Profile Photo

হাসনাত সৌরভOffline

  • Hasnat21
  • Profile picture of হাসনাত সৌরভ

    হাসনাত সৌরভ

    3 years, 12 months ago

    ডানা
    হাসনাত সৌরভ
    ========================

    শেষমেষ মেয়েটা রাজি হল। ছুটন্ত ট্রেনটার ভারী চাকাগুলোকে বেছে নিল। পায়ের কাছে রাখা ব্যাগ, আটপৌরে শাড়িটা দুরন্ত ঢেউয়ে ঢেউয়ে লেপটে, প্ল্যাটফর্মটার একেবারে ধার ঘেঁষে অল্প ঝুঁকে দাঁড়ানো।

    ট্রেনটা ঢুকছে।

    বডিটা ক-টুকরো হতে আর ক-সেকেন্ড।

    কিন্তু না। লাইনটার উপর যেই ঝাঁপাতে যাবে, এক হেঁচকায় পিছন থেকে টেনে নিল একটা লোক। তারপর প্ল‍্যাটফর্মটার উপর ছিটকে পড়ে একেবারে বুকের ভেতর। এত ভেতরে কে থাকে! তার সঙ্গে দেখা হয় না? তো সেখান থেকে মুখ তুলেই সপাটে একটা চড় কষাল মেয়েটি। তারপর সশব্দ ফণা ওঠাল,

    –কেন বাঁচালেন আমায়?

    লোকটা নিরুত্তর। হাঁপাচ্ছে।

    মেয়েটি শান্ত হল। গেল-রাতে ফের রেপড হয়ে গেছে। কোল্ডড্রিঙ্কসের বোতলের ভেতর পাইপ ঢুকিয়ে সবটুকু টেনে নেওয়ার মতো মেয়েটা খালি হয়ে গেলে স্বামীটি মুখ মোছে। তারপর গলা তোলে। পাল্টা স্বরে খেপে যায়। গলা-ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয় মাঝরাতে।

    এভাবে মাঝেমধ‍্যেই ছিটকে বাপের বাড়ি।

    তবে বেরোতে পারে না।

    ক-দিন বাদে ফের মাথা নামিয়ে স্বামীগৃহে।

    কিন্তু বাপের বাড়িটি এবার থুম। হয়তো আগেভাগেই পাকাপাকি আসার খবরটা পেয়ে গিয়েছিল। এত ডাকাডাকি, কড়া নাড়া— কিছুতে কারও ঘুম ভাঙে না। মেয়েটি আপাদমস্তক কেঁপে ওঠে। কান্না পায়। শেষমেশ রাজি। কিন্তু কে এই লোকটা! পথে এইরকম কেউ পড়ে? পড়ার কথা?

    প্ল্যাটফর্মটা থেকে বেরিয়ে এসেছে। লোকটার পাশে পাশে হাঁটছে। শাড়ির ভাঁজটা আস্তে ভাঙছে পায়ের কাছে। হঠাৎই পাশে প্রশ্ন ঠেলল,

    –কী করেন?
    –বাঁচি।
    –মানে!
    –বাড়ি বাড়ি পাখি কিনি।
    –কেন?
    –উড়িয়ে দিই।

    মেয়েটির চোখে জল।

    –মানুষ ওড়াতে পারেন?

    লোকটা থমকাল। ফের হাঁটতে লাগল। শহরটা থেকে এখন অনেকটা দূর। দূরে সীমানা ছাড়িয়ে এক মাঠ, আকাশ, অন‍্য জীবন। লোকটা সেখানে পাখি ওড়ায়।

    দুজনে সেদিকে হাঁটছে।

    দূরে সরে যাচ্ছে চুড়ি, ঘোমটা, একটা রেললাইন…

    @হাসনাতের হস্তাক্ষর

    11
    9 Comments
Skip to toolbar