Profile Photo

Md Zaker Hayat Khan [ Zaker Aditya ] [ জাকের আদিত্য ]Offline

  • Md-Zaker-Hayat-Khan
  • লেখালিখি হচ্ছে না। তবু একটা ব্যর্থ চেষ্টা করলাম।
    ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী-গদ্যময়ঃ পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝল্‌সানো রুটি।। – সুকান্ত ভট্টাচার্য …

    নুন ঝালের গল্প
    জাকের আদিত্য

    আর বলো না, মামীর জ্বালায় কিছু করা যাচ্ছে না।
    কেন? কি হয়েছে?
    মামীর ধারণা আমি প্রেম করি। তাই আমার পিছনে একটা স্পাই লাগিয়ে দিয়েছে।
    সে কি! আমার সম্পর্কে জেনে গেছে নাকি?
    মুখে তো সেরকম কিছু বলে না। তবে নতুন কেয়ারটেকার রেখেছে।
    নাম কি?
    জসীম চাচা।
    সে স্পাইং করছে কি করে?
    সে করছে না। তার ছেলে আল আমীনকে বসিয়ে রেখেছে। আল আমীনই স্পাই।
    তো এবার কি করবো?
    কিছু করার দরকার নেই। আল আমীন টা বোকা টাইপের।
    স্পাইং করছে আর তুমি কিছু বলছো না।
    নাহ! বললে আর বেশি সন্দেহ করবে।
    তা এখন কি করবো?
    কিছু করতে হবে না? ম্যানেজ করেছি।
    কিভাবে?
    ব্যাটা পেটুক। আমি বাসায় ভালো মন্দ খাবার দেই, খেলতে দেই, সুখে আছে।
    কিছু বলে নি তো?
    না, বলে নি। আর বয়স কম তো। খাবার লোভে কাত হয়ে যাচ্ছে। সারাদিন আপা আপা করে।
    দেখি মাসটারড টা দাও।
    আমার তোঁ পিজ্জা টা শেষ করতে ইচ্ছে করছে না। তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচবো না অর্পিতা।
    আরে তুমি চিন্তা করো না। জসীম চাচাকেও ম্যানেজ করেছি।
    কিভাবে?
    কলেজের ব্রেকে আমি যে তোমাকে নিয়ে এই রেস্টুরেন্টে আসি। সেটা ওরা জানে না। জসীম চাচাকে বলেছি আমি বাপ মা মরা মেয়ে। মামী ভালো খেতে দেয় না। অন্যের সংসারে থাকি। হাত খরচের টাকা জমিয়ে মাঝে মাঝে এই রেস্টুরেন্টে খেতে আসি। বলেছি মামীর জ্বালা যন্ত্রণায় ঠিক মতো খেতে পাই নে। তাই দুটো ভালো মন্দ খেতে আসি।
    আমার কথা বল নি?
    পাগল নাকি তুমি? এদের বিশ্বাস করলে ধরা খেতে হবে। বলেছি একা কাঁদি আর মায়ের কথা ভাবি। যখনি মায়ের কথা বেশি মনে পড়ে রেস্টুরেন্টে এসে খাই। মা বেঁচে থাকতে আমাকে এখানে নিয়ে এসে খাওয়াতো। বুড়ো ব্যাটা বিশ্বাস করেছে। আমি এখানে যেদিন আসি সে সেদিন আল আমীন কে নিয়ে কলেজের ওখানে বসে থাকে। তুমি যাওয়ার দশ মিনিট পড়ে আসে এই রেস্টুরেন্টের বাইরে। তারপর বাসায় চলে যাই। তবে এত বার বার এখানে আসলে সন্দেহ হবে। অন্য জায়গা দেখতে হবে। পিজ্জাটা মজা হয়েছে না।
    আমাকে কোন দিন দেখে নি তো?
    নাহ। এখনো দেখি নি।
    ভয় হচ্ছে।
    দেখা যাক কি হয়? তুমি তো কিছুই খেলে না।
    আজ ভালো লাগছে না। আজ বরং উঠি।
    তুমি বের হলে আমি তারপর জসীম চাচাকে ফোন দেবো। তুমি তাড়াতাড়ি যাও।
    আচ্ছা। রাতে কল দিয়ো।
    হুম।
    সাজ্জাদ চলে যায়। অর্পিতা তারপর সুযোগ বুঝে জসীমকে ফোন দেয়।
    চাচা আমার আর দশ মিনিট লাগবে।
    আচ্ছা আফা।

    পাঁচ মিনিট পর আল আমীন রেস্টুরেন্টের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। সে চেয়ে চেয়ে দেখে অর্পিতা গ্লাসের ওপারে খাচ্ছে। গ্লাসের জানালা দিয়ে দেখা যায় আরো কত লোক কত কিছু খাচ্ছে। প্রায়ই সে এই দোকানের বাইরে এসে অর্পিতার জন্য অপেক্ষা করে। লোকজনের খাওয়া দেখে। মাঝে মাঝে লুকিয়ে লুকিয়ে আসে। দেখে আফা একটা ছেলের সাথে কেমন করে হাসতে হাসতে খায়। সে জানে আফা পীরিত করে। কিন্তু সে কাউকে বলে না। বয়স হলে সব মেয়েই পীড়িত করে। এরপর তাদের বিয়ে হয়। বাজান বলছে। আর বলছে বাড়িতে না জানাতে। নয়তো আফা যে রাগী, চাকরি থেকে বের করে দেবে। এত দিনে মাথা গোঁজার একটা জায়গা পাওয়া গেসে। জসীম কোন ঝামেলা করতে চায় না। আল আমীনকে বলেছে এই কথা বাড়ির মেম সাহেবকে নাহ বলতে। পরে কি ঝামেলা হবে। দেখা যাবে তাকেই ঘর থেকে বের করে দিল। কি দরকার ঝামেলার? এই বয়সের মেম সাহেবরা এ রকমই করে।
    সে যা ইচ্ছে হোক! আল আমীনের ভালো লাগে মানুষজনের খাওয়া দেখতে। কত রকমের মানুষ। কেউ মোটা, কেউ চিকন, কেউ লম্বা, কেউ খাট। সবাই বসে বসে খায়। কাঁচের দেয়াল দিয়ে সব দেখা যায়। সে অবাক হয়ে দেখে কাঁচের দেয়ালের ওপারের চিকন মোটা লোক গুলো রুটির মতো কি একটা যেন রসিয়ে রসিয়ে খাচ্ছে। তার ও খুব খেতে ইচ্ছে করে। একদিন সে আফাকে বলবে। ঐ পাশে দাঁড়ানো রিক্সাওালারাও দেখে। তারা এগুলো দেখে নিজেদের মধ্যে হাসা হাসি করে। বিড়ি টানতে টানতে তারা বলে খায় আর কত টুক। পয়সা খায়। তারপর দোকানের পাশের সস্তা খিছুরি আর পেঁয়াজ মরিচের ভর্তার দিকে তাকিয়ে শুকনো মুখে পেটে হাত বোলায়। আল আমীনের পেটে জন্মের ক্ষুধা জমে ওঠে। যেন একটা জীবন সে কিছুই খায় নি। একদিন সে বড় আফাকে বলবে। সেও একদিন ঐ শুকনো রুটিগুলো চিবিয়ে চিবিয়ে খাবে। সে ঘুরে তার বাপকে বলে,
    বাজান ঐগুলা কি খাইতে খুব মজা?
    ধুর ব্যাটা ঐগুলা আমাদের খাবার না। বড়লোকের খানা। সোয়াদ নাই। মুখে দিতে পারবি না।
    ক্যান বাজান?
    নাহ! নুন ঝাল কম। ক্যামনে যে খায়?

    4
    2 Comments
Skip to toolbar