-
নাটকঃ কিছু ভুল ছিল
রচনা- আবুল হাসান তুহিনকাহিনী সংক্ষেপঃ
মানুষের জীবনে কিছু কিছু ভুল থাকে , রায়হান ছন্দাকে যখন বিয়ে করতে চায়, তখন ছন্দা তার মায়ের প্রতি দায়িত্বের কথা বলে তাকে ফিরিয়ে দেয় কারণ তার মা চাইত সে ডাক্তারি পাশ করে ডাক্তার হবে, আর ছন্দা চাইতো তার যদি বিয়ে হয়ে যায় তাহলে মায়ের দায়িত্ব কে নেবে, দুজন দুদিকে কর্মব্যস্ত হয়ে জীবন কাটাতে থাক এর ভেতর ছন্দার মা মারা গেলে রায়হান আসে ছন্দাকে সান্তনা দিতে। তখন সন্ধ্যা আভাসে ইঙ্গিতে রায়হান কে বোঝানোর চেষ্টা করে সে এখন একা তার মাথার উপর কোন ছায়া নেই আবার নতুন করে বিয়ের বিষয়টি ভাবা যায়় কিনা কথাটা বলার চেষ্টা করে। তখন রায়হান বলে যখন আমার সময় ছিল তখন তোমার সময় ছিল না ।এখন তোমার সময় আছে কিন্তু রায়হানের সময় নেই। তার ছোট বোনকে বিয়ে না দেয়া পর্যন্ত সে বিয়ে করবে না। এদিকে বেবি রকি নামে একটি ছেলের সাথে প্রেমে জড়িয়ে পড়ে প্রেম থেকে তাদের শারীরিক সম্পর্কের দিকে গড়য়ে যায়। এক সময় বেবি প্রেগন্যান্ট হয়ে যায়। রকিকে কথা জানানোর পর বলে এবরশন করলেই সমস্যাটা মিটে যায় কিন্তু বেবি বলে বিয়ে করলেই তো সমস্যাটা মিটে যায় তখন রকি বিয়ে করতে অস্বীকার করে সে বলে বোকা মেয়ে এ যুগে কোন মেয়ে প্রটেকশন না নিয়ে এভাবে ইনজয় করে না। রকি বিয়ে করতে অস্বীকার করে বলে দুজনে মিলে এনজয় করেছি টাইম পাস করেছি এখানে বিয়ের প্রশ্ন কেন। এটা তাকে সাফ জানিয়ে দেয়। বেবি প্রচন্ড আঘাত পায়। অন্যদিকে রতন বেবিকে পছন্দ করত কিন্তু বেবি কখন রতনের কে পাত্তা দেয় নি তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে সাদামাটা জীবন তার পছন্দ নয়। বেবি তার শারীরিক সমস্যার কথা বলতে ছন্দার চেম্বার যায়।তখন ছন্দা তার সব কথা শুনে কনফার্ম হয় সে প্রেগনেন্ট। কথা তার ভাইয়াকে জানাতে নিষেধ করে, কিন্তু ছন্দা জানে বেবির বিয়ে হয়নি। একদিন পার্কে রতনের সাথে দেখা হলে ছন্দা রতনকে বেবির বিষয়ে জানাই এবং টিভির প্রতি খেয়াল রাখতে বলে। বেবিকে রকির বন্ধুবান্ধব কটুক্তি করতে থাকে এবং সস্তা মেয়েছেলে বলে উপহাস করে। বেবি সিদ্ধান্ত নেয় সে আত্মহত্যা করবে একদিন সত্যি সত্যি স্টেশনের রেল পথ ধরে সে দৌড়াতে থাকে স্টেশনে তখন রতন অফিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ট্রেনের অপেক্ষায় ছিল বেবি কে দেখে সে দৌড়ে যায় এবং ট্রেনের সামনে থেকে বাঁচিয়ে আনে। বলে তোমার কোন দোষ নেই কেন তুমি আত্মহত্যা করবে। বেবি বলবে সে ভুল করেছে। রতন তাকে বুঝিয়ে বলে তার সমস্যাটা কোন সমস্যাই নয়। এবং সে তার পিছনের সব কিছু ভুলে যেতে বলে রতন তার সমস্ত কিছুর দায়িত্ব নিতে নিতে চাই। বেবি আগামীর পথ চলার সাহস খুঁজে পাই।।। চরিত্রঃ।।
১।রকি- প্রেমিক ০২। বেবি- প্রেমিকা
৩। রতন- ক্লাসমেট। ০৪ । মা -বেবির মা
৫। রায়হান- বেবির ভাই ০৬। ছন্দা- ডাক্তার
০৭। জ্যাকি- যুবক। ০৮। বিলাস -যুবক
৮। বিলাস -যুবক। ০৯। পলাশ-যুবক
১০। ফরিদা -রতনের মা। ১১।মিনু- যুবতীদৃশ্য।।০১।। সকাল।। ডাইনিং রুম।।
চরিত্রঃ বেবি, মা, রায়হান
রায়হান অফিসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। বেবি কলেজের যাবে সবাই একসাথে নাস্তা করেছে ।মা নাস্তা পরিবেশন করছেন।রায়হানঃ মা মা আমরা টেবিলেে বসলাম।
মাঃ আচ্ছা ঠিক আছে। নাস্তা হয়ে গেছে আমি নিয়ে আসছি।
রায়হানঃ আমার বোনটি লেখাপড়া কেমন চলছে? কলেজে ঠিক মতো যাচ্ছিস তো? রেজাল্ট কিন্তু ভালো করতে হবে।বেবিঃ জি ভাইয়া। কোন চিন্তা করোনা। (ফোন দেখিয়ে) ভাইয়া তোমার ফোনটা বেশ সুন্দর। আমার বাটোন ফোনটা ভালো কাজ করে না।
রায়হানঃ ও বুঝেছি। টার্চ ফোন চাই এই তো। ঠিক আছে এই মাসেই কিনে দেব।
বেবিঃ ভাইয়া তুমি না বলতেই বুঝতে পারো।
রায়হানঃ একেই বলে বিচক্ষণতা।
মাঃ ( মা নাস্তা পরিবেশন করতে করতে বলবেন ) শোন বাবা সব আবদার পূরণ করতে নেই। এতে হিতে বিতাছাড়াপরীত হয়। পড়াশোনার ব্যঘাত ঘটবে।
রায়হানঃ তুমি ঠিক বলেছো মা, কিন্তু যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হয়। একটা মাত্র বোন আব্দার তো করবে।
মাঃ যা ভালো হয় কর। আমি সংসার সামলাবো না ধেঙ্গী মেয়ে পাহারা দেবে। কত করে বললাম একটা বিয়ে কর। কে শোনে কার কথা।
রায়হানঃ আচ্ছা মা শান্ত হও। বোনের লেখাপড়া শেষ হোক তারপর।
মাঃ ছেলের কথা শোন, ওর লেখাপড়া শেষ হতে হতে আমি পটল তুলবো ও দিকে তোর বয়স বেড়ে বুড়ো হবি এইতো।
রায়হানঃ কি বলো মা! তুমি আমার বউ না দেখে মরবে না। দুজনে আছো ভালো আছো। তিনজন হলে অশান্তি। আজকাল মেয়েরা কেমন। বউ শাশুড়ি ননদ কেউ কাউকে সহ্য করতে পারে না। তাই চারিদিকে গুছিয়ে তার পর বিয়ে। বেবি চল আজ তোকে কলেজে নামিয়ে দেবো।
বেবিঃ না ভাইয়া আমি একাই যেতে পারবো।
রায়হানঃ আচ্ছা ঠিক আছে।মা আমি গেলাম।
মাঃ আচ্ছা বাবা সাবধানে যাস। তুই ও সাবধানে যাস
(রায়হান ও বেবির প্রস্হান)দৃশ্য।। ০২ ।। দিন।। নির্জন রাস্তা।।
চরিত্রঃ রকি,পলাশ, জ্যাকি, বিলাস, বেবি
কলেজের পুকুর পাড়ে বসে ওরা ছন্দে ছন্দে সুরে কথা বলছে। রকি বেবির আসার জন্য সময় গুনছে।পলাশঃ দেখে দেখে জীবন গেল মনের সাধ মিটলো না। প্রেম নদীতে ভাসাই তরী কেউ তো এসে উঠলো না।
জ্যাকিঃ আম পাকে জাম পাকে, পাকে বিচি কলা, অকালে পাকলো খোকা করে ছলা কলা। প্রেমের সাঁতারে তার, নেই কোন জুড়ি , নিমিষে পটিয়ে ফেলে যত আয় বুড়ি।
সবাইঃ কেয়া বাত কেয়া বাত। ওই দেখ রকি তোর প্রাণ ভোমোরা এসে গেছে। এসে গেছে। এসে গেছে। রকির প্রেমেের জালে ফেঁসে গেছে।
রকিঃ এবার তোদের বেসুরা গানের আসর বাদ দে আমি গাইবো আসল সুরে গান।হাই বেবি তুমি এসে গেছ আমি তো অপেক্ষা করতে করতে বোর হয়ে গেছি আর সেই সাথে এদের পাল্লায় পড়ে অতিষ্ঠ ।
বেবিঃ আসতে একটু দেরি হয়ে গেল আজ ভাইয়া আমাকে কলেজে নামিয়ে দেবে বলে পীড়াপীড়ি করছিল আমি পাশ কাটিয়ে চলে এসেছি।( অন্যদের দিকে তাকিয়ে) হাই কেমন আছো তোমরা।
সবাইঃ আমরা ভালো আছি।
রকিঃ এই তোরা গানের সুর ঠিকমতো তুলতে থাক এর ভেতরে আমি আর বেবি নতুন সুরে পাল উড়িয়ে আসি।
বিলাস ঠিক আছে বাই বাই। সময় কাটাতে কিছু নজরানা চাই । রকিঃ নে ধর তোরা হচ্ছিস নাছোড়বান্দা। নাও ওঠে বসো ( ওদেরকে টাকা দেবে মোটরসাইকেল স্টার্ট দিয়ে বেবি কে পাশে বসিয়ে এক নিমিষে মিলিয়ে যাবে।)।। পটপরিবর্তন ।।
দৃশ্য।। ০৩ ।। দিন।। অফিস রুম।।
চরিত্রঃ রায়হান, রতনরতন অফিস ছুটি হয়ে যাওয়ার পরেও অফিস থেকে বের হয়নি টেবিলে বসে থাকায় রায়হান এটা দেখে তার টেবিলের কাছে আসবে।
রতনঃ (স্বাগত ) না কিছুই ভালো লাগছে না কি যে করি।
রায়হানঃ কি ব্যাপার রতন এখনো বসে আছো যে, কি হিসাব মিলছে না? চাকরিরপ্রথম সেলারি পেয়েছোো, যাও কেনাকাটা করো। কাছের মানুষদের জন্য গিফট কিনে তাদেরকে উপহার দাও।
রতনঃ ঠিক বলেছেন ভাইয়া উপহার উপহার কিনব।
রায়হানঃ চলো আজ আমার সাথে যাবে তুমি প্রতিদিন ট্রেনে করে অফিসে আসো আজ আমার গাড়িতে করে চলো তোমাকে নামিয়ে দেবে। ও হ্যাঁ আরেকটা কথা তুমি তো আমার বোন বেবিকে চেনো বলেছিলে?
রতনঃ হ্যাঁ চেনা জানা আছে ও আমার ক্লাসমেট।
রায়াহানঃ ওহ এই কারণেই চাকরিটা তোমাকে দিয়েছিলাম। পথে-ঘাটে দেখা হলে তুমি কেমন আপন জনের মতো এগিয়ে এসে ভালো মন্দ জিজ্ঞেস করতে। ঠিক আছে চলো গাড়িতে যেতে যেতে কথা হবে।
রতনঃ ওকে ভাইয়া চলেন। (রায়হান এবং রতন অফিস থেকে বের হয়ে যায়।)দৃশ্য।। ০৪।। দিন।। রুম।।
চরিত্রঃ রকি, বেবিরকি বেবিকে জড়িয়ে ধরে আছে। বেবির মোবাইল ফোন বাজবে। অপরপ্রান্তে বেবির মা বাড়িতে আসতে দেরি হওয়ার কারণে বকবে।
রকিঃ তুমি আমার পৃথিবী। আমার আকাশের পূর্ণিমা চাঁদ। কলেজের সব মেয়েদের মধ্যে তুমি অপরুপা সুন্দরী। এই কারণে তোমাকে আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে।
বেবিঃ আজ ছাড়ো পাগল হয়ে গেলে নাকি। কবিদের মতো ডায়লগ দিচ্ছো। এদিকে কলেজে থেকে বাড়ি ফিরতে দেরি হলে মা চিন্তিত হয়ে পড়বেন।
রকিঃ আরে রাখো তো তোমার মায়ের চিন্তা। তুমি কি এখন কচি খুকি। মা জানেনা মেয়ে বড় হয়েছে।
বেবিঃ মেয়ের মায়েদের চিন্তা একটু বেশি থাকে। দেখো মা ফোন করলো বলে।
রকিঃ ফোনটা সাইলেন্ট করে রাখো। আমাদের মধ্যে কোনো ঝামেলা চলবে না। এখন শুধু তুমি আর আমি।
বেবিঃ কলেজ ফাঁকি দিয়ে রোজ রোজ সময় কাটানো বাড়াবাড়ি টা বেশি হয়ে যাচ্ছে। সামনে এক্সাম।
রকিঃ আরে রাখো তোমার এক্সাম। এখন শুধু ——
বেবিঃ অনেক দেরি হয়েছে এখন আমাকে বাড়ি যেতে হবে। এতক্ষণ যা হলো তাতে করে আমাকে বাড়ি গিয়ে ফ্রেশ হতে হবে।
(মোবাইল ফোন বেজে ওঠে রিসিভ করে) হ্যালো এই তো মা এখনি বাড়িতে আসছি। ইনপটেন্ট একটা নোটের জন্যে রিতাদের বাড়িতে এসেছি।( অপর প্রান্ত থেকে)
মাঃ জলদি রওনা দাও। সামনে ফাইনাল এক্সাম।
বেবিঃ সেই জন্য নেট নিতে এসেছি । (ফোন রেখে) এই ছাড়ো বাড়ি ফিরতে হবে।
রকিঃ আহা এমন করছো কেন, আরো কিছু ক্ষণ থাকো প্লিজ।
বেবিঃ না এমনিতেই অনেক দেরি হয়ে গ্যাছে। তাছাড়া বিনা প্রটেকশনে
রকিঃ কিচ্ছু হবে না। আমি তো আছি।কদিন বাদেই আমাদের বিয়ে হবে।
বেবিঃ আমি চললাম।
রকিঃ আবার কবে দেখা হবে?
বেবিঃ কলেজে প্রতি দিনই তো দেখা হচ্ছে।
রকিঃ সেটা নয়,একান্ত নিরালায়, এই যে হাত দুটি ধরলাম, এর চেয়ে আপন করে। (হাতটা ধরবে)
বেবিঃ সবাই দেখছে। হাতটা ছাড়়। পরে দেখা যাবে। এখন আসি । মোবাইলে কথা হবে।
(বেবির প্রস্থান)।।পটপরিবর্তন।।
দৃশ্য।। ০৫ ।। নির্জন রাস্তা।। দিন।।
চরিত্রঃ রতন, বেবি
রতন অপেক্ষা করছে, বেবি ধীর পায়ে হেটে আসছে। রতন বেবি কে ডাকবে।রতনঃ বেবি শোনো
বেবিঃ তুমি এভাবে আর কত কাল আমাকে জানাবে
রতনঃ এটাকে তুমি জ্বালাতন মনে করছো। তুমি তো জানো তোমার সাথে দেখা না হলে আমি অস্থির হয়ে যায়।
বেবিঃ তোমার মিডিল কিলাস ভালোবাসাটা আমার কাছে ন্যাকামো লাগে।
রতনঃ আসলে ভালোবাসার কোন ক্লাস নেই। এই গিফ টা তোমার জন্যে। নাও ধরো।
বেবিঃকি আছে এটার মধ্যে?
রতনঃ সেটা নয় বাড়িতে গিয়ে দেখো।
বেবিঃ সেটার আর প্রয়োজন নেই
রতনঃ এভাবে বলোনা আমার প্রথম স্যালারি টাকা থেকে কিনেছি।
বেবিঃ তোমার এই সস্তা সেন্টিমেন্ট কিছুতেই গেল না।
রতনঃ সস্তা সেন্টিমেন্টট, যাই বলোনা কেন নিজের পরিশ্রমের টাকা থেকে কিনেছি।তাছাড়া ফোন দিলে তুমি ফোন ধরো না বাধ্য হয়ে এই রাস্তায় দাঁড়িয়ে তোমাকে বিরক্ত করলাম।
বেবিঃ শুনে রাখ এভাবে আমাকে আর বিরক্ত করার চেষ্টা করবে না । তুমি বুঝতে পারো না আমি তোমার এই সস্তা সেন্টিমেন্ট এর কোন মূল্য দেই না আশা করছি আগামীতে আমাকে বিরক্ত না করলেই খুশি হব। (বেবি হন করে হেঁটে চলে যাবে রতন তার পথের দিকে চেয়ে থাকবে।)দৃশ্য।। ০৬ ।। রুম।। দিন।।
চরিত্রঃ মা,বেবি
বেবি মোবাইল নিয়ে চ্যাটিং করছে। মা এসে বলবেন।মাঃ কি ব্যাপার বেবি ?সময় নেই অসময় নেই মোবাইল নিয়েই আছো। তোমার ভাইয়া কে নিষেধ করেছিলাম ।কে শোনে কার কথা ছোট বোনের আব্দার। এখন ফোনটা রেখে খাবে এসো।লেখা পড়া নেই খালি মোবাইল আর মোবাইল।
বেবিঃ,মা তুমি যাও আমি আসছি।
মাঃ জলদি এসে আমাকে উদ্ধার করো। ( মায়ের প্রস্তান মোবাইল ফোন বাজবে)
বেবিঃ হ্যালো বলো ।
Inter cutঅপর প্রান্ত থেকে
রকিঃ তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছে।চলে এসো প্লিজ।
বেবিঃ মা সবসময় কড়া নজর। বোঝেনা আমি বড় হয়েছি।
Inter cut অপরপ্রান্ত থেকে
রকিঃ সত্যি বড়ো হয়েছো।তা নাহলে—–
বেবিঃ ঠাট্টা রাখো। আর কথা নয় মা খেতে ডাকছেন।
অপরপ্রান্ত থেকে
রকিঃ কোন অজুহাত চলবে না।ঠিক বিকাল চারটায়। আজ আমারা ঘুরব অনেক ইন জয় করবো।
বেবিঃ আচ্ছা দেখছি মাকে ম্যানেজ করে বের হতে হবে।রাখি ।।। কিছুক্ষণ পর ।।
দৃশ্য।। ০৭ ।। দিন।।পার্ক।।
চরিত্রঃ রকি, বেবি, রতন
রকি ও বেবি হাত ধরে ঘুরছে।রতন তাদের ঘোরা ফেরা দেখবে।আইসক্রিম, অন্যান্য খাবার খাচ্ছে। অন্তরঙ্গ ভাবে আলিঙ্গন করছে। এগুলো একটি গানের সাথে সংযোজন করতে হবে।রতনঃ (স্বাগত) বড়লোকদের বকে যাওয়া ছেলেরা সুন্দরী মেয়েদের ফাঁদে ফেলে দেয়। বেবি ঠিক সেই পথে পা দিয়েছে, জানিনা এর শেষ কোথায়, আমি অনেক ভাবে ওকে আমার ভালোবাসার কথা বলতে চেয়েছি কিন্তু সে কিছুতেই আমার ডাকে সাড়া দেয়নি।
রকিঃ ওই যে আমাদের আনস্মার্ট হাবাগোবা রতন বসে আছে আমরা কি করছি সেটা সে দেখছে।
বেবিঃ এক কাজ করো ওকে দেখিয়ে দেখিয়ে আমার হাতটা সুন্দর করে ধরো। চলো আমরা পার্কের বাগানে হাত ধরে হেটে চলি।
রকিঃ ঠিক আছে একটা আইসক্রিম কিনে ওকে দেখিয়ে দেখিয়ে তুমি আমার গালে তুলে দেবে আমি তোমার গালে তুলে দেবো। আইসক্রিম কোথায়় ? ঐ যে। এই আইসক্রিম একটা আইসক্রিম দাও।
আইসক্রিম বিক্রেতাঃ( নেপথ্য )নেন স্যার চকলেট ফ্লেভার ৩০ টাকা।
বেবিঃ চমৎকার আইডিয়া।
রকিঃ আইসক্রিমে আগে তুমি কামড় বসিয়ে দাও। মনে হবে রতনের হৃদয়ে কামড় দিলে।
বেবিঃ তুমি একটা কামড় বসিয়ে দাও। আহা আইসক্রিমে কামড় দাও ও হো আমার হাতে না। আ হা হা এমন করে খাচ্ছো যেন হাত সহ খেয়ে ফেলবে।
রকিঃ শুধু হাতটাই নাই খাবো ।
বেবিঃ বড্ড বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছেে কিন্তু। (বেবি উচ্চস্বরে হাসবে )।। গান ।।
ফুলের গায়ে দিল টোকা
ভ্রমর কি আর এত বোকা
বিমুখ মধু পানে,
ফাগুন দোলা লাগে গায়ে
ছন্দ জাগে পায়ে পায়ে
ভরিয়ে মাতাল গানে।।ফুলে ফুলে স্বপ্ন ঝরে
নেশায় ভ্রমর দুচোখ ভরে
কি দোষ দেব তারে,
দখিন বাতাস দেয় দুলিয়ে
পরাগ রেণুর মন ভুলিয়ে
মুকুল জাগতে পারে,
এমনি করে ফাগুন আসে
সুখের স্রোতে জীবন ভাসে
খোঁজে প্রেমের মানে।।ফুলে ফুলে গন্ধ মেখে
ভ্রমর চলে স্বপ্ন এঁকে
নেইতো কোন বাধা,
সৃষ্টি সুখের আবেশ পেলে
বাঁধনহারা পাখনা মেলে
খুঁজে জীবন ধাঁধা,
স্বপ্ন বিলাস মাখতে গায়ে
জীবন নাচে পায়ে পায়ে
সৃষ্টি সুখের বানে।।
০৯/০৪/২০২০
বৃহস্পতিবার
।। পটপরিবর্তন ।।দৃশ্য।। ০৮ ।। রাত।। রুম।।
চরিত্রঃ রায়হান, ছন্দা
ছন্দা দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে রায়হানের পাশে বসে কথা বলছেছন্দাঃ আমি এখন একা হয় গেলাম। মা আমার ছিল বটের ছায়ার মত আমাকে আগলে রেখেছিল এতোকাল। মাকে ছাড়া কোন কিছু ভাবতেই পারিনি। বার বার অনুরোধ করা সত্ত্বেও আমি তোকে ফিরিয়ে দিয়েছি।
রায়হানঃ ভালোই করেছো দিব্বি বেশ আছি তুমিও তো ভালোই আছো।
ছন্দাঃ তুমি যখন বিয়ে করতে বলেছিলে তখন আমি ভাবতাম যদি বিয়ে করে তোমাদের বাড়িতে চলে যায় তাহলে মাকে কে দেখবে। একমাত্র আমি ছাড়া মায়ের তো আর কেউ নেই।
রায়হানঃ বাদ দাও ঐ সমস্ত পুরাতন কথা। তুমি তোমার মায়ের স্বপ্ন পূরণে ব্যস্ত ছিলে। ভালোই করেছো না হলে আজ ডাক্তারিটা পাশ করে চাকরি করতে পারতে না। বিয়ে করলে তো একেবারে বাঙালিয়ানা সংসার দিব্যি গৃহিণী হয়ে থাকতে হতো।
ছন্দাঃ আমি না হয় মায়ের মুখের দিকে চেয়ে তোমাকে ফিরিয়েে দিয়েছি। তুমি তো অন্য একটা মেয়েকে বিয়ে করে দিব্যি সংসার করতে পারতে।
রায়হানঃ পারতাম কিন্তু আমার কাছে ভালোবাসা পোশাক বদলানোর মতো নয় যে সকালে পড়লাম বিকেলে বদলে ফেলে দিলাম। ভালোবাসা আমার কাছে একটি বৃক্ষ বুকের জমিনে যার বসবাস। সোহাগ আদরে দিন দিন সে বড় হবে ফুল ধরবে ফল ধরবে একদিন ভালোবাসা রূপান্তরিত হবে একটি বিরাট মহীরুহে। তার ছায়া তলে থাাকব আমরা অনেকেই।
ছন্দাঃ আসলে তোমার ভাবনার মূল্য আমি দেয়নি। আমি শুধু দেখতাম আমার মায়ের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার। মেঘে মেঘে অনেক বেলা যখন হয়েই গেছে তোমার স্বপ্নটা নতুন করে বাস্তবায়ন করা যায় না।
রায়হানঃ হয়তো যায় হয়তো যায় না।
ছন্দাঃ তোমার কথা আজ দোদুল্যমান।
রায়হানঃ বলছি এই কারণেই যখন আমার সময় ছিল তখন তোমার সময় হয়নি । যখন তোমার সময় হয়েছে আমার সময়টা পেরিয়ে গেছে। আমার ঘরে আমার মা বৃদ্ধ হয়েছেন বোনটা বিবাহযোগ্য হয়ে উঠেছে। বোনটাকে আগে পাত্রস্থ করতে হবে তারপর যদি তোমার সময় থাকে তাহলে আসতে পারো আমার সদর দরজায়। তোমার জন্য খোলাই আছে।
ছন্দাঃ আসলে ভুল আমারই ছিল।জীবন থেকে যে সময়টা চলে গেছে সেটা তো আর ফেরত পাওয়া যাবে না। ঠিক আছে তুমি যেমন আমার জন্য অপেক্ষা করেছো তেমনি আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করবো।
রায়হানঃ মন খারাপ লাগলে মাঝে মাঝে আমাদের বাড়িতে বেড়াতে এসো মায়ের কাছে কিছুটা সময় দিও। মন ভালো লাগবে।আমি গেলাম।
ছন্দাঃ ঠিক আছে প্রতিদিন ফোন দেবে কিন্তু।।।পটপরিবর্তন।।
দৃশ্য।। ০৯ ।। রাত।। রুম।।
চরিত্রঃ মা, বেবি
বেবি খাবার সামনে করে বসে আছে। মা খাবার খেতে বলবেন। সামনে মোবাইল।মাঃ কি হলো খাবার সামনে করে বসে থাকলে যে ?
বেবিঃ খেতে ইচ্ছে করছে না।বমি বমি লাগছে।
মাঃ লাগবে তো । অনিয়ম করলে বদহজম হবে।
যাও আগে একটা গ্যাসের ওষুধ খাও তারপর খাবে।
বেবিঃ আচ্ছা মা (উঠতে গিয়ে বমি চলে আসবে দৌড়ে গিয়ে বমি করবে।)
মাঃ আস্তে আস্তে আজকালকার ছেলেমেয়েরা কোন কথাই শুনতে চাইনা রাস্তাঘাটে যা ইচ্ছে তাই খাবে কোনো বাছবিচার নেই । ফাস্টফুড নাকি যেন বলে। দাঁড়াও মাথায় তেল পানি দিয়ে দিচ্ছি।
বেবিঃ লাগবে না মা এমনি ঠিক হয়ে যাবে।
মাঃ ঘরে গিয়ে শুয়ে থাকো ।
বেবিঃ আচ্ছা মা। (প্রস্তান)দৃশ্য।। ১০ ।। দিন।। ক্লিনিক।।
চরিত্রঃ ছন্দা , বেবি।
বেবি ছন্দার চেম্বারে এসে সমস্যাটা খুলে বলবে ।ছন্দাঃ বেবি যে কেমন আছো ,মা কেমন আছেন?
বেবিঃ সবাই ভালো আছেন কিন্তু আমার সমস্যা দেখা দিয়েছে।
ছন্দাঃ কি সমস্যা আমাকে খুলে বল?(বেবি তার সমস্যার কথাগুলো বলবে। ছন্দা মনোযোগ সহকারে শুনবে।)
বেবিঃ শারীরিক পরিবর্তনের সাথে বমি হচ্ছে।
ছন্দাঃ আচ্ছা তুমি যে কথা বললে তাতে আমার অনুমান ঠিকই তার পরেও তুমি প্রেগনেন্সি টেস্ট করতে পারো। কিন্তু একথা তো বললে না গোপনে বিয়েটা কবে করলে। তোমার ভাইয়া জানেন। যাক ভালো করেছো তাহলে এবার আমাদের বিয়েটাও সেরে নিতে পারবো।
বেবিঃ আপু তোমাকে ঠিক আমি বুঝাতে পারব না কি ভাবে কি হয়ে গেল। তুমি আপাতত ভাইয়াকে এ কথাগুলো বোলোনা তাহলে ভাইয়া খুবই কষ্ট পাবেন। আমি সবকিছু ম্যানেজ করে নিয়ে তোমাকে জানাবো। আসি আপু।
ছন্দাঃ সমস্যা নেই আমার হেল্প লাগলে তুমি আমাকে বলো, আমি সব ম্যানেজ করে দেব। তোমার ভাইয়া আমার কথা শুনবেন।
বেবিঃ আসি আপু (বেবি চেম্বার থেকে বের হয়ে যায়)দৃশ্য।। ১১ ।। দিন।। রুম।।
চরিত্রঃ রকি, বেবি।
বেবি ও রকি আলিঙ্গন বদ্ধ। কিন্তু বেবির মন বিষন্ন।রকিঃ কি ব্যাপার বলত চাঁদ মুখে অমাবস্যা কেন?
বেবিঃ কয়েক দিন যাবত বমি হচ্ছে। টেস্ট করিয়েছি আমিি প্রেগনেন্ট ।
রকিঃ কি বলছো এসব। সতর্ক হবেনা। টেস্ট যখন করিয়াছো একবারে ক্লিয়ার করে আসতে।
বেবিঃ তোমাকে বলেছিলাম প্রটেকশন নিতে। তুমি তো—
রকিঃ আমি না হয় নেই নি তোমার তো উচিত ছিল।
বেবিঃ আমি তোমাকে ভালোবাসি বিশ্বাস করি। অতো চিন্তা করিনি। এখন আমাদের বিয়ে করা উচিত। নাহলে আত্মহত্যা ছাড়া আমার কোন পথ থাকবে না।
রকিঃ অতো চিন্তা করছো কেন। চলো আমি সাথে করে নিয়ে যাচ্ছি।এ্যবোশন করলে সব ঝামেলা চুকে যাবে।
বেবিঃ এ্যবোশনের ঝুঁকি না নিয়ে বিয়ে করলে সমাধান হয়ে যাবে।
রকিঃ বিয়ে আঃ হাঃ হাঃ তোমাকে। প্রশ্নই আসে না। আবার বলছো বিশ্বাস ভালোবাসা।এসব অর্থহীন কথা। তুমি অবলিলায় আমার কাছে অবমুক্ত হয়েছো। এটা আমার দোষ ! এইযে আনন্দ উপভোগ করছো এটা কি? তুমি তো বাঁধা দাও নি?
বেবিঃ ভালোবাসা বিশ্বাস এতই ঠুনকো জিনিস?
রকিঃ রাখো ওসব ব্যাকডেটেড বুলি। এখন হচ্ছে টাইমসের দিন। তাছাড়া আমার কাছে যে নিজেকে মেলে ধরতে পারে, অন্য কারো কাছে মেলে ধরেছে না, তার গ্যারান্টি কি?
বেবিঃ এভাবে বলোনা প্লিজ। আমি সহ্য করতে পারবোনা।
রকিঃ এখন আপডেট যুগের ডন্ট কেয়ার চলো ক্লিনিক থেকে এ্যবোশনটা করিয়ে আনি।কেউ বুঝতে পারবে না।
বেবিঃ না তুমি বিয়ে না করলেও একাজ আমি করবো না।আজ থেকে তোমার আমার সম্পর্কে এখানেই ইতি। তোমার কাছে এটা টাইমপাস হলেও আমার কাছে সত্যি কারের ভালবাসা। প্রাণের ভিতর অন্য একটি প্রাণের নিষ্পাপ অস্তিত্ব তুমি অস্বীকার করলে! তোমার এই অন্যায়ের শাস্তি ঠিকই পাবে। আসি।( বেবি দ্রুত বের হয়ে যাবে)
রকিঃ( পিছন দিক থেকে ডাকবে) বেবি বেবি।দৃশ্য।। ১২ ।। বিকাল ।। রাস্তা।।
চরিত্রঃ রতন, মিনু
রতন রাস্তা দিয়ে হেঁটে আসবে। মিনুর সাথে দেখা হবে দু’জনে কথা বলবে।মিনুঃ কত দিনে পর তোমার সাথে দেখা হলো বলোতো। তা যাক কদিন থাকছো তো ।
রতনঃ না কাল সকালে ফিরে যাবো। সময় এবং স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করেনা। এটা যেমন সত্য তার চেয়ে বড় সত্য হচ্ছে বাস্তবতা। তাই বাস্তবতার কাছে অনেক কিছু মেনে নিতে হয়।
মিনুঃ তাই তোমার আমার মাঝে দূরত্বটা দিন বেড়ে চলেছে।
রতনঃ বাস্তবতার কথা যা আগেই বলেছি। আমি মেনে নিয়েেছি তুমি মাানতে পারোনি এটাই তোমার ব্যার্থতা।
মিনুঃ সেই ছোট বেলা থেকেই একসাথে বড় হয়েছি। কত স্মৃতি এখনো মনের মাঝে দোলা দেয়। তুমি যখন শহরে চলে গেলে তখন বুঝতে পারলাম বুকের মাঝে একধরনের শূন্যতা। কেমন যেন মায়া, এরই নাম হয়়়তো ভালোবাসা। এই গ্ৰামের মাঠ ঘাট পুকুর সবখানে নিরব কান্নার সুর ভাসে।
রতনঃ ওসব কথা থাক। তুমি কেমন আছো তাই বলো?
মিনুঃ যাচ্ছে একরকম।রতনঃ কেন রতন বিদেশ থেকে আসেনি?
মিনুঃ না বিয়ে করে সেই মে চলে গেছে। তা প্রায় তিন বছর হয়ে গেল।
রতনঃ ঠিক মতো খোঁজ খবর নেয় তো?
মিনুঃ মাঝে মোবাইল ফোনে কথা হয়় ঐ দুুুধের স্বাধ ঘোলে মেটানো মতো অবস্থা । বিদেশে থাকা ছেলে দেখলে মেয়ের মা বাপ হুমড়ি খেয়ে পড়ে। মেয়ের ইচ্ছাকে গুুরুত্ব না দিয়ে বিয়়ের
ব্যবস্থা করে । যেমন আমি তোমাকে পছন্দ করি। তোমার জন্যে মে শূন্যতা মে ব্যকুলতা। সেটা হয়তো একপক্ষীয় ভালোবাসা ।রতনঃ ভালোবাসা একধরনের বেপরোয়া অধিকারবোধের জন্ম দেয়। সে আমায় ভালোবাসুক আর না-ই বাসুক, সে আর কাউকেই ভালোবাসতে পারবে না—এমন এক অদ্ভুত ভাবনা মনের মধ্যে তৈরি হয়ে যায় নিজের অজান্তেই। ভালোবাসার ক্ষেত্রে মানুষ খুব স্বার্থপর প্রাণী।
মিনুঃ অনাদধিকার চর্চা হবে তবুও একটা প্রশ্ন করি তা তুমি এখন বিয়ে করলে না কেন?
রতনঃ নিজের পায়ে দাঁড়াতে না পারলে কিভাবে বিয়ে করবো তা ছাড়া মনের মতো একটা মেয়ে খুঁজে পেতে হবে তার পর। হবে একটা চাকরি পেয়েছি, দেখি কি করা যায়। না হলে দেবদাস হয়ে কাটিয়ে দেব। আ হা হা (হাসি) চলো এগিয়ে যাই।
মিনুঃ হ্যা তাই চলো অনেক দেরি করিয়ে দিলাম।দৃশ্য।। ১৩ ।। রাত।। রুম।।
চরিত্রঃ রতন, ফরিদা বেগম
রতন খেতে আসবে। ফরিদা বেগম দুঃখ মনে ছেলের পাশে বসে কথা বলবে।ফরিদাঃ রতন রতন খেতে আয় বাবা রাত হয়েছে।
রতনঃ এইতো আসছি । আজ কি রান্না করেছো মা?
ফরিদাঃ যা পেরেছি তাই করেছি অতো শুনে লাভ কি? তোর বয়স হয়েছে আর কদিন পর চুলে পাক ধরবে, সেদিকে খেয়াল নেই। আর আমি আর কতকাল এভাবে হাত পুড়িয়ে রান্না করবো আমার তো একটা চাওয়া পাওয়া আছে। সেদিকে তার খেয়াল আছে।
রতনঃ রাগ করছ কেন মা , কি করতে হবে তাই বল ? আমি তোমার জন্য সব করতে পারব।
ফরিদাঃ পারবি তো, শুধু মুখে বললে হবে না আমি চাই সুন্দর একটা ফুটফুটে বউ মা আমার ঘরে আসুক।রতনঃ কি বলছো মা বউ যদি পুতুল কেনার মত বাজারে কিনতে পাওয়া যেত, পারলে আমি তোমাকে দশটা বউ কিনে এনে দিতাম।
ফরিদাঃ পাগল পাগল ছেলে বউ কখনো কিনতে পাওয়া যায় তার জন্য বিয়ে করতে হয়।
রতনঃ মা সময় হলে সব দেখতে পাবে এখন একটু কষ্ট করো।
ফরিদাঃ কিরে তোর পছন্দের কেউ আছে বুঝি?
রতনঃ না মানে হ্যাঁ আছে।
ফরিদাঃ আমাকে আমাকে বল দরকার হয় আমি তার বাবা-মায়ের সাথে কথা বলি।
রতনঃ না মা এখন বলা যাবেনা সময় হলে আমি তোমাকে বলবো।
ফরিদাঃ সেদিন হয়তো আর আমার দেখা হবে না শরীরটা বেশি ভালো যাচ্ছে না , বাঁচব কিনা জানি না, তুই তো জানিস তোর বাবা মারা যাওয়ার পর আমি তোকে কত কষ্ট করে মানুষ করেছি এখন আর সময় নেই রে। যাই হোক তুই ভাল বুঝিস তাই করিস।
রতনঃ মা আমি কিন্তু সকাল হলেই চলে যাব ,আমার অফিস আছে।
ফরিদাঃ আরো দু’একদিন থেকে যেতে পারতিস।
রতনঃ মা বোঝাইতো পাবলিক ফাংসানে চাকরি। সরকারি চাকরিতো আর হলো না। হয়তো এভাবেই জীবন পার করতে হবে।
ফরিদাঃ হ্যাঁ রে বাবা সরকারি চাকরি হয়নি তাতে কি হয়েছে! বাংলাদেশে সবাই লেখাপড়া শিখছে সবার কি সরকারি চাকরি হবে নিজের পায়ে নিজে কিছু করতে হবে এটাই হচ্ছে স্বাবলম্বী সরকারি চাকরির উপর নির্ভর করে সময় নষ্ট করা উচিত নয়।
রতনঃ এইতো মা তুমি একটা সুন্দর কথা বলেছো সবাই যদি তোমার কথার মতো বুঝতে পারতো তাহলে বেকার সমস্যা থাকতো না আমাদের দেশে।
ফরিদাঃ এখন তত্ব কথার দরকার নেই। তুই খেয়েদেয়ে শুয়ে পর আবার সকাল সকাল উঠতে হবে।রতনঃ মা তুমি শুয়ে পড়ো। আমি থালা-বাসন গুছিয়ে রাখবো
ফরিদাঃ পারবি তো?
রতনঃ কী যে বলো মা। তুমিতো হাতে ধরে সকল কাজ কর্ম শিখিয়েছো। চিন্তা করো না যাও শুয়ে পড়ো।
ফরিদাঃ পাগল ছেলে।( প্রস্তান)দৃশ্য।। ১৪ ।। দিন।। রাস্তার মোড়।।
চরিত্রঃ জ্যাকি, পলাশ, বেবি
জ্যাকি ও পালাশ রাস্তার পাশে আড্ডা মারছে, বেবি যদি পাশ কাটিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ওরা তাকে উত্যক্ত করে।জ্যাকিঃ কে যায়, কে যায় রে ফাগুনের দোলা দিয়া। আমার এই পরানডারে গেল বুঝি নিয়়া।
সবাইঃ (নেপথ্যে) আহা তাইতো। কে যায় ? হাই হাই হাই মরি লজ্জায়। হয়ে যাক । আমরাও কম কিসে।
জ্যাকিঃ হ্যাঁ তাইতো। যাও তুমি কোথা একটুু ফিরে চাও। ভ্রমরকে মধু নিতে দাও।
বেবিঃ সরে দাঁড়াও বলছি পথের মোড়ে টিচ করতে লজ্জা করে না?
জ্যাকিঃ লজ্জা করবে কেন বরঞ্চ, আনন্দ পাচ্ছি মজা পাচ্ছি। আরে রকির চেযে আমাদের কম আছে। যা চাইবে তাই দেব শুধু একটু হাহাহাহা (হাসি মুখে হাত দেবে )
বেবিঃ (চড় দিয়ে )সস্তা ভাবিস।
জ্যাকিঃ( চড় হজম করে) কেউ দেখিনি। তোরাও দেখিসনি। যাক নরম হাতের ছোঁয়া পেয়ে বড়ই ধন্য হলাম। শোন বেশি দেমাগ দেখাস নে সস্তা না দামী সব জানা হয়ে গেছে রে। প্রয়োজন হলে চলে আসিস।
বেবিঃ আর একটা গাল বাকি আছে। থু ( থুতু ছিটিয়ে বেবি চলে আসবে)দৃশ্য।। ১৫।। দিন।।রেল স্টেশন।।
চরিত্রঃ রতন, বেবি
ট্রেন আসছে বেবি দৌড়ে যাবে ট্রেনের দিকে। রতন লক্ষ্য করে পিছন থেকে ডাকতে ডাকতে বেবি কে ধরে ফেলবে।রতনঃ (প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে বেবি ট্রেন রাস্তা দিয়ে হেঁটে দৌড় দেবে।) বেবি না । হাঁ বেবি তো।
বেবি। বেবি দাঁড়াও বলছি। ট্রেন এসে পড়েছে। (বেবির হাত ধরেই এক ঝটকায় সরিয়ে আনবে ট্রেনটা দ্রুত চলে যাবে ) একি করছিলে তুমি।
বেবিঃ হাত ছাড়ো । আমাকে কেন বাঁচাতে এলে।
রতনঃ একজন মানুষ অন্য এক জন মানুষকে বাঁচাবে এটাই মানুষের দায়িত্ব এবং কর্তব্য।
বেবিঃ আর যে মানুষ গুলো মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয় তারা।
রতনঃ তারা মানুষ নামের কলঙ্ক। অমানুষ
বেবিঃ কলঙ্কের দাগ মুছে ফেলতে চেয়েছিলাম তুমি আমাকে আটকালে কেন? আমার ফেরার কোন পথ নেই।
রতনঃ আমি আছি।
বেবিঃ আমাকে করুণা করবে?
রতনঃ যাকে তুমি করুণা ভাবছো সেটা আসলে মনুষ্যত্ব বোধ।
বেবিঃ সব পুরুষই একই চরিত্রের।
রতনঃ তোমার দেখা পুরুষ আর সমগ্র পুরুষ এক নয়। তুমি দেখছো সেই পুরুষকে যে তোমার পিছনে ঘুর ঘুর করে, তোমার রূপের প্রশংসা করে , মনের কোণে প্রেমের ফুল ফুটিয়ে মধু নিয়ে কেটে পড়ে। তুমি দেখনি সেই শান্ত পুরুষটিকে যে তোমাকে নয়ন ভরে দেখেছে। কখন কিছুই বলতে পারিনি। ভেবেছো বোকা আন স্মার্ট । তোমার যোগ্য নয়।
বেবিঃ এমন করে কখনো ভাবিনি।
রতনঃ এই না ভাবাটাই হচ্ছে তোমার মতো সুন্দরী মেয়েদের ভুল। তারা ঐ সমস্ত ছেলেদের প্রায়োরিটি দেয় । শেষে ঠকে।
বেবিঃ এ তুমি কি বলছো।
রতনঃ তোমার জন্মদাতা পিতা তিনি ও একজন পুরুষ। তোমার মায়ের পিতা তিনি ও একজন পুরুষ। ভালো লাগা এবং ভালোবাসা এক নয় । ভালোলাগা হচ্ছে মোহ। ভালোবাসা হচ্ছে বিশ্বাস ।মোহে পড়ে নিজেকে অন্যের কাছে মেলে ধরলে ব্যক্তিত্ব থাকে না। চরিত্রের অধঃপতন হয়।
বেবিঃ আসলে ভুল আমার। আমাদের মতো মেয়েদের। আমারা না বুঝেই কিছু পুরুষের কাছে নিজেকে সস্তা করে তুলি।
রতনঃ তুমিএত সস্তা না। যাকে বিশ্বাস করেছো সে তোমার মূল্যয দিতে জানেনা । আর যে তোমার সত্যিকারের এর মূল্যয দিতে জানে তাতে তুমি দেখতেই পাওনি। তোমার তোমার চোখে ছিল অন্য মোহ। পিছনেেে যা ঘটেছে ধুলোর মতো এক নিমিষে ঝেড়ে ফেলে দাও সহজ হবে।একটা ছোট খাটো চাকুরী পেয়েছি। সমস্যা হবে না।
বেবিঃ কিন্তু
রতনঃ কোন কিন্তু নয়,আমি সব জানি। সেদিন——–।
।। ফ্লাশব্যাক।।
দৃশ্য।। ১৬ ।। দিন ।। পার্ক
চরিত্রঃ ছন্দা ও রতন
রতন পার্কে একটি বেঞ্চে বসে আছে, ছন্দা সামনে দিয়ে হেঁটে যেতেই রতনকে দেখে কাছে আসে।ছন্দাঃ রতন তুমি এখানে একা একা বসে কি করছো?
রতনঃ আপু আজ ছুটির দিন অফিস বন্ধ তাই ভাবলাম পার্কে এসে একটু ঘোরাফেরা করি। হেঁটে এসে এইমাত্রর বেঞ্চে বসলাম। ছন্দা আপু আপনি এ সময় কোথায় যাচ্ছেন?
ছন্দাঃ আমারও আজ অফডে ছিল তাই ভাবলাম পার্কের রাস্তায় একটু হাঁটাহাঁটি করি। যাক ভালই হল তোমার সাথে দেখা হয়ে গেল।
রতনঃ যদি মনে কিছু না করেন তাহলে বসে বসে গল্প করি।
ছন্দাঃ তুমি তো আমার ছোট ভাইয়ের মতো সমস্যা কি আচ্ছা। এইতো বসলাম এবার খুশি।
রতনঃ আচ্ছা রতন তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করবো তুমি তো বেবি কে চেনো তাই না।
রতনঃ বেবি আমার ক্লাসমেট।
ছন্দাঃ কথাটা কিভাবে বলি বেবির ভাইয়ার সাথে আমার সম্পর্ক তো জানো।
রতনঃ সে তো জানি। আপনাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব। রায়হান ভাইয়ের সাথে তো আপনার বিয়ে হওয়ার কথা।
ছন্দাঃ হ্যাঁ সবই ঠিক আছে বিষয়টা কিন্তু সেদিন বেবি এসেছিল আমার কাছে। ও শারীরিক সমস্যা নিয়ে পরে চেকআপ করে দেখলাম সন্তানসম্ভাবনা। তো আমি কিছুতেই হিসেব মিলাতে পারছিনা ওরতো বিয়েই হয়নি। আমি তো জানতাম যে তুমি বেবিকে পছন্দ করো।
রতনঃ এসব কি বলছেন আপু বেবির এই অবস্থা ! আমি বেবিকে পছন্দ করি চেয়েছিলাম ওকে বিয়ে করব এখন একটা ভালো চাকরি করছি। বিয়ে করবো বলে মনস্থির করে রেখেছি কিন্তু ইদানিং রকি নামে আমাদের শহরের বড় ব্যবসায়ীর ছেলের সাথে ঘোরাফেরা করতে দেখছি। আমার ওদের মতো পয়সা নেই ঠিক আছে। আমার কাছে ভালোবাসার মূল্য বেশি। বেবি আমাকে তেমন পাত্তা দিত না। এখন আমার বুঝতে বাকী নেই ঘটনা কি ঘটেছে।
ছন্দাঃ রতন তোমাকে একটা অনুরোধ করবো আমি রায়হানকে এসব ব্যাপারে কিছু বলিনি আমি জানি রায়হান তার ছোট বোনকে অনেক বেশি ভালোবাসছে আর এই বোনের কারণেই আমাদের বিয়েতে দেরি হচ্ছে। রায়হানকে বিয়ের চাপ দিলেই বলে বোনটাকে পাত্রস্থ করতে পারলেই সে বিয়ে করবে।
রতনঃ আমি রায়হান ভাইয়া়ের কনস্ট্রাকশন ফার্মে একাউন্টসে চাকরি করি। কি অনুরোধের কথা বলছেন আপু?
ছন্দাঃ আমার মনে হয় ছেলেটি ভালো না। বেবির মনের অবস্থা ভালো মনে হলো না। আমার মনে হয় ওই ছেলেটার কাছ থেকে প্রতারিত হচ্ছে তুমি একটু খেয়াল রেখো।
রতনঃ আর বলতে হবে না আপু আমি সব বুঝতে পেরেছি আর আপনি যে দায়িত্বের কথা বলছেন সমস্যা নাই।।। ফ্লাশ ইন।।
দৃশ্য।। ১৭ ।। দিন।।রেল স্টেশন।।
চরিত্রঃ রতন, বেবি
বেবি ট্রেন রাস্তার পাশে কথা বলছেরতনঃ ও আমার পরিচয়ে বড়ো হবে। হাতটা এবার ধরো।
বেবিঃ শুধুু একটা অনুরোধ আমার এই ভুলের জন্য কখনো খোটা দিওনা। তখন আর সইতে পারবো না।
রতনঃ সেই বিশ্বাস তুমি আমার উপর রাখবে। তোমার বিশ্বাসের মূল্য অটুট থাকবে।
বেবিঃ সেই বিশ্বাস আমি অনুভব করছি। তুমি যখন আমাকে নতুন ভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখালে আমি জানি আমার স্বপ্ন মিথ্যা হবে না। আগে আমি ছিলাম একটি ঘোরের মধ্যে। এখন বাস্তবে আছি । ( গানটি বাজাবে)।।গান ।।
আমার কিছু ভুল ছিল
ধরে ছিলাম বাজি
ভুল গুলো সব ফুল হয়ে যাক
জীবন সাজাতে আজি ।।চলার পথে পায়ে পায়ে
ফোটে কত কাঁটা
তবু কি মানুষ থমকে যায় বন্ধ করে হাঁটা
নতুন দিনের ছোঁয়া নিতে
আঁধারের কারসাজি।।চলার পথের বাঁধা গুলো যাবে ধুলায় মিশে
মিলন স্রোতে রাগ অভিমান
থাকবে বলো কিসে
ভালোবাসার মূল্য দিতে
মানতে সবই রাজি।।
০৯/০৪/২০২০
বৃহস্পতিবার
গান শেষ হলে বলবে
রতনঃ এসো ভালবাসার ফুল দিয়ে তোমার ভুল গুলো ঢেকে দেই।
আমার হাতটা শক্ত করে ধরো। কখনো ছাড়বে না।
বেবিঃ( হাসতে হাসতে ঠিক আছে মিষ্টার, ঠিক আছে।) (ট্রেন রাস্তা দিয়ে হেটে এগিয়ে যাবে)
The End২২/১১/২০১৯/শুক্রবার
আবুল হাসান তুহিন
গীতিকার নাট্যকার নাট্য শিল্পী বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন।
3 Comments

Abul Hasan Tuhen
Friends
abrar
@abrar
জামান বারভী
@zamanbarovi
MUHAMMAD TAHSEEN
@muhammadtahseen
Kokeshas King
@kokeshasking
মোরশেদ সাকিব
@morshedsakib
Ekhtiar Uddin
@ekhtiar2003
ইভান
@ivan
মো: ফারহান হাবীব
@farhan-habib
Masfi K
@masfi-mohammad



অনবদ্য রচনা। শুভেচ্ছা ও ভালবাসা নেবেন।