-
নাটক- মিলন তিথি
(২য় অংশ)
রচনা -আবুল হাসান তুহিনকাহিনী সংক্ষেপঃ
মিলন এবং তিথি- একে অপরের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকে।একসময় ভালোবাসায় রূপ নেয়। ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখে দুজন। মিলন চাকরির ইন্টারভিউ দিতে ঢাকায় যায়। কিন্তু সে ফেরত আসে না। তিথি হিসাব মিলাতে পারে না। এদিকে তিথির বাবা বিয়ের জন্য চাপ দিয়ে থাকে। তিথি এতে রাজি হয় না। তিথি মিলনের ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকে। তিথি সংকল্প করে মিলনকে খুঁজে বের করবে। একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে মিলন কে নতুন রূপে আবিষ্কার করে। তারপর মিলনের ফিরে না আসার সমাধান হয়। আসলে মিলন বাস দুর্ঘটনায় একটি পা হারায়। এই কারণে তিথির সঙ্গে যোগাযোগ করেনি, অনাকঙ্খিত দুর্ঘটনার জন্য মিলন দায়ী নয়, তিথি মিলনকে বিয়ে করতে বলে। মিলন তার বৃদ্ধ শিক্ষককে দেখাশোনা করতো, মিলন এবং তিথি বিয়ে করে বৃদ্ধ শিক্ষকের বাসায় ওঠে।চরিত্র:
১। শিক্ষক- স্কুলের শিক্ষক -৬৫
২।মিলন – প্রাক্তন ছাত্র -৩০
৩। স্ত্রী – শিক্ষকের স্ত্রী ৫৫
৪। তিথি – প্রাক্তন ছাত্রের প্রেমিকা ২৫
৫। মা -তিথির মা -৪৫
৬। বাবা – তিথির বাবা-৫৫
৭।মিতু – বান্ধবী -২৫
৮। রিকশা চালক-২৫(নেপথ্য)।। পটপরিবর্তন ।।
দৃশ্য।।১১।। দিন।। রাস্তা।।
চরিত্রঃ তিথি রিক্সাচালক
(তিথি রিক্সায় করে যাচ্ছে রাস্তায় কোলাহলের শব্দ, গাড়ির হর্ন বাজছে)তিথি : মিতু না ! হ্যা,মিতু তো, ভাই ,দাঁড়ান।
রি:চালক: : (নেপথ্য) আপামনি এখানে নামবেন?
তিথি : হ্যাঁ এখানে নামবো। এই নিন আপনার ভাড়া। মিতু এই মিতু এই যে আমি এখানে।
মিতু : কি ব্যাপার? কোথায় যাচ্ছিস?
তিথি : তোদের বাড়িতে যাচ্ছিলাম। অনেক দিন দেখা হচ্ছে না। তাই।
মিতু : ভালো করেছিস। শোন অনেকদিন পার্কে যাই না তোকে নিয়ে আজ পার্কে বেড়াতে যাব। সেখানে সবুজ ঘাসের গালিচায় বসে তোর সব কথা শুনবো।
তিথি : ঠিক আছে , হেঁটে ই যাই।
মিতু : সমস্যা নেই চল।
।।সামান্য পচ।।
দৃশ্য।। ১২ ।। নির্জনস্থান পার্ক
চরিত্রঃ মিতু , তিথি
(পার্কে এসে ওরা গল্প করবে)মিতু :পার্কের বসার বেঞ্চ গুলো অনেক উন্নত হয়েছে। এক কাজ করি ঢোকার আগে কিছু বাদাম কিনি। বাদামের সাথে গল্পটা জমবে ভালো।
তিথি : ঠিক বলেছিস ,এক কাজ কর তুই বাদাম কিনে আন , আমি ঐ পাশের বেঞ্চে গিয়ে বসি।
মিতু : আচ্ছা ঠিক আছে।
তিথি 🙁 স্বাগত) সময় কত দ্রুত গড়িয়ে যায়। কতদিন পর পার্কে আসতে হলো। একসময় নিয়মিত আসা যাওয়া করতাম আমি আর মিলন, এখন পার্কের প্রতিটা ঘাস লতাপাতা আমার দিকে শূন্য দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। আমার ভেতরকার বোবা কান্না হয়তো ওরা বুঝতে পারছে। গাছপালা লতাপাতার অনুভূতি আছে হাসি কান্না আছে কিন্তু ওটা এত ক্ষীন শব্দ যে আমরা শুনতে পাই না। ওরা বলাবলি করছে তোমাকে চিনতে পেরেছি তুমি প্রতিদিন আসতে। মিলনের সাথে গল্প করতে।
।।ফ্ল্যাশব্যাক।।
দৃশ্য।। ১৩ ।। নির্জনস্থান পার্ক
চরিত্রঃ মিলন, তিথি
(মিলন তিথি নির্জনস্থানে বসে গল্প করছে )মিলনঃ মেয়েদের হাসি দেখে ছেলেরা প্রেমে পড়ে যায়। প্রথম দেখায় মেয়েটির হাসি কেমন সে দিকেই ছেলেদের নজর বেশি থাকে।আর এই হাসির জন্য সে সবকিছু করতে রাজি ।
তিথি: সম্পর্ক শুরু হওয়ার পর সঙ্গী যখন নিয়মিত খবর রাখে তখন মেয়েরা খুব খুশি হয়। এখন কি করছো, দুপুরে খেয়েছো কি না, শরীর কেমন আছে প্রভৃতি বিষয়গুলো যদি ছেলেরা খেয়াল রাখে তাহলে মেয়েদের মন জয় করা খুব সহজ। ছেলেদের এই গুণ মেয়েরা খুব পছন্দ করে।
মিলন : মেয়েদের সুন্দর চোখ দেখে ছেলেরা আকৃষ্ট হয়। চোখে চোখ রেখে ভুলে যায় আপন ভুবন।
তিথি: সঙ্গীর কাছ থেকে উপহার পেতে মেয়েরা খুব পছন্দ করে। ছেলেদের এই গুণ মেয়েদের খুব তাড়াতাড়ি কাছে টানে। যখনই মেয়ে সঙ্গীর সঙ্গে দেখা করতে যাবে তখনই একটি গোলাপ কিংবা পছন্দের চকলেট কিংবা সাজগোজের কিছু উপহার দিতে হয় । এতে মেয়েরা বেশি আকৃষ্ট হয় ।
মিলন: মেয়েদের কড়া ঘ্রাণের সুগন্ধি ছেলেদের একেবারেই পছন্দ না। আবার গায়ের দুর্গন্ধও সহ্য করতে পারে না।
তিথি: যেসব ছেলেদের বেশি বুদ্ধি থাকে তাদেরকে মেয়েরা পছন্দ করে। বোকাদের কেউই পছন্দ করতে চায় না। সুতরাং যাদের এই গুণ রয়েছে মেয়েরা খুব সহজে তাদেরকে কাছে টানে।
মিলন: মেয়েদের দাঁতের সৌন্দর্য মে কোন ছেলেকে আকৃষ্ট করে। হাসির অলংকার হচ্ছে দাঁতের সৌন্দর্য।
তিথি: ছেলেদের ফ্যাশন সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। তাই বলে অতিরিক্ত স্টাইল কিন্তু মেয়েদের একেবারেই অপছন্দ। ফ্যাশন সম্পর্কে অর্থৎ স্মার্ট হতে হয়। সুন্দরভাবে পরিপাটি হয়ে মেয়ে সঙ্গীর সামনে আসতে হয় । এলোমেলো হয়ে থাকা ছেলেদের মোটেও পছন্দ করে না মেয়েরা। তাই ছেলেদের এই গুণ থাকা আবশ্যক।
মিলন : ছেলেরা মেয়েদের লম্বা চুল পছন্দ করে। দক্ষিণা বাতাসে উড়ে যায় ঘন কালো চুল।
তিথি: মেয়েরা মুখে প্রকাশ করতে না পারলেও মনে মনে ছেলে সঙ্গীর কাছে হালকা আদর চায়। সঙ্গিনীর কপালে আলতো করে একটি চুম্বন কিংবা হাত ধরে চোখে তাকিয়ে থাকা । সঙ্গিনী এতেই অনেক বেশি খুশি হয় । এমনি গুণ মেয়েদের খুব পছন্দ।
মিলন: শুধু কথা শুনেই অনেক ছেলেরা মেয়েদের প্রেমে পড়ে যায়? মিষ্টি কণ্ঠ ছেলেদের আকৃষ্ট করে। তাই তাদের সামনে কর্কশ ভাষায় কথা না বলাই ভালো। তাহলে প্রেমে পরা তো দূরের কথা, দ্বিতীয় বার আপনার সঙ্গে আর দেখাই করবে না।
তিথি : প্রত্যেকে মেয়েই চায় এমন একজন সঙ্গী, যে তার মনের চাহিদাগুলো বুঝতে পারে বা মেটাতে পারে।
মিলন: কোনো ছেলের সঙ্গে প্রথম দেখা করতে গেলে অবশ্যই কী ধরনের পোশাক পরতে হবে খেয়াল রাখা উচিত। হুট করে কেউ কারো সঙ্গে দেখা করতে যায় না। নিশ্চয়ই তার সঙ্গে কয়েকবার ফোনে কথা হওয়ার পর। সে কেমন প্রকৃতির মানুষ এটা কিছুটা হলেও আন্দাজ করতে পারা যায়। সেই অনুযায়ী পোশাক পরে দেখা করতে যেতে হয়। ছেলেরা নিজেদের পোশাকের ব্যাপারে অতটা সচেতন না হলেও মেয়েদের পোশাকটা কিন্তু তারা ঠিকই খেয়াল করে।
তিথি : মেয়েরা ভালো লাগার বিষয়গুলো সাধারণত মুখে প্রকাশ করতে চায় না, তবে ছেলেদের কিছু গুণই মেয়েদের না বলা কথা প্রকাশ করে দেয়। ছেলেরা সহজেই মেয়েদেরকে কাছে টানে কিন্তু মেয়েরা তেমন সহজেই ছেলেদের কাছে টানতে পারে না। ছেলেদের কিছু ভালো গুণ দেখেই মেয়েরা কাছে টানতে শুরু করে।
মিলন: ভালোবাসা চলে যায় এক মাস সতের দিন পর। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের এ কথাকে মিথ্যা প্রমাণ করে টিকে থাকে বহু ভালোবাসা। রোমান্টিক সম্পর্কের গবেষকরা ভালোবাসা টিকে থাকা আর টিকিয়ে রাখা নিয়ে গবেষণা করেছেন বহু। আমারও আলোচনা করলাম। এবার উঠতে হবে মহারানী।
তিথি : যথা আজ্ঞা মহারাজ। সন্ধ্যা নেমে এসেছে বাড়ি ফিরতে হবে।
(উভয়ে হাসতে হাসতে প্রস্তান)।। ফ্লাশ ইন ।।
মিতু : কিরে ধ্যানে বসে গেলি মনে হয়। এই নে ধর।
তিথি : এত বাদাম ! তুই কি পাগল হয়ে গেলি নাকি। কতক্ষণ ধরে খাবি?
মিতু : যতক্ষণ গল্প চলবে ততক্ষণ। যদি শেষ হয়ে যায় আবার কিনা আনবো।
তিথি : আচ্ছা ঐ শেডের নিচে বেঞ্চে কি লেখা আছে? শুধু মাত্র বীদের বসিবার স্হান। অর্থটা কি বলতো?
মিতু : বলছি, এটা একটা ধাঁধার মত হয়েছে। এটা বদ ছেলেদেরই কাজ। ঐ “বী” অক্ষরের আগে একটু ফাঁকা জায়গা ওখানে অন্য কোন অক্ষর ছিল।
তিথি : দাঁড়া দেখছি যদি “প” অক্ষর হয়। তাহলে হবে পবী । আসলে ওটা বী নয় ওটা রী।
ওটা লিখলে পরী আর যদি “ন” লিখি তাহলে হবে নারী, হ্যাঁ পেরেছি ওটা হবে নারীদের বসিবার স্থান।মিতু : বাহ্ বেশ বেশ। বড় হলে তুই পন্ডিত হবি। হো হো হো (দুইজনে হেসে উঠে) এবার বল । আবার নতুন করে কি সমস্যায় পরেছিস।
তিথি : আব্বা আমার বিয়ে ঠিক করেছিল,সেটা পুরোপুরি ফাইনালের দিকে এগোচ্ছে। পরীক্ষা শেষ হলেই বিয়েটা হবে। এখন কি করবো বুঝে উঠতে পারছি না। মিলনকে কিভাবে খুজবো !
মিতু : মেয়েরা এমন পরিস্থিতির শিকার সবচেয়ে বেশি। বাপ মায়ের মতামতের গুরুত্ব দিতে গিয়ে নিজেদের চাওয়া পাওয়াকে বলি দিতে হয়। মিলন ভাইকে পেলে সমাধান টা ছিল খুবই সহজ। নিজেরাই বিয়ের কাজটা সারতে পারতিস। আচ্ছা মিলন ভাইয়ের নিকট কোন আত্মীয়-স্বজনের কাছে খোঁজ নিলে হয় না।
তিথি : নিকট আত্মীয় বলতে তো আমি কাউকে চিনি না। আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় একটি ছেলে একটি মেয়ের দেখা-সাক্ষাৎ হয় চুপিসারে। তখন এতকিছু মাথায় থাকে না।
মিতু : আমরা যে ভুলটা করে বসি সেটা হচ্ছে, পরিচিত মানুষের ব্যক্তিগত খোঁজখবর নিতে ভুলে যায়। পরিচয় হয় চেনা জানা হয় কিন্তু তার ব্যক্তিগত পরিচয় রাখা হয় না যখন ঠেকে যায় তখন এর মূল্য বুঝতে পারি।
তিথি : যা হওয়ার তাই হয়েছে এখন ভাসা ভাসা সূত্র ধরে আমাদের এগোতে হবে।
মিতু : মিলন ভাইকে আমি একদিনই দেখেছিলাম । চেহারাটা যতটুকু মনে আছে, হুবহু মিলন ভাইয়ের মত দেখতে কনফেকশনারি দোকানের ওই ভাইটার মত। অনেকদিন তোকে বলবো বলবো বলে ভেবেছি কিন্তু বলতে পারিনি। কারণ উনার একটি পায়ে সমস্যা আছে। মিলন ভাইয়ের পায়েতো কোন সমস্যা ছিলনা।
তিথি : তাহলে আমাকে দেখতে হয়, মানুষের মত মানুষ হয় শুনেছি। পৃথিবীতে একই রকমের চেহারার মানুষ সাতজন থাকে।
মিতু : হতে পারে আবার নাও হতে পারে । মনকে সান্ত্বনা দেয়ার জন্য তুই দেখতে পারিস।
তিথি : চল দূর থেকে আমি দেখব।
মিতু : তাহলে চল।
।। সামান্য পচ ।।
দৃশ্য।। ১৪ ।।দিন।। রাস্তা ।।
চরিত্রঃ তিথি,মিতু, মিলন
(রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে মিলনকে দেখবে, চারিদিক থেকে রিকশা গাড়ির শব্দ শোনা যাবে)মিতু : ঐ যে কনফেকশনারির দোকান টা দেখতে পাচ্ছিস, হ্যা , ঐটা , যে ভাইটার দোকান হুবুহু মিলন ভাইয়ের মত দেখতে।
তিথি : শোন, আমরা ওড়না হিজাবের মতো করে মুখ ঢেকে কেনা কাটা করবো। তুই কেনাকাটা করবি কথা বলবি । আমি ওর চালচলন লক্ষ্য রাখবো।
মিতু : আইডিয়াটা চমৎকার চল রাস্তা পার হয়ে দোকানের ভিতরে যাই।
তিথি : সাবধানে পার হতে হবে সহজে রিক্সা গাড়ির ব্রেক ধরতেই চায় না।এই দিগ থেকে না, ঐ জেব্রা ক্রসিং দিয়েই পার হই।
মিতু : দুজনে হাত ধরে পার হবো দেখবি রিক্সা গাড়ি ব্রেক ধরতে বাধ্য।
মিলন : আপা আপনাদের কি কি লাগবে ?
মিতু : এক প্যাকেট ভাজা আর দুইটা কোল্ড ড্রিংকস।
মিলন : আচ্ছা দিচ্ছি ,আপনারা ভিতরে আসেন?
মিতু : না আমরা এখানে ঠিক আছি।
মিলন : এই যে আপনাদের এক প্যাকেট ভাজা , দুইটা কোল্ড ড্রিঙ্কস।
মিতু : ঠিক আছে, টাকা রাখুন।
মিলন : আচ্ছা।
মিতু : আচ্ছা ভাইয়া আপনি কি মাস কাবারি মালামাল দিতে পারবেন ?
মিলন : হ্যাঁ পারবো কিন্তু আপনাদের পরিচয় তো জানতে হবে?
মিতু : সামনের মোড়ে ভোজন বিলাস কফি শপ আছে ওখানে, প্রতিমাসের মুদি মালামাল আপনাকে দিতে হবে, প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে আপনার পাওনা পরিশোধ করা হবে।
মিলন : সমস্যা নেই দিতে পারব। মালামাল আপনাদের প্রতিদিন যা লাগবে লোক পাঠিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
মিতু : অবশ্যই লোক পাঠিয়ে নিয়ে যাবো। এক কাজ করেন আপনি দোকানটা দুপুরে তো বন্ধ করেন। বিকাল ৪ টায় আপনি ওখান থেকে ঘুরে যান, ওখানে বসেই যাবতীয় কথাবার্তা ফাইনাল করব।
মিলন : দোকান একবারে রাতে বন্ধ হয় আমি দুপুর বেলা বাড়িতে ফ্রেশ হওয়ার জন্য যাই। ফেরার পথে দেখা করে আসবো।
মিতু : ঠিক আছে ওই কথাই রইল । আচ্ছা ভাইয়া একটা কথা জিজ্ঞেস করবো যদি কিছু মনে না করেন?
মিলন : কেন নয়, অবশ্যই জিজ্ঞেস করতে পারেন।
মিতু : আপনার পায়ের সমস্যাটা কি অনেক আগের?
মিলন : না বেশিদিন আগের নয় এইতো বছর খানিক হবে।
মিতু : সরি ভাইয়া, , কিছু মনে করবেন না আসি। আসসালামু আলাইকুম।
মিলন : অলাইকুম আসসালাম।
মিতু : চল এবার পার্কে বসে বিস্তারিত কথা বলি।(প্রস্থান)
।।সামান্য পচ।।
দৃশ্য।। ১৫ ।। দিন।। পার্ক।।
চরিত্রঃ মিতু , তিথি
(পার্কে বসে কথা বলছে)তিথি : একসাথে আনন্দ এবং কষ্ট চেপে কঠিন সময় পান করলাম। সেই সাথে, তুই কি চমৎকার করে বিষয়টি ফেস করলি।
মিতু : হ্যাঁ করলাম কিন্তু তুই কি লক্ষ্য করলি ও কি মিলন ভাই!
তিথি : পায়ের সমস্যা ছাড়া বাকি সব একশত ভাগ ,মিলন।
মিতু : তাহলে কি আমি এ ধরে নেব উনি আসলে মিলন ভাই।
তিথি : অবশ্যই ধরে নেওয়া যায়। কারণ মিলনের গলা আওয়াজ আমার চির চেনা, আমি অন্ধ হলেও ওকে চিনতে পারব ওর গলার ভয়েস শুনে । আচ্ছা ওই ভজন বিলাস কফি হাউসের কথা বললি ওটা কাদের?
মিতু : তোকে তো বলাই হয়নি আসলে ওটা আমিই দিয়েছি। বাড়ির নিচ তলাটা কোচিং সেন্টার ছিল, ওটা উঠিয়ে দিয়ে কফি হাউস টা দিলাম। তুই তো জানিস আমি তো বিজনেস ম্যানের ওয়াইফ। তাই ছোটখাটো ব্যবসা করে হাতপাখাচ্ছি। ( দুজনে হা হা করে হেসে)
তিথি : মিতু তোকে অনেক ধন্যবাদ তুই মিলনকে খুঁজে পাওয়ার জন্য যে সহযোগিতা করলি আমি কোনদিন ভুলবো না।
মিতু : ধন্যবাদের কি আছে তুই হচ্ছি আমার সবচেয়ে কাছের।আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় কর।
তিথি : সে তো করবোই। আমার ধারণা মিলন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার স্বীকার হয়ে আমার কাছ থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
মিতু : শোন বেলা বেড়ে যাচ্ছে বাড়ির দিকে চল। দুপুরে খেয়ে রেস্ট নিয়ে তারপর বিকেলে ভজন বিলাস কফি হাউসে কথা হবে। আর কি হবে? মিলনের সাথে মহামিলন হবে। (দুজনে হেসে ওঠ)।( প্রস্থান)
দৃশ্য।। ১৬ ।।দিন।। নির্জন স্থান।।
চরিত্রঃ তিথি, বাবা, মা[ বাবাও মা চিন্তিত কারণ রাত হয়েছে তিথি বাড়িতে ফেরেনি। তিথি ফিরলে বকাবকি করবেন। ]
বাবা: তিথি মা তিথি জলদি এককাপ চা তৈরি করে নিয়ে আয়তো। কইরে। কি ব্যাপার কথার কোন উত্তর নেই।
মা :তিথি বাড়িতে নেই।
বাবা :কেন কোথায় গিয়েছে ?
মা :জানিনা , বলে যায়নি সেই সকালে বেরিয়েছে।
বাবা :কোথায় আছে , জানা থাকলে এত টেনশন বাড়ে না।
মা : দুপুরে আমি বেলকনিতে দাঁড়িয়েছিলাম দেখি তনু যাচ্ছে জিজ্ঞেস করলাম তিথির কথা ও বললো মিতু নামে কোন এক বান্ধবীর বাড়িতে গেছে ।
বাবা :সবাই বুঝলাম । সন্ধ্যার আগেইতো বাড়িতে ফিরতে হবে। বাবা মা তাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকে আজকালকার ছেলেমেয়েরা সেটা অনুভব করতে পারেনা।
মা- :আমরা তো একা একা বাইরে বেরোনোর সাহসই পেতাম না। (কলিংবেলের শব্দ) ঐ বোধহয় এসেছে। তুমি বকাবকি করবে না।
বাবা : আচ্ছা ঠিক আছে। যাও দরজা খুলে দাও। তার পর তিনি জনে একসাথে বসে চা খাবো।
মা :কিরে এতক্ষণে তোর আসার সময় হলো। এদিকে আমরা চিন্তা করছি।
তিথি :(আনন্দে) খুঁজে পেয়েছি মা আমি মিলনকে খুঁজে পেয়েছি।
মা : কোথায় কীভাবে?
তিথি : আগে ফ্রেশ হয়ে আসি। তারপর বলবো।
।। পটপরিবর্তনের।।
দৃশ্য।।১৭।।দিন।। নির্জন স্থান।।
চরিত্রঃ মিলন, তিথি
(মিলন ও তিথি নির্জনে বসে আবেগ ঘন কথাবার্তা বলছে।)মিলন- :তুমি আমাকে ভুলে যাও তিথি আমি তোমার যোগ্য নই, তারপরেও আমি যে পঙ্গু। এভাবে তোমার জীবনটা আমার সাথে জড়িয়ে নষ্ট করো না।
তিথি :তুমি এসব কি বলছ ? ভুলে যেতে বললেই কি যদি ভোলা যায়। সামান্য একটা বিষয় নিয়ে তোমার আমার মাঝে দেয়াল তুলে দিতে চাও?
মিলন :আমার এই পঙ্গুত্ববরণ কে সামান্য বলছো তোমার মতো সুন্দরী একটা মেয়ের স্বামী আমি হতে পারবোনা।
তিথি :তোমার এই অঙ্গহানি ইচ্ছে করে তো হয়নি এটা অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা মাত্র।
মিলন- :তার পরেও সামান্য একটা ছোট্ট দোকান এর উপর নির্ভরশীল। আমার তো অন্য কোন উপর্জন নেই। অভাবের সংসারে ভালোবাসার মূল্য থাকে না। তাই——-
তিথি :আমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছ। কিন্তু আমি হেরে যাওয়ার মেয়ে নয়। তোমার একটি পায়ের সমস্যা কিন্তু আমার দুটি হাত দুটি পা আছে, দুজনের মিলিত শক্তিতেই আমরা সমস্ত বাঁধা অতিক্রান্ত করতে পারব। শুধু তুমি আমাকে ভালোবাসবে।
মিলন :সবাই ভাববে তুমি আমাকে করুণা করেছ। আমি কারোর করুণার পাত্র হতে চাই না।
তিথি :তুমি নিজেকে এত দুর্বল ভাবো কেন? শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা কখনো করুণা দিয়ে হয়না। আমি তোমাকে ভালোবাসি , তুমি আমাকে ভালোবাসো , দুজনের মিলিত এই ভালবাসাকে আমি শ্রদ্ধা করি। সমাজ-সংসারে আমি কাউকে ভয় করিনা। তাছাড়া আমি প্রাপ্তবয়স্ক একজন মেয়ে। আমার চাওয়া পাওয়ার পূর্ণ অধিকার আছে। তুমি আমাকে ফিরিয়ে দিতে পারো না।
মিলন :তাহলে তাই হোক। আমাদের পবিত্র ভালোবাসা পরিপূর্ণতা পাক। তোমার সাহসী দৃঢ় মনোভাব আমাকে আরো সাহসী করে তুলেছে। আমরা আগামীকালই বিয়ে করবো। তার আগে তোমার কাছে একটি সত্য অনুরোধ। আমার একজন শ্রদ্ধেয় স্যার আছেন, তিনি বৃদ্ধ হয়েছেন, তার স্ত্রীও ভীষণ অসুস্থ । উনাদের শারীরিক কষ্ট দেখে আমি খুবই মর্মাহত। স্যারের দুটি মেয়ে ছিল তাদের বিয়ে হয়ে গেছে, স্ত্রী অসুস্থতার কারণে উনি বেশ বিপাকে পড়েছেন। তাই আমি চাই বিয়ে করে তোমাকে স্যারের কাছে কিছুদিন রেখে দেবো তুমি উনাদের সেবা যত্ন করবে।
তিথি : কি বলছ তুমি এটা তো কোন ব্যাপারই না ! তোমার শিক্ষককে তুমি শ্রদ্ধা করো আমি তোমাকে শ্রদ্ধা করি সেই শ্রদ্ধার মূল্য দেবো না! তাছাড়া বিয়ের পর সব মেয়েরাই তো শ্বশুর শাশুড়ির সেবা যত্ন করেন যেহেতু সেটা আমার কপালে নেই আমি তোমার শিক্ষকের সেবা-যত্ন করে আমার সেই আশাটা পূরণ করব।
মিলন : আর দেরি নয় এখন সোজা কাজী অফিসে যাবো।
তিথি : আজ না কাল সকালে, তাছাড়া মিতুকে বলতে হবে, বাবা মাকে তোমাকে খুঁজে পাওয়ার কথা জানিয়েছি। বাবা-মা আপত্তি করবেন না।
।। পট পরিবর্তন।।
দৃশ্য।। ১৮ ।। দিন।।ঘর।।
চরিত্রঃ স্ত্রী, শিক্ষক, মিলন, তিথি
(শিক্ষক অসুস্থ স্ত্রীর সেবা যত্ন করছেন, এরমধ্যে মিলন ও তিথি আসবে।)শিক্ষক :তুমি কাকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছো। চারিদিকে এলোমেলো কোথায় যে বসতে দেই।
মিলন :স্যার ব্যস্ত হওয়ার দরকার নেই। এ হচ্ছে তিথি আমার স্ত্রী। তিথি স্যার কে সালাম করো। (তিথি স্যার কে সালাম করে)
শিক্ষক :বেঁচে থাকো মা।
মিলন :স্যার আমার একটা অনুরোধ আছে আপনি না করতে পারবেন না।
শিক্ষক :না করবো কেন ? কি অনুরোধ বলো।
মিলন :স্যার আমি এবং তিথি আপনাদের দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে চাই।
শিক্ষক :তাই কি হয় তোমাদের ঘর সংসার ফেলে রেখে আমাদের সেবা যত্ন করবে?
তিথি : কেন হয় না স্যার আমার তো শ্বশুর-শাশুড়ি এখানে থাকেনা। তাদের সেবাযত্নের সৌভাগ্য আমার নেই। তাই আমারা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আপনাদের সাথে থাকতে। আপনি, না করবেন না।
শিক্ষক :আমি তোমাদের মানসিকতা দেখে অনেক মুগ্ধ হয়েছি বর্তমান যুগে যেখানে নিজের সন্তান রায় তার পিতা-মাতাকে দেখেনা সেখানে তোমরা আমার রক্তের কেউ না তারপরেও আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছো। না না থাকলেও তোমাদের কথাতে আমার প্রাণটা ভরে গেছে ঠিক আছে যা ভালো বোঝো করো আমার কোন আপত্তি নেই।
মিলন :স্যার আমার বাড়িটা ভাড়া দিয়েছি আর আপনার বাড়িতে এসে আমরা থাকবো আপনাদের সেবা-যত্ন করবো ভাববেন আমি আপনার একটা ছেলে আর এ হচ্ছে আপনার ছেলের বউ।
স্ত্রী :(আবেগে আপ্লুত হয়ে শয্যা থেকে উঠে বসবে) এসো মা আমার কাছে এসো তোমাদের এই শ্রদ্ধাবোধ দেখে আমার শরীর অর্ধেক ভালো হয়ে গেছে তোমরা কিছুদিন আমার কাছে থাকলে আমি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাব। মিলন তিথি এসো আমার পাশে এসে বসো। তোমাদের ভালোবাসার জোরে এ যাত্রা বেঁচে গেলাম।
সকালে : হা হা হা (হাসি)
।। সমাপ্ত ।।
২০/০৪/২০২১3 Comments

Abul Hasan Tuhen
Friends
abrar
@abrar
জামান বারভী
@zamanbarovi
MUHAMMAD TAHSEEN
@muhammadtahseen
Kokeshas King
@kokeshasking
মোরশেদ সাকিব
@morshedsakib
Ekhtiar Uddin
@ekhtiar2003
ইভান
@ivan
মো: ফারহান হাবীব
@farhan-habib
Masfi K
@masfi-mohammad


পুরো নাটকটা একটা অদ্ভুত টান অনুভব করাল!
মিলন আর তিথির প্রেম থেকে বিচ্ছেদ, তারপর একের পর এক নাটকীয় টুইস্ট সবকিছু মিলিয়ে খুব ভালো লাগলো লেখকপ্রিয়! শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা নেবেন!