Profile Photo

অয়ন আবদুল্লাহOffline

  • ayonpuran09
  • Profile picture of অয়ন আবদুল্লাহ

    অয়ন আবদুল্লাহ

    3 years, 4 months ago

    ফিসফাস গল্প
    মূল: সাদাত হোসেন মান্টো
    অনুবাদ: অয়ন আবদুল্লাহ

    (১ম পর্বের পর)

    ছোটভাই তাড়াতাড়িই ফিরলো, কিন্তু মুখ গোমরা কইরা ফিরলো। ছোটভাইয়ের পিছনে সাইকেলের ক্যারিয়ারে একটা লোক বইসা ছিলো। বড় ভাইয়ের মনে সন্দেহ দেখা দিলো- নিশ্চয়ই বড়সড় কোনো ঘাপলা হইছে। সাইকেল থেইকা নাইমা ছোট ভাই বিস্তারিত কইলো।
    নতুন বোতল নিয়া যখন সে মদের দোকান থিকা বাইর হইলো, দেখলো একদফা বৃষ্টি হইয়া গেছে। রাস্তাঘাট পুরাই ভিজা। দ্রুত ফিরা যাইতে সে খুব জোরে সাইকেল চালাইতে লাগলো। কিন্তু হঠাৎ কইরা চাকা পিছলায়া গেলে সে সামলাইতে পারে নাই। খোলা রাস্তার উপরে সাইকেল নিয়া পইড়া যাওয়ায় নতুন বোতলটা চুরমার হইয়া গেছে।
    ছোটভাই পুরা ঘটনা বর্ণনা কইরা কইলো- আল্লাহ’র দয়ায় আমি বাঁইচা ফিরছি। যদি ভাঙ্গা বোতলের টুকরা কাপড় ছ্যাদা কইরা আমার শরীরে ঢুকতো, তাইলে এইখানে আসার পরিবর্তে আমারে হাসপাতালে যাইতে হইতো।
    বড়ভাই হাভেভাবে আল্লাহ’র শুকরিয়া আদায় করার কোনোরকম ইচ্ছা দেখা দিলো না। যেই লোক ছোট ভাইয়ের সাথে আসছিলো, তার কাছে আরেক বোতল মদ ছিলো। সেই বোতল দুই ভাইয়ের কাছে বেইচা দিয়া পানের দোকানের দিকে তাকায়া একটা গালি দিলো। তারপর কইলো- শালার দোকানটারে পুড়ায়া দে!
    দুই ভাই জানতো তারা কই যাইবো। চকের এইদিকে একটা কাবাব ঘরের উপরের তলার একটা কামরায় এই দুই ভাই তাদের দুই নম্বরি টাকা উড়াইতো। সেই ঘরে এক মহিলা থাকতো, যে খাইতে খুব ভালোবাসতো। অভ্যাসের দিক থিকা সে বেশ্যার চাইতে কেরানি ছিলো বেশি। দুই ভাইয়ের এই কারণেই তারে অধিক পছন্দ করে। মদ খায়া টাল হওয়ার পর দুই ভাই অফিসের প্যাচাল পাড়তো। হেড ক্লার্কের বর্তমান অবস্থা, বড়সাহেব কী করে, তার কাজের লোকটার বদঅভ্যাস। অফিসের সবার অতীত বর্তমান নিয়া টিপ্পনী মারতে মারতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাইটা যাইতো আর সেই মহিলা খুব মনযোগ দিয়া তাদের কথা শুনতো।
    মহিলাটা দেখতে খুব সুন্দরী। দুই ভাই তার গান এমন গভীর মনযোগ দিয়া শুনতো, যেন তাদের কানে মধুবর্ষণ হইতেছে। কিন্তু আজ গান গাওয়ার সময় সে খেয়াল করলো, দুই ভাইয়ের এইদিকে যেন কোনো খেয়ালই নাই। তাই সে গান বন্ধ কইরা যতটুকু মদ বাকি ছিলো, সেইটা খাওয়ায় মন দিলো।
    মহিলার নাম ছিলো শীদান। সে খুব কম মদ খাইতো। কিন্তু আজ যখন দুই ভাই গানে না মইজা মদে বেশি ডুব দিলো, তখন ভাঙ্গা মন নিয়া সে-ও গিলতে শুরু করলো।
    বড় ভাইয়ের মেজাজ খারাপ ছিলো, কিন্তু ছোট ভাইয়ের মন ভালো দেইখা সে চুপচাপ মদ খাইতেছিলো। কিন্তু এই অবস্থা বেশিক্ষণ থাকলো না। যখন ছোটভাই আবার মদের বোতলটা হাতে নিলো, দেখলো সেইটা পুরা খালি। এইবার দুই ভাইয়ের মন একসাথে খারাপ হইলো।
    বড়ভাই ছোটভাইয়ের সাথে পরামর্শ করার দরকার মনে করলো না। খিস্তি মাইরা কইলো, “যা, দৌ দিয়া একটা জিমখানা হুইস্কি নিয়া আয়।”
    তৃতীয় ব্যক্তি পয়সা পকেটে ঢুকায়া কইলো, “হুজুর এইখানে শুধু কালাপানি পাওয়া যায়।”
    দুই ভাইয়ের মেজাজ চরমে উঠলো। জিদের ঠেলায় বড়ভাই একটা পানির বোতল হাতে তুইলা নিলো। তার মন চাইতেছিলো বোতলটা বেঈমান মদ বিক্রেতার মাথায় ভাঙ্গে। কিন্তু সাথে সাথেই তার মনে পড়লো, যে তার কাছে লাইসেন্স নাই। তাই, আর কিছু না বইলা সে চুপ হয়া গেলো।
    ছোটভাই আর শাদীন অনেক চেষ্টা কইরা তারে শান্ত রাখলো। খাওয়া দাওয়ার পরে শাদীন হুক্কা টানতে বসলো, আর দুই ভাই তখন আর সেইখানে থাকা উচিৎ হইবো না ভাইবা সাইকেল নিয়া বাইর হইয়া গেলো। তারা কিছুক্ষণ ‘হিরামন্ডি’র অলি-গলিতে সেই দোকানদাররে খুঁজতে লাগলো। সারাদিনে এতো কাহিনী হইছে যে, শেষে শরীর আর নিতে পারতেছিলো না। দুই ভাই বাড়ি ফিরার জন্য যেই রওনা দিবো, তখনই এক ঘটনা দেখলো। দুইভাই এতো গিলছে যে, মাথা আর ঘাড়ের ব্যথায় সামনে তাকাইতে পারতেছিলো না। ভাবলো, আগে থাইমা একজন আরেকজনরে মালিশ কইরা দিবো। কিন্তু তখনই একটা হাবিলদার আইসা সেই লোকটারে ধইরা থানায় নিয়া গেলো, যে তাদের মদ চুরি কইয়া খায়া টাল হয়া আছিলো।
    ছোটভাই কইলো, “ভাই, অহন তামাশা দেখবা।”
    বড়ভাই জিগাইলো, “কার তামাশা দেখমু?”
    ছোটভাই- কার তামাশা মানে?
    বড়ভাইয়ের মুখে একটা অর্থবোধক হাসি দেখা দিলো।
    “কেউ যদি আমাদের চিনবার পারে বা আমাদের মুখে যদি কেউ মদের গন্ধ পায়, তাইলে আমরাই তামাশার বিষয় হইয়া যামু।”
    ছোটভাই বড়ভাইয়ের কথায় ঘাবড়ায়া গিয়া কইলো, “ভাই চলো পালাই। বাড়ি ফিরা যাই।” (
    চলবে)

    7
    6 Comments

Friends

Skip to toolbar