Profile Photo

Ahmed OviOffline

  • cast.oviya
  • Profile picture of Ahmed Ovi

    Ahmed Ovi

    4 years ago

    ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে অবিরাম যেমন থামার ইচ্ছে নেই তার। বারান্দার টব গুলোতে ফোটা গোলাপ ভিজে একাকার। চারিদিক আলোয় ঝলমল করছে। মানুষজনের আনাগোনায় বাড়ি মুখরিত, বিয়ে বাড়ি বলে কথা। ভেতরের ঘর থেকে খিলখিল শব্দে হাসছে মেয়েরা।
    “আম্মু রাকিব আমাকে ধাক্কা দিয়েছে” সাদা গাউন পড়া পিচ্চি মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতে তার মাকে নালিশ করলো।
    “কোথায় সে? আমার মেয়েকে ধাক্কা দেয় এতো বড় সাহস। ওর দেখা পাই তারপর একটা চড় দিয়ে গাল লাল করে দেব। কাঁদে না মা চুপ করো। একটুপর তোমার মামার বউ আনতে যাবো। চুপ করো নাহলে তোমাকে সাথে নিবে না মামা”
    সান্ত্বনায় কাজ হলো পিচ্চি কান্না থামিয়ে চোখ মুছতে মুছতে গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে গেল খেলার আসরে।
    দোতালার বারান্দা থেকে সব দেখছিলো নিবির। তার মুখে প্রশস্থ হাসি। তার ছোট ভাগ্নি যে এতো পাকা পাকা কথা বলা শিখে গেছে তার ধারণা নেই। যেদিন মানতাসার জন্ম হয় সেদিনও আজকের মতো বৃষ্টি হচ্ছিলো। সন্ধ্যেয় রাজশাহী থেকে ফিরছিলো সে, বাস থেকে নেমে সোজা চলে যায় ক্লিনিকে। তার দুলাভাই সাদা একটা তোয়ালে দিয়ে পেচিয়ে কোলে নিয়ে আছে তার সদ্য জন্ম নেয়া সন্তানকে। কাছে যেতেই এগিয়ে দিলো তার কোলে। ছোট্ট একটা পুতুলের মতো লাগছিলো মানতাসাকে কেমন পিটপিট করে তাকাচ্ছিল তার দিকে।
    আজ সে কত বড় হয়ে গেছে, কত পাকা পাকা কথা বলে, নিবির ভাবে বয়স কত হলো ওর পাঁচ? নাকি ছয়? ঠিক মনে করতে পারে না।
    “আপু এইদিক আয়তো একটু”
    সামনে এসে দাড়ালো নিবিড়ের বড় বোন
    “কি হইছে রে? আর তুই এখনো রেডি হোসনি যে?” জেরা করলেন তিনি
    “মানতাসর বয়স কত হলো, পাঁচ নাকি ছয়” জিগ্যেস করলো নিবির।
    “বলিশ কি! জুনে চারে পড়বে। পাঁচ ছয়? দেখলি আমার মেয়ের বয়স ও তুই জানিস না”
    “এতোকিছু কি মনে থাকে? ও খুব পাকা কথা বলে না রে?”
    “হুম, তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে। বাবা এই অবস্থায় তোকে দেখলে বাড়ি মাথায় তুলবে, আর কিন্তু বলতে আসবো না, রেডি হয়ে নে” বলে সিড়ি বেড়ে নেমে গেলেন তিনি। সেদিকে তাকিয়ে আছে নিবির। আজকের বৃষ্টিটা ভালো লাগছে তার, কেমন নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে ঝড়ছে। গোলাপ গুলো সব বৃষ্টি স্নাত, হালকা আলোয় খুব সুন্দর লাগছে সেগুলো, তার মনে হলো সে কি সাথে করে কয়েকটা গোলাপ নিয়ে নেবে? কিছুক্ষণ ভাবলো তারপর টবের সবচেয়ে বড় গোলাপটা সবধানে ছিড়ে নিয়ে শুকলো, কোনো গন্ধ পেল না। ভেজা গোলাপের কি গন্ধ থাকে না? তারপর ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলো। আগে থেকেই ফ্যানের সাথে দড়ি ঝোলানো ছিলো, চেয়ারে উঠল নিবির, ধীরে সুস্থে গলায় দড়ি পড়লো। পা তুলে ফেলে দিলো চেয়ার।
    ততক্ষণে বৃষ্টি থেমে গেছে, মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছে অর্ধেক চাঁদ। গাছের পাতা গুলো থেকে টোপায় টোপায় পানি পড়ছে। নিবিরে হাতের ভেজা গোলাপটা থেকে পানি পড়ছে, লাল সাঝবাতির আলোয়, রক্তের মতো দেখাচ্ছে সেই পানি।

    বৃষ্টি স্নাত গোলাপ

    4
    4 Comments
    • গদ্য হচ্ছে বাক্যের খেলা। সুন্দর। লিখে যাও।

    • অভিনন্দন।

    • ধন্যবাদ। আপনাদের এই ভালোবাসা গুলো লিখতে উৎসাহিত করে🙂❣️

    • গল্পের শেষে একরাশ বিষন্নতা। মন ভালো করার গল্প চাই গল্পকার। শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা নেবেন।

Friends

Profile Photo
Abu Taher
@abu-taher
Profile Photo
Arif Muslimeen
@arif-muslimeen
Profile Photo
Foyzur Khan
@foyzur-khan
Profile Photo
Shohag arnob
@shohagarnobgmail-com
Profile Photo
Shoriful Shoron
@shoriful-shoron
Profile Photo
Shovan Khan Sabuz
@methopath
Profile Photo
Zahidul Jamy
@zahidul
Skip to toolbar