-
মুকুটান্তর’
আমাদের দেশে পদক আর পাপের দূরত্ব খুব বেশি নয়। কখনো কখনো একটি ক্রেস্ট আর একটি কারণ দর্শানোর নোটিশের মাঝখানে কেবল দুটি সরকারি আদেশের ব্যবধান থাকে। আজ যিনি ফুলের তোড়া হাতে মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছেন, কাল তিনিই পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত। আজ যিনি জেলার শ্রেষ্ঠ, কাল তিনি জেলার শ্রেষ্ঠ আলোচ্য বিষয়। আর পরশু তিনি চায়ের দোকানের স্থায়ী বিতর্ক।
এই দ…Read More4 Comments -
বীজতলার রাজনীতি
গ্রামে একসময় সন্তান জন্ম নিলে মসজিদে মিষ্টি যেত, প্রতিবেশীদের বাড়িতে সেমাই যেত, আর দাদারা গর্ব করে বলতেন, “আমাদের বংশের বাতি এসেছে।” এখন সময় বদলেছে। সন্তান জন্মের খবর শুনে প্রথম প্রশ্ন হয়—”কোথায় ভর্তি করাবেন?” শিশুটি তখনও “মা” ডাকতে শেখেনি, কিন্তু তার শিক্ষাজীবন নিয়ে ইতোমধ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান, চারটি মতাদর্শ, কয়েকজন শিক্ষক,…Read More1 Comment -
বয়সের দুই বছরের মহাযুদ্ধ
আমাদের দেশে প্রেমের সবচেয়ে বড় শত্রু দূরত্ব নয়, দারিদ্র্য নয়, এমনকি পারিবারিক বাধাও নয়। সবচেয়ে বড় শত্রু হলো—দুই বছর। মাত্র দুই বছর! এই দুই বছরই এমন এক রহস্যময় ব্যবধান, যার কারণে অনেক যুবক নিজেকে মনে করে সদ্য ফুটে ওঠা লাউগাছ আর পছন্দের মেয়েটিকে মনে করে শতবর্ষী বটবৃক্ষ।
আমার এক পরিচিত তরুণ সম্প্রতি এক গভীর রাষ্ট্…Read More3 Comments -
শাহাবৃদ্ধির বাতিঘর : একজন শিক্ষকের জীবন থেকে একটি জনপদের ইতিহাসের পুনরাবিষ্কার
বাংলা জীবনীসাহিত্যে এমন কিছু গ্রন্থ আছে, যেগুলো কেবল কোনো ব্যক্তির জীবনকাহিনি বর্ণনা করে না; বরং একটি সময়, একটি সমাজ, একটি জনপদ এবং একটি সভ্যতার বিবর্তনকে ধারণ করে। ব্যক্তির জীবন সেখানে বৃহত্তর ইতিহাসের প্রতিরূপ হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক সময়ে রচিত “শাহাবৃদ্ধির বাতিঘর…Read More
3 Comments -
খোলস উন্নয়ন অধিদপ্তর
মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
আমাদের দেশে উন্নয়নের শেষ নেই। রাস্তা উন্নয়ন, সেতু উন্নয়ন, শিক্ষা উন্নয়ন, এমনকি বিবেক উন্নয়নেরও নানা প্রকল্প আছে। তবে সবচেয়ে সফল প্রকল্পটি সম্ভবত “খোলস উন্নয়ন প্রকল্প”। এই প্রকল্পের আওতায় মানুষকে ভেতর থেকে নয়, বাইরে থেকে উন্নত করা হয়। কারণ ভেতর উন্নত করা কষ্টকর; বাইরে উন্নত করা সহজ।
আমি এই প্রকল…Read More2 Comments -
নৈতিকতার লাল কালি: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্তর্লোক, ক্ষমতার ভাষ্য ও নীরব প্রতিরোধের উপন্যাস
বাংলা সাহিত্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বহু গল্প, উপন্যাস ও স্মৃতিকথা রচিত হয়েছে। কিন্তু সেসব রচনার অধিকাংশই শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক, শিক্ষাজীবনের স্মৃতি কিংবা ব্যক্তিগত সংগ্রামের কাহিনিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। খুব কম লেখকই বিদ্যালয়কে একটি…Read More
4 Comments -
স্মৃতির সরকারি সংস্করণ: ইতিহাস, বিস্মৃতি ও রাষ্ট্রনির্মিত সত্যের এক ব্যঙ্গাত্মক মহাকাব্য
সমকালীন বাংলা সাহিত্যে রাজনৈতিক রূপক, ডিস্টোপিয়ান কল্পবাস্তবতা এবং সামাজিক ব্যঙ্গকে একত্রে ধারণ করে যে অল্পসংখ্যক উপন্যাস পাঠককে একই সঙ্গে আনন্দ, অস্বস্তি ও আত্মসমালোচনার দিকে ঠেলে দেয়, মোহাম্মদ শাহজামান শুভের “স্মৃতির সরকারি সংস্করণ” সেই ধারার একটি উল্…Read More
4 Comments -
কালির সিংহাসন: সংবাদ, ক্ষমতা ও নীরব সত্যের ব্যঙ্গাত্মক উপাখ্যান
বাংলা সাহিত্যে সাংবাদিকতা, সংবাদপত্র কিংবা গণমাধ্যমকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাসের সংখ্যা খুব বেশি নয়। যে কটি উল্লেখযোগ্য রচনা রয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশই সাংবাদিকের ব্যক্তিগত সংগ্রাম, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা কোনো নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। কিন্তু মোহাম্মদ শ…Read More
3 Comments -
সোনার সিঁড়ির প্রজাতন্ত্র
মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
আমাদের দেশের নাম ছিল না। অন্তত মানচিত্রে ছিল, কিন্তু মানুষ সেটিকে নানা নামে ডাকত। কেউ বলত “উন্নয়নপুর”, কেউ বলত “অগ্রগতিস্তান”, আবার কেউ কেউ ফিসফিস করে বলত “সিঁড়ির প্রজাতন্ত্র”। কারণ দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ছিল সংসদ ভবন, আদালত কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় নয়; ছিল এক বিশাল সোনার সিঁড়ি। সেই সিঁড়ি…Read More6 Comments -
-
জলমন্ত্রী ও তৃষ্ণানগরের মহাপরিকল্পনা
মোহাম্মদ শাহজামান শুভতৃষ্ণানগর নামের একটি অদ্ভুত রাজ্য ছিল। রাজ্যের চারদিকে নদী, খাল, বিল, পুকুর, জলাশয়—সবই ছিল, কিন্তু মানুষ পানির চেয়ে বেশি ভালোবাসত পানির আলোচনা। সেখানে এমন অনেক লোক ছিল, যারা দিনে দশবার পানির উপকারিতা নিয়ে বক্তৃতা দিত, কিন্তু এক গ্লাস পানি খেতে বললে বলত, “আজ সময় নেই, কাল থেকে নিয়মিত শু…Read More
5 Comments-
-
পড়তে পড়তে হাসতে হাসতে ভাবতে বসে গেলাম, এই তৃষ্ণানগর তো আমাদের চারপাশেই আছে! জলমন্ত্রী শুষ্কানন্দ থেকে ডক্টর গুজবউদ্দিন প্রতিটি চরিত্র খু্ব চেনা মনে হল !
-
-
হ্যাশট্যাগ হিরো
মোহাম্মদ শাহজামান শুভশহরের নাম ছিল একসময় “শান্তিপুর”, যদিও এখন কেউ আর সেই নামে ডাকে না। এখন সবাই ডাকে—“ভাইরাল নগরী”। কারণ এখানে শান্তির চেয়ে শব্দ বেশি, আর ভাবনার চেয়ে ট্রেন্ড বেশি টেকে। এই শহরের সবচেয়ে বড় মৌসুম ছিল কোরবানির ঈদের আগে-পরে। তবে এখানে কোরবানির চেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় ছিল—পশুর নাম।
শান্তিপুরের এক প্রান্তে…Read More -
সাদা পানির রাজনীতি
মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
শহরটার নাম ছিল “দুধনগর”। নাম শুনে মনে হতে পারে সেখানে নদীর বদলে দুধ প্রবাহিত হতো, শিশুরা কান্না করত মাখনের জন্য, আর বৃদ্ধেরা সকালের হাঁটাহাঁটি শেষে সরের চায়ে চুমুক দিতেন। বাস্তবতা অবশ্য ছিল ভিন্ন। সেখানে দুধ ছিল কেবল বোতলের গায়ে আঁকা একটি ছবি, আর সর ছিল রাজনৈতিক ভাষণের মতো—শুধু ওপরে ভাসত, ভিতরে কিছু থ…Read More3 Comments -
“অলসপুরের মহামান্য কর্মবিরতি পরিষদ”
অলসপুর নামের রাজ্যটি পৃথিবীর মানচিত্রে ছিল না, কিন্তু পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি মানুষের ভেতরে তার একটি করে গোপন শাখা ছিল। সেই রাজ্যের জাতীয় সঙ্গীত ছিল—“আজ না হোক, কাল তো আছেই।” আর জাতীয় প্রতীক ছিল আধখাওয়া একটি কলা, যা খেতে খেতে কেউ আর শেষ করেনি। রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিল “পরে করবো নগর”। সেখানে ঘড়ির কাঁটা ঘুরত…Read More5 Comments -
“হ্যাঁপুরের মহারাজ ও না-বনের নির্বাসিতরা”
দেশের মানচিত্রে হ্যাঁপুর নামের রাজ্যটি খুঁজে পাওয়া যাবে না। কারণ এটি কোনো ভৌগোলিক রাজ্য নয়; এটি মানুষের মনের ভেতরে গড়ে ওঠা এক অদ্ভুত সভ্যতা। সেখানে শিশুরা জন্মের পর প্রথম যে শব্দটি শেখে, তা “না” নয়—“হ্যাঁ”। আর শেষ বয়সে মৃত্যুশয্যাতেও তাদের ঠোঁটে লেগে থাকে, “আচ্ছা, যদি দরকার হয়…”
হ্যাঁপুরের…Read More -
রাইসা আনজুম (পর্শি) and
মোহাম্মদ শাহজামান শুভ are now friends
-
Manik Kumar Sanjowal and
মোহাম্মদ শাহজামান শুভ are now friends
-
Firoz Ahmed and
মোহাম্মদ শাহজামান শুভ are now friends
-
“সনদপুরের জ্ঞানসম্রাট ও কাগুজে পণ্ডিতদের রাজ্য”
মোহাম্মদ শাহজামান শুভদূর এক দেশে ছিল এক অদ্ভুত নগরী—নাম তার “সনদপুর”। নগরীটি বাইরের চোখে ছিল শিক্ষার আলোয় ঝলমলে। বিশাল ফটকে লেখা ছিল—
“এখানে মানুষ নয়, সনদই কথা বলে।”
প্রথমে এই বাক্যটি দেখে ভ্রমণকারীরা মুগ্ধ হতো। তারা ভাবত, আহা! কী জ্ঞানপিপাসু এক রাজ্য! কিন্তু একটু ভেতরে ঢুকলেই বোঝা যেত,…Read More7 Comments -
ঘুমপুরের হাইমন্ত্রী ও ভোরবিরোধী প্রজাতন্ত্র
মোহাম্মদ শাজামান শুভদেশটার নাম ছিল ঘুমপুর। নাম শুনেই বোঝা যায়, রাষ্ট্রটি ছিল ঘুম এবং অলসতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। পৃথিবীর অন্য দেশগুলো যেখানে অর্থনীতি, বিজ্ঞান কিংবা শিল্প নিয়ে ব্যস্ত, সেখানে ঘুমপুরের জাতীয় স্লোগান ছিল—
“ঘুমাও, কারণ জেগে থাকলে বাস্তবতা দেখা যায়।”
এই রাষ্ট্রের মানুষ ভোরকে ভয় পেত।…Read More3 Comments -
আয়নানগরের নীতিমন্ত্রী ও হাস্যকর সভ্যতার কাহিনি
আয়নানগর নামের অদ্ভুত এক রাজ্য ছিল। সেই রাজ্যের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল—সেখানে কেউ নিজের মুখ দেখত না, সবাই শুধু অন্যের মুখ দেখত। রাজ্যের প্রতিটি রাস্তার মোড়ে মোড়ে বিশাল আয়না বসানো ছিল, কিন্তু সেগুলো এমনভাবে বানানো হয়েছিল যে মানুষ নিজের চেহারা দেখতে পেত না; বরং পাশের মানুষের মুখই বড় হয়ে ফুটে উঠত। ফলে র…Read More - Load More Posts
Friends
রাইসা আনজুম (পর্শি)
@raisaanjumporshi
Manik Kumar Sanjowal
@manikkumarsanjowal
Firoz Ahmed
@firozahmed1
Khondkar Mostaque Ahmed
@mostaque
ভাস্কর
@vaskarchou
শাহ্ আলম আল মুজাহিদ
@shahalam
নোমান খালভী
@nomankhalovi
Niaz Aziz Dip
@niazdip
Meghdipe (মেঘদ্বীপ)
@meghdipe






ক্রেস্টের ঝিলিক আর তদন্তের ফাইল—দুইয়ের মাঝখানে মানুষটা কেবল এক ক্ষণস্থায়ী পুতুল, আর সমাজটা চিরস্থায়ী এক চায়ের দোকান!