবনে এত কর্মচঞ্চল শহর দেখিনি।” “তুমি নিউ ইয়র্কে থাকো।” “নিউ ইয়র্ক অনেক organized। এটা… এটা জীবন্ত।”
আশিক হাসল। Oom Ador বলল, “তুমি কি গল্প লিখতে শুরু করেছ?” “আমি শুরু করেছি। এবং এবার শেষ করব।” “কী নাম দেবে?”
আশিক একটু ভাবল। “পোর্টাল প্রেম,” সে বলল।
Oom Ador হাসল। “চলো,” সে বলল। “আমার স্টেজে যাওয়ার সময় হয়েছে।” “যাও। তোমার লক্ষ দর্শক অপেক্ষা করছে।” “একজনের জন্যই গাইব।” “সে কে?”
Oom Ador একবার তাকাল। তারপর স্টেজের দিকে হাঁটতে শুরু করল।
স্টেডিয়ামে আলো নিভল। লক্ষ মানুষের গুঞ্জন।
তারপর স্পটলাইট। Oom Ador স্টেজে উঠল।
এবং প্রথম গানটা শুরু করার আগে সে মাইকে বলল: “এই গানটা আমি লিখেছি একটা অদ্ভুত অভিজ্ঞতার পর। কেউ বিশ্বাস করবে না সেই অভিজ্ঞতার কথা। কিন্তু সত্যি কথা হলো — মাঝে মাঝে মহাবিশ্ব আমাদের জন্য কিছু বিশেষ ব্যবস্থা করে। সেটা হয়তো পোর্টালের মাধ্যমে হয়, হয়তো দুর্ঘটনার মাধ্যমে হয়, হয়তো শুধু সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় থাকার মাধ্যমে হয়।”
স্টেডিয়াম শান্ত। “এই গানটার নাম: The Same Particle.”
সুর শুরু হল।
ব্যাকস্টেজে আশিক দাঁড়িয়ে আছে। সে শুনছে। আর সে বুঝতে পারছে — এই গানটা তাকে নিয়ে।
সে বাথরুমের কথা মনে করল। পোর্টালের নীল-সবুজ আলো। ঠান্ডা পানি। হেলিকপ্টারের মতো ফ্যান। আর দেয়ালের ওপারে একটা মেয়ে যে শ্যাম্পু মাথায় নিয়ে গান গাইছে।
সে হাসল।
মহাবিশ্ব অদ্ভুত। কিন্তু মাঝে মাঝে, মহাবিশ্বের অদ্ভুততাই সবচেয়ে সুন্দর জিনিস।
পরশিষ্ট: মহাবিশ্বের দৃষ্টিকোণ থেকে
মহাবিশ্ব যদি কথা বলতে পারত, সে হয়তো বলত:
“আমি ভুল করিনি। আমি শুধু দেখেছিলাম দুটো মানুষ — একটা ছোট শহরের ছোট ফ্ল্যাট, আরেকটা বড় শহরের বড় পেন্টহাউসে — প্রতিদিন একই সময়, একই তীব্রতায়, একই মনোযোগ দিয়ে, একটা সাধারণ কাজ করছে। আর আমি ভাবলাম: এরা একে অপরকে চেনে না কেন? তাই আমি একটা পোর্টাল খুললাম। হ্যাঁ, বাথরুমে। কারণ সেটাই সবচেয়ে ভালো জায়গা ছিল — কোনো ক্যামেরা নেই, কোনো পরিচয় নেই, শুধু দুটো মানুষ, তাদের আসল অবস্থায়।
তারা আমাকে দোষ দিল। বলল আমি বিভ্রান্ত। আমি বিভ্রান্ত ছিলাম না। আমি পরিকল্পনা করছিলাম। আর পরিকল্পনা কাজ করেছে।
তারা মিলেছে। শুধু বাথরুমে নয় — বঙ্গবন্ধু ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে, একটা স্পটলাইটের নিচে, লক্ষ মানুষের সামনে।
ভালোবাসার জন্য সবচেয়ে ভালো জায়গা কোনটা? যেখানে দুজনেই সত্যিকার। আমি জানতাম। আমি সবসময় জানি।”</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255379/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Jun 2026 18:09:28 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>উপকথা &#8211; ১৩ জানুয়ারি ফ্যান্টাসি &#x1f338;&#x1f338;&#x1f338;&#x1f338;&#x1f338;&#x1f338;&#x1f338;&#x1f338;&#x1f338;&#x1f338;&#x1f338;<br />
আশিক — ঢাকার সাধারণ ছেলে<br />
 Oom Ador — আমেরিকার পপ স্টার (টেলর সুইফটের আদলে)</p>
<p>আশিক একটা অত্যন্ত সাধারণ মানুষ ছিল। এই কথাটা বলতে গেলে একটু বিস্তারিত বলা দরকার, কারণ “সাধারণ” শব্দটা অনেক ক্ষেত্রে অনেকভাবে ব্যবহৃত হয়। কেউ কেউ বলে “আরে সে তো খুব সাধারণ মানুষ” — মানে লোকটা ভালো, বিনয়ী, অহংকারী নয়। আবার ক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255379"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255379/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f5ba816ec54134cc0dff11c7b20a5679</guid>
				<title>তুমি ভালোবেসেছো আমাকে

তুমি ভালোবেসেছো আমাকে 
ভালোবাসা থেকেও তোমার
তোমার অন্ধকার, তোমার অন্ধকার।
ভালোবাসোনি তোমার অন্ধকার।
আমাকে কেন ভালোবেসে বলছো—
আমি তোমার, আমি তোমার।

কেমন সে আশা তোমার
তুমি পেতে চাও আমায়
আমাকে তোমারি জীবনে
কেন এই আমাকে?

এই অন্ধকার ছায়ায়
তুমিও কি একটা সত্য?
আপেক্ষিক হৃদয় প্রেমে
কিছু আবেগ মায়ায় লুকানো।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255374/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Jun 2026 17:58:28 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>তুমি ভালোবেসেছো আমাকে</p>
<p>তুমি ভালোবেসেছো আমাকে<br />
ভালোবাসা থেকেও তোমার<br />
তোমার অন্ধকার, তোমার অন্ধকার।<br />
ভালোবাসোনি তোমার অন্ধকার।<br />
আমাকে কেন ভালোবেসে বলছো—<br />
আমি তোমার, আমি তোমার।</p>
<p>কেমন সে আশা তোমার<br />
তুমি পেতে চাও আমায়<br />
আমাকে তোমারি জীবনে<br />
কেন এই আমাকে?</p>
<p>এই অন্ধকার ছায়ায়<br />
তুমিও কি একটা সত্য?<br />
আপেক্ষিক হৃদয় প্রেমে<br />
কিছু আবেগ মায়ায় লুকানো।</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b47c38a451627aecfb083c743034c0aa</guid>
				<title>মালিক ফাহাদ and Md. Ariful Islam are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255358/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Jun 2026 17:04:38 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ff59416f81ed67cd0040f06989a07c59</guid>
				<title>মাহ্দী সাকিব and Md. Ariful Islam are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255357/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Jun 2026 17:04:33 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">237f5605912347d543df85947ff9a5b6</guid>
				<title>অমিত and Md. Ariful Islam are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255356/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Jun 2026 17:04:28 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">910a74287c509daf936e2179180509e5</guid>
				<title>ইফতিশা খানম and Md. Ariful Islam are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255351/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Jun 2026 16:36:17 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0f40a575fb12d21d313863eb61622552</guid>
				<title>Shoriful Shoron and Md. Ariful Islam are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255350/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Jun 2026 16:36:08 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">42e79997a96fc0f11ca5596acad1fc0e</guid>
				<title>Pranto Sarkar and Md. Ariful Islam are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255349/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Jun 2026 16:36:02 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">917ce8505d802e6cd2d368f66f8ceee4</guid>
				<title>Md.Emamuzzaman Wahedi and Md. Ariful Islam are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255348/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Jun 2026 16:36:01 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">312adb2a74503ba98a2a11bb4e11854d</guid>
				<title>Kabi Doctor Mohammad Zakir Hossain Biplob and Md. Ariful Islam are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255347/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Jun 2026 16:35:55 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">896a6d99f6cb50f16edcc98dd342fa99</guid>
				<title>Foyzur Khan and Md. Ariful Islam are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255346/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Jun 2026 16:35:53 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">896a6d99f6cb50f16edcc98dd342fa99</guid>
				<title>Kazi Zuberi Mostak and Md. Ariful Islam are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255345/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Jun 2026 16:35:53 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">85b93bc51ea1f85a74ea5fe907eecb0b</guid>
				<title>Humayun Kabir Surjo and Md. Ariful Islam are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255344/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Jun 2026 16:35:48 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">04f5897e9732c2e5fd08a8ac9d6efa44</guid>
				<title>&#x270d;&#x1f3fb;অন্তর্লোকের দরজা

মানুষ সত্যের খোঁজে জীবন কাটায়, অথচ অনেক সময় সত্য তার ভেতরেই নীরবে বসে থাকে। আমরা দূরত্ব মাপতে শিখি, কিন্তু নিজের গভীরতা মাপতে শিখি না।

মানুষ জন্মের পর থেকেই উত্তর খুঁজতে থাকে। কেউ খোঁজে সুখের অর্থ, কেউ সফলতার, কেউ ভালোবাসার, আবার কেউ জীবনের উদ্দেশ্যের। এই খোঁজে আমরা পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়াই, অসংখ্য বই পড়ি, মানুষের অভিজ্ঞতা শুনি, নতুন নতুন পথের সন্ধান করি। কিন্তু এক সময় হয়তো উপলব্ধি হয়—যে প্রশ্নের উত্তর আমরা বাইরে খুঁজছিলাম, তার অনেকটাই আমাদের ভেতরেই লুকিয়ে ছিল।

আমরা পৃথিবীর দূরত্ব মাপতে পারি, আকাশের নক্ষত্র গুনতে পারি, সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করতে পারি; অথচ নিজের মন, নিজের ভয়, নিজের আকাঙ্ক্ষা এবং নিজের সত্যিকারের সত্তাকে জানার জন্য খুব কম সময় ব্যয় করি। আমরা অন্যকে বুঝতে চাই, কিন্তু নিজেকে বোঝার চেষ্টা প্রায়ই করি না।

হয়তো জীবনের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার কোনো নতুন ভূমি খুঁজে পাওয়া নয়, বরং নিজের ভেতরের অজানা মানুষটিকে চিনে ফেলা। কারণ যে মানুষ নিজের গভীরতা উপলব্ধি করতে পারে, সে বুঝতে শেখে সুখ কী, দুঃখ কেন, আর জীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতার আসল অর্থ কোথায়।

সত্য সবসময় দূরের কোনো গন্তব্য নয়। অনেক সময় তা আমাদের হৃদয়ের নীরবতম কোণেই অপেক্ষা করে থাকে—শুধু আমরা নিজের দিকে তাকানোর সময় পাই না।

&#x2712;&#xfe0f; রুবেল রানা (সনেট)
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

  #RubelRanaSonet</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255343/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Jun 2026 15:20:38 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#x270d;&#x1f3fb;অন্তর্লোকের দরজা</p>
<p>মানুষ সত্যের খোঁজে জীবন কাটায়, অথচ অনেক সময় সত্য তার ভেতরেই নীরবে বসে থাকে। আমরা দূরত্ব মাপতে শিখি, কিন্তু নিজের গভীরতা মাপতে শিখি না।</p>
<p>মানুষ জন্মের পর থেকেই উত্তর খুঁজতে থাকে। কেউ খোঁজে সুখের অর্থ, কেউ সফলতার, কেউ ভালোবাসার, আবার কেউ জীবনের উদ্দেশ্যের। এই খোঁজে আমরা পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে ব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255343"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255343/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0afc73505e97f8d8c056e4489b69dcbc</guid>
				<title>মাজেদুল হক and রুবেল রানা (সনেট) are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255342/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Jun 2026 15:08:48 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d391a84af3752420164ad82a1de123a7</guid>
				<title>&quot;নিম্ন বংশের ছাগল&quot;

আমার আব্বা একজন সরকারি চাকুরীজীবি ছিলেন। 
আব্বা তাঁর মাসিক বেতন এনে আম্মার হাতে তুলে দিয়েই দায়িত্ব শেষ করতেন।এই  স্বল্প বেতনে আম্মা তাঁর সংসার চলাতে হিমশিম খেতেন।
তাই আম্মা বাসায় গরু, ছাগল , মুরগী পালতেন।যাতে করে সন্তানদের প্রাণীজ প্রোটিন এর অভাব দূর করতে পারেন। গৃহপালিত পশু এবং রেশন দিয়েই তিনি কোন রকমে সংসার চালাতেন।
আমার বড় ভাই রাজশাহী মেডিকেল  এ , মেজভাই এবং বোন রাজশাহী ববিশ্ববিদ্যালয়ে , ছোট ভাই রাজশাহী কলেজে পড়াশোনা করতেন।
বড়ভাই এর মেডিকেল এর খরচ চালানো (বড়ভাই স্কলারশিপ নিয়েই পড়াশোনা করতেন) , মেডিকেল এর বই সহ আরও আনুসঙ্গিক খরচ চালানো খুব কষ্টকর ছিলো। 
বলা চলে ডাক্তারি পড়ানো আর হাতি পোষা একই কথা।

সেই সময় আমার বড় বাবা(আব্বার বড় ভাই) এসেছিলেন বড় ভাই এর জন্য বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে। আম্মা -আব্বাকে বড় ভাই এর পড়াশোনার খরচ দিতে হবে না, মেয়ের বাবা-মা ই লেখা পড়া করাবেন। মেয়েদের বাড়ির ছাদে সুইমিংপুল আছে( সেটা কি, আমরা তখন জানতাম না।বড় বাবা বলেছিলেন - আরে ছাদের উপর পুকুর আছে)।
আসলে সেই সময়ে এমনই হতো- মেয়েপক্ষরা ছেলের লেখা পড়ার দায়িত্ব নিতো, বিয়ের বিনিময়ে। 
আমার আম্মা ,বড় বাবাকে নিজ পিতার মতই দেখতেন। আমার এখনো মনে পড়ে একবার বড়বাবা ভীষণ অসুস্থ হয়ে এসেছিলেন। আম্মা তাঁকে নিজ পিতার মতই সেবা করে সুস্থ করেছিলেন। 
যাক , আসি বিয়ের বিষয়ে। আম্মা খুব ভদ্র ভাবে বড় বাবাকে বলেছিলেন - আমার ছেলেকে ওই বাড়িতে বিয়ে দিলে আমরা কখনো মাথা উঁচু করে সেখানে যেতে পারবো না।ছেলেকে এক কথায় বিক্রি করে দেওয়া হবে, আমি সেটা কখনো হতে দিবো না।

আমি একজন সরকারি কর্মচারীর সন্তান। 

আমার আব্বা এমনি কোন এক  গ্রীষ্ম কালে তাঁর ব্যবহারের বাইসাইকেল বিক্রি করে সন্তানদের জন্য আম কিনে এনেছিলেন। আম্মা , আব্বার সাথে অনেক রাগারাগি করেছিলেন। কারণ সাইকেল ছাড়া আব্বা কিভাবে মফস্বলে যাবেন? 
আব্বা নাকি বলেছিলেন - &quot;আমি সাইকেল ছাড়া যাবো, কিন্তু ছেলে মেয়েদেরকে বছরের ফল খাওয়াতে পারবো না এটা কি হয়?&quot;

আমি একজন সরকারি কর্মচারীর সন্তান , যে সরকারি কর্মচারীকে সন্তানদেরকে আম খাওতে সাইকেল বিক্রি করতে হয়।

যে সরকারি কর্মচারী তাঁর বড় ছেলেকেই গৃহ শিক্ষক দিতে পেরেছিলেন এবং বড় ছেলেকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন বাকী সন্তানদের লেখা পড়া করানোর। আমার বড় ভাই সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছিলেন। আর সে জন্য WHO এর স্কলারশিপ পেয়েও ভাইবোনদের জন্য , পড়াশোনা করতে আমেরিকায় যাননি। 
আমার বড় ভাই এর জামা, জুতো পরে মেজভাই বড় হয়েছেন। 

আমি একজন সরকারি ডাক্তারের বোন(বিসিএস ক্যাডার )।

যে ডাক্তার জীবনে কখনো প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন নাই,কোর্টে মিথ্যা সাক্ষী দিতে বাধ্য করবে জন্য।

আমি একজন সরকারি কর্মচারীর বোন, যার গৃহশিক্ষক ছিলো বড় ভাই। আমি মনে করি আমাকে যেভাবে বড়ভাই পড়িয়েছেন ,তেমন করে কোন শিক্ষক ই পড়াতে পারবেননা।

আমি একজন সরকারি কর্মচারীর সন্তান, বোন যাদের জীবনে অর্থনৈতিক কষ্ট থাকলেও কখনো আদর , যত্ন ভালোবাসার অভাব ছিলো না। 

আমরা বিলাসী জীবন যাপন করি নাই।আমরা জামা কাপড় এর জন্য বায়না ধরলে আম্মা আমাদের বলেছিলেন  শেখ সাদির গল্প।
আম্মা বলেছিলেন পোশাক মানুষের পরিচয় না, তার পরিচয় তার আচার ব্যবহার। 

আম্মার পালিত ছাগল দিয়ে আমাদের কুরবানী হতো।
আজকের মতো তখন যদি মোবাইল থাকতো তাহলে আমার ছোট ভাই সেই ছাগলের সাথে সেল্ফি তুলে বলতো- এই হলো আমার উচ্চ বংশীয় ছাগল, যা টাকা  দিয়ে কেনা সম্ভব নয়। আমার আব্বার সৎ পথে উপার্জনের টাকায় কেনা, আমার আম্মার আদর যত্নে পালিত এবং আমার কেটে আনা ঘাস খেয়ে বড় হওয়া।

ইচ্ছা করলেই আম্মা পুলিশদেরকে দিয়ে গরু ,ছাগলের ঘাস কাটাতে পারতেন অথবা আমার আব্বা কাউকে আমের কথা বললে যে কেউ আমের বাগান তুলে এনে দিতেন।
কিন্তু নাহ্ , আমরা আমার আব্বার  বেতনের বাহিরে কখনো কারো উপহার ও আমার আব্বা আম্মা গ্রহন করেন নি।
আমার আব্বা আম্মা চলে গেছেন , ওপারে তাঁদের হিসেব সহজ , কারণ তাঁদের সম্পদ নেই।

আমি গর্বিত এই জন্য যে আমি একজন সরকারি কর্মচারীর সন্তান এবং বোন।
মজার বিষয় হলো আমার সরকারি কর্মচারী আব্বা আমাদের সব ভাই বোনের মধ্যে একটি জিনিস খুব ভালো ভাবে দিয়ে গেছেন, সেটা হলো - সততা।
যার ফলে আমাদের সব ভাই বোনের ভোগান্তির অন্ত নেই।
তারপরেও আমরা গর্বিত , আনন্দিত। 
কিছু &quot;নাই &quot; এর ও একটা কিছু আছে, যা দূর্লভ। 

বিঃদ্রঃ লেখাটি ব্যক্তিগত স্মৃতি চরণ।
ইহার সাথে কারো বর্তমান ,চলমান, অতীত ,ভবিষ্যৎ এর সাদৃশ্য করতে যাবেন না।
শুভ রাত্রি।
 #রি-পোষ্ট 
২৩/০৬/২০২৪</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255339/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Jun 2026 13:41:37 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8220;নিম্ন বংশের ছাগল&#8221;</p>
<p>আমার আব্বা একজন সরকারি চাকুরীজীবি ছিলেন।<br />
আব্বা তাঁর মাসিক বেতন এনে আম্মার হাতে তুলে দিয়েই দায়িত্ব শেষ করতেন।এই  স্বল্প বেতনে আম্মা তাঁর সংসার চলাতে হিমশিম খেতেন।<br />
তাই আম্মা বাসায় গরু, ছাগল , মুরগী পালতেন।যাতে করে সন্তানদের প্রাণীজ প্রোটিন এর অভাব দূর করতে পারেন। গৃহপালিত পশু এবং রেশন দিয়েই তিনি কোন রকমে সংসার চালাতেন।<br />
আমার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255339"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255339/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c0d2b229c399e8df4e5de6eace088172</guid>
				<title>ফু‌লের বাগান 
- শরীফ মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান

তু‌মি এ‌লে হৃদ‌য়ে বাগান সা‌জি‌য়ে
                     ফু‌লের বাগান
‌তোমার আগম‌নে মধুময় সৌর‌ভে
হৃদয়পু‌রে বা‌জে আনন্দ গান।

ও‌গো ‌তোমার আগমন সে তো
                       সুখ পরশ মাখা
‌তোমার উপ‌স্থি‌তি বড় ই প্রশা‌ন্তিময়
        ও‌গো মন‌চোর নিঠুর সখা।

‌দিবস রজনী তোমার লা‌গি ‌রে সখা
        হৃদয়পু‌রে ছিল যত কাঁদন
এক নি‌মি‌ষেই থে‌মে গেল সবটুকু
লাগল হৃদ‌য়ে মায়াবী আ‌লোড়ন।

তু‌মি এ‌লে তাই জ্বলল হৃদয়বা‌তি
    আ‌লো‌কিত হ‌লো মোর জীবন
সখা তোমার ভা‌লোবাসায় মধুময়
    মধুময় হ‌য়ে উঠল মোর ভুবন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255338/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Jun 2026 13:16:55 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ফু‌লের বাগান<br />
&#8211; শরীফ মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান</p>
<p>তু‌মি এ‌লে হৃদ‌য়ে বাগান সা‌জি‌য়ে<br />
                     ফু‌লের বাগান<br />
‌তোমার আগম‌নে মধুময় সৌর‌ভে<br />
হৃদয়পু‌রে বা‌জে আনন্দ গান।</p>
<p>ও‌গো ‌তোমার আগমন সে তো<br />
                       সুখ পরশ মাখা<br />
‌তোমার উপ‌স্থি‌তি বড় ই প্রশা‌ন্তিময়<br />
        ও‌গো মন‌চোর নিঠুর সখা।</p>
<p>‌দিবস রজনী&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255338"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255338/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">987689d1f22d6e73c6d60a9b8e562c80</guid>
				<title>আশার তরি 
- শরীফ মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান

ছুটছে আশার তরী
ঝড় বাদল কিছু না মানি
উথাল পাতাল স্রোতে ডুবু ডুবু
তবু আশাবাদী তরীখানি।

পাড়ি দেবে অকূল পাথার
বাধা আসুক হাজার বার
নিয়ে আল্লাহ্ রাসূলের নাম
ছুটছে তরী অসীম পারাবার।

প্রত‌্যয়ী বুকে সংগ্রামী তরী
হাল ছেড়ে দেওয়ার নয়
জলধির বুক হোক না স্রোতোস্বীনি
ছুটবেই তরী সম্মুখে বিজয়।

সাহসী তরীর কান্ড দেখে
আমজনতার বুকে জাগে ভয়
ডুববেই তরী প্রবল ঝরে
জয়-পরাজয়ে জেগেছে সংশয়।

ঝর থেমে গেল শান্ত পারাবার
আশাবাদী স্বপ্নমাখা তরীখানি
মাথা জাগিয়ে অটুট রয়েছে হায়
সাহসী বিজয়ী তরী সম্মুখে সন্ধানী।


বিঃদ্রঃ  তরী বলতে তারুণ‌্য শক্তিকে বোঝানো হয়েছে । যুবকদের একতা এবং প্রত‌্যয়ী সংগ্রামকে তুলে ধরা হয়েছে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255337/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Jun 2026 13:14:02 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আশার তরি<br />
&#8211; শরীফ মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান</p>
<p>ছুটছে আশার তরী<br />
ঝড় বাদল কিছু না মানি<br />
উথাল পাতাল স্রোতে ডুবু ডুবু<br />
তবু আশাবাদী তরীখানি।</p>
<p>পাড়ি দেবে অকূল পাথার<br />
বাধা আসুক হাজার বার<br />
নিয়ে আল্লাহ্ রাসূলের নাম<br />
ছুটছে তরী অসীম পারাবার।</p>
<p>প্রত‌্যয়ী বুকে সংগ্রামী তরী<br />
হাল ছেড়ে দেওয়ার নয়<br />
জলধির বুক হোক না স্রোতোস্বীনি<br />
ছ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255337"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255337/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">aed1ef2255c270a56fe841140b6cced1</guid>
				<title>অ‌ভিনয় 
- শরীফ মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান

এক‌দি‌কে কর্মজীবন ঘা‌মে ভেজা দীর্ঘশ্বাস
অন‌্য‌দি‌কে দা‌ঁড়ি‌য়ে প‌রিবার
মাঝখা‌নে আ‌মি একজন উদাসী
বু‌কে‌তে সীমাহীন পারাবার।

অ‌থৈ জ‌লের বু‌কে হাবুডুবু ‌রোজ রোজ
নাই যে কোনো কিনারা কো‌নো কূল
ডু‌বি ভা‌সি ভা‌সি ডু‌বি খু‌ঁজি কিনার
মে‌লে না, হৃদয় আমার বির‌হে ব্যাকুল।

কা‌রে ধ‌রে রা‌খি কা‌রে বা ছা‌ড়ি ওগো
প‌রিবা‌রে আর কর্মজীব‌নে মাঝখা‌নে বা‌ঁশি
আ‌মি‌ তো ব্যাকুল ভা‌লোবাসায় আকুল
ধর‌তে গি‌য়ে সব কূল প‌ড়ে‌ছি গ‌লে‌তে ফা‌ঁসি।

আজ আ‌মি বিভা‌জিত বহু ভা‌গে হায়
কখ‌নো প‌রিবার কখ‌নো কর্ম কখ‌নো উদাসী
তবু বড় ভা‌লোবা‌সি ঐ যে বু‌কে‌তে তা তা থৈ থৈ
এইভা‌বে বে‌ঁচে আ‌ছি বহুরু‌পে অ‌ভিনয় রা‌শি রা‌শি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255336/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Jun 2026 13:12:16 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অ‌ভিনয়<br />
&#8211; শরীফ মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান</p>
<p>এক‌দি‌কে কর্মজীবন ঘা‌মে ভেজা দীর্ঘশ্বাস<br />
অন‌্য‌দি‌কে দা‌ঁড়ি‌য়ে প‌রিবার<br />
মাঝখা‌নে আ‌মি একজন উদাসী<br />
বু‌কে‌তে সীমাহীন পারাবার।</p>
<p>অ‌থৈ জ‌লের বু‌কে হাবুডুবু ‌রোজ রোজ<br />
নাই যে কোনো কিনারা কো‌নো কূল<br />
ডু‌বি ভা‌সি ভা‌সি ডু‌বি খু‌ঁজি কিনার<br />
মে‌লে না, হৃদয় আমার বির‌হে ব্যাকুল।</p>
<p>কা‌রে ধ‌রে রা‌খি কা‌র&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255336"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255336/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">05ea42f7504b0d73a704581a2779464a</guid>
				<title>Poly Alam and মোঃ আবু সাঈদ বিশ্বাস are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255333/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Jun 2026 10:28:04 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6e019bcf46d4500e25cfe3ae70d7ba4c</guid>
				<title>ঘুমের শপথ
~ শরীফ এমদাদ হোসেন 

ঘুম নেই, কেন যেন ঘুম নেই
মাছেদের সাপেদের চোখের মতন, অপলক চেয়ে থাকি
দেখি চেয়ে ওপারের ঘর
ছিমছাম নিরিবিলি তুমিহীন সাজানো বাসর।

যেভাবে কেটেছে জীবন, জীবনের ধার
ঠিক যেন মরুময় খাদের কিনার।

ঘুম নেই, নেই ঘুম; থাকি অপলক মাছের মতন
জাগে স্মৃতি, বুদ্বুদ কান্নার আয়োজন 
আমি তো জেগেছি রাত সিঁড়ির সোপানে জয়রথ
অনাদি অনন্তকাল শুধু খুঁজি পথ।

ঘুম নেই, জেগে থাকি। কবে নেবো ঘুমের শপথ!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/255328/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Jun 2026 10:08:47 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ঘুমের শপথ<br />
~ শরীফ এমদাদ হোসেন </p>
<p>ঘুম নেই, কেন যেন ঘুম নেই<br />
মাছেদের সাপেদের চোখের মতন, অপলক চেয়ে থাকি<br />
দেখি চেয়ে ওপারের ঘর<br />
ছিমছাম নিরিবিলি তুমিহীন সাজানো বাসর।</p>
<p>যেভাবে কেটেছে জীবন, জীবনের ধার<br />
ঠিক যেন মরুময় খাদের কিনার।</p>
<p>ঘুম নেই, নেই ঘুম; থাকি অপলক মাছের মতন<br />
জাগে স্মৃতি, বুদ্বুদ কান্নার আয়োজন<br />
আমি তো জেগেছি রাত সিঁড়ির সোপানে জয়রথ<br />
অনাদি অ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-255328"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/255328/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>