Profile Photo

Mahira SOffline

  • Rahman-N-Zinnia
  • Profile picture of Mahira S

    Mahira S

    4 years ago

    গল্প- তোর কাছে আমার অনেক কথা বলার ছিল
    পর্ব-২

    আইভি বলল,
    -‘স্যার এবার কিন্তু বেশি হয়ে যাচ্ছে, এভাবে একটা মেয়ের প্রাইভেসি নষ্ট করাটা কি ঠিক হচ্ছে?’

    আইভি স্পর্শিতার দিকে তাকিয়ে দেখলো সে কনফিডেন্টলি হাতের কনুইটা দেখালো। খালি! কিছুই নেই। আইভি অবাক হলো। কিন্তু সেই সাথে স্পর্শিতার এই জিনিসটার দিকে মনোযোগেও ইম্প্রেস হলো। যাক! মেয়েটার এই দিকটাও খেয়াল আছে।

    স্পর্শিতার বাবা বলে উঠলো,

    -‘আচ্ছা, তো যা হোক। তোমার কাছে একটা জিনিস রিকুয়েস্ট করি। যদি কখনও এমন মেয়ে দেখে থাকো, প্লীজ আমাকে ইনফর্ম করবে। এই নাও আমার ভিজিটিং কার্ড। একটা বাবা কখনও মেয়ের ক্ষতি চায়না।’

    বাবা চলে গেলে আইভি শিওর হয়ে দেখে বলল তারা চলে গেছে কিনা। গাড়িটা যখন চোখের আড়াল হয়ে গেলো সে আবার শপের ভিতর এসে বলল,

    -‘চলে গেছে। এবার আমাকে বলো তো কি হয়েছে?’

    মাথার ওড়নার প্যাঁচগুলো খুলতে খুলতে উত্তর দিলো,

    -‘আসলে আমি নিজেও জানিনা। সব কিছু উলট পালট লাগছে আমার কাছে। ৩ মাস আগে যখন চোখ খুলি তখন কিছুই চিনতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছিল অনেক লম্বা ঘুম থেকে উঠেছি। কিন্তু যখন উনাদের দেখতে পেলাম, উনারা বলল আমার বাবা মা। আমি আরও দুই মাস নাকি হসপিটালে ছিলাম এভাবেই ঘুমিয়ে। কিন্তু কেন বা কি হয়েছিল আগে তা কিছুই মনে নেই। তারপর আস্তে আস্তে তাদেরকে বাবা মা হিসেবে মেনে নিলাম, কারণ বাবা মা ছাড়া কেউই এত খরচ করবেনা বা এত কিছু কিনে দিবেনা। মনে হয় নতুন সদ্য জন্ম নেওয়া বাচ্চার জন্য যেমন অনেক কিছু কিনে দেয়, আমি কিছু বললেই আমাকে দেয়। তারপর এখন একটু সুস্থ হয়েছি, কিন্তু তারা আমাকে বিয়ের তাড়া দিচ্ছে। আমি চাচ্ছিনা করতে। তাও জোড় করছে। আমার নাকি বয়স পার হয়ে যাচ্ছে, আরও কত কিছু।’

    -‘ওহ, এই জন্যই তুমি এভাবে ভেগে এলে।’

    -‘হ্যাঁ, শুনো আইভি। আমি তোমার ঋণ সব শোধ করে দিবো, প্লীজ আমাকে এখানে বা কোনো একটা জায়গায় জব খুঁজে দাও। আমাকে একটু কাজ শিখিয়ে দিলেই আমি পারবো। প্লীজ আইভি। আমি উনাদের কাছে আর যেতে চাইনা। নিজের খরচ নিজেই চালাবো।’

    প্রায় কাঁদো কাঁদো অবস্থায় কথাটা শেষ করলো সে।

    -‘দেখ, এই দোকান আমার না। আমার ভাইয়ের মেইনলি। সো, চাইলেই তোমাকে এখানে কাজ দিতে পারবোনা। কারণ এর সবই আমার ভাইয়ের হাতে। আমি শুধু এখানে মাঝে মাঝে ফ্রী টাইমটায় বসি।’

    কিছুক্ষণ পরেই একটা মহিলা শপটায় ঢুকলো। ক্যাশ কাউন্টারের অপর পাশে যেয়ে একটা প্রায় অলক্ষিত একটা দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে গেলো, স্পর্শিতার উপস্থিতি খেয়াল করেনি।

    বাহিরে আবার হাঁটার আওয়াজ শুনা গেলো। ভেতরে একটা লোক ঢুকলো। বয়েস পঁচিশ বা ছাব্বিশ হবে।

    ছেলেটা কথা বলতে বলতেই ঢুকলো,

    -‘মা, আমার একটা অ্যাসিস্ট্যান্ট লাগবে। তুমি কেন হেল্প করছো না আমাকে?’

    রুমের ভেতর থেকে মা চেঁচিয়ে বলল,

    -‘ওরে আমার শুভ্র, তোকে না বললাম একটা মেয়ে পেয়েছি সব কাজ করতে ইচ্ছুক।’

    শুভ্র মুড অফ করে বলল,

    -‘ওরে আমার মা, তোমাকে না আমি বললাম আমি মেয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট রাখতে চাইনা।’

    আইভি তাকে দেখে গলা খাঁকারি দিয়ে তার অ্যাটেনশনটা নেওয়ার চেষ্টা করলো। এদিকে তাকানোর সাথে সাথেই স্পর্শিতার কেমন যেন একটা ফিলিং আসলো। সে নিজেও জানেনা কেন। মনে হচ্ছে ওর হার্ট একটা বিট মিস করেছে।

    আইভি ইশারা দিলো স্পর্শিতার দিকে। স্পর্শিতা যত দ্রুত সম্ভব চোখ নামিয়ে ফেলল। শুভ্র প্রথমে তাকে চিনতে পারে নি।

    জিজ্ঞেস করলো,

    -‘উনি কে? এত রাতে এখানে কি করছে? কাস্টোমার এই সময়টা আসতে পারবেনা তুমি বলোনি?’

    আইভি আবার ইশারা দিয়ে কিছু একটা বোঝালো।

    সে কাউন্টার টেবিলে একটু ঝুঁকে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বলল,

    -‘এক্সকিউজ মি?’

    মেয়েটা নার্ভাস হয়ে তাকালো তার দিকে।

    মাথা হালকা উঠাতে উঠাতে বলল,

    -‘জ~ জ্বি?’
    এই জিজ্ঞেস করে সাথে সাথে মাথা নামিয়ে ফেলল লজ্জ্বায়।
    ওর চেহারা দেখা মাত্রই হঠাৎ থমকে দাঁড়ালো শুভ্র। রাতের এই স্তব্ধতার মাঝে, রাস্তায় কোনো কোলাহল নেই, মাঝে মাঝে দু-একটা গাড়ির হর্ণ বেজে উঠে। কিন্তু এই দুটি হৃদয়ের সেই থমকে যাওয়া সময়টা কেউ টের পায়না।
    পাশে থেকে আইভি চেঁচিয়ে উঠলো,
    -‘অ্যাঁই ভাইয়া। কি হলো?’

    শুভ্র বাস্তবে ফিরে এসে বলল,
    -‘হ্যাঁ? ওহ না কিছুনা।’
    শুভ্রর চোখটা না চাইতেও স্পর্শিতার গলার দিকে চলে এলো। সে নিজেও জানেনা কেন তাকিয়েছে সে।
    তিলটা দেখতেই সে আরও বেশি উৎফুল্ল হলো মনে মনে।

    ********
    বিয়ের ৭ দিন পর,
    শুভ্র আর স্পর্শিতা এখনও নিজেরদেরকে মানিয়ে নেওয়ার হিমশিম খাচ্ছে।
    সবার সামনে ভদ্র।
    কিন্তু আলাদা হলে একে অপরের থেকে ১০ হাত দূরে থাকে।
    স্পর্শিতা এখনও শুভ্রর সাথে রাগ করে আছে সেদিনের জন্যে। কিন্তু স্পর্শিতা শুভ্রকে ক্ষমা করতো যদি সে মন থেকে সেটার ব্যাপারে সরি বলতো। কিন্তু শুভ্র কথাই বলেনা। কথা ইচ্ছে করেই বলেনা নাকি বলার কিছু পায়না সেটা শুধু শুভ্রই জানে।

    দুপুর ১২টা বাজে, স্পর্শিতা গোসল থেকে এসে চুল খুলে ফ্যানের নিচে বসে আছে। শুভ্রর ড্রেসিং টেবিলে হঠাৎ একটা ছোট্ট কম্পাস দেখতে পেলো। আস্তে আস্তে যেয়ে সেটা হাতে নিয়ে পরখ করে দেখছে। একটা ছোট্ট বাটনে চাপতেই কম্পাস খুলে গেলো। কিন্তু সে হতবাক হলো। এটা কম্পাস না। ঘড়ি ছিল। দেখতে পুরানো মনে হলেও এখনও উজ্জ্বলিত হয়ে আছে। ঘড়িটার পিছনে খোদাই করে লিখা-

    “যেখানেই থাকো, যেভাবেই থাকো, আমি তোমার সাথেই থাকবো মৃত্যুর আগ পর্যন্ত

    -from DDV”

    স্পর্শিতা ভাবলো এটা নিশ্চয় শুভ্রর প্রাক্তনের দেওয়া গিফট।
    স্পর্শিতা বেখেয়ালে বলে ফেলল,
    -‘এহ, নেকামো কত্ত। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নাকি থাকবে। তো আমার সাথে এই বান্দার বিয়ে হলো কেন? সেই ডিডিভি নামের মেয়ের সাথেই হইতো!’
    শুভ্র বাহির থেকে এসে হুট করে রুমে ঢুকে আর স্পর্শিতার কথা শুনে ফেলে সব।

    4
    1 Comment
Skip to toolbar