-
সাম্য রায় is with মোহাম্মদ এরশাদ রিকাবদার and 31 others
গল্প : “মিহিদানা”
লেখক : “সাম্য রায়”পর্ব ২ : শুভ্র আর অনিক একসাথেই থাকে, বাসা ভাড়া নিয়ে। বাসায় গিয়েই তারা অনেক ক্লান্ত হয়ে পড়ে, ব্যাচেলর মানুষ বলে কথা, রান্নাও করতে হবে। দু’জন ফ্রেশ হয়ে একসাথে রান্না-বাড়ি করে খেয়ে দেয়ে নিজেদের রুমে গিয়ে বিছানায় বসতে না বসতেই জানালা দিয়ে উঁকি মেরে দেখে আবারও আকাশে মেঘ।
শুভ্র তখন তার বিছানায় শুয়ে কিছুক্ষণের জন্য চোখ বন্ধ করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।চোখ বন্ধ করাই সে যেন কল্পনার রাজ্যে হারিয়ে গেল। হঠাৎই তার কল্পনার দৃশ্যে এলো সেই বাস স্টপে কাটানো মুহূর্তগুলো, যখন মেয়েটা তার চুল সরিয়ে পেছনে এক ঝলক তাকিয়ে থাকে, আর শুভ্র অবাক দৃষ্টিতে তার চোখের চাহনিতে হারিয়ে যায়…।
কল্পনায় সে সেই সময়টাকে অনুভব করতে পারছিল। ঠিক এমন সময় মেয়েটার নাম জিজ্ঞেস করতে যাবে, তখনই অনিক তাকে তার কল্পনা থেকে জাগিয়ে তোলে।
মানে শুভ্র কল্পনায় কখন যে ঘুমিয়ে যায় সে নিজেও জানে না। আর পুরো ব্যাপারটাই ছিল তার স্বপ্ন…অনিক শুভ্রকে ডাকতেই শুভ্র লাফ দিয়ে উঠে বসে আর বলে,
– কী হয়েছে? কী হয়েছে? ডাকছিস কেন?
তখন অনিক বলে,
– ভাই ঘুমে তো মেতে ছিলি! কয়টা বাজে তোর ধারনা আছে?
শুভ্র বলে,
– ৬টা বা ৬:৩০ হতে পারে। তাই বলে তুই এইভাবে ঘুম থেকে ডাকবি? কী সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখছিলাম, ধুর ভালো লাগছে না।
অনিক বলে,
– ৬টা বাজবে আবার কাল ভোরে! এখন ৮টা বাজে!
শুভ্র অনিকের কথা শুনে এক লাফে উঠে পড়ে আর বলে,
– কী বলিস! পাগল নাকি তুই? আগে ডাকলি না কেন? আমার তো কত পড়া ছিল, ফাইলের ডকুমেন্টগুলো সাজাতে হবে! এখন কী করব আমি!
অনিক রেগে গিয়ে বলে,
– তোকে আমি সন্ধ্যা থেকেই ডাকছি, কিন্তু তোর ওঠার কোনো নামই নেই। তাই আমি বাজার থেকে ঘুরে আসলাম। এসে দেখি তুই এখনো ঘুমিয়ে আছিস। তাই এখন ডাকলাম। যা, জলদি ফ্রেশ হয়ে নে।
শুভ্র তার চোখ ডলতে ডলতে ওয়াশরুমে গেল। গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিয়ে হালকা একটু নাস্তা–পানি করলো, দু’বন্ধু মিলে। তারপর দু’জনেই কাজে বসে যায় ঠিক ৯টার দিকে।টানা ৪ ঘণ্টা যাবত কাজ করায় তাদের কোমর, হাত, পা ব্যথা ধরে যায়।
হঠাৎ ঘড়ির দিকে চোখ পড়তেই দেখে ১২টা বাজতে আর ৪ মিনিট কম।
তখন তারা রাতের ডিনার শেষ করে ১২:৩০টার দিকে শুয়ে পড়ে।অনিক আর শুভ্র এক রুমেই ঘুমায়। পাশাপাশি দু’জনের বিছানা। দু’জনেই শুয়ে পড়ে, লাইট অফ করে দেয়।
হঠাৎ অনিক বলে ওঠে,
– কিরে ঘুমাইছিস নাকি?
শুভ্র বলে,
– হুম ঘুমাই গেছি।
অনিক বলে,
– তো কথাটা কে বলে ঘুমিয়ে গেলে?
শুভ্র বলে,
– তোর বাপ! ঘুমা চুপচাপ।
অনিক আবার বলে,
– আচ্ছা, তখন যে তুই গভীর ঘুমে ছিলি, কী স্বপ্ন দেখলি?
শুভ্র বলে,
– আরে, স্বপ্নটা পুরাই বাস্তবের মতো ছিল রে। আবার সেই বাস স্টপ, আবার সেই মেয়ে, সেই চোখ… কিন্তু সব শেষে নামটা শুনতে পারলাম না।
অনিক একটা অট্টহাসি দিয়ে বলে,
– তুই টাইম লুপে আটকে গেছিস রে! একই জিনিস তোর সাথে বারবার হচ্ছে দেখছি!
শুভ্র একটু খুশি হয়ে বলে,
– হইলে ক্ষতি কী! ভালোই তো লাগতেছে।
অনিক বলে,
– তেমনটা হলে চলবে না ভাই! পার্সটা এখনো আমাদের কাছেই! এখন কাল যদি মেয়েটার সাথে আবার দেখা হয়, তাহলে নামটা জানা যাবে আর পরিচয়টাও। অতএব অত খেয়াল না দেখে ঘুমা, কাল সকাল সকাল ক্যাম্পাসে যেতে হবে, অনেক কাজ, ফাইনাল প্রজেক্টের মিটিং আছে। ক্লাসে একটু দেরি করলে কী হবে বুঝতেছিস? চুপচাপ ঘুমা। কালকের কাহিনি কাল দেখা যাবে।শুভ্র আর কিছু না বলে ঘুমিয়ে যায়।
অনিকও কিছুক্ষণ বাদে ঘুমিয়ে যায়……সকাল ৭টার দিকে অ্যালার্ম বাজছে, কেউই উঠছে না।
অ্যালার্মের পর অ্যালার্ম বেজেই যাচ্ছে।
এক সময় শুভ্রর ঘুম ভাঙে।
ঘড়িতে দেখে ৮টা বাজতে আর ১৯ মিনিট।
৮:৩০ তেই তাদের ক্লাস শুরু।এক লাফে বিছানা থেকে নেমে অনিককে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে দু’জনে কোনোমতে ফ্রেশ হয়ে, নাস্তা করে, ড্রেস পরে এক দৌড়…
দৌড়াতে দৌড়াতে অনিক বলে,
– ভাই তোকে কতবার বলছিলাম তাড়াতাড়ি উঠিস, সময়ই নাই। ক্লাস শুরু হয়ে যাবে, আর ৫ মিনিট আছে, জলদি ভাগ।
শুভ্র বলে,
– কথা বলার সময় নাই, চল তুই।দু’জনেই দৌড়ে আসছে ক্যাম্পাসের মেইন গেটে।
সবেমাত্র ঢুকবে, ঠিক সেই মুহূর্তে শুভ্রর সাথে একটা মেয়ের ধাক্কা লাগে।
মেয়ের হাতে থাকা সব বই পড়ে যায়।
তখন শুভ্র দ্রুত থেমে হাঁপাতে হাঁপাতে বলে,
– স্যরি স্যরি, আই এম এক্সট্রিমলি স্যরি, আসলে খেয়াল করি নাই।
বলে মেয়েটার মুখের দিকে তাকাতেই দেখে,
এই তো সেই মেয়ে, যাকে সে বাস স্টপে সেই বৃষ্টির দিনে দেখেছিল,
কিন্তু তার নাম জিজ্ঞেস করতে পারেনি।মেয়েটা বলে,
– অন্ধ নাকি , চোখে দেখতে পাও না?শুভ্র কিছু বলার আগেই অনিক জোর করে ওর হাত ধরে ক্লাস রুমের দিকে নিয়ে যায়।
দৌড় দিয়ে ক্লাস রুমের গেট আসতেই দেখে স্যার ক্লাস নিচ্ছেন অলরেডি।
তখন বাজে ৮টা বেজে ৪৪ মিনিট।শুভ্রকে স্যার অনেক পছন্দ করেন, ভালো ছাত্র হিসেবে।
তাই শুভ্রকে নির্দিষ্ট করে বলে,
– তুমি আমার অনেক স্পেশাল স্টুডেন্ট। তুমি যদি দেরি করে আসো, তাহলে তো হবে না।
– ১৪ মিনিট লেট।
শুভ্র শুধু নিচু গলায়,
– স্যরি স্যার, নেক্সটে আর হবে না, প্রমিজ!!তখন স্যার বলেন,
– ঠিক আছে, আসো।
– জলদি বসে পড়ো। আর প্রজেক্টের ফাইনাল মিটিং হিসেবে যে দায়িত্ব দেওয়া ছিল, কাকে?অনিক বলে,
– স্যার, শুভ্রকে।তখন স্যার শুভ্রকে বলে,
– দেখি তোমার প্রেজেন্টেশন কেমন হয়েছে। তোমাকে দায়িত্বটা দিয়েছি বলে কথা,এই বলে স্যার প্রেজেন্টেশনটা দেখে শুভ্রকে বলে,
– গুড, তুমি এটা বোর্ডে সবাইকে বুঝিয়ে দাও।স্যারের কথামতো শুভ্র বোর্ডের সামনে গিয়ে তার প্রেজেন্টেশনের ফাইল থেকে বোর্ডে সবাইকে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিল, যেটা শুভ্র গতকাল রাতভর পড়ছিল ৪ ঘণ্টা ধরে।
প্রেজেন্টেশনটা ভালো হওয়ায় ক্লাসের সবাই শুভ্রকে অনেক প্রশংসা করে, যা দেখে স্যারও অনেক খুশি হন।
তারপর শুভ্রর এই প্রেজেন্টেশনকে লক্ষ্য করে একটা মিটিং ফিক্স করা হয়, যার হোস্টের দায়িত্ব স্যার শুভ্রকেই দেন।
এর জন্য শুভ্র অনেক খুশি হয়, এত বড় একটা দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছে ভেবে।
স্যার বলেন,
– তোমাদের শেষ পিরিয়ডে এই মিটিং সংক্রান্ত আলোচনা হবে।
– ততক্ষণে তোমরা সেটা নিয়ে কিছু জানার থাকলে শুভ্রর কাছ থেকে জেনে নিও।ক্লাস শেষ হওয়াই শুভ্র আর অনিক মিলে তাদের ক্যাম্পাসের ক্যান্টিনে গিয়ে মাঝের টেবিলে বসে। বসেই তারা দুটো কফি অর্ডার দেয়। তখন অনিক শোভ্রকে বলে,
– “ভাই, আজকে তোর প্রেজেন্টেশনটা পুরাই অসাধারণ ছিল রে। স্যারও অনেক খুশি।”
শোভ্র একটু হেসে বলে,
– “থ্যাঙ্কস তো তোকে দেওয়া উচিত রে , কাল ভাগ্যিস ঝটপট তুলে দিয়েছিলি ঘুম থেকে, না হলে আর হতো না।”
এই বলে দুজনেই হেসে ওঠে।ঠিক সেই সময় অনিক শুভ্রর সামনে থাকা টেবিলে সেই মেয়েটিকে দেখতে পায়। ওর সাথে একজন আছে। শুভ্র ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে ফিরে দেখে—সত্যিই তো, তখন ধাক্কা লাগলো ভালো মতো, ‘সরি’ও বলতে দিলি না তুই।
অনিক বলে,
– “স্বপ্নের নায়িকা সেই নাইকা বলে কথা! চল চল, ঝটপট।”
তারপর অনিক আবার ও বলে,
– “এক মিনিট দাঁড়া! ওর সাথে যে মেয়েটা বসে আছে, ও তো মেঘলা! আমাদের ডিপার্টমেন্টের। তার মানে ওরা দুই জন বন্ধু? ওয়াও, আনবিলিভেবল! তাহলে তো আরও ইজি হয়ে গেল। তোর ওই মেয়েটার সঙ্গে ফ্রেন্ডশিপও হয়ে যাবে। চল!”ঠিক তখনই ওয়েটার এসে ওদের কফির কাপ দুটো টেবিলে রাখে।
শোভ্র বলে,
– “আগে খেয়ে নিই, ঠাণ্ডা হয়ে যাবে তো।”
অনিক বলে,
– “গাধা, এত বড় একটা সুযোগ! মেঘলাও আছে, তুই চল। তোকে আমি পরে কফি খাওয়াবো, চল।”এই বলে শুভ্র আর অনিক যখন ওদের টেবিলের দিকে যেতেই, শুভ্র বলে ওঠে,
– “আর রে, বাদ দে, আমার কেমন জানি লাগতেছে।”
অনিক বলে,
– “তুই যদি ওই মেয়েটার সাথে আজকে কথা না বলিস, তাহলে তোকে আজকে বাসায় ঢুকতে দিবো না। চল চুপচাপ।”দুজনেই মেঘলাকে আগেই চিনতো। মেঘলার সামনে যেতেই মেঘলা বলে ওঠে,
– “আর রে দোস্ত, তোরা? বস বস!”
দুজনেই বসল—মেঘলা আর ওই মেয়েটার পাশে পাশে। অবশ্য অনিক চালাকি করে শুভ্রকে মেয়েটার পাশের চেয়ারটায় বসিয়ে দেয় আর নিজে মেঘলার পাশে বসে পড়ে।তখন সেই মেয়েটা শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বলে,
– “আরে তুমি! তুমিই তো তখন ক্যাম্পাসে ধাক্কা দিয়ে আমার বইগুলো ফেলে দিলে! তুমি ই তো সে!”
শোভ্র তখন বলে,
– “আবারও সরি! কিন্তু বিশ্বাস করো, আমি ইচ্ছা করে ধাক্কা দেইনি। তাড়াহুড়োর জন্য হয়ে গেছে।”
মেয়েটা বলে,
– “ইটস ওকে, নো প্রবলেম।”
মেঘলা তখন ওই মেয়েটাকে বলে,
– “আর রে বাদ দে তো।”
তারপর শোভ্র আর অনিককে বলে,
– “তোরা কি মিহিকে চিনিস নাকি আগের থেকে?”শোভ্র বলে,
– “মিহি আবার কে?”
তখন মিহি নিজেই বলে ওঠে,
– “এই যে আমি, যাকে আপনি ধাক্কা মেরেছিলেন। আমিই সে।”শুভ্র তখন পুরোই শক। মিহির মুখের কথা গুলো শুনে সে যেন আবার দিশেহারা হয়ে যায়। মনে মনে বলে,
– “এতো মিষ্টি করে কেউ কীভাবে কথা বলতে পারে! আর কি সুন্দর নাম—’মিহি’। ইশশ… ফাইনালি নামটা জানতে পারলাম!”তখন মেঘলা শুভ্রকে বলে,
– “কিরে শুভ্র, কী ভাবছিস মনে মনে?”
শুভ্র বলে,
– “আরে না না, কিছু না এমনি!”
মেঘলা তখন বলে,
– “তোরা হয়তো ওকে ওইভাবে চিনিস না।”তখন মেঘলা বলা শুরু করে,
– “এই হলো আমার সব চাইতে মিষ্টি বান্ধবী—মিহি। ও রিসেন্টলি চট্টগ্রাম থেকে ট্রান্সফার নিয়ে আমাদের ইউনিভার্সিটিতে এসেছে। মিহি আমাদের এক বছরের জুনিয়র, কিন্তু ওই ও সাইকোলজি ডিপার্টমেন্টেই আমাদের সাথে। মিহি যেমন দুষ্টু, তেমনই অনেক ফ্রেন্ডলি।”
মিহি বলে,
– “আরে , তুই কি আমার পুরো বায়োগ্রাফি বলে দিবি নাকি ? হয়ছে , থাম!”শুভ্র একটু সাহস নিয়ে মিহিকে বলে,
“আচ্ছা, এইবার বুঝলাম। আমি শুভ্র, অনার্স ২য় বর্ষ, ডিপার্টমেন্ট অফ সাইকোলজি। নাইস টু মিট ইউ।”
মিহি বলে,
“নাইস টু ইউ টু, ভাইয়া। তুমি তাহলে সেই শুভ্র? যে কিনা ডিপার্টমেন্ট টপার, তোমার কথা অনেক শুনছি মেঘলার মুখে। সরি সেদিন বাস স্টপ এ তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার এর জন্য”
শুভ্র একটু লজ্জা পেয়ে বলে,
“আরে ওগুলো আমি কখন ভুলে গেছি , আর তা বাদেও দোষটা আমারই ছিল। সরি ”
মিহি বলে,
আচ্ছা যা হয়ছে হয়েছে , এখন তো আমরা ফ্রেন্ড । কিন্তু তুমি আমার চাই তে সিনিয়র । সো , তোমাকে শুভ্র ভাইয়া বলেই ডাকবো কেমন ।
তখন শুভ্র বলে ,
ঠিক আছে , সমস্যা নাই , মাহি । ওহ সরি , মিহি ।
তখন মেঘলা শুভ্রর পিঠে একটা বাড়ি দিয়ে বলে,
“হইছে রে! লজ্জা পেতে হবে না দোস্ত! আর ঐটা মাহি না মিহি”
তখন মেঘলা মিহিকে বলে,
“আর এই তোকে দেখে লজ্জা পাচ্ছে!”
মিহি শুভ্রকে বলে,
“আমায় দেখে আবার লজ্জা কিসের ?”
মেঘলা বলে,
“শোন শুভ্র, মিহি যেহেতু নতুন তাই তুই ওকে একটু নোটস দিয়ে হেল্প করিস। আবার প্রেজেন্টেশনের মিটিং-ও আছে।”
শুভ্র মিহিকে বলে,
“তুমি ওইটা নিয়ে ভাবো না। আমি তোমায় সব নোটসগুলো সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে দিব।”
মিহি একটু হেসে বলে,
“Thanks a lot শুভ্র ভাইয়া !”
তখন অনিক বলে,
“আরে ভাই, তোরাই কথা বলতেছিস, আমায় তো কিছু বলতেই দিচ্ছিস না!”
মিহি বলে,
“তুমি শুভ্রর ফ্রেন্ড তাই না?”
অনিক একটু চমকে বলে,
“তুমি কিভাবে বুঝলা?”
তখন মিহি বলে,
“তোমাকে শুভ্র ভাইয়ার সাথে সারাদিনই তো দেখা যায় , তাই ভাবলাম তুমি হয়তো ফ্রেন্ড।”
তখন অনিক বলে,
“ওহ্ বুঝলাম! ঠিকই ধরেছো ”
হঠাৎ করেই অনিকের মনে পড়ে যায় যে,
“ইসস রে , এই মেয়ের পার্স তো আমাদের বাসায়, আনতেই তো মনে নাই আমাদের। শিট! একটু যদি মনে পড়তো! ধুর ”
মনে মনে ভাবতে থাকে অনিক।
অনিক শুভ্রকে বলে,
“একটু এদিকে আয় তো, আমার সাথে।”
শুভ্র বলে,
” আরে কোথায় যাব?”
অনিক, মেঘলা আর মিহিকে বলে,
“তোমরা গল্প করো, আমরা একটু আসছি।”
এই বলে অনিক শুভ্রকে নিয়ে সাইডে গিয়ে বলে,
“ঘুম থেকে উঠেই তো চলে আসলি, তখন যে বলছিলাম পার্সটা নিয়ে আসিস, যদি মেয়েটার সাথে দেখা হয় দিয়ে দিবি।”
শুভ্র ওর মাথায় হাত দিয়ে বলে,
“হায়রে! মনে-ই তো নাই! কিন্তু ওর সাথে দেখা হবে তা তো আমি ভাবিই নি। মানে মাহি ধুর মিহির সাথে সবে মাত্র আমার পরিচয় হলো, আর বড়ো বিষয় হচ্ছে যে, মিহি হয়তো ভুলে গেছে ওর পার্সের কথা , আর প্রথম দিন যেদিন বাসস্টপে দেখা হয় , সেদিন তো দিয়েই দিতাম কিন্তু ওই তো চলে গেলো ‘
অনিক বলে,
“সে না হয় বুঝলাম। কিন্তু ভাই, মেয়েটা কিন্তু অনেক মিষ্টি রে! এত সুন্দর করে কথা বলে যে, কোনো ছেলে ওর মায়ায় জড়িয়ে যাবে এক নিমিষেই।
তুইও দেখলাম কথা বলতে বলতে ওর মায়ায় পড়ে গেছিস প্রায়। ভালোবেসে ফেললি নাকি রে?”
শুভ্র বলে,
“আরে এইরকম কোনো কিছুই না। তুই শুধু শুধু ওইরকম করিস।
তা ছাড়া ও আমার এক ব্যাচ জুনিয়র। এগুলার কোনো প্রশ্নই আসে না।”
অনিক বলে,
“হুম।
তোর মনের ভাষা এক আর চোখের ভাষার মধ্যে দিন রাতের পার্থক্য ।
যখন ওর সাথে কথা বলতেছিলি তখনই বুঝতে পারছি।”
শুভ্র বলে,
“ওরে মহাগ্যাণী রে! হইছে এবার চল,
মিহি কি চলে গেল নাকি দেখি,
ওকে পার্সের কথাটা বলতে হবে।”
অনিক বলে,
“আমার তো মনে হচ্ছে তুই ওকে এখনই ভালোবেসে ফেলছিস!”
শুভ্র বলে,
“থাপরানো উচিত তোকে, চল তো!”শুভ্র আর অনিক মিলে ক্যান্টিনে যেতেই দেখে মেঘলা একাই বসে আছে।
ঝট করে শুভ্র মেঘলার সামনে এসে বলে,
“কি রে মেঘলা, মাহি কই গেলো?”
মেঘলা বলে,
“ওটা মাহি না মিহি? কী মিষ্টি করে নাম নিলি রে দোস্ত!
মায়া টায়াই পড়ে গেলি নাকি, প্রেমে দেখি হাবুডুবু ?”
শুভ্র একটু রেগে গিয়ে বলে,
“তোদের সমস্যা টা কি? একটু কিছুতেই শুধু তোরা এমন করিস, এগুলা কিন্তু আমার একদম ভালো লাগে না।
মিহির পার্স আমার কাছে আছে,
ওটা ওকে দিতে হবে, তাই মিহিকে বলতে চাইলাম।
কিন্তু ও তো চলেই গেল।
আর তোদের শুধু প্রেম আর প্রেম — তা ছাড়া তোরা কিছুই বুঝিস না।”
মেঘলা চমকে উঠে আর বলে,
“পার্স?
ওর পার্স তোর কাছে কী করে?
চুরি করছিস নাকি?
ছিঃ দোস্ত!
তুই শেষমেশ চুরি করা শুরু করলি, তা আবার মেয়েদের পার্স?
এগুলো তোর থেকে আমি আশা করি না!”
শুভ্র বলে,
“আরে মাথা মোটা! ওইরকম কিছুই না,
তুই যা বলছিস!”
মেঘলা বলে,
“আচ্ছা শুনি, কাহিনি বল দেখি।”
তখন শুভ্র পুরো কাহিনি টা খুলে বলে —
কিভাবে দেখা হলো,
ওকে দেখে ওর মনে কী কী অনুভূতি জাগলো,
ওর পার্সটা কিভাবে পড়ে গেলো,
সব কাহিনি শুনে,
মেঘলা খুশিতে হাততালি দিয়ে বললো,
“ওয়াও দোস্ত!
তোর তো পুরাই সিনেম্যাটিক কাহিনি!
হাউ সুইট।
পুরাই ফিল্ম এর মতো তোদের দেখা হইছে!
কিন্তু একটা প্রশ্ন হচ্ছে যে,
মিহি কি তোকে শেষমেশ ভালোবাসবে নাকি , এই গল্প এখানেই শেষ ।
শুভ্র বলে,
“জানি না কি আছে , তবে ওকে দেখার পর কেমন জানি করতিছিলো বুকের মাঝে , স্বপ্নেও দেখছিলাম ওকে ”
মেঘলা বলে,
“ওয়াও দোস্ত!
প্রথম দেখায় প্রেম ! সেই সেই ।
শুভ্র বলে,
“তুইও থাপ্পর খাবি!”
মেঘলা বলে,
“না দরকার নাই!
কিন্তু কাল তো মিহি আসবে ক্যাম্পাসে, ক্লাসও করবে।
দিয়ে দিস পার্স, এতো চিন্তা কিসের bro!
আর তুই যেভাবে দিশেহারা হয়ে গেছিস, হাহাহা!
সেই লাগলো দোস্ত!
তোর গল্পটা!
লেগে থাক!
মিহি অনেক ভালো মেয়ে!
তোর লাইন সেট আপ হয়ে যাবে।
আর আমি তো আছি,
তোক হেল্প করবোই!”
শুভ্র বলে,
“হইছে ভাই, মাফ চাই! মুখ বন্ধ কর,
আমি নাই এগুলায়!
সরি ! পার্সটা দিয়ে দিব, হিসাব শেষ!
চল এখন তোরা, বিকেল হয়ে গেছে!”তখন মেঘলা আর অনিক বলে,
“আচ্ছা তাহলে চল,
কাল এসে বাকি টা হবে!”
এই বলে তিন জন মিলে নিজ নিজ বাসায় চলে গেলো।আগামী পর্বে যা থাকছে…
পরের পর্বে দেখা যাবে শুভ্র যখন মিহিকে তার হারানো পার্সটা ফিরিয়ে দেয়, তখন মিহির প্রতিক্রিয়া কেমন হয়? আর শুভ্র কি পারবে তার মনের কথা মিহিকে বলতে, নাকি ‘সিনিয়র-জুনিয়র’ আর ‘বন্ধুত্ব’-এর বেড়াজালে আটকে থাকবে তাদের সম্পর্ক?অপেক্ষা করুন পর্ব ৩-এর জন্য!
5 Comments-
-
পার্সটা ফিরিয়ে দেওয়ার সময় মিহির রিঅ্যাকশন কী হবে? সে কি শুভ্রকে চিনতে পারবে? নাকি আবার কোনো ভুল বোঝাবুঝি হবে? দারুণ টুইস্ট রেখে শেষ করলেন………………..পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম
-
অনেক ভালো লাগলো জেনে যে , আর বোঝায় যাচ্ছে যে গল্পটা আপনার মনে একদম গেঁথে গিয়েছে ,আর পরের পর্ব আসতে একটু সময় লাগতে পারে , কিন্তু আজকে একটা থ্রিলার গল্প আপনাদের সাথে শেয়ার করবো , আশা করি এইটাও আপনাদের অনেক ভালো লাগবে , এই গল্পটা থ্রিলার , এডভেঞ্চার , হরর , মার্ডার মিস্ট্রি , সাসপেন্স সব কিছুই আছে । আজ বিকেলেই গল্পটা শেয়ার করবো । পাশে থাকার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ ।
-
-
Friends
পংকজ প্রিয়ম
@pankajpriyom
জান্নাতুল জাকারিয়া
@eef2a2a8aad9e8543cebf8778da7e620
ভাস্কর
@vaskarchou
merajul islam
@merajulislam
Daliya Begum
@daliyabegum
Nadia Rifat ritu
@ritu
N Alam
@nalam
মুহাম্মদ আবুল হুসাইন
@muhammad-abul-hussain
রাইসা আনজুম (পর্শি)
@raisaanjumporshi


মিহিদানা নামের মতোই গল্পটা মিষ্টি হচ্ছে ধীরে ধীরে! অনেক শুভ কামনা রইল!