Profile Photo

আবির হাসান সায়েমOffline

  • Abir-Hassan-Sayem
  • #ধারাবাহিক
    একমুঠো জোনাকি (পর্ব-১৯)

    সকালে গাড়ি এসে ফরিদকে নিয়ে গেছে। জ্বর হালকা কমেছিলো। একরাতের জ্বরেই মুখটা শুকিয়ে একদম রোগীদের মতো হয়ে গিয়েছিলো। দুপুরে বাসি ভাত -তরকারী খেয়ে চালিয়েছি। বারান্দায় বসে আছি। আকাশটা মেঘলা, বাতাস বইছে। বাতাসে একটা ভ্যাপসা গরম। বৃষ্টি ঘন আবহাওয়া হলেই রবি ঠাকুরের “বাদর দিনে ” গানটা শুনতে ইচ্ছে করে। আমি শিলাকে ফোন দিলাম।
    “হ্যালো শিলা। ব্যাস্ত নাকি?”
    ” না রে। ভালো লাগছে না। কিছুই ভালো লাগছে না। ”
    “কেনো?”
    “বিয়ে করতে ইচ্ছে করছে না। ”
    ” কি করতে ইচ্ছে করছে? ”
    ” পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে। বিয়ের আগেরদিন পালিয়ে গেলে কেমন হয়?”
    আমি হাসতে হাসতে বললাম,
    “হ্যা খুব ভালো হয়। আমি তোকে পালাতে সাহায্য করলাম তারপর দুরে কোথাও গিয়ে আমরা বিয়ে করে ফেললাম। কেমন হয়?”
    ” ফাইযলামু করবি না। ”
    “আচ্ছা ফাইযলামি করব না। সত্যি করে বল তো নিলয়কে এখন তোর কেমন লাগে?”
    শিলা মৃদু স্বরে বলল,
    “ওতোটা খারাপ না৷ এই তুই কি আর কিছু বলবি, এইসব বাদে?”
    আমি ঠিকই বুঝতে পারলাম ফোনের ওইপাশে শিলা লজ্জায় মরে যাচ্ছে। আমি বললাম,
    “হ্যা বলব৷ আকাশে মেঘ জমেছে দেখেছিস? ”
    ” হু, গরম গরম লাগছে। ঝড় হবে হয়তো। কেমন থুম ধরে আছে। ”
    “তুই ওই গানটা শুনা তো ‘ আজি এই ঝরঝর মুখর বাদর দিনে। ‘”
    “আচ্ছা শুনাচ্ছি, আগে বল দুপুরে কি খেয়েছিস? খাবার তো পাঠানো হয় নি৷ ”
    ” কালকের ভাত বেচে গিয়েছিলো তাই খেয়েছি। ”
    “রাতে খাবার পাঠাবো। কিন্তু কাকে দিয়ে যে পাঠাই।”
    “নাবিলা কে দিয়ে পাঠিয়ে দে। ”
    ” আচ্ছা দেখি কি করা যায়। ”
    ” তুই নাকি ওকে বোকেছিস, আবার থাপ্পরও দিয়েছিস, আমার রুমে এসে বসে থাকত বলে? ”
    ” ওইসব কথা বাদ দে….
    শিলা গান ধরল,
    ||আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদল দিনে
    আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদল দিনে
    জানি নে, জানি নে,
    কিছুতে কেন যে মন লাগে না।
    ঝরো ঝরো মুখর বাদল দিনে
    আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদল দিনে||
    রাতে নাবিলা খাবার নিয়ে এলো। এতোক্ষণ পরিবেশ চুপচাপই ছিলো কিন্তু এখন বাইরে প্রচন্ড ঝড় হাওয়া আর বৃষ্টি শুরু হয়েছে। নাবিলা সেই কখন থেকে মাথা নীচু করে বসে আছে। আমি বললাম,
    “চা খাবে নাবিলা? ”
    ” না,ভাইয়্যা।”
    ” বাইরে ঝড় হচ্ছে। রাত তো অনেক হয়েছে।পাশের রুমটা পুরো খালি। তুমি ওইখানে আজ রাতটা থাকো। এই ঝড়ে তো যেতে পারবে না। আমি বাসায় ফোন করে দিচ্ছি। ”
    নাবিলা কিছুই বলল না। আমি খালা(ইয়াসমিন সুলতানা) -কে ফোন দিয়ে ব্যাপারটা বললাম।
    রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পরেছি। নাবিলা শুয়েছে পাশের ঘরে। ঘুমে চোখ লেগে আসছে এমন সময় নাবিলা দোরজায় টোকা দিয়ে বলল,
    “ভাইয়্যা আসতে পারি?”
    আমি উঠতে উঠতে বললাম,
    “আসো আসো। ”
    ” আসলে ভাইয়্যা আমি একা ঘুমাতে পারি না ভয় করে৷ আমি এই চেয়ারে বসে থাকি? চুপচাপ বসে থাকব। ”
    “আচ্ছা বসে থাকো। আমার খুব ঘুম পাচ্ছে। আমি ঘুমালাম। ”
    আমি হাই তুলতে তুলতে শুয়ে পরলাম৷ আর সাথে সাথেই গভীর ঘুমে তলিয়ে গেলাম।

    চলবে…

    5
    5 Comments
Skip to toolbar