-
ভদ্রলোকের ব্রাশ
মূলঃ সাদাত হাসান মান্টো
অনুবাদঃ অয়ন আবদুল্লাহ
(শেষ পর্ব)
♠
কাকতালীয়ভাবে, আমার শ্যালক যে অমৃতসরের অনারারি কীসের এক ম্যাজিস্ট্রেট ছিলো, আল্লা মালুম- তারই সাথে একটা পার্টিতে যাইতে হইছিল। নয়া জেলা প্রশাসক নিয়োগরে কেন্দ্র কইরা কি যেন অনুষ্ঠান ছিল তা এখন ভালোভাবে মনে নাই। সেইখানে এই লোকরে দেখলাম, একই কালো পোশাক পইরা সম্মানিত ও অভিজাত ব্যক্তিদের চারপাশে ঘুইরা বেড়াইতেছিলো। আধ ঘন্টার মধ্যে, কোনোরকম অভদ্রতা না কইরা, চিকন চিকন আঙ্গুল দিয়া সে বাইছা বাইছা কয়েকটা রুশের কোট পরিষ্কার করলো। সে কারো কলার থেইকা চুল উঠাইতাছিলো, কারো কোটের পেছন থেইকা। আবার কারো কারো বক্তব্য বুঝতে না পারলেও রুমাল দিয়া ধুলো ঝাইড়া সবার কাছ থেইকা ধন্যবাদ আদায় করতেছিলো।
অনেক সাহস নিয়া সে জেলা প্রশাসক বাহাদুরের কাছে গিয়া প্যান্ট পরিষ্কার কইরা দিলো। জেলা প্রশাসক সাহেব ছিলেন ইংরেজ। তিনি তার হৃদয়ের গভীর থেইকা ভদ্রলোকের ব্রাশকে ধন্যবাদ জানাইলেন।
তারপর একদিন রাইতের বেলা। হালকা বৃষ্টি হইতেছিলো আর হাফিজ পেইন্টারের দোকানে আমরা হুইস্কি পান করতে করতে ফটোগ্রাফার মাশুক আলীর গান শুনতেছিলাম। এমন সময় হঠাৎ দোকানের দরজা খুইলা গেল আর ভদ্রলোকের ব্রাশকে দেখা গেলো। তিনি আমাদের সবাইকে সালাম দিয়া বললেন, “আমি পাশ দিয়াই যাইতেছিলাম। গানের আওয়াজ শুনতে পাইয়া আসলাম। …মাশাআল্লাহ খুব দারুণ সুর। বিনা আমন্ত্রণে আসাটা আসলে ঠিক হয় নাই। কিন্তু…আপনারা যদি আমাকে অনুমতি দেন, আমি কি কিছুক্ষণের জন্য আপনাদের পার্টিতে যোগ দিতে পারি?”
হাফিজ পেইন্টার আর ফটোগ্রাফার সমস্বরে কইলো- অবশ্যই, আসেন আসেন!
মুবারাক বললো, “সাবধানে আসেন, আমার পাশে বসেন। এই সুরের ভুবনে আপনি আমাদের সেবা গ্রহণ করেন।”
সেবা বলতে মুবারাক হুইস্কি বুঝাইতেছে। কিন্তু ভদ্রলোকের ব্রাশ বললো, “না, ভাই। আমি ঈশ্বরের এই দয়া থেইকা বঞ্চিত।”
একটা সময় সবার অনুরোধে সে-ও গান গাইতে শুরু করলো। মাতোদির সুরে সে আমাদের আচ্ছন্ন কইরা রাখছিলো। গান শেষ কইরা সবার কাছ থেইকা বিদায় নিলেন। আমরা সবাই মদে চুর হয়া ছিলাম, ভুইলাই গেছিলাম যে বাইরে প্রচণ্ড বৃষ্টি হইতেছে। কিন্তু ভদ্রলোকের ব্রাশ দরজা খুলতেই কেউ একজন কইলো, “জনাব, বাইরে বৃষ্টি হইতাছে, যাবেন কেমনে?”
আবলুস ব্রাশের ঠোঁটে একটা হাসি ফুইটা উঠল। “চিন্তা কইরো না, এখনই লালা জগৎ নারায়ণ কম্বলের গাড়ি আসবে আমারে নিতে…তোমরা আনন্দ করতে থাকো, চালায়া যাও। ধন্যবাদ!”
এই বইলা সে দোকানের দরজা ভিড়াইয়া দিয়া চইলা গেলো।
এক ঘন্টা পরে বৃষ্টি থামলে আসর ভাইঙ্গা গেলো। আমরা যখন বাইরে আসলাম, তখন আমরা দেখলাম কাদার মধ্যে কেউ একজন অবস্থায় পইড়া আছে। আমি ভাল করে তাকাইলাম এবং চিৎকার কইরা বললাম, “আরে, এইটা তো ভদ্রলোকের ব্রাশ। ”
হাফিজ জড়ায়া জড়ায়া বলল, “আহারে, ভদ্রলোকের এমন হাল! চলো ভায়ারা, সবাই যার যার ঘরে চলো।”
সবাই এই সিদ্ধান্তের সাথে একমত হইল। কিছুক্ষণ পরে যখন তারা চইলা গেল, তখন নিষ্কলঙ্ক কালো জোব্বা পরা সেই লোকটা, যে কিনা রুশেদের কোট পরিষ্কার করছিল, হুশ ফিরা পাইলো। তার পোশাক কাদায় মাখামাখি ছিল, কিন্তু সেইটা পরিষ্কার কইরা দেওয়ার মতো আশেপাশে কেউ ছিল না।
(সমাপ্ত)6 Comments-
-
গল্পটা অল্পতেই শেষ হয়ে গেল! তবে শেষটায় ভদ্রলোকেদের ব্যবহারটা ভালো লাগলোনা! অবশ্য গল্পের আসল টুইস্ট ঐখানেই! সত্যজিৎ রায়ের সেই গান মনে করায়,
“সোনার ফসল ফলায় যে তার
দুই বেলা জোটে না আহার
হীরার খনির মজুর হয়ে কানাকড়ি নাই
ওরে ভাই রে, ভাই রে, কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়” -
-
Friends
Iqbal-Ahmad
@iqbal-ahmad
প্রদীপ্ত লুব্ধক
@shawon-sarkar
Balai-Karmokar
@balai-karmokar
কাব্য রঙ
@mahbuba-hasin
Unaysah-Jannat
@unaysah-jannat
Al-Haj-Abdur-Rouf
@al-haj-abdur-rouf
Ilmu-Jahan
@ilmu-jahan
Shubha-Jit-Datta
@shubha-jit-datta
সাদিক আহমদ সিয়াম
@sdik-5



অভিনন্দন; এত ধৈর্য ধরে অনুবাদের জন্য।