Profile Photo

ম. জুনাইদ হাসানOffline

  • Hasan-Tusher
  • Profile picture of ম. জুনাইদ হাসান

    ম. জুনাইদ হাসান

    3 years, 9 months ago

    (লেখাটি পদ্মসেতু উদ্বোধন পরবর্তী সময়ের ঘটনাবলীকে সামনে রেখে লেখা। এখন সম্ভবত প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে তবুও পোস্ট করলাম)

    ‘মুত্র বিসর্জন’

    ”যে পাতে খায়, সেই পাতে হাগে”….

    উপরিউক্ত শব্দবন্ধটি একটা বহুল প্রচলিত বাংলা প্রবচন(proverbs)। প্রত্যেকটি প্রবচন প্রচলিত হওয়ার পিছনে একাধিক গল্প থাকে। ঐ গল্প গুলোকে প্রবচনটির ভাবসম্প্রসারণ বললে ভুল বলা হবে না। আমি জানি ব্যাকরনবীদরা এটা মানবেন না!! কিন্তু আমিতো আম জনতার কাতারে… আমার অত ব্যাকরণ মানার কি দরকার!!

    উপরের প্রবচনটি সৃষ্টির পিছনে যে অনেকগুলো গল্প শোনা যায়…তার একটির, খানিকটা বলে নেই… প্রাচীন ভারতবর্ষে ধনী লোকের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত কম ছিল, কিন্তু এখনকার তুলনায় তারা উদারতা এবং অতিথি পরায়নতায় অনেকটা এগিয়ে ছিল। দানবীর হিসাবেও তাদের যথেষ্ট নামডাক ছিল। তখনকার ধনীদের মধ্যে সিংহভাগই, হয় জমিদার না হয়ত বর্গাদার। ঐ সমস্ত জমিদাররা বিভিন্ন পার্বনে(festival) তাদের প্রজাদেরকে ভুঁড়ি ভোজের মাধ্যমে আপ্যায়ন করত। গরীব প্রজারা সারারাত ভুঁড়িভোজ সেরে সকালে গৃহে ফেরার আগে, যে শালপাতায় ভোজ খেয়েছে সেই পাতায় প্রাতঃক্রিয়া(মলত্যাগ) সম্পন্ন করত। দুর্জনেরা বলত– জমিদারদের সারা বছরের অত্যচারের শোধ নেওয়ার জন্য প্রজারা এরকম অপকর্মে লিপ্ত হত!! ক্রমাগত অপমান ও অপদস্ত হওয়ার প্রতিশোধ হিসাবে ঐ ঘৃনীত কাজটা করতে তাদের লজ্জাবোধ হত না। আর বেচারা জমিদারদের মুখ থেকে অতি দুঃখে ঐ শব্দগুচ্ছটি বের হত, আর সেটাই পরবর্তীতে প্রবচন বাক্য রুপে খ্যাতি লাভ করে।

    ইংরেজি সন ২০২২, বাংলা শ্রাবণমাস। প্রাচীন ভারতবর্ষ অনেকদিন গত হয়েছে। এটা বাংলাদেশ। দেশের প্রজারা প্রানপণ চেষ্টা করছে তার নিজের অবস্হার উন্নতি সেই সাথে দেশের উন্নতি ঘটানোর। একজন জমিদারের আবির্ভাব হয়েছে… যে নিজে এবং তার নিজস্ব গোষ্ঠীও মনে করছে, তিনিই স্বয়ং সেই মহিমান্বিত জমিদার…যে দুঃখী প্রজার মুখে হাসি ফোটাতে পারবে। জমিদারের দাবী, অন্য কারও পক্ষে প্রজাদের কল্যাণ সাধন সম্ভব না…সেই একমাত্র যোগ্য ব্যক্তি। প্রজাদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য জমিদার মহাশয় দরিয়ার(river) উপর বিশাল সোপান(bridge) তৈরী করল। শুভদিন দেখে সোপানের দারও উন্মুক্ত করা হল। আর প্রজাদেরকে বলা হল, তোমাদের জিনিষ তোমরা বুঝে নাও। জমিদারতো উদারতা প্রদর্শন করল। কিন্তু ফলাফল……!!

    প্রজাদের কিয়াদংশ সেতু পারাপারের বদলে, সেতুর উপর নর্তনকুর্দন, যান্ত্রিক ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগিতা আর সেটাকে চিত্রায়ণ করার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। কিছু প্রজা সেতুটাকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করে, সেতুর নাট-বল্টু পরীক্ষা করেও দেখল। আর এক ধরনের প্রজা আছে, যারা সিংহ রাশির জাতক… সিংহ তার বসবাসের এলাকার মালিকানা একটা বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে গ্রহন করে…যে এলাকাটি সিংহের শিকার করার জন্য পছন্দ হবে, সেই এলাকার বিভিন্ন স্হানে প্রস্রাব নিঃসরণের মাধ্যমে সীমানা নির্ধারন করে অন্য সিংহকে সতর্ক করে দেয়……তুমি দুর হট, এই স্হান আমার, আমিই মালিক। সিংহের অনুকরনে কিছু প্রজা সেতুর উপর মুত্র বিসর্জন করে সেতুর মালিকানাকে নিজের করে নেওয়ার চেষ্টাও করল। শেষ পর্যন্ত দুজন প্রজা অতিরিক্ত উচ্ছ্বাসে পরাপারে গমন করল। যোগ্য জমিদারের যোগ্য প্রজারা যথাযোগ্য কর্মের মাধ্যমে, তাদের প্রতি জমিদারের মহানুভবতাকে স্বাগত জানালো… নাকি প্রতিশোধ নিল?

    আামি ভাবছি বেচারা জমিদারের কথা। সে কি ভেবেছিলো আর কি ঘটল!!! বেচারা জমিদারের ঐ প্রবচন বাক্যটি আওড়ানো ছাড়া আর কিইবা করার আছে।

    [এটাকে কেউ ব্যক্তিগত ভাবে নিজের ঘাড়ে না নিলে, বাধিত হব। আশা করছি রম্য রচনা হিসাবে গন্য করবেন।]

    জুনাইদ হাসান (২৮/০৬/২০২২)

    3
    6 Comments
Skip to toolbar