Profile Photo

মোহাম্মদ শাহজামান শুভOffline

  • Mohammad-Shahzaman
  • শেষ বেঞ্চের রতন
    রতন সবসময় ক্লাসরুমের একদম পেছনের বেঞ্চে বসত। ছেলেটার মুখে সবসময় একরকম ভয়, যেন কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলেই সে ভেঙে পড়বে। শিক্ষকরা বলতেন, “ওর দ্বারা কিছু হবে না।” সহপাঠীরা হাসাহাসি করত, কেউ কেউ ডাকত “গাধা” বলে।
    তবে রতনের একটা স্বপ্ন ছিল। সে চুপিচুপি খাতার কোণে ছবি আঁকত — বাড়ির উঠোন, নদীর ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ছেলে, আকাশে উড়তে থাকা রঙিন ঘুড়ি। কিন্তু কেউ তা জানত না। কারণ কেউ তাকে জানতে চায়নি।
    একদিন স্কুলে এলেন নতুন এক শিক্ষক — আরিফ স্যার। প্রথম দিনেই তিনি বুঝে ফেললেন, রতনের চোখে ভয়, আর বাকিদের চোখে অবজ্ঞা। তিনি ক্লাসে বললেন,
    “আজ আমরা বই পড়বো না। আজ আমি তোমাদের প্রতিভা খুঁজে দেখবো।”
    তিনি সবার হাতে কাগজ আর রঙের পেনসিল দিলেন। বললেন,
    “তোমরা যে জগতে থাকতে চাও, তা এঁকে দেখাও।”
    রতনের হাতে কাগজ পেয়েই তার চোখ চকচক করে উঠল। সে ডুবে গেল কল্পনায়। ঘণ্টাখানেক পর সে তুলে ধরল এক অদ্ভুত সুন্দর ছবি — এক গ্রাম্য স্কুল, যেখানে শিক্ষক ছাত্রদের জড়িয়ে ধরছে, ক্লাসরুমে বৃষ্টির মত আলো, আর এক কোণায় ছোট্ট একটা ছেলে তার ছবির খাতায় হাসছে।
    আরিফ স্যার চুপ করে রতনের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর বললেন,
    “এই ছেলেটার নাম রতন, কিন্তু আমি বলি — রত্ন। সে শুধু লেখাপড়ায় ধীর, কিন্তু তার হৃদয় অনেক বড়, তার কল্পনা অসীম।”
    এরপর থেকে স্যার রতনকে আলাদাভাবে সময় দিতেন। তাকে বলতেন,
    “তোমার লেখাপড়া কঠিন মনে হয়, ঠিক আছে, কিন্তু আমি আছি। আমরা একসাথে পারবো।”
    রতনের খাতা আস্তে আস্তে ভরে উঠল শব্দে, অঙ্কে, আর ছবিতে। শিক্ষক আর ছাত্রের সম্পর্ক হয়ে উঠল ভালোবাসার বন্ধনে বাঁধা।
    এক বছর পর স্কুলে হলো একটি প্রদর্শনী — ‘শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা’। রতনের আঁকা ছবি নির্বাচিত হলো প্রথম স্থান পেতে। অতিথি হিসেবে আসা এক নামকরা শিল্পী বললেন,
    “এই ছবিটা শুধু রঙ দিয়ে আঁকা হয়নি — এতে আছে একটি শিশুর আত্মা, তার শিক্ষক আর সমাজের প্রতি বিশ্বাস।”
    আজ সেই রতন এক চিত্রশিল্পী, শিশুদের নিয়ে কাজ করে, পথশিশুদের আঁকতে শেখায়। তাকে যখন জিজ্ঞেস করা হয়, “আপনার জীবন বদলাতে কারও হাত ছিল?” সে এককথায় বলেন,
    “একজন শিক্ষক… যিনি আমাকে ভালোবেসে মানুষ বানিয়েছিলেন।”

    2
    1 Comment
Skip to toolbar