Profile Photo

Md Joynul AbedhinOffline

  • J.A.Sagor
  • Profile picture of Md Joynul Abedhin

    Md Joynul Abedhin

    3 years, 6 months ago

    উপন্যাসঃশারদ বিষুব (পর্ব-২)
    চারুকলার পুকুরের ধারে চোখ বন্ধ করে আছে তিতুল। হাতে সিগারেট।
    -যা, আবার কি হল তোর? মার্জা আলতো টোকা দিল।
    -ধ্যানে আছি। তিতুলের চোখ বন্ধ। আসলেই ধ্যানে আছে এমন একটা ভঙ্গি আনার চেষ্টা প্রকট।
    -জাতিকে উদ্ধারের ধ্যান বুঝি? তাহলে আগাম বাদ দিতে পারিস। এ জাতি ধ্যানী লোক পছন্দ করেনা, ধ্যানের কথাও এদের মগজে ধরেনা। মার্জা দেখল তিতুল চোখ বন্ধ করেই ওর কথা শুনে হুম বললো মাত্র।
    -ভাবছি, চিত্রে সোসালিজম তুলে ধরার উপায় কি? কিভাবে আঁকা যায় যাতে শ্রেণী সংঘাত স্পষ্ট বুঝা যায়?
    দিহান সিগারেটের ধোয়া উড়িয়ে বললো- এই ভোগবাদের যুগে সমাজতন্র আর চলবেনা ভায়া। এখানে আফিমের চাষ হয়। মরা সমাজতন্রকে কোন মন্ত্রেই এ দেশে জনপ্রিয় করা যাবেনা। তার থেকে সুলতানের মত বড় বড় স্তনবতী নারীর ছবি একে দৃক গ্যালারীতে একটা শো কর, আর যাই হোক পার্ভার্টেড জেনারেশন তোর খুব তারিফ করবে।
    পৌষা হা করে দিহানের দিকে তাকিয়ে বলল- মানে যারা বাস্টি কিছু দেখে তারা কি পার্ভার্টেড?
    দিহান বুঝতে পারল একটু বুঝিয়ে না দিলে পৌষা ক্যাচাল লাগিয়ে ছাড়বে- আহা তা নয়, আমি বলছিলাম, অনেকে আসলে সুলতানের শিল্প না বুঝে শুধু ঐ জিনিসের দিকে তাকিয়ে ভাবে-বড় ভাল চিত্রকর। আহ। সেজন্য বলছিলাম আর কি।
    -এসব বাদ দিয়ে পারলে তিতুলকে আইডিয়া দে।
    -সমাজতন্ত্র নিয়ে আমার কোন আশা নেই, ইট ইজ আ হিস্ট্রি ইন বাংলাদেশ।
    সিগারেট শেষ হয়ে এসেছে তিতুলের। চোখ চাইনিজদের মত করে দিহানের দিকে তাকিয়ে বলল- সমাজতন্ত্রকে এদেশে জনপ্রিয় করার জন্য আমি ছবি আঁকতে ইচ্ছুক নই। চে চাইলে আর্জেন্টিনায় বসে আরামে জীবন কাটাতে পারতেন, সাইকেল নিয়ে বেড়িয়ে মানুষের দারিদ্র্য দেখে কষ্ট পেতেন না, আমি সারা জীবন এই আদর্শ মাথায় করে রাখব যে কারণে চে সারা লাতিন আমেরিকা কিউবা জুড়ে বিপ্লবে অংশ নিয়েছেন আর শেষে সেই আদর্শের জন্য জীবন দিয়েছে্ন।
    -তা তুই কি সেই আদর্শের জন্য জীবন কাটিয়ে দিবি যে আদর্শ মৃত প্রায়। মরা গাছে পানি ঢেলে কি লাভ? আর এখন অনেক দেশই ক্যাপিটালিজমে থেকেই সোসাল ওয়েল ফেয়ার রাস্ট্রের দিকে হাটছে ফলে এমনিতেও সমাজতন্ত্রের আবেদন কমছে।
    -কি করে যে বলিস, ক্যাপিটালিজম সব সময়ই মানুষ শোষণ করে এসেছে, ভবিষ্যতেও করবে, তার গঠনটাই এমন। মানুষ কোন না কোন ভাবে এখানে শোষনের শিকার হবেই হবে। সমাজতন্ত্র তাই বিলুপ্ত হবেনা।
    -এদেশে হবে। যারা এখানে বাম রাজনীতি করেছে তারা আসলে এই আদর্শ পপুলার করতে পারেন নি। আবার পশ্চিম বাংলায় বেশি মাত্রায় দর্শন কপচাতে গিয়ে ক্ষমতা হারিয়ে বামধারা এখন বিলুপ্তির পথে। আমি অন্তত আর আশা দেখিনা।
    -অন্য ভাবে চেষ্টা করে দেখতে দোষ কি?
    -কি রকম?
    -আমি অলরেডি শুরু করেছি।
    বাকি সবাই তিতুলের দিকে চেয়ে আছে। খুব দারুন কিছু শুনবে বলে।
    -যা বাব্বা বল ভাই, দিহানের তাড়া।
    সিগারেটের ধোয়া ছেড়ে মার্জার দিকে তাকিয়ে তিতুল বলল-
    আমার বাবার বেশ কিছু জমি আছে গ্রামে। কিছু ফসল হয়। তেমন বলার মত কিছু না। আমি ভাবছি গ্রামে যাব।
    -বাহ দারুন, তা গ্রামে গিয়ে ধান চাষ করে সমাজতন্ত্র কায়েম করবি? মুখে হাসি মার্জার।
    -মজা নিস না। আমার মাথায় যা আছে তাহল সমবায় জীবন। একটা গ্রাম এককভাবে বেচে থাকবে,পরিবার ভিত্তিক নয়। গোটা গ্রাম গোটা গ্রামের আয়ে চলবে। আলাদা ভাবে না । গ্রামের সকল সম্পদ এবং আয় যোগ করে সবার জন্য ব্যয় করা হবে।
    -অনেক ঝামেলা হবে। মার্জা ওর চেয়ারটা সরিয়ে নিয়ে বসল।
    কি রকম, জানতে চাইল তিতুল।
    সবাই কেন তোর সাথে যোগ দেবে, ধর গ্রামের অবস্থা সম্পন্ন কৃষক বা ছোট চাকুরে যারা তারা তো এমনিতেই ভাল আছে, তোর সমবায় ভিত্তিক গ্রাম পরিকল্পনায় তারা আসবে কেন?
    -শুরুতে তো তারা আসবেনা সে আমিও জানি। আমার যাত্রা শুরু হবে একদম দীনহীন যারা তাদের নিয়ে। যারা ভুমিহীন কিংবা ছোট পেশার মানুষ।
    -হুম,সাউন্ডস গুড। কিন্তু ফিল্ডে এই সপ্ন বাস্তবায়ন করা খুবই কঠিন হবে। গুড লাক। তা কবে যাবি গ্রামে?
    -খুব শীঘ্রই।
    -সত্যি নাকি?
    -হ্যা,খুব সত্যি। আমি দেখতে চাই, পরিবার বা ব্যক্তি ভিত্তিক সমাজের চেয়ে গ্রাম ভিত্তিক জীবন কেমন হবে। সফল নাকি ব্যর্থ চিন্তা তা যাচাই না করা পর্যন্ত শান্তি পাচ্ছিনা। জানিস আমার কেন জানি মনে হয় মানুষের একক ভাবে বেচে থাকা উচিত নয়। এতে একটা মানুষের উপর অনেক প্রেশার আসে। সে একা পারেনা, সবাই একসাথে বাচঁলে তার জন্য বাচাঁ সহজ। একটা গ্রাম সংঘবদ্ধভাবে বেচেঁ থাকবে,এতে সবার বিপদ কমে আসবে। প্রাচীনকালে আমরা এভাবেই বাচঁতাম,আমাদের এই পথেই খুব দ্রুত ফিরতে হবে। এই এক্সপেরিমেন্ট আমার জীবনের সপ্ন।
    – তাহলে তোকে আমরা আর পাচ্ছিনা।
    – বলা যায়। জানিস এটা আমার মাথায় যখন ঢুকেছে সেদিন থেকেই মনে হচ্ছিল একবার হলেও চেষ্টা করা উচিত। খুব উচিত।
    মার্জা দিহানরা দেখল- তিতুলের চোখ আর মুখশ্রী একদম অচেনা,এমন তিতুলকে ওরা আগে দেখেনি।

    4
    2 Comments
    • গোটা গ্রাম একটা পরিবার আইডিয়াটা চমৎকার! এমন একটা স্লোগান গ্রাম-বাংলায় এখনো প্রচলিত আছে! সত্যি স্বপ্নের মত হত গোটা পৃথিবী যদি মানুষে মানুষে এমন হৃদ্যতা হয়! শুভেচ্ছা নেবেন!

    • বাক্যের মায়াবী খেলায় চরিত্র চিত্রণ।

Skip to toolbar