Profile Photo

ভীষ্মদেব সূত্রধরOffline

  • তালমা

    রৌদ্র সবে পূব আকাশের তলানিতে থেকে ধীরে ধীরে উঠে আসছে পশ্চিমে, ইউক্লেপ্টাস গাছের ফাঁক দিয়ে আলো এসে বাতাবী লেবু গাছে পতিত হয়, চকচক করে সবুজ পাতা। কখন এসে দাঁড়িয়েছে বোধয় টের পায়নি রুদ্র, প্যান্টের ফিতেটা বেঁধে কল অভিমুখে গমন, হিহি করে হাসির শব্দে ফিরে তাকালো, মৌয়ের বুকের উপর আলোটা বাতাসের সাথে খেলো করছে, জিজ্ঞাসা করল, ‘হাসিস কেন?’ মৌ বাঁকা উত্তরে বলল, ‘হাসবার জন্যে পারমিশান লাগবে!’
    রুদ্র বিরক্তির ভাব ফোটাতে মুখ দিয়ে একবার চ্যা শব্দ করল। এবার কল চাপ দিয়ে আপন কাজে মন দিল। বারবার চোখে জল দিয়ে কচলিয়ে ধোবার অভ্যেস, কুলকুচি করে ঠোঁট গোল করে দূরে ছুঁড়ে মুখে রাখা এঁটো জল, ফেলে বলে, ‘কি দরকার?’
    অনেক্ষণ বাদে আওয়াজ আসায় প্রথমে একটু হকচকিয়ে ওঠে,পরে বলে, ‘একটা অংক কিছুতে বুঝি না।’
    ‘খাতায় কি সব লিখে দিয়ে যাস! খেয়ে উঠি।’ -রুদ্র বলল।
    আমি তবে বইটা নিয়ে আসি, বলে দৌড়ল মৌ। রুদ্র বিরক্তির স্বরে চাপা কন্ঠে বলল, ‘একবারে আনবে কি!
    ঘরের ডোয়ায় পা রাখতেই মা বলল, ‘ও দৌড়ল কেন?’
    -আমি কি করে জানব!
    -তোমার সাথে ভাব তুমি জানবে না?
    -না। আর থামো তো! -ধমকের সুরে বলল। মা এবার আবার বলল, ‘ওর মা কিন্তু ভারী দজ্জাল। সাবধান।’
    রুদ্র ফুসে ওঠে, খানিক অবদমন করে বলে, ‘তোমাদের মা সমাজটাতে ঘূণ ধরেছে।’
    মা হেসে ফেলে।

    4
    3 Comments
Skip to toolbar