Profile Photo

Md.Rekayet Hossain DhruboOffline

  • Rekayet45
  • Profile picture of Md.Rekayet Hossain Dhrubo

    Md.Rekayet Hossain Dhrubo

    3 years, 10 months ago

    রাত ১২ঃ০৫ মিনিট। গ্রামে এই সময় অধিকাংশ মানুষ ঘুমালেও শহরে তার ব্যতিক্রম। তবে বর্তমানে শহরের মানুষও তারাতাড়ি ঘুমায়। বাইরে যাওয়া, আড্ডা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই।সবাই অদৃশ্য বস্তুর ভয়ে কাতর।তার নাম নভেল করোনা ভাইরাস।
    এই রাতে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে সুরুজ আলী ও তার বড় ছেলে সবুজ।দুইজনের দেহই হাড্ডিসার। সুরুজ আলীর দাঁড়িতে পাক ধরেছে,ছেলের মুখে মাত্র গোঁফের রেখা দৃশমান।দুইজন অতি সাবধানে এবং সুক্ষ্ম দৃষ্টিতে হেঁটে চলেছে। সন্ধানে রয়েছে একটি খালি বাড়ির।

    রাস্তায় দু-একটা কুকুর ছাড়া আর কেউ নেই।
    সুরুজ আলীর এই রাস্তা অতি পরিচিত। লকডাউনের আগে গ্রাম থেকে সবজি এনে এই রাস্তায় বিক্রিই ছিল তার আয়ের উৎস। এই প্রথম তার সাথে তার ছেলে এসেছে। সবুজ রাতের শহর দেখেও অবাক।তাদের গ্রামে এমন পাকা রাস্তা, ল্যাম্পপোস্ট নেই।পাকা দালান রয়েছে তবে এতো সুউচ্চ নয়।তাদের গ্রামে ছাদ ওয়ালা দু-তলা বাড়ি শুধু চেয়ারম্যানের রয়েছে। সবুজের অনেকদিনের ইচ্ছে পাকা দালানে থাকার,কিন্তু গরীব বলে তার ইচ্ছে ইচ্ছেই রয়ে গেছে।

    অবশেষে একটি খালি বাড়ি পাওয়া গেল।তিন-তলা নীল রঙের বাড়ি।বাড়ি সম্পুর্ন অন্ধকার দেখেই সুরুজ আলী ভেবে নিয়েছে বাড়িটা ফাঁকা।
    সুরুজ আলীঃ তুই গেইটে খাড়া আমি আইতাছি।
    সবুজঃআব্বা আমি ভিতরে যামু।
    সুরুজ আলীঃ তুই পাইবি নাহ।ধরা পরলে মাইর খাওন লাগবো।
    সবুজঃ নাহ আব্বা আমি পারমু।
    সবুজের চুরির থেকেও বড় উদ্দেশ্য ছিল পাকা দালান ভিতর থেকে দেখার।
    সুরুজ আলীঃ তুই তালা ভাঙবার পাইবি?
    সবুজঃইট দিয়া বারি দিমু আব্বা।
    সুরুজ আলীঃ যা তাইলে, তিন-তালাত যাবি।
    সবুজ বাড়ির দেয়াল টপকে ভিতরে ঢুকলো সুরুজ আলী মেইন গেইটে দাঁড়িয়ে।

    সবুজ ইট দিয়ে গোটা পাঁচেক বারি দিতেই তালা ভেঙে যায়।
    সবুজ ঘরে ঢুকার পর অবাক।
    ঘরে টিভি, ফ্রিজ, টেলিফোন সবই রয়েছে। টিভি, ফ্রিজের আকার ওদের গ্রামের আকবর মিয়ার দোকানের গুলো থেকে অনেক বড়। সবুজের ইচ্ছে করছে টিভি, ফ্রিজ সাথে নিয়ে নিতে।কিন্তু সুরুজ আলীর কঠিন নির্দেশ রয়েছে শুধু টাকা চুরি করার।
    আলমিরা আর বিছানার তোষকের নিচ থেকে প্রায় বিশ হাজার টাকা পেল।
    সব কাজ শেষ তাই সবুজের মুখে হাসি।এখন তাদের বাড়ি ফিরার পালা।

    নিচে নামার সময় দেখলো সিড়িতে একটি মেয়ে বসে আছে।সবুজ দেখা মাত্রই আবার উপরে উঠে গেল।
    সবুজের মনে এখন একটিই প্রশ্ন ধরা পড়লে কি হবে?
    সবুজ শুনেছে পুলিশ নাকি অনেক মারে।
    হঠাৎ সবুজ কান্নার শব্দ শুনতে পেল।মনে হলো মেয়েটি কান্না করছে।
    সবুজ মনে সাহস নিয়ে মেয়েটির কাছে গেল।
    সবুজঃতুমি কানতাসো কে?
    মেয়েঃআফনি কেডা?
    সবুজঃআমি উপরের বাড়িত কাম করি।
    মেয়েঃআফনেরে ত আগে দেখছিনা।
    সবুজঃআমারে নতুন কামে রাখছে কয়দিন অইলো।তুমি কানতাসো কে আগে এইডা কও।
    মেয়েঃআমার মায়ের অসুখ।পেডো বেদনা।ডাক্তর কইছে পেডো পাত্তর অইছে।অপারেশন করানি লাগবো। মালিক বাড়িত নাই এহন আমি টেকা কই পাই।অপারেশন না করাইলে মা মইরা যাইবো।
    সবুজের খুব মায়া হলো সবুজের মা চার বছর আগে মারা গেছে।
    সবুজঃআমার মালিকের কয়ডা টেকা আমার কাছে আছে।পরে তোমার মালিক আইলে আমার মালিকরে
    ফিরত দিয়া দিয়ো।

    মেয়েটিকে টাকাগুলো দিয়ে সবুজ নিচে নেমে এলো।
    সুরুজ আলীঃ আইসোস বাজান।এতো দেরি করলি ক্যান?
    সবুজঃ আব্বা তালা ভাঙতে দেরি অইয়া গেছিল।অনেক দামি তালা।
    সুরুজ আলীঃ তা কি পাইলি ভিতরের তে?
    সবুজঃ কিছুই নাহ আব্বা।
    সুরুজ আলীঃ হায় হায়।অহন তাইলে কি করমু আমি?কালকার মধ্যে চেয়ারম্যানের ঋণ শোধ করুন লাগবো নাইলে বাড়ি ভিডা তে বাইর কইরা দিবো।
    সবুজঃতাইলে আব্বা আও আরেক বাড়িত যাই।

    সুরুজ আলী কি ঋণ দিতে পেরেছিল নাকি পুলিশের হাতে মার খেয়েছিলো তা আমি জানি নাহ।
    গল্পঃ ঋণ
    লেখকঃমো: রিকায়েত হোসেন ধ্রুব

    4
    2 Comments
Skip to toolbar