Profile Photo

অয়ন আবদুল্লাহOffline

  • ayonpuran09
  • Profile picture of অয়ন আবদুল্লাহ

    অয়ন আবদুল্লাহ

    3 years, 4 months ago

    ফিসফাস গল্প
    মূল: সাদাত হোসেন মান্টো
    অনুবাদ: অয়ন আবদুল্লাহ

    (দ্বিতীয় পর্বের পর)
    ফাঁক বুইঝা দুই ভাই সাইকেল নিয়া ভাইগা গেলো। একটু আগে বৃষ্টি পড়তেছিলো, এখন থাইমা গেছে। কিন্তু ঠাণ্ডা বাতাসের দাপট সমানে চলতেছে। হিরাবাজার থেকে বের হওয়ার মুখেই দুইভাই তাদের অফিসের এক বড়সাহেবরে দেখতে পাইলো। দুইভাই তারে এড়াইতে চাইলেও সম্ভব হইলো না, সে তাদের দেইখা ফেললো।
    “কই যাও?”, বড়সাহেব জিগাইলো।
    তারা জবাব দিলো না।
    “আরে, কই যাও?” বড়সাহেব আবার জিগাইলো।
    এই অবস্থায় আর এড়ানো যায় না। দুইভাই সাইকেল থামানের পর বড় অফিসার জিগাইলো, “কি, খুব মজা করলা মনে হয়?”
    ছোটভাই কইল,”জি”। বড়ভাই কইলো, “না”।
    বড়সাহেব মজা পাইয়া খুব হাসলো। এরপরে ভদ্রতা কইরা কইলো, “আমার মজা এখনও পুরা হয় নাই। তোমাদের কাছে কি টাকা আছে?”
    এইবার বড়ভাই কইলো, “জি আছে” আর ছোট ভাই কইলো, “না,স্যার।”
    বড়সাহেব আরেকবার খুবজোরে হাইসা কইলো, “আমার একশ টাকার বেশি লাগবো না।“
    বড়ভাই যন্ত্রের মতোন ১০০ টাকা বাইর কইরা ছোটভাইরে দিলো। ছোটভাই টাকাটা দিতেই বড়সাহেব “ধন্যবাদ” বইলা তাদের পথ ছাইড়া দিলো।
    দুইভাই বেশ কিছুক্ষণ চুপ থাকলো। তারপর বড়ভাই তার কপাল থাবড়াইতে থাবড়াইতে কইলো, “আজ সকালে যে কার মুখ দেখছিলাম, আল্লাই জানে।”
    ছোটভাই বাজে একটা গালি দিয়া কইলো, “কার মুখ আবার, যেই লোক আজকে দুইশ এক টাকা দিছিলো, সেই শুয়োরের বাচ্চার।
    বড়ভাইও সেই লোকরে মন ভইরা গালি দিলো। এরপর কইলো, “আমার মনে হয় সব দোষ ঐ বাড়তি এক টাকার যেইটা সে তার মনের শান্তির জন্য আমাগোরে উপহার দিছিলো।”
    “অথবা সকাল বিকাল আমরা যার পিছে খাড়ায়া নামাজ পড়ি।”
    “অথবা, সেই শুয়োরটা, যে আমাদের মদ চুরি করছিলো।”
    “কপাল ভালো যে পুলিশে ধরছে। নাইলে আজকে ওয় আমার হাতেই মরতো।”
    “কিছু পাইতে হইলে কিছু দিতে তো হইবোই।”
    “ওরে দিতেও হইতো, নিতেও হইতো। আল্লায় জানে, বড়সাহেব কোইত্থিকা যে নাজিল হইছিলো!”
    “তয় কপাল ভালো। ১০০ টাকার বিনিময়ে ইজ্জত রক্ষা হইছে।”
    “সেইটাও ঠিক। তয় আজকে আমাদের পকেটের উপর মারাত্মক লুটপাট হইছে।”
    “চল ভাই, আবার কোনো ঝামেলা আসার আগেই ফিরা যাই।”
    এরপর দুই ভাই সাইকেলে চইড়া হিরাবাজার থেইকা বাইর হয়া গেলো।

    অফিস থিকা বাইর হওয়ার সময় বড়ভাই মনে মনে ঠিক করছিলো, দুই-তিন পেগ স্কচ খাওয়ার পর শীদানরে ওর ছোট বোনটারে ডাকতে কইবো। শীদান ওর ছোট বোনের খুব সুনাম করতো। সে দেখতে নাকি খুবই সুন্দরী আর বয়সেও কচি, গেরামের হাওয়া বাতাস খায়া বড় হইছে। কয়েক মাস আগে নিজের ধান্দাও শুরু করছে।
    স্কচ, হুইস্কি আর শীদান ছাড়া আর কিছু সুন্দর আসলেই আছে কি না, সেইটা দেখার খুব খায়েশ ছিলো। কিন্তু বড়ভাইয়ের মনের সেই গুপ্ত খায়েশ গুপ্তই থাইকা গেলো।
    ছোটভাইয়ের মনের মধ্যেও রঙ্গলীলা জাইগা উঠতেছিলো। এমন দারুণ মরসুমে হুইস্কি আর শাদীন ওরে খুশি কইরা দিতে পারতো। এতোটাই খুশি কইরা দিতে পারতো যে, টানা ১৫-২০ দিন আর কোনো মৌজমাস্তি করার দরকারই হইতো না।
    দুইজনের মাথা আর মন, দুইটাই ভারী হইয়া গেছিলো। তারা যেমনটা ভাবছিলো, দিনটা তেমন যায় নাই। স্কচের প্রথম বোতলটা পানওয়ালা চুরি কইরা নিছিলো, দ্বিতীয় বোতলটা রাস্তায় পইড়া ভাঙছিলো, তৃতীয়টায় ভাগে কম পড়ছিলো, কারণ শাদীনের আসরে আইজকা লোক বেশিই ছিলো। চতুর্থবার যখন মদ আনাইলো তখন দেখলো মদের থিকা পানির পরিমাণই বেশি। আর পঞ্চমবার যখন মদ কিনার কথা ভাবতেছিলো, তখনই বড়সাহেব আইসা ১০০ টাকা ছিনতাই কইরা নিয়া গেলো।
    বড়ভাই খুব বেশিই রাইগা আছিলো। এতোটাই রাইগা আছিলো যে, তার মাথার মধ্যে আজিব আজিব চিন্তা আসতেছিলো। সে কিছু একটা করতে চাইতেছিলো, যেমন কুকুরের মতোন জোরে জোরে ঘেউ ঘেউ করা, অথবা সাইকেলটারে তুইলা আছাড় মাইরা গুড়াগুড়া কইরা দেওয়া, অথবা শরীরের সব কাপড় খুইলা উদাম হইয়া কুয়ার মধ্যে ঝাঁপ দেওয়া। যেই পরিস্থিতি তারে তামাশা করছে, সেই তামাশা সে ফিরায়ে দিতে চাইতেছিলো। কিন্তু সেই সময়টা এখন চাইলেও আর হিরামন্ডি থেইকা উইড়া আসবো না। এইসব ভাইবা নিজেরে খুব অসহায় লাগতেছিলো।
    (চলবে)

    9
    15 Comments

Friends

Skip to toolbar