Profile Photo

Anup DeyOffline

  • Anup-Dey
  • Profile picture of Anup Dey

    Anup Dey

    • 4 years, 1 month ago

    আজকে মা’–কে খুব মনে পড়ছে….

    সকাল থেকে চোখের সামনে আমার ছোটবেলা, আমার মাকে ছবির মতো দেখতে পাচ্ছিলাম।আমার শিশুবেলা মানেইতো আমার মা! দেখতে পাচ্ছি- মা আমাকে অক্ষর জ্ঞানের সাথে পরিচয় করে দিচ্ছে।মা বলতো– সুতো-লিপি পড়া।আমি মা’র কাছে শিখে নিচ্ছি;

    আমি এক সাধারণ মানুষ। আমার মাও সাধারণ একজন।
    শুধু ভালো ভাবে বুঝেছি, আমার মা আমার জন্ম ঋণের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। নিজেকে যখন আজো আমি আয়নায় দেখি;–
    বোধ করি মাথানত অপার কৃতজ্ঞতা-মায়ের জন্য… কিন্ত কঠিন বাস্তবতায় মায়েরা ও গল্পের মায়েরা কেমন হয়? এই মিশ্র অনুভূতি ও আগ্রহ থেকে এ গল্প লেখা এগিয়ে গেছে। নাম— ‘মা’।

    <<<>>><>>>>><<<

    ~মা~

    ওই যে শাদা মেঘ– শরতের নীলাকাশে; বৃষ্টিধারায় কতোবার যে অগুণতি ফোঁটার স্বাদ নিয়েছি জিভে চেখে। ডিমের কুসুমের মতোন শেষ বিকেলে সূর্যের হাসি; ঋতুর যাতায়াতে প্রকৃতির রুপ বৈচিত্র্য! বসন্তকাল তার অজস্র রঙিন ফুল ফুলের সুগন্ধি,
    প্রতি সন্ধ্যাবেলা, মধ্যরাতের জ্যোৎস্নার আলো, গভীর রাত্রির মহিমা, ভোর সকালে শিউলি তলার সুগন্ধ, দিনের বেলায় সূর্যের সতেজ আলোয় সবুজ পাতার মাখামাখি; আঁকা ছবির মতো নদীপারে বাতাসের ছোটাছুটির আনন্দ! এই সব আরো কতো কি দেখে -শুনে-বোঝে সুখ পেতাম ছোটবেলাতে!
    —-কেননা আমি পৃথিবীতে জন্ম নিয়েছি বলে।
    আবার বড়োবেলায় এসে,-
    চোখের সামনে দেখেছি অপার প্রকৃতি; মানুষের সৃষ্টিশীলতা; বেঁচে থাকার লাভ-লোকসান; সামাজিক অর্জন; পরিচিতি; প্রতিষ্ঠা অথবা যা কিছু এবং এই আমি বা আমরা আমাদেরই মায়ের দশ মাসের নিঃশব্দ কষ্টো ও অন্তরের সুখের ফসল।
    নিকষ ঘনকালো অন্ধকার জরায়ু নামক কুঠুরিতে স্বযত্নে লালন ও ভূমিষ্ঠ হবার পরে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মমতায় এক দশকেরও বেশি সময়কাল ব্যাপি প্রতিপালন; কোনো রকমের প্রতিদান বিহীনভাবে,-
    —ভাবা যায়!
    আমাদের মা, এই মা এই শব্দটি সর্বাধিক উচ্চারিত এক নাম! বিশ্বের সব ভাষাতে এই নামটির ওজন গুরুত্ব মান মমত্ব ও আবেগের আবেদন একই! হয়তো আমি এগারো কি বারো মাস বয়স থেকে মা ডাকতে শুরু করেছিলাম।হয়তো আমার মা, আমি যখন প্রথম মাটির উপরে অতি কোমল দোদুল্যমান পা দুটি ফেলে গুটি গুটি হাঁটছি, আমার মা সেইদিকে সুখী মুখে তাকিয়ে দেখতো! এই অনন্য প্রকৃতির অনন্য এক অবদান মায়ের দুধ, স্তন্যপায়ী শিশুরা সবচেয়ে নিশ্চিন্তে যা পান করে বড়ো হতে থাকে।…
    দশ বা এগারো বছর বয়সে একদিন ঝড়ের রাতে আমার খুউব শীত শীত করছিলো।কুঁকড়ে শুয়ে আছি, গায়ে শীত মানার কোনো কাঁথা নেই।ঘুমের ঘোরে এক সময়ে মনে হলো আর শীত লাগছে না– মা কখন যে নিঃশব্দে এসে গায়ের উপর কাঁথা এনে দিয়ে গেছে! একটু বড়ো হয়ে পরীক্ষার পড়া মুখস্থ করে করে যখন নিজের ভেতর শূণ্য শূণ্য লাগতো, কিছু আর ভালো লাগতো না, মা এসে কাছে যখন বসতো আমি ভুলে যেতাম আমার শূণ্যতাবোধ! পরীক্ষার দুঃশ্চিন্তা মেশানো চাপ নিজেকে একাকী করে তোলে, মায়ের মমতার সঙ্গ সেই দুর্ভাবনা দূরে টেলে দিতো!– আরো একটু বড়ো হয়ে ইস্কুল পার করে কলেজে যখন গেছি– মায়ের সঙ্গে কিছুটা দূরত্ব বাড়ে… প্রত্যক্ষ মমতা কমতে থাকে।লেখাপড়া শেষ করে কর্মযজ্ঞে যখন ঢুকে পড়ি তখন আরো একটু করে বাড়ে দূরত্ব, হ্যাঁ মায়ের সঙ্গে!– এরপরে—-
    জীবন চক্রের নিয়মে মায়ের ইচ্ছাই বৈবাহিক সম্পর্কে যখন আমি জড়াই এবং যোগ হয় একজন নতুন সঙ্গিনী– আমি থেকে এখন আমরা হয়েছি…
    মায়ের সঙ্গে আরো দূরত্ব তৈরি হয়।কর্মব্যস্ততা, বাস্তবের সংসার, ঝুট ঝামেলা আরো কতো কি আমাকে পেয়ে বসে… তবু মা, আমাকে দূর থেকে দেখে।চোখাচোখি হতে থাকে।খুব কাছ দিয়ে যাওযার সময় জানতে চাই– ‘বাবারে, কেমন আছিস, শরীরটা ভালো আছেতো?’ আমার বড়ো হয়ে যাওয়ার দম্ভ বা অভিমান, আমাকে পিছন থেকে টেনে ধরে, শুধু বলি- ‘সব ভালো আছে।’ কেবল আগ বাড়িয়ে জানতে চাইনি;-
    —‘তুমি কেমন আছো মা?’
    যেদিন সত্যি সত্যি আমাদের বাবা চিরদিনের জন্য পরপারের যাত্রী হলেন, বুঝেছিলাম এই ভুবনে শতভাগ বিশ্বাস করার মতো একটি ব্যাপার রয়েছে যে, একদিন আমরা কেউ বেঁচে থাকবো না! আমার বাবার মৃত্যুর পরে আমার মা খুব একেলা হয়ে পড়ে এবং সব কিছুর বাইরে পড়ে যায়… আমার মা যে আছে সেটাও ভূলতে থাকি; নগর বাস্তবতার প্রাণহীন বিষময় জীবন যাপনে আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলি! মাকে হারায় তারও আগে।
    পঞ্চাশ পেরোনো আমি—
    এক মধ্যরাত্রিতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে, উঠে আমি দেয়ালের এক কোণে অযত্ন, আঁধার আর অকৃতজ্ঞ ভাবে ঝোলানো মায়ের ছবিটার সামনে এসে দাঁড়াই।হাত বাড়িয়ে মায়ের মুখটা মুছে দিই, মনে হলো মায়ের চোখগুলো যেনো ভেজা… ছবিটি নামিয়ে আলোতে আনি।ভালো করে দেখার চেষ্টা করি, মা কি কাঁদছে?…
    এবার পুরো ছবিই ঝাপসা দেখছি! হাত দিয়ে ভালো মতো মোছার চেষ্টা করি; এতোক্ষণ খেয়ালই করা হয়নি আমারই টপ টপ করে পড়া চোখের জলে মায়ের চোখ দুটো ভিজে যাচ্ছিলো!

    [ গল্প ]

    5
    6 Comments
    • মায়ের মত আপন কেহো নাই।

    • সময়ের সাথে আমরা নিজেদের নিয়ে এগিয়ে যাই আর পেছনে পরে যায় মা তার এক পাহাড় ভালোবাসা নিয়ে। আমাদের একটু সময়ই শুধু তাদের তখন কাম্য।

    • গল্পের শেষে আমারো দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে এলো! এক নিখাদ শূন্যতার মাঝে হাহাকার করে উঠল মনটা! হয়ত গল্পের বাকে নিজেকে খুঁজে পেয়েছি তাই এই শূন্যতা, তাই এত আবেগ নাড়া দিয়ে গেল মনে! ভালোবাসা নেবেন লেখকপ্রিয়!

      • প্রিয় সজীব, গল্পপাঠ শেষে তোমার নির্মল অনুভূতি প্রকাশের জন্য তোমাকে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।

    • অনেক ধন্যবাদ লেখকপ্রিয়, আপনার নিখাদ ভালোবাসার জন্য! নতুন গল্পের অপেক্ষায় থাকব কিন্তু!

অনুপ দে।

লেখালেখি: / লেখার ধরণ- প্রগতিশীলতা; আধুনিকতা।

  • লেখক জীবন আমাকে খুব টানে!
  • লেখালেখির মনটা, ব্যাক্তি জীবনে সবাই খুঁজে পাই না!
  • আমি গল্পের মানুষ, গল্প লিখে সুখ পাই।গল্পে নিজেকে তুলে ধরা যায়।
  • একটা গল্পে অনেকগুলো চরিত্র থাকে, --কথক কিন্ত একজন! সব চরিত্রই গল্প-কারের ভেতর থেকে উৎসারিত!  মজা হচ্ছে,- গল্পকার সব চরিত্রকে ছুঁয়ে দেখেন, চিনেন!

Email : [email protected]

Skip to toolbar