-
জীবনের কথা
মাঝে মাঝে গূরত্বপূর্ণ কারণ ছাড়াই মনটা খারাপ হয়ে যায়। যখন গভীরভাবে কারণ অনুসন্ধান করি, তখন হয়ত বুঝতে পারি বিষন্নতার কারণ। কিন্তু এমন কিছু কারণ থাকে, যেটা বড়ই
দ্ভূত। সৃষ্টিকর্তা অন্তর্যামী। তিনিই সব কিছুর সমাধান করে দিতে পারেন। সেই সুবর্ণ সময়ের প্রতীক্ষায় রইলাম।
এ মূহূর্তে মনে পড়ে যায় আব্বার কথা। মন খারাপ হলে আব্বার সাথে শেয়ার করা যেত। আব্বার মত করে এমন মমতামাখা গভীর উপলব্ধিময় সুরে কেউ বোঝাতে পারতেন না। সময়ের চাকায় দেখতে দেখতে ছয়টি বৎসর অতিক্রান্ত হয়ে গেল। স্মৃতির আয়নায় এখনও প্রায় স্পষ্টরূপে প্রতিভাত হয় । ২০১৬ সালের ২৭ জুলাই দিবাগত রাত চারটার দিকে অর্থাৎ ২৮ জুলাই, ২০১৬ তে আব্বা আমাদের ছেড়ে এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। বড় নির্মম ছিল সেই বিষন্ন প্রহরগুলো।
আব্বা যখন ছিলেন, আমাদের পরিমন্ডল পূর্ণ ছিল। বটবৃক্ষের মত শীতল ছায়া হয়ে তিনি আমাদের দু:খগুলো, বোঝাগুলো সমানুপাতে বহন করে সেগুলো হ্রাস করার চেষ্টা করতেন। ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত ধর্মীয় অনুশাসনের সাথে সাথে মধ্যম ছন্দের আবহে বড় হয়েছি আমরা। যে কারও জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকী ,ঈদ , পহেলা বৈশাখ , আব্বা আম্মার বিবাহ বার্ষিকী তে আমাদের বাসায় নিজস্ব পরিবেশে চলত তিন ভাইবোন ও পরিবারমন্ডলীসহ উৎসবমূখর আমেজ। বড় মধুর ছিল সেইদিনগুলো । অফিস থেকে এসে প্রায় রোজই আব্বা আম্মার সাথে দেখা করে যেতাম । এখন প্রতি বছরই দিবসগুলো অনেকটা অনাড়ম্বরহীনভাবে অতিবাহিত হয়ে যায়। তবুও আম্মাকে আমরা তিনভাইবোন যথাসম্ভব হাসিখুশী রাখার চেষ্টা করি।আজ মাঝে মাঝে নিজেকে অনেক অসহায়, অপরাধী আর একাকী মনে হয়। আব্বাকে যতখানি সময় দেয়া উচীৎ ছিল ততখানি দিতে পারিনাই বিধায় বুকের মাঝে অনেক কষ্ট অনুভূত হয়। আব্বা যখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ছিলেন, তখনও যখন তখন অফিস থেকে ছুটে যেতে পারিনি আব্বার কাছে, বা বসতে পারিনি অনেকক্ষন সময় ধরে। জীবিকার কর্তব্যপরায়নতার কাছে পারিবারিক কর্তব্যপরায়নতা অনেক সময়ই অসহায় হয়ে যায়। পরমকরুনাময় আল্লাহপাক আব্বাকে যেন জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন। রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বা ইয়ানি সাগিরা।
আমরা জানি আমরা সবাই দায়িত্ববান ও সংযত। তবু মানুষ মাত্রই ভুল করে। তাই, আমার আজকে এখানে এ কথা লেখার উদ্দেশ্য হল, আমাদের নিজস্ব বলয়ের কর্মব্যস্ততাপূর্ণ জীবনে হাজার ব্যস্ততার তরঙ্গেও সম্ভব হলে আমরা যেন আমাদের মমতাময়ী পিতামাতার কাছে কিছু প্রহরের জন্য হলেও ছুটে যাই, তাদের পাশে বসে তাদের সুখ দু:খের কথাগুলো শুনি। জীবনের শেষ প্রহরে তাঁরা অনেক নি:সঙ্গ বোধ করেন। হয়তো তাঁরা অনেকসময় শিশুসুলভ আচরণ করেন। তাদের এই মূহূর্তগুলো যত বেশী পারি আমরা যেন মধুর সঙ্গে ভরিয়ে তুলি । কখনো কোন এতটুকু বিরক্তি প্রকাশ না করি।যাঁরা এই সূযোগটি পাবেন, তারা যেন এই সূযোগটি যথাযথভাবে কাজে লাগান। সকলের জন্য অকৃত্তিম শুভ কামনা।7 Comments
Friends
ফারুক আব্দুল্লাহ - Faruq Abdullah
@faruq-abdullah
আব্দুল মজিদ মারুফ
@abdulmojid
ফারহাত আহমেদ
@farhat-ahmed
Himel Paul
@himel1881
S.M ROBEL
@smrobel
মেহেদি হাসান রাশিক
@mehedi-hasan-rashik
SHABBIR AHAMED
@shabbir
রক্তিম জয়
@racktimjoy
Ishrat Jahan
@ishratjahan



মনখারাপের সময় গান শুনুন।
নিজের কথা নিজেই বলুন।
অভিনন্দন রইল