-
ছায়ারূপ
হাসনাত সৌরভ
==================হাসপাতালের দোতলায় বসে আছি। ফাঁকা বেঞ্চ। রাত আড়াইটে হবে। পাশের কেবিনের একজন বয়স্ক মানুষের জন্য এসেছি। ওনার ছেলে নীচে গেছে ওষুধ কিনতে। একাই বসে মোবাইল ঘাঁটছি, হঠাৎ পাশে এসে মনে হল কেউ দাঁড়াল। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলাম। কেউ নেই। টানা বারান্দা। ফাঁকা। আবার মোবাইল ঘাঁটছি, হঠাৎ আমার পিঠে যেন কেউ হাত রাখল। আমি লাফিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে পিছনে ঘুরেই দেখি একজন ঢ্যাঙা লম্বা লোক। আমার দিকে ক্লান্ত চোখে তাকিয়ে। যেন এখনই ঘুমিয়ে পড়বে। আমায় বললো, আমায় একটু মর্গের রাস্তাটা দেখিয়ে দেবেন?
আমি বললাম ইয়ার্কি হচ্ছে…ভয় দেখানো….ফাজলামি?
সে একটা বড় হাই তুলে বলল, চলুন না প্লিজ, মর্গটা দেখিয়েই চলে আসবেন..
কেন, আপনি কি ওখানে কাজ করেন নাকি?
ধুর, বেঁচে থেকে কাজ করে করে হাড়গুলো খড়খড়ে হয়ে গেল..আবার মরেও কাজ?…
অ্যাঁ! মানে আপনি….
তা ভূত বলুন, আত্মা বলুন, যা হয় কিছু একটা বলুন, কিন্তু আমায় প্লিজ পৌঁছে দিন…
তা বেরিয়েছিলেন কেন?
আরে ভাই ডায়াবেটিস ছিল তো যখন বেঁচে ছিলাম, তা ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ চাপত…..অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল….তা সেই অভ্যাসেই বাইরে বেরিয়েছিলাম.. অনেকক্ষণ হাইড্রেনের ধারে দাঁড়িয়ে রইলাম….হল না। তারপর মনে পড়ল, যা, আমি তো এই প্রস্রাব করতে যেয়েই মাথায় নারকেল পড়ে গতকালই মারা গেলাম.. তা আত্মার আবার লিঙ্গ হয় নাকি!
বুঝলাম…তারপর রাস্তাটা হারালেন…..
হুম…চলুন না প্লিজ…আমি পড়তে জানি না…নইলে আপনাকে এত রাতে বিরক্ত করি? ভূত বলে কি ভদ্রতাবোধ নেই…
আমি কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে। হঠাৎ দেখি ছেলেটা ওষুধ নিয়ে ফিরছে…..
আমার ধড়ে প্রাণ এলো…আমি ওকে কিছু বলতে যাব হঠাৎ দেখি ওর পিছনে পিছনে স্টেথো ঝোলানো একজন মানুষ আসছেন….বুঝলাম ডাক্তার…নিশ্চয় ছেলেটার বাবার অবস্থা খারাপ তাই…..
ছেলেটা আমাকে বলল, আপনি দাঁড়ান….আমি ওষুধটা ওয়ার্ডে দিয়ে আসছি….
চলে গেল। ডাক্তার হঠাৎ আমার দিকে এগিয়ে এসে বললেন, আপনি এই পাগলটার পাল্লায় পড়েছেন বুঝি….
ডাক্তারের ডান হাতের তর্জনীর ইঙ্গিত ঢ্যাঙা ভূতের দিকে…
ধুর …ও ভূতটুত কিছু নয়…মাঝরাতে কাউকে একা পেলেই বলে চলুন আমায় মর্গে ছেড়ে দিয়ে আসুন, আমি ভূত রাস্তা হারিয়েছি….তাই শুনেই অনেকে অজ্ঞান হয়ে যায়.. অনেকে সাহস করে মর্গ অবধি যেই যায় অমনি এ নানা অঙ্গভঙ্গী করে ভয় দেখায়….যা ভাগ….
ঢ্যাঙা লোকটা ডাক্তারের ধমক খেয়ে পালালো….আমার এবার সত্যিই ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ার মত অবস্থা…আমি বললাম, আপনি…
উনি আমার দিকে হাত বাড়িয়ে বললেন, আমি ডাক্তার মাহতাব.. দুহাজার দশ সালের চৌদ্দই ফেব্রুয়ারী ওই নীচের ফ্লোরে সুইসাইড করেছিলাম…আসলে একটা মেয়েকে ভালোবাসতাম…সেও এই হাসপাতালের নার্স ছিল…অ্যাক্সিডেন্টে মারা যায়….এখন আমরা দুজনেই এই হাসপাতালে রাত্রিতে ঘুরে বেড়াই…কার কখন কি দরকার লাগে…কই গো এসো…..
আমার সামনে একটা ছায়া এগিয়ে আসছে…কিন্তু আমার চোখ অন্ধকার হয়ে আসছে….
©হাসনাতের হস্তাক্ষর
9 Comments-
চমৎকার গল্প। খুব ভালো লাগলো লেখকপ্রিয়!
ভূত নিয়ে আমি বেশ ঝামেলায় আছি। একদম বিশ্বাস করিনা ওসবে, বিশ্বাস দৃঢ় করতে একসময় বেশ আগ্রহ নিয়ে ভূত খুজেছিও গল্পে, সিনেমায়, ওলিতে-গলিতে। একদিন তো প্লানচেট ও করেছিলাম। সে আর এক গল্প। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে একটা পরিবর্তন এসেছে। ভূতের সিনেমা দেখলে একটা ভীতি কাজ করে। বিশেষ সাউন্ড ইফেক্ট, বীভৎস মেকআপ, ও হঠাৎ চমকে দেয়ার এক বিশেষ দক্ষতা ভেতরটা নাড়িয়ে দেয়। তবে আপনার গল্পটা এক অন্যরকম আনন্দ দিল। শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা নেবেন। -
@drako সত্যিই কেউ এভাবে নিজের ভালোলাগা মন্দলাগাকে প্রকাশ করলে লেখকের তৃপ্তিটা হয়তো আরেকটু (আরেকটু বললাম এইজন্যে যে, আমার নিজের লেখায় নিজে কখনো ঠিকঠাক তৃপ্তি পাই না। মনে হয়, এর মধ্যে আমি নিজেকে ভালোভাবে ঢালতে পারিনি।) বাড়তে সাহায্য করে।
আশা করি, পরবর্তী কোন কাজ আমাকে এর থেকেও বেশি তৃপ্তি দেবে। আপাতত আপনাদের তৃপ্তিতেই ডুবে থাকি। ♥
Friends
ফরহাদ আহমেদ
@forhad2004
সাব্বির হোসেন।
@shadowhunter3d
তাজুল ইসলাম তন্ময়
@tazulumgmail-com
শাহ্ আলম আল মুজাহিদ
@shahalam
জিকরুল ইসলাম
@zikrul
ইফতিশা খানম
@eftishakhanam
Manik Kumar Sanjowal
@manikkumarsanjowal
অসীম রহমান
@ashim_rahman
Prithula Zaman
@prithula



হা…হা…হা… অনেক দিন এমন মজার গল্প পড়িনা।