-
হঠাৎ বৃষ্টি আসে ঢাকার বুকে।
আদর অপেক্ষার প্রহর গুনছে সুমাইয়ার জন্য। শেষ ৩ দিন যাবৎ সুমাইয়ার সাথে দেখা করবে বলে এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছে, কল দিচ্ছে কিন্তু ধরছে না। এক এক দিন এক কথা বলে এড়িয়ে যাচ্ছে সুমাইয়া। কেনো এড়িয়ে যাচ্ছে তার কোন উত্তর নেই আদরের কাছে। নাহ কোন ঝগড়া হয়নি তাদের মাঝে। হঠাৎ এক পুলিশ এসে আদরকে জিজ্ঞেস করলো–
পুলিশ : কিছু মনে না করলে একটা কথা জিজ্ঞেস করবো?
আদর : জ্বি স্যার বলুন।
পুলিশ : তুমি কি কারো জন্য অপেক্ষা করছো? তিন দিন ধরে দেখছি তুমি এখানে এসে দাঁড়িয়ে কল দিচ্ছো, কয়েক ঘন্টা অপেক্ষা করছো, শেষে মন খারাপ করে চলে যাচ্ছো।
আদর : আসলে সত্যি বলতে আমার জি.এফ এর জন্য অপেক্ষা করছিলাম, কিন্তু ও বললো ওর কোচিং আছে তাই আসতে পারছে না।
পুলিশ : ছোট ভাই তোমাকে একটা কথা বলি কিছু মনে করবে না। তোমার জি.এফ জানেনা তুমিই যে তার জন্য এখানে তিন দিন ধরে অপেক্ষা করছো?
আদর : জ্বি।
পুলিশ : তাহলে দয়া করে তাকে আর আপন ভাবার কিছুই নেই। যে তোমার অপেক্ষার মূল্য দিতে জানে না সে কখনোই তোমার হবে না। শুধু শুধু সময় নষ্ট করছো তুমি।এসব শুনে আদরের মন খারাপ হয়ে যায়। আরো ১০/১৫ মিনিট অপেক্ষা করে সেখান থেকে বেরিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কিছু দূর যাওয়ার পর একটি রিক্সায় দেখতে পায় সুমাইয়াকে আর তার পাশে একটি ছেলেকে দেখতে পায় সুমাইয়ার হাত ধরে আছে আর অন্য হাতে গোলাপ দিচ্ছে সুমাইয়াকে। সুমাইয়ার মুখে হাসি আর অন্য দিকে আদরের চোখ গড়িয়ে চোখের জল পড়ছে।
………….ফিরে যাই ১০ মাস আগে………….
আদর আর সুমাইয়ার পরিচয় ফেইসবুকে। তিন মাস কথা বলার পর আদর বুঝতে পারলো সুমাইয়াকে সে মনে মনে অনেক ভালোবেসে ফেলেছে, তাই সে ভাবলো প্রপোজাল টা দিয়েই দিবে।কিন্তু এখনো তাদের দেখা হয়নি,কারন সুমাইয়া থাকে গাজীপুর আর আদর থাকে ঢাকা। যাই হোক যেই ভাবা সেই কাজ, পহেলা বৈশাখ এর আগের রাতে ফোন দিলো আদর—–আদর : কেমন আছো?
সুমাইয়া : ভালো, তুমি কেমন আছো?
আদর : ভালো। সুমাইয়া তোমাকে অনেকদিন ধরে বলেছিলাম না একটা কথা বলবো! আজ ভাবছি বলেই ফেলি।
সুমাইয়া : হুম, বলো কি বলবা।
আদর : তোমার রুমের আয়নার সামনে গিয়ে একটু কষ্ট করে দাঁড়াবা?
সুমাইয়া : আচ্ছা, এই নাও দাঁড়ালাম।
আদর : এখন আয়নায় তুমি যাকে দেখছো এই মানুষটাকে আমি অনেক ভালোবেসে ফেলেছি। বিশ্বাস করো প্রতিটা মূহুর্ত এই মানুষটাকেই ভাবি। ভবিষ্যতে আল্লাহ চাইলে তাকেই সারাজীবন আমার পাশে দেখতে চাই জীবন সঙ্গী হিসেবে।
সুমাইয়া : আদর সত্যি বলতে আমিও তোমাকে মনে মনে ভাবছিলাম এই কথাটা বলবো। যাই হোক, তোমার সাথে দেখা করবো, তুমি আমাকে সামনে থেকে আগে দেখো যদি তোমার ভালো লাগে তখনই আমরা আমাদের সম্পর্কের শুরু করবো। আমার পক্ষ্য থেকে উত্তর হচ্ছে “হ্যাঁ”। আর অনেক ধন্যবাদ তোমাকে এভাবে আমাকে প্রপোজ করার জন্য।মাস খানিক পর সুমাইয়া ঢাকা আসে কোচিং করতে। আদরের সাথে দেখা হয় আর একে একে তাদের স্বপ্ন সত্যি হতে থাকে। দু’জন দু’জনের খেয়াল রাখছে, সুমাইয়ার মন খারাপ হলে আদর ঘুরতে নিয়ে যাচ্ছে যেনো সুমাইয়ার মন ভালো হয়ে যায়। খুব সুন্দর কাটছিলো তাদের সেই মূহুর্তগুলো, কিন্তু সব উড়ে গেলো এক বৃষ্টি ভেজা দুপুরে। এভাবেই হয়তো অনেক সম্পর্কের ইতি হয়ে যায়। আদর জানতেও পারেনি কি ভুল ছিলো তার। বিকেলের পাখিগুলো যেভাবে তাদের নীড়ে ফিরে যায় ঠিক তেমনি এই সমাজের অনেক আদর এভাবে বৃষ্টির আড়ালে তাদের কান্না লুকিয়ে নিজের বাসস্থানে নীরবে ফিরে যায় আর হারিয়ে যায় বুক থেকে অজস্র গুছিয়ে রাখা ভালোবাসা।
7 Comments-
-
গল্পটা খুব সুন্দর! গল্পের নায়কের জন্য বেশ মন খারাপ হল তবে, এটাই হয়ত গল্প ও গল্পকারের স্বার্থকতা! আরো গল্প হোক! শুভ কামনা রইল অনেক!
-
Friends
শাহাদাতুর রহমান সোহেল
@sr-sohel
আর্য
@arjo
রাহেনা বেগম
@rahena-begum
আজীমি
@azeemi
Md Zaker Hayat Khan [ Zaker Aditya ] [ জাকের আদিত্য ]
@md-zaker-hayat-khan
অনুভূতির ডাইরি
@onuvutir-dairi
G M Harun Rashid
@g-m-harun-or-rashid
অয়ন আবদুল্লাহ
@ayonabdullah140
শায়েরুল ইসলাম
@shaerulislam



নীল বেদনার গল্পগাঁথা।