-
ফুলমণি
হাসনাত সৌরভ
=======================গত তিনদিন ধরে মাছ কেন প্রায় কিছুই পেটে পড়েনি ফুলমণির। তিপ্পানোর বি বাড়ি থেকে যা রোজকার উচ্ছিষ্ট পেত তাতে পেট না ভরলেও মনকে চুপ করিয়ে রাখা যেত। কিন্তু তিন দিন ধরে ওরা নেই। সম্ভবত বিয়েবাড়ি গেছে। বাজারের যা আগুন দাম, গেরস্থের কলাটা মুলোটা যে পড়ে থাকবে তার জো নেই। অগত্যা ডাস্টবিন!
কিন্তু যেগুলো পড়ে আছে সেগুলো সব খাবার অযোগ্য! সত্যিই পেলাস্টিকের দৌরাত্ম্যে বাদবাকি কিছুই আর ডাস্টবিন সাজায় না। হঠাৎ ঝুপ করে একটা শব্দ হতেই ঘোলাটে চোখ তুলে তাকালো ফুলমণি আওয়াজের দিকে।
গলি পেরিয়েই বড় রাস্তাটার মোড়ে কী যেন একটা পেলাস্টিকের মতো ঝুপ করে পড়ল। চোখ সরু করে দেখেই কেমন যেন একটা মনে হতে লাগল, পেলাস্টিকটা নড়ছে! আলো! আলো! আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে! মাছ না? হ্যাঁ মাছই তো! এখনও নড়ছে! ছুট লাগাল ফুলমণি, ওই ধ্বসে যাওয়া পাঁজর বের করা শরীর নিয়েই ছুট লাগাল ফুলমণি।
আহা মাগুর বা কই হবে! গহনের মা কালোজিরে কাঁচামরিচ দিয়ে একটা মাগুরের ঝোল বানাতো! অমিত্তোর থেকে কম নয় সেটা! গহনের মা গেছে তা প্রায় ছমাস হলো! তার সঙ্গে মাগুরের ঝোলও চলে গেছে ফুলমণির।
আর চার কদম! রাস্তাটা এসেই গেল। চিলে ছোঁ মেরে নিলে, বা কুকুরে মুখে তুললে আর দেখতে হবে না! রাস্তাঘাটে ভিখিরির সংখ্যাও তো কম নয়! হেই খোদা! আর পাঁচ সাত সেকেণ্ড যেন কেউ দেখতে না পায়! উত্তেজনায় হাঁপাতে হাঁপাতে পেলাস্টিকটাকেই পাখির চোখ করে বড় রাস্তায় ঝাঁপাল ফুলমণি!
একটা মোটরবাইক ডানদিক দিয়ে আর একটা ভ্যানরিক্সা বাঁদিক দিয়ে তেড়ে আসছিল। দেখতেও পায়নি ফুলমণি, শুনতেও পায়নি! কিন্তু কে কাকে ছাড়বে এই করতে গিয়ে দুজনেই জট পাকিয়ে গিয়ে তেড়ে গালাগাল লাগাল! ভ্যানের চাকাটা ডান হাঁটুর কাছটায় ঠুকল! লাগল বোধহয়, অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় পাস কাটিয়ে পড়ন্ত মোটবাইকের হ্যাণ্ডেলের উপর দিয়ে লাফ দিয়ে গিয়ে পৌঁছল প্যাকেটটার কাছে। খুব বাঁচান বেঁচে গেছে বোধহয়! কিন্তু সেসব দেখার সময় নেই তার। পেলাস্টিকটা তখনও খলবল করছে। পিছনে বাইকটা আর ভ্যানওলাটার গলা আর পাঁচটা জিজ্ঞাসু নজরের আওয়াজ ক্ষীণ হয়ে এসে সবুজ রঙের পেলাস্টিকটাই সারসত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য ফুলমণি পেলাস্টিকটা তুলতেই বুঝতে পারল মাছ নয় ইঁদুর। ইঁদুর? এ পাড়ায় ইঁদুর আছে নাকি? জানত না তো আগে! কিন্তু তাই সই। এ দুর্মূল্যের বাজারে ইঁদুরই রাজভোগ। পেলাস্টিকটা তুলে ঘুরতেই সম্বিত ফিরে পেল! কোমরের কাছটায় অসম্ভব ব্যথা। অত ভ্রূক্ষেপ করলে কি চলে? খুব খুব জোর বাঁচান বেঁচেছে বটে! কিন্তু তাতে কী? ইঁদুরটাকে এক ঝটকায় মেরে পেলাস্টিকটা তুলে নিয়ে খোঁড়াতে খোঁড়াতে গলির দিকে হাঁটা লাগাল ফুলমণি! বেড়ালদের যেন কটা জান থাকে?
@হাসনাতের হস্তাক্ষর
5 Comments
Friends
ফরহাদ আহমেদ
@forhad2004
সাব্বির হোসেন।
@shadowhunter3d
তাজুল ইসলাম তন্ময়
@tazulumgmail-com
শাহ্ আলম আল মুজাহিদ
@shahalam
জিকরুল ইসলাম
@zikrul
ইফতিশা খানম
@eftishakhanam
Manik Kumar Sanjowal
@manikkumarsanjowal
অসীম রহমান
@ashim_rahman
Prithula Zaman
@prithula


বেশ…চলতে থাক