Profile Photo

চাঁদ সদাগরOffline

  • chand_sodagor
  • Profile picture of চাঁদ সদাগর

    চাঁদ সদাগর

    3 years, 8 months ago

    ছন্দ নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই কথাগুলি ভালো লাগল। আসলেই, ইংরেজী ভাষায়, নেটিভ স্পিকাররা যখন কথা বলেন, একই শব্দের বিভিন্ন সিলেবালের মধ্যে জোরের বেশ-কম ঘটে। nineteen – শব্দে Teen অংশে একটা জোর বা stress আছে, কিন্তু ninety শব্দের ty অংশে কোনো stress বা জোর নাই। ইংরেজি ভাষায় শব্দের উচ্চারণে বিভিন্ন সিলেবালে এই জোর দেয়া / না দেয়ার উপর ভিত্তি করে ওদের ছন্দ (rhythm) শাস্ত্র গড়ে উঠেছে। অথচ বাংলা ভাষায় শব্দের উচ্চারণে বিভিন্ন অংশে (সিলেবালে) এই জোর দেয়া – না দেয়ার বিষয়টা নাই। একটা শব্দের বিভিন্ন অংশের মধ্যে আমরা একইরকম জোর দিয়ে কথা বলে যাই। ফলে আমাদের ছন্দ শাস্ত্র গড়ে উঠেছে একেবারে অন্য মেকানিজমে …

    এই বিষয়টা সম্ভবত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই প্রথম চিহ্নিত করেন আর সুন্দর ভাবে ব্যাখ্যা বা উল্লেখ করেন …

    “…ইংরেজি ভাষার একটা মস্ত গুণ এই যে, ও ভাষায় প্রত্যেকটি শব্দেরই একটা বিশেষ জোর আছে, সেটা ও ভাষার accent এর জন্যেই হয়। প্রত্যেকটি শব্দই নিজের স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করে চলে, অন্য কথার মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলে না। শব্দগুলিকে এ ভাবে জোর দিয়ে উচ্চারণ করতে হয় বলেই ইংরেজি ছন্দ এরূপ তরঙ্গিত হয়ে ওঠে। কিন্তু বাংলা শব্দগুলি বড়ো শান্তশিষ্ট, তারা ধ্বনিকে আঘাত করে তরঙ্গিত করে তোলে না। এজন্য বাংলায় আমরা এক ঝোঁকে অনেকগুলো শব্দ উচ্চারণ করে আবৃত্তি করে যাই, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই অর্থবোধ হয় না। অর্থবোধের জন্য বিষয়টাকে আবার ফিরে পড়তে হয়। এ অভাবটা মধুসূদন খুব অনুভব করেছিলেন। তাই তিনি বেছে বেছে যুক্তাক্ষরবহুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহারের দ্বারা বাংলার এই দুর্বলতাটা দূর করতে চেয়েছিলেন। এজন্যেই তাঁর কাব্যে ‘ইরন্মদ’ প্রভৃতি শব্দের ব্যবহার হয়েছে। আর তাতে ছন্দের মধ্যেও অনেকখানি তরঙ্গায়িত ভঙ্গি দেখা দিয়েছে । ‘যাদঃপতিরোধঃ যথা চলোর্মি আঘাতে’ প্রভৃতি পঙ্‌ক্তিতে ধ্বনিটা আঘাতে আঘাতে কেমন তরঙ্গিত হয়ে উঠেছে তা দেখতে পাচ্ছ। অল্পবয়সে আমি মধুসূদনের যে কঠোর সমালোচনা করেছিলুম, পরবর্তী কালে আমাকে তার প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়েছে। বাংলাভাষার এই সমতলতা, এই দুর্বলতাটা দূর করবার জন্যে গদ্যে ও পদ্যে আমিও বহু সংস্কৃত শব্দ ব্যবহার করেছি । …”
    .
    [ ছন্দ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। শ্রীপ্রবোধচন্দ্র সেন সম্পাদিত। বিশ্বভারতী জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯ সংস্করণ, পৃ:১২৪]

    19
    7 Comments
Skip to toolbar