Profile Photo

মীর রাফিদ হোসেনOffline

  • rafid567@
  • Profile picture of মীর রাফিদ হোসেন

    মীর রাফিদ হোসেন

    4 years, 11 months ago

    পাগল ভক্ত

    শার্লক হোমস, ফেলুদা, কাকাবাবু,ব্যোমকেশ এইসব চরিত্রকে আমরা সবাই চিনি কিন্তু আমরা কি এসব চরিত্রের কোনো পাগল ভক্তকে চিনি?আমাদের আজকের গল্প এমনি একজন পাগল ভক্তকে নিয়ে-
    শান্ত ক্লাস ৭ এ পড়ে।বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে হওয়ায় সারাদিন বাবা মায়ের আদরের মাঝেই ডুব দিয়ে থাকে শান্ত।ছোটবেলা থেকেই একটি বদঅভ্যাস ও একটি ভাল অভ্যাস নিয়ে গড়ে উঠেছে শান্ত।ভাল অভ্যাস টি হচ্ছে প্রচুর বই পড়া আর খারাপ অভ্যাসটি হচ্ছে সবকিছুতেই রহস্যের ধোঁয়া খোঁজা।এইযে গত বুধবারই শান্তর বাবা বাজার থেকে ১কেজি আম কিনেছিল,বাসায় এসে শান্ত যখনই আমের প্যাকেট খুলল তখন বাবা বলল”আরে,১ কেজি তে তো ৭টা আমি আম দিয়েছিল কিন্ত এখানে তো ৬টি আম”এই কথা শোনার সাথে সাথেই শান্তর বুক খুশিতে ভরে গেল কেননা ১টি আম নিখোঁজ এর ঘটনায় শান্ত যেন ঢের রহস্যের সন্ধান পেল.এরপরেই শুরু হলো শান্তর জেদাজেদি,বাবা এতবার বলল কোনো দরকার নেই,আমার দেখতেও ভুল হতে পারে কিন্তু শান্ত যেন নাছড়বান্দা ,কোথাও গেল আরেকটি আমি সেটি যেন বের করা শান্তর চাই চাই।তাই আবার শান্তকে নিয়ে বাজার যেতে হল বাবার, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত শান্তর গোয়েন্দাগিরি খাটল না এই ঘটনায় কারণ একটি আমি কম গেছে শুনে দোকানদারই বলে উঠল,”দাদা আমারই ভুল হয়েছিল, একটি আমি ভুলে দেয়নি হয়ত”কথাটি শোনার সাথে সাথে শান্তর মুখ গম্ভীর আর বাবার মুখ হাস্যজ্জ্বল হয়ে উঠল।ঐদিন পুরো সময়ই মন খারাপ গেল শান্তর ।রাতে মা শান্তর রুমে এসে বলল,”কিরে ছোট গোয়েন্দা, কেস সলভ হয়েছে জন্য মন খারাপ?”জানালার দিকে তাকিয়ে গভীর চিন্তায় মগ্ন শান্ত।”জানিস আমি যখন ক্লাস ৯ এ পড়তাম আমিও গোয়েন্দা হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম, গোয়েন্দা বইও পড়তাম অনেক কিন্তু আমার বাবার এক ধমকের জন্যে এই স্বপ্ন ক্লাস ৯ এই ভাঙ্গতে হয়েছে,তুই গোয়েন্দা হবি ভাল কিন্তু এখন না বাবা এখন ভালমত পড়াশুনা কর,বড় হয়ে তোর ইচ্ছা মত গোয়েন্দাগিরি করিস”বলল মা।
    প্রতিদিন সকাল ৯-১০টা খুব মনযোগে খবরের কাগজ পড়া শান্তর বাবার পুরাতন দিনের অভ্যাস।কিন্তু আজকের দিনে টা ভিন্ন খবরের কাগজের মধ্যে জমজমাট কোনো খবর নেই তাই মনোযোগ দিতে পারছে না বাবা, তাই হঠাৎ দেয়ালের দিকে চোখ যেতে আৎকে উঠল বাবা।পুরো দেয়াল লাল রংয়ে ভর্তি কাছে যেতেই ভালমত বুঝতে পারল, আরে এযে সব লাল পিঁপড়ে, পুরো দেয়াল লাল পিঁপড়েতে ভরা ,পাশের রুমে চিৎকার পাওয়া গেল মায়ের মায়ের রুমেও একি অবস্থা, দেয়ালে লাল পিপড়ায় ভরা। মায়ের আওয়াজ শুনে বাবা শান্ত দুজনেই এল।বাবা বলল”মাই গড একি অবস্থা, এত পিঁপড়ে এল কোথাথেকে?”চিন্তিত স্বরে মা বলল,” আমি কি জানি!”।গোল চশমার ফাঁক থেকে পুরো ঘর ভালমত লক্ষ্য করতে করতে শান্ত বলল,”কেউ কোন চিন্তা করবে না এই রহস্যর সমাধান আমিই করব।”২ ঘন্টা পর বাবা মা দুজনই অবাক কারন আস্তে আস্তে সব পিঁপড়ে গায়েব হয়ে যাচ্ছে।বাবা অবাক হয়ে বলল”এটা কিভাবে সম্ভব?”ঠিক তখনি চশমা খুলতে খুলতে ড্রয়িং রুমে ব্যোমকেশের স্টাইলে শান্তর আগমন।”সব বলছি আগে বস তোমরা” “শুনো প্রথমেই বলি এত পিঁপড়া এল কোথাথেকে,আসলে আমাদের বাসার দেয়ালে ছোট ছোট অনেক গর্ত আছে, পিঁপড়ারা সব গর্তে আস্তে আস্তে বাসা বাঁধা শুরু করেছিল এমন করতে করতে পিঁপড়ার সম্রাজ্য গড়ে উচেছিল আমাদের বাসা।”বলল শান্ত।বাবা:”সেটা তো বুঝলাম কিন্তু পিঁপরাগুলো সব গায়েব হচ্ছে কিভাবে?”।আবার চোখে চশমা দিয়ে গলায় গম্ভীর্য এনে বাবার দিকে তাকিয়ে শান্ত বলল,”পিঁপড়া হলো দলবদ্ধ প্রাণী, ওরা সব কাজ একসাথে করে আর কোথাও যাওয়ার সময় ওরা ওদের সাথে সাথে একধরনের গন্ধ ছেড়ে দেয় যাতে পিছনের পিঁপড়া অনুসরণ করে চলতে পারে এভাবেই সব পিঁপড়া গন্ধ-চেইন মেইনটেইন করে চলাফেরা করে, আমি কালকে তোমার কেনা আতরের শিশি ওদের রাস্তায় রাস্তায় লাগিয়ে দিয়েছি এতে পথ ভুল করে অটোমেটিক সব পিঁপড়া গায়েব হয়ে গিয়েছে।”ছেলের তুখোড় গোয়েন্দাগিরি আর শখের আতরের শোকে বাবার মুখ অন্যরকম হয়ে গেল।কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেল ছেলের গোয়েন্দাগিরি যথেষ্ট মুগ্ধ করেছে তাকে।
    একটা সাকসেসফুল কেস কমপ্লিট করার পর আজকে খুব ফুরফুরা মনে শান্ত।হঠাৎ রুমে মায়ের আগমন,”শান্ত, আমাদের বাসায় দেয়ালে দেয়ালে যে ফুটো আছে তা আমি জানি কিন্তু সেসব ফুটোর মধ্যে যে চিনির দলাও থাকে সেটা প্রথম জানলাম ,ভ্যাগিস কালকে তোর বাবার নিয়ে আসা চিনি আলাদা বোয়মে রেখেছিলাম তানাহলে তো বুঝতেই পারতাম না ,তুই ইচ্ছাকৃত পিপড়াদের আমন্ত্রণ দিয়ে তাদেরকে আবার বিদায় দিয়েছিস।ও হ্যা ,ঐদিন প্যাকেট তো একটি আম তুই এ বের করেছিলি, ব্যাপারটা আমি ঐ দিন তোর কথাবার্তাতেই ধরতে পেরেছিলাম কিন্তু আমার ছোট গোয়েন্দা কেসসলভ এ লেগেছিল তাই আর কিছু বলেনি, শোন প্রবলেম সলভ করা ভাল কিন্তু সেটা সমস্যা তৈরী করে না আর তুই ভুলিস না আমি তোর মা বড় গোয়েন্দা।”শান্ত মাথা নিচু করে দাঁড়িয়েই থাকল।
    শান্তর এমন মুখ দেখে মা হেসে বলল,”তুই দেখি আসলেই গোয়েন্দা গল্পের পাগল ভক্ত”।

    3
    4 Comments
Skip to toolbar