Profile Photo

Mahira SOffline

  • Rahman-N-Zinnia
  • Profile picture of Mahira S

    Mahira S

    3 years, 9 months ago

    গল্প- তোর কাছে আমার অনেক কথা বলার ছিল
    পর্ব-৩
    কথাটাটুকু শুনে শুভ্রর একটু রাগ হলো।

    স্পর্শিতা শুভ্রকে দেখার সাথে সাথেই ঘড়িটা লুকিয়ে ফেলল, তার খেয়ালই নেই শুভ্র যে তার কথা শুনে ফেলেছে।

    শুভ্র জেনেও না জানার ভান করে জিজ্ঞেস করলো,

    -‘হাতে কি?’

    একবার ড্রেসিং টেবিলের দিকে তাকিয়ে আবার স্পর্শিতার দিকে তাকালো।

    -‘আমার ঘড়ি কোথায়?’

    -‘ম~ মানে?’

    স্পর্শিতার মাথা কাজ না করায় এই প্রশ্ন করে বসলো। শুভ্র যতই সামনে এগোচ্ছে স্পর্শিতা ততই পেছনে যাচ্ছে। জানালার পাশের দেয়ালের সামনে এসে স্পর্শিতা আটকে যায়। হাতটা এখনও পিছনে, হাতে ঘড়িটা।

    শুভ্র তাকে ভয় দেখানোর জন্য একটু রাগি চেহারা নিয়ে বলল,

    -‘আমার ঘড়িটা দিয়ে দিন।’

    স্পর্শিতার মাথা এখনও কাজ করছেনা। তোতলাতে শুরু করে দিয়েছে।

    শুভ্র স্পর্শিতার থেকে ১০ ইঞ্চি দূরে দাঁড়িয়ে বলল,

    -‘ভালোয় ভালোয় দিয়ে দিন, খারাপ হবে কিন্তু।’

    স্পর্শিতা চোখাচোখি করতে চাচ্ছেনা না তাই আশে পাশে তাকাতে থাকলো।

    শুভ্র খেয়াল করলো ভেজা চুল থেকে এক ফোঁটা পানি তার গলার তিলটার কাছে পড়ে আছে। কিছু মুহুর্ত শুভ্র চুপ হয়ে ছিল। কোনো কথা না বলেই হাতটা ঘাড়ে স্পর্শ করে তার বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে পানিটা মুছে দিলো।

    স্পর্শিতা একটু থমকে গেলো। পরক্ষণেই শুভ্র হাতটা সরিয়ে নিয়ে তোতলাতে শুরু করলো,

    -‘আ ইয়ে মানে ও~ ওই ওই তিলটা দিয়ে দিন। ধুরু, কি বলে ওটাকে, ঘ~ ঘড়িটা দিয়ে দিন।’

    শুভ্র স্পর্শিতার গায়ে যাতে টাচ না লাগে তাই এমন ভাবে তার ড্রেসের হাতাটা টেনে হাতটা সামনের দিকে এনে ঘড়িটা নিয়ে নিলো।

    এরপর কিছু না বলেই সে বাথরুমে ঢুকে গেলো।

    আইভির ডাকে আবার ভাবনা থেকে ফিরে এলো সে। আইভি টপিক চেঞ্জ করে বলল,

    -‘ভাইয়া, মিটিংয়ে কোনো প্রব্লেম হলো নাকি আবার? এত টেনশনে আছিস কেন? সেই কখন থেকে অন্যমনস্ক হয়ে আছ। সে যে কিছু একটা বলল এটা কি মাথায় ঢুকেছে তো?’

    -‘সরি, আজকে কাজের চাপ বেশি ছিল তো তাই আর কি অন্যমনস্ক হয়ে ছিলাম। তো বলেন ম্যাডাম, কি বলছিলেন? আচ্ছা তার আগে বলুন তো আপনি এতদিন কোথায় ছিলেন?’

    স্পর্শিতা অবাক হয়ে পালটা প্রশ্ন করলো,

    -‘ক~ কোথায় ছিলাম মানে?’

    আইভি বলল,

    -‘ভাইয়া, আজাইরা আলাপ রেখে সে কি বলতে চায় শুনো। আর গেটটা লাগিয়ে নাও আগে। যে কোনো সময় কাহিনীর ভিলেন এসে পড়তে পারে।’

    স্পর্শিতা ভাবলো আইভির কথায় যুক্তি আছে, কিন্তু লোকটা কি আবোল-তাবোল জিজ্ঞেস করছে?’

    শপের মেইন গেটটা লাগিয়ে নিয়ে শুভ্র আবার জিজ্ঞেস করলো তার এখানে এত রাতে আসার কারণ।

    আইভি বলল,

    -‘ভাইয়া, মাত্র এসেছে। একটু সময় দাও ওকে। হুট করে কীভাবে বলবে? আমাদের সাথে মিশার টাইম তো লাগবে।’

    স্পর্শিতা এই কথাটা শুনে একটু শান্তি পেলো। জোড়ে নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল,

    -‘আসলে আইভি ঠিকই বলেছে। আমার মাথা কাজ করছেনা। আমাকে সব কিছু সর্ট আওট করতে একটু টাইম লাগবে। আমি শুধু একটা জিনিস বলতে পারি, আমার ফ্যামিলি আমাকে বিয়ের চাপ দিচ্ছিল তাই চলে এসেছি বাসা থেকে। আমি একটা ছোট্ট অনুরোধ করি। আমাকে প্লীজ একটা জব দিন। আমি আপনাদের ঋণ শোধ করে দিব, সত্যি। আমাকে প্লীজ একটা জব খুঁজে দিন।’

    শুভ্রর প্র্যাঙ্ক করার স্বভাবটা আবার ফিরে এলো। মনের খুশিতে সে বলল,

    -‘সরি ম্যাডাম, আমি এখন আপনাকে কোনো জব দিতে পারবো না। আমার এখানে বর্তমানে কোনো লোক নিচ্ছিনা। আর আগামি কয়েক মাস নেওয়ার প্রয়োজনও পড়বেনা।’

    স্পর্শিতা তার সামনে যেয়ে বলল,

    -‘প্লীজ স্যার। প্লীজ, একটু বুঝুন অবস্থাটা। বাবা মায়ের বাসা থেকে বের হয়েছি তার মানে নিজেকে নিজের পেট চালাতে হবে। দরকার হলে আমি এখানে প্রতিদিন পরিষ্কারের কাজ করবো, নাহয় ওয়েট্রেস হয়ে কাজ করবো। প্লীজ স্যার। আমি ভিক্ষা চাচ্ছিনা, অনুরোধ করছি। যেভাবেই হোক একটা জব দিন আমাকে, আমাকে একটু শিখিয়ে দিলেই পারবো। আমার বেশি বেতন লাগবে না, দরকার হলে আমার বেতন থেকে কিছু টাকা কেটে নিন, যাতে আপনাদের ঋণ শোধ করতে পারি। প্লীজ স্যার।’

    শুভ্র মনে মনে বলল,

    -‘অ্যাঁই পাগলী, তোর মনে হয় আমি তোকে এখানে ঘর মোছা আর পরিষ্কার রাখার কাজ করতে দেবো? এসব তোকে আমি কখনও করতে দেবো না।’

    শুভ্র ভাবলো এই মেয়েটা এমনেই অনেক কষ্টে ছিল, আর কষ্ট না দেই। সাথে সাথে বলে ফেলল,

    -‘আচ্ছা একটু ভেবে দেখি আমি, কি করা যায়।’

    শুভ্র সেই রুমটায় চলে গেলো যেখানে ওর মা ছিল।

    আইভি বলল,

    -‘আপু, তুমি একটু এখানে বসো। আমি ওই রুমেই আছি, কিছু লাগলে বলবে। আর কেউ আসলে তুমি খুলোনা কিন্তু, আমাদের এখানে এসে নক দিলেই হবে।’

    -‘আচ্ছা।’

    আইভি শুভ্রর পেছন পেছন দৌড় দিলো।

    রুমে ঢুকে শুভ্র একটু ড্রামাটিক ভাব নিয়ে মায়ের বসে থাকা চেয়ারটার পিছনে যেয়ে কাঁধ মাসাজ করে দিয়ে বলল,

    -‘মা, মাগো। আম্মাজান, আমার কলিজার টুকরা।’

    -‘কি এখন এত তেলাচ্ছিস কেন? কি লাগবে?’

    -‘ছোট্ট একটা ফেভার।’

    -‘কি আবার?’

    -‘আর কখনও বলবোনা অ্যাসিস্ট্যান্ট খুঁজতে, আর লাগবেনা।’

    -‘মানে? এতদিন ধরে আমার সাথে চিৎকার করে দুনিয়া উলটে দিচ্ছিলি, আজ হঠাৎ রাতারাতি মাইন্ড চেঞ্জ হয়ে গেলো?’

    -‘না মানে, আমার যাকে লাগবে আমি পেয়েছি, তাই বললাম। অ্যাসিস্ট্যান্ট আর লাগবেনা। সে হলেই চলবে আমার।’

    আইভির দিকে তাকিয়ে ধমক দিয়ে বলল,

    -‘অ্যাঁই, তুই ওকে একা রেখে এসেছিস কেন?’

    -‘বলে দিয়েছি যাতে কেউ আসলে গেট না খুলতে যায়। কিছু লাগলে ডাক দিতে।’

    মা বলে উঠলো,

    -‘ও মানে? কে? আমাদের সাথে কেউ আছে নাকি?’

    -‘হ্যাঁ মা, তুমি দেখনি?’

    -‘না তো, কে সে? দেখ তোরা আমার ধৈর্যের পরীক্ষা করিস না।’

    শুভ্র বলল,

    -‘তোমার ছেলের বউ।’

    5
    6 Comments
Skip to toolbar