Profile Photo

অয়ন আবদুল্লাহOffline

  • ayonpuran09
  • Profile picture of অয়ন আবদুল্লাহ

    অয়ন আবদুল্লাহ

    3 years, 6 months ago

    শান্তা লজ (পর্ব ১)

    – অয়ন আবদুল্লাহ

    II

    ‘আঞ্জুমান মফিদুল’ এর ভ্যানটা যখন ‘শান্তা লজ’ এর সামনে এসে দাঁড়াল‚ রাত তখন দুটো বেজে দশ। সমস্ত শহরটা ঘুমিয়ে আছে। গত দশদিন পর আজ সন্ধ্যা থেকেই টিপ টিপ বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। সেটা এখন তুমুল আকার ধারণ করেছে, সেই সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। এক কথায় দুর্যোগ। দিনটা তবু কিছু ভাল ছিল। সন্ধ্যা থেকে বৃষ্টির তেজ আরও বেড়েছে। অগত্যা সরু গলিটা প্রায় সুনসান। জনমানুষ তো ছার‚ একটা বাইক বা গড়িও নেই। অবশ্য এতো রাতে কেই-ই বা থাকবে। ভরসা বলতে সিটি কর্পোরেশনের ল্যাম্পোস্টের আলো, তাও আবার জ্বলে তো জ্বলে না। এই দুর্যোগের রাতে তাতে অন্ধকার দূর হয়েছে সামান্যই। সেই আধো অন্ধকারে প্রায় ভুতের মতো দাঁড়িয়ে পুরোনো দিনের ছোট দু’তলা বাড়িটা। ‘শান্তা লজ’। ভ্যান থামিয়ে সাবধানে সেই বাড়ির দিকে তাকালাম।

    ‘শান্তা লজ’ বাড়িটা তৈরি হয়েছিল বহু আগেই। লতার মা শান্তা আক্তারের নামে এই বাড়িটার নামকরণ হয়। লতাই বলেছিল সেই কথা। আমি বাড়িটা চিনি। বেশ কয়েকবার আসা হয়েছে। নিজের হাতের রেখাগুলোর মতোই এই বাড়ির প্রত্যেকটা কোণ আমার মুখস্ত। হ্যাঁ, আজও আমি বলতে পারি, বাড়িটার কোথায় কোন জিনিসটা আছে। তবে সেটা বহুদিন আগের কথা। এর মধ্যে হয়তো বাড়ির ভেতরে অনেক পরিবর্তন এসেছে।

    আমার মনে একটা জিনিসই বাজছে- এই বাড়ির একটা রুমে লতা লাশ হয়ে আছে- আর তাকে পাহারা দিচ্ছে উনিশ-বিশ বছরের একটা ছেলে। মড়া বা লাশ নিয়ে অবশ্য আমার কোনো অ্যালার্জি নেই। ঢাকা শহরের টপ রেটেড মাস্তান- একটা লাশ আমার কাছে অকজো বাতিল জিনিস ছাড়া আর কিছুই না। সেই আঠারো থেকেই এই লাইনে আছি। অনেক অনেক লাশ এইভাবেই গুম করেছি। রাত দুপুরের বেরোতে হয় হামেশাই। কিন্তু কেন জানি, আজকের এই সামান্য কাজটাই করতে মন সায় দিচ্ছে না। সেই খুতখুতে ভাবটা আবার ফিরে আসলো। সেই বারো বছর আগে এক রাতে প্রথম যেদিন মার্ডার করি, আলেক আফসার- নামটা এখনো মনে আছে, সেটাই ছিল সব’চে বাজে অভিজ্ঞতা। সেই স্মৃতি আজও তাড়া করে বেড়ায়।

    রাত বারোটায় বের হয়েছি। ঘুম ভাঙতেই দেখি, রেনল্ট আমার পায়ের কাছে গুটিসুটি মেরে ঘুমিয়ে আছে। রেনল্ট আমার বেড়াল। ওকে খাবার দিয়ে আমি বেড়িয়ে পড়েছিলাম। রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ পাঁচ নম্বর গ্যারেজে পৌছাই। সেখান থেকে এই ছাপ মারা ভ্যানটা নিয়ে বের হই ‘শান্তা লজে’র উদ্দেশ্যে। পথে গাড়ি ঘোড়ার ভিড় নেই। দু’একটা ভারী ট্রাক বা রিক্সা, ব্যস ঐ পর্যন্তই- লোকজনও নেই। প্রায় নির্জন রাস্তায় পুরোনো বাড়িটার সামনে যখন ভ্যানটা দাড় করালাম, বৃষ্টির বেগ আরো বেড়েছে। প্রায় ভূতের মতো দাঁড়িয়ে ভিজছে ‘শান্তা লজ’। মেইন গেটটা আধখোলা অবস্থায় আছে। একটা প্রশ্ন মনে আসলো, বাড়িতে সিকিউরিটা বা দারোয়ান নেই নাকি? কিন্তু ভাল করে নজর করতে ভুল ভাঙল। গেটের পাশেই একটা ছাউনি মতো ঘর। সেই ঘরে একটা চ্যাংরা মতো ছেলেকে দেখতে পেলাম। হাতে সিগারেট, ঘন ঘন আগুন জ্বলছে নিভছে। বুঝলাম, এ ব্যাটাও ঘাবড়ে গেছে। অবশ্য সেটাই স্বাভাবিক।

    ভ্যানটা গেটের পাশে এনে রাখলাম। চ্যাংরাটা উকি দিয়ে তাকালো, তারপর হাতের সিগারেটটা ঝটপট ফেলে দিয়ে উঠে দাঁড়ালো। আমাকে এই ছেলে চেনে না; ভ্যান থেকে নেমে গেটের পাশে ছাউনি ঘরটার সামনে দাঁড়ালাম। জানালার ফাঁক দিয়ে ছেলেটা জিজ্ঞেস করলো, “কারে চাই?”

    “তোমারে চাই না। ভিতরে যেই মহিলা আছে, তারে চাই। ইস্কান্দার পাঠিয়েছে আমাকে।”

    “ও, বস আপনে আসছেন? আপনের জন্যে সেই…”

    থামিয়ে দিলাম ওকে, “চুপ করো। গেটের ভিতরে ঢুকলাম আমি। “দারোয়ান কই?”

    “আমিই দারোয়ান। আমার নাম সুলেমান মিয়া। গত তিনমাস ধইরা আছি এই বাড়ির চৌকিদারিতে…”

    ছেলেটা হয় বাচাল টাইপের, নইলে এতক্ষণ পর আমাকে পেয়ে ভয় কেটে যাওয়ায় ফটফটানি বেড়েছে। আমি আর কথা বাড়ালাম না। সুলেমানকে পিছনে নিয়ে ঢুকে পড়লাম বাড়ির ভেতরে। পিছনে সুলেমান ভন ভন করেই যাচ্ছে, আমার কানে ঢুকছে না সে সব।

    একটা ভারী কাঠের দরজা, পাশেই কলিং বেলের সুইচ। কিন্তু সেটাতে চাপ দেবার প্রয়োজনই নেই। ধাক্কা দিতেই খুলে গেল পাল্লা। তেমন বড় বাড়ি নয়। বাইরে থেকে আওয়াজ পাওয়ার কথা। কিন্তু কিছুই শুনতে পেলাম না।

    সোলেমান কি যেন জিজ্ঞেস করলো। আমি এই প্রথম ছেলেটার দিকে ভালো করে তাকালাম। রোগা পাতলা একটা শরীর। মাথায় কদমছাঁট চুল। হলদে ফ্যাকাসে শরীরে একটা মিলিটারি টাইপ ঢোলা টি-শার্ট আর জিন্স প্যান্ট পরে আছে। আধো অন্ধকারেও হাড় সর্বস্ব বুকের পাঁজরা গুনে নেওয়া যাবে বলে মনে হলো আমার। রোগা–পাতলা মানুষ কম দেখিনি‚ কিন্তু এমন আগে দেখেছি বলে মনে করতে পারলাম না। ছেলেটা যেভাবে স্থির হয়ে তাকিয়ে আছে‚ যেন জীবন্ত একটা লাশ। ঘাবড়ে গিয়ে সামান্য একটু পিছিয়ে গেলাম। সুলেমান মিয়া দু’পাটি হলুদ দাঁত বের করে ঘরঘরে সুরে বলল‚ “বস‚ ডরাইছেন নাকি? ডরায়েন না, ডরায়েন না।” বলেই একটা বিটকেলে হাসি হাসলো।

    মেজাজটা এমনিতেই ভালো না, তারপর ঐ বিটকেলে হাসি শুনে পিত্তি জ্বলে গেল আমার।

    “কোন রুমে?”

    “ওই পাশের রুমটাতে, বস। শুয়ায়া রাখছি পলিথিনে মুড়ায়া য্যান গন্ধ না ছুটে।”

    পাশের রুমটা বেডরুম। আমি এগিয়ে গেলাম ওদিকে। কারেন্ট নেই এলাকায়। লোডশেডিং। সম্ভবত ট্রান্সফর্মার বার্স্ট করেছে কোথাও। মোমবাতির আলোয় আধো অন্ধকার আধো ছায়ার একটা খেলা চলছে ঘরের কোণগুলোতে। হঠাৎ খেয়াল হলো, ভ্যানে গ্লাভস জোড়া ফেলে এসেছি। সুলেমানকে বলতেই ও গিয়ে নিয়ে এলো এক দৌড়ে, প্রায় হাওয়ার উপর ভেসে।

    গ্লাভস হাতে পরতে পরতে সোলেমানকেও বললাম পরে নিতে। সোলেমান ক্যাবলার মতোন তাকিয়ে থাকলো।

    “কী হলো, তাকিয়ে আছো কেন? গ্লাভস পরতে বললাম যে?”

    “বস, আমার গ্লাভস নাই। মানে ইস্কান্দার ভাই তো বলে নাই…”

    ইস্কান্দারের মা বাপ তুলে মনে মনে বেশ কটা গালি দিলাম। এতদিন ধরে আছে আমার সঙ্গে, আমার কাজের ধরন ধারণ এখনও বোঝে না ব্যাটা!

    সুলেমানকে বললাম, “যাও হাতে অন্তত পলিথিন জড়িয়ে নাও। আমি এই রুমে কারো হাতের ছাপ চাই না। কুইক।”

    সুলেমানকে অর্ডার দিয়ে আমি এগিয়ে গেলাম লতার মৃতদেহের কাছে। খুব যত্ন করে পলিথিনে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে ওকে। পলিথিনিটা রক্তে মেখে আছে ভেতরের দিকে, লেপ্টে আছে লতার শরীরে। ভালো করে খেয়াল করলাম। স্বচ্ছ পলিথিনের মধ্যে দিয়ে দেখা যাচ্ছে লতার কুঞ্চিত মুখের পেশী। দাঁত দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে খুন হবার আগেই বুঝতে পেরেছিল যে মরতে যাচ্ছে। রুমে কোনো ধস্তাধস্তির আলামত পেলাম না। অবশ্য ইস্কান্দারের যা শরীরের গড়ন, ধস্তাধস্তির তো প্রশ্নই আসে না। গালের পাশে একটা দাগ দেখলাম। কিসের দাগ, সেটা মোমবাতির আলোয় বোঝা যাচ্ছিলো না। হাতদুটো মুষ্টিবদ্ধ, বোধহয় কিল মারতে চেয়েছিলো। আমার মনের ভেতর সেই খুতখুতে ভাবটা আবার হলো।

    হঠাৎ একটা শীতল বাতাসের ঝাপটা পেলাম গায়ে, ঘাড়ের কাছে কেমন যেন শিরশির করে উঠলো। ঝট করে পেছনে তাকালাম, দেখলাম জানালার পর্দাগুলো কাপছে থির থির করে। পিস্তলটা বের করে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলাম জানালাটার দিকে। স্বীকার করছি, ভয় লাগছে। হ্যাঁ, আমি ভয় পাচ্ছি। সুলেমানের নাম ধরে যে ডাকবো, সেটাও ভুলে গেছি। ব্যাটা দু’টো পলিথিন জোগাড় করতে গিয়ে যে কই গেছে, আল্লাহ মালুম।

    জানালাটার সামনে এসে দাঁড়ালাম। ঘরের ভেতর একটা গুমোট ভাব। জানালার সামনে আসতেই তাজা একটা বাতাস ফুসফুসে ঢুকে গেল। একটা পাল্লা সামান্য ফাঁক করা, খুব বেশি না। সেটা দিয়েই বাইরের ঝড়ো বাতাস ভেতরের ঢুকছে অল্প অল্প। আর তাতেই কাঁপছিল পর্দাটা।

    একটা স্বস্তি পেলাম। ফিরে এলাম লতার কাছে। এখনো দাঁত মুখ খিচিয়ে শুয়ে আছে লতা। একটা সিগারেট জ্বালালাম। লতা সিগারেট খেত। এশট্রেটা দেখতে পেলাম বেডসাইড টেবিলের উপর। ওটা হাতে নিয়ে বসলাম রুমের ছোট্ট সোফাটার উপর। মনে কিছু একটা আসি আসি করেও আসছে না। একমনে ধোঁয়া উড়িয়ে যাচ্ছি আর ভাবছি।

    হঠাৎ মনে হল, ঘরে আমি ছাড়াও আর কেউ আছে। তাড়াহুড়ো করে নয়, আস্তে আস্তে পুরো ঘরটায় নজর বোলালাম। নাহহ… কেউ নেই। গরম লাগছে, শরীরের সঙ্গে শার্টটা চেপে বসেছে ঘামে। সুলেমান ব্যাটা কি মরে গেল নাকি! হঠাৎ মনে হলো সত্যিই কেউ একজন আছে ঘরটাতে, আমি ছাড়াও। আর সে আছে আমার ঠিক পেছনেই। ভয়ে শিরদাঁড়া দাঁড়িয়ে গেল আমার। উঠে দাঁড়ালাম। এলোমেলো হাঁটতে লাগলাম ঘরের ভেতর। মনে হচ্ছে, কেউ একজন মাত্র আধা ইঞ্চি দুরত্বে হাঁটছে আমার সঙ্গে পেছন পেছন। রিভলবারটা হাতে নিলাম। সেফটি ক্যাচ অফ করে ঘরের এক কোণা থেকে আরেক কোণায় পায়চারি করতে লাগলাম। বুকের ভেতর হাতুড়ীর বাড়ি পড়ছে। জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে, তবে আগের চাইতে কিছুটা কমেছে। পাল্লা খুলে দিলাম। ভেতরে যেন আছড়ে পড়লো কোনো ভয়াল দানবের গোঁ গোঁ আওয়াজ। পুরো পৃথিবীটা যেন তড়পাচ্ছে তার মুঠোয়। ভয় লাগছে, পেছনে তাকালেই যেন ঘাড়টা মটকে দেবে কেউ।

    হঠাৎ ঘাড়ে একটা হাতের চাপ। ঠাণ্ডা একটা হাত, কাপড় ভেদ করে যেন তার শীতলতা ঢুকে যাচ্ছে ভেতরে। শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। ঠিক বুঝেছি, কেউ একজন আছে এই ঘরে। আমি আর কে? লতা? কিন্তু লতা তো মৃত, শুয়ে আছে একটা লাশ হয়ে… ঐ বিছানায়…।

    বিছানায়…! বিছানাটা খালি! লাশটা নেই ওখানে! দেখলাম, হাতের মালিকটি আর কেউ না, স্বয়ং শয়তান, হারামজাদা, মড়াখেকো সুলেমান মিয়া। আমার দিকে কেমন একটা শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।

    “কোথায় ছিলে সুলেমান মিয়া?” রেগে জানতে চাইলাম আমি।

    ডান হাতটা দেখালো সুলেমান। একজোড়া পলিথিন।
    পলিথিন!

    “এই সামান্য পলিথিন আনতে এতক্ষণ লাগে তোর?” মেজাজ খারাপ, তাই তুমি থেকে আপনা আপনিই তুইতে চলে গেলাম।

    “চিল্লায়েন না বস।” সুলেমান বেশ গম্ভীর। “আশেপাশে মানুষ জাইগা যাইবো, তার উপরে জানলাটা দিছেন খুইলা।”

    “কই ছিলি, সেটা বল।”

    “অত কথার দরকার নাই। চলেন, কাম জইমা আছে আপনের।”

    কাজ! হঠাৎ মনে পড়লো। কিন্তু ডেডবডিটা কই!! হাতের ইশারায় ওকে দেখালাম শূন্য বিছানাটা।

    “কি দেখান, বস?”

    “লাশ! কই সেটা?” জিজ্ঞেস করলাম আমি।

    “কই মানে?” সোলেমান অবাক হয়। “যেইখানে থাকার সেইখানেই আছে!” আপনে কী নেশা করছেন, বস?”

    আমি ঝট করে তাকালাম বিছানাটার দিকে। শুয়ে আছে লতা মজুমদার, ঠিক যেমন ছিল তেমন ভাবে!

    কিন্তু… কিন্তু… একটু আগেও দেখেছিলাম, লাশটা ছিল না। বিছানায় ছিল না লাশটা!

    ঘরঘরে স্বরে সুলেমান জানতে চাইল, “আপনে ঠিক আছেন, বস?”

    মাথা নেড়ে জানালাম, আমি ঠিক আছি। কিন্তু, আসলেই কি আমি ঠিক আছি? এই আধো আলো-ছায়া ঘেরা ঘরে একটু আগে আমার সঙ্গে যা হলো, সেটা কী ঠিক থাকতে দেবে অন্য কোন সাধারণ মানুষকে?

    যাই হোক, এখন এসব কথা বললে হয়তো হারামিটা মজা নেবে আমার সঙ্গে; তার থেকে এই বিষয়ে চুপ থাকাই শ্রেয়। বললাম, “পলিথিনটা ভালো করে হাতে পেচিয়ে ফ্যালো।”

    সুলেমান পলিথিন হাতে পেচাতে পেচাতে জিজ্ঞেস করল, “কি হইছে বস? আপনের কন্ডিশন দেইখা মনে হইতেছে ভূতে ধরছিলো আপনারে। ঘটনাটা কী? আমারে তো ইস্কান্দার ভাই কইলো, এইসব নাকি আপনের কাছে দুধ-ভাত।”

    ‘কিছু হয় নাই। ঘরটা গুমোট হয়ে গিয়েছে, তাই হয়তো এমন লাগছে। বাইরে তাজা বাতাসে সব ঠিক হয়ে যাবে। হলো তোমার? এসো, সাহায্য করো আমাকে।”
    (২য় পর্বে সমাপ্য)

    7
    6 Comments

Friends

Skip to toolbar