-
বঙ্গবন্ধু শতবার্ষিকীতে তার জীবন ও কর্মের উপর নাটক থার্ড ফর্ম
নাটকঃ কীর্তিমানের অস্তিম শয্যা
রচনাঃ আবুল হাসান তুহিনকাহিনী সংক্ষেপঃ এই নাটকটি সাজানো হয়েছে বঙ্গবন্ধু দাফন এর উপর ভিত্তি করে। সেই দিন যারা ওই দাফনকাজে অংশগ্রহণ করেছিলন তাদের বিভিন্ন সময়ের সাক্ষাৎকার থেকেই এই নাটকটির চরিত্র রূপায়িত হয়েছে। একজন মহান মানুষকে কিভাবে দাফন করা হয়েছিল সেটা অনেকের হয়তো আজানা । ছিলো না আড়ম্বরপূর্ণ আয়েজন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় যাকে সমাহিত করার কথা তাকে সমাহিত করা হয়েছিল অনেক ন্যাক্কারজনকভাবে। তার কপালে জোটেনি নতুন কাপড়ের কাফন জোটেনি সুগন্ধি সাবান জোটেনি আতর লোবান।যে মানুষটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, একটি জাতিকে নতুন ভাবে বিশ্বের দরবারে পরিচয় করে দিয়েছেন। তাকে নির্মমভাবে হত্যার পরেও নরপিশাচরা কফিন সহ মাটি চাপা দিতে চেয়েছিল। দাফন সঠিকভাবে করতে দেয়নি। তারপরে উপস্থিত মানুষগুলো ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধুকে দাফন এবং জানাজা দিয়ে শিয়িত করেছিলেন এখানে সেই চরিত্রগুলোই রূপায়নের চেষ্টা করা হয়েছে।
চরিত্র রূপায়ণেঃ
১।গোপাল-বন্ধু ২। লুলু-বন্ধু ৩। সিরাজুল-এসডিপিওর বডিগার্ড ৪। মনি-বন্ধু
৫।মালেক-সিনিয়র বন্ধু ৬। এসডিপিও- ৭। সেন্ট্রি ৮। ওসি- ৯। মেজর- ১০। ক্যাপটেন- ১১। কয়েক জন জোয়ান ১২। মৌলভী ১৩। হালিম শেখ ১৪। আইয়ুব আলী (১৭বছর)১৫। তিন চারজন মেয়ে।১৬। কোরিওগ্রাফি ছেলে মেয়েদৃশ্য।।০১।। দিন।। মঞ্চ
চরিত্রঃ এক দল ছেলেমেয়েকাজী নজরুল ইসলামের “খেলিছো এই বিশ্ব লয়ে বিরাট ও শিশু আনমনে খেলিছো” গানটির সাথে কোরিওগ্রাফি করবে।
দৃশ্য।।০২।।দিন।। একটি দোকানের পাশে
চরিত্রঃ গোপাল, লুলু, সিরাজুল
দেখা যায় গোপাল ও লুলু গল্প করছে এর ভিতর সিরাজুল একটা কাপড়ের থোলে হাতে মঞ্চে প্রবেশ করবে। অনেক দিন পর লুলুর সাথে দেখালুলুঃ হ্যারে গোপাল ভাবতিছি অনেক দিন হলো ফরিদপুর আইছি , আশে ঘুরইরে দেখছি পারলাম না। আচ্ছা ঐ শেখের বিটার বাড়িতো টুঙ্গিপাড়াসগ । তা টুঙ্গিপাড়া এইখেনতে কত দূর?
গোপালঃ দুর সেরাম বেশি না , রাস্তা ঘাট তেমন ভালো না, পথে যাতি মেলা ডোবা নালা বাঁধে।
লুলুঃ তাতে কি? আমরা ও নড়ালের ছাওয়াল । এসব আমাগের বাঁধবে নানে। ভাবতিছি একদিন দেখতি যাবো। এরাম জাগার ছওয়াল হইয়ে কিরাম পাকিস্তানিগের ভিত নাড়াই দিলো।
পাকিস্তানিরা ভয়ে কিরাম পালাই গেলো।যহন ফরিদপুরি রইছি শেখের বিটার বাড়ি ডা দেখতি যাবো।
গোপালঃ সমস্যা নেই একদিন সময় কইরে রওনা দিবানে ঐহেনে আমাগের বন্ধু সিরাজুল থায়ে।
লুলুঃ কোন সিরাজুলির কথা কচ্ছিস ?
গোপালঃ আরে পুলিশি চাকরি করে সেই সিরাজুল ও এহন গোপাল গঞ্জে আছে, ওর সাথে দেহাও হবে টূঙ্গিপাড়ায় ঘোরাও হবে কি বলিস।
লুলুঃ ঠিকি কইচিস। একঢিলি দুই পাখি (দুই জনে হো হো করে হেসে উঠে, এর ভিতর সিরাজুল প্রবেশ করে হাসি থামাতে ই সিরাজুল সামনে)গোপালঃ কিরাম হলো ভূত দেখতিছি নাকি। তোর কথা কতি কতি সামনে হাজির।তুুই মেলাদিন বাচবি। কেবলি লুুলুুর কাছে তোর কথা কচ্ছি।
সিরাজুলঃ লুুুলু ! ও হ্যা চিনতে পেরেছি। (লুলু
এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরবে।)লুলুঃ কতদিন পর দেখা। যোগাযোগ না থাকলি যা হয়।
সিরাজুলঃ তা তুই এখন ফরিদ পুরে থাকিস?
লুলুঃ এই হেনে ছোট খাটো চাকরি করতিছি।
গোপালঃ দাঁড়াই থাকলি হবে টুলির পর বইসে গল্প কর।
সিরাজুলঃ সমস্যা নেই।গোপালঃ বললি হলো , কত কষ্ট কইরে আসলি।
লুলুঃ বন্ধু এহেনে বসি।সিরাজুলঃ ঠিক আছে।
লুলূঃ দেহা যহন হয়েই গেলো, তহন আজগে তোরে ছাড়তিছি নে।
গোপালঃ আচ্ছা অন্য সময় তুই মাসের প্রথম দিকি আসিস ,আজ কিরাম, মাসের মাঝখানে আসলি?
সিরাজুলঃ কিছু দিন ধরে ভাবছি আসবো।মনে মনে প্রস্তুত ও নিয়েছি, কিন্তু সময় করে উঠতে পারছিনা। আমি এখন এস ডি পিও স্যারের বডিগার্ড । সব সময় পরিপাটি পোশাকে থাকতে হয়, নতুন পোশাক তৈরি হয়েছে নিতে হবে।আজ ডিউটি না থাকায় নতুন পোশাক নিতে এসেছি। ফরিদপুর এলেই গোপালের সাথে দেখা করেই যাই।
লালুঃ যাক ভালই হলো।না আসলি দেখা হতো কি কইরে?
সিরাজুলঃ আরে না আমার রেশন বেতন সবই ফরিদপুর থেকে তুলতে হয়। প্রতি মাসে আমাকে আসতে ই হয় তাই কোনা কোনদিন দেখা হয়েই যেত।
গোপালঃ প্রতিমাসে আসিস কিন্তু সময় দিসনা ,আজ কোনো ছাড় হবে না। কি বলিস লুলু?
লুলুঃ একদমই ঠিক।আজ রাইত থাইকে কাল সহালে যাবি।সিরাজুলঃ নারে থাকা হবেনা ।বুঝিস না আমি এস ডিপিও স্যারের বডিগার্ড কখন ডাক পড়ে, তাছাড়া স্যারকে বলে আসিনি।
লুলুঃ একটাই তো রাত কিছু হবে না আমাদের সিনিয়র বন্ধু মালেক ভাই ওর বাড়ি আজ ফাঁকা ভাবি নেই সেখানে মনি এসেছে আজ রাতে আমরা ওখানেই থাকবো এবং গল্প গুজব করব।
সিরাজুলঃ তোরা তো দেখছি নড়াইল ছেড়ে ফরিদপুরে এসে খুঁটি গেড়েছিস ।যাক ভালই হল ওদের সাথে দেখা হবে কিন্তু পুলিশের চাকরি বুঝলি তো।লুলুঃ আরে কিন্তু কিন্তু করতে হবে না চল দুপুর হয়ে গেছে হোটেলে খাবার সেরে মালিকের বাড়ির দিকে রওনা দেব।
সিরাজুলঃ কি আর করা চল গোপাল তোর দোকান বন্ধ কর।
গোপালঃ আমি তো রেডি শুধু ঝাঁপ বন্ধ করলেই হয়। আমি দৌড় গিয়ে তালা মারবো আর রওনা দেব। এই যে ঝাঁপ বন্ধ করে তালা দিয়ে আসলাম এবার চল (সবাই মিলে প্রস্থান করে লাইট অফ হবে।)
দৃশ্য ।। ০২।। রাত ।। ঘর
চরিত্রঃ মালেক, মনি ,গোপাল, লুলু ও সিরাজুল
দেখা যায় বন্ধুরা মিলে তাস খেলছে রেডিও শুনছে।গোপালঃ মনি তুই কি আকাশবাণী শুনতিছিস ঢাকা বেতার ধরা।
মনিঃ ঠিক আছে ধরাচ্ছি,( রেডিও নব ঘুরিয়ে ঢাকা বেতার ধরাবে।)
মালেকঃ তোদের মনে পড়ে আমরা আমাদের কাছারি ঘরে বসে কত রাত জেগে তাস খেলা করিছি ।
সিরাজুলঃ মনে আছে আসলে তাস খেলা কে সবাই খারাপ মনে করে , কিন্তু তাস হচ্ছে একটি মজার খেলা ৫২ তাসের ৫৩ খেলা।গোপালঃ কাকে বলে সবাই খারাপ ভাবে
মালেকঃ একদম ঠিক নেই লুলু তুই এবার বাট চালটা তুই দিবি।
লুলুঃ ঠিক আছে বেটে সবার মাঝে বিতরণ করছে
সিরাজুল অনেক হয়েছে এবার ঘুম আসছে এটা শেষ চাল ঠিক আছে।লুলুঃ তাস বেটে সবাইকে দেয় ।( এক দান খেলবে। ঘুমের হাই তুলে সবাই গা এলিয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে শুয়ে পড়বে রেডিও শো করবে লাইট অফ হবে)
দৃশ্য।।০৩।।রাত।। বঙ্গবন্ধুর বাড়ি
চরিত্রঃ বঙ্গবন্ধু ও একদল আর্মি
বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের ফুটেজ মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে দেখানো হবে।
অথবা।বঙ্গবন্ধুঃ (প্রচন্ড গরম গোলাগুলির শব্দে বঙ্গবন্ধু সামনে এসে দাঁড়াবেন এবং বলবেন) কি চাস তোরা? (প্রতিউত্তরে কোন শব্দ বা উত্তর পাওয়া যাবে না ব্রাশ ফায়ারের অতর্কিত গুলি তাঁর বুক ঝাঁঝরারা করে দেয়, তিনি লুটিয়ে পড়েন মাটিতে)
দৃশ্য।।০৪।। ভোররাত।।ঘর
চরিত্রঃ সিরাজুল, মালেক, লুলু, মনি গোপাল
দেখা যায় ওরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ঘুমিয়ে আছে রেডিওটার শো শো শব্দ করছে হঠাৎ রেডিও টা বেজে উঠবে উর্দু গান ভেসে উঠবে। একটি বুলেটিন প্রচার হবে। বুলেটিন শুনে সিরাজুল আচমকা উঠে বসবে, সবাইকে ডাকবে।বেতারের বুলেটিনঃ শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়েছে এবং খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করেছে দেশবাসী সবাই শান্ত থাকুন বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। (কয়েক সেকেন্ড একটি উর্দু গানের সুর ভেসে আসবে রেডিও থাকে এরপর আবার একই ঘোষণা আচমকা এই খবর শুনেে সিরাজুল ঘুম থেকে উঠে বসে এবং সবাইকে ডাকে।)
সিরাজুলঃ মালেক ভাই মালেক ভাই উঠেন ,
কে কাকে হত্যা করেছে আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না। (সবাই ঘুম থেকে উঠবে)সবাইঃ কি হয়েছে কি বলছিস তুই?
সিরাজুলঃ রেডিও অন করা ছিল, হঠাৎ শুনছি তো কি আবোল তাবোল বলছে রেডিওতে!
মালেকঃ দেখি সবাই দোকানের ফাকে বুলেটিন এটা ঢাকা বেতার রেডিও দেখে তো ঢাকা বেতার কিন্তু উর্দু গান শোনাচ্ছে কেন ?(গানের ফাঁকে আবার বুলেটিন প্রচার শুরু হয় সবাই আতঙ্কে সবাই বুলেটিন শোনে )
রেডিও বুলেটিনঃ শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে এবং খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করেছে । দেশবাসী সবাইকে শান্ত থাকুন বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।
সিরাজুলঃ এটা কিভাবে সম্ভব ! বিশ্বাসযোগ্য সংবাদ! তাছাড়া যিনি আমাদের আলাদা একটি জাতিসত্তা উপহার দিলেন তাকে হত্যা?
লুলুঃ ঘোষণা যখন দেচ্ছে মিথ্যা কি করে হবে?
সিরাজুলঃ ঠিক বলেছিস ঘটনা যাইহোক সবাই সাবধানে থাকিস আমাকে এখনই রওনা দিতে হবে বঙ্গবন্ধুকে সত্যি যদি হত্যা করা হয়ে থাকে তাহলে টুঙ্গিপাড়ার অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে আমার স্যারের উপর দায়িত্ব পড়বে তখন আমাকে তলব করবে আমাকে না পেলে, দায়িত্ব অবহেলার কারনে সাসপেন্ড করতে পারে।লুলুঃ কি বলিস তুই এখন কিভাবে যাবি? রাস্তাঘাটের যে অবস্থা শুনিছি।
সিরাজুলঃ উপায় নেই পুলিশের চাকরি সময় মতো জায়গায় হাজির না থাকলে নানা প্রশ্ন বিনা অনুমতিতে এসেছি। চিন্তা করিস না আমি ড্রেস পড়ে রওনা দেব ড্রেস পড়ে রওনা দিলে কোন সমস্যা হবেনা । পুলিশের পোশাক পরা দেখলে কেউ কিছু বলার সাহস পাবে না।মনিঃ কি বলবো বুঝতি পারতিছিনে পরিস্থিতি বুঝে আবার দেখা করতে আসিস।
সিরাজুলঃ আচ্ছা ঠিক আছে চিন্তা করিস না। প্রতিি মাসে আমাকে আসতেই হয়, আবার দেখা হবে।
মালেকঃ (সিরাজুলের ড্রেস পড়া শেষ হলে বলবে) চল সবাই মিলে আমরা সিরাজুুল কে কিছু দূর এগিয়ে দিয়ে আসি।
সবাইঃ ঠিক আছে চল সবাই। (সকলেই প্রস্থান করবে।)দৃশ্য ।।০৫।।ভোরবেলা ।।রুম
চরিত্র এসডিপিও এবংসিপাহীটেলিফোন বাজবে আড়মোড়া খেয়ে এসডিপিও ফোন ধরবে। ইয়েস এসডিপিও বলছি। এ কি বলছেন স্যার ? না স্যার। মানে, পাঁচটা জি স্যার।কোন সমস্যা হবে না । সব ব্যবস্থা করছি। (স্যালুট দিয়ে টেলিফোন রাখে,স্বগত) এত বড় একটা নির্মম কান্ড ঘটে গেল কি আর করা চাকরি করতে এসেছি অর্ডার মত চলতে হবে ।আমাকে ফোর্স মোতায়েন করতে হবে। কবর খোঁড়া দায়িত্ব দিতে হবে। সেন্ট্রি সেন্ট্রি কাম হেয়ার। (সেন্ট্রি মঞ্চে প্রবেশ করে)
সেন্ট্রিঃ (স্যালুট দিয়ে) জি স্যার।এসডিপিওঃ সিরাজুলকে আমার সালাম দাও। আমাদের এখনই বের হতে হবে । টুংগীপাড়া যেতে হবে।
সেন্ট্রিঃ জি স্যার। (স্যালুট দিয়ে বের হয়ে যাবে।)
এসডিপিওঃ (টেলিফোন ঘুরিয়ে) হ্যালো আমি গোপালগঞ্জেের এসডিপিও বলছি। আপনি টুঙ্গিপাড়ার পোস্টমাস্টার । হ্যালো শোনেন শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। দ্রুত তার বাড়ি যাবেন। ঢাকা থেকে জরুরি জানানো হয়েছে পাঁচটা কবর খুড়তে হবে। ফোন দেয়ার উদ্দেশ্য হলো পোস্ট অফিস টা বঙ্গবন্ধুর বাড়ির কাছাকাছি। তাই জলদি কাজটি করুন না হলে চাকরি যাবে, সেই সাথে জীবন নিয়ে টানাটানি বুঝলেন। এটা আর্মিদের অর্ডার । টুঙ্গিপাড়ার ওসি কেও অ্যালার্ট করে দিচ্ছি আপনার সাথে মিলে কাজ করবে। আমরা পুলিশ ফোর্স নিয়ে রওনা দিচ্ছি সেই সাথে আশেপাশে যত পুলিশ ফাঁড়ি এবং থানা আছে সে সব পুলিশকে এড করা হবে। আপনাকে ফোন দিলাম এই কারণে যে আমাদের আসছে তো বেশ দেরী হবে এর মধ্যে খবরটা পৌঁছে দিতে হবে। (এরমধ্যে সিরাজুল প্রবেশ করবে)সিরাজুলঃ (স্যালুট দিয়ে) স্যার
এসডিপিওঃ কিছু শুনেছো?
সিরাজুলঃ কি স্যার?
এসডিপিওঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। লাশ ঢাকা থেকে টুঙ্গিপাড়া আনা হচ্ছে একটি খবরে বলা হয়েছে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আসবে আমাদের এখনই রওনা দিতে হবে আমি ডিলিট করে দিচ্ছি তুমি রেডি হয়ে।
সিরাজুলঃ স্যার আমি রেডি আছি আপনি ড্রেসাপ করে আসুন ।
এসডিপিওঃ (বাইরে বের হয়ে যায়। সিরাজুল মঞ্চের এপাশ-ওপাশ করে হাঁটতে থাকে ড্রেস পড়ে এসডিপিও মঞ্চে প্রবেশ করে আবার টেলিফোন এর কাছে যাই। টেলিফোন ঘুরিয়ে) হ্যালো বড় বাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্প আপনারা ফোর্স নিয়ে টুংগীপাড়া দিকে অগ্রসর হবেন ,শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে লাশ ঢাকা থেকে টুঙ্গিপাড়ায় আনা হচ্ছে। (আবার টেলিফোন ঘুরিয়ে) হ্যালো টুংগিপাড়া থানা, ওসি সাহেব, আপনার ফোর্স নিয়ে টুঙ্গিপাড়ার দিকে অগ্রসর হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে ঢাকা থেকে লাশ টুঙ্গিপাড়ায় আনা হচ্ছে। (টেলিফোনটা রাখার সাথে সাথেে বেজে উঠব) জি স্যার এনগেজ ছিল মানে আমি টুঙ্গিপাড়ার সাথে সমস্ত যোগাযোগ করছিলাম । পাঁচটা কবর খুঁড়তে হবে না ?একটা খুড়লেই হবে ?
একটি তীক্ষ্ণ ভয়েস অপরপ্রান্তত থেকেঃ
দুপুরের মধ্যেই হেলিকপ্টারে করে শেখ মুজিবুর রহমানের লাশ টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছে যাবে।বাবা-মায়ের কবরের পাশেই তার লাশ দাফন করে রাখবেন। যাতে কবরের মধ্যে কফিন সহ লাশ তাড়াতাড়ি মাটি দেওয়া যায়। হেলিকপ্টার মাটিতে নামার ১৫ মিনিটের মধ্যে লাশ কবরে দিয়ে হেলিকপ্টার ফিরে আসবে। হেলিকপ্টার নামানো লাশ কবর দেয়া এবং ঐ লাশ যাতে কবর থেকে কেউ উঠিয়ে নিতে না পারে তার জন্য সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা করতে হবে ।গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন এবং নিকটস্থ থানা পুলিশ ফাঁড়ি থেকে পুলিশ এনে টুঙ্গিপাড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা করুন যাতে আর্মিরা লাশ তাড়াতাড়ি দাফন করে নিরাপদে ঢাকায় চলে আসতে পারে। যদি এর কোন ব্যতিক্রম হয় সব দায়িত্ব আপনার কাছ থেকে বুঝে নেয়া হবে।এসডিপিওঃ স্যার কোন সমস্যা হবে না আমি এক্ষুনি সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। (টেলিফোন রেখে) সিরাজুল জলদি চলো , যত দ্রুত সম্ভব আমাদের টঙ্গী পাড়া পৌঁছতে হবে। চাকরি এবং জীবন এখন দুটোকেই বাঁচাতে। (দ্রুত মঞ্চ থেকে বেরিয়ে যাবে)
দৃশ্য।।০৬।।দিন।। মঞ্চ
চরিত্রঃ একদল ছেলেমেয়ে
দেখা যায় একদল ছেলেমেয়ে কবিতাটির মাধ্যমে কোরিওগ্রাফি করবে।এই সিঁড়ি
রফিক আজাদ
এই সিঁড়ি নেমে গেছে বঙ্গোপসাগরে,
সিঁড়ি ভেঙে রক্ত নেমে গেছে-বত্রিশ নম্বর থেকে
সবুজ শস্যের মাঠ বেয়ে
অমল রক্তের ধারা বয়ে গেছে বঙ্গোপসাগরে।
মাঠময় শস্য তিনি ভালোবাসতেন,
আয়ত দু’চোখ ছিল পাখির পিয়াসী
পাখি তার খুব প্রিয় ছিলো-গাছ-গাছালির দিকে প্রিয় তামাকের গন্ধ ভুলে
চোখ তুলে একটুখানি তাকিয়ে নিতেন,
পাখিদের শব্দে তার, খুব ভোরে, ঘুম ভেঙে যেতো।
স্বপ্ন তার বুক ভ’রে ছিল,পিতার হৃদয় ছিল,
স্নেহে-আর্দ্র চোখ-এদেশের যা কিছু
তা হোক না নগণ্য, ক্ষুদ্র
তার চোখে মূল্যবান ছিল-নিজের জীবনই শুধু তার কাছে খুব তুচ্ছ ছিল:
স্বদেশের মানচিত্র জুড়ে প’ড়ে আছে বিশাল শরীর…
তার রক্তে এই মাটি উর্বর হয়েছে,সবচেয়ে রূপবান দীর্ঘাঙ্গ পুরুষ:
তার ছায়া দীর্ঘ হতে-হ’তেমানি
মানচিত্র ঢেকে দ্যায় সস্নেহে, আদরে!
তার রক্তে প্রিয় মাটি উর্বর হয়েছে-
তার রক্তে সবকিছু সবুজ হয়েছে।
এই সিঁড়ি নেমে গেছে বঙ্গোপসাগরে,
সিঁড়ি ভেঙে রক্ত নেমে গেছে-স্বপ্নের স্বদেশ ব্যেপে
সবুজ শস্যের মাঠ বেয়ে অমল রক্তের ধারা
ব’য়ে গেছে বঙ্গোপসাগরে।
দৃশ্য।। ০৭।। দিন।। মাঠ
একটি বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার পরপর দুইবার পাক দিয়ে নামবে।
মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে হেলিকপ্টার দেখাতে হবে।একটা হেলিকপ্টার নামার অপেক্ষায় অধীর ভাবে লোকজন অপেক্ষা করছে। হেলিকপ্টার আসার শব্দ হবে । আকাশে হেলিকপ্টার দুইবার পাক দিয়ে নিচে নামবে ।এরপর মঞ্চে কয়েকজন আর্মি জোয়ান প্রবেশ করবে সবাইকে রাইফেল তাক করে তাড়িয়ে দেবে।
মেজরঃ জোয়ান
জোয়ানঃ ইয়েস স্যার।
মেজরঃ চারিদিকে কিছু লোকজনের ভিড় দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। ওদেরকে তাড়িয়ে দিতে হবে। না হলে হেলিকপ্টার থেকে লাশ নামানো খুবই রিক্স ।
জোয়ানঃ তোমরা যারা মাঠের চারিদিকে দাঁড়িয়ে আছো দূরে সরে যাও। কেউ সামনে আসার চেষ্টা করলে গুলি করা হবে যাও, যাও বলছি।
ক্যাপ্টেনঃ অর্ডার অনুযায়ী আমাদের খুব দ্রুত লাশটি দাফন করে চলে যেতে হবে। জনরোষ বিস্ফোরিত হলে হেলিকপ্টার নিয়ে ফিরে যাওয়া অসম্ভব হয়ে যেতে পারে, যার কারণে আমাদেরকে কঠোর হতে হবে। জোয়ান চারিদিকে পজিশান নিয়ে থাকো। কোন সমস্যা দেখা দিলেই গুলি চালাবে।জোয়ানঃ জোয়ানরা ইয়েস স্যার । (সবাই চারিদিকে ছড়িয়ে পজিশন নেবে। ক্যাপ্টেন এবং মেজর মঞ্চে পায়চারি করবে, লাইট অফ হবে।)
দৃশ্য ।।০৮।। দিন।। মঞ্চ
চরিত্র একদল ছেলেমেয়ে
দেখা যায় কবিতা আবৃতির সাথে সাথে ছেলেমেয়েগুলো কোরিওগ্রাফি করছে।আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি
নির্মলেন্দু গুণ
সমবেত সকলের মতো আমিও গোলাপ ফুল খুব ভালোবাসি,
রেসকোর্স পার হয়ে যেতে সেইসব গোলাপের একটি গোলাপ
গতকাল আমাকে বলেছে, আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি।
আমি তাঁর কথা বলতে এসেছি।
শহিদ মিনার থেকে খসে-পড়া একটি রক্তাক্ত ইট গতকাল আমাকে বলেছে,
আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি।
আমি তাঁর কথা বলতে এসেছি।
সমবেত সকলের মতো আমিও পলাশ ফুল খুব ভালোবাসি, ‘সমকাল’
পার হয়ে যেতে সদ্যফোটা একটি পলাশ গতকাল কানে কানে
আমাকে বলেছে, আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি।
আমি তাঁর কথা বলতে এসেছি।
শাহবাগ এ্যভিন্যুর ঘূর্ণায়িত জলের ঝরনাটি আর্তস্বরে আমাকে বলেছে,
আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি।
আমি তাঁর কথা বলতে এসেছি।
সমবেত সকলের মতো আমারো স্বপ্নের প্রতি পক্ষপাত আছে,
ভালোবাসা আছে- শেষ রাতে দেখা একটি সাহসী স্বপ্ন গতকাল
আমাকে বলেছে, আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি।
আমি তাঁর কথা বলতে এসেছি।
এই বসন্তের বটমূলে সমবেত ব্যথিত মানুষগুলো সাক্ষী থাকুক,
না-ফোটা কৃষ্ণচূড়ার শুষ্কভগ্ন অপ্রস্তুত প্রাণের ঐ গোপন মঞ্জরীগুলো কান পেতে শুনুক,
আসন্ন সন্ধ্যার এই কালো কোকিলটি জেনে যাক-
আমার পায়ের তলায় পুণ্য মাটি ছুঁয়ে
আমি আজ সেই গোলাপের কথা রাখলাম, আজ সেই পলাশের কথা
রাখলাম, আজ সেই স্বপ্নের কথা রাখলাম।
আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি,
আমি আমার ভালোবাসার কথা বলতে এসেছিলাম।দৃশ্য।। ০৯ ।। দিন।। মাঠ
চরিত্রঃ মেজর, ক্যাপটেন, এসডিপিও, ওসি, সিরাজুল, জোয়ান, মৌলভী, হালিম, আয়ুব
জোয়ান পজিশন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ক্যাপ্টেন এবং মেজর পায়চারি করছে। এসডিপিও ওসি এবং সিরাজুল মঞ্চে প্রবেশ করবে।
ক্যাপটেনঃ (মেজর আরো অন্য দুজন জোয়ান অস্ত্র তাক করে এগিয়ে এসে) তোমাদের পরিচয় ?
ওসিঃ আমি আব্দুল জলিল ওসি টুঙ্গীপাড়া থানা ।
এসডিপিওঃ আমি এসডিপিও গোপালগঞ্জ ।ও হচ্ছে আমার বডিগার্ড সিরাজুল।
ক্যাপ্টেনঃ ওআইসি তা তোমরা কি ওপরের নির্দেশ ঠিক মতো শোননি ?হেলিকপ্টার নামার সাথে সাথে তোমাদের পাওয়া যায়নি কেন? তোমাদের লোক বল কোথায়?
এসডিপিওঃ আমরা তো লোক জন নিয়ে এখানেই ছিলাম । আপনিতো জওয়ানদের তাড়িয়ে দিতে বললেন। জওয়ানরা বন্দুক উঁচিয়ে সবাইকে তাড়িয়ে দিল। সবাই ভয়ে দৌড়ে পালিয়ে গেছে। শুধু তাই না আমাদের সাথে একজন ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন তিনি দৌড়াতে গিয়ে পানিতে পড়ে গেছেন।
ক্যাপ্টেনঃ এখানে লাশ দাফনে কোন অসুবিধা আছে? ভেবেচিন্তে বলবে।
ওসিঃ না স্যার কোন অসুবিধা নেই
ক্যাপ্টেনঃ ব্লাডি বাস্টার্ড কোন সমস্যা হলে তোমাদের এইখানে শেষ করে দিয়ে যাব। সময় কম জলদি হেলিকপ্টার থেকে লাশ নামাতে হবে। তোমাদের লোকবল কোথায় ?নতুন করে তাদের ডেকে নিয়ে এসো ।
এসডিপিওঃ ওকে স্যার সব ব্যবস্থা করছি, সিরাজুল আমার সাথে চলেন। হেলিকপ্টার থেকে লাশ নামানোর ব্যবস্থা করি। (তিনজন মঞ্চে থেকে প্রস্থান করবে। ক্যাপ্টেন মেজর এবং মঞ্চে পায়চারি করবে, ধীরে ধীরে লাইট অফ হবে)
।।কিছুক্ষণ পর।।
একটা করুণ সুর ভাসতে থাকবে হাতল ছাড়া একটি কফিন ধরাধরি করে মঞ্চে নিয়ে আসবে, ক্যাপ্টেন ও মেজর লাশটি কবর দিতে বলবে।
ক্যাপ্টেনঃ কবর ঠিক মতো খোঁচা হয়ে গেছে? মৌলভী মাটি দেয়ার ব্যবস্থা করেন।
মৌলভীঃ কি বলছেন আপনারা? কবর খোঁঁচা হয়েছে মানুষের মাপে ।কফিনের মাপে কবর খোঁচ হয়নি ।কফিন সহ কবর দেওয়া যাবে না।
ক্যাপ্টেনঃ যেভাবে উপরের নির্দেশ আছে সেভাবেই কাজ করতে হবে।
মৌলভীঃ উপরের নির্দেশ আপনাদের কাছেই থাক। আমাকে ইসলামী নিয়ম মেনেই কাজটা করতে হবে । মুখ না দেখে লাশ কবর দেয়া যাবে না।
মেজরঃ আপনাকে বলা হয়েছে তো উপরের অর্ডার নেই ।কফিন সহ কবরে নামিয়ে দিতে হবে।
মৌলভীঃ আমার জীবন থাক, আর না থাক ,এ কাজ আমি করতে পারবোনা, বঙ্গবন্ধু একজন মুসলমান উনাকে কাফন পরাতে হবে ,জানাজা পড়াতে হবে ,তারপর কবর দিতে হবে।
ক্যাপ্টেনঃ আমাদের কাছে যে অর্ডার আছে সেই মোতাবেক কাজ করতে হবে।
মৌলভীঃ আপনাদের সব কথা আমি মানতে রাজি আছি, আপনাদের বলতে হবে বঙ্গবন্ধু শহীদ হয়েছেন।যদি বঙ্গবন্ধুর শহীদ হয়ে থাকেন তাহলে ওসবের কোনো কিছুরই প্রয়োজন হবেনা।
মেজরঃ আমাদের কাছে এমন কোন অর্ডার নেই।
মৌলভীঃ বঙ্গবন্ধুর লাশ সঠিকভাবে দাফন করতে হলে আমার অর্ডার ফলো করতে হবে।
সিরাজুলঃ স্যার অপরাধ ক্ষমা করবেন মৌলভী সাহেব ঠিকই বলেছেন। কফিনের চারদিক থেকে যেভাবে রক্ত বের হচ্ছে তাতে মনে হয় লাশের গোসল করানো হয়নি।
ক্যাপ্টেনঃ (রাগান্বিত হয়ে ) কে কার গোসল করাবে?
সিরাজুলঃ স্যার কবর যখন খোড়া হয়ে গেছে মুসলমান হিসেবে মৌলভী সাহেবের কথা মত গোসল দিতে হবে ,কাফন পড়তে হবে তারপর কবর দিতে হবে। উপস্থিত সবাই মিলে এই কাজটি করব।
ক্যাপ্টেনঃ (আক্রোশে) তোমার বাড়ি কোথায়? কোন নিকট আত্মীয় তুমি।
সিরাজুলঃ না স্যার। আমি এসডিও স্যারের বডিগার্ড ।বাড়ি যশোর জেলার নড়াইল মহাকুমার লোহাগড়ার ইতনা গ্রামে।
ক্যাপ্টেনঃ বেশি দেরি করলে লাশ ছিনতাই হয়ে যেতে পারে।
সিরাজুলঃ লাশ ছিনতাইয়ের কোন সুযোগ নেই ।১৪৪ ধারা জারি আছে। ১৯ জেলার ফোর্স দিয়ে টুংগীপাড়া ঘেরাও করা আছে লাশ ছিনতাইয়ের কোন সুযোগ নেই।
ক্যাপ্টেনঃ গোসল কে করাবে আর কত সময় লাগবে?
সিরাজুলঃ মৌলভী সাহেবের সাথে থেকে আমরা সবাই মিলে গোসল করাবো।
ক্যাপ্টেনঃ ওকে ২০ মিনিট সময় দেওয়া হল।
মৌলভীঃ তোমরা সকল মিলা কফিনডা ধইরা নিয়ে আসো। মুদ্দারের গোসল দিতে হইবে। কাফন পরাইয়া জানাজা শেষে কবরে নামাইতে হবে। (একটি সাদা পর্দার আড়ালে কফিন নিয়ে যাওয়া হবে শ্যাডোর ভিতরে দেখা যাবে।মৌলভী সাহেব হালিম মিস্ত্রিকে ডাকবেন কফিনের মুখ খোলার জন্য।) কইরেে হালিম তাড়াতাড়ি আয় কফিনডার মুখ আগলা কইরা দে।
হালিমঃ এইতো আসতেছি মৌলভী সাহেব। আয় বাজান শাবলডা শক্ত করে ধরে নিয়়াই। (হালিম তার ছেলে আইয়ুুবকে নিয়ে মঞ্চে প্রবেশ করে হাতে একটি শাবল সাদা পর্দার পিছনে যায়) এই বাক্সের মুখ খুলতে হইবে কোন সমস্যা নেই। এক্ষুনি খুলে দিচ্ছি। বাজান শাবলডা দে। শাবলের চাড় দিয়ে কফিনের মুখ টা খুলবে।
আইয়ুবঃ বাজান দেখো মনে হইতাছে উনি মরেননি ঘুমায় আছেন। এমন মানুষডারে কেমন করে মারতে পারল। (অন্যান্য সবাই কফিনের এসে দেখবে)
সিরাজুলঃ মৌলভী সাহেব বেশি দেরি করা যাবে না মুদ্দারের গোসল করাতে গেলে তো কাফনের কাপড় লাগবে কি করা যায়।
মৌলভীঃ সময় তো কম তারপরে কার্ফু জারি করছে। এক কাজ করো কাউরে পাঠায়া দাও আমাদের পাশে হাসপাতলে রেড ক্রিসেন্টের রিলিফের সাদা কাপড় আছে ।ওখান থেকেই দুইটা কাপড় আনলেই হবে। আর একটা সাবান লাগবে।
এসডিপিওঃ মৌলভী সাহেব আমি একটা সাবান নিয়ে এসেছি পাশের দোকান থেকে ।৫৭০ সাবান। এই সাবান ছাড়া অন্য কোন সাবান নেই ওই দোকানে।
সিরাজুলঃ (কফিনের ভেতর উঁকি দিয়ে) মৌলবি সাহেব মনে হচ্ছে একটা লম্বা কাপড় দিয়ে পা থেকে মাথায় এনে গিট দেয়া হয়েছ । আমি এটা খুলে দিচ্ছি। একি গায়ের পাঞ্জাবি রক্তে ভিজে একেবারে গায়ের সাথে এঁটে গেছে। এখনো রক্ত বের হচ্ছে। যে আঙ্গুল উঁচিয়ে ভাষণ দিতেন সেটাও গুলি লেগেছে। হ্যাঁঁ আমি ধরছি আপনি ব্লেড দিয়ে আস্তে আস্তে পাঞ্জাবি টা কেটে দিন । কি সর্বনাশ পিছন দিক থেকে তো মাংস ছিন্ন হয়ে বের হয়ে গেছে। দেখে মনে হচ্ছে উনার বুকের ভেতর অনেক গুলি আছে।গুলি গুলো বের করি। এতো অনেক গুলি । (বের করে উপর রেখে বলবে ) এখানে প্রায় ২১ টা গুলি। মৌলভী সাহেব পিছনে যেখান থেকে মাংস বের হয়ে গেছে সেখানেে কাপড় গুঁজে দিতে হবে না হলে ওখান দিয়ে রক্ত বের হতে থাকবে।
মৌলভীঃ ঠিক আছে কাপড় নিয়ে আসলেই ওখান থেকে কাপড় ছিড়ে ক্ষতস্থানে ঢুকিয়ে দিবা।
মেজরঃ (জোরে চিৎকার দিয়ে ওঠে) ফাস্ট হাত চালাও
এসডিপিওঃ ওকে স্যার আর অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই গোসলের কাজ শেষ হয়ে যাবে। পানি এবং কাফনের জন্য লোক পাঠানো হয়েছে। এখনি চলে আসবে। (দেখা যায় কলসে করে দুইজন পানি আনছে একজন কিছু সাদা শাড়ি হাতে করে নিয়ে আসছে। মঞ্চে প্রবেশ করে সাদা পর্দার পিছনে চলে যাবে।)
সিরাজুলঃ এত মেয়েদের পড়া শাড়ি । শাড়ি নিচে রঙিন পাড় আছে।
মৌলভীঃ শাড়ি থেকে পাাড় ছিড়ে দিলেই হবে। আমার কাছে দাও আমি পাড় ছিড়ে দিচ্ছি। (শ্যাডোর ভিতরে দেখা যায় পানি ঢেলে গোসল সম্পূর্ণ করে কাফন পরিয়ে দেওয়া হয়।)
জনতাঃ (দূর থেকে জনতার একটা হট্টগোল শোনা যায় চিৎকার করে বলতে থাকে) আমরা জানাজায় অংশগ্রহণ করতে চাই।
মেজরঃ (উঁচু গলায়) বাস্টার্ড ব্লাডি ফুল পিপুল। কোন জানাজা পড়তে দেওয়া হবে না দূরে সরে যাও। গুলির অর্ডার আছে চালাতে বাধ্য হব।
ক্যাপ্টেনঃ জলদি নিয়ম মত সমস্ত কাজ সমাধা করো।
মৌলভীঃ ঠিক আছে করছি। উপস্থিত সবাই মিলে জানাজা নামাজ পড়বে এবং সালাম ফিরাবে । মুদ্দার কে কবরে নামানোর ব্যবস্থা করো (দূরে কিছুুু মেয়েদের চিৎকার শোনা যাবে। সিরাজুল পর্দার আড়াল থেকে বাইরে আসবে)
মেয়েরাঃ আমরা শেষবারের মতো উনার মুখটা দেখতে চাই। আমাদের দেখানোর ব্যবস্থা করেন।
মেজরঃ কোন মায়া কান্না চলবেনা ,আর অর্ডার আছে গুলি করবো। (দুজন মেয়ে সে মেজরের পা জড়িয়ে ধরে।)
সিরাজুলঃ তোমাদের বাড়ি কোথায়?
মেয়েরাঃ কাওলীপাড়া।
সিরাজুলঃ কাওলীপাড়া? দশ বারো মাইল দূর। (এগিয়ে এসে) স্যার মেয়েরা অনেক দূর থেকে এসেছে শেষ চোখের দেখা দেখব বলে। দেখতে দেন।
মেজরঃ তুমি আচ্ছা লোক লাশ নিয়ে আসার পর থেকেই বাড়াবাড়ি করছ। যাও দেখিয়ে নিয়ে এসো।( সিরাজুল মেয়েদের নিয়ে সাদা পর্দার আড়ালে চলে যায়। লাশ দেখে ওরাা ডুকরে কেঁদে ওঠে)
সিরাজুলঃ কেউ কাঁদো না উনার জন্য দোয়া করো।
ক্যাপ্টেনঃ লাশ হস্তান্তরের ফাইল টা বের করো। সবকিছু ঠিকঠাক আছে।
মেজরঃ ইয়েস স্যার এভরিথিং ওকে,।
ক্যাপ্টেনঃ শেখ মুজিবুর রহমানের কোন নিকট আত্মীয় থাকলে তাকে আমাদের কাছে নিয়ে এসো। (সাদা পর্দার আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে ওসি বলবেন)
ওসিঃ স্যার ওনার এক দূর সম্পর্কের চাচা এখানে আছেন ।
মেজরঃ সামনে নিয়ে এসো। মোট তিন জনকে সই করতে হবে ।ওসি এবং এসডিপিও তোমরাও সই করবে।
ক্যাপ্টেনঃ আমরা যেহেতু লাশ এখানে দাফন করেছি ওপরের অর্ডার মোতাবেক লাশ হস্তান্তর ও লাশটি বুঝে পাওয়ার এই মর্মে দস্তখত করতে হবে ।
ওসিঃ পানু চাচা আপনি আসেন। (চোখ মুছতে মুছতে পানু শেখ পর্দার আড়াল থেকে আসবে। )স্যার এই যে শেখ মুজিবুর রহমানের চাচা পানু শেখ।
ক্যপটেনঃ মেজর ফাইলে প্রথম স্বাক্ষর করবে শেখ মুজিবের চাচা, তারপর এসডিপিও এবং শেষে ওসি।
মেজরঃ ইয়েস স্যার, সবাই সামনে এসে স্বাক্ষর করো। (ফাইলটা এগিয়ে ধরবে প্রথমে স্বাক্ষর করবে বঙ্গবন্ধু চাচা পানু এসডিপিও এবং শেষে ওসি)
ক্যাপ্টেনঃ উপরের অর্ডার মতো আমাদের দায়িত্ব এখানেই শেষ।ওসি এবং এসডিপিও তোমাদেরকে ফের হুঁশিয়ারি করে দিয়ে বলছি এই কবরের কাছে কোন মানুষ যাতে আসতে না পারে সেই কারণে পাহারা বসিয়ে দাও। উপরের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই পাহারা বলবৎ থাকবে। এখন আমরা ফিরে যাব আমাদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে। সোলজার গো আহেড।
সবাইঃ ইয়েস স্যার। (সবাই সামনে এগিয়ে যাবে)
দৃশ্য।।১০।। দিন।। মাঠ
মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের দেখা যাবে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার মাটি থেকে উপরে উঠবে ।পাক খেতে খেতে দূর আকাশে মিলিয়ে যাবে।
দৃশ্য।।১১।। দিন।। মঞ্চ
চরিত্র একদল ছেলেমেয়ে
কবিতা আবৃতি সাথে সাথে কোরিওগ্রাফি করবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মরণে
অন্নদাশঙ্কর রায়
নরহত্যা মহাপাপ, তার চেয়ে পাপ আরো বড়ো
করে যদি যারা তাঁর পুত্রসম বিশ্বাসভাজন
জাতির জনক যিনি অতর্কিত তাঁরেই নিধন।
নিধন সবংশে হলে সেই পাপ আরো গুরুতর,
সারাদেশ ভাগী হয় পিতৃঘাতী সে ঘোর পাপের
যদি দেয় সাধুবাদ, যদি করে অপরাধ ক্ষমা।
কর্মফল দিনে দিনে বর্ষে বর্ষে হয় এর জমা
একদা বর্ষণ বজ্ররূপে সে অভিশাপের।
রক্ত ডেকে আনে রক্ত, হানাহানি হয়ে যায় রীত।
পাশবিক শক্তি দিয়ে রোধ করা মিথ্যা মরীচিকা।
পাপ দিয়ে শুরু যার নিজেই সে নিত্য বিভীষিকা।
ছিন্নমস্তা দেবী যেন পান করে আপন শোণিত।
বাংলাদেশ! বাংলাদেশ! থেকে নাকো নীরব দর্শক
ধিক্কারে মুখর হও। হাত ধুয়ে এড়াও নরক।
কোরিওগ্রাফি শেষে সবাই মঞ্চে এসে দাঁড়াবে
ভয়েস ওভারঃ
বঙ্গবন্ধুকে অনেক তাড়াহুড়ো করে সমাহিত করা হয়েছিল। তাঁকে কোনো রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়া হয়নি। একজন মহানায়কের অন্তিম প্রস্থান হল কত অনারস্বর, বিমর্ষ ও বিধ্বস্ত ভাবে। মৃত্যুর পরেও মানুষ পারেনি সেখানে যেয়ে শ্রদ্ধা ঞ্জাপন করতে এমনকি তাঁর কবর জিয়ারত করতেও বাধা দেয়া হয় আপামর জনগনকে। অনেকেই সেসময় কবর জিয়ারত করতে গিয়ে পুলিশের হয়রানির শিকার হয়েছেন। ঘাতকেরা ভেবেছিল, প্রত্যন্ত অঞ্চল টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুকে দাফন করলে সাধারণ মানুষ এতদূরে তাঁর সমাধি দেখতে যাবে না। ঘাতকের ধারনা ভুল, আজ বঙ্গবন্ধুর সমাধিক্ষেত্র বাঙালির পবিত্রভুমিতে পরিণত হয়েছে। আর ভেবেছিল কোনদিন বিচার হবেনা এ হত্যাকান্ডের। আজ তা হয়েছে। যারা পলাতক তাদেরও একদিন বিচার হবে। আমাদের মন আদর্শ ও ভালবাসায় চির জাগ্রত বঙ্গবন্ধু। কির্তীমানের মৃত্যু নেই। বঙ্গবন্ধু , আমাদের সবার। আমাদের একটি দেশ, একটি পতাকা, একজন জাতির পিতা।
জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধুু
ভয়েস ওভার শেষ হলে সবাই বো দেবে শেষ হবে।
।।সমাপ্ত।।রচনাকাল ৩১-০৩-২০২০
মঙ্গলবার4 Comments

Abul Hasan Tuhen
Friends
abrar
@abrar
জামান বারভী
@zamanbarovi
MUHAMMAD TAHSEEN
@muhammadtahseen
Kokeshas King
@kokeshasking
মোরশেদ সাকিব
@morshedsakib
Ekhtiar Uddin
@ekhtiar2003
ইভান
@ivan
মো: ফারহান হাবীব
@farhan-habib
Masfi K
@masfi-mohammad



অপূর্ব