-
অদৃশ্য লাল দাগ-৪
দেবস্মিতার বিস্ময় যেন কাটছে না।আদি এসব কি বলছে? নাহ্,এসব সত্যি হতে পারেনা।আদির মত এমন একজন মানুষের অতীতটা এমন হতে পারেনা।এটা অবিশ্বাস্য।আদি অন্যমনস্কভাবে বলতে লাগলো,”দেবস্মিতা,আমার বাবা বলে যে আবুল হাসেমকে তোমরা চেব,তিনি আসলে আমার বাবা নন।তিনি আমাকে লালন পালন করেছেন।কুিন্তু তিনি নিজেও জানেন না,আসলে আমার বাবা কে?”দেবস্মিতা স্তব্দ কণ্ঠে বললো,”আদি,তুমি বুঝতে পারছ,তুমি কি বলছ?পৃথিবীতে কোন মানুষই বাবা ছাড়া জন্মায় না।এটা সম্ভব নয়।”আদি একজটা দীর্ঘাশ্বাস ছেড়ে বললো,”এটা আমিও জানি দেবস্মিতা।কিন্তু আমি নিশ্চিত করে বলতে পারবো না,কে আমার বাবা।পৃথিবীতে একমাত্র মা রাই বলতে পারেন সন্তানের বাবা কে? কিন্তু আমার মা,আমার মা তাও পারেন না।”
———- কেন আদি? কপন তিনি বলতে পারেন না,কে তোমার বাবা?
———- কারণ তিনিযে রাস্তার পাগলী ছিলেন।
———- নাহ! আমি বিশ্বাস করি না।
———- বিশ্বাস কি আমিও করতে পেরেছিলাম? পারিনি।বাবা যেদিন জারজ শব্দটা বুঝালেন,সেদিনও বুঝতে পারিনি আসলে আমি এক রাস্তার পাগলীর ছেলে।শুধু মনে হয়েছিলো,কোন কারণে আমার জন্ম নিয়ে হয়তো প্রশ্ন ছিলো।তাই সবাই আমাকে কটাক্ষ করে। কিন্তু সেদিন বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে দেখি বাবা একজন পাগলীকে পরম মমতায় খাইয়ে দিচ্ছেন।আর মা,নীরবে তা দেখছেন।মার পাশে গিয়ে তাই বললাম,”মা,বাবা এসব কি করছে।রাস্তার একটা পাগলীকে…।কে এই পাগলী? বাবা তাকে এড যত্ন করছে কেন?”মা শান্ত স্থির কণ্ঠে বললেন,”এই সেই পাগলী,যে আমাদের অভিশপ্ত জীবন গুঁছিয়ে, দিয়েছে।ওর কাছে আমাদের অনেক ঋণ রে বাবা।তোর বাবা শুধু সেই ঋণের কিছুটা শোধ করতে চাইছে।”
———- তোমার কথা ঠিক বুঝতে পারছি না।কে এই পাগলী?তোমাদের সাথে ওর সম্পর্ক টা কি?
———– এক সময় ও আমাদের কেউ ছিলো না।ও ছিলো কেবলি আমাদের পাড়ার একজন পাগলী।রাস্তার পাশের আম গাছটার নীচে থাকতো।কিন্তু আজ ও আমাদের পরম আত্নীয়।
———- রাস্তার একটা পাগলীও কারো পরম আত্নীয় হয়? কি বলছ এসব?
———– হয়রে বাবা।পৃথিবীতে অনেক কিছুই হয়।রাস্তার এই পাগলীই আমাদের জীবন বদলে দিয়েছে।আমাদের জীবনে পরিপূর্ণতা দিয়েছে,এর থেকে সত্য আর কিছুই হতে পারেনা।
———–তোমার কথার মাথা মুন্ডু আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।কি বলাছ এসব?
———– হ্যাঁরে বাবা।এ সেই পাগলী,যে আমাকে মাতৃত্বের স্বাধ এনে দিয়েছে।আমকে মা বানিয়েছে।
———– মানে? কি বলতে চাইছ তুমি?তোমাকে মাতৃত্বের স্বাধ দিয়েছে মানে?এটা কি করে সম্ভব?
———– বিয়ের দশ বছর কেটে গেলেও আমি মা হতে পারছিলাম না।ডাক্তার কবিরাজ,বৈদ্ধ, তাবিজ,কবোজ,ঝাঁড় ফুঁক কিছুই বাকি রাখিনি।সবার থেকে একটাই উত্তর এসেছে।আমি বন্ধা।মা হতে পারবো না কোনদিন।আমার শ্বাশুড়ী আমার স্বামীর আবার বিয়ে দিতে উঠে পড়ে লাগলেন।তখনি এই পাগলী আমার কোল পরিপূর্ণ করে দিলো।আমার সংসার আলোয় ভরিয়ে দিলো।
———– কি?
———– হ্যাঁ।এ বাড়ী থেকে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।ঠিক সে সময় নীলাদ্রি ভাই আসলেন আমাদের বাড়ীতে।সব শুণে জানালেন আমার সন্তান না হওয়ার দায় আমার নয়।আমার স্বামীর।আমার মা হতে কোন বাধা নেই।বরং সন্তান জন্ম দেয়ার কোন ক্ষমতা নেই আমার স্বামীর।তোর বাবা সব দায় স্বীকার করে আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে বললেন।আমি এ বাড়ীতে থেকে যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম।ঠিক তখনি আমাদের বাড়ীতে এলো এই পাগকী।আর আমার কোল জুড়ে এলি তুই।
———– মানে!
———– হ্যাঁ রে বাবা।আমি তোকে লালন পালন করেছি সত্য কিন্তু আমি তোকে পেটে ধরিনি।তোকে পেটে ধারণ করেছে এই পাগলী।
———– নাহ্,আমি বিশ্বাস করিনা।
জান দেবস্মিতা,সেদিন আমারও বিশ্বাস করতে খুব কষ্ট হচ্ছিলো।কিন্তু সেজন্য সত্যটা মিথ্যে হয়ে যায়নি।সেদিনই আমি জানতে পেরেছিলাম আমার জীবনের সেই দাগ সম্পর্কে। আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠেছিলো আমার জীবনের সেই অদৃশ্য লাল দাগ।
দেবস্মিতা দীর্ঘাশ্বাস ছেড়ে বললো,”তোমার মা এখন কোথায়?”আদি অন্যমনস্ক ভাবে বলে,”নেই।কোথায় হারিয়ে গেছে আমি জানি না।তাইতো আমি আজও রাস্তার এ পাগলীদের ভীঁড়ে আমার মাকে খুঁজে বেড়াই।”দেবস্মিতা আদিরন পিঠে হাত রেখে বলে,”আমি জানি না তোমার মা কোথায় আছেন? তবে আমার কেন যেন মনে হচ্ছে তুমি তাঁকে পাবে।একদিন না একদিন তুমি তাঁকে ফিরে পাবেই।”আদি মুখোমুখি দাঁড়ায় দেবস্মিতার।ভাঙ্গা কণ্ঠে বলে,”আমাকে ছেড়ে কোনদিন যাবেনাতো দেবস্মিতা?আমার মার মত হারিয়ে যাবেনাতো আমার জীবন থেকে?”দেবস্মিতা আদিকে জড়িয়ে ধরে বলে,”নাহ্ আদি।আমি কখনোই তোমার জীবন থেকে হারিয়ে যাবনা।কক্ষনো না।”
………………………………………………………………..সমাপ্ত.. ……………………………………………………………..1 Comment
Friends
Ashik Mokami
@ashikmokami
Drako Shajib
@drako
Dipankar Shuva
@dipu42dramagmail-com
Hridoyesh Nashit
@hrnashit
bithy 123 bithy
@bithy123bithy
সারোয়ার -ই-কায়নাত
@mohammadsarwar-ekaynat
মো: নাজমুল আখতার
@faith
Poly Alam
@butterflywords
Masfi K
@masfi-mohammad


চমৎকার গল্প! ভালোবাসা নেবেন গল্পকার রাতটা এত উপভোগ্য করে তোলার জন্য!