<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Site-Wide Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_astream/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_astream/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for the entire site.</description>
	<lastBuildDate>Wed, 10 Jun 2026 13:24:32 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">0a213a8b8cf12ab83eca72b10b6f465b</guid>
				<title>মোঃ মাহফুজুর রহমান and পি.কে. সরকার are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253897/</link>
				<pubDate>Wed, 10 Jun 2026 13:20:09 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9f3b10849300f53b87b3ffc024743f5f</guid>
				<title>যা কিছু গভীর, যা কিছু তীব্র,
ক্ষণিক দীপ্তিতে ভরায় ভুবন;
শেষে সবই নীরব সমাধিতে,
মহাকালের শূন্যে করে গমন।
__ পি কে সরকার</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253895/</link>
				<pubDate>Wed, 10 Jun 2026 13:18:35 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>যা কিছু গভীর, যা কিছু তীব্র,<br />
ক্ষণিক দীপ্তিতে ভরায় ভুবন;<br />
শেষে সবই নীরব সমাধিতে,<br />
মহাকালের শূন্যে করে গমন।<br />
__ পি কে সরকার </p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">69c0ee4a847f3866766f9130a72ba13b</guid>
				<title>কেন?
 মোঃ মাহফুজর রহমান

আমি কেন দুনিয়ার প্রেমে পড়লাম?
 যেখানে আমার  খোদা আছে,
 প্রেম যদি হয় রূপা-গুণ দেখে 
 তবে  খোদার চাইতে বেশি তা কার আছে?

 প্রেম মানে যদি হয়, যত্ন নেওয়া 
 তবে খোদার চাইতে যত্নশীল কে আছে?
 তবু কেন আমার এই মন,
 খোদাকে ভুলে — সৃষ্টির প্রেমে পড়ে আছে?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253893/</link>
				<pubDate>Wed, 10 Jun 2026 11:01:22 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>            কেন?<br />
 মোঃ মাহফুজর রহমান</p>
<p>আমি কেন দুনিয়ার প্রেমে পড়লাম?<br />
 যেখানে আমার  খোদা আছে,<br />
 প্রেম যদি হয় রূপা-গুণ দেখে<br />
 তবে  খোদার চাইতে বেশি তা কার আছে?</p>
<p> প্রেম মানে যদি হয়, যত্ন নেওয়া<br />
 তবে খোদার চাইতে যত্নশীল কে আছে?<br />
 তবু কেন আমার এই মন,<br />
 খোদাকে ভুলে — সৃষ্টির প্রেমে পড়ে আছে?</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8c686d46dc4775f51918916adacb85a4</guid>
				<title>আমাদের ল্যাব
     মোঃ রাকিব হাসান অন্ত
 ==========================

 ভালো সময়ের কথায় থাকে
ভালো কিছু নাম
হার না মানা সৈনিক তারা
ল্যাব বি তাদের নাম।

এই ল্যাবে আছে অনেক
জ্ঞানী গুনি মানুষ
অভিজ্ঞতার দিক থেকে
ওরা যেনো পটু।

হাসি খুশি থাকে তারা
মন যে থাকো ভালো
ফ্রিল্যান্সিং করে তারা
জ্বালাবে ভবিষ্যৎতের আলো।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253892/</link>
				<pubDate>Wed, 10 Jun 2026 10:50:36 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>            আমাদের ল্যাব<br />
     মোঃ রাকিব হাসান অন্ত<br />
 ==========================</p>
<p> ভালো সময়ের কথায় থাকে<br />
ভালো কিছু নাম<br />
হার না মানা সৈনিক তারা<br />
ল্যাব বি তাদের নাম।</p>
<p>এই ল্যাবে আছে অনেক<br />
জ্ঞানী গুনি মানুষ<br />
অভিজ্ঞতার দিক থেকে<br />
ওরা যেনো পটু।</p>
<p>হাসি খুশি থাকে তারা<br />
মন যে থাকো ভালো<br />
ফ্রিল্যান্সিং করে তারা<br />
জ্বালাবে ভবিষ্যৎতের আলো।</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9c23d21448c7f9000e44537816fe074a</guid>
				<title>এক নিষ্ঠুর ও অনুভূতিহীন সময়ের ভেতর দাঁড়িয়ে আছি;
একদা পুত্রশোকে কাতর মানুষটিকেও দেখেছি—
ব্যথার শেষে একটু একটু করে নিষ্ঠুর হয়ে উঠতে;
পিষে ফেলতে দেখছি রঙিন প্রজাপতি, কাঠগোলাপ,
বুনো কচুরিফুল;
কবর থেকে উঠিয়ে
পুড়িয়ে ফেলতে দেখেছি লাশ, সুর, বাদ্যযন্ত্র ও ভিন্নমত।

বলতে দ্বিধা নেই,
এক নিষ্ঠুর ও অনুভূতিহীন সময়ের ভেতর দাঁড়িয়ে আছি,
যে সময়ের ভেতর যুদ্ধহীন, মৃত্যুহীন একটা সন্ধ্যা নেই,
রাত ও নৈঃশব্দ্য নেই; নেই দুরন্ত জোনাকিপোকা কিংবা পেঁচা।

ক্রমাগত টের পাচ্ছি, এই বীভৎস দৃশ্যের ভেতর
শব্দের অন্তর্গত গান ও কবিতা ক্রমশ রক্তাক্ত হয়ে উঠছে!
এ ছাড়া আমি আর কিছুই ভাবতে পারছি না;
চাইলে কাগজ কেটে ঘুড়ি বানিয়ে উড়িয়ে দিতেও পারছি না—
আমার সুতোর প্যাঁচ লেগে যায় আদিম স্বভাবী অন্ধকারে,
মানুষের হিংসায়; ক্ষতবিক্ষত শিশুর শৈশবের খোঁপায়।

আর এজন্যই হয়তো আমি চাই,
মানুষ সারাটা জীবন বুদ্ধের ব্যথায় বিহ্বল থাকুক;
বুঝতে শিখুক মানুষ ও তার অন্তর্গত ব্যথার চিত্রনাট্য।

১০.৬.২০২৬</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253884/</link>
				<pubDate>Wed, 10 Jun 2026 09:24:40 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>এক নিষ্ঠুর ও অনুভূতিহীন সময়ের ভেতর দাঁড়িয়ে আছি;<br />
একদা পুত্রশোকে কাতর মানুষটিকেও দেখেছি—<br />
ব্যথার শেষে একটু একটু করে নিষ্ঠুর হয়ে উঠতে;<br />
পিষে ফেলতে দেখছি রঙিন প্রজাপতি, কাঠগোলাপ,<br />
বুনো কচুরিফুল;<br />
কবর থেকে উঠিয়ে<br />
পুড়িয়ে ফেলতে দেখেছি লাশ, সুর, বাদ্যযন্ত্র ও ভিন্নমত।</p>
<p>বলতে দ্বিধা নেই,<br />
এক নিষ্ঠুর ও অনুভূতিহীন সময়ের ভেতর দাঁড়িয়ে আছি,<br />
যে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253884"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253884/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">908042b1d4bd0b08d0179b0ba150d8b4</guid>
				<title>ঋণ জমেছে 
- মাহীম খান 
আপন হোক বা পরের 
বর্ণ নিয়ে তামাশা করে যে জাতি, 
তাহাদেরই জাতীয় কবি 
নাকি সাম্যবাদী।
 
অপরের রূপ নিয়া যাহারা 
নিন্দা করে, 
তাহারাই আবার গলা মিলায় 
সমাধিকারের মিছিলে। 

পরের নিন্দে করিয়া 
জীবন পার করিলে,
এমন ভাব ধরিয়াছো যেনো- 
তুমি তাহাদের সৃষ্টি করিয়াছিলে। 

মানুষের ক্ষতি মানুষই করে 
নিজ স্বার্থ হাসিলে, 
ইহারাই আবার আনিতে চায় 
সাম্যতা এ জগতে। 

&#039;কুলি মজুর&#039; পাঠ করিয়ে
 কি শিক্ষা নিলে? 
তোমারও যে ঋণ জমিয়াছে, 
তা শোধিবে কবে? 

ঋণ শোধ করিয়া
পরপারে যাইও বেটা,
না হয় হুকুম আসিবে -
দে বেটাকে নরকে ফেলিয়া!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253881/</link>
				<pubDate>Wed, 10 Jun 2026 08:34:22 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ঋণ জমেছে<br />
&#8211; মাহীম খান<br />
আপন হোক বা পরের<br />
বর্ণ নিয়ে তামাশা করে যে জাতি,<br />
তাহাদেরই জাতীয় কবি<br />
নাকি সাম্যবাদী।</p>
<p>অপরের রূপ নিয়া যাহারা<br />
নিন্দা করে,<br />
তাহারাই আবার গলা মিলায়<br />
সমাধিকারের মিছিলে। </p>
<p>পরের নিন্দে করিয়া<br />
জীবন পার করিলে,<br />
এমন ভাব ধরিয়াছো যেনো-<br />
তুমি তাহাদের সৃষ্টি করিয়াছিলে। </p>
<p>মানুষের ক্ষতি মানুষই করে<br />
নিজ স্বা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253881"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253881/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7437bb374da906477d0223cc93ab8c89</guid>
				<title>ভাই-বোন

প্রভুর কাছে জানিয়েছিলাম
আমার প্রার্থনা
আমি চেয়েছিলাম
তিন-চার ভাই-বোন
প্রভু তুমি দিলে আমার মাকে

আমার তিন-চার ভাই-বোনকে
আমি ছিলাম তাদের একজন
সেই তিন-চার জনের মাঝে

সন্তান হারানোর কষ্ট
তুমি কিভাবে পাও টের, মা
সন্তান হারানোর কষ্ট
তুমি কিভাবে পাও টের

শুধু তুমিই জানো মা
আমি নিথর লাশে
এই যুদ্ধবিধ্বস্ত ধ্বংসস্তূপের নীচে
ভাই-বোনরা জানে
আমি খুঁজতে গেছিলাম
কোথাও রুটি পাওয়া যাবে কিনা
যাবে কিনা.....

চোখের কোণে জল আমার
আবেগে আপ্লুত হয়েছিলাম আমি
প্রভু তুমি দিলে আমার মাকে
আমার তিন-চার ভাই-বোনকে

সন্তান হারানোর কষ্ট
তুমি কিভাবে পাও টের, মা
বলো, মা, আমাকে

প্রভু…
আমি হারিয়ে যাওয়া 
একজন ধ্বংসস্তূপের নিচে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253878/</link>
				<pubDate>Wed, 10 Jun 2026 07:36:39 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ভাই-বোন</p>
<p>প্রভুর কাছে জানিয়েছিলাম<br />
আমার প্রার্থনা<br />
আমি চেয়েছিলাম<br />
তিন-চার ভাই-বোন<br />
প্রভু তুমি দিলে আমার মাকে</p>
<p>আমার তিন-চার ভাই-বোনকে<br />
আমি ছিলাম তাদের একজন<br />
সেই তিন-চার জনের মাঝে</p>
<p>সন্তান হারানোর কষ্ট<br />
তুমি কিভাবে পাও টের, মা<br />
সন্তান হারানোর কষ্ট<br />
তুমি কিভাবে পাও টের</p>
<p>শুধু তুমিই জানো মা<br />
আমি নিথর লাশে<br />
এই যুদ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253878"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253878/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">30ac71e9e8d8dc75a6c987fc66fe444a</guid>
				<title>“শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী”

&#x270d;&#xfe0f; পর্ব বারো: (অলিখিত চুক্তি ও নতুন পত্র মাধ্যমের খোঁজ)

পরীক্ষার শেষ ঘণ্টার তীব্র আওয়াজটা যখন স্কুলের দেয়ালে দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়ে মিলিয়ে গেল, তখন বুকের ভেতরটা যেন এক অচেনা শূন্যতায় মুচড়ে উঠল। অবশেষে জীবনের একটা বড়, চঞ্চল আর রঙিন অধ্যায় শেষ হলো। পরীক্ষা শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই, বিদায়ী শিক্ষার্থীদের কোলাহলমুখর করিডোরের এক শান্ত কোণে দাঁড়িয়ে নীরার হাত থেকে শেষ চিঠিটা এসে পৌঁছাল রবিনের হাতে। নীরা যখন চিঠিটা বাড়িয়ে দিচ্ছিল, ওর চোখে ছিল এক অদ্ভুত বিদায়ের বিষাদ, ঠোঁটের কোণে ম্লান একটুখানি মায়াভরা হাসি। রবিন তখনো জানত না, এই সামান্য কাগজের টুকরোটি শুধু একটা চিঠি নয়—এ তাদের ভালোবাসার এক নতুন অগ্নিপরীক্ষার অলিখিত দলিল।
নিরালা এক জায়গায় গিয়ে, চারপাশের শোরগোল থেকে নিজেকে আড়াল করে কাঁপা কাঁপা হাতে রবিন ভাঁজ খুলল। চিঠিটা খুলতেই হালকা গোলাপী আভার একটা রেইন্ট্রি গাছের ফুল আলতো করে এসে পড়ল রবিনের হাতের তালুতে। চিঠির প্রতিটি ভাঁজে শৈলীর হাতের চেনা ও প্রিয় সুবাস, আর প্রতিটি লাইনের অক্ষরে অক্ষরে মিশে আছে এক বুক আকুলতা আর গভীর ভালোবাসা। চিঠির ভাষায় যেমন ছিল,
________________________________________
“আমার প্রিয় রবিন,
________________________________________
আমাদের পরীক্ষা আজকে শেষ হলো। খাতার পাতায় শেষ কলমের আঁচড়টা কেটে যখন উঠে দাঁড়ালাম, বুকটা কেমন যেন খাঁ খাঁ করে উঠেছিল। পরীক্ষা মোটামুটি ভালোই হয়েছে, আমার জন্য একটু মন থেকে দোয়া কোরো, কেমন?
শোনো রবিন, বুকটা ফেটে যাচ্ছে এটা বলতে গিয়ে যে, নীরার সাথে আমার আর প্রতিদিন দেখা হবে না। আমাদের এতদিনের চেনা, সবচেয়ে নিরাপদ যোগাযোগের উপায়টা একেবারেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। নীরা এখন আর আমাদের এই গোপন চাতক পাখি হয়ে থাকতে পারছে না। ওর বাড়িতে বিয়ের জোর কথাবার্তা চলছে, আজ শুনলাম বিয়েটা নাকি মোটামুটি ফাইনালও হয়ে গেছে। ওর জন্য যেমন মনটা ভীষণ খারাপ, তেমনি বুকটা কেঁপে উঠছে আমাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে। নীরা চলে গেলে আমি কার হাত ধরে তোমার কথা বলব? কার বুকে মুখ গুঁজে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলব বলো?
এখন আমাদের যা করতে হবে, সেটাকে আমাদের দুজনের হৃদয়ের মাঝখানের এক ধরনের ‘অলিখিত চুক্তি’ বলতে পারো। এই চুক্তি ভাঙার অধিকার কিন্তু আমাদের কারও নেই। আমাদের আপ্রাণ চেষ্টা বজায় রেখে দুজনেরই পড়াশোনায় খুব ভালো করতে হবে। তুমি কিন্তু নিজের বিন্দুমাত্র অবহেলা করবে না, খুব ভালোভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাবে। অল্প কিছুদিন পরেই তোমার এইচ.এস.সি পরীক্ষা শুরু, মনে আছে তো? আমার ভালোবাসা যেন তোমার এগিয়ে যাওয়ার শক্তি হয় রবিন, কখনো দুর্বলতা নয়।
পড়াশোনার সমান্তরালে আমাদের এই পবিত্র ভালোবাসাকে বুকে আগলে রেখে যদি আমরা পথ চলতে পারি, তবে আমাদের সম্পর্কের পরিপক্ক বয়স পর্যন্ত পৌঁছাতে পৃথিবীর কোনো শক্তি, কোনো দূরত্ব বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। আমাদের দুজনের ভালোবাসার পবিত্র দায়িত্ব আমাদের দুজনকেই কাঁধে তুলে নিতে হবে। এই পরিপক্ক দায়িত্ববোধই পারে একদিন আমাদের একটা সুন্দর, নিটল ও সামাজিকভাবে স্বীকৃত ভালোবাসা উপহার দিতে। আর যদি আমরা কোনো কারণে হেরে যাই, তবে এই নিষ্ঠুর সমাজ হাসাহাসি করবে, সবাই আমাদের পবিত্র অনুভূতি নিয়ে মজা নেবে। আমি মরে গেলেও সেই অপমান সইতে পারব না রবিন।
মনে রেখো, এই পত্রের উত্তর পেতে তোমার যত দেরি হবে, তুমি কিন্তু ওপারে থাকা আমাকে তত বেশি কাঁদাবে। প্রতিটি সেকেন্ড আমার কাছে তখন একেকটি যুগের মতো কাটবে। এখন নীরাকে যেহেতু সবসময় পাচ্ছি না, তাই মন খারাপ করে বসে থেকো না। একটু চেষ্টা করে দেখো ‘রিসা’-কে আমাদের এই ভালোবাসার নতুন মাধ্যম হিসেবে ম্যানেজ করা যায় কিনা। আমি মাঝে মাঝে আমাদের পুরনো বাড়ি যাওয়ার কথা বলে রিসাদের বাড়ির পাশ দিয়েই হেঁটে যাই। তুমি যদি রিসাকে রাজি করাতে পারো, তবে ওর কাছ থেকে তোমার চিঠিটা লুকিয়ে নিজের মুঠোয় পুরে নিতে আমার খুব সুবিধা হবে।
চিঠির সাথে একটি রেইন্ট্রি গাছের ফুল দিলাম তোমায়। গাছতলায় কুড়িয়ে পাওয়া ফুলটার মিস্টি মিস্টি ঘ্রাণটা বেশ ভালোই লাগছে আমার, তোমার ভাল লাগবে কিনা জানিও পরে। এই ফুলের স্পর্শ যেমন নরম, আমিও ঠিক এভাবেই প্রতিদিন তোমায় ছুঁয়ে থাকি আমার মনের এবং চিন্তার গভীর নরম অংশ থেকে। তুমি আফটার সেভের পর তোমার মুখাবয়বে এই ফুলের স্পর্শটা একটু বুলিয়ে নিও, কেমন? মনে কোরো আমিই তোমায় ছুঁয়ে দিলাম...
উত্তরের চাতক হয়ে পথ চেয়ে রইলাম। খুব ভালো থেকো আমার রবিন।
________________________________________
ইতি— তোমার হৃদয়ের, তোমার ভালোবাসার শৈলী”
________________________________________

চিঠিটা পড়া শেষ করে রবিন একটা দীর্ঘ, তপ্ত শ্বাস ফেলল। সে হাতের তালুতে রাখা নরম রেইন্ট্রি ফুলটা নাকের কাছে ধরল। অদ্ভুত এক বুনো মিষ্টি সুবাস তার স্নায়ুতে মিশে গেল। এরপর সে পরম আবেশে চোখ বুজে চিঠির পাতায় শৈলীর হাতের স্পর্শের সেই চেনা ঘ্রাণটা নেওয়ার চেষ্টা করল। মনে হলো, শৈলী যেন ঠিক তার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে, তার নিঃশ্বাস এসে পড়ছে রবিনের মুখে। আলতো করে ঠোঁটের ছোঁয়া দিয়ে চিঠি আর ফুলটা ফোল্ড করে সে তার হৃদয়ের সবচেয়ে কাছাকাছি—বাম পাশের বুক পকেটে রেখে দিল। যেখানে তার হৃদস্পন্দন প্রতি মুহূর্তে শৈলীর নামের সাথে তাল মিলিয়ে চলে।

নীরার চলে যাওয়াটা রবিনের বুকে একটা বড় ধাক্কা দিয়ে গেল, তৈরি করল এক গভীর শূন্যতা। রবিন মনে মনে নীরার প্রতি এক অদ্ভুত কৃতজ্ঞতা বোধ করল। এই নীরাই তো ছিল তাদের ছায়াসঙ্গী, দুই হৃদয়ের অঘোষিত দূত। রবিন পরবর্তীতে জানতে পেরেছিল, নীরা শুধু চিঠিই আনা-নেওয়া করেনি, বরং শৈলীর একাকীত্বের দিনগুলোতে তাকে সবসময় আগলে রেখে সঙ্গ দিয়েছে। এমনকি রবিন আর শৈলীর অবুঝ মনের কত শত অভিমান, রাগ-গোসসার মাঝে নীরা নিজেই শৈলীর কাছে গিয়ে রবিনের হয়ে বারবার ক্ষমা চেয়ে নিয়েছে, আলতো হাতে জোড়া লাগিয়েছে তাদের মান-অভিমানের সুতো। সেই নিঃস্বার্থ মেয়েটার এভাবে হুট করে পর হয়ে যাওয়াটা মেনে নেওয়া সত্যিই বড্ড কঠিন।

তবে নীরার এই চলে যাওয়ার বেদনার মাঝেই শৈলীর এই পরিণত, ভালোবাসায় মোড়ানো চিঠিটা রবিনের চোখের সামনে এক নতুন আশার আলো জ্বেলে দিল। চিঠির পাতায় ছড়ানো প্রতিটি কথায় সে পরম বিস্ময়ে ও ভালোলাগায় উপলব্ধি করল, তাদের কৈশোরের সেই চপল, লুকোচুরি প্রেমটা আজ সময়ের হাত ধরে এক দায়িত্বশীল ও পরিপক্ক গভীর ভালোবাসায় রূপ নিয়েছে। শৈলী এখন আর শুধু এক চঞ্চল প্রেমিকা নয়, সে এক দায়িত্বশীল জীবনসঙ্গিনী—যে রবিনকে আগলে রাখার মন্ত্র শিখে গেছে।

রবিন জানত, সামনের দিনগুলো ভীষণ কঠিন। পড়াশোনার কঠিন চাপ, সমাজের হাজারো চোখরাঙানি আর প্রিয়তমার থেকে দূরে থাকার একাকীত্বের এক দীর্ঘ লড়াই। কিন্তু আজ তার বুকে আর কোনো ভয় নেই, কোনো সংশয় নেই। বুক পকেটে পরম যত্নে রাখা শৈলীর সেই ভালোবাসার পরশমণি আর রেইন্ট্রি ফুলের মৃদু সুবাস, আর মনের ভেতর প্রিয়তমাকে আজীবন নিজের করে জয় করার তীব্র জেদ নিয়ে সে এক নতুন, সুন্দর এবং আলোয় ভরা ভবিষ্যতের দিকে চোখ মেলল। যে ভবিষ্যতে শুধু তারা দুজন থাকবে, আর থাকবে এক পৃথিবী পবিত্র ও নিটোল ভালোবাসা।

গল্পের পর্ব চলমান থাকবে...</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253870/</link>
				<pubDate>Wed, 10 Jun 2026 07:09:53 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী”</p>
<p>&#x270d;&#xfe0f; পর্ব বারো: (অলিখিত চুক্তি ও নতুন পত্র মাধ্যমের খোঁজ)</p>
<p>পরীক্ষার শেষ ঘণ্টার তীব্র আওয়াজটা যখন স্কুলের দেয়ালে দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়ে মিলিয়ে গেল, তখন বুকের ভেতরটা যেন এক অচেনা শূন্যতায় মুচড়ে উঠল। অবশেষে জীবনের একটা বড়, চঞ্চল আর রঙিন অধ্যায় শেষ হলো। পরীক্ষা শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই, বিদায়ী শিক্ষার্থীদের কোলাহলমুখর ক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253870"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253870/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9740ebcef8dd56884a5f5860b0fbc025</guid>
				<title>মৃগদের বুকে আজ কোনো স্পষ্ট ভয় নাই,
সন্দেহের আবছায়া নাই কিছু;
কেবল পিপাসা আছে,
রোমহর্ষ আছে । 
------ জীবনানন্দ দাশ</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253859/</link>
				<pubDate>Wed, 10 Jun 2026 06:33:33 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মৃগদের বুকে আজ কোনো স্পষ্ট ভয় নাই,<br />
সন্দেহের আবছায়া নাই কিছু;<br />
কেবল পিপাসা আছে,<br />
রোমহর্ষ আছে ।<br />
&#8212;&#8212; জীবনানন্দ দাশ </p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6f27ab4fc0196500f6c53932bb305258</guid>
				<title>Truly blessed! &#x1f607;&#x1f607;</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253847/</link>
				<pubDate>Wed, 10 Jun 2026 04:46:54 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>Truly blessed! &#x1f607;&#x1f607;</p>
</div><div class="youzify-post-attachments">
		<div class="youzify-shared-wrapper">

			<div class="youzify-shared-wrapper-container">

				
				<div class="youzify-shared-attachments"></div>
				<div class="youzify-shared-description">
					<div class="youzify-shared-description-content">
												<div class="activity-avatar"><a href="https://toulot.com/n_members/abir-shoaib/"><img loading="lazy" data-src="https://toulot.com/wp-content/uploads/avatars/4945/1780592055-bpthumb.png" class="lazyload avatar user-4945-avatar avatar-50 photo" width="50" height="50" alt="Profile picture" /></a></div>
						<div class="youzify-shared-head">
							<a class="youzify-post-author" href="https://toulot.com/n_members/abir-shoaib/">শোয়েব ইবনে শাহীন</a>
							<div class="youzify-timestamp-area"><i class="fas fa-globe-asia"></i><span class="youzify-separator-point">•</span> <a href="https://toulot.com/n_astream/p/253747/" class="view activity-time-since bp-tooltip" data-bp-tooltip="View Discussion"><span class="time-since" data-livestamp="2026-06-09T19:44:35+0000">18 hours, 38 minutes ago</span></a></div>
						</div>
						<div class="youzify-shared-content"><div class="activity-inner"><p>&#8220;যে মেয়েটি বইয়ের পাতায় প্রেম খুঁজে পায়&#8221;</p>
<p>&#8211; উৎসর্গ : <a class="bp-suggestions-mention" target="_blank" href="https://toulot.com/n_members/raisaanjumporshi/" rel="nofollow ugc">@raisaanjumporshi</a></p>
<p>তোমাকে আমি কোনোদিন সক্রেটিসের পাশে বসে দেখিনি, তবু মনে হয়, কোনো এক পুরোনো এথেন্সের বিকেলে তুমি নিশ্চয়ই প্রশ্ন করতে জানতে।<br />
তোমাকে কোনোদিন মরুভূমি পেরোতে দেখিনি, তবু ইবনে বতুতার ভ্রমণপিপাসা কেমন করে যেন এসে বসেছে তোমার চোখে।<br />
তুমি যখন বলো— &#8220;আমি জানি না সামনে কী আছে&#8221;&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253747"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253747/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div></div>
					</div>
				</div>
							</div>
		</div>
		</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8b1ed2eef9324fbb7bb425dc9d3a2027</guid>
				<title>আত্ন জন

আজতক আমি নিজেকেই চিনতে পারিনি।

একটা সবাক দেহের আবডালে
অচেনা আমাকেই মনে হয় আত্ন জন।
অযাচিত সম্পর্কের টানা-পোড়েন
আমাকে সবার কাছে আড়াল করে তোলে।

সহজাত কথার ফল্গুধার
নদীর মত ছোটে অবিরাম।
মোহনায় হারাবার পথ না পেয়ে
উৎসের বিবর্তনে খোঁজে অমৃত আশ্রয়।

অথচ সদা বর্ণচোরা লাম্পট্যের ভীড়ে
কত সহজেই না কাছে আসি সবার।
বুকের পাজরে যতগুলো দীর্ঘশ্বাস ছোটে
তার চেয়ে বেশী করে বাঁধি আপন আলয়।
জোড়া হাতের অকস্মাৎ তুবড়ীতে ফোঁটে লাল গোলাপ
রন্ধ্রে রন্ধ্রে বয়ে যাই গোপন আশ্বাসে।

তোমাদের সাতকাহনে নেই তবু আমার বন্দনা।

তোমরাতো সদাই ব্যাস্ত আঘ্রানের মশাল প্রজ্জলনে
অফুরান আনন্দের আতিশায্যে কর নব আস্বাদন।
লহমার পর লহমার ব্যাবচ্ছেদে
অলীক সম্পর্কের বেড়াজালে গড় ছলনার জীবন।
লালায়িত চাহিদার ভোল পাল্টিয়ে
একছত্র স্বার্থপরতায় হও অতীব স্বজন।
তাই বুঝি তোমাদের চেনা বলয়ে নেই
আমার মলিন যাতনার অটল অবশেষ।
অদৃশ্য অবগুন্ঠনে সেথা রাখি সম বাজে
নিরন্তর চাওয়ার মসৃণ লহরী অঢেল।

জানি এ কান্না কখনোই টলবে না তোমায়
লম্ভিবে না কভূ পরম মমতায়।
এক রত্তি বন্ধু নও তো তুমি
নও তুমি আমৃত্যু অপারের সতত বিয়োজন।
তোমার মাঝেই তবু বিলীন হয়ে
আদিগন্ত অবসাদে যাই খোঁজে ফেরে
আত্নার বাহিরের অমোঘ সম্বন্ধের আদলে
আমার অকপট বিশেষিত পরম আত্ন জন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253838/</link>
				<pubDate>Wed, 10 Jun 2026 04:38:26 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আত্ন জন</p>
<p>আজতক আমি নিজেকেই চিনতে পারিনি।</p>
<p>একটা সবাক দেহের আবডালে<br />
অচেনা আমাকেই মনে হয় আত্ন জন।<br />
অযাচিত সম্পর্কের টানা-পোড়েন<br />
আমাকে সবার কাছে আড়াল করে তোলে।</p>
<p>সহজাত কথার ফল্গুধার<br />
নদীর মত ছোটে অবিরাম।<br />
মোহনায় হারাবার পথ না পেয়ে<br />
উৎসের বিবর্তনে খোঁজে অমৃত আশ্রয়।</p>
<p>অথচ সদা বর্ণচোরা লাম্পট্যের ভীড়ে<br />
কত সহজেই না কাছে আসি সবার।<br />
বুকের পা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253838"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253838/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">707f9909598ffd41a82063add4464550</guid>
				<title>যে জলে তৃষ্ণা মেটেনা

আজ দুইদিন যাবত টানা বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টিতে আমাদের বাড়ীর চারপাশ মাঠ-ঘাট ডুবে একাকার। যেদিকেই তাকাই শুধুই পানি আর পানি। এরকম বৃষ্টিতে মানুষের জীবনযাত্রা বিশেষ করে গ্রামীন জনপদ একদম স্থবির হয়ে যায়। আমাদের অবস্থাও তাই। মা তো কেবল লাগোয়া রান্নাঘর আর বড় ঘর এই দু’য়ের মাঝে দৌড়াদৌড়ি করেই সময় পার করছেন। বাড়ীর উঠোনে পানি জমে থৈ থৈ অবস্থা বলে তার ঘর থেকে বেরুবার জো নেই। তবে সমস্যা হচ্ছে বাবাকে নিয়ে। তিনি ভীষন অস্থির হয়ে উঠেছেন। হওয়াটাই স্বাভাবিক। ঘরপালানো মানুষ আমার বাবা। আমার জন্মের পর থেকেই দেখে আসছি, তিনি প্রায়ই নিরুদ্দেশ হয়ে যান। বলা নেই কওয়া নেই, হঠাৎ করেই ক’দিনের জন্য বাড়ী ছেড়ে চলে যান। আবার বেশ ক’দিন বাদে ফিরেও আসেন। তার চলে যাওয়াতে আমার যতটা না খারাপ লাগে, এর চেয়ে বেশী আনন্দ লাগে তার ফিরে আসাতে। কারণ ফেরার সময় তিনি আমার জন্য এটা-সেটা অনেক কিছু নিয়ে আসেন।

তবে যে ক’টা দিন বাড়ী থাকেন, তিনি আছেন এটা ভেবেই আমাদের খুশী থাকতে হয়। কারণ আমার বাবা কথা খুব একটা বলেন না। পুরোটা সময়ই তিনি নিজেকে অথবা তার দো’তারা নিয়ে ব্যাস্ত থাকেন। আসলে আমার বাবা হলেন গায়েন। আশে-পাশের দশ গ্রামের মানুষ তাকে এই পরিচয়েই চেনে। তবে গায়েন হলেও তিনি গান পাগল মানুষ এটা বলা যাবে না। গানের জন্য তিনি আমাদের ছেড়েছেন এই কথা আমরা কোনদিন বলব না। প্রকৃতপক্ষে বাবা হলেন ছন্নছাড়া। যাকে বলে বহিঃর্মূখী মানূষ, তিনি আসলে তাই। তাই ঘর সংসার তার ভালো লাগে না। আমার দাদা আগেভাগেই ব্যপারটা টের পেয়েছিলেন। সেই চিন্তা থেকেই বাবাকে ঘরমূখী করার জন্য আমার মায়ের মত রূপবতী একটা মেয়েকে তার বউ করে ঘরে এনেছিলেন। কিন্তু, মায়ের আগুনে রূপ’ও বাবাকে ঘরে ধরে রাখতে পারেনি।

বাবা আমার কদাচিত ঘরমূখী হোন এটা সত্যি, কিন্তু ঘরোয়া বা সংসারী বলতে যা বোঝায় তিনি তা কোনোদিনও হতে পারেননি। আর সে কারণে বাড়ীতে থাকলেও মানে যে ক’দিন থাকেন আর কি, ঘরে আর তার থাকা হয় না। বাড়ীর সামনের উঠোন পেড়িয়ে ঝিলের ধারে যে মাচামতন আছে, বাড়ীতে থাকার পুরোটা সময়ই তিনি সেখানে পড়ে থাকেন। কখনো ঝিম মেরে দূরে গঞ্জগামী যে পাকা রাস্তাটা দেখা যায় ওটার দিকে তাকিয়ে থাকেন। আবার কখনো চোখ বুজে দো’তারায় সুর তুলে গান ধরেন। আমি খেয়াল করেছি, বাবা যখন গান করেন তখন মা’ও কাজ ফেলে এসে বারান্দার বেঞ্চিতে ঝিম মেরে বসে থাকেন। কখনো কখনো মায়ের চোখের কোণায় অশ্রুকণা চিকচিক করে উঠতে দেখি। মা কাঁদছেন এটা বুঝার জন্য আমার খুব বড় হবার দরকার পড়েনি। তবে বাবার গান শুনে এমন কাঁদবার কি হলো সেটা বুঝতেই আমার যা সমস্যা।

আমার সেই বাবাই আজ অবস্থার ফেরে ঘর ছেড়ে নড়তে পারছেন না, এটা যে তার জন্য কতটা কষ্টের সেটা তার মুখ দেখেই বুঝা যায়। বর্ষণমুখর এই দুই’টা দিন বাবা পুরোটা সময় বারান্দার বেঞ্চিতে বসে কাটিয়ে দিয়েছেন। অন্য সময় এরকম মুহুর্তে আমি তার কাছে-পিছে তেমন ভিড়ি না। তবে এবার আশপাশ দিয়ে ঘুরঘুর করেছি, যদি তার চোখে পড়ে এই আশায়। কিন্তু, কিসের কি। বাবা তার নিজের মত করে ঝিম মেরে বসে আছেন। এই সময়টাতে মা’ও বাবাকে তেমন ঘাটাননি। মাঝে মাঝে দেখেছি মা বড় ঘরের দুয়ারে দাঁড়িয়ে বাবার দিকে নির্ণিমেষ তাকিয়ে থাকেন। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার ঘরের ভেতরে ঢুকে যান। যদিও বাবা এসবের কিছুই টের পান নাই।

আসলে মা’ও বোধকরি বুঝতে পেরেছেন, এই মানূষটাকে ঘরোয়া করে তোলার সাধ্যি তার নেই। যতদিন আমার দাদা-দাদী জীবিত ছিলেন, ততদিন যাও বা দু’একদিন বাদে ঘরে ফিরতেন। এখন তো মাস পেরুলেও খবর থাকেনা। ভাগ্যিস আমার দাদা এই বাড়ীটা আর বিশেষ কিছু জমি-জিরাত রেখে গিয়েছিলেন। তাই জমি বর্গা দিয়ে আমাদের দুজনের সংসারটা বেশ চলে যায়। দু’জনের বললাম এই জন্যই যে বাবা তো আর আমাদের সাথে নিত্যদিন থাকেন না। বরঞ্চ তার অবস্থান এই বাড়ীতে অনেকটা চিরস্থায়ী অতিথির মত। আর যখন বাড়ী আসেন তখন মুঠো ভর্তি টাকা না থাকলেও একেবারে খালি হাতে আসেন তাও নয়। শুনেছি এখানে-ওখানে গান গেয়ে তিনি কামান মন্দ না। তাই সংসারে দু’পয়সা দিতে না পারলেও নিজের জীবন ধারনে তার খুব একটা অসুবিধা হবার কথা না। তবে এজন্য আমার মা’র কোন অভিযোগ আছে বলে মনে হয় না। আর আমি তো একটা বাচ্চা মেয়ে। সবে স্কুলে যেতে শিখেছি। আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে যখন যতটুকু প্রয়োজন তা আমার মা’ই দিয়ে থাকেন। মূলতঃ বাবাকে খুব একটা কাছে পাইনা বলে, তার কাছে কখনো কোন আব্দার করার অভ্যেসটা আমার ঠিক হয়ে উঠেনি। এরপরেও বাবা প্রতিবারেই বাড়ী ফেরার সময় আমার জন্য যা’ই নিয়ে আসেন তাই আমার জন্য অঢেল আনন্দের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

তবে এবারের আনন্দটা আমার তেমন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। গত দু’রাতের একটা ভিন্ন ঘটনার কারণে বাবার প্রতি আমি যথেষ্ট মনক্ষুন্ন। আমি সবসময় রাতে মায়ের সাথেই ঘুমাই। বাবা বাড়ী এলে সাধারণতঃ বারান্দার ধারের তক্তপোষেই ঘুমিয়ে থাকেন। কিন্তু, গতরাতে আমি যথারীতি মা’র সাথে ঘুমালেও ভোর বেলা পেচ্ছাব পাওয়ায় তাকে ডাকতে গিয়ে বিছানায় না দেখে বেশ অবাক হই। খোঁজাখুঁজি করে মা’কে বাবার সাথে জড়াজড়ি করে তক্তপোষে শুয়ে থাকতে দেখি’। আমি ভেবেই পাইনা, বাবার মত এত বড় একজন মানুষকে মায়ের জড়িয়ে থাকার কি হলো। এর আগের রাতেও টের পেয়েছি আমি ঘুমিয়ে গেলে (যদিও মা উঠে যাওয়া মাত্রই আমার ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিল) মা উঠে গিয়ে বাবার কাছে গেলেন। কতক্ষণ পর মনে হলো মা যেন কেমন কোঁকাচ্ছেন, আবার কখনো কখনো চাপা শব্দে চিৎকার করে উঠছেন। আমি ভয়ে টু শব্দটিও করিনি, যেহেতু বুঝতে পারছিলাম মা কোন কারণে ব্যথা পাচ্ছেন। এর ক্ষাণীক বাদেই মা এসে আবার আমাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে গেলেন। আমিও তার বুকের সাথে মিশে গিয়ে ঘুমিয়ে যাই। মা বুঝতেই পারেননি মাঝখানের এই সময়টাতে আমি পুরোই জেগে ছিলাম। কিন্তু, মাকে বাবা ব্যথা দিয়েছে এই বিষয়টা আমার মনটাকে তার প্রতি ভীষন রাগিয়ে তুলে। তাই সকাল থেকে এই ঝমঝমে বৃষ্টির সময়টাতে বাবা ঝিম মেরে বারান্দায় বসে থাকলেও আমার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে হয়নি আগের মত তার আশ-পাশ ঘুরে দৃষ্টি আকর্ষন করতে। তবে দূর থেকে তাকে ঠিকই লক্ষ্য করছিলাম বলেই বুঝতে পারছিলাম, তিনি খুব অস্থির হয়ে আছেন। অনেকটা খাঁচায় পুরা বুনো পাখির মত। বারান্দার এক কোণায় বৃষ্টির ঝাট খেতে খেতে আমি দেখছিলাম, বাবা একটার পর একটা বিড়ি ফুঁকছেন। আবার কখনো দু’তারায় টুং-টাং শব্দ তুলছেন। এর মাঝে মাকেও একবার দেখলাম উঁকি দিয়ে গেলেন। বাবা এসবের কিছুই টের পেলেন না। তিনি তার মতই বসে আছেন, কখনো স্থবির তো পরক্ষণেই অস্থির।

বিকেলের দিকে একসময় মনে হলো বৃষ্টির তোড় কিছুটা কমে এসেছে। ব্যপারটা বাবাও খেয়াল করলেন। সহসা বেঞ্চ ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। হেঁটে এগিয়ে গেলেন বারান্দার ধারে। আকাশ পানে তাকিয়ে কি যেন খুঁজলেন। তারপর ঘাড় ফিরিয়ে তাঁকালেন আমার দিকে। সেই চোখের দিকে তাকিয়ে বাবাকে আমার খুব অচেনা মনে হলো। বাবা আমাকে ঠিক খেয়াল করলেন কিনা জানিনা তবে উনার মাথা নাড়ানোটা আমার কাছে কেমন অস্বাভাবিক মনে হলো। আমার দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে তিনি আবার আকাশের দিকে তাঁকালেন। বৃষ্টির ছটা এসে তার মুখ ভিজিয়ে দিতে লাগলো। মনে হলো তার চোখ দুটোও ভেজা ভেজা। তবে তা বৃষ্টির ছটায় না তার কান্নার জলে আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না।

সে রাতে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল মায়ের ফুঁপানীতে। মা আমায় জড়িয়ে আছেন টের পেলাম। ঘরের দরোজা খোলা। বাহির থেকে বাবার দরাজ কন্ঠের গান ভেসে আসছে।

আমি যখন একলা থাকি গো
তখন পরান আমার কয়।
এই ভুবনে আমি ছাড়া
আমার কেহ নয়।।

আগুন রঙা সূরুয জ্বলে
ঈষাণও কোণে।
সারা দুনিয়া ঝলমল করে
আন্ধার এ মনে।
আলোর দিশা খুঁইজা মরি
আমি নিরালায়।।

এই ভুবনে আমি ছাড়া
আমার কেহ নয়।

জীবন তরী বইয়া চলে
উজান গাঙ্গের ধার।
বৈঠা হাতে বইসা আছি
দিতে হইবো পাড়।
একে একে সবাই গেল
আমি রইলাম ঠাঁয়।।

এই ভুবনে আমি ছাড়া
আমার কেহ নয়।।

আমি যখন একলা থাকি গো
তখন পরান আমার কয়।
এই ভুবনে আমি ছাড়া
আমার কেহ নয়।।

জানিনা মা টের পেয়েছে কিনা। তবে আমার মনে হলো বাবার গানটা ধীরে ধীরে ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়ে একসময় মিলিয়ে গেল। চারিদিকে সুনসান নিরবতা। টানা ক’দিনের বৃষ্টির পর প্রকৃতি কেমন থমকে আছে। সহসা টের পেলাম মা বিছানা ছাড়ছেন। আস্তে করে উঠে গিয়ে দরোজাটা বন্ধ করে এলেন। তারপর ফিরে এসে আবারো আমায় জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়লেন। আমি ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে উঠে বাবাকে আর দেখতে পেলাম না।

বেশ কিছুদিন পার হয়ে গেছে। বাবার কথা এখন আর আমার মনে পড়ে না। মা’ও বোধকরি ভুলে গেছেন। আমি আগের মতই স্কুলে যাচ্ছি আর বাড়ী ফিরে মার আদর নিচ্ছি। দারুণ হেসে খেলে কেটে যাচ্ছে আমার জীবন। এরমধ্যে একদিন বাড়ী ফিরে দেখি মা ঘরের দরোজা ধরে চোখ-মুখ কুঁচকে দাঁড়িয়ে আছেন। আর ওয়াক ওয়াক করে বমি করার চেষ্টা করছেন। আমি ভয় পেয়ে পাশের বাড়ীর বুড়ীমা’কে ডেকে আনতে ছুটে যাই। ফিরে এসে দেখি মা দিব্যি সুস্থ মানুষের মত বারান্দার বেঞ্চিতে বসে তেতুলের আচার খাচ্ছেন। বুড়ী মাকে দেখে মা কেমন মুখ টিপে হেসে ঘরে ঢুকে গেলেন। আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না।

দেখতে দেখতে আরো ক’টা মাস পার হয়ে গেল। এর মাঝে মা’র শরীরে একটা অস্বাভাবিক পরিবর্তন চলে এসেছে খেয়াল করলাম। তিনি যেন কেমন মুটিয়ে গেছেন। পেট’টাও তার বেটপ রকম ফুলে গেছে। এসব কেন হচ্ছে অনেক ভেবেও আমার ক্ষুদ্র মস্তিস্কে তার কোন সমাধান পেলাম না।

তার আরো বেশ কয়েক মাস পর একদিন স্কুল থেকে বাড়ী ফিরেই দেখি আমাদের ঘরে এবাড়ী-ওবাড়ীর মহিলারা ভীড় করে আছে। আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না। দৌড়ে ঘরে ঢুকলাম। মেঝেতে মাদুরের বিছানায় মা জুবুথুবু হয়ে শুয়ে আছে। পাশেই ওবাড়ীর বুড়ি মা। তার কোলে ছোট্ট লাল টুকটুকে একটা বাচ্চা। আমি পাশে যেয়ে বসতেই মা বলে উঠলো, আইছো মা ? তারপর বাচ্চাটার গায়ে হাত দিয়ে বলল, এইডা কেডা জানো ? আমার বাপ। আইজ থাইকা আমার আর কোনো দুঃখ নাই। তুমি যেমন আমার মা, তেমনি এইডা আমার বাপ। আমি আবার আমার বাবা-মায়েরে ফিইরা পাইছি। বলেই মা আমার গালটা টিপে দিলেন।

আমার বাবা আর কোনদিন ফিরে আসেনি। বাবার কথা এখন আর ঠিক মনেও পড়ে না। তবে আমি খেয়াল করেছি আমার ছোট ভাইটা দেখতে হুঁ-বু-হুঁ আমার বাবার মতই হয়েছে। তারপরেও আমি তাকে দেখে সুখী হতে পারিনা। কারণ এখন আমি এটুকু অন্তঃত বুঝি, বাবা কেবল বাবাই। তার অভাব আর কাউকে দিয়ে পুরণ হবার নয়। হতে পারেনা।
(রিপোষ্ট)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253785/</link>
				<pubDate>Wed, 10 Jun 2026 04:03:33 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>যে জলে তৃষ্ণা মেটেনা</p>
<p>আজ দুইদিন যাবত টানা বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টিতে আমাদের বাড়ীর চারপাশ মাঠ-ঘাট ডুবে একাকার। যেদিকেই তাকাই শুধুই পানি আর পানি। এরকম বৃষ্টিতে মানুষের জীবনযাত্রা বিশেষ করে গ্রামীন জনপদ একদম স্থবির হয়ে যায়। আমাদের অবস্থাও তাই। মা তো কেবল লাগোয়া রান্নাঘর আর বড় ঘর এই দু’য়ের মাঝে দৌড়াদৌড়ি করেই সময় পার করছেন। বাড়ীর উঠো&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253785"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253785/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">214ba371c69af0687a0ff82cc4093ab8</guid>
				<title>গাছকথা
লেখক – মোঃ নাজমুল আখতার।

দিঘীটা পার হওয়ার মাত্র দু’টো উপায় রয়েছে, হয় ডিঙ্গি নৌকায় উঠে পার হতে হবে আর নয়তো এই দিঘীর উপর দিয়ে ওপারে পাড়ের সাথে রেলের সংযোগ সেতু রয়েছে। পড়ন্ত বিকাল বেলা অতিক্রান্ত হওয়ায় সন্ধ্যা হতে আর ক্ষানিক মাত্র কিছু সময় বাকি রয়েছে। পশ্চিমের সূর্যাস্তের আলো আর দেখা যাচ্ছে না, সন্ধ্যে বেলায় চারপাশটা অন্ধকার ঘনো হয়ে আসায় দিঘী পারাপারের ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকাগুলোর মাঝিরা যার যার ঘরে চলে গেছে। তাই এখন একমাত্র উপায় এই ব্রীজের উপর দিয়েই যেতে হবে, দীঘির পাড় হতে কাঁচা রাস্তা হয়ে বেশ খানিকটা উঁচু উপর বরাবর রেল লাইনের পথটা চলে গেছে..

সদ্য বিবাহিত জীবন আমার!
তারপরে আবার নতুন জামাইবাবু হিসেবে শ্বশুরবাড়ীতে যাচ্ছি স্ব-স্ত্রীসহ। সে এবং এই গ্রামের লোকগুলোও নাকি খুবই অভ্যস্ত এ-রকম বিপদের সময় এই ব্রীজের উপর দিয়েই পারাপারে অতি অভিজ্ঞ। ওদিকে ট্রেন আসা-যাওয়ার কোন সিগনাল আছে কিনা লাল-সবুজ বাতি দেখে নিচ্ছে ষ্টেশনের দিকে বারবার পিছনের দিকে ফিরে..

আমাকে বলতেই বীরদর্পে বলে ফেলি অবশ্যই পার হতে পারবো! কিন্তু নিজের মনের করুণ অবস্থা একমাত্র আমিই বুঝতে পারছি। কাঠ ও স্টিলের ধাপগুলো একটু পরপর রেল লাইনের সাথে পেরেকের গলা বরাবর লটকানো। চোখ একদম পা বরাবর দৃষ্টি রেখে ধাপে ধাপে পা ফেলি, দু’মিনিটের দূরুত্বের সেতু যেন আমার কাছে শেষ হতেই চাচ্ছে না! ওদিকে সহধর্মিনী কিন্তু অতি সহজেই দ্রুত ওপারে পৌছে গেছে। সে যাই হোক অনেক কষ্টে ও কিছুটা ভয়ে ভয়ে ব্রীজটা পার হলাম। ওহ্ মনে হচ্ছে এ যেন বিশ্বজয় করে ফেলেছি, মনে মনে তো তাই মনে হচ্ছে, স্ত্রীর বাঁকা ঠোঁটের মুচকি হাসি যেন আমাকে সান্তনার পুরুস্কারে ভূষিত করছে।

আহ্
অনেকটা হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। ওপার হতে এপার আসতেই বিধ্বস্ত মনটা আমার কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেলো। কি স্বর্গিও আশ্চর্য সুন্দর এই কাঁশফুলগুলো, যতদূর চোখ যাচ্ছে আমার রেল লাইনের দু’ধার ধরে বনগুলো লম্বালম্বি চলে গেছে। এপারে আস্তে আস্তেই সন্ধ্যা পার হয়ে আমরা এখন সন্ধ্যা রাত্রিতে প্রবেশ করেছি। দক্ষিণ পূর্ব আকাশে অর্ধ চাঁদ হেলে উদিত হয়েছে তার সাথে বর্ষা ঋতুর প্রবাহমান হিমেল বাতাস যেন আমাকে স্বাগত জানাচ্ছে। আর ওই চাঁদের আলো ও স্নিগ্ধ বাতাস যখন এই কাঁশবোনগুলোকে মাতিয়ে দিয়ে নদীর ঢেউ এর ন্যায় অপেক্ষাহীণ করে চলে যায় তখন কিন্তু আমার হৃদয় সত্যিই খুরে খুরে পুলকিত হয়..</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253754/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 23:48:19 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>গাছকথা<br />
লেখক – মোঃ নাজমুল আখতার।</p>
<p>দিঘীটা পার হওয়ার মাত্র দু’টো উপায় রয়েছে, হয় ডিঙ্গি নৌকায় উঠে পার হতে হবে আর নয়তো এই দিঘীর উপর দিয়ে ওপারে পাড়ের সাথে রেলের সংযোগ সেতু রয়েছে। পড়ন্ত বিকাল বেলা অতিক্রান্ত হওয়ায় সন্ধ্যা হতে আর ক্ষানিক মাত্র কিছু সময় বাকি রয়েছে। পশ্চিমের সূর্যাস্তের আলো আর দেখা যাচ্ছে না, সন্ধ্যে বেলায় চারপাশটা অন্ধকার ঘনো হয়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253754"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253754/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">44b4fba3d467e7a009c662302b8d8e5b</guid>
				<title>আজহারুল ইসলাম তালহা and রাইসা আনজুম (পর্শি) are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253745/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 18:42:54 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">cf952200aa08605e861006274864c3f4</guid>
				<title>Md Zaker Hayat Khan [ Zaker Aditya ] [ জাকের আদিত্য ] and রাইসা আনজুম (পর্শি) are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253744/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 18:42:47 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1a1dce236e55f19cfc8bea962b85e986</guid>
				<title>“এটা আমার শেষ নয়”
পর্ব ৪-হৃদয়ের বিপরীত লিপি

আয়েশার চোখের পানি যেন কিছুতেই থামছিল না। অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে সে ভাঙা গলায় বলে উঠল,
&quot;আমার ভাই... আমার অবুঝ ভাইটার মনের ভেতরটা আমি এতদিনেও কেন বুঝতে পারলাম না?

আমি তো ভেবেছিলাম, তানহাকে হারানোর যন্ত্রণায় সে শুধু এক  মহাচ্ছন্নতায় ডুবে আছে। কিন্তু একবারও ভাবিনি—আমার ভাই তানহাকে এতটা ভালোবাসত!

তার সেই নীরব ভালোবাসার গভীরতা... আমি একেবারেই বুঝতে পারিনি...&quot;

&quot;চোখের দেখা মরীচিকার মতো ভ্রান্তির জালে জড়ায় বারবার,
যা নয় সত্যি, তাই লাগে সত্য—মনে জাগে তারই ভার;
আর যা সত্যি এসে দাঁড়ায় জীবনের নিঃশব্দ দুয়ারে,
মন তবু মানে না তাকে, ডুবে থাকে স্বপ্নের আঁধারে।&quot;-আয়াজ রহমান

২০১৯

মেডিক্যাল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী তানহা। পড়াশোনার চাপে যেন দম ফেলারও সময় নেই তার। আয়াজ ক্যারিয়ারের তাগিদে রাজধানী  চলে গেছে, আর ঐশীও উচ্চশিক্ষার জন্য সেখানেই পাড়ি জমিয়েছে। ফলে তানহার দিনগুলো এখন কেটে যায় একা— ক্লাসের ব্যস্ততায় ডুবে থেকে।

সেদিন ল্যাবের ক্লাস শেষে বন্ধুদের সঙ্গে ক্যাফেটেরিয়ায় বসে আড্ডা দিচ্ছিল সে। হঠাৎই তার খেয়াল হলো—পকেটে হাত দিতেই বুঝল, ফোনটা নেই!

এক মুহূর্তেই অস্থির হয়ে উঠল তানহা। তড়িঘড়ি এদিক-ওদিক খুঁজতে লাগল। শেষমেশ বন্ধুদের একজন তার নাম্বারে কল করল। রিং হতে লাগল, কিন্তু কেউ ধরল না। কয়েকবার কল করার পর হঠাৎই ওপাশ থেকে ভেসে এল এক অচেনা কণ্ঠ—
&quot;ফোনটা অ্যানাটমি ল্যাবে আছে।&quot;

কথাটা শোনামাত্রই তানহা আর এক মুহূর্তও দেরি করল না। ছুটে চলল ল্যাবের দিকে। দৌড়াতে দৌড়াতে দরজার সামনে এসে হঠাৎই সজোরে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেল সে।

এলোমেলো চুল, হাঁপাতে থাকা শরীর নিয়ে কোনোমতে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল তানহা। ঠিক তখনই তার সামনে এসে দাঁড়াল এক সুদর্শন তরুণ। শুধু সুদর্শন বললে ভুল হবে। তার লম্বা গড়ন, উঁচু নাক, আকর্ষণীয় মুখাবয়ব, সুঠাম দেহের গঠন আর কোঁকড়ানো চুল—সব মিলিয়ে এমন এক ব্যক্তিত্ব, যাকে একবার দেখলে সহজে ভুলে যাওয়া যায় না।

ছেলেটি নীরবে হাত বাড়িয়ে দিল। মুহূর্তের দ্বিধা কাটিয়ে তানহা সেই হাত ধরেই উঠে দাঁড়াল।

ছেলেটি শান্ত স্বরে জিজ্ঞেস করল,
&quot;আপনি ঠিক আছেন?&quot;

তানহা শুধু মাথা নাড়ল। আর কিছু না বলে দ্রুত ল্যাবের ভেতরে ঢুকতে যাচ্ছিল, তখনই ছেলেটি তাকে থামিয়ে দিল—
&quot;কোথায় যাচ্ছেন? ভেতরে এখন ক্লাস চলছে।&quot;

হাঁপাতে হাঁপাতে তানহা বলল,
&quot;আমার ফোনটা ভেতরে আছে... সেটা নিতে যাচ্ছি।&quot;

ছেলেটি নিজের পকেট থেকে একটি ফোন বের করল। তানহার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
&quot;এটার কথাই বলছেন?&quot;

ফোনটা নিতে তানহা হাত বাড়াতেই ছেলেটি হঠাৎ হাত সরিয়ে নিল।

ভ্রু কুঁচকে তানহা বলল,
&quot;মানে? ফোনটা দিচ্ছেন না কেন?&quot;

ছেলেটি ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি টেনে বলল,
&quot;একজন অপরিচিত মানুষকে আমি ফোনটা কেন দেব? এটা যে আপনারই ফোন, তার প্রমাণ কী?&quot;

তানহা অবাক হয়ে বলল,
&quot;মানে? এটা আমার ফোন—আমি তো বলছি!&quot;

ছেলেটি নির্বিকার গলায় উত্তর দিল,
&quot;আমি কীভাবে বিশ্বাস করব? ওয়ালপেপারে যদি আপনার নিজের ছবি থাকত, তাহলে হয়তো ভাবতাম। কিন্তু এখানে তো কোনো মডেলের ছবি দেওয়া। এটা তো যে কারোরই হতে পারে।&quot;

ধৈর্য হারিয়ে ফেলল তানহা। দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
&quot;ঠিক আছে, ফোনটা দিন—আমি পাসওয়ার্ড খুলে দেখাচ্ছি।&quot;

ছেলেটি মাথা নাড়ল।
&quot;তাতেও হবে না। হতে পারে আপনি ফোনটা চুরি করেছেন, আর পাসওয়ার্ডটাও জেনে গেছেন।&quot;

এবার রাগে চোখ জ্বলে উঠল তানহার।
&quot;আমাকে কি আপনার চোর মনে হয়?&quot;

ছেলেটি হেসে ফেলল।
&quot;চোর বললে খুব একটা ভুল বলা হবে না।&quot;

তানহার রাগ তখন চরমে। কড়া গলায় বলল,
&quot;ঠিক আছে, কী করলে আপনি বিশ্বাস করবেন?&quot;

ছেলেটি যেন এই প্রশ্নটারই অপেক্ষায় ছিল। একটু ভেবে বলল,
&quot;যদি ফোনটা সত্যিই আপনার হয়, তাহলে আপনার নাম্বার নিশ্চয়ই মুখস্থ আছে। নাম্বারটা বলুন—আমি আমার ফোন থেকে কল দিচ্ছি। যদি এই ফোনটা বেজে ওঠে, তাহলে বিশ্বাস করব।&quot;

উপায়ান্তর না দেখে তানহা নিজের নাম্বার বলল। ছেলেটি নম্বর ডায়াল করতেই মুহূর্তের মধ্যেই ফোনটা বেজে উঠল।

অবশেষে ফোনটা তানহার হাতে তুলে দিল সে।

ফোনটা হাতে পেয়েই এক মুহূর্তও দাঁড়াল না তানহা। দ্রুত পায়ে সেখান থেকে চলে যেতে লাগল।

ছেলেটি একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল তার চলে যাওয়ার দিকে। তারপর ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল। বুকের ওপর হাত রেখে নিচু স্বরে ফিসফিস করে বলল—
&quot;কিউট...&quot;

তানহার ফোনটা নিঃশব্দে টেবিলের ওপর পড়ে আছে। স্ক্রিনটা হালকা আলো ছড়াচ্ছে—আর সেই আলোয় ভেসে উঠেছে এক পরিচিত মুখ।

আয়াজ।

ওয়ালপেপারে সেট করা সেই ছবিটার দিকে মাঝেমধ্যেই চুপচাপ তাকিয়ে থাকে তানহা। কখনো অকারণে হাসে, কখনো আবার  এক শূন্যতায় ডুবে যায়। সবাই জানে—এটা তার সেলিব্রেটি ক্রাশ। কিন্তু এই ছবির আড়ালে লুকিয়ে থাকা অনুভূতিগুলো... সেগুলো সে কাউকেই জানায় না।

পাঁচ দিন পর।

মেডিক্যাল কলেজের লাইব্রেরি। চারপাশে গাঢ় নীরবতা—শুধু পাতার শব্দ, কলমের খসখসানি আর দূরের ঘড়ির টিকটিক।

তানহা আর সায়মা পাশাপাশি বসে পড়ছে। সামনে খোলা বই, কিন্তু তানহার মন যেন পুরোপুরি সেখানে নেই। অজান্তেই সে বারবার ফোনটার দিকে তাকাচ্ছে।

হঠাৎই চেয়ার টেনে বসার মৃদু শব্দে তার মনোযোগ ভেঙে গেল।

মাথা তুলে তাকাতেই বুকটা ধক করে উঠল।

সেই ছেলেটি।

নিঃশব্দে এসে ঠিক তার উল্টো দিকে বসে পড়েছে। কোনো কথা নেই, কোনো দৃষ্টি নেই—শুধু নিজের বই খুলে শান্তভাবে পড়তে শুরু করল।

তানহার গলা শুকিয়ে এলো। চোখ সরিয়ে নিতে চাইল, কিন্তু পারল না। কয়েক সেকেন্ডের জন্য তার দৃষ্টি আটকে রইল ছেলেটির মুখে... তারপর হঠাৎই নিজেকে সামলে নিয়ে মাথা নিচু করল।

সময় ধীরে ধীরে গড়াতে লাগল।

হঠাৎই ছেলেটি বই বন্ধ করল। চেয়ারটা আস্তে করে সরিয়ে দাঁড়াল। কোনো শব্দ না করে চলে যেতে লাগল।

ছেলেটি কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে আবার থামল। ফিরে তাকাল না—শুধু হাত বাড়িয়ে তানহার টেবিলের ওপর একটা জুসের বোতল রেখে দিল।

তারপর আবার হাঁটতে শুরু করল।

&quot;এই... শুনুন...&quot;

শব্দটা ঠোঁট পর্যন্ত এসে থেমে গেল।

লাইব্রেরির নীরবতায় তানহা আর জোরে ডাকতে পারল না।

কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ছেলেটি ভিড়ের মাঝে হারিয়ে গেল।

তানহা স্থির হয়ে বসে রইল। চোখ গিয়ে আটকালো বোতলটার ওপর।

কয়েক সেকেন্ড।

তারপর ভ্রু কুঁচকে গেল।

এক ঝটকায় বোতলটা পাশে সরিয়ে দিল সে। টেবিলের এক কোণে ফেলে রেখে আবার বইয়ের দিকে তাকাল—যেন কিছুই হয়নি।

লাইব্রেরি থেকে বের হওয়ার সময়ও বোতলটার দিকে আর একবারও ফিরে তাকাল না তানহা।

পেছনে পড়ে রইল সেটি—অযত্নে, উপেক্ষিত।

লাইব্রেরি থেকে বের হওয়ার পর সায়মা আর চুপ থাকতে পারল না।

&quot;তুই কি চিনিস ছেলেটাকে?&quot;

তানহা যেন ভাবনা থেকে ফিরে এলো। ভ্রু কুঁচকে বলল,
&quot;কোন ছেলে?&quot;

সায়মা হালকা হেসে বলল,
&quot;কেন, যে তোকে জুস দিয়ে গেল!&quot;

তানহা ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
&quot;চিনে আমার কী কাজ?&quot;

সায়মার মুখের হাসিটা মিলিয়ে গেল। সে একটু কাছে এসে নিচু গলায় বলল,
&quot;দেখ, এই ছেলেটার সাথে কখনোই খারাপ ব্যবহার করিস না... ও থার্ড ইয়ারের ছাত্র। নাম—এশান খান।&quot;

নামটা শুনতেই তানহার ভেতরটা কেমন যেন কেঁপে উঠল।

এশান খান...

 পরিচিত একটা নাম।

সায়মা আবার বলল,
&quot;ওর বাবা এই শহরের মেয়র। আর ক্যাম্পাসে ওর সম্পর্কে কী কী শোনা যায়... সেটা তো জানিসই।&quot;

তানহার গলা শুকিয়ে এলো। নামটা সে আগেও শুনেছে—তবে ভালো কোনো কারণে নয়।

বলা হয়, এশান বুলিংয়ের জন্য কুখ্যাত। কেউ তার সামনে দাঁড়াতে গেলে, তার পরিণতি নাকি খুব একটা ভালো হয় না।

তানহার বুকের ভেতর ধীরে ধীরে অস্বস্তি জমতে লাগল।

তানহা চোখ বন্ধ করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

না...
এশান খান থেকে দূরে থাকতেই হবে।

যতটা সম্ভব দূরে।

রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ তানহার ফোনটা ভাইব্রেট করে উঠল।

একটা অজানা নম্বর।

সে ভ্রু কুঁচকে মেসেজটা খুলল—

&quot;তুমি যদি জুসটা পছন্দ না করে থাকো, তবে কাল লাইব্রেরিতে অন্য কিছু রেখে আসব।&quot;

মুহূর্তের জন্য সময়টা যেন থমকে গেল।

তানহার বুকের ভেতর অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়ল। হাতটা অজান্তেই ঠান্ডা হয়ে এলো। এক ধরনের অজানা চাপ তার শ্বাসকে ভারী করে তুলল।

সে আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না।

দ্রুত পায়ে হাঁটতে হাঁটতে প্রায় দৌড়ে বাসার দিকে চলে গেল।

ঘরে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে দেয়ার শব্দটা যেন পুরো ঘরটাকে ভারী করে দিল। তানহা দরজার সাথে হেলান দিয়ে গভীর শ্বাস নিল।

কাল তার বড় একটা দিন—সে রাজধানীতে যাবে আয়াজের সাথে দেখা করতে।

পরদিন।

রাজধানীর ব্যস্ততা ভরা শহর।

তানহা পৌঁছেই ফোন বের করল।

আয়াজ ফোন ধরতেই শান্ত স্বরে বলল,
&quot;আমি এখন শুটিং সেটে আছি।&quot;

তানহা আর দেরি করল না। ঠিকানা নিয়ে দ্রুত রওনা দিল।

শুটিং সেটে পৌঁছে সে কিছুক্ষণ দূর থেকে দাঁড়িয়ে রইল।

ক্যামেরা চলছে।

আয়াজ এক নায়িকার হাত ধরে আবেগভরা কণ্ঠে বলছে—
&quot;আমি তোমাকে আমার জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি... তোমাকে ছাড়া আমি এক মুহূর্তও বাঁচতে পারব না।&quot;

&quot;কাট! দারুণ শট।&quot; পরিচালক চিৎকার করে উঠলেন।

তানহার বুকের ভেতরটা হঠাৎ ভারী হয়ে গেল।

চোখ স্থির হয়ে গেল সেই দৃশ্যের দিকে।

এক মুহূর্তের জন্য তার ভেতরটা কেঁপে উঠল—
ইশ... আয়াজ যদি আমাকে এভাবে বলত...

পরের মুহূর্তেই সে নিজেকে সামলে নিল।

&quot;না... এটা তো অভিনয়,&quot; মনে মনে নিজেকে বোঝাল সে।
&quot;এমন তো করতেই হয়।&quot;

তবুও বুকের কোণে এক অজানা ব্যথা থেকে গেল।

দৃশ্য শেষ হতেই আয়াজ হাসিমুখে তানহার সামনে এসে দাঁড়াল।

&quot;কি এত ভাবছো তুমি?&quot;

তানহা একটু থমকে গেল। চোখ নামিয়ে নিল।

নিচু স্বরে বলল,
&quot;তোমাকে নিয়ে...&quot;

আয়াজ এক মুহূর্ত তাকিয়ে রইল তার দিকে।
কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়া দিল না।

যেন কথাটা তার কানে পৌঁছায়নি—এমন নির্বিকার একটা হাসি দিয়ে সে শুধু বলল,
&quot;চলো, লাঞ্চ করি।&quot;

তারপর স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হাঁটা শুরু করল।

তানহা কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল।

তারপর ধীরে ধীরে তার পেছনে পা বাড়াল।

লাঞ্চের সময় আয়াজ খেতে ব্যস্ত ছিল। তানহা চুপচাপ তার দিকে তাকিয়ে ছিল—অজান্তেই চোখটা যেন সেখানেই আটকে গেছে।

হঠাৎ আয়াজ মাথা না তুলে হালকা হেসে বলল,
&quot;আমার দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজের খাবারটা শেষ করো।&quot;

তানহা চমকে উঠল। লজ্জায় তার গালটা হালকা লাল হয়ে গেল। তাড়াতাড়ি মাথা নিচু করে নিজের প্লেটে মন দিল।

খাওয়া শেষ হওয়ার পর তানহা একটু ইতস্তত করে জিজ্ঞেস করল,
&quot;আয়াজ... কাল তুমি কি ফ্রি আছো?&quot;

আয়াজ ভ্রু কুঁচকে তার দিকে তাকাল।
&quot;কেন? কোনো বিশেষ কিছু?&quot;

তানহা মৃদু হাসি দিয়ে বলল,
&quot;হ্যাঁ... তোমাকে কিছু বলার ছিল।&quot;

আয়াজ এক মুহূর্ত তাকিয়ে রইল।
&quot;এখনই বলে ফেলো না কেন?&quot;

তানহা মাথা নাড়ল।
&quot;না... কাল বলব।&quot;

তার ভেতরটা তখন  উত্তেজনায় ভরা।
কালই সে আয়াজকে নিজের মনের কথা বলবে।

কিছুক্ষণ পর আয়াজ জিজ্ঞেস করল,
&quot;তুমি রাতে কোথায় থাকবে? হোটেল বুক করেছো?&quot;

তানহা শান্ত স্বরে বলল,
&quot;না, আমি ঐশীর সাথে থাকব।&quot;

আয়াজ হালকা মাথা নেড়ে আর কিছু বলল না।

পরদিন সকাল থেকেই তানহার ভেতরে অস্থিরতা জমে ছিল।

আজই সেই দিন।

আজই সে আয়াজকে সব খুলে বলবে।

প্রথমে ধীরে ধীরে একটা হাসি ফুটে উঠল তার মুখে, তারপর ফোন হাতে নিয়ে কল করল।

একবার রিং হলো—

তারপর হঠাৎ লাইন কেটে গেল।

তানহার ভ্রু কুঁচকে গেল।

আবার কল করল।

এইবার—ফোন বন্ধ।

একটা  অস্বস্তি ধীরে ধীরে তার বুকের ভেতর জায়গা নিতে শুরু করল।

এক ঘণ্টা পার হলো...
দুই ঘণ্টা...
তারপর তিন, চার, পাঁচ...

সময় যেন ভারী হয়ে উঠল।

তানহা শুধু বসে রইল—ফোন হাতে।

প্রতি মিনিটে তার আশা একটু একটু করে কমে যাচ্ছে।

কিন্তু অপেক্ষা থামছে না।

সেদিন সে বুকভরা কষ্ট নিয়ে নিজের বাসায় ফিরে গেল।

ছয় দিন পর

আয়াজের ফোন না আসা আর তার অনুপস্থিতির যন্ত্রণায় তানহার মনটা ভীষণ ভারী হয়ে ছিল। অস্থির সেই মন নিয়েই সে মেডিকেল কলেজের দিকে হাঁটছিল।

হঠাৎই—

তার ঠিক পেছনে &quot;ধপ&quot; করে একটা শব্দ হলো।

তানহা চমকে পেছনে ঘুরে তাকাতেই দেখল, এশান মাটিতে পড়ে আছে।

একটু ধীরে উঠে দাঁড়িয়ে সে ধুলো ঝেড়ে বাঁকা হাসি দিল।
&quot;একটু আস্তে হাঁটতে পারো না? তোমাকে ফলো করা যে কতটা কঠিন, সেটা কি জানো ম্যাডাম? কী নিয়ে এত মন খারাপ তোমার?&quot;

মনের ভেতরের কষ্টগুলো তানহাকে এতটাই নিঃশেষ করে দিয়েছিল যে, একসময় যার উপস্থিতিতেই সে ভয়ে কেঁপে উঠত, সেই এশানকেও এখন আর ভয় লাগছিল না।

তানহার চোখ সরু হয়ে গেল। রাগে গলা শক্ত হয়ে এলো।
&quot;আপনি আমাকে ফলো করছেন কেন? জানেন না ফলো করা অপরাধ?&quot;

এশান কাঁধ ঝাঁকিয়ে রহস্যময় হাসি দিল।
&quot;তাই নাকি? অপরাধ হলে তো পুলিশে দেওয়ার কথা। দাও না তাহলে!&quot;

ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন থেকে ঐশী এসে হাজির হলো।

সে তানহাকে দেখে বলল,
&quot;কিরে, কালকের প্রোগ্রামের জন্য রেডি তো?&quot;

তানহা কিছু বলার আগেই ঐশীর চোখ চলে গেল এশানের দিকে। সে এক মুহূর্ত তাকিয়ে রইল, তারপর হালকা হেসে বলল,
&quot;বাহ... কে এই হ্যান্ডসাম ছেলে?&quot;

এশানও স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হাসল।
&quot;হাই! আমি এশান।&quot;

একটু থেমে, চোখ টিপে বলল—
&quot;তানহার হবু স্বামী।&quot;

তানহা যেন মুহূর্তে থমকে গেল।
&quot;কি বলছেন এসব?!&quot;

ঐশী তানহার কনুইয়ে গুঁতো দিয়ে ফিসফিস করল,
&quot;কিরে! তুই ডেট করছিস অথচ আমাকে বলিসনি?&quot;

তানহার রাগ আরও বেড়ে গেল।
&quot;এগুলো আপনি কেন বলছেন? এমন আজেবাজে মজা করার মানে কী?&quot;

ঐশী এশানের দিকে তাকিয়ে কৌতূহলী গলায় বলল,
&quot;মিথ্যা বলছেন?&quot;

এশান এবার একটু সিরিয়াস ভাব নিয়ে হাসল।
&quot;আচ্ছা ঠিক আছে, সত্যিটাই বলি—এখনো হবু স্বামী না। তবে ভবিষ্যতে হবো অবশ্যই।&quot;

চোখ সরিয়ে তানহার দিকে তাকাল সে।
&quot;কী বলো, তানহা?&quot;

তানহা বিরক্তিতে মাথা নেড়ে দিল।
&quot;আপনার সাথে কথা বলাই আমার ভুল হয়েছে।&quot;

এশান নাটুকে ভঙ্গিতে হাত বুকের কাছে রেখে বলল,
&quot;আহা... তুমি কথা না বললে তো আমি সত্যিই মরে যাবো।&quot;

পরিস্থিতি হালকা করতে ঐশী হেসে ফেলল। তারপর এশানের দিকে তাকিয়ে দুষ্টুমি মিশ্রিত স্বরে বলল,
&quot;ভাইয়া, আপনি তো বেশ হ্যান্ডসাম... আপনার নাম্বারটা কি পাওয়া যাবে?&quot;

ঐশীর ফোন নম্বর চাওয়ার সিদ্ধান্তে এশান এক মুহূর্তের জন্য অবাক হলো। তবে পরের মুহূর্তেই ঐশীর চোখের ইশারায় সবটা যেন পরিষ্কার হয়ে গেল।

নম্বর আদান-প্রদান হয়ে গেলে তানহা কোনো কথা না বলে ঐশীর হাত ধরে তাকে টেনে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে এল।

একটু দূরে এসে দাঁড়াতেই তানহা বিরক্ত গলায় বলল,
&quot;তুই ওই লোকটার নম্বর নিলি কেন? ওর মাথা ঠিক নেই।&quot;

ঐশী একদম স্বাভাবিক ভঙ্গিতে কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল,
&quot;আমার ভালো লেগেছে, তাই নিয়েছি।&quot;

তানহা আর কথা বাড়াল না। তার ভেতরে তখন অন্য এক অস্থিরতা জমে আছে—আয়াজের অনুপস্থিতি, আর সবকিছুর মাঝে জমে থাকা এক অদ্ভুত চাপ।

ঐশী একটু থেমে জিজ্ঞেস করল,
&quot;তোর ক্লাস কখন?&quot;

তানহা  বলল,
&quot;আর এক ঘণ্টা পর।&quot;

ঐশী হঠাৎই গম্ভীর হয়ে গেল।
&quot;ক্যাপিটাল থেকে আমাকে না বলে এভাবে চলে এলি কেন? আয়াজ কি আবার তোকে কিছু বলেছে?&quot;

তানহা কোনো উত্তর দিল না।

চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল কয়েক সেকেন্ড।

কাল তার জন্মদিন।

সে ভেবেছিল, দিনটা আয়াজের সাথেই কাটাবে।

কিন্তু এখন সবকিছুই কেমন এলোমেলো লাগছে।

সে আর কিছু না বলে ধীরে ধীরে ক্লাসের দিকে হাঁটা শুরু করল।

অন্যদিকে, ঐশী মানুষের মন বোঝার ব্যাপারে বেশ তীক্ষ্ণ। সে টের পাচ্ছিল—এশান শুধুই &quot;হঠাৎ দেখা হওয়া&quot; কোনো ছেলে না।

ঐশী ক্যাম্পাসে খোঁজ নিয়ে দেখল

একসময় এশাননের নাম শুনলেই বুলিং আর ঝামেলার কথাই মনে পড়ত। কিন্তু গত কয়েক মাসে সে যেন সম্পূর্ণ অন্য মানুষ হয়ে গেছে। তার আচরণে এসেছে  শান্তভাব। 

এশান তানহার আশেপাশে থাকে...  খুব নিয়মিতভাবে।

এটা ক্যাম্পাসের অনেকেই জানে।

আর সেই কারণেই অনেকেই তানহার দিকে এগোনোর সাহসই পায় না।

ঐশীর বুঝতে বেশি সময় লাগল না—এশানের এই পরিবর্তনের কারণ তানহা ছাড়া আর কেউ নয়।

ঐশী কিছুক্ষণ ভেবে শেষে এশানকে ফোন করল।

&quot;একটু দেখা করা যাবে?&quot;—সে শুধু এটুকুই বলল।

ক্যাফে।

এশান আগে থেকেই এসে বসে ছিল। টেবিলের ওপর মেনু কার্ডটা এগিয়ে দিয়ে বলল,
&quot;যা ইচ্ছে অর্ডার করো।&quot;

ঐশী মাথা নেড়ে বলল,
&quot;না ভাইয়া, আমি কিছু খাব না।&quot;

এশান হালকা হাসল।
&quot;না কেন? তুমি তো আমার ছোট বোনের মতো। কিছু তো অর্ডার করতেই হবে।&quot;

অবশেষে দুজনেই কফি নিল।

কফির কাপে চুমুক দিয়ে ঐশী কিছুক্ষণ চুপ রইল। তারপর সরাসরি এশানের দিকে তাকাল।

&quot;ভাইয়া... আপনি কি তানহাকে পছন্দ করেন?&quot;

এক মুহূর্তের জন্য ক্যাফের শব্দও যেন থেমে গেল।

এশান কফির কাপে ধীরে ধীরে চুমুক দিল।

তারপর হাসল।

সেই হাসিতে কোনো চাতুর্য ছিল না।

ছিল না কোনো নাটকীয়তাও।

শুধু এক ধরনের স্থির, নিশ্চিত সত্য।

সে ধীর গলায় বলল,
&quot;পছন্দ?&quot;

একটু থামল।

চোখ তুলে ঐশীর দিকে তাকাল।

&quot;না... পছন্দ করার চেয়েও বেশি কিছু যদি থাকে, আমি ঠিক ততটাই ফিল করি।&quot;

ঐশী হেসে ফেলল।
&quot;হাউ সুইট! ভাইয়া, আসল কথায় আসি—কাল তানহার জন্মদিন, আপনি জানেন তো?&quot;

এশান কফির কাপে ধীরে চুমুক দিল।
&quot;আমি জানি।&quot;

ঐশীর চোখে উচ্ছ্বাস ফুটে উঠল।
&quot;তাহলে তো দারুণ! আপনার প্ল্যান কী?&quot;

কিছুক্ষণ চুপ করে রইল এশান। তারপর শান্ত স্বরে বলল,
&quot;ওর জন্য গিফট কিনেছি।&quot;

ঐশী ভ্রু তুলে তাকাল।
শুধু গিফট?

এশান এবার একটু থামল। চোখ কাপে স্থির রেখে বলল,
&quot;আরও একটা প্ল্যান আছে।&quot;

ঐশী আগ্রহে ঝুঁকে পড়ল।
&quot;কী প্ল্যান?&quot;

এশান হালকা হাসল—
&quot;কাল ওকে বলব।&quot;

ঐশী এক মুহূর্তে বুঝে গেল , তারপর ধীরে ধীরে মুখে হাসি ফুটে উঠল।
&quot;ওকে... বুঝেছি।&quot;

সে একটু উত্তেজিত হয়ে বলল,
&quot;চিন্তা করবেন না ভাইয়া, আমি হেল্প করব।&quot;

পরদিন সকাল।

তানহা ঘুম থেকে উঠে দেখে তার বাবা আর তারিন তাকে উইশ করেছে। ঘরের ভেতর হালকা খুশির পরিবেশ, কেকের প্লেট, জন্মদিনের ছোট ছোট আয়োজন।

কিন্তু তানহার চোখ বারবার চলে যাচ্ছে ফোনের স্ক্রিনে।

আয়াজের কোনো মেসেজ নেই।

কোনো কল নেই।

একটা ছোট্ট আশা—যেটা সে নিজেই জানে অবাস্তব—তবুও মনটা বারবার সেই আশাতেই আটকে যাচ্ছে।

&quot;আজ হয়তো...&quot;
মনে মনে ভাবল সে।

কিন্তু পরের মুহূর্তেই সেই ভাবনাটা নীরবে ভেঙে গেল।

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সে ফোনটা পাশেই রেখে দিল।

মনের ভেতর জমে থাকা ভার নিয়ে ধীরে ধীরে ফ্রেশ হতে চলে গেল।

জনাব করিম টিভিতে খবর দেখছিলেন। হঠাৎ নিউজ —জনপ্রিয় তারকা আয়াজ রহমানকে এই শহরে দেখা গেছে।

তানহা তখন ফ্রেশ হয়ে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েছিল।

ক্লাস শেষে ঐশী তাকে সরাসরি নিয়ে গেল শহরের একটি রুফটপ রেস্টুরেন্টে।

উঁচু ভবনের ওপরে খোলা আকাশ, শহরের আলো ঝলমল করছে নিচে—আর হালকা বাতাসে বাতাসে দুলছে সাজানো আলো আর ডেকোরেশন।

একটা ছোট্ট, ঘরোয়া কিন্তু সুন্দরভাবে সাজানো বার্থডে সেটআপ।

ভেতরে ঢুকতেই তানহার চোখ পড়ল এশানের ওপর।

সে এক মুহূর্ত থমকে গেল।

&quot;ও এখানে...?&quot;

কিন্তু কিছু বলল না।

ধীরে ধীরে বুঝতে পারল—এটা ঐশীরই প্ল্যান।

তানহার ক্যাম্পাসের বন্ধু সায়মা আর তার বয়ফ্রেন্ড রাহিলও এসেছে। রাহিল আবার এশানের বেস্ট ফ্রেন্ড।

কেক কাটা শুরু হলো।

তানহা হাসিমুখে ছুরি ধরল।

কেক কাটার ঠিক মুহূর্তে—

হঠাৎ রুফটপের ওপরে ঠান্ডা বাতাস বইতে লাগল।

আর তার সাথে—

আকাশটা রঙিন আতশবাজিতে ভরে উঠল।

উঁচু ভবনের ওপরে দাঁড়িয়ে পুরো শহর যেন আলোয় ভেসে যাচ্ছে।

 তানহা এক মুহূর্ত থমকে গেল।

তার চোখ ধীরে ধীরে আকাশ থেকে নেমে এলো ভেতরের ভিড়ে।

হাসি থেমে গেল একটু।

মনে পড়ে গেল একটা মুখ...

আয়াজ।

&quot;ইশ... যদি সে এখানে থাকত...&quot;

রুফটপটা আতশবাজির আলোয় ভেসে যাচ্ছিল।

রঙিন আলো আকাশে ফেটে ফেটে মিলিয়ে যাচ্ছিল, শহরের রাতটা যেন অন্যরকম হয়ে উঠেছিল।

তানহা কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

সে মনে মনে ভাবল—

&quot;যদি সবাই এক মুহূর্তের জন্য হারিয়ে যেত...&quot;
&quot;যদি শুধু আমি আর আয়াজ থাকতাম...&quot;

তার চোখ ধীরে ধীরে আকাশের দিকে উঠল।

আতশবাজির আলোয় ঝলমল করছে রাত।

সে আবার মনে মনে বলল—

&quot;যদি সে এখন আমার পাশে থাকত... এই আকাশটা, এই আলো, এই মুহূর্তটা... সব কিছু শুধু আমাদের হতো।&quot;

একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো তার ভেতর থেকে।

চারপাশে সবাই আছে, হাসছে, ছবি তুলছে—

কিন্তু তার ভেতরের একটা জায়গা শুধু ফাঁকা।

ঠিক তখনই—

&quot;টক... টক...&quot;

তালি দেওয়ার শব্দ।

সবাই চমকে ঘুরে তাকাল।

তানহা পেছনে তাকাতেই দেখল—

এশান হাঁটু গেড়ে বসে আছে।

রুফটপের আলো, শহরের ঝলমলে ব্যাকগ্রাউন্ড, আর আকাশে আতশবাজি—সব মিলিয়ে মুহূর্তটা যেন থেমে গেছে।

তার হাতে ছোট একটা বক্স।

খুলতেই ভেতরে চকচকে ডায়মন্ডের আংটি।

এশানের চোখ স্থির, গলা শান্ত কিন্তু দৃঢ়।

সে ধীরে বলল,
&quot;তানহা...&quot;

একটু থামল।

&quot;আমি তোমাকে শুধু রিলেশনের জন্য প্রপোজ করছি না।&quot;

&quot;আমি তোমাকে সারা জীবনের জন্য আমার পাশে চাই।&quot;

তার দৃষ্টি সরল, কিন্তু ভাঙল না।

&quot;তুমি কি থাকবে?&quot;

ঠিক তখনই—

তার কথা শেষ হওয়ার আগেই ভেসে এলো একটা চিৎকার—

&quot;ওই তো আয়াজ না?!&quot;

এক মুহূর্তে পুরো রুফটপে নীরবতা ভেঙে গেল।

ফিসফিসানি, শোরগোল, ফোন ক্যামেরা ওঠা শুরু হলো।

তানহা সামনের দিকে তাকাতেই দেখল, ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে আছে আয়াজ!

(চলবে...)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253743/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 17:22:42 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“এটা আমার শেষ নয়”<br />
পর্ব ৪-হৃদয়ের বিপরীত লিপি</p>
<p>আয়েশার চোখের পানি যেন কিছুতেই থামছিল না। অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে সে ভাঙা গলায় বলে উঠল,<br />
&#8220;আমার ভাই&#8230; আমার অবুঝ ভাইটার মনের ভেতরটা আমি এতদিনেও কেন বুঝতে পারলাম না?</p>
<p>আমি তো ভেবেছিলাম, তানহাকে হারানোর যন্ত্রণায় সে শুধু এক  মহাচ্ছন্নতায় ডুবে আছে। কিন্তু একবারও ভাবিনি—আমার ভাই তানহাক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253743"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253743/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4a7abe4f83e454a8e84373b99b672231</guid>
				<title>Md Zaker Hayat Khan [ Zaker Aditya ] [ জাকের আদিত্য ] and মো: নাজমুল আখতার are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253742/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 17:11:59 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f303335afdead069012c022eb92a53bf</guid>
				<title>&#x1f338; বৃষ্টিভেজা গলির আলো &#x1f338;

বৃষ্টি থামে নীরব পথে
সন্ধ্যা ধীরে নামে,
ভেজা রাস্তায় আলোর রেখা
স্বপ্ন নীড়ে আঁকে।

দুই পাশ জুড়ে ঘুমায় ঘর
নেই কোনো কোলাহল,
শুধু বাতির মায়াবী ছোঁয়ায়
সবকিছু লাগে মুগ্ধকর।

মেঘের রঙে নীল আকাশে
লুকায় দিনের ক্লান্তি,
ছোট্ট গলির নিঃশব্দ পথে
খুঁজি জীবনের শান্তি।

যত দূরে যায় এই পথটি
তত দূরে নয় আশা,
অন্ধকারের বুকের ভেতর
জ্বলে আলোর ভাষা।

ভেজা মাটির গন্ধ মেখে
মন হারায় নিরালা,
সাধারণ এই গলির মাঝেই
লুকিয়ে থাকে কল্পনা।

জীবনও তো এমনই যেন
ঝড়ের পরে হাসে,
একফালি আলো পথ দেখিয়ে
নতুন ভোরের পাশে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253740/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 16:35:47 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#x1f338; বৃষ্টিভেজা গলির আলো &#x1f338;</p>
<p>বৃষ্টি থামে নীরব পথে<br />
সন্ধ্যা ধীরে নামে,<br />
ভেজা রাস্তায় আলোর রেখা<br />
স্বপ্ন নীড়ে আঁকে।</p>
<p>দুই পাশ জুড়ে ঘুমায় ঘর<br />
নেই কোনো কোলাহল,<br />
শুধু বাতির মায়াবী ছোঁয়ায়<br />
সবকিছু লাগে মুগ্ধকর।</p>
<p>মেঘের রঙে নীল আকাশে<br />
লুকায় দিনের ক্লান্তি,<br />
ছোট্ট গলির নিঃশব্দ পথে<br />
খুঁজি জীবনের শান্তি।</p>
<p>যত দূরে যায় এই পথটি<br />
তত দূরে নয় আশা,<br />
অন্ধকারের ব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253740"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253740/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ea482e9fc0235fe3a2823c22d145bf4e</guid>
				<title>যদি কেউ তোমাকে জিজ্ঞেস করে
তুমি বলবে তেমন বিশেষ কেউ না।
একটা বন্ধু ছিল, আর আধা পাগল ছিল।
একটা মিথ্যে ছিল, আবার সম্পূর্ণ সত্যিই ছিল।
জীবনের একমাত্র সাথী ছিল সে;
তার পাশে থেকেও পাশে নেই 
সে সময়ের কাঁধে মাথা রাখার আস্থা ছিল সে।
কেউ যদি তোমায় জিজ্ঞেস আমি কে¿
তুমি বলবে তেমন কেউ বিশেষ না।
তুমি বলবে মন খারাপের বন্ধু ছিল সে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253739/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 16:18:20 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>যদি কেউ তোমাকে জিজ্ঞেস করে<br />
তুমি বলবে তেমন বিশেষ কেউ না।<br />
একটা বন্ধু ছিল, আর আধা পাগল ছিল।<br />
একটা মিথ্যে ছিল, আবার সম্পূর্ণ সত্যিই ছিল।<br />
জীবনের একমাত্র সাথী ছিল সে;<br />
তার পাশে থেকেও পাশে নেই<br />
সে সময়ের কাঁধে মাথা রাখার আস্থা ছিল সে।<br />
কেউ যদি তোমায় জিজ্ঞেস আমি কে¿<br />
তুমি বলবে তেমন কেউ বিশেষ না।<br />
তুমি বলবে মন খারাপের বন্ধু ছিল সে।</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b8d08915a5687119f2a8cee42155d0dc</guid>
				<title>Md Zaker Hayat Khan [ Zaker Aditya ] [ জাকের আদিত্য ] and জান্নাতুল ফেরদাউস are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253738/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 15:24:50 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">741fa80fed6a451d3de382e616bbbd89</guid>
				<title>Kaoser Ahmed and জান্নাতুল ফেরদাউস are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253737/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 15:24:46 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d8af37d6c30bf605f41e839749c4a6e8</guid>
				<title>এভাবেই হয়

যা পাওয়ার মতো নয়
তাকে হারিয়েই পেতে হয়।
হয়নি বলেই যে হবেনা তাতো নয়! 
কষ্টের ভিতরে হবে, দুঃখের ভিতরে হবে,
চোখের জলে হবে, যন্ত্রণার নীল রঙে হবে,
বঞ্চনায় হবে, অপবাদে হবে।
অনেক কিছু এভাবেই হয়।
যে কখনো আসবে না বলে জানি
তার জন্যে তাই বলে কি প্রতীক্ষা করবো না! 
হতচ্ছাড়া ব্যর্থ প্রেম
সহজ করে কাছে যেতে চেয়ে
ফিরে গেছে বহুদূর। 
কিছু চাওয়া এভাবেই হয়,
এভাবেই হয় কিছু কিছু পাওয়া।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253736/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 15:13:22 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>এভাবেই হয়</p>
<p>যা পাওয়ার মতো নয়<br />
তাকে হারিয়েই পেতে হয়।<br />
হয়নি বলেই যে হবেনা তাতো নয়!<br />
কষ্টের ভিতরে হবে, দুঃখের ভিতরে হবে,<br />
চোখের জলে হবে, যন্ত্রণার নীল রঙে হবে,<br />
বঞ্চনায় হবে, অপবাদে হবে।<br />
অনেক কিছু এভাবেই হয়।<br />
যে কখনো আসবে না বলে জানি<br />
তার জন্যে তাই বলে কি প্রতীক্ষা করবো না!<br />
হতচ্ছাড়া ব্যর্থ প্রেম<br />
সহজ করে কাছে যেতে চেয়ে<br />
ফিরে গেছে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253736"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253736/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0ec39accf8451bdd9284a6cb635fa18b</guid>
				<title>&quot;তোমায় পাবো না জেনেও&quot;


তোমায় পাবো না জেনেও তোমায় ভালোবাসি , তোমায় পাবো না জেনেও তোমায় ভালোবাসি , তাইতো তোমার মায়ায় বারবার ফিরে আসি , হয়তো তুমি হবে অন্য কারো  , তাই বলে কি ভালোবাসবো না ? জানি তুমি আমার হবে না কখনো  , তাই বলে কি ভালোবাসবো না আমি এতটাই জঘেন্ন  ? না বলা কিছু কথা মনেই থাকবে , না বলা কিছু কথা মনেই থাকবে , বাস্তব না কল্পনার জগৎ আমাকে সুখে রাখবে  ,  বাস্তব না কল্পনার জগৎ আমাকে সুখে রাখবে  ............</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253734/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 14:54:23 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8220;তোমায় পাবো না জেনেও&#8221;</p>
<p>তোমায় পাবো না জেনেও তোমায় ভালোবাসি , তোমায় পাবো না জেনেও তোমায় ভালোবাসি , তাইতো তোমার মায়ায় বারবার ফিরে আসি , হয়তো তুমি হবে অন্য কারো  , তাই বলে কি ভালোবাসবো না ? জানি তুমি আমার হবে না কখনো  , তাই বলে কি ভালোবাসবো না আমি এতটাই জঘেন্ন  ? না বলা কিছু কথা মনেই থাকবে , না বলা কিছু কথা মনেই থাকবে , বাস্তব না কল্পনার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253734"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253734/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7af510fce97305fb899e87bf7ed403e6</guid>
				<title>দিবস অচল রাত্রি ছাড়া
আলো অচল আঁধার ছাড়া
সুন্দর অচল কুৎসিত ছাড়া
মঙ্গল অচল অমঙ্গল ছাড়া
খরা অচল বৃষ্টি ছাড়া
ঠিক তেমনি 
সুখ অচল দূঃখ ছাড়া</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253733/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 14:43:38 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>দিবস অচল রাত্রি ছাড়া<br />
আলো অচল আঁধার ছাড়া<br />
সুন্দর অচল কুৎসিত ছাড়া<br />
মঙ্গল অচল অমঙ্গল ছাড়া<br />
খরা অচল বৃষ্টি ছাড়া<br />
ঠিক তেমনি<br />
সুখ অচল দূঃখ ছাড়া</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">051a154f32211268a3fbc30b1e5e35bd</guid>
				<title>&#x1f622;&#x1f494;&#x1f940;•••⊰❂⊱

দুঃখের মুহূর্তগুলিতে মানুষ এক অদ্ভুত সত্য উপলব্ধি করে—
কষ্টের কারণ কেবল মানুষটি নয়,
বরং তাহাকে ঘিরিয়া থাকা অসংখ্য স্মৃতি।

মানুষ দূরে চলিয়া যায়,
সময়ের স্রোতে তাহার উপস্থিতি ফিকে হইয়া আসে;
কিন্তু স্মৃতিগুলি হৃদয়ের আঙিনায় নীরব অতিথির মতো রইয়া যায়।

কোনো পুরোনো গান, কোনো পরিচিত পথ,
কিংবা কোনো এক নিঃসঙ্গ সন্ধ্যা—
হঠাৎ করিয়াই সেই স্মৃতিদের জাগাইয়া তোলে।
তখন মনে হয়, মানুষটিকে হারানোর বেদনার চেয়েও
তাহার স্মৃতিগুলিই অধিক নির্মম।

কারণ মানুষ একবার বিদায় লয়,
কিন্তু স্মৃতিরা বারবার ফিরিয়া আসে—
প্রতিবারই হৃদয়ের পুরোনো ক্ষতকে নতুন করিয়া স্পর্শ করিবার জন্য।

༅༎•&#x1f940;&#x1f625;&#x1f5a4;&#x1f494;༅༎•─</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253730/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 14:04:12 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#x1f622;&#x1f494;&#x1f940;•••⊰❂⊱</p>
<p>দুঃখের মুহূর্তগুলিতে মানুষ এক অদ্ভুত সত্য উপলব্ধি করে—<br />
কষ্টের কারণ কেবল মানুষটি নয়,<br />
বরং তাহাকে ঘিরিয়া থাকা অসংখ্য স্মৃতি।</p>
<p>মানুষ দূরে চলিয়া যায়,<br />
সময়ের স্রোতে তাহার উপস্থিতি ফিকে হইয়া আসে;<br />
কিন্তু স্মৃতিগুলি হৃদয়ের আঙিনায় নীরব অতিথির মতো রইয়া যায়।</p>
<p>কোনো পুরোনো গান, কোনো পরিচিত পথ,<br />
কিংবা কোনো এক নিঃসঙ্গ সন্ধ্য&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253730"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253730/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d597754b105bc3189233a7cb12bcda95</guid>
				<title>মো: নাজমুল আখতার and আজিজুর রহমান are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253729/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 13:24:46 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">cf74c375a7a5ddb2d87ade0abcf1e7d8</guid>
				<title>খালেদা মিম changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253728/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 12:42:11 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7a11a363b86f6f0abd7360f2f6fc6d9b</guid>
				<title>Poly Alam and খালেদা মিম are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253726/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 12:33:36 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f6c544e76754639cc9a8b8e97e8dc7dc</guid>
				<title>মুহাম্মদ আবু জামাল ফিলিস্তিনি কিশোরকে স্মরণে 

এ পবিত্র ভূমি করেছো
তোমরা যুদ্ধবিধ্বস্ত শহর
নরক আর গনহত্যা মিছিলে
ক্ষুধা দিয়ে মারতে চাও?
লাশ আর ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে
তোমরাই আবার বিলিয়ে দাও
তহবিল, ক্রাণ, পুনার্বাসন

মা,আমি বলেছিলাম
তোমায় এক মুঠো রুটি
নিয়ে তোমার কাছে আসবো
তুমি ক্ষুধায় কাতরাছিলে

ফিরলো তোমার এই
আদরের ছেলে আদরের
তোমার একটি ছেলে
টুকরো টুকরো মাংস হয়ে

ফিরলাম আমি ঠিকই
মা, তোমার কাছে 
তুমি কেঁদো না, মা
আমি নেই এটা 
ভেবো না মা,তুমি ।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253724/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 11:20:47 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মুহাম্মদ আবু জামাল ফিলিস্তিনি কিশোরকে স্মরণে </p>
<p>এ পবিত্র ভূমি করেছো<br />
তোমরা যুদ্ধবিধ্বস্ত শহর<br />
নরক আর গনহত্যা মিছিলে<br />
ক্ষুধা দিয়ে মারতে চাও?<br />
লাশ আর ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে<br />
তোমরাই আবার বিলিয়ে দাও<br />
তহবিল, ক্রাণ, পুনার্বাসন</p>
<p>মা,আমি বলেছিলাম<br />
তোমায় এক মুঠো রুটি<br />
নিয়ে তোমার কাছে আসবো<br />
তুমি ক্ষুধায় কাতরাছিলে</p>
<p>ফিরলো তোমার এই<br />
আদরের ছেলে আদর&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253724"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253724/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0813f67eda69c79d93497ee60b4f529b</guid>
				<title>মাছ সাঁতার
লেখক : মোঃ নাজমুল আখতার।

ছোপ ছোপে পীত কালো
ধূসর বর্ণে দেহ মেলো
আঁড়া আঁড়ি সাঁতার কাটি
অ্যাকুরিয়ামের বাসা বাড়ী।

চারপাশ চারদিকে
ঘুড়ি আমি কাঁচের ঘরে,
বুদ বুদ পানি ভেদে
ঘন শ্বাসে জীবন চলে।

কালার ফুল রঙ্গিন মাছে
রাঙ্গায় মন ঘর সাঁজে
অতিথি বসে এদিক ফিরে
সাঁতার দেখে দু’চোখ মেলে।

ছোট শব্দে কথা হবে
আমার কাছে এসে বলবে,
এতো সুন্দর রংধনুর বর্ণে
উদয় হয়েছে কাঁচের ঘরে।

মাথা আমার যায় ঘুরে
ঘুরি শুধু এ ঘর জুড়ে!
এদিক ওদিক যেদিকেই যাই
সীমানা প্রাচীর সব দিকে পাই,

মুক্ত হতে চাই মানব হতে
ফিরে যেতে যাই আপন গৃহে
এসো তুমি আমার ভূবণে
ভরে দেবো মন সাঁতার কুল কেঁটে..</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253723/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 11:00:19 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মাছ সাঁতার<br />
লেখক : মোঃ নাজমুল আখতার।</p>
<p>ছোপ ছোপে পীত কালো<br />
ধূসর বর্ণে দেহ মেলো<br />
আঁড়া আঁড়ি সাঁতার কাটি<br />
অ্যাকুরিয়ামের বাসা বাড়ী।</p>
<p>চারপাশ চারদিকে<br />
ঘুড়ি আমি কাঁচের ঘরে,<br />
বুদ বুদ পানি ভেদে<br />
ঘন শ্বাসে জীবন চলে।</p>
<p>কালার ফুল রঙ্গিন মাছে<br />
রাঙ্গায় মন ঘর সাঁজে<br />
অতিথি বসে এদিক ফিরে<br />
সাঁতার দেখে দু’চোখ মেলে।</p>
<p>ছোট শব্দে কথা হবে<br />
আমার কাছে এসে বলবে,<br />
এ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253723"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253723/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d159d6636543409c13c60e3dfdc487d0</guid>
				<title>মোঃ মাহফুজুর রহমান and Md Nurnobi islam sumon are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253722/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 10:52:51 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">09fa9e09fcab62e651a96224cbaa167f</guid>
				<title>মোঃ মাহফুজুর রহমান and বিষণ্ন সুমন are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253719/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 09:42:42 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">804edc3217627d5c70b4f18c4582994c</guid>
				<title>“শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী”

&#x270d;&#xfe0f; পর্ব এগারো: ( ১৯৯৮ এবং একই প্রান্তরে দুটি পরীক্ষা )

সাল ১৯৯৮। ক্যালেন্ডারের পাতাগুলো তখন যেন বড্ড দ্রুত এগোচ্ছিল, আবার একই সাথে বুকের ভেতরটা কেমন একটা অদ্ভুত ভারী পাথরের মতো চেপে বসছিল। দ্রুত—কারণ সামনে পরীক্ষা, জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার অলিখিত এক সন্ধিক্ষণ। ভারী—কারণ এই সময়টাই ঠিক করে দেবে তাদের ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন আর কিশোরী বয়সের সেই অবুঝ ভালোবাসার শেষ পরিণতি। মধ্যবিত্ত পরিবারের নিয়মের বেড়াজাল আর সমাজ-সংসারের বাস্তবতার মাঝে দাঁড়িয়ে তখন শুধুই একটা ভালো ফলাফলের অপেক্ষা।

অল্প সময়ের ব্যবধানে দুজনেরই ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছিল। শৈলী—এস.এস.সি পরীক্ষার্থী, যার চোখে একরাশ চঞ্চলতা আর চাপা ভয়; আর রবিন—এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থী, যার কাঁধে বড় হয়ে ওঠার অলিখিত এক দায়িত্ব। কিন্তু নিয়তি এবার তাদের দূরে সরায়নি, পরীক্ষার কঠিন নিয়মের আড়ালে এসে যেন এক চমৎকার অদৃশ্য সুতোয় বেঁধে দিল দুজনকে। শৈলীর এস.এস.সি পরীক্ষার কেন্দ্র পড়ল রবিনের নিজের কলেজেই! খবরটা যেদিন প্রথম জানা গেল, শৈলীর বুকের ভেতর একঝাঁক পায়রা যেন একসাথে ডানা ঝাপটে উঠেছিল।

স্থানটা তাই এক হয়ে গেল—একই চিরচেনা ক্যাম্পাস, একই পাথুরে করিডোর, একই কৃষ্ণচূড়া তলার সবুজ মাঠ। এই সময়টা হয়ে উঠেছিল এক জীবন্ত রুটিন আর তীব্র নীরব অপেক্ষার এক মহাকাব্য। পরীক্ষা শুরু হওয়ার ঠিক তিন দিন আগে, বিকেলবেলা পড়ার টেবিল থেকে উঠে শৈলী তীব্র এক অস্থিরতা অনুভব করল। ডায়েরির পাতা ছিঁড়ে নীল কালির কলমে দ্রুত হাতে সে নিজের মনের কথাগুলো সাজাল। তারপর তার পরম নির্ভরযোগ্য বান্ধবী নীরার মাধ্যমে ছোট্ট একটি ভাঁজ করা চিরকুটে রবিনকে লিখে পাঠাল—

“প্রিয় রবিন,
জানি না কথাগুলো কেন লিখছি, তবে তোমার অবয়ব দেখলে আমার পড়াশোনার আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। ভালো রেজাল্ট না হলে তুমি যদি রাগ করো—সবসময় সেই চিন্তাই আমার মাথায় ঘোরে। যদিও তোমার দেওয়া প্রতিটি বিষয়ের সাজেশন আমি অক্ষরে অক্ষরে ফলো করছি। তা-ও বলছিলাম কি, আমার প্রতিটি পরীক্ষা শুরুর আগে অন্তত একবার তোমাকে দেখতে চাই, রবিন। তোমার নিজের পরীক্ষার পড়াশোনার একটু কষ্ট হলেও প্রতিদিন ঠিক সময়ে কলেজের গেটের কাছে থেকো কিন্তু—এটা আমার আবদার নয়, আদেশ। না থাকলে কিন্তু তোমার সাথে আর কোনোদিন কথা বলব না, আড়ি!

ইতি — তোমার শৈলী”

বিকেলের হালকা আলোয় কলেজের পেছনের মাঠে বসে চিরকুটটা পড়ার পর রবিন কিছুক্ষণ একদম চুপ করে রইল। চারপাশের কোলাহল যেন এক নিমেষে ম্লান হয়ে গেল। তারপর তার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে চেনা প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠল। সে আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবল— ‘শৈলী, তুমিও তাহলে ধীরে ধীরে ভালোবাসার বরফ টুকরো হয়ে সাগরে ভাসতে শিখে গেলে? সেই চঞ্চলা, চপলা মেয়েটা, যে কিনা সারাক্ষণ প্রজাপতির মতো উড়ে বেড়াত, সে আজ কত ধীরস্থিরভাবে অনুরোধ করতে শিখে গেছে... বড্ড পাগলী একটা!’ সেই হাসির ভেতরে লুকিয়ে ছিল এক বিশাল দায়িত্ব, অপার মমতা আর এক শান্ত, গম্ভীর হৃদয়ের স্বীকৃতি।

পরদিন সকাল থেকেই শুরু হলো এক নতুন নিয়ম, এক নীরব প্রেমের উৎসব। প্রতিদিন সকালে কেন্দ্রের সামনে একই চেনা দৃশ্য—গেটের সামনে অভিভাবকদের ভিড়, শেষ মুহূর্তে নোটবই ওল্টানোর খসখস শব্দ, করিডোরে পরীক্ষার্থীদের চঞ্চল দৌড়াদৌড়ি, রিকশার টুংটাং শব্দ আর চারপাশের এক চাপা অস্থিরতা। কিন্তু এই সবকিছুর মাঝখানে ঠিক একটা নির্দিষ্ট শান্ত মুহূর্ত তৈরি হতো।

শৈলী পরীক্ষার হলে ঢোকার আগে ভিড়ের মাঝে চশমাটা ঠিক করতে করতে একবার চোখ বুলিয়ে খুঁজে নিত রবিনকে। রবিনও জানত শৈলীর চোখ দুটি ঠিক কোথায় এসে থামবে। কখনো কলেজের মূল গেটের বড় কৃষ্ণচূড়া গাছটার পাশে, কখনো করিডোরের শেষ মাথার জানালার ধারে, কখনোবা নোটিশ বোর্ডের আড়ালে—এক মুহূর্তের জন্য শুধু চার চোখের মিলন হতো। কোনো কথা হতো না, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখার সুযোগও ছিল না।

কিন্তু সেই এক মুহূর্তের চাহনিতেই শৈলীর ভেতরের সব ভয়, সব অস্থিরতা যেন কর্পূরের মতো বাতাসে উড়ে যেত। অবাধ্য বুকটার ধড়ফড়ানি থেমে গিয়ে মুখে আসত এক শান্ত, আত্মবিশ্বাসী দৃঢ়তা—যেন পুরো পৃথিবীটা এক নিমেষে ভীষণ সহজ হয়ে গেছে। রবিনও এই দেখার গুরুত্ব মনে-প্রাণে বুঝত। নিজের এইচ.এস.সি পরীক্ষার প্রচণ্ড চাপ, দিন-রাত জাগা পড়াশোনার ক্লান্তি—সবকিছুর মাঝেও সে প্রতিদিন ঠিক সময়ে সেই নির্দিষ্ট জায়গায় হাজির থাকত। দূর থেকে শুধু সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকত, যেন তার এই নীরব উপস্থিতিই শৈলীর জন্য এক মহাসমুদ্রের সমান শক্তি আর সাহস।

একদিন গণিত পরীক্ষার ঠিক আগে, যখন চারপাশের সবাই উপপাদ্য আর সূত্রের টেনশনে নীল হয়ে আছে, শৈলী ভিড়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় খুব আস্তে করে, প্রায় ফিসফিসিয়ে রবিনকে বলে ফেলেছিল, “আজ যদি দেখা না হতো, মনটা শান্ত হতো না হয়তো। জ্যামিতি সব ভুলে যেতাম।”

রবিন হালকা হেসে চারপাশটা একবার দেখে নিয়ে নিচু গলায় উত্তর দিয়েছিল, “তাহলে ধরে নাও, এটা এখন তোমার নতুন কলেজের নিয়ম। পরীক্ষা শুরু হবে আমাকে দেখেই। এর কোনো ব্যতিক্রম হবে না।”

শৈলী প্রথমে লজ্জায় ও ভালোলাগায় লাল হয়ে হেসে ফেলেছিল, তারপর পরীক্ষার হলের সিঁড়ির দিকে পা বাড়াতে বাড়াতে নিচু গলায় বলেছিল, “পাগল একটা...”
কিন্তু সেই ‘পাগল’ শব্দটার ভেতরেই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, এক পরম নির্ভরতার আকাশ।

দিনগুলো এভাবেই কাটছিল—পরীক্ষা, রাত জেগে পড়াশোনা আর ভোরের এই ছোট্ট ছোট্ট দেখার অপার্থিব আনন্দ। একই সময়, একই বাতাস, একই ক্যাম্পাস—তবুও দুটি আলাদা জীবনের পরীক্ষা। কিন্তু তাদের হৃদয়ের ভেতরের গল্পটা ছিল এক ও অভিন্ন।

শৈলীর পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর যখন রবিনের নিজের পরীক্ষার দিনগুলো ঘনিয়ে এল, তখন রবিনের ভেতরে এক অদ্ভুত, অলৌকিক শক্তি কাজ করছিল। পড়ার টেবিলে হারিকেনের আলোয় যখন সে একা বসত, তখন তার মনে হতো—তাকে জিততেই হবে। সে বুঝতে পারল, ভালোবাসা শুধু কোনো আবেগ বা পাওয়ার নাম নয়, ভালোবাসা মানে অপর প্রান্তের মানুষটার জন্য নিজেকে যোগ্য করে তোলার দায়িত্ব নেওয়ার নামও বটে।

এক গভীর সন্ধ্যায় পড়ার টেবিলে বসে, জানলা দিয়ে আসা হিমেল হাওয়ায় যখন তার খাতার পাতাগুলো উড়ছিল, তখন সে পড়া থামিয়ে নিজের ডায়েরির এক কোণে কলম দিয়ে যত্ন করে লিখে রাখল—

“ভালোবাসা শুধু সাময়িক কোনো অনুভূতি নয়... এটা একটা বিশাল বড় দায়িত্ব। আর দায়িত্ব মানে, জীবনের শত ঝড়েও নিস্পৃহ থেকে নীরবে পাশে থাকা—সব সময়, সব পরিস্থিতিতে।”

গল্প চলমান…</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253718/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 09:33:50 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>“শৈলীর প্রেমের আত্মকাহিনী”</p>
<p>&#x270d;&#xfe0f; পর্ব এগারো: ( ১৯৯৮ এবং একই প্রান্তরে দুটি পরীক্ষা )</p>
<p>সাল ১৯৯৮। ক্যালেন্ডারের পাতাগুলো তখন যেন বড্ড দ্রুত এগোচ্ছিল, আবার একই সাথে বুকের ভেতরটা কেমন একটা অদ্ভুত ভারী পাথরের মতো চেপে বসছিল। দ্রুত—কারণ সামনে পরীক্ষা, জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার অলিখিত এক সন্ধিক্ষণ। ভারী—কারণ এই সময়টাই ঠিক করে দেবে তাদের ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন আর ক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253718"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253718/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">82d7cee90a5279cfb42708b891645d60</guid>
				<title>Death post punk 5 
থিয়েটার 

চেঁচিয়ে না নাও তোমাদের আর্তনাদ,
যুদ্ধ সৈনিকরা পাবে না শুনতে যুদ্ধের গান।
চেঁচিয়ে না নাও তোমাদের আর্তনাদ,
মানবিক হতে পারবো না আমরা
থিয়েটারে কাঁটাছেঁড়া শাস্ত্রের টার্ম।

করিডর ওয়ার্ডে গুমোট,
নোংরা দেয়ালটাই রোগীদের ওয়ার্ড বয়।
তোমরা মুখ থেকে গলিয়ে
আনো কি ব্যাথা, রক্তবমি ঢালো।

যুদ্ধাপরাধ আর যুদ্ধবন্দী,
পার্থক্যটা কি জানো?
যুদ্ধাপরাধ আর যুদ্ধবন্দী,
পার্থক্যটা কি জানো?

করিডর ওয়ার্ডে গুমোট,
নোংরা দেয়ালটাই রোগীদের ওয়ার্ড বয়।
তোমরা মুখ থেকে গলিয়ে
আনো কি ব্যাথা, রক্তবমি ঢালো।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253701/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 08:47:52 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>Death post punk 5<br />
থিয়েটার </p>
<p>চেঁচিয়ে না নাও তোমাদের আর্তনাদ,<br />
যুদ্ধ সৈনিকরা পাবে না শুনতে যুদ্ধের গান।<br />
চেঁচিয়ে না নাও তোমাদের আর্তনাদ,<br />
মানবিক হতে পারবো না আমরা<br />
থিয়েটারে কাঁটাছেঁড়া শাস্ত্রের টার্ম।</p>
<p>করিডর ওয়ার্ডে গুমোট,<br />
নোংরা দেয়ালটাই রোগীদের ওয়ার্ড বয়।<br />
তোমরা মুখ থেকে গলিয়ে<br />
আনো কি ব্যাথা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253701"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253701/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">50c2b39178da81a9e185c212dd5af0b8</guid>
				<title>জীবনের গল্প 
মিহির চৌধুরী ইমন

তোমার মা–বাবা যেন তোমাকে তুলে দিয়েছিল 
প্রাচুর্যের হাতে,
আর তুমিও স্বেচ্ছায় সেই আলোকিত জীবনের 
অংশ হয়ে গেলে।

আমার কাছে অর্থ ছিল না—তাই দূর থেকে দাঁড়িয়ে 
দেখেছি,
তোমার প্রাপ্তির উজ্জ্বল আনন্দ।

অথচ একদিন তুমি বলেছিলে—
‘আমাকে অথবা টাকাকে—একটা বেছে নাও।’

আমি কোনো হিসেব করিনি,
আমি তোমাকেই বেছে নিয়েছিলাম।

আজ বুঝি—
কিছু নির্বাচনের উত্তর
ভালোবাসা দিয়ে হয় না।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253683/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 06:33:41 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>জীবনের গল্প<br />
মিহির চৌধুরী ইমন</p>
<p>তোমার মা–বাবা যেন তোমাকে তুলে দিয়েছিল<br />
প্রাচুর্যের হাতে,<br />
আর তুমিও স্বেচ্ছায় সেই আলোকিত জীবনের<br />
অংশ হয়ে গেলে।</p>
<p>আমার কাছে অর্থ ছিল না—তাই দূর থেকে দাঁড়িয়ে<br />
দেখেছি,<br />
তোমার প্রাপ্তির উজ্জ্বল আনন্দ।</p>
<p>অথচ একদিন তুমি বলেছিলে—<br />
‘আমাকে অথবা টাকাকে—একটা বেছে নাও।’</p>
<p>আমি কোনো হিসেব করিনি,<br />
আমি তোমাকেই বেছে নিয়েছিলাম।</p>
<p>আজ বুঝি—<br />
কিছু&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253683"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253683/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d424f261fd6e9855a101bc354b4b84f2</guid>
				<title>এসো নির্ঝরিণী 


ঝংকার ওংকার 
এসো  মেঘমল্লার 
রিমিঝিম  রিমিঝিম 
ঝরে  যাও  সারাদিন 
তপ্ত  তনুমন
ভিজুক   নিশিদিন 
এসো  নির্ঝরিণী 
এসো   সুহাসিনী 
হৃদয়  বুভুক্ষু  মম
পুড়ছে  রাত্রিদিন 
এসো  দহন  শেষে 
এসো  ভালোবেসে 
মিষ্টি  বৃষ্টি  দিন</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253679/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 05:42:56 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>এসো নির্ঝরিণী </p>
<p>ঝংকার ওংকার<br />
এসো  মেঘমল্লার<br />
রিমিঝিম  রিমিঝিম<br />
ঝরে  যাও  সারাদিন<br />
তপ্ত  তনুমন<br />
ভিজুক   নিশিদিন<br />
এসো  নির্ঝরিণী<br />
এসো   সুহাসিনী<br />
হৃদয়  বুভুক্ষু  মম<br />
পুড়ছে  রাত্রিদিন<br />
এসো  দহন  শেষে<br />
এসো  ভালোবেসে<br />
মিষ্টি  বৃষ্টি  দিন</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">dce7de12b706a8373afba35808f9967f</guid>
				<title>মো: নাজমুল আখতার and নতুন করে শুরু are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253677/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 05:23:51 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">36d228eca987d8cc45763830ead6d6b9</guid>
				<title>আজিজুর রহমান and নতুন করে শুরু are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253676/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 05:23:46 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">29cba624f3a01456828a9ef6e1078410</guid>
				<title>কার কাছে কই কার কাছে যাই
বিচার চেয়ে বিচার না পাই,
বিচারকের পানে চেয়ে থাকি সবাই
আসল বিচারক সে যে কোথাও নাই!

 - দরিদ্রকবি &#x2712;&#xfe0f;</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253674/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 04:13:21 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কার কাছে কই কার কাছে যাই<br />
বিচার চেয়ে বিচার না পাই,<br />
বিচারকের পানে চেয়ে থাকি সবাই<br />
আসল বিচারক সে যে কোথাও নাই!</p>
<p> &#8211; দরিদ্রকবি &#x2712;&#xfe0f;</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1af99162d1e87fa415f25fa0d9acab9d</guid>
				<title>ক্ষুধিত মানুষ

কোন একদিন ভালবাসা চেয়েছিলে।

হৃদয়ের এক কোণে
সামান্যতম আশ্রয় নিলে।
একসময় কি যে হলো
সমস্ত বুক জুড়ে
একরাশ যন্ত্রণার মত এল ভালবাসা।

ভালবাসাই যদি নেবে
তবে দূরে থেক।
অক্লান্ত অনুভবের ভীড়ে
আমায় জড়িয়ে রেখ।

আমার বিশ্বাসটুকু গুড়িয়ে দিতে
তুমি কাছে এলে।
বুকের বাম দিকে এঁকে দিলে
দুঃসহ ক্ষতচিহ্ন।

ধীরে ধীরে
কেড়ে নিলে
ভালবাসার সুখ
লজ্জার আবরণ
নারীত্বের সততা
আমার সবকিছু।

তবুও তোমার
ক্ষিধে মেটেনি।
নেবেই যদি
তবে এই নাও আমার জীবন।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253673/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 03:50:03 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ক্ষুধিত মানুষ</p>
<p>কোন একদিন ভালবাসা চেয়েছিলে।</p>
<p>হৃদয়ের এক কোণে<br />
সামান্যতম আশ্রয় নিলে।<br />
একসময় কি যে হলো<br />
সমস্ত বুক জুড়ে<br />
একরাশ যন্ত্রণার মত এল ভালবাসা।</p>
<p>ভালবাসাই যদি নেবে<br />
তবে দূরে থেক।<br />
অক্লান্ত অনুভবের ভীড়ে<br />
আমায় জড়িয়ে রেখ।</p>
<p>আমার বিশ্বাসটুকু গুড়িয়ে দিতে<br />
তুমি কাছে এলে।<br />
বুকের বাম দিকে এঁকে দিলে<br />
দুঃসহ ক্ষতচিহ্ন।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253673"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253673/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9ae82ff261d9d5eb91d7b966f61b7427</guid>
				<title>ক্ষুধার নিবৃত্তি

মাঝ রাত্তিরে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল ময়নার। সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করলো। এখানে-ওখানে মারের চোটে চামড়া ফেটে কালসিটে পড়ে গেছে। ফাটা জায়গাগুলো খুব জ্বালা করছে। তারপরেও এই ব্যথা তাকে তেমন একটা কাবু করতে পারছে না। সেই ছোট বেলা থেকে এখন পর্যন্ত এই জীবনে কম মার তো খায়নি। তাই এসব এখন গা সওয়া হয়ে গেছে। তার জন্মের চার বছরের মাথায় যখন মা মারা গেল, তখন থেকেই তার মার খাওয়া শুরু। 

মাস ঘুরতে না ঘুরতেই বাবা আবার বিয়ে করে সৎ মা নিয়ে এলো ঘরে ওকে দেখভাল করার জন্য। আর সেই দেখভালের পরিণাম হলো একটাই, উঠতে বসতে মার খাওয়া। শেষটায় কোনদিন মার না জুটলেই বরং সে অবাক হতো। তাই মার সে সহ্য করতে পারে। পারে না শুধু ক্ষুধার জ্বালা সইতে। আর সইতে পারে না বলেই একদিন পাশের বাড়ির খালার হাত ধরে চলে এসেছিল ঢাকা শহরে। সে জেনেছিল, এখানে কাজ করতে জানলে ক্ষুধা কখনো মানুষকে জ্বালায় না। বরং ক্ষুধার্ত মানুষগুলোই একে অন্যের উপর হামলে পড়ে। কথাটার মানে সে সেদিনও বুঝেনি, এখনো বুঝে না। তবে এটুকু বুঝতে পারছে তার পুরো জীবনটাই আজ থমকে আছে এই ক্ষুধার জন্য।

যেন ক্ষুধার কথা মনে করাতেই পেটের ভেতর কেমন একটা জ্বলুনি অনুভব করলো। আপনা থেকেই হাত চলে গেল পেটের উপর। মনে হলো শুকিয়ে চিমসে হয়ে গেছে। না আর সহ্য করা সম্ভব হচ্ছে না। কিছু একটা করতেই হবে। অনেক কষ্টে শরীরটাকে বিছানা থেকে টেনে তুললো। সহসা মাথাটা দুলে উঠলো। চকিত দেয়ালে হাত ঠেকিয়ে পতন ঠেকালো। ভীষণরকম দুর্বল লাগছে। তবুও আস্তে আস্তে দেয়াল হাতড়ে ডাইনিং টেবিলের দিকে এগিয়ে গেল। লাইট জ্বালাতে সাহস পেল না। পাছে সবাই টের পেয়ে যায়। জানালা গলে ঘরে প্রবেশ করা স্ট্রিট লাইটের আবছা আলোয় আবিষ্কার করলো, টেবিলটা ফাঁকা। হতাশায় মনটা ছেয়ে গেল। ঘুরে বারান্দার কোণে নিজের ছোট্ট বিছানায় ফিরে আসতে যাবে, তখনি চোখ পড়লো ফ্রিজের দিকে। বুকের ভেতর অনেক কষ্টে একটু সাহস সঞ্চয় করে সেদিকে এগিয়ে গেল। আস্তে করে হাত রাখলো ফ্রিজের হ্যান্ডেলে। তখনি খুঁট করে সুইচ টেপার শব্দ হলো। ঘর আলো করে জ্বলে উঠলো ডাইনিং রুমের লাইটটা।



রাতে অফিস থেকে বাসায় ফিরেই মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল রানার। আজো শেলী কাজের মেয়েটাকে মেরেছে। এদ্দুর একটা মেয়েকে মেরে কি যে সুখ পায় ও আল্লাই জানে। কতই বা বয়স হবে ওর। খুব বেশি হলে বারো কি তের। এই বয়সের একটা মেয়ের দিব্ব্যি বেণী দুলিয়ে বুকে বই চেপে স্কুলে যাবার কথা। কিন্তু অবস্থার ফেরে এই মেয়েটা এসেছে কিনা তাদেরই বাসায় কাজ করতে। তাওতো ভালো এই দুর্মূল্যের দিনে ওকে পাওয়া গেছে। তা না হলে কি যে হতো আল্লাই মালুম। কোথায় ওকে একটু আদর যত্ন দিয়ে ম্যানেজ করে রাখবে, তা না উল্টো সারাক্ষণ চর-থাপ্পর, মার-পিট চলছেই। গতকালও এর ব্যতিক্রম হয়নি। 

ঘটনা তেমন আহামরি কিছু না। তার কলেজ পড়ুয়া শ্যালক বিকেলে বাসায় ফিরেই ভাত খেতে চেয়েছিল। শেলী তখন বৈকালিক ঘুমে মশগুল ছিল। ফলে ঘুম থেকে ডেকে তোলায় তার মেজাজটা গেল খিঁচে, উপরোন্তু ভাত দিতে গিয়ে যখন দেখলো পাতিল শূন্য, তখনি তার রাগটা গেল সপ্তমে চড়ে। যথারীতি সে মেয়েটাকে মারতে শুরু করলো। আর তার শ্যালক প্রবল পৈশাচিক আনন্দ নিয়ে তাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলো। মেয়েটা একবার ছুটে এসে তার পা চেপে ধরে এই মার থেকে বাঁচাবার জন্য আকুতি জানিয়েছিল। কিন্তু ভিতু মেরুদণ্ডহীন শালাটা তার আপার ভয়ে কোন উচ্চবাচ্চ্য তো করলোই না, উল্টো দৌড়ে নিজের রুমে ঢুকে খিল লাগিয়ে দিল। ফলে পিচ্চি মেয়েটাকে অমানুষিকভাবে মার খেতে হলো। ফিদার ব্রাশের ডাঁট দিয়ে শেলী তাকে আচ্ছামতো পিটিয়েছে। মারতে মারতে ক্লান্ত হয়ে একসময় নিজেই থেমে গেছে। শুধু মেরেই ক্ষান্ত হয়নি। শাস্তি হিসেবে তার রাতের খাবারও বন্ধ করে দিয়েছে। বাসায় ফিরে শেলীর থমথমে মুখ দেখে যা বুঝার বুঝে নিয়েছিল ও। বাকিটা শ্যালক রবিনের কাছে শুনেছে।

সেই থেকে মনটা তার খারাপ হয়ে আছে। এতটুকুন একটা মেয়ে না খেয়ে আছে, বিষয়টা তাকে খুব পীড়া দিচ্ছে। তাই রাতে তার  নিজেরও তেমন খাওয়া হয়নি। বিছানায় যদিও বা শুয়েছে, তবু ঘুম আসছে না। মেয়েটার জন্য একটা কিছু করতে মন চাইছে। কিন্তু, কি করবে বুঝতে পারছে না। পাশেই শেলী শুয়ে আছে। ওর দিকে পেছন ফিরে থাকলেও নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দে বুঝতে অসুবিধা হলো না, ও এখন পুরোপুরি ঘুমের রাজ্যে। মনেই হয় না এই ঘণ্টা কতক আগে ছোট্ট একটা মেয়ের সাথে ভীষণ অমানবিক আচরণ করেছে ও। অবাক লাগছে রানার এরপরেও তার মাঝে অপরাধবোধের কোন চিহ্ন নেই। শুধু এ কারণেই ও নিজেও শেলীর সাথে কখনো কোনো কারণে রাগ করতে সাহস পায় না। মাঝে মাঝে ভাবে আল্লাহ বোধহয় ওকে ছেলে বানাতে গিয়ে ভুল করে মেয়ে বানিয়ে ফেলেছেন। তাই আদলটা মেয়েদের হলেও মন-মানসিকতা ও আচরণ ছেলেদের মতোই খটখটে। অথচ একজন ছেলে হয়েও সে নিজে সেরকম নয়। তাই তো পারছে না ঘটে যাওয়া নিষ্ঠুর ঘটনাটা আর সব কিছুর মতো স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিতে। বরং ছোট্ট মেয়েটার কষ্টটা সে অন্তর থেকে বুঝতে পারছে এবং এই বুঝতে পারাটাই তাকে আরো বেশি পীড়া দিচ্ছে। 

সহসা মনস্থির করে ফেলল। মেয়েটাকে কিছু খাবার দিয়ে আসবে। এতে আর কিছু না হোক অন্তত ক্ষুধার জ্বালা থেকে তো ওকে বাঁচানো যাবে। শেলী সম্ভবত সব খাবার ফ্রিজে তালাবন্দি করে রেখেছে। সেক্ষেত্রে তালা খুলেই ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে নিয়ে যাবে। চিন্তাটা সাহসী করে তুললো ওকে। শেলীর ঘুমন্ত দেহের দিকে এক পশলা নজর দিয়েই আস্তে করে বিছানা ছাড়লো। অয়্যারড্রোবের উপর থেকে হাতড়ে ফ্রিজের চাবিটা খুঁজে নিল। তারপর ত্রস্ত পায়ে এগিয়ে গেল বেডরুমের বদ্ধ দরজার দিকে।



মনটা ভীষণ চঞ্চল হয়ে আছে রবিনের। অবশ্য এ বয়সে এমনটি হওয়া ব্যতিক্রম নয়। তবুও তার ক্ষেত্রে এটা নিঃসন্দেহে একটা নতুন আবিষ্কার। এমনিতেই মেয়েদের সম্পর্কে তার ধারণা কম। তথাপি কলেজে দু’চার জন ক্লাসমেট যারা আছে তাদের সম্পর্কে তার অনুভূতিটা কখনোই এরূপ হয় না। আসলে পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটেই মানসিকতাটা সেদিকে অগ্রসর হবার পথ পায়নি। কিন্তু, আজ যা ঘটেছে তাতে একজন রক্ত মাংসের মানুষ হয়ে সে কিভাবে তা পাশ কাটাবে। ঘটনাটা তার যতবার মনে হচ্ছে, ততবারই তার শরীর কি এক অজানা চেতনায় শিহরিত হচ্ছে। যার রেশটুকু সে কিছুতেই এড়াতে পারছে না। 

এখনো সে স্পষ্ট দেখতে পারছে, তার আপা এক হাতে ময়নার চুলের মুঠি ধরে অপর হাতে ফিদার ব্রাশের ডাট দিয়ে সারা গায়ে পেটাচ্ছে। মেয়েটা বাবাগো-মাগো বলে সমান তালে চেচাচ্ছে। অকস্মাৎ কেমন করে যেন আপার হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল। তড়িৎ দৌড়ে চলে এল ওর কাছে। হুমড়ি খেয়ে পড়লো তার পায়ের উপর। শক্ত করে চেপে ধরলো তার পা জোড়া। পিছু পিছু শেলীও ছুটে এল। পেছন থেকে মেয়েটার চুলের মুঠি ধরে ক্রমাগত টানতে লাগলো। কিন্তু, তার আপা যতই টানা-হেচড়া করতে লাগলো, ততই মেয়েটা আরো শক্ত করে ওর পা চেপে ধরে থাকলো। সেই সাথে চিৎকার করে তাকে বাঁচাবার জন্য আকুতি জানাতে লাগলো। ফলশ্রুতিতে রবিনকেও তাকে ছাড়াবার জন্য হাত লাগাতে হলো। আর তাতেই ঘটে গেল যত বিপত্তি। 

যদিও তার মনে কখনোই তেমন কোন ভাবনা ছিল না। তথাপি স্রেফ সহজাত প্রবৃত্তির বশেই মেয়েটোর বুকে হাত রেখে ঠেলতে গিয়েছিল। কিন্তু, যেই না বুকে হাত দিয়েছে, অমনি তার সারা শরীরে বিদ্যুত তরঙ্গের মত কি যেন প্রবাহিত হয়ে গেল। তড়িৎ সে হাতটা সরিয়ে নিতে গিয়েও কি এক অমোঘ আকর্ষণে হাত দুটো আরো শক্ত করে ঠেসে ধরলো। অবাক হয়ে আবিষ্কার করলো তার হাত জোড়া এক দলা কোমল মাংসপিণ্ডের ভেতর দেবে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে তার সারা শরীর কি এক নিষিদ্ধ অনুভূতির ভালোলাগায় নেয়ে উঠছে। সহসা তার আপার দিকে চোখ পড়ায় সম্বিৎ ফিরে এলো। তারপর অনেকটা দৌড়ে নিজের রুমে এসে দরজায় খিল লাগিয়ে দিলো। ততক্ষণে সারা দেহ ঘামে ভিজে জবজবে হয়ে গেছে। ফুল স্পিডে ফ্যান ছেড়ে দিয়ে ধপ করে বিছানায় গা এলিয়ে দিলো। ঠাণ্ডা ঝিরঝিরে বাতাসে যদিও একসময় তার শরীরের উষ্ণতা মিইয়ে গেলো, কিন্তু মনের চঞ্চলতা বাড়লো বৈ কমলো না। এরপর তার আর আপার মুখোমুখি হতে সাহস হয়নি। যদিও একবার দুলাভাই এসে খাবার জন্য ডেকে গিয়েছিল, কিন্তু ক্ষুধা নেই বলে তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে। কথাটা সে মিথ্যে বলেনি। বাস্তবিকই তার ক্ষিধেটা পুরোপুরি মরে গিয়েছিলো। তার স্থলে জায়গা করে নিয়েছিলো অন্যরকম এক ক্ষুধা যা এর আগে কখনোই তাকে ব্যতিব্যস্ত করেনি। 

সেই ক্ষুধাটাই এখনো তাকে তারিয়ে বেড়াচ্ছে। সে কারণেই সে কিছুতেই শান্তি পাচ্ছে না। তার মনের অবস্থা এখন যেন ঠিক হঠাৎ নরমাংসের স্বাদ পাওয়া কোন বুনো বাঘের মতো। সে স্পষ্টতই বুঝতে পারছে, সেই অপ্রীতিকর মুহূর্তের ফুরসতে আবিষ্কার করা নতুন স্বাদটুকুই কেবল এখন মেটাতে পারে তার মনের শান্তি। সহসা সে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললো, না এভাবে আর নয়। একে তো সে ক্ষুধার্ত, ওদিকে লোভনীয় খাবারটাও পড়ে আছে হাতের কাছেই। তবে কেন সে নিজেকে বঞ্চিত রাখবে। যেই ভাবা সেই কাজ। অমনি লাফিয়ে বিছানা ছাড়লো। শিকারী চিতার মতো সাবধানে এগিয়ে গেলো তার রুমের দরজার দিকে।



শরীরটা রাগে কাঠ হয়ে আছে শেলীর। তাই বিছানায় যাবার পর থেকে এক বিন্দুও নড়েনি। চোখ বন্ধ করে নিজেকে শান্ত করার বৃথাই চেষ্টা চালাচ্ছে। তার মাথায়ই আসছে না এক রত্তি পিচ্চি একটা মেয়ে এত্তো সাহস পায় কোথ্থেকে। সংসারটা তার নিজের। এ সংসারে সব কিছুই তার নিজের ইচ্ছেয় ঘটে। যেখানে রানা পর্যন্ত তাকে কিছু বলার বা করার সাহস পায় না, সেখানে ময়না স্রেফ কাজের মেয়ে হয়ে তার কথার বাইরে যাবার সাহস পেল কোথায়, এটা সে কিছুতেই বুঝে পাচ্ছে না। কত্তো বড় কলিজা তার, ছোট ভাইয়ের জন্য রাখা ভাত কিনা সে নিজেই খেয়ে ফেলল। সে জন্যেই তো আজ দিয়েছে তাকে আচ্ছা করে ধোলাই। 

ছোট্ট বেলার কথা মনে পড়ল, একবার স্কুল থেকে বাসায় ফিরে দেখলো ডাইনিং টেবিলে রাখা তার নাস্তা পাশের বাসার হুলো বেড়ালটা দিব্যি রসিয়ে রসিয়ে খাচ্ছে। দৃশ্যটা তার মেজাজ এমনই খারাপ করে দিয়েছিল যে, সে বিড়ালটাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মেরেই ফেলেছিল। আসলে তার স্বভাবটাই এমন, যে কোন কারণেই হোক কারো গায়ে হাত তোলা না পর্যন্ত সে শান্তি পায় না। এ জন্য পাড়ায় এমনকি স্কুল-কলেজে পর্যন্ত তার নাম হয়ে গিয়েছিল মহিলা গুন্ডা। কাউকে কোন কারণে অপছন্দ হলেই হয়েছে, তাকে মারার জন্য হাত নিশপিশ করা শুরু করে। এমনকি কদিন চলে গেলে কাউকে না কাউকে মারার জন্য মনটা আইঢাই করে। সেজন্য বিয়ের পরও স্বভাবটা এতটুকু বদলায়নি তার। ওর এই ভয়ংকর চরিত্রের জন্য রানাও তাকে সমঝে চলে। আহারে বেচারা। ভয় পায়, কবে না আবার বউয়ের হাতে মার খেতে হয়। 

বোধকরি সে কারণেই ময়নাকে আজ এভাবে মেরে রক্তাক্ত করার পরও একটা টু-শব্দ করার সাহস পায়নি ও। এমনকি ভয়ে ঠিকমতো খায়ওনি। ফ্রিজ থেকে কি সব বের করে একটু মুখে দিয়েই শুয়ে পড়েছে। অবশ্য তার এসবের বালা নেই। সে ঠিকই পেট পুড়ে খেয়েছে। তারপর শয়তান মেয়েটা যাতে চুরি করে কিছু খেতে না পারে তারজন্য সব খাবার ফ্রিজে লক করে রেখে তবে শুয়েছে। কিন্তু ঘুম তো আসছে না। কারণ মেজাজটা ঠাণ্ডা হচ্ছে না কিছুতেই। এই সব কিছুর জন্য দায়ী ঐ পুছকে ছেমড়িটা। ইচ্ছে হচ্ছে ওকে আর এক প্রস্ত ধোলাই দিয়ে আসে। 

সহসা হালকা একটা খসখস শব্দে তার চিন্তায় ছেদ পড়লো। টের পেল নিঃশব্দে রানা নেমে যাচ্ছে বিছানা থেকে। টয়লেটে যাচ্ছে বোধহয়। কিন্তু এমন চোরের মতো চুপিচুপি কেন! আস্তে করে এপাশে মাথা ঘুরালো। একি! ও দেখি অয়ারড্রবের দিকে যাচ্ছে। নিমেষেই কান খাড়া হয়ে গেল তার, মৃদু একটা টং আওয়াজের পাশাপাশি হালকা পদশব্দ ধীরে ধীরে অয়ারড্রবের কাছ থেকে দরোজার দিকে সরে যাচ্ছে বুঝতে পেরে। অনুধাবনটা প্রচণ্ড রাগিয়ে দিল তাকে। আচমকা হাতের মুঠি শক্ত হয়ে গেল শেলীর। সটান শোয়া থেকে বিছানায় উঠে বসে পড়লো। টের পেল হিংস্র সরীসৃপের মতো একটা ভয়ংকর ক্ষুধা তার বুকের ভেতর প্রচণ্ড গতিতে স্ফীত হয়ে ক্রমশঃ গলা বেয়ে মাথায় উঠে যাচ্ছে।



মাঝ রাতে সবাই একটা আর্তচিৎকার শুনতে পেল। আস্তে আস্তে আশেপাশের সবগুলো বাসায় লাইট জ্বলে উঠলো। কেউ কেউ চিৎকারটার উৎসের সন্ধানে বারান্দায় দাঁড়িয়ে ইতি-উতি তাকাতে লাগলো। কিছুক্ষণ পরেই হুইসেল বাজিয়ে একটা পুলিশের গাড়ি এসে দাঁড়িয়ে গেল বাড়িটার সামনে। ঝটপট ক’জন পুলিশ নেমেই দৌড়ে বাড়িটার ভেতর ঢুকে গেল। ক্ষাণিক বাদেই ওদের সাথে দুইজন পুরুষ ও একজন মহিলার ছোটখাট একটা মিছিল বেড়িয়ে এল ভেতর থেকে। তাদের মধ্যে দু’জন পুলিশকে ধরাধরি করে একটা ছোট মেয়ের রক্তাক্ত নিথর দেহ চ্যাংদোলা করে বয়ে আনতে দেখা গেল। মেয়েটার ডান হাতের মুঠি শক্ত করে আটকানো। অনেক চেষ্টা করেও খোলা যায়নি।



পরদিন বেশ ক’টি সান্ধ্য দৈনিকে ছোট্ট একটা খবর ছাপা হলো। ‘পরিবারের সদস্যদের নির্যাতনে বাসার কাজের মেয়ে খুন। খুনের অভিযোগে স্বামী-স্ত্রী ও স্ত্রীর কলেজ পড়ুয়া ছোট ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু, খুনের মোটিভ সম্পর্কে পুলিশ এখন পর্যন্ত কিছুই জানতে পারেনি। অভিযুক্তদের কেউই মুখ খুলছে না। তবে তদন্ত চলছে। আলামত হিসেবে পুলিশ ভিকটিমের হাতের মুঠিতে আটকে থাকা একটি চাবি উদ্ধার করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে ওটা একটা ফ্রিজের চাবি। ধারণা করা হচ্ছে, এর সাথেই জড়িয়ে আছে খুনের প্রকৃত রহস্য।’
(আমার এই গল্পটা গল্প কবিতা ডট কম এ পুরস্কৃত হয়েছিল এবং বাংলানিউজ২৪ ডট কম এ ছাপা হয়েছিল।)</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253672/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 03:39:49 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ক্ষুধার নিবৃত্তি</p>
<p>মাঝ রাত্তিরে হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল ময়নার। সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করলো। এখানে-ওখানে মারের চোটে চামড়া ফেটে কালসিটে পড়ে গেছে। ফাটা জায়গাগুলো খুব জ্বালা করছে। তারপরেও এই ব্যথা তাকে তেমন একটা কাবু করতে পারছে না। সেই ছোট বেলা থেকে এখন পর্যন্ত এই জীবনে কম মার তো খায়নি। তাই এসব এখন গা সওয়া হয়ে গেছে। তার জন্মের চার বছরের মাথা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253672"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253672/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">78cf4579114b816fed0755caa3cd0787</guid>
				<title>জে এস এম অনিক and Md Nurnobi islam sumon are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253671/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 03:23:24 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">301262084395fe674170469d4cd8b3fb</guid>
				<title>&#x1f622;&#x1f494;&#x1f940;•••⊰❂⊱

বিচ্ছেদের এতগুলি দিন পেরাইয়া গেল,
তবুও তোমাকে হৃদয়ের পাতা হইতে মুছিয়া ফেলিবার শক্তি আজও অর্জন করিতে পারিলাম না।

সময় তাহার নিয়মে বহিয়া চলিয়াছে,
ঋতু বদলাইয়াছে, জীবনের বহু দৃশ্যই পরিবর্তিত হইয়াছে—
কিন্তু তোমার স্মৃতি যেন কোনো এক অনন্ত বসন্তের ন্যায়
হৃদয়ের অন্তঃপুরে স্থির হইয়া রহিয়াছে।

আমি বহুবার ভুলিবার চেষ্টা করিয়াছি,
কিন্তু কিছু মানুষকে ভোলা যায় না;
কারণ তাহারা কেবল স্মৃতি হইয়া থাকে না,
তাহারা মানুষের অস্তিত্বের সহিত মিশিয়া যায়।

তুমি আজ দূরে, বহুদূরে—
তবুও কখনো কখনো মনে হয়,
আমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নামেরই এক নিঃশব্দ প্রতিধ্বনি বাজিয়া চলে।

হয়তো এ-ই ভালোবাসার সবচেয়ে গভীর বেদনা—
যাহাকে আর পাওয়া সম্ভব নহে,
তাহাকেই হৃদয় সবচেয়ে বেশি আগলাইয়া রাখে।

༅༎•&#x1f940;&#x1f625;&#x1f5a4;&#x1f494;༅༎•─</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253650/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 02:58:40 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#x1f622;&#x1f494;&#x1f940;•••⊰❂⊱</p>
<p>বিচ্ছেদের এতগুলি দিন পেরাইয়া গেল,<br />
তবুও তোমাকে হৃদয়ের পাতা হইতে মুছিয়া ফেলিবার শক্তি আজও অর্জন করিতে পারিলাম না।</p>
<p>সময় তাহার নিয়মে বহিয়া চলিয়াছে,<br />
ঋতু বদলাইয়াছে, জীবনের বহু দৃশ্যই পরিবর্তিত হইয়াছে—<br />
কিন্তু তোমার স্মৃতি যেন কোনো এক অনন্ত বসন্তের ন্যায়<br />
হৃদয়ের অন্তঃপুরে স্থির হইয়া রহিয়াছে।</p>
<p>আমি বহুবার ভুলিবার চেষ্টা করিয়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253650"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253650/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">eb3ae1a87127b135b54effaef12ede9c</guid>
				<title>সোনার সিঁড়ির প্রজাতন্ত্র
মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
আমাদের দেশের নাম ছিল না। অন্তত মানচিত্রে ছিল, কিন্তু মানুষ সেটিকে নানা নামে ডাকত। কেউ বলত “উন্নয়নপুর”, কেউ বলত “অগ্রগতিস্তান”, আবার কেউ কেউ ফিসফিস করে বলত “সিঁড়ির প্রজাতন্ত্র”। কারণ দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ছিল সংসদ ভবন, আদালত কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় নয়; ছিল এক বিশাল সোনার সিঁড়ি। সেই সিঁড়ি শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকত, মেঘ ছুঁয়ে। প্রচার করা হতো—এই সিঁড়ি বেয়ে উঠলেই দেশসেবা করা যায়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, যারা সিঁড়ি বেয়ে উঠত, তাদের পকেট ভারী হতে থাকত আর দেশের পকেট হালকা হতে থাকত।
সিঁড়িটির নিচে একটি বড় ফলক ছিল। সেখানে লেখা ছিল—“জনগণের কল্যাণে নির্মিত।” তবে কেউ খেয়াল করত না যে ফলকের নিচে ছোট অক্ষরে আরেকটি লাইন আছে—“শর্ত প্রযোজ্য।”
প্রতি পাঁচ বছর পরপর দেশে “মহা আরোহন উৎসব” হতো। উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল কে কত দ্রুত সোনার সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে পারে। প্রতিযোগীরা নিজেদের রাজনীতিবিদ বলত। তারা মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করত—“আমি উঠব জনগণের জন্য”, “আমি উঠব ন্যায়বিচারের জন্য”, “আমি উঠব দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে।” জনগণ হাততালি দিত। তারপর দেখা যেত, সিঁড়ির মাঝামাঝি পৌঁছানোর পর তাদের কণ্ঠস্বর বদলে গেছে। তারা তখন বলতে শুরু করেছে—“আসলে জনগণের জন্য কাজ করতে হলে আগে নিজের অবস্থান শক্ত করতে হয়।”
দেশের মানুষ এই দৃশ্য বহুবার দেখেছে। কিন্তু সমস্যা হলো, তারা দেখেও দেখতে পেত না। কারণ নির্বাচনের সময় প্রত্যেক দল তাদের সমর্থকদের বিশেষ এক ধরনের চশমা উপহার দিত। কেউ লাল চশমা, কেউ সবুজ, কেউ নীল। সেই চশমা পরলে নিজের দলের নেতার মুখে দেবদূতের আভা দেখা যেত আর প্রতিপক্ষকে শয়তানের মতো লাগত। মজার বিষয় হলো, চশমা খুলে কেউ কিছু দেখতে চাইত না। কারণ সত্য দেখা কষ্টকর, পক্ষ দেখা আরামদায়ক।
একদিন রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে এক বৃদ্ধ বই বিক্রেতা একটি দোকান খুললেন। দোকানের নাম দিলেন “চশমাহীন দৃষ্টি কেন্দ্র”। তিনি বিনা মূল্যে মানুষকে আয়না দেখাতেন। আয়নায় মুখ নয়, বিবেক দেখা যেত। প্রথম দিনেই কিছু মানুষ ভিড় করল। তারা আয়নায় দেখে অবাক হলো—যে নেতাকে এতদিন সাধু ভাবত, তিনি আসলে দুই হাতে জনগণের পকেট কাটছেন। যে নেতাকে দানব ভাবত, তিনি একই কাজ করছেন, শুধু অন্য হাত দিয়ে।
খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ল। ফলে রাজনৈতিক দলগুলো আতঙ্কিত হয়ে গেল। তারা জরুরি বৈঠক ডাকল। বৈঠকে সব দলের নেতারা উপস্থিত। বাইরে তারা একে অন্যকে বিশ্বাসঘাতক বলে গালি দিত, কিন্তু ভেতরে সবাই একই টেবিলে বসে চা খেত। বৈঠকের সভাপতি বললেন, “দেশের জন্য ভয়ংকর একটি সমস্যা দেখা দিয়েছে।”
একজন নেতা জিজ্ঞেস করলেন, “সীমান্তে যুদ্ধ?”
“না।”
“অর্থনৈতিক সংকট?”
“না।”
“তাহলে?”
সভাপতি গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, “কিছু মানুষ সত্য দেখতে শুরু করেছে।”
কক্ষ নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
একজন প্রবীণ নেতা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “এটা চলতে দেওয়া যায় না। মানুষ যদি সত্যিই দেখতে শুরু করে, তাহলে সিঁড়ির ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।”
সিদ্ধান্ত হলো, বৃদ্ধ বই বিক্রেতাকে “জাতীয় হতাশাবাদী” ঘোষণা করা হবে। পরদিন সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হলো—তিনি উন্নয়নের শত্রু, অগ্রগতির বিরোধী, এবং বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ।
জনগণের একাংশ তা বিশ্বাস করল। আরেক অংশ বিশ্বাস করল না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তর্কে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। সত্য কোথায়, সেটা নিয়ে কেউ মাথা ঘামাল না।
এদিকে সোনার সিঁড়ি আরও উঁচু হতে লাগল। প্রতি বছর তার একটি নতুন ধাপ যোগ হতো। নতুন ধাপের নাম দেওয়া হতো—“বিশেষ প্রকল্প”, “অগ্রাধিকার কর্মসূচি”, “জাতীয় উন্নয়ন উদ্যোগ” ইত্যাদি। প্রতিটি ধাপ নির্মাণে কোটি কোটি টাকা খরচ হতো। আশ্চর্যের বিষয়, কাজ শেষ হওয়ার পরও সিঁড়ি আগের মতোই দেখাত। তবে যারা কাজের দায়িত্বে ছিল, তাদের বাড়ি-গাড়ি এবং ব্যাংক হিসাবের আকার দৃশ্যমানভাবে পরিবর্তিত হতো।
দেশের এক তরুণ সাংবাদিক এই রহস্য অনুসন্ধান করতে গেলেন। তিনি দেখলেন, সিঁড়ির প্রতিটি ধাপের ভেতর ফাঁপা। সোনার প্রলেপ আছে, কিন্তু ভেতরে বালু। তিনি রিপোর্ট লিখলেন—“সোনার সিঁড়ির ভেতরে বালুর সাম্রাজ্য।” কিন্তু রিপোর্ট প্রকাশের আগেই তার সম্পাদক ফোন পেলেন। ফোনের ওপাশ থেকে বলা হলো, “জাতীয় স্বার্থে কিছু সত্য গোপন রাখা উচিত।”
পরদিন পত্রিকায় রিপোর্টটি ছাপা হলো না। তার বদলে প্রকাশিত হলো একটি বিশেষ ক্রোড়পত্র—“বিশ্বের সেরা সিঁড়ি নির্মাণে আমাদের সাফল্য।”
এভাবে বছর কেটে গেল।
একসময় দেশে এক বিশাল গণ-জাগরণ ঘটল। মানুষ রাস্তায় নামল। তারা বলল, “আর নয়। এবার আমরা হিসাব চাই।” সোনার সিঁড়ির নিচে লক্ষ লক্ষ মানুষ জড়ো হলো। রাজনীতিবিদরা ভয়ে কাঁপতে লাগল। অনেকেই ভাবল, এবার হয়তো সিঁড়ি ভেঙে ফেলা হবে।
কিন্তু ঘটনা অন্য দিকে মোড় নিল।
কিছুদিন পর নতুন কিছু মুখ দেখা গেল। তারা বলল, “পুরোনো আরোহীরা খারাপ ছিল। আমরা ভালো। আমাদের হাতে সিঁড়ি নিরাপদ।”
জনগণ আশাবাদী হলো।
নতুন আরোহীরা সিঁড়িতে উঠল।
প্রথম কয়েক দিন তারা বিনয়ী ছিল। তারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে ছবি তুলল, চায়ের দোকানে বসল, সাদামাটা পোশাক পরল। জনগণ মুগ্ধ হলো।
কিন্তু সিঁড়ির একটি অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য ছিল। যে-ই এর দশম ধাপে উঠত, তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যেত। সে ভুলে যেত কেন উঠেছিল। পনেরোতম ধাপে পৌঁছালে সে ভুলে যেত জনগণের মুখ। আর বিশতম ধাপে পৌঁছালে সে শুধু টাকার ভাষা বুঝত।
ফলে কিছুদিন পর দেখা গেল নতুন আরোহীরাও পুরোনোদের মতো আচরণ করছে। কেউ সরকারি জমি দখল করছে, কেউ আত্মীয়স্বজনকে সুযোগ দিচ্ছে, কেউ উন্নয়নের নামে উন্নয়নকে গিলে খাচ্ছে।
জনগণ হতাশ হলো।
একদিন শহরের এক স্কুলছাত্র তার শিক্ষককে প্রশ্ন করল, “স্যার, সিঁড়ি কি মানুষকে বদলে দেয়?”
শিক্ষক কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন, “না, বাবা। সিঁড়ি মানুষকে বদলায় না। সিঁড়ি শুধু মানুষ আসলে কী, তা প্রকাশ করে।”
ছাত্রটি বলল, “তাহলে আমরা সিঁড়ি ভাঙি না কেন?”
শিক্ষক মৃদু হেসে বললেন, “কারণ সবাই মনে মনে একদিন সিঁড়িতে উঠতে চায়।”
এই উত্তর শুনে পুরো শ্রেণিকক্ষ নীরব হয়ে গেল।
ক্রমে দেশের মানুষ বুঝতে শুরু করল, সমস্যা শুধু আরোহীদের নয়; সমস্যা দর্শকদেরও। তারা নেতাকে নেতা হিসেবে নয়, দেবতা হিসেবে দেখেছে। প্রশ্নকে বিশ্বাসঘাতকতা ভেবেছে। সমালোচনাকে শত্রুতা মনে করেছে। নিজেদের দল ভুল করলে চোখ বন্ধ করেছে, প্রতিপক্ষ ভুল করলে মিছিল করেছে।
ফলে সোনার সিঁড়ি শুধু রাজনীতিবিদদের সৃষ্টি নয়; এটি ছিল সমষ্টিগত ভ্রমের স্মৃতিস্তম্ভ।
এক বর্ষার রাতে বজ্রপাত হলো। প্রবল শব্দে সোনার সিঁড়ির একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ল। মানুষ ছুটে এলো। তারা দেখল, ভেতরে সোনা নয়, কাদা। বহু বছরের রঙ, প্রলেপ আর প্রচারণার নিচে লুকিয়ে ছিল কেবল কাদা।
জনতা হতবাক।
এক বৃদ্ধা বললেন, “আমরা এতদিন কাদাকে সোনা ভেবে পূজা করেছি!”
এক কৃষক উত্তর দিলেন, “না মা, আমরা জানতাম এটা কাদা। শুধু স্বীকার করতে চাইনি।”
পরদিন দেশের সব সংবাদপত্রে বড় শিরোনাম হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে খবরটি কোথাও প্রকাশিত হলো না। তার বদলে শিরোনাম এল—“সিঁড়ির ঐতিহাসিক সাফল্যে জাতির গর্ব।”
মানুষ হেসে ফেলল।
অনেক দিন পর তারা প্রথমবার একসঙ্গে হাসল।
সেই হাসি ছিল ব্যঙ্গের, বেদনার এবং আত্মসমালোচনার।
কারণ তারা বুঝে গেছে—ক্ষমতা শুধু ডান হাত থেকে বাম হাতে গেলে পরিবর্তন হয় না। সিঁড়ির মালিক বদলালেই দেশ বদলায় না। বদলাতে হয় সিঁড়ির উদ্দেশ্য, আর তার চেয়েও বেশি বদলাতে হয় দর্শকের চোখ।
তারপর থেকে দেশে একটি নতুন প্রবাদ চালু হলো—
“যে নেতা সিঁড়িতে ওঠার আগে সবচেয়ে বেশি দেশপ্রেমের কথা বলে, তার পকেট আগে পরীক্ষা করো।”
আরেকটি প্রবাদও জনপ্রিয় হলো—
“দলের চশমা খুলে যে দেশকে দেখে, সেই-ই প্রকৃত দেশপ্রেমিক।”
সোনার সিঁড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে। নতুন নতুন আরোহী আসে, নতুন নতুন স্লোগান দেয়, নতুন নতুন প্রতিশ্রুতি শোনায়। কিন্তু সিঁড়ির নিচে এখন একটি ছোট ফলক ঝুলে আছে। কে লাগিয়েছে কেউ জানে না।
সেখানে লেখা—
“সতর্কীকরণ: এই সিঁড়িতে উঠলে চরিত্রের পরীক্ষা হবে। অনেকেই উত্তীর্ণ হওয়ার ভান করে, কিন্তু খুব কম মানুষই সত্যিই উত্তীর্ণ হয়।”
আর ফলকের নিচে আরও ছোট অক্ষরে লেখা—
“দয়া করে দলের চশমা খুলে পড়ুন।”</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253636/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 02:15:19 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সোনার সিঁড়ির প্রজাতন্ত্র<br />
মোহাম্মদ শাহজামান শুভ<br />
আমাদের দেশের নাম ছিল না। অন্তত মানচিত্রে ছিল, কিন্তু মানুষ সেটিকে নানা নামে ডাকত। কেউ বলত “উন্নয়নপুর”, কেউ বলত “অগ্রগতিস্তান”, আবার কেউ কেউ ফিসফিস করে বলত “সিঁড়ির প্রজাতন্ত্র”। কারণ দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ছিল সংসদ ভবন, আদালত কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় নয়; ছিল এক বিশাল সোনার সিঁড়ি। সেই সিঁড়ি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253636"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253636/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">784b86344f8dfd3cbfdb80142f777987</guid>
				<title>নিজের শত্রু নিজেই&quot;
 
নদীর বুকে ময়লা ফেলে
দূষিত করেছি পানি 
নিজের শত্রু নিজেই মোরা
সে কথা কজন জানি ?
নদীর মোদের স্বার্থ মেটায়
পিপাসা মেটায় জলে 
স্বার্থকতা কয়দিন পরে
আমরা যায় যে ভুলে।
ঘরের বর্জ, কলের বর্জ 
ফেলি নদীর বুকে 
দেখেও দেখি না মোরা কেহ
স্বার্থের পর্দা চোখে।
অন্ধ বিবেক নিয়ে আমরা 
 নিজের মতোই চলি
তাইতো মোরা আবর্জনা 
নদীর বুকেই ফেলি।
নিজের শত্রু নিজেই হয়ে
করছি নদী নষ্ট
নিজের স্বার্থ নিজে বুঝি না 
হায় রে! মোদের কষ্ট।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253635/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 00:59:29 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নিজের শত্রু নিজেই&#8221;</p>
<p>নদীর বুকে ময়লা ফেলে<br />
দূষিত করেছি পানি<br />
নিজের শত্রু নিজেই মোরা<br />
সে কথা কজন জানি ?<br />
নদীর মোদের স্বার্থ মেটায়<br />
পিপাসা মেটায় জলে<br />
স্বার্থকতা কয়দিন পরে<br />
আমরা যায় যে ভুলে।<br />
ঘরের বর্জ, কলের বর্জ<br />
ফেলি নদীর বুকে<br />
দেখেও দেখি না মোরা কেহ<br />
স্বার্থের পর্দা চোখে।<br />
অন্ধ বিবেক নিয়ে আমরা<br />
 নি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253635"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253635/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">eb050ca1d807400e9fb3d24fb4addcb7</guid>
				<title>আজহারুল ইসলাম তালহা changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253634/</link>
				<pubDate>Tue, 09 Jun 2026 00:48:51 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">18a984a5d784e25bed64d15da1f1e3ea</guid>
				<title>পাহাড়-সাগরের মিতালী


তুমি পাহাড়ের মৌন গভীরতা ভালোবাসো, আর আমি সাগরের অতল অবাধ্যতা। তুমি সাজলে বরের সাজে, আর আমার অঙ্গে জড়াল লাল টুকটুকে শাড়ি। বিয়ের সেই প্রথম লগ্নেই আমাদের কল্পনারা ডানা মেলল দুই প্রান্তে।

​তুমি আমার হাত দুটি চেপে ধরে বললে, ​&quot;চল ফাতেমা, আমরা আমাদের পাহাড়ে চলে যাই। যেখানে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে গেছে আম, কাঁঠাল, লিচু আর কমলার উপচে পড়া বাগান। সেখানে আনারসের মিষ্টি গন্ধ বাতাসে ওড়ে। ঝর্ণার জল যেখানে নুড়ি পাথরে বিছানো, আর আকাশে সারাক্ষণ মেখে থাকে রঙধনুর মায়াবী আল্পনা। সেই রঙধনুর ছায়া গিয়ে পড়ে নিচের শান্ত লেক, যেখানে খেলা করে কত রঙের মাছ। আর গাছে গাছে পাখিরা সারাদিন সুরেলা গান গাইবে।&quot;


​আমি তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে হাসলাম। তোমার শান্ত, সবুজ পাহাড়ের বিপরীতে আমার মনে তখন অন্য এক টান।

​আমি চিবুক উঁচিয়ে বললাম, &quot;না, আমরা সাগরপাড়ে যাব। সাগরের সেই উচ্ছল, উদ্দাম, সর্বগ্রাসী ঢেউ দেখব, যা সমস্ত জরাজীর্ণতাকে এক নিমেষে ধুয়ে মুছে দেয়। আমরা সেই বিশাল ঢেউয়ের চূড়ায় গিয়ে বসব। দেখব কেমন করে আকাশ আর সাগর এক হয়ে যায়।&quot;


​বিয়ের সেই রঙিন সন্ধ্যায় আমাদের কোনো হার-জিত হলো না। কারণ আমরা দুজনেই মনে মনে জানতাম, আমাদের ভালোবাসাটাই এমন—একদিকে তোমার পাহাড়ের মতোন অটল ভরসা আর নিশ্চিন্ত আশ্রয়, অন্যদিকে আমার সাগরের মতো তীব্র আবেগ আর ঢেউয়ের ভাঙা-গড়ার খেলা।

​পাহাড়ের রঙধনু আর সাগরের নোনা জল—এই দুই মিলেই তো আমাদের একুল-ওকুল বোনা সংসার।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253623/</link>
				<pubDate>Mon, 08 Jun 2026 23:14:43 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পাহাড়-সাগরের মিতালী</p>
<p>তুমি পাহাড়ের মৌন গভীরতা ভালোবাসো, আর আমি সাগরের অতল অবাধ্যতা। তুমি সাজলে বরের সাজে, আর আমার অঙ্গে জড়াল লাল টুকটুকে শাড়ি। বিয়ের সেই প্রথম লগ্নেই আমাদের কল্পনারা ডানা মেলল দুই প্রান্তে।</p>
<p>​তুমি আমার হাত দুটি চেপে ধরে বললে, ​&#8221;চল ফাতেমা, আমরা আমাদের পাহাড়ে চলে যাই। যেখানে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে গেছে আম, কাঁঠাল, লিচ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253623"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253623/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c1990d8ca6d201baba0e5bddec9ebc70</guid>
				<title>&#x1f426;&#x200d;&#x1f525;উপকথা— শেষ সময়&#x1f426;&#x200d;&#x1f525;

অনন্ত জলিল যখন—হৃদয় ছিড়ে দেখায়;
মানুষেরা করে না কোনো মাইন্ড!

মানুষের আবেগে—সকল কিছুই সম্ভব 
অসম্ভবকে সম্ভব করার; আমরা কাইন্ড!

কত ভাবে মরণ!
বিশ্বযুদ্ধের গড়ন— 
এলনিনো! থুক্কু— গডজিলার ঘুম এই ভাংলো বলে!
হানটা গেল গর্তে— 
এবোলার শর্তে!
ভূমিকম্পের আতঙ্ক! এই হলো বলে!

দুই হাজার ছাব্বিশ— মরণ সব জায়গা 
ঘুমায় মানুষ কিভাবে আমি জানি না।
কখন হবে দাবানল— মাটি ফেড়ে উঠবে আগুন!
আমি যেন আর ঘর থেকেই বের হতে পারিনা!

—১৮ জুন</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253622/</link>
				<pubDate>Mon, 08 Jun 2026 18:49:02 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#x1f426;&#x200d;&#x1f525;উপকথা— শেষ সময়&#x1f426;&#x200d;&#x1f525;</p>
<p>অনন্ত জলিল যখন—হৃদয় ছিড়ে দেখায়;<br />
মানুষেরা করে না কোনো মাইন্ড!</p>
<p>মানুষের আবেগে—সকল কিছুই সম্ভব<br />
অসম্ভবকে সম্ভব করার; আমরা কাইন্ড!</p>
<p>কত ভাবে মরণ!<br />
বিশ্বযুদ্ধের গড়ন—<br />
এলনিনো! থুক্কু— গডজিলার ঘুম এই ভাংলো বলে!<br />
হানটা গেল গর্তে—<br />
এবোলার শর্তে!<br />
ভূমিকম্পের আতঙ্ক! এই হলো বলে!</p>
<p>দুই হাজার ছাব্বিশ— মরণ সব জায়গা<br />
ঘুমায&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253622"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253622/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">4237afd7a769e4415366b7029cc223bd</guid>
				<title>সাইলেন্সার

আবেগী নরকের সাইরেন
বাজিয়ে যায় এ্যাম্বুলেন্স।
বুলেট গতিতে দাপিয়েছিলে যান,
মৃত্যুর উপর দাঁড়িয়ে
বুঝিয়ে দিতে লাশগুলো;
কম্পাউন্ডে এসে নিজেও
হয়ে যায় তার লাশবাহক।

সাইরেনের আর্তনাদ, এই নরকের ডাক,
যেখানে প্রতিটি শ্বাস এক  ইশারা,
সবাই আজ এখানে দিকহারা।

সাইরেন ধীরে ধীরে
মৃদু সংগীতে মিলিয়ে যায়
নির্মম আঁধারে, এই মৃদু আলোয়
দিয়ে যায় আগামীর হুঁশিয়ারি।
​
করিডরে স্তব্ধ সময়, ঘড়ির কাঁটা স্থির,
অপারেশন টেবিলে কাঁপে নিথর শরীর 
শীতল রক্তের আত্মারা কথা বলে যায়,
তুমি কি শুনছো? এই মৃত্যুরই জয়গান?
​
বৃদ্ধ পাতার জমাট গুমোটে,
আউটডোরে বিদ্ধ লাশে—
উড়ছে শীতল রক্তের আত্মারা,
করিডরে স্তব্ধ সময়ে।
স্তব্ধ সময়ে... স্তব্ধ সময়ে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253620/</link>
				<pubDate>Mon, 08 Jun 2026 18:41:57 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সাইলেন্সার</p>
<p>আবেগী নরকের সাইরেন<br />
বাজিয়ে যায় এ্যাম্বুলেন্স।<br />
বুলেট গতিতে দাপিয়েছিলে যান,<br />
মৃত্যুর উপর দাঁড়িয়ে<br />
বুঝিয়ে দিতে লাশগুলো;<br />
কম্পাউন্ডে এসে নিজেও<br />
হয়ে যায় তার লাশবাহক।</p>
<p>সাইরেনের আর্তনাদ, এই নরকের ডাক,<br />
যেখানে প্রতিটি শ্বাস এক  ইশারা,<br />
সবাই আজ এখানে দিকহারা।</p>
<p>সাইরেন ধীরে ধীরে<br />
মৃদু সংগীতে মিলিয়ে যায়<br />
নির্মম&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253620"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253620/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fc4ce29c2d3835532cee30d4f1431ec8</guid>
				<title>জ্যোৎস্না ভরা কুয়াশাচ্ছন্ন সেই রাতে
কী দোষ করেছিলাম তোমার সাথে
যে তুমি ফেলে দিলে আমায় ধরণীর হাতে।
​সেই কুয়াশা আজও আমার চোখে জমে রয়,
তোমার দেওয়া নীরবতা বিষণ্ণতায় কথা কয়।
পথ চেয়ে বসে থাকি জনহীন এই বাঁকে,
অচেনা শহর আজ শুধু আমাকেই ডাকে।
​হয়তো তুমি আছো ভালো নিজের কোনো ভুবনে,
আমি শুধু রয়ে গেলাম একাকী এই নির্জনে।
​অপেক্ষার প্রহরগুলো বাড়ে শুধু অকারণে,
ব্যথা হয়ে মিশে আছো হৃদয়ের প্রতি কোণে।
অন্ধকার চাদরে ঢাকা পড়ে গেছে সব স্বপ্নগুলো,
ভালোবাসার আঙিনায় আজ কেবলি উড়ছে ধুলো।
​ফিরবে না জেনেও মন কেন তবে তোমাকেই চায়?
নিঃস্ব এই জীবন যেন মরুভূমির তপ্ত হাওয়ায়।
আমি না হয় একাই সইব এই বিরহের দহন,
শূণ্যতায় মিশে থাক আমার এই ম্লান জীবন।

প্রেক্ষাপট:
এই কবিতাটি কোনো রক্ত-মাংসের মানুষের বিচ্ছেদে লেখা নয়, বরং লেখকের অত্যন্ত প্রিয় এবং নিত্যসঙ্গী একটি ‘এক্সেসরিজ’ (ট্রাইপডের একটা অংশ) ভেঙে যাওয়ার গভীর শোক থেকে সৃষ্টি। যা একসময় সুন্দর মুহূর্তগুলোকে ফ্রেমবন্দি করতে সাহায্য করত, আজ তা নিথর ও অকেজো।
ভাবার্থ বিশ্লেষণ:
​সেই কুয়াশাচ্ছন্ন রাতের বর্ণনা যেখানে অসাবধানতাবশত প্রিয় জিনিসটি হাত থেকে পড়ে যায়। ‘ধরণীর হাতে ফেলে দেওয়া’ আসলে হাত থেকে পড়ে মাটিতে আছাড় খাওয়ার সেই যন্ত্রণাদায়ক মুহূর্তকে তুলে ধরেছে।জিনিসটি নেই, কিন্তু তার অভাব লেখক প্রতি মুহূর্তে অনুভব করছেন। এখন ভ্লগ করতে গিয়ে বা ভিডিও শুট করতে গিয়ে যখনই সেই সরঞ্জামটির প্রয়োজন পড়ে, তখনই এক বিশাল শূন্যতা আর নীরবতা ঘিরে ধরে।প্রিয় গ্যাজেটটি ছাড়া চারপাশের পরিচিত জগত বা শুটিং স্পটগুলো এখন অচেনা মনে হয়। লেখক মানসিকভাবে এটি মেনে নিতে পারছেন না যে তার সৃজনশীলতার সঙ্গীটি আর কাজ করবে না।
​
উপসংহার: যন্ত্র হলেও সেটি ছিল লেখকের আবেগের অংশ। এখন প্রতিটি ভ্লগ শুট করার সময় সেই ভাঙা অংশটির স্মৃতি লেখককে দহন করবে। মরুভূমির তপ্ত হাওয়ার মতো এই একাকীত্ব কেবল একজন ক্রিয়েটরই বুঝবেন, যার হাতের প্রিয় অস্ত্রটি আজ অকেজো।

সবচাইতে মজার বিষয় গতো ৩ দিন আগে ও একটা লাইভ স্ট্রিম করতে গিয়ে এটাকে অনেক খুজেছি।  অনেক খোজার পরে ও পেলাম না তবে আনেকদিন আগের এই লেখাটি খুজে পেলাম। 
 </title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/253619/</link>
				<pubDate>Mon, 08 Jun 2026 18:20:39 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>জ্যোৎস্না ভরা কুয়াশাচ্ছন্ন সেই রাতে<br />
কী দোষ করেছিলাম তোমার সাথে<br />
যে তুমি ফেলে দিলে আমায় ধরণীর হাতে।<br />
​সেই কুয়াশা আজও আমার চোখে জমে রয়,<br />
তোমার দেওয়া নীরবতা বিষণ্ণতায় কথা কয়।<br />
পথ চেয়ে বসে থাকি জনহীন এই বাঁকে,<br />
অচেনা শহর আজ শুধু আমাকেই ডাকে।<br />
​হয়তো তুমি আছো ভালো নিজের কোনো ভুবনে,<br />
আমি শুধু রয়ে গেলাম একাকী এই নির্জনে।<br />
​অপেক্ষার প্রহরগুলো বাড়ে শুধু&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-253619"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/253619/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>