-
কবিতা: “অন্তর্লীন আগুন ”
( জান্নাতুল ফেরদৌসী)
তারিখ: ০৬.০৩.২০২৫
**********************************************স্বামী ফিরে আসে অফিস শেষে,
এক গ্লাস জল, ক্লান্তি তার চোখে—
স্ত্রীর অপেক্ষা রান্নাঘরে,
তবে হৃদয়ে জমে আছে
অদৃশ্য এক আগুনের খেলা।
“আজ একটা ঘটনা বলি,
আমাদের কলিগ রাহেলা,
কী অদ্ভুত সৎ!
ন্যায়ের পথে চলে একদম,
তার মতো মানুষ সত্যি বিরল!”
স্বামীর চোখ উজ্জ্বল,
অবাক বিস্ময়ে ভরা কণ্ঠ!
কিন্তু স্ত্রীর চোখের কোণে
অন্য এক ছায়া খেলা করে।
সে হাসে মৃদু,
অন্তরে শূন্যতার কাঁপুনি।
“ও, তাই নাকি?”
শুধু এইটুকুই বলে,
অন্য প্রসঙ্গে গড়িয়ে দেয় কথার ঢেউ।
কিন্তু তার ভেতর জ্বলে,
একটা অলক্ষ্য দাবানল।
সে জানে, প্রতিটি গল্পের দুইটি রঙ—
একটি আলো, একটি অন্ধকার।তবে সে শুধু অন্ধকারকেই ভালোবাসে,
তার নখে জমে থাকা ঈর্ষার কালি,
একদিন ছড়িয়ে দেবে সে,
একজনের ধবধবে শুদ্ধতার ওপরে।
সে কাছে যায়,
রাহেলার আপন বোন সেজে,
খোঁজ নেয় তার ছেলেবেলা,
মায়ের অসুখ, বাবার অভাব,
প্রেম, হতাশা, সব গল্প জানে।
সে হাসে আপনজনের মতো,
স্নেহ ঝরে তার শব্দে।
রাহেলাও ভাবে,
“আহা! কী দয়ালু এই নারী!”
সে খুলে দেয় হৃদয়ের দরজা,
অবিশ্বাসের কপাট ভুলে।
কিন্তু সে জানে না—
যে শুনছে, সে এক তিলোত্তমা ছায়াদেবী,
যার হাতে লেখা
অপবাদ আর অমর্যাদার রাত্রিগাথা।
তারপর একদিন,
শুরু হয় নতুন গল্প—
“জানো, রাহেলা তো…”
“শুনেছো? সে নাকি…”
“বিশ্বাস করবে? ওর অতীত…”
একটি মিথ্যা,
দুইটি বাঁকানো সত্য,
তিনটি অলঙ্কৃত উপসংহার—
এভাবেই ছড়িয়ে পড়ে
তার ধৈর্য ধরে বানানো কল্পনাগুলো।
অফিসের করিডোরে গুঞ্জন,
কফির কাপের ধোঁয়ায় সন্দেহ,
বন্ধুদের ঠোঁটে বিস্ময়,
রাহেলার আশ্চর্য চোখে একটাই প্রশ্ন—
“এত আপন ছিল যে, সে-ই কি?”
কিন্তু কেউ শোনে না,
সত্যের কণ্ঠ কখনো উচ্চারিত হয় না
কানাঘুষার কোলাহলে।
স্বামী রাতে ফিরে আসে,
চোখে অস্থিরতা, কপালে ভাঁজ।
স্ত্রী দেখে চুপিচুপি,
তার কাজের ফল ফুটে উঠছে!
“আজ অফিসে যা হলো…”
স্বামী বলে, গলা ভারী,
“রাহেলার নামে এত কিছু শোনা গেল!”
স্ত্রী মৃদু হাসে, যেন সে-ই প্রথম শুনলো!
“আহারে!” সে বলে করুণ গলায়,
“মানুষ তো কত কী বলে!
কিন্তু হয়তো ধোঁয়া কোথাও আগুনের বার্তা দেয়?”
স্বামী তাকিয়ে থাকে স্ত্রীর দিকে,
একটা ছায়া যেন দুলে যায় চোখের গভীরে।
অজান্তেই ভাবতে থাকে—
“এ আগুন কি আসলেই সত্যি?”
কিন্তু আগুনের পরিণতি একটাই।
সেদিন অফিসের করিডোরে
রাহেলা মুখ তুলে বলে—
“আমি নির্দোষ!”
কিন্তু অভিযোগের দেয়াল এত উঁচু
যে তার কণ্ঠ গুঁড়িয়ে যায়,
সন্দেহের কাঁটার ঝড়ে।
একদিন সে বিদায় নেয়,
একটি পদত্যাগপত্র রেখে—
একটি পোড়া সত্যের সাক্ষী হয়ে।
কিন্তু আগুন কি শুধু একদিকে জ্বলে?
স্বামীর মনে পড়ে যায়
স্ত্রীর আচরণ, তার প্রতিটি মুদ্রাদোষ।
সে ভাবে,
“কে জানে, সত্যের ছাইয়ের নিচে
কার হাতের ছোঁয়া ছিল?”
অন্যদিন, অন্য আলো,
নতুন গল্প শুরু হবে নিশ্চয়ই।
কিন্তু সেই আগুন,
যে আগুন অন্যের ঘর পুড়িয়েছিল,
একদিন সেই ছাই থেকে
সত্যের ফিনিক্স জন্ম নেবে।
সেদিন হয়তো স্বামী জানবে,
কোনো কিছুই ধোঁয়ায় লুকিয়ে রাখা যায় না।
সেদিন হয়তো স্ত্রী দেখবে,
সত্যের আলো একদিন ফিরেই আসে।
আর রাহেলা?
সে তখন দূরে,
কিন্তু তার সত্য
একদিন ফিরবে ন্যায়ের দীপ্তি হয়ে।“মিথ্যা যখন ফিসফিস করে,
সত্য তখন বজ্র হয়ে নামে!”2 Comments
শিষ্টাচার:
সদাচার-সাধুবাদ যাবে সব ধুয়ে, রবে শুধু শিষ্টাচার, দিয়েছি যাদের মাঝে !
সদাচার-সাধুবাদ যাবে সব ধুয়ে, রবে শুধু শিষ্টাচার, দিয়েছি যাদের মাঝে !

Jannatul ferdausi
Daulatpur,Khulna
♠♣♥♦♣♠জান্নাতুল ফেরদৌসী ১৯৮২ সালের ১৯ জানুয়ারি, যশোর জেলার ছাতিয়ান তলায় মাতুলালয়ে জন্মগ্রহন।
শিক্ষাগতযোগ্যতাঃ এম,এ.(বাংলা) এম,এড ।
২০০০ সালে সাঁকো প্রকাশনি থেকে “কবি”হিসেবে স্বীকৃতি লাভ । ২০২২ সালে নবসাহিত্য প্রকাশনী থেকে ‘কবি সম্মাননা’-স্বরূপ সনদ এবং ক্রেস্ট গ্রহন । পেশায় একজন শিক্ষক (GPS)। যৌথভাবে প্রকাশিত বইয়ের নাম“বনফুলের সন্ধানে,,নতুন তার মিছিলে,,উদীয়মান কবি,দহনের কাব্য, কবিতায় সাতকাহ,কাব্য ফেরি,ধান শালিকের কাব্য,শব্দ শ্রমিকের কাব্য,চায়ের ধোঁয়ায় তোমাকে খুঁজি,কেউ ভালোবাসেনি,কবি কন্ঠ, রাত_তখন_বারোটা দুই (ভৌতিক)"। একক বই-"আমিত্ব","বুনট","ছায়ামানব", ''উপদেশে উপলব্ধি'', ''ধোঁয়াশা'', ''আড়াল'',সময়ের মুখোশ।
ই-মেইলঃ [email protected]
Friends
Nahar moyna
@moyna
ABDUL KADIM SHAHED
@abdulkadimshahed
জে এস এম অনিক
@00anik
মাজেদুল হক
@birohikobi
এফ. আর. মাহদী
@frmahedi
স্নিগ্ধ ধূম্রাক্ষর---
@subaiya-aymaan
হেমায়েত হোসেন হিমু
@himu68hgmail-com
মামুনুর রশিদ
@mamun01722525933gmail-com
তাহমিনা মোরশেদ
@rbtm796923t


তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন! আপনার এই লেখাটি আজ 08 March 2025 তারিখে ‘জনপ্রিয় অবদান’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং এই মঞ্চকে একটি আনন্দদায়ক ও জনপ্রিয় মঞ্চ হিসাবে চালু রাখাতে আপনার এই অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!