Profile Photo

rubaOffline

  • Ruba91
  • Profile picture of ruba

    ruba

    2 years, 7 months ago

    গল্প//
    “ইঁদুর”

    সারারাত ধানের গোলা থেকে আসা খুটখুট শব্দে ঘুম আসছেনা লীলার।কিন্তু পাশেই নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে শাহীন।লীলা অস্থির হয়ে উঠে হাতে একটা কাঠের টুকরো নিয়ে ধানের মটকার পাশে একটা বাড়ি দিয়ে শব্দ করলো।শব্দ পেয়ে ভয়ে পালালো ইঁদুরদের কয়েকটি, বাঁকিগুলো হয়তো লুকিয়েছে কোথাও।
    শব্দ একটু কমে যেতেই লীলা আবার ঘুমানোর চেষ্টা করলো। আবার এলোপাতারি ভাবনা এসে তার ঘুম তাড়ানোর জন্য উঠেপরে লাগলো।এই যেমন ধানের অর্ধেক দিয়ে দিতে হয়েছে মালিককে। যা আছে তাতে ছয়মাস তো দূর ২মাস যায় কিনা সন্দেহ আছে।গতমাসে যা কিছু আলু আর সবজি তুলতে পেরেছিলো ঘরে তা বেচে বেচে কোনরকমে চলতেছে তাদের দিন।
    শাহীনের এসব নিয়ে চিন্তা নাই। আল্লাহ্ ভরসা বলে বলে দিন পার করতেছে। লীলা কেন পারেনা সে নিজেও জানেনা।
    বিয়ের তিন বছর পার হয়ে গেছে এখনো শাহীনকে না জানিয়ে গর্ভনিরোধক ট্যাবলেট খায় সে।দুই পরিবারই তারা গরীব কিন্তু শাহীন পরিশ্রমী আর সৎ তাই তার বাবার মতে অখুশি নয় লীলা।
    ক্লাস টেন পর্যন্ত পড়েছে লীলা। ছাত্রীও ভালো ছিলো তবে বাবার অনিচ্ছা আর অভাবের কাছে পরাজিত হয়েছে তার লেখাপড়ার স্বাদ।শাহীনের দৌড় থেমেছে বাবার মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরে।সে পড়েছিলো ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত।
    অক্লান্ত পরিশ্রম করে বাবার কিছু জমি আর কিছু বর্গাচাষ করে সে মা আর চার ভাই-বোনের দেখাশোনা করে ।ভাই-বোনেরাও পড়াশোনা করতে পারেনি খুব একটা।মা মারা যাবার পর সবাই সবার মতো চলে গেলে লীলাকে নিয়ে ঘর বাঁধে শাহীন।
    লীলার কোন চাওয়া নেই তেমন শুধু নিজেদের ছোট্ট একটা দোকান হলে বাজারে তবেই একটা ছোট্ট বুকের ধন চায় সে।
    ‌এই ভেবে অল্প ‌অল্প করে কিছু টাকা জমাচ্ছে সে। শাহীনের অতি সরল মানসিকতার জন্য সবাই তাকে ঠকায় ।মালিক ইচ্ছামতো ভাগের ফসল নিয়া যায় লীলা আর শাহীন চুপচাপ দেখে।লীলা কিছু বলতে চাইলে বাধা দেয় শাহীন।
    এভাবে দিন দিন ভূমিদস্যুতে পরিণত হয়ে যাচ্ছে মালিক।এতো খাটুনির পরেও অভাবই তাদের নিত্যসঙ্গী।তারপরে আবার ঘরে ইঁদুরের উৎপাত! জীবনতো নয় যেনো নরক যন্ত্রনা ।
    জমির মালিক আর ইঁদুরের যন্ত্রনায় তেমন পার্থক্য খুঁজে পায়না সে।
    তার গরুর দুধ সে খেতে ভয় পায়, তার ঘরে তারই ঘুম আসেনা।কারন অভাব গ্রাস করে রেখেছে তাদের।
    ভাবতে ভাবতেই দুইচোখ ঘুমে নুয়ে আসে লীলার ।কাঁধের উপরে শাহীনের হাত টের পায় সে।শাহীন তখন অস্ফুট স্বরে বলছিলো,
    ——-বউ আমি জানি তুই খুব কষ্ট করিস সারাদিন।সামনের মৌসুমে মালিক বলছে আমাগোরে বাজারে ঘর দিয়ে দিবো, শুধু মালিকেরে আমার জমিগুলার অর্ধেক ফসল আর মাসে দোকানের ভাড়া বাবদ কিছু টাকা দিলেই হইবো।
    শুনেই ঘুম পালিয়ে যায় লীলার।ইঁদুরগুলো আবারও খুটখুট শব্দে ধান খাওয়া আরম্ভ করলো ততক্ষণে।প্রচন্ড সাহসের সাথে ইঁদুর লীলার সব জাল কেটে কুটি কুটি করেই যাচ্ছে দিন দিন! এবার তো তবে ধানের বেড়ের পাশে বিষ না ছিটিয়ে কোন উপায় দেখতে পেলোনা সে।

    সমাপ্ত।

    রুবা//

    7
    6 Comments
Skip to toolbar