Profile Photo

মীর রাফিদ হোসেনOffline

  • rafid567@
  • Profile picture of মীর রাফিদ হোসেন

    ঘোষ ভান্ডার
    আপনি রংপুর শহরে আছেন কিন্তু এই ঘোষ ভান্ডার অথবা নিপেনের নাম শুনেননি এমনটা হতে পারে না । আজকে এই ঘোষ ভান্ডার নিয়ে একটি গল্প শোনা যাক , যেই গল্প তৈরি ইতিহাস , ইমোশন আর হালকা টুইস্টের সংমিশ্রণে ।
    রংপুরে আমরা এমনভাবে স্থানীয় যে ছোটবেলায় আব্বুর কাছে নতুন কোনো হোটেলে খাবার আবদার করলে ঘুরে ফিরে ওই ঘোষ ভান্ডারের কচুরি আর গরম সিঙ্গারাই জুটত। বাপ চাচাদের যুক্তির কারনটা খুব স্বাভাবিক ছিল যে আমার দাদুও নাকি আব্বুদেরকে একই হোটেলে খাওয়াতো । আমার কাছে ঘোষ ভান্ডারের ইতিহাস এভাবেই পরিচিত।
    তো এই ঘোষ ভাণ্ডারে এক বয়স্ক লোক ছিল নাম আব্দুল । ভদ্রলোকের বিশেষত্ব হচ্ছে আমি আমার শৈশবকালে ইনাকে যেমন দেখেছিলাম আমার যৌবনকালেও উনার চেহারার বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি। ভদ্রলোকের কাজ ছিল হোটেলের কাস্টমারদের পানি দেওয়া আর মাঝে মাঝে বিশেষ কাস্টমারদের হাত ধুয়ে দেওয়া।এই বিশেষ কাস্টমারদের মধ্যে আমি এবং আমার বাবাও ছিল। ঘটনা হলো আজ থেকে দুই বছর আগে হঠাৎ করে জানতে পারি আব্দুল কে হোটেল থেকে বিদায় দেওয়া হয়েছে । ব্যাপারটা আমার কাছে আসলেই ইমোশনাল ছিল কারণ ছোটবেলা থেকেই এই আব্দুল ঘোষ ভান্ডারে আমার সাথে সুপরিচিত ছিল । ব্যাপারটা আরো ইমোশনালে পরিণত হলো যখন জানতে পারলাম আব্দুল নাকি এখন একজন ভিক্ষুক । ব্যাপারটা খুব বেশি অবাক করেছিল আমায়। বুঝতে দেরি হলো না হয়তো বয়সের জন্যই আব্দুল কে হোটেল ছাড়া করা হয়েছে।
    এবার আসা যাক টুইস্ট পর্বে,এই কিছুক্ষণ আগেই ঘোষ ভান্ডার থেকে গুড়ের সন্দেশ কেনার সময় হঠাৎ করে হোটেল মালিকের সাথে কথা হচ্ছিল। কথার একপর্যায়ে আবদুলের টপিক যখন আসলো তখন আসলেই মাথা হ্যাং হয়ে গেল, কারণ এতদিন পর আব্দুলের আসল সত্য জানতে পারলাম,হোটেল মালিকের কাছে। শুনলাম আব্দুল নাকি স্বেচ্ছায় হোটেল থেকে বের হয়ে গিয়েছে।
    তার শেষ কথা নাকি অনেকটা এমন ছিল,”এই হোটেলের কাজ করে আর কয় টাকা পাই তার চেয়ে ভাল ভিক্ষা করি কারণ ভিক্ষা করেই আমার দিনে ৫০০ টাকা আসে।”
    আব্দুলের পেশা নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নেই কিন্তু আমার সমস্যা হচ্ছে আব্দুলের সিদ্ধান্ত নিয়ে। হোটেলের একটা সম্মানের পেশা ছেড়ে আবদুলের কি ভিক্ষা করা আসলেই ঠিক হয়েছে ??

    4
    10 Comments
Skip to toolbar