Profile Photo

Mohammad Al-MamunOffline

  • Mohammad-Al-Mamun-Titu
  • Profile picture of Mohammad Al-Mamun

    Mohammad Al-Mamun

    • 4 years, 2 months ago

    কবি: মুহাম্মাদ আল-মামুন
    কবিতা: ৩৯৬
    আবেগের কথোপকথন
    ——————————-
    স্বামী অফিস থেকে বসায় ফিরে ফ্রেশ হয়ে
    আবার লেপটপ নিয়ে বসে পড়লেন।
    স্ত্রী কফি বানাতে ব্যস্ত ।
    স্ত্রীঃএই নাও তোমার কফি।
    স্বামী: ও হ্যাঁ দাও।
    স্ত্রীঃ আচ্ছা মাঝে মাঝে তুমিও তো কফি বানাতে পারো।
    স্বামী: আরে আমার টা টেষ্ট হয় না,তোমার টা বেস্ট।
    স্ত্রীঃ (মুচকি হেসে),আমার যে তোমার হাতের খেতে ইচ্ছে করে।
    স্বামীঃ কি সব বলো না?
    স্ত্রীঃ কেনো আমার বুঝি ইচ্ছে করতে নেই।
    স্বামীঃ সারাদিন অফিস করার পর আর ধৈর্য্য থাকে বলো।
    স্ত্রীঃ আমার বুঝি বাসায় কোন কাজ নেই।
    স্বামীঃ বাসায় তুমি একা মানুষ,তোমার আবার কি কাজ?
    স্ত্রীঃ বাসায় রান্না করা,তোমার প্যান্ট-শার্ট ধুয়ে আইরন করে রাখা,ঘর গুছানো,সবকিছু পরিপাটি করে রাখা এতকিছু কি এমনিতেই হয়ে যায়?( দীর্ঘশ্বাস ফেলে)
    স্বামীঃ মেয়ে হলে এসব করতে হয়।
    স্ত্রীঃ কোথায় লেখা আছে যে মেয়েদেরই এসব করতে হয়।
    স্বামী: এটা লেখার কি আছে? যুগ যুগ ধরে তো এভাবেই চলে আসছে।
    স্ত্রীঃ তাই না! (দীর্ঘশ্বাস ফেলে)
    স্বামীঃ তুমি কি বলতে চাচ্ছো এই প্রেজেন্টেশন রেডি করা রেখে আমি কফি বানাই।
    স্ত্রীঃ তা কেন বলবো! বললাম আমারো মাঝে মধ্যে ইচ্ছে করে।
    স্বামীঃ এমন ইচ্ছে কেনো করবে? কোন কফিসপে একসাথে কফি খেলেও তো হয়।
    স্ত্রীঃ ওখানে কি তোমার হাতের কফি বানানোর স্বাদ পাওয়া যাবে!
    স্বামীঃতা কি করে সম্ভব?
    স্ত্রীঃ এই যে প্রতিদিন কল দিয়ে জিজ্ঞেস করি তুমি লান্স করলে কিনা।তোমার কখনো ইচ্ছে করে না আমাকে জিজ্ঞেস করতে।
    স্বামীঃ চাকরি তো করো না,বুঝবে কি করে? কত যে ঝামেলার মধ্যে থাকতে হয়।
    স্ত্রীঃ চাকরি করলে বুঝি খুব ঝামেলা পোহাতে হয়।
    স্বামীঃ জ্বী হ্যাঁ।এখানে জিজ্ঞাসার কি আছে? দুপুর হলে লান্স করে নিবে এটাই তো স্বাভাবিক।
    স্ত্রীঃ ভাবছি আমি একটা চাকরি নিবো।
    স্বামীঃ মানে কি?এখন আমার অফিসে প্রচুর চাপ, সামনে প্রমোশনের একটা সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না। এখন ক্যারিয়ার গড়ার সময়।এসময়ে না না।
    স্ত্রীঃ আমার বুঝি ক্যারিয়ার থাকতে নেই।
    স্বামীঃ তুমি তো বেশ ভালোই আছো।তাছাড়া আমার ইনকামে দু’জনের তো ভালোই চলছে।
    স্ত্রীঃ একা একা একটা ঘরের মধ্যে বন্দি থেকে তিন বেলা খেতে-পড়তে পারাটাই ভালো থাকা তোমার কাছে।এতো পড়া-লেখা করে কি লাভ হলো তাহলে?
    স্বামীঃ তার মানে ?এসব পাগলামোর মানে কি?
    স্ত্রীঃ কখনো খেয়াল করেছো,আমরা একই ছাদের নীচে অথচ মনে হয় দু’জনে কত দূরে আছি একে অপর থেকে।
    স্বামীঃ কেন তা ভাববো! আমরা তো এক সাথেই আছি এবং ভালো আছি!তোমার আর কি চাই বলো?
    স্ত্রীঃ আমি যা চাই তা দিতে পারবে?(দীর্ঘশ্বাস ফেলে)
    স্বামীঃ না পারার এখানে কি আছে?চেয়েই দেখ না!
    স্ত্রীঃ আমি চাই কেউ আমায় বুঝোক,কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করুক আমি খেলাম কিনা,আমি কি চাই,আমার ভালোলাগা-মন্দলাগা খেয়াল করুক, আমার জন্য বসায় ফিরার তাগিদ অনুভব করুক, আমার সাথে অভিমান করুক,পাগলের মত ভালোবাসুক,আমার রাগ ভাঙ্গাবে উজার করা প্রেম দিয়ে,আমি তার প্রতীক্ষায় বসে ক্ষণ গুনবো ।পারবে দিতে।
    স্বামীঃ ( এবার ঘোর কাটলো,সত্যিই ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে ছুটতে ভুলেই গিয়েছিলাম প্রিয় মানুষটার চাওয়া-পাওয়া,আবেগ-অনুভূতি,মান- অভিমান, ইচ্ছে-অনইচ্ছে ও ভালোলাগা-ভালোবাসা)।
    সত্যিই আমার বড় ভুল হয়েগেছে ক্যারিয়ার,ক্যারিয়ার করতে করতে তোমাকেই হরিয়ে ফেলতে বসেছিলাম।সত্যিই আমি সরি,সত্যিই সরি।তুমি এভাবে না বললে হয়তো বড় ভুল হয়ে যেতো।আমিতো তোমাকে হারাতে চাইনা।
    স্ত্রীঃ ওভাবে বলছো কেন? আমি তো তোমারই। মাঝে মাঝে মন খারাপ হয়,কষ্ট হয়,একা একা বাসায় থাকি ঠিকই কিন্ত মন হয় কেউ আমার পাশে নেই।
    স্বামী: আমি আছি তো, এই যে আমি।অনেক অনেক ভালোবাসি তোমায়, অনেক।
    স্ত্রীঃ আমিও অনেক——। অনেক ভালোবাসি।

    (বি.দ্রঃ জমাট বাঁধা কথাগুলো মনের ভেতর গেঁথে না রেখে প্রিয় মানুষকে খুলে বলেন।)

    8
    2 Comments
Skip to toolbar