-
4.
10/02/26 থেকে 15/02/26—এই পাঁচ দিনের দীর্ঘ অন্তরালে মাইগ্রেন রাতে উড়ে বেড়ানো বাদুড়ের মতো আমার চোখে দানা বেঁধেছিল।
বলা হয়, বসন্ত মানেই পুনর্জন্মের ঋতু—আমার কাছে তা অবর্তমানদের আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবর্তন।
বসন্তের রঙে সবার মনে উল্লাস ,অথচ আমার মন অবিচারের রোষে ভিজে |” বহির্জগৎ পুষ্পিত, রঙিন, উচ্ছল; কিন্তু আমার অন্তঃস্থলে এখনো হিমঋতুর স্থবিরতা”
এ যেন ঋতুচক্রের মাঝখানে আমার ব্যক্তিগত অনশন; অনুভূতির এক দীর্ঘ উপবাস।
চশমা ছাড়া সবকিছু ঝাপসা, অস্পষ্ট, অমীমাংসিত মনে হয়,প্রকৃতির প্রতিটি তরঙ্গছন্দ, ফুলের সুগভীর সুবাস—সবই মিলিত হয়ে ,অনাবিষ্কৃত এক অজ্ঞাত অনুভূতি সবই আমার চোখে মিলিয়ে যায় |
অতৃপ্ত প্রতীক্ষার অন্তঃস্বরেই জন্ম নেয় এক আর্ত সংগীত:
গানের নামঃ এসো, এসো প্রিয়া
স্তবক ১
কৌকিলা ডাকে কুহু কুহু করে,
শুধু তুমিই ডাকো না, ওগো প্রিয়,
এসো রে, আমারি দুয়ারে।
কবে যে শুনিবো তোমারি সেই অমীয় বানী,
এসো এসো প্রিয়া, আমারি দুয়ারে।
স্তবক ২
কুসুম ফোটেরে কাননে, গন্ধ ছড়ায় হাওয়ায়,
বসন্ত বসে আছে তোমারে ভাবনায়।
বাসন্তী রঙে রঙে, মন করে প্রিয়া প্রিয়া
এসো রে, এসো প্রিয়া।
এসো, এসো, প্রিয়া
খুলে দাও তোমার হৃদয়ের দুয়ার।
স্তবক ৩
আমার প্রহর গোনে অন্ধ বালকের মতো,
পৃথিবীর আলো দেখে সে আশার চোখে।
প্রতীক্ষা নিঃশব্দ সুরে, গোপন ব্যথা গায়
এসো, এসো প্রিয়া,
খুলে দাও তোমার হৃদয়ের দুয়ার।
স্তবক ৪
তুমি না এলে
বাঁশির সুর কাঁদে, নিঃশব্দ রাত জাগে,
রাখাল আর নেই, বংশীও বোবা বনে।
স্তবক ৫
তুমি না এলে
মধুর হাঁড়ি ভাঙে মৌমাছির হাহাকারে,
ফুলহীন বাগানে কাঁদে প্রজাপতির গানে।
স্তবক ৬
তুমি না এলে
সমুদ্র ঢেউ ফোটায় নিঃশব্দ কান্নার ঢেউ,
এসো, এসো প্রিয়া,
খুলে দাও তোমার হৃদয়ের দুয়ার |এসো প্রিয়া,
যেখানে শেষ হয় না আর কোনো দিন।
মায়াবী স্বপ্ন পূরণ কর কাঁচি দিয়ে কেটে দাও দুর্ধর্ষ রাত্রি |
তোমারে নিয়ে কোন সমুদ্র কেন্দ্রিক উপমা দিতে গেলে আমি তোমারে,সমুদ্র কন্যা বলতে পারি |কেন বলবো ?
কারণ ,সমূদ্র যেমন সুন্দর শান্তি আনে এবং গর্জনে আলোড়ন সৃষ্টি করে তেমনি তুমিও ?
জলরাশির মত রহস্যময় দূরবর্তী শুভ্র নভোচারিনী |তুমি সমুদ্র স্রোতের মতো দ্রুতগামী হয়ে বয়ে চলো তাই
তোমারে ধরতে পারি না সহজে |আমি এখনও সমুদ্রের ঢেউ গুনি একা একা,প্রতিটি ঢেউ জিজ্ঞাসা করে— সে আসবে কী রে?
আর বসন্ত চলে যায় চোখের জল ফেলে।সমুদ্র শুধু গর্জন জানে, বসন্ত জানে ফুল ফোটানো,
তুমি কি শুধু, প্রস্থান জানো |
কেন জানতে শিখলে না?
মনের ভিতর মন থাকে |কেন জানতে শিখলে না ?সেই অজানা মানুষকে সে কিনা আগে বসন্ত ‘ভালবাসত ‘ কিন্তু এখন আর ভালোবাসে না |
আমার বসন্ত তুমি ছিলে বাসন্তী রূপে ,তোমার রূপের কাছে
এই বসন্ত কিছুই না |
একটু অজানার বাইরেও ঘাটাঘাটি করতে হয় , এটা তো অন্তত সাধারণ জ্ঞানে তোমার জানা লাগতো |— ওগো অনাগতা, বসন্ত কি তবে একাকীই রইল?
— বাসন্তীর অপেক্ষায় দিনরাত, বটবৃক্ষের পাতা ঝরে।
কলমে: মোঃ রুবায়েত রহমান রাফি।6 Comments-
-
“…মাইগ্রেন রাতে উড়ে বেড়ানো বাদুড়ের মতো আমার চোখে দানা বেঁধেছিল। …” খুব ভালো লাগল ‘মাইগ্রেন’ শব্দের এই অভিনব ব্যবহার । সাথে পুরো লেখাটাই।
-
বসন্তের মাঝেও হিমঋতুর স্থবিরতা বহন করার যন্ত্রণাটা এত সুন্দর করে লিখলেন… এক লেখাতেই আপনার ভক্ত হয়ে গেলাম। প্রীতি ও শুভেচ্ছা কবি ও কবিতার তরে… 💙
-
Friends
Moin Uddin
@moinuddin1
মোস্তফা কামাল সাকি
@mostofakamal
উত্তম কুমার
@uttamkumarpaul75
তিতা ফুল
@nadia1
মুনতাছির আহমেদ
@moontasirahmed
Pulock Sheth
@pulocksheth
Shahadat Hossain Bhuiyan
@shahadathossainbhuiyan
Kaoser Ahmed
@kaoserahmed
Nayan Monir
@nayanmonir



সমুদ্র কন্যার সেই গহীন রহস্য আর বসন্তের এই ম্লান বিদায়—মুগ্ধতা আপনার কলমে!