Profile Photo

মৈত্রী সাহাOffline

  • Maitri-S
  • Profile picture of মৈত্রী সাহা

    মৈত্রী সাহা

    2 years, 2 months ago

    #পর্ব_২_গরম_মসলার_প্রেম
    #রম্যগল্প
    #কলমে :মৈত্রী সাহা

    এলাচের খুব ইচ্ছে করে চেঁচিয়ে দারুচিনি কে বলে ” আমি তোমায় খুব ভালোবাসি , চলো না নতুন এক কৌটোতে ছোট্ট ঘর বাঁধি আমরা।” কিন্তু পারে না, অন্তর্মুখী এলাচ জানে ঠিক কতটা লুকিয়ে রাখলে দারুচিনি তাকে আর পাঁচটা মসলার সাথে গুলিয়ে ফেলবে না। এভাবেই অব্যাক্ত কথার জাল বুনে, আশা আকাঙ্কা কে লুকিয়ে , দারুচিনির পাগলামি আর প্রগলভতায় এলাচের দিন কাটে। হয়তো এভাবেই কেটে যেত, কিন্তু একটা ঘটনায় এলাচের নিরাপত্তায় ভরা ভালোবাসাময় জীবনে দেখা দিল সন্দেহের কালো মেঘ। দিনটা ছিল এক বিষন্ন শীতের দিন। সকাল থেকেই দারুচিনির দেখা নেই কৌটতে। এলাচ এবার একটু চিন্তায় পরে যায়। এর আগে তো কখনো এমন হয়নি, এতো সকাল সকাল এলাচ কে ছেড়ে দারুচিনি কখনো কোথাও যায় না। অবশেষে দুশ্চিন্তায় থাকতে না পেরে সে ফোন দেয় আদাকে, আদা জানে না মসলা সমাজে এমন কোন খবর নেই । আদার ব্যাপারি জাহাজের খবর রাখুক আর নাই রাখুক, আদা কিন্তু সবার খবর ই রাখে। শোনা যায় এলিট শ্রেণীর আমিষ মসলা পিঁয়াজ রসুনের সাথেও তার বেশ দহরম-মহরম রয়েছে। এসব সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতেই আদকে কল করে এলাচ। ফোন রিসিভ করেই আদা বলে,
    আদা : আরে এলাচ যে, এতো সকাল সকাল । কি মনে করে এতো সকালে দাদাটিকে ফোন দেয়া হলো শুনি?
    এলাচ : আসলে সকাল থেকেই দারুচিনির কোন খোঁজ পাচ্ছি না, কোটোতেও নেই , ফ্রিজেও নেই, এমন কি ফোনটাও ধরছে না। খুব টেনশন হচ্ছে।
    আদা : আরে, তুমি জানো না, ও তো এখন লবঙ্গের সাথে আড্ডা দিচ্ছে। তোমাকে বলে যায়নি বুঝি। দেখেছো কান্ড, ছেলেটা এতো irresponsible না।
    এলাচ হতবাক হয়ে বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে, গলার ভেতর একটা কান্না দলা পাকিয়ে বেরিয়ে আসতে চায়, অনেক কষ্টে সেটাকে সামলে এলাচ বলে,
    এলাচ : এই লবঙ্গ টা কে আদাদা? আগে তো কখনো এর নাম শুনি নি।
    ফোনের ওপাশ থেকে ওর গলার নিভে যাওয়া ভাব টা টের পেয়ে আদা বলে,
    আদা : লবঙ্গ আমাদের এখানে নতুন এসেছে। বেশ স্লিম ফিট, স্মার্ট মেয়ে। মাথা ভর্তি ঝাঁজালো বুদ্ধি। আগে বেশির ভাগ সময় পানের দোকানেই থাকতো, আর মাঝে মাঝে পিঠেপুলিতে আসতো তখন দেখতাম বুঝলে, সে কি দেমাক মেয়ের বলে কিনা “আমার নামে পিঠে (লবঙ্গলতিকা) আছে, তোমাদের কারো নামে আছে কি, যে নিজেদের কে আমার যোগ্য মনে করো ” আমি বাপু তারপর থেকে আর বেশি কথা বলি নি।
    আদার কথাগুলো শুনে নিমেষে এতোটুকু হয়ে যায় এলাচের মুখ। ও বুঝতে পারে আরো কিছুক্ষণ আদার সাথে কথা বললে, ওর কান্না আর বাঁধ মানবে না। উন্মত্ত জলস্রোতের মতো চোখ থেকে বেরিয়ে আসবে নরম আবেগ। নিজেকে সামলে নিয়ে তাই এলাচ বলে,
    এলাচ : আচ্ছা আদাদা, তাহলে রাখছি এখন, পরে কথা হবে।

    বি:দ্র: সবার appreciation এ গল্পটা তাড়াতাড়ি আনলাম। সবার আরো আরো appreciation চাই দ্বিতীয় পর্বের জন্য।

    3
    2 Comments
Skip to toolbar