-
নাটক- মিলন তিথি
(প্রথম অংশ)
রচনা -আবুল হাসান তুহিনকাহিনী সংক্ষেপঃ
মিলন এবং তিথি- একে অপরের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকে।একসময় ভালোবাসায় রূপ নেয়। ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখে দুজন। মিলন চাকরির ইন্টারভিউ দিতে ঢাকায় যায়। কিন্তু সে ফেরত আসে না। তিথি হিসাব মিলাতে পারে না। এদিকে তিথির বাবা বিয়ের জন্য চাপ দিয়ে থাকে। তিথি এতে রাজি হয় না। তিথি মিলনের ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকে। তিথি সংকল্প করে মিলনকে খুঁজে বের করবে। একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে মিলন কে নতুন রূপে আবিষ্কার করে। তারপর মিলনের ফিরে না আসার সমাধান হয়। আসলে মিলন বাস দুর্ঘটনায় একটি পা হারায়। এই কারণে তিথির সঙ্গে যোগাযোগ করেনি, অনাকঙ্খিত দুর্ঘটনার জন্য মিলন দায়ী নয়, তিথি মিলনকে বিয়ে করতে বলে। মিলন তার বৃদ্ধ শিক্ষককে দেখাশোনা করতো, মিলন এবং তিথি বিয়ে করে বৃদ্ধ শিক্ষকের বাসায় ওঠে।চরিত্র:
১। শিক্ষক- স্কুলের শিক্ষক -৬৫
২।মিলন – প্রাক্তন ছাত্র -৩০
৩। স্ত্রী – শিক্ষকের স্ত্রী ৫৫
৪। তিথি – প্রাক্তন ছাত্রের প্রেমিকা ২৫
৫। মা -তিথির মা -৪৫
৬। বাবা – তিথির বাবা-৫৫
৭।মিতু – বান্ধবী -২৫
৮। রিকশা চালক-২৫(নেপথ্য)দৃশ্য।।০১।। দিন।। বাড়ি ।।
চরিত্রঃ মা, তিথি,
(মা কলিংবেলের শব্দ দরজা খুলবে, তিথি ঘরে প্রবেশ করবে)মা : এতক্ষণে তোর ফেরার সময় হলো। কলেজ কি আজকাল দেরিতে ছুটি দেয়। কিরে কথা বলছিস না যে?
তিথি : কি বলবো মা, তুমি তো জানো মা, আমি পায়ে হেঁটে চলাফেরা করি। কলেজ ছুটির পর বন্ধু-বান্ধবের সাথে কথা বলতে বলতে একটু সময় পার হয়ে যায়।
মা : তাই বলে এত দেরি! কি জানি আজকালকার ছেলেমেয়েদের ভাবগতি বোঝাই দায়।
তিথি : মা তুই বড্ড বেশি চিন্তা কর। সব সময় ভাবো আমি বুঝি হারিয়ে যাব। আমি তো এখন একটু বড় হয়েছি।
মা : চিন্তা কেন যে করি সেটা তুই পরে বুঝবি, যখন আমার মত মা হবি তখন বুঝবি এ কথা কেন বলেছি।
তিথি : মা তুমি আমাকে বেশি কেয়ার করো এবং ভালোবাসো তাই তোমার যত চিন্তা।
মা : মার কাজ তো সন্তানকে কেয়ার করা, তাকে আগলে রাখা, সেই ছোট থেকে এই পর্যন্ত তোকে ছায়ার মত আগলে রেখেছি। আর বিনা বেতনে সংসারের গুরুদায়িত্ব পালন করে করছি।
তিথি : মা বাবা সঠিক দায়িত্ব পালন না করলে সন্তান বিপথে চলে যায় এটা আমি জানি মা।
মা : যা জলদি হাত মুখ ধুয়ে আয় খেতে হবে না আমিও তো না খেয়ে বসে আছি।
তিথি : মা তুমি টেবিলে গিয়ে বসো আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।
।।পটপরিবর্তন।।
দৃশ্য।।০২।। দিন।। নির্জনস্থান
চরিত্রঃ মিলন, তিথি,(মিলন এবং তিথি নিজেদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে।)
তিথি : সৃষ্টি কর্তা মেয়েদের মনকে মোমবাতির মত নরম করে সৃষ্টি করেছেন। এই কারনে তোমার প্রেমের আগুনে আমি গলে গেছি।
মিলন :তাই বুঝি! আসলেই কি মেয়েদের মন নরম ও কোমল হয়ে থাকে? মেয়েরা কেউ হয় রুক্ষ, কেউ আবার বদমেজাজী। মেয়েদের চেনা খুব কঠিন।
তিথি :কত গুলো মেয়ে কে তুমি চেনো? মেয়েদের ব্যাপারে তুমি বিশাল একটা সার্টিফিকেট দিলে।
মিলন :আরে আমি কি মেয়েদের নিয়ে গবেষণা করি নাকি। এটা মনোবিজ্ঞানীদের কথা।
তিথি : ও আই সি । মেয়েদের নিয়ে মনোবিজ্ঞানের গবেষণা বেশি করতে গেলে লোকজন পাগল উপাধি দেবে।
মিলন :শোন গবেষণা এবং বাস্তবতা সব ক্ষেত্রে মেলে না। তাছাড়া মেয়েদের ষোল কলার এক কলার রহস্য ভেদ করা দূসাধ্য ।
তিথি :কত মুনি ঋষি গন ষোল কলার অথৈ সাগরে হাবুডুবু খেয়েছেন। আ হা হাহা ( হাসি) তুমি ও হাবুডুবু খাবে।
মিলন :আমি হাবুডুবু খেলে তোমাকেই হাত ধরে টেনে তুলতে হবে, গবেষণায় দেখা গেছে কিছু গোপন করে অন্য কিছু প্রকাশের প্রবণতা মেয়েদের বেশী। সবসময়ে একটা কিছু আড়াল করে। পরিবেশ বুঝে অন্য কিছু প্রকাশের চেষ্টা করে। এজন্য প্রায়ই তাকে মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়।
তিথি : তাহলে মেয়েরা মিথ্যে কথা বলে?
মিলন :না এটা আসলে ছলাকলার কথা বুঝানো হয়েছে।
তিথি : মশাই এতো গবেষণা করলে তুমি আমাকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখবে !
মিলন : তা দেখবো কেন? সন্দেহ প্রবণতা একটি রোগ। গবেষণার বিষয় যা বলছিলাম শোনো, প্রেমের ব্যাপারে মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় অনেক বেশী নিশ্চুপ। সে সব সময় তার আবেগের ব্যাপারে সচেতন থাকে। সে তার প্রেমের প্রকাশ খুব বেশি পছন্দ করে না। একটি ছেলের যদি একটি মেয়েকে পছন্দ করে তাহলে সে সবাইকে বলে বেড়ায় এবং অনেক বেশি আমোদী হয়। কিন্তু মেয়েরা এই ব্যাপারে একদমই চুপ থাকে ব্যাপারটা এমন যেন কিছুই হয় নি । সে তার প্রেমের বা প্রমিকের ব্যাপারে কোন নেতিবাচক কথা শুনতে একদম অপছন্দ করে।
তিথি : আমার আচরণের মধ্যে তেমন কিছু আছে?
মিলন : আছে মানে হানডেট পারসেন আছে এখনো পর্যন্ত তুমি আমাকে আই লাভ ইউ একথা টা বলতে পারোনি। তাছাড়া কথায় কথায় তুমি রেগে যাও। মেয়েরা সাধারনত বদমেজাজী হয়। যদি কখনো বৈপরীত্য দেখা দেয় তাহলে তারা খুব তাড়াতাড়ি রাগান্বিত হয়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় খুব তাড়াতাড়ি ক্ষেপে ওঠে এবং রাগ পড়তেও অনেক বেশী সময় লাগে।
তিথি : বুঝলাম মশাই মেয়েরা বদমেজাজি এবং জেদী হয়। আর মানসিকতার দিক থেকে কেমন হয়?
মিলন : মেয়েদের মানসিকতা কেমন হয় শুনবে। তবে আমি বলছি না তুমি এমন। যদি একটি মেয়ের সঙ্গে প্রেমের ভান করা হয় তাহলে সে নিশ্চিত ধরে নেবে যে ছেলেটি তার প্রেমে পড়়ছে। কিন্তু যদি তাকে যদি বলা হয় যে তার সাথে অভিনয় করা হয়েছে তাহলে সে অন্য ব্যাখ্যা দেবে।
তিথি : মেয়েরা বড্ড বেশি আবেগী হয় এটা জানতো ?
মিলন :হ্যাঁ সত্যি , মেয়েরা অনেক বেশী আবগী হয়। যদি কোনো ছেলেকে তার ভাল লাগে আর সে ছেলে যদি আবেগী চোখে তার দিকে তাকায় তাহলে মেয়েটি সঙ্গে সঙ্গে আবেগী হয়ে যায় যদিও সে প্রথম অবস্থায় ধরা দেবে না। যদি কখনো ছেলেটির সঙ্গে আবেগী কোন ঘটনা ঘটে তাহলে সে কখনো তা ভোলে না।
তিথি : গবেষণায় আর কি পাওয়া যায়?
মিলন :মেয়েরা সবসময় তার স্বপ্নের পুরুষকে আলাদাভাবে পেতে চায় এবং আলাদাভাবে অনুভব করে। কিন্তু এমন অভিনয় করে যেন সে সেই ছেলেটাকে মনেই করে না। একটি মাত্রই চুম্বন মেয়েটির ধ্যান-ধারনাকে আমূল পরিবর্তন করে দিতে পারে।
তিথি : মেয়েরা কি ধরনের চিন্তা করে?
মিলন : গবেষণায় দেখা গেছে, মেয়েরা সবসময় তার স্বপ্নের পুরুষের প্রশংসা করতে এবং তার পছন্দকে গুরুত্ব দিতে পছন্দ করে। যদি ছেলেটিও সেই মেয়েটির ব্যাপারে অনেক সিরিয়াস হয় তাহলে অনেক কিছুই ঘটতে পারে।
তিথি :আর কি কি সমস্যা মেয়েদের আছে?
মিলন :মেয়েদের একটা বড় সমস্যা হচ্ছে বেশি কথা বলা, তারা অপ্রোয়জনীয় কথা বলে সারাদিন পার করে দিতে পারে। খোশ-গল্প করে সময় অতিবাহীত করা মেয়েদের একটা পছন্দনীয় কাজ।
তিথি : কী ধরনের গল্প খোশ গল্প করে মেয়েরা বলো একটু শুনি?
মিলন : ধরো পূর্ব প্রেম, অন্য মেয়েদের প্রেমিক, ফ্যাশন, রূপচর্চা, পোশাক-আশাক ইত্যাদি তাদের আলোচনার কমন বিষয়।
তিথি : তাহলে মেয়েরা পরনিন্দা পরচর্চা নিয়ে ব্যস্ত থাকে!
মিলন : এ বিষয়ে আমি কোন তর্কে যাবনা আমি শুধু গবেষণার কিছু বিষয় তোমাকে বললাম ঠিক আছে শোন সন্ধ্যা লেগে গেছে এখন উঠতে হবে পরে আবারো বসা যাবে এই বিষয় নিয়ে।
তিথি : ঠিক আছে চলো, বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিতে হবে। (প্রস্থান)
মিলন : দিতে হবে মানে আবশ্যই দেবো মহারানী।
তিথি। : চলুন মহারাজ। হাঁ হাঁ হাঁ (হাসি)দৃশ্য।।০৩।। রাত ।। বাড়ি ।।
চরিত্রঃ মা ও বাবা
(বাবা, মা নিজেদের মধ্যে কথা বলছেন)বাবা : দেখতে দেখতে সময় কত গড়িয়ে গেল তাইনা। ছেলেটাকে উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়াতে পাঠালাম। কিন্তু সে তো আর ফিরে এল না। দেশে আসার কথা বললেই কিছু টাকা পাঠিয়ে দিয়ে আমাদেরকে বুঝ দেয়।
মা : কি আর করবে ছেলে মেয়ে বড় হলে মায়া ত্যাগ করতে হয়। এইটুকু সান্ত্বনা যে তাকে মানুষের মতো মানুষ করেছ উচ্চ শিক্ষিত করেছ।
বাবা : মানুষ হওয়া কি এতই সোজা তিথির মা! শিক্ষিত বা উচ্চশিক্ষিত হলেই কি মানুষ হয়? এটাকে মানুষ হওয়া বলে না। প্রকৃত মানুষ হতে গেলে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হয়। থাকতে হয় দেশাত্মবোধ নৈতিক চরিত্র। এটা কয়জনের ভেতরে আছে।
মা : তোমার ছেলে এখন বলে এদেশে থাকার কি পরিবেশ আছে! এদেশ বসবাসযোগ্য নয়। তার লেখাপড়ার যোগ্যতার মূল্যায়ন হবে না তাকে অর্থ দিয়ে কোন প্রতিষ্ঠান পুষতেও পারবে না ।
বাবা : এই ঘটনা আজ নতুন নয় মেধা পাচারের ঘটনা অনেক আগে থেকেই হয়ে আসছে। তবুও যদের ভেতরে দেশাত্মবোধ কাজ করে, আত্মীয় স্বজনের প্রতি দায়িত্ববোধ আছে তারা ফেরত আসে। যে দেশের পয়সা দিয়ে বিদেশে লেখাপড়া শেখা, সেই দেশকে অবমূল্যায়ন করা ঠিক নয়। যার কারণে উচ্চশিক্ষিতরাই নিজেদের স্বার্থে দেশকে পিছিয়ে রেখেছে।মা : নিজের মেধা অন্য দেশের কাছে যারা বিক্রি করে তারা যদি সেই মেধা নিজের দেশে কাজে লাগাত তাহলে দেশ অনেক আগেই উন্নতির শিখরে পৌঁছে যেত।
বাবা : বাহ্ তুমি তো দেখছি অনেক সুন্দর কথা বললে। ও হ্যা, যে প্রসঙ্গ নিয়ে তোমার সাথে কথা বলতে চেয়েছিলাম সেটা ভুলেই গেছি। দিন দিন মেয়েটার বয়স বাড়ছে । তোমাকে তো এর আগেও বলেছি সম্বন্ধটা এবার আর ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। তিথিকে বিষয়টা ভালোভাবে বুঝিয়ে বলো। আমি চাই মাস্টার্স ফাইনালের পর ওকে বিয়ে দিতে।
মা : তুমি ওর সাথে খোলাখুলি আলাপ কর আমি অনেক বলেছি। টেবিলে পান রাখা আছে, চুন দেখে নিও। যেন গাল পুড়িওনা। আমি খাবার গুলো ফ্রিজে তুলে রাখতে গেলাম।
বাবা : আচ্ছা ঠিক আছে যাও।
দৃশ্য।।০৪।। দিন।। কলেজ ক্যাম্পাস ।।
চরিত্রঃ তিথি ও মিতু
(কলেজ ক্যাম্পাসে বসে মিতু ও তিথি নিজেদের মধ্যে কথা বলছে)মিতু : তিথি আজ তোকে অনেক সুন্দর লাগছে। কি ব্যাপার এখনো বিশেষ কিছু নয় তো।
তিথি : না তেমন কিছু না। স্টুডিওতে গিয়ে ছবি তুলবো তাই।
মিতু : একা নাকি, মিলন ভাইয়ের সাথে!
তিথি : আমার কয়েকটা ছবি তুলতে হবে। পাত্রপক্ষ কে দিতে হবে। ছেলের মা বাবা আমাকে অনেক আগেই পছন্দ করে রেখেছেন ছেলে তো আমাকে দেখেনি। লন্ডনে ডাক্তারি পড়তে গিয়েছে। তার কাছে ছবিগুলো পাঠাতে হবে। বাবা দিনরাত চাপ দিচ্ছেন।
মিতু : বুঝলাম, শেষে বেচারা মিলন ভাইয়ের কি হবে?
তিথি : কিছুই হবে না, কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা-মাতা সব সময় সুপাত্রের সন্ধান করেন। তবে এখানে কথা আছে যে প্রকৃত অর্থে সু-পাত্রের সন্ধান কি তারা পেয়ে থাকেন? সব ক্ষেত্রে নিশ্চয়ই না।
মিতু : বিয়ের ক্ষেত্রে পিতা-মাতা সব সময় অর্থ এবং সামাজিক অবস্থানের নিরিখে বিচার করেন। এক্ষেত্রে তার চরিত্রের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করতে পারেন না। চরিত্রের ত্রুটি ধরা পড়ে বিয়ের পরে। আমাকে দেখ। বড় ব্যবসায়ী দেখে আমাকে বিয়ে দিয়েছেন! সে ব্যবসায়ের নাম করে বিভিন্ন-দেশে ঘুরে বেড়ায়। দেশে থাকলে মাতাল হয়ে গভীর রাতে বাড়ি ফেরে। প্রতিদিন পার্টি লেগেই থাকে। আমি বিয়ের পর কয়েকটি পার্টিতে অংশগ্রহণ করেছিলাম। এই সমস্ত পার্টির চলে অন্য কিছু। বিদেশি দামি মদ নেশায় বুঁদ হয়ে কারো হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। মৃদু আলোতে কে কার বউ, কেকার বান্ধবী ঠিক থাকে না। নিজেকে কৌশলে বাঁচিয়ে ফিরেছি। সব জানিয়েছি ওই সমস্ত পার্টি আমার পছন্দ নয়। রাগ করে চলে এসেছি। পড়াশোনা শেষ না করে আর ঢাকাতে ফিরছিনা । ঢাকাতে গিয়ে একটা হ্যান্ডিক্রাফসের শোরুম দিব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিথি : তোর ভিতরে এত কথা আমাকে এতদিন খুলে বলিস নি। আমি তো ভেবেছি তুই পরীক্ষা দেওয়ার জন্যই চলে এসেছিস।
মিতু : পরীক্ষা দেবে এটা সঠিক কিন্তু ব্যবসায়ী হাজবেন্ডের কাছ থেকে ব্যবসা শিখেছি, তাই নিজে স্বাবলম্বী হতে হবে। সে তার মতই যাই করে বেড়াক না কেন একদিন ঠিকই গুটিয়ে আসতে হবে। নিজে স্বাবলম্বী হলে পায়ের নিচের ভীত শক্ত হয়। কোন ঝড় ঝাপটায় টলাতে পারে না।
তিথি : ঐ তো ও এসে গেছে আমি উঠিরে।
মিতু : আচ্ছা ঠিক আছে। শুধু একা নিজের ছবি তুলিস না সাথে মিলন ভাইয়ের সাথে কয়েকটা ছবি তুলে আস িস প্রেক্ষাপট যদি পাল্টে যায় তখন ছবি গুলো স্মৃতি হয়ে থাকবে।
তিথি : সে কথা আর বলতে !
মিতু : তাই বুঝি! (দুজনে হো হো করে হেসে ওঠে)
।। পটপরিবর্তন।।
দৃশ্য।।০৫।। দিন।। বাড়ি ।।
চরিত্রঃ তিথি ও বাবা
(বিয়ের বিষয়ে তিথির বাবা তিথির সাথে কথা বলছেন।)বাবা : শোন মা, আমি তোমার অনেক আবদার শুনেছি, এখন আমার পক্ষে আর সম্ভব নয়। যে ছেলেপক্ষ তোমাকে দেখে রেখে ছিল। তারা ফাইনালি বিয়ের দিন তারিখ ধার্য করবেন। তোমার ছবিগুলো তাঁরা ইংল্যান্ডে পাঠিয়েছিল ছেলে তোমার ছবি দেখে পছন্দ করেছে দেশে এসে তোমাকে সরাসরি দেখবে। এটা নড়চড় হবে না।
তিথি : না বাবা আমি এই মূহুর্তে বিয়ে করতে পারবোনা ।
বাবা : কেন পারবে না?
তিথি : সেটা তোমাকে আমি বুঝাতে পারব না বাবা। আমিতো বড় হয়েছি। তাছাড়া আমার মতামতের একটা মূল্য তো আছে।
বাবা : সেটার জন্য তোমাকে অনেক সময় দিয়েছি। আর না। আমরা তোমার পিতা-মাতা আমরা যেটা ভালো মনে করি সেটাই তোমাকে মানতে হবে।
তিথি : বাবা তোমার কথা রাখা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তুমি যতই বিয়ের জন্য চাপ দাও না কেন আমি বিয়ে করতে পারবোনা।
বাবা :তোমাকে এ বিয়েতে রাজি হতেই হবে।
তিথি :তুমি যদি বেশি চাপ দাও তাহলে কিন্তু আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো।
বাবা :বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে যাও, একলা মেয়েমানুষ বাইরে বের হয়ে দেখ দুনিয়াটা কেমন কঠিন জায়গা।
তিথি :বাবা আমি তোমাকে ইচ্ছে করে কষ্ট দিচ্ছি না তবে আমি মেয়ে বলে কী আমার ভালো-মন্দ বিচার বুদ্ধির অধিকার নেই! তুমি আমার মঙ্গল চাইছো এটা আমি মানি কিন্তু যে মঙ্গল আমাকে দুঃখ দেবে সেই মঙ্গল আমি মেনে নেব না বাবা।
বাবা :এটাই তোমার শেষ কথা?
তিথি :এটাই আমার শেষ কথা আমি ওর ফিরে আসার অপেক্ষাতেই থাকবো।
বাবা :ফেরার অপেক্ষায় থাকব ? শোনো মেয়ের কথা। খোঁজ নিয়ে দেখো তোমাকে রেখে অন্য কোন মেয়েকে বিয়ে করে, ঘর সংসার করছে অথচ তুমি আইবুড়ি’ হয়ে ঘরে পড়ে আছো ! সেটা ভাবো ! থাকো তোমার জেদ নিয়ে। পিতা মাতার কথা না শুনলে তাদের কপালে দুঃখ নেমে আসে। রাত হয়েছে ঘুমিয়ে পড়ো। আমার মান সম্মানের দিকে খেয়াল রেখো। ( প্রস্তান)
।।সামান্য পচ ।।
তিথি :(স্বগত) না এমন তো হওয়ার কথা ছিল না মানুষটা কি হারিয়ে গেল? কি জানি, মনে হয়না সে আমাকে ভুলেই গেছে! সেই যে ঢাকাতে গেল আর ফিরলো না, কোন খোঁজ খবর পেলাম না, তার প্রতীক্ষায় বসে আছি বেশ অনেক দিন হয়ে গেল । কত আত্মীয় পরিজন বন্ধুবান্ধবের কাছে মিলনের খোঁজ নেয়ার চেষ্টা করলাম কিন্তু কেউ তার খোঁজ দিতে পারল না, আমি আজও ওর ফেরার অপেক্ষায় বসে আছি।যদি সত্যি করে আমাকে ভালোবেসে থাকে আমার সেই ভালোবাসার টানে ওকে ফিরতেই হবে, সেদিন যে বলেছিল চাকরিটা পেলেই আমাদের বিয়ে হবে।
।। ফ্লাশব্যাক।।
দৃশ্য।।০৬।। দিন।। রাস্তা।।
চরিত্রঃ মিলন ও তিথি
মিলন তিথি কথা বলছেতিথি :কী ব্যাপার মশাই এভাবে উদাস হয়ে বসে থাকলে কেন?আকাশের শুভ্র মেঘের ভেলায় ভেসে যাচ্ছে কাশফুলে দুলছে বাতাস অথচ সেদিকে তোমার ভ্রুক্ষেপই নেই। আমার কথা না বাদই দিলাম। কি হয়েছে বলবে তো এমন মনমরা করে বসে থাকলে চলবে? আহা কথা বলছো না কেন?
মিলন :কি বলবো বলো তুমি তো জানো আমি মা বাবাকে হারিয়েছি অনেক আগেই। লেখাপড়া শেষও হয়েছে কিন্তু এখনো কোন চাকরি-বাকরি জোগাড় করতে পারলাম না এদিকে তোমার আমার বিষয়টাও ঝুলে আছে। আগামীকাল চাকরির ইন্টারভিউ আছে ভাবছি চাকরিটা যদি পেয়ে যাই আমরা বিয়ে করবো।
তিথি :এতে ভাবনার কি আছে ? দুজনার দুটি পেট মাত্র কোনরকম চলে যাবে। চাকরি বাকরি যদি নাইবা জোটে , আমরা দুজন মিলে টিউশনি করব তাতেই আমাদের চলে যাবে।
মিলন :জীবনটা এত সহজ নয় অনেক কঠিন বাস্তবতার বেড়াজালে যখন নিজে আবদ্ধ হবে তখন খুঁজবে এর থেকে মুক্তির উপায়? কথায় আছে অভাবে পড়লে ভালোবাসা নাকি জানালা দিয়ে পালায়।
তিথি :সব কিছু মনের ব্যাপার। আমার কাছে ভালোবাসা অনুভব এর দুটি মানুষের মনের বন্ধন অভাবটা এখানে মুখ্য বিষয় নয় বিষয়টি হচ্ছে সম্পর্ক।
মিলন :এ সম্পর্ক তুমি আমি মেনে নিলেও তোমার পরিবার এটা মেনে নেবে না তারা চাইবে একটু ভালো প্রতিষ্ঠিত ছেলে। আমার মত ছেলেকে পছন্দ করবে না।
তিথি :আমার জীবন থাকতে আমি সেটা মেনে নেব না
মিলন :তুমি চিন্তা করো না আজ নাইটে আমি ঢাকা রওনা দেবো চলো এবার উঠা যাক।
তিথি :রাত কয়টার গাড়ীতে যাবে ?
মিলন :রাত এগারোটায়।
তিথি :ঠিক আছে চলো। যেতে যেতে সন্ধ্যা লেগে যাবে।
।।ফ্লাশইন।।
তিথি : না এভাবে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে বাবা আমাকে বিয়ে দিয়ে দেবেন। বিয়ের তারিখ নির্ধারণ হলে আর কোন উপায় থাকবে না।মিলনকে যে ভাবেই হোক খুঁজে বের করতে হবে।দৃশ্য।।০৭।। দিন।। দোকান ।।
চরিত্রঃ মিতু ও মিলন
(মিতু রিক্সা থামিয়ে মিলনের দোকানে এসে কেনাকাটা করবে)মিতু : (স্বগত) বাড়িতে চিনি চাপাতি শেষ হয়েছে সাথে বিস্কুট কিনতে হবে। কোথা থেকে কেনা যায় ওই তো একটা কনফেকশনারী দোকান । ওখান থেকে কিনতে হবে। ভাই রিক্সাটা একটু থামান কিছু কেনাকাটা করব।
রিক্সাচালক : আচ্ছা, আপা দাঁড়াচ্ছি ।
মিতু : বেশিক্ষণ লাগবে না । সাইট করে দাঁড়ান।
রিক্সাচালক: সমস্যা নেই আপা দোকানের পাশে দাঁড়াচ্ছি।মিলন : আপু আপনার কি কি লাগবে?
মিতু : ভাইয়া আমাকে এক প্যাকেট চিনি এক বক্স চা এবং এক প্যাকেট ভালো মানের বিস্কুট দিবেন।
মিলন : একটু অপেক্ষা করেন দিচ্ছি।
মিতু : (স্বগত) খুব চেনা চেনা মনে হয় কোথায় যেন দেখেছি হ্যাঁ অনেকটা মিলন ভাইয়ের মত দেখতে। কিন্তু মিলন ভাইয়ের তো পায়ে সমস্যা ছিল না।এত সুন্দর হ্যান্ডসাম একটি ছেলে অথচ পায়ের সমস্যা।
মিলন : এইনিন আপু আপনার চা চিনি আর বিস্কুট।
মিতু : ও হ্যাঁ। এই নিন আপনার টাকা। রিক্সাওয়ালা ভাইটা কোথায় গেল?
রিক্সাচালক : এইতো আপা ওঠেন। (প্রস্থান)
।। পট পরিবর্তন।।
দৃশ্য।।০৮।। দিন।। রাস্তা।।
চরিত্রঃ তিথি ও মা
তিথির মা, তিথির সাথে কথা বলছেনমা – :এই ভাবে ঘরের ভেতর মনমরা হয়ে বসে থাকলে চলবে? এটা কোন জীবন না । কোন ছেলের সাথে কি ছিল এসব নিয়ে ভেবে ভেবে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। তোকে কতবার বুঝিয়েছি কিন্তু কোন কথায় ঠিকানা দিলিনা কত বিয়ের সম্বন্ধ হেলো স্বপ্ন ভেঙে দিলে আমাদের মান-সম্মান বলে একটা কথা আছে। লোকে কত কি বলছে।
তিথি :লোকের কথায় কি এসে যায় মা, লোকেরা তো আমার দুঃখসুখের অংশীদার না তাঁরা আমাকে নিয়ে এতো মাথা ব্যাথা কেন?
মা- :কিন্তু তিথি আমাদের তো একটা দায়িত্ব আছে মেয়ে হয়ে জন্মেছিস তোকে সুন্দর একটা পাত্র দেখে তারা তুলে দেবো তারপর আমারা নিশ্চিন্তে থাকতে পারবো। যত দিন এর একটা সমাধান না হচ্ছে ততদিন আমাদের মাথা থেকে চিন্তা দূর হচ্ছে না।
তিথি :মা তোমার কথা একদম ঠিক কিন্তু আমার তো ডিসিশন নেয়ার অধিকার আছে । জীবনটা আমার, তাই তোমাদের চিন্তা করতে হবে না লেখাপড়া শিখেছি ঠিক একটা চাকরী বাকরির জুটিয়ে নেবো, এতে তোমাদের এত ভাবনা কিসের ? আমি যদি ছেলে হোতাম তাহলে তাকে নিয়ে এত মাথা ব্যাথা করতে না ।
মা :এটা একদম ঠিক কথা বলেছিস, আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় মেয়েদের অনেক সমস্যা রয়েছে। এ যে তুই বিয়ে করছিস না তাতে কি ? কিন্তু চারিদিকে লোকের মুখতো আটকে রাখা যায় না।
তিথি :এই সমাজ ব্যবস্থার একটা পরিবর্তন হওয়া দরকার মেয়ে হয়েছি বলে আমাকে বিয়ে বসতে হবে ! কেন আমি বিয়ে করতে পারি না? আমি বিয়ে করবো কী করবো না এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমি বিয়ে করব আমার ইচ্ছায়। যাকে ইচ্ছা, এটা আমার অধিকার এবং স্বাধীনতা।
মা- :সে স্বাধীনতা আমাদের দেশের মেয়েদের এখনো হয়নি।
তিথি :আমাদের রুখে দাঁড়ালে কি সব সমাধান হবে। আমাদের সমাজকে পাল্টাতে হবে যত কুসংস্কার সব কিছুর মূলে আঘাত করতে হবে।
মা :ঠিক আছে তোর যা ভাল হয় তুই তাই করিস অনেক রাত হয়েছে খেয়ে শুয়ে পর খাবার টেবিলে রাখা আছে আমি গেলাম।
তিথি : আচ্ছা , মা আজ আব্বার শরীরটা কেমন?
মা : ঘরের মধ্যে বন্দি হয়ে থাকলে কি চলবে? বাবার পাশে গিয়ে তাঁর সেবা যত্ন করতে পারিস, এতে তোর মনটাও ভালো লাগবে। সে ভাববে তাঁর মেয়ে তাকে সেবা যত্ন করে সারিয়ে তুলতে চেষ্টা করছে, তোর প্রতি তাঁর বিশ্বাসটা বাড়বে। মনটা ভালো হলে শরীর ভালো হয়ে যাবে।
তিথি :আচ্ছা মা আব্বার সামনে আমি যেতে চাই না কারণ তিনি একই কথা বারবার বলতে থাকেন। তিনি আমার বিয়েটা দিয়ে মরতে পারলে শান্তি পেতেন। একই শুনতে আমার ভালো লাগে না। মা তুমি আব্বার কাছে যাও । চিন্তা করোনা আমি খেয়ে শুয়ে পড়ছি। (মায়ের প্রস্তান)
দৃশ্য।।০৯।। দিন।। রাস্তা।।
চরিত্রঃবৃদ্ধ শিক্ষক, ছাত্র, পথচারীবৃদ্ধ শিক্ষক লাঠি ভর দিয়ে হেঁটে আসছে। তিনি রাস্তা পারাপারের চেষ্টা করছেন। তার ছাত্র ছাত্রী পথচারী তাকে এড়িয়ে কেউ মুখ লুকিয়ে চলে যাচ্ছে। প্রাক্তন ছাত্র মিলন এসে তাকে পার করে দেবে। অথচ মিলনের একটি পা নেই।
শিক্ষক : (রাস্তাদিয়ে হেঁটে এসে, স্বগত) এই বয়সে রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করা বড়ই কষ্টের।কি করবো সাহায্য করার মতো কেউ নেই! কেউ যদি পার করে দিতো। কেউ তো এগিয়ে আসছে না। মানুষরে প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ভালোবাসা দিন দিন উঠে যাচ্ছে। (দুইজন ছাত্র স্যার কে দেখে)
ছাত্র-১ :(নেপথ্য )এই দেখ জলিল স্যার না?
ছাত্র-২ :(নেপথ্য) হ্যা জলিল স্যারই তো ।পাশ কাটিয়ে যেতে হবে।
ছাত্র-১ : (নেপথ্য )দেখে ফেললে বিপদ। বকবক শুরু করে দেবেন। কি করছ কোথায় থাকো। আরও রাজ্যের প্রশ্ন।
ছাত্র-২— : (নেপথ্য) স্যার এখন চোখে কম দেখেন মনে হচ্ছে।
ছাত্র-১ : (নেপথ্য )হ্যা ঠিকই,দেখ রাস্তা পারাপারের চেষ্টা করছেন।
ছাত্র-২ :(নেপথ্য ) আস্তে করে সটকে পড়তে হবে। তাছাড়া দেখতে পেলে রাস্তা পার করে দিতে হবে।
ছাত্র-১ :(নেপথ্য) চল মলিরা অনেক ক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছে। হ্যালো মলি , এই তো এখুনি আসছি।(দুজনে মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে চলে যাবে।)
শিক্ষক :(স্বগত) রাস্তায় প্রচন্ড ভীড়, ঝাপসা চোখে কোন দিনকে যাবো বুঝতে পারছি না। বাবারা আমাকে একটু পার করে দিতে পারো?
(গাড়ির শব্দ লোকজনের কোলাহল ,কয়েকজন পথচারী আড়চোখে দেখে চলে যাবে। প্রাক্তন ছাত্র মিলন বিষয়টি দূর থেকে দেখবেন এবং সে কাছে এগিয়ে আসবে সালাম দেবেন)মিলন :শারিফ রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করছে যাই সামনে এগিয়ে যায় উনি হয়তো চোখে ভালো করে দেখতে পান না বৃদ্ধ হয়েছেন তো।
শিক্ষক :কেউ কি আমাকে একটু পার করে দেবে একটা ওষুধের দোকানে যেতে হবে।
মিলন :স্যার আমার সাথে চলেন। বেপরোয়া গাড়ি যেভাবে চলাচল করে আপনার এভাবে একা আসা উচিত হয়নি।
শিক্ষক :সব কাজ আমাকে করতে হয় দেখারতো কেউ নেই। দুই মেয়ে ছিল তাদের বিয়ে হয়ে গেছে যে যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত।
মিলন :ঠিক আছে স্যার, পরে গল্প করা যাবে চলেন আগে আমরা রাস্তা পার হই। (রাস্তা পার হয়ে)
শিক্ষক : ও হ্যা,চলো, তুমি কোন ব্যাচের ছিলে।
মিলন- :স্যার ৯০ সালের। লেখাপড়া বেশিদূর এগোয়নি। ঐ মোড়ে আমার ডিপার্টমেন্টাল স্টোর আছে ,স্যার আপনি কোথায় যাবেন?
শিক্ষক :ওষুধ কিনতে হবে। ঘরে অসুস্থ স্ত্রী। গত রাতে ওষুধ শেষ হয়ে গেছে।
।। ফ্ল্যাশ ব্যাক।।
দৃশ্য।।১০।। রাত।। ঘর।।
চরিত্রঃ শিক্ষক ও তার স্ত্রী
স্ত্রী বিছানায় শুয়ে আছে পাশে শিক্ষক তার সেবা করছে।স্ত্রী : (অসুস্থ স্ত্রী কাতরাতে কাতরাতে বলবেন।) ওষুধগুলো শেষ হয়ে গেছে এগুলো কিনতে হবে।
শিক্ষক :ঠিক আছে এখন তুমি ঘুমিয়ে পড়ো কালকে আমি সময় সুযোগ বুঝে কিনে আনতে যাব।
স্ত্রী :এমন অসুস্থ হয়ে বেঁচে থাকার থেকে মরে যাওয়াই ভালো ।আমি অসুস্থ আমার সেবা যত্ন করতে করতে তুমি আরও অসুস্থ হয়ে যাচ্ছো।
শিক্ষক :এটা আমার দায়িত্ব আমি অসুস্থ হলে তুমি তো আমার যত্ন করতে। এখন একটু ঘুমানোর চেষ্টা করো।
স্ত্রী : ঘুমতো আসে না , এই বয়সে নিকট জনের সেবা যত্নের আকাঙ্ক্ষা সবাই করে। কিন্তু বিছনা সজ্জা হলে সকল আপনজন হারিয়ে যায়। তুমি সবসময় বলতে ছেলের চেয়ে মেয়ে ভালো আসলে কে ভালো কে মন্দ এটা কেউ সঠিকভাবে বলতে পারেনা। মেয়েদের তোমার আদর্শ দিয়ে বড় করে বিয়ে দিয়েছো অথচ তারা যে যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত বাবা-মাকে দেখার সময় তাদের নেই।
শিক্ষক : তোমাকে পরিচর্যা করার জন্য একজন আয়া রাখতে হবে।
স্ত্রী : কি করে রাখবে বল? পেনশনে যে কয়টা টাকা পাও তা দিয়ে আমার ওষুধ কিনতেই সব টাকা শেষ হয়ে যায়। আয়া রাখতে গেলে তাকে বেতন দিতে হবে তিন বেলা খাওয়াতে হবে! সংসার খরচের জন্য তো আরও টাকার প্রয়োজন হবে !
শিক্ষক : খরচের দিকে তাকালে চলবে। প্রয়োজন বাড়িটা বিক্রি করে দেবো।
স্ত্রী : সারা জীবনের সমস্ত সঞ্চয় দিয়ে দুটি মেয়েকে ভালো জায়গায় বিয়ে দিয়েছো। তারা সুখেই আছে। এদিক থেকে তুমি চিন্তামুক্ত। এখন বাকি যা আছে তা আমার পিছনে প্রতিনিয়ত খরচ করছো। অথচ আমার শরীরের অবস্থার কোন উন্নতি হচ্ছে না। আর কতদিন তোমার ঘাড়ে বোঝা হয়ে থাকবো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মৃত্যু হলে বেঁচে যাই।
শিক্ষক : অসুস্থ মানুষকে সেবা যত্ন করতে হয়। সেটা যেই হোক। তুমিতো আমার স্ত্রী একে অন্যের পরিপূরক। যতক্ষণ পর্যন্ত পারবো সেবা যত্ন করব। তারপর দেখা যাবে। এখন শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ো।
স্ত্রী : আমি ঘুমানোর চেষ্টা করছি। তুমি লাইট নিভিয়ে শুয়ে পড়ো।
শিক্ষক : এইতো মশারী টাঙিয়ে লাইট নিভিয়ে, শুয়ে পড়ছি। কষ্ট করে রাতটা পার করো, আগামীকাল যে ভাবেই হোক তোমার ওষুধের ব্যবস্থা করবো।
।। ফ্লাশ ইন ।।
শিক্ষক : সে যাক, আমি এতক্ষণ ভালোভাবে লক্ষই করিনি যে তোমার পায়ের সমস্যা ।তুমি পঙ্গু হয়ে আমাকে রাস্তা পার করে দিলে কত সুস্থ মানুষ আমাকে পাশ কাটিয়ে চলে গেল কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি। তোমার পায়ের এ অবস্থা কি করে হলো?
মিলন : একটা রোড এক্সিডেন্টে আমার পা টা——-ও সব কথা থাক স্যার।
শিক্ষক : থাকবে কেন ? না বলা কষ্ট বুকের মধ্যে থাকলে কষ্ট বেশি বাড়ে বললে, অনেকটা কমে যায়।
মিলন : ওই দোকান থেকে ওষুধ কিনবো। চলেন স্যার।
শিক্ষক : সেটার দরকার নেই তুমি আমাকে রাস্তা পার করে দিয়েছো, এখন আমি নিজেই কিনতে পারব।
মিলন : না স্যার সেটা আমার পক্ষে সম্ভব নয় ।আপনাকে এভাবে ফেলে যেতে পারবো না আমি ওষুধ কিনে আবার আপনাকে রাস্তা পার করে দিয়ে যাব। চলেন স্যার।
শিক্ষক : হ্যা চলো ।
।। সামান্য পচ।।
মিলন : স্যার, এবার আস্তে আস্তে রাস্তা পার হই। এইতো এই দিকদিয়ে। (দুজন ওষুধগুলো কেনে। ওষুধ কেনার পর আবার আস্তে আস্তে স্যারকে রাস্তা পার করে দেয়।)শিক্ষক :তোমাকে অনেক ধন্যবাদ
মিলন :স্যার ধন্যবাদ দিয়ে লজ্জা দেবেন না। এটা আমার দায়িত্ব এবং কর্তব্য বটে ।
শিক্ষক :যারা গুরুজনদের সম্মান করে, তাদের কাছে শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা ম্লান হয়না।
চলবে —————–
1 Comment

Abul Hasan Tuhen
Friends
abrar
@abrar
জামান বারভী
@zamanbarovi
MUHAMMAD TAHSEEN
@muhammadtahseen
Kokeshas King
@kokeshasking
মোরশেদ সাকিব
@morshedsakib
Ekhtiar Uddin
@ekhtiar2003
ইভান
@ivan
মো: ফারহান হাবীব
@farhan-habib
Masfi K
@masfi-mohammad


অসাধারণ।