Profile Photo

হাসনাত সৌরভOffline

  • Hasnat21
  • Profile picture of হাসনাত সৌরভ

    হাসনাত সৌরভ

    • 4 years, 3 months ago

    প্রতীক্ষা
    হাসনাত সৌরভ
    ===========================

    বিরাট বটগাছটা ছড়িয়েছে অজস্র ঝুরি। একটাই গাছেতে যেন এক অরণ্য। গাছটার গুঁড়িটা হাতির পেটের মতো মোটা। আর সেইখানেই আস্তানা পীর সাহেবের। অনেকে বলে, ইনি নাকি মহা জাগ্রত। খালি হাতে কেউ নাকি ফিরে যায় না।

    শবরীর শূন্য চোখ মাঝেমধ্যে ইতিউতি চলে যাচ্ছে। তারপর ফিরে আসছে পীরসাহেবের কাছেই।

    সব বিশ্বাস সত্যি হয় না। অথচ কত মানুষ শুধু বিশ্বাসের বলে বলীয়ান হয়ে এসে বসে আছে এইখানে। দু দণ্ড শান্তি চায় কেউ। কেউ চায় ছেলের চাকরি। কেউ বা অন্য কিছু। শবরী কী চায়, সে বুঝতে পারে না। বা, বুঝতে চায় না। মাসে একটা করে দিন সে এখানে আসে। সকাল-সকালই। হাতব্যাগে সামান্য কিছু খাবার। পানির বোতল। সাজগোজ ততটাই, যতটায় ভিড়ে মিশে যাওয়া খুব সহজে। সারাটা দিন সে শুধু বসে থাকে। পীরসাহেবের চারপাশের ভিড় থেকে সামান্য দূরে। বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামলে ফের চলে যায়। কাউকে কিছু বলে না, কোনও তাগা বাঁধে না বটগাছে। তার আসা-যাওয়ায় নৈঃশব্দ্য লেগে থাকে।

    আজকেও দিনটা এমনভাবেই কেটে যাচ্ছিল। সন্ধে হয়-হয়। অন্যান্য দিনের মতোই দুই হাঁটুর মাঝে ক্লান্ত মাথাটা গুঁজে শবরী অপেক্ষা করছিল আলো একেবারে মুছে যাওয়ার। এমন সময় কে যেন তার পেছন থেকে নরম গলায় বলে উঠল, আপা, পীরবাবা ডাকছেন।

    শবরী চমকে তাকিয়ে দেখল, পীরের এক সাগরেদ। অবাক হল। আজ কি তাহলে সত্যি হবে বিশ্বাস?

    একটুখানিই পথ, অথচ পেরোতে লাগল যেন এক জীবন। দূরত্ব পেরিয়ে পীরের সামনে শবরী বসল এসে। দূরত্ব বজায় রেখেই।

    হাতের ইশারায় সাগরেদকে চলে যেতে বলে হাসিমুখে পীরসাহেব বললেন, কেমন আছো?

    শবরীর চোখ ভিজে। কিন্তু সে হাসিমুখেই বলল, ভালোই আছি।

    একটু যেন ইতস্তত করে পীরসাহেব বললেন, ওরা সবাই… ভালো আছে তো?

    শবরী এ প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে জিজ্ঞেস করল, তুমি কবে আসবে…?

    পীরসাহেব তাঁর ধূসর দু চোখে আরেকটু নির্লিপ্তি সাজিয়ে বললেন, যবে নির্বাণ লাভ হবে… তুমি তো জানোই সব…

    শবরী হাসল। উঠে দাঁড়াল। পীরসাহেবের পা ছুঁয়ে সে হাত বুলিয়ে নিল নিজের মাথায়। চলে যেতে-যেতে সে শুধু বলল, আচ্ছা… আমি অপেক্ষা করব, কেমন…? আসি?

    @হাসনাতের হস্তাক্ষর

    11
    8 Comments
    • নির্বাণ লাভের আশায় আমিও…

    • চমৎকার গল্প! পীরবাবা নিয়ে আমার একটা মজার ঘটনা শেয়ার করি, আগে পীরবাবাদের মাজার ছাড়াও শহরে, গ্রামে ঘুরে বেড়াতে দেখা যেত। আজকাল অবশ্য কোথাও দেখিনা। যখনকার ঘটনা বলছি তখন আমি স্কুলে পড়ি। স্কুল শেষে হেটে বাসায় ফিরছিলাম। পথে হঠাৎ দেখি একটা ভিড় খুব ধীরে এগিয়ে চলেছে। ভিড় ঠেলে এগিয়ে যেতে যেতে লক্ষ্য করলাম প্রত্যেকের হাতে কিছু না কিছু খাবার। বেশীরভাগ মানুষের হাতেই কলা আর পাওরুটি ছিল এখনো স্পষ্ট মনে পড়ে। আর একটু এগিয়ে যেতেই দেখলাম এক বৃদ্ধ গায়ে ময়লা পোষাক, পিঠে ঝোলা, হাতে লাঠি নিয়ে খুব ধীর পায়ে এগিয়ে চলছে। বুঝতে পারলাম ভীড়টা মূলত এই বৃদ্ধকেই অনুসরণ করছে। কৌতুহল বাড়ল। হেটে বৃদ্ধের আরেকটু কাছে এগিয়ে গেলাম। এবার আরেকটু ভালো করে লক্ষ্য করলাম তাকে, মুখভর্তি গোছানো দাড়ি বুক ছুঁয়েছে, পুরুষ্ট গোঁফ, গোলগাল মুখ আর মাথার সামনের দিকটা বেশ ফাঁকা তবে পেছনে বেশ বড় চুলের গোছা। দাড়ি থেকে চুল সবি কাঁচাপাকা। গায়ের আলখাল্লাটাও বেশ অদ্ভুত তবে রংটা মনে নেই। হয়ত ময়লায় বিবর্ণ ছিল। হাতের লাঠিতে তেমন কোণ বিশেষত্ব ছিলনা তবে খালি পায়ে লোকটা এক ধ্যানে হেটে চলেছে। লোকটাকে দেখতে দেখতে যখন পাশ কাটিয়ে চলে যাব ভাবছিলাম ঠিক তখনি বৃদ্ধ লোকটা থেমে হাত বাড়িয়ে দিল আমার সামনে। লোকটার তকতকে হাতের তালু দেখে তখনি আরেকটা বিষয় খেয়াল হল, লোকটার পোষাক ময়লা হলেও তার হাত, মুখ, চুল, দাড়ি খুব পরিষ্কার। আমি প্রথমে একটু হকচকিয়ে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ি, দেখি সমস্ত ভিড়টাও দাঁড়িয়ে পরেছে। আমি লোকটার দিকে তাকিয়ে বললাম, আমার কাছে তো টাকা নেই। তিনি শুধু বললেন, পানি। সঙ্গে সঙ্গে দেখলাম গোটা ভিড়টায় একটা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল এবং সঙ্গে সঙ্গে অসংখ্য হাত এগিয়ে এসেছে পানির খোলা বোতল নিয়ে। চিৎকারও শুনলাম কয়েকজনার, “বাবা আমার পানিটা খান” বলে। দেখলাম বৃদ্ধ লোকটা তখনো আমার দিকে একটা শীতল দৃষ্টি নিয়ে হাত বাড়িয়ে রেখেছে। আমি আমার ব্যাগের সাইড পকেট থেকে পানির বোতল তার হাতে দিয়ে আর অপেক্ষা করলাম না। হয়ত ভয় পেয়েছিলাম। পরে ঐ লোকটাকে শহরের অন্যত্র আরো বেশ কয়েকবার দেখেছিলাম। পরে জেনেছিলাম তার নাম “হায়দার বাবা”। তিনি যার হাত থেকে খাবার গ্রহন করেন তার নাকি ভাগ্য খুলে যায় অথবা মনের ইচ্ছা পূরণ হয়।

    • @Drako Shajib আপনার গল্পটা শুনে মনে হচ্ছে উনি হাটাবাবা। একসময় মোহাম্মদপুরে উনাকে প্রায়ই দেখা যেত। শুনেছি তিনি মারা যাবার পর উনার ভক্তরা মোহাম্মদপুরের কোন একটা মাঠে তার মাজার তৈরী করেছে। এটা নিয়ে অনেক ঝামেলা হয়েছিল।

    • নির্বান কি সহজে কেউ পায়?

    • @prithula অনেক আধ্যাত্মিক উচ্চাকাঙ্ক্ষী যাঁরা নির্বাণের বা মুক্তির পথ অন্বেষণ করছেন, তারা শেষপর্যন্ত এসে ঘুরপাক খান নানা বৃত্তপথে অথচ নির্বাণের পথ রয়েছে প্রত্যেকের ঠিক সমুখেই।

    • হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন বন্ধু পৃথুলা! তবে আমি তাকে হায়দার বাবা নামেই জানি। ঝামেলা হয়েছিল এই বিষয়টি আমার অজানা হলেও ঐদিক দিয়ে যাতায়াত করলে এখনো তার মাজার চোখে পড়ে। শুনেছি বিশেষ দিনে এখনো তার ভক্তরা জমায়েত হয়। @Prithula

    • হ্যাঁ, ঠিক। মুক্তি সামনেই। ঠিক ততটাই সামনে যতটা সামনে চাঁদ, তারা।

Skip to toolbar