Profile Photo

মীর রাফিদ হোসেনOffline

  • rafid567@
  • Profile picture of মীর রাফিদ হোসেন

    রেস্টুরেন্ট নিয়ে আমার অনেকদিন ধরেই ঘাটাঘাটি চলছে, এমনিতে কোন কিছু করার আপাতত তেমন কোন প্ল্যান নেই কিন্তু রেস্টুরেন্ট ব্যবসা, মার্কেটিং, গ্রোথ কেস স্টাডি পড়তে আমার ভীষণ ভালো লাগে। রংপুরে বাসা হওয়ার কারণে মোটামুটি রংপুরের সব লোকাল ছোট বড় রেস্টুরেন্ট হোটেলে খাওয়া টেস্ট করা হয়েছে আমার। বাবা বৃহত্তর জেলা রংপুর দোকান মালিক সমিতির “যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক” হওয়ায় অনেক রকম ব্যবসায়ীর সাথে ফ্রেন্ডলি কিছু কনভারসেশন এর সুযোগও পেয়েছি অনেক । আমার এই সীমিত জ্ঞানের জোটে ছোট একটি আর্টিকেল লেখার চেষ্টা করছি , জানিনা কতদূর কি লিখব কিন্তু আমার মাথায় সারাদিন ঘুর ঘুর করে এমন অনেকগুলো পয়েন্ট থেকে তিনটি পয়েন্ট তুলে ধরলাম।
    নাম্বার ওয়ান: জেন্ডার ডিসক্রিমিনেশন।
    প্রথম শব্দটি শুনে হয়তো ভাবতে পারেন এটা আবার কি জিনিস। দেখুন রেস্টুরেন্টের কাস্টমারকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। প্রথমত ছেলে আর দ্বিতীয়ত মেয়ে। প্রথমে আসি মেয়েদের ক্ষেত্রে আমার যতটুকু মনে হয় বেশিরভাগ মেয়েরা চায় শহরের ভিতরে যাতে করে সেখানে যেতে বেশি কষ্ট পোহাতে না হয় এমন কোন রেস্টুরেন্ট। আর অবশ্যই অবশ্যই যাতে সেই রেস্টুরেন্ট হয় কিছুটা সেফ আর ছবি তোলার জন্য পারফেক্ট ইনভারমেন্ট। ছেলেদের ক্ষেত্রে সেফ ব্যাপারটা তেমন একটা পরোয়া করে না। মোটামুটি বাজেটের মধ্যে ভরপুর খাওয়া হলে সেটা হবে সবচেয়ে জোশ ব্যাপার। আবার ধরুন রেস্টুরেন্ট বা হোটেলে যাওয়ার সময় যদি কোন অ্যাডভেঞ্চারাস ফিল পাওয়া যায় তাহলে তো কোন কথাই নেই। একটা সহজ উদাহরণ দেই, রংপুর শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে বৈরাগীগঞ্জে গরুর মাংস অনেক বেশি ফেমাস হয়েছে। আমি নিজেও সেখানে দুইবার টেস্ট করেছি যদিও আমার কাছে তেমন আহামরি লাগে নাই কিন্তু রংপুর হিসেবে বেটার টেস্ট ছিল পাশাপাশি মোটরসাইকেলে সেখানে যাওয়ার পথটা ছিল জোস। আমার মনে হয় যে কোন রেস্টুরেন্ট মালিক যদি এই জেন্ডার ব্যাপারটা মাথায় নিয়ে কোন রেস্টুরেন্ট চালানো শুরু করে তাহলে ব্যাপারটা অবশ্যই পজিটিভ দিকে যাবে।
    নাম্বার টু: কোয়ালিটি কি আপেক্ষিক?
    কিছুদিন আগে ইউটিউবে একটা কেস স্টাডিতে প্রথম এই বাক্যটি শুনি। বাক্যটি আরেকটু ক্লিয়ার করা যাক। ধরেন আপনি ধানমন্ডির কোন লোকাল ছেলেকে রংপুরের একটি যেকোনো দোকানের বার্গার টেস্ট করালেন ধানমন্ডির সেই ছেলেটির রংপুরের বার্গার পছন্দ হওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ১০%। কারণ ধানমন্ডির বার্গারের সাথে রংপুরের বার্গারের অবশ্যই টেস্ট কোয়ালিটি ডিফারেন্স হবেই। আবার সেই বার্গার যদি একদম গ্রামের কোন ছেলেকে দ্বারা আপনি টেস্ট করান তাহলে বার্গারটি ভালো লাগার সম্ভাবনা ৯০%। কারণ হয়তো সেই গ্রামে এরকম বার্গার অ্যাভেলেবেল না তাই প্রথম টেস্টে বার্গারটি ছেলেটির ভালো লাগবে। আপাতত এই ছোট বর্ণনায় হয়তো কোয়ালিটি এই ব্যাপারটা যে একেক জায়গায় একেক রকম আপেক্ষিক ভাবে হতে পারে সেটা বোঝাতে পেরেছি।
    নাম্বার থ্রি: লোকেশন কি খুব জরুরী?
    জি হ্যাঁ লোকেশন খুব বেশি জরুরী। ধরেন আপনি মতিঝিলের মত জায়গায় অনেক আলিশান কফি কিংবা বার্গার দোকান দিয়েছেন কি মনে হয় সেখানে এই দোকান চলার সম্ভাবনা কতটুকু?
    এই প্রশ্নের উত্তর ভাবতে ভাবতে আপনাদের জানিয়ে রাখি মতিঝিল মূলত অফিস আদালতের জায়গা এখানে সব মানুষ সব সময় রানিং থাকে ।রানিং বলতে কাজের মধ্যে, হাটার মধ্যে, ব্যস্ততার মধ্যে থাকে তারমানে সেখানে এমন হোটেল আছে রেস্টুরেন্ট দরকার যেগুলো খুব তাড়াতাড়ি আপনাকে খাবার সার্ভ করতে পারে আর অবশ্যই খাবারগুলো বাজেটের মধ্যে থাকে । আবার এরকম রানিং হোটেল বা রেস্টুরেন্টে আপনি যদি ধানমন্ডির দিকে দিতে চান তাহলে হয়তো ব্যবসা থুবড়ে পড়তে পারে।
    আমার মাথায় ব্যবসা, মার্কেটিং,ডাটা নিয়ে দিনরাত আইডিয়া ঘুরতে থাকে। তাই এই ব্যাপারগুলো নিয়ে কিছুটা স্টাডি করি মাঝে মাঝে। আপনাদের কারো এই ব্যাপারগুলো নিয়ে কোনরকম নলেজ শেয়ার করে থাকলে অবশ্যই অবশ্যই আপনাকে ওয়েলকাম।
    আর হ্যাঁ, ব্যবসা-মার্কেটিং – ডাটা নিয়ে ভালো কোন বই পড়তে বা খুঁজতে আমার বুক রিভিউ চ্যানেলটি ঘুরে আসতে পারেন।

    5
    5 Comments
Skip to toolbar