-
গল্প : “কক্ষ নং : ৩০৭”
লেখক : “সাম্য রায়”পর্ব ১ : শহর থেকে অনেকটা দূরে, গাছপালায় ঘেরা পুরোনো এক ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। কলেজের মূল ভবন থেকে খানিকটা সরু রাস্তায় এগোলেই চোখে পড়ে বিশাল এক হোস্টেল বিল্ডিং। বয়সে অন্তত ২০-২৫ বছর পুরোনো। বাইরে থেকে দেখলেই বোঝা যায়—রঙ চটে যাওয়া দেয়াল, ভাঙাচোরা জানালা আর করিডোরে আধাভাঙা লাইট বাল্ব। দিনের বেলা সবকিছু সাধারণ মনে হলেও রাত নামলেই পরিবেশ যেন ভারী অদ্ভুত হয়ে যায়।
অভ্র প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়েছে। নতুন পরিবেশ, নতুন বন্ধু, আর একেবারেই অচেনা হোস্টেল। একজন সিকিউরিটি গার্ড তাকে তার রুমে পৌঁছে দিল। অভ্রকে জায়গা দেওয়া হলো দ্বিতীয় তলার এক কোণের রুমে—তার রুম নম্বর ছিল ২১৪। জিনিসপত্র রেখে গার্ড চলে যাওয়ার সময় অভ্রকে বলল, “রাত করে করিডোরে বের হবেন না,চুপচাপ শুয়ে পড়ুন।” অভ্র বলল, “কেন, কোনো সমস্যা আছে নাকি?” গার্ড বলল, “এত উত্তর দেওয়ার সময় নাই। যা বললাম, যদি না শোনেন, আপনি নিজেই পস্তাবেন।” এই বলে গার্ড চলে যেতে লাগল। তখন অভ্র বলল, “আচ্ছা আঙ্কেল, আমার রুম তো ২১৪, তাহলে সেই হিসেবে পাশের রুমটার রুম নম্বর হবে ২১৫। তা না হয়ে এখানে ৩০৭ লেখা দেখছি, তিন তলার রুম নম্বরের মতো সিরিয়াল দেওয়া—এটা কি ভুল করে দিয়েছে?” অভ্রর কথা শুনে গার্ড রেগে গিয়ে বলল, “এত কথা বলেন কেন! যা বলেছি সেটা মাথায় রাখেন,” বলে গার্ড সেখান থেকে চলে গেল। অভ্র তখন একটু রেগে গিয়ে বলল, “সমস্যা নাকি লোকটার মাথায়! ভালো কথার কোনো দামই নাই,” এই বলে সে প্রথমবার তার রুমে ঢুকল। ভিতরে ঢুকতেই একটুখানি হালকা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ পেল। কিন্তু নতুন রুম হওয়াতে সে গন্ধকে গুরুত্ব দিল না।
রুমে ঢোকার পর খেয়াল করল যে তার একটা ব্যাগ বাইরে রয়ে গেছে। সেটা নিয়ে আসতে গিয়ে খেয়াল করল যে পাশের যে রুমটা আছে (৩০৭ নম্বর), ওটাই একদম পুরোনো, একটা তালা লাগানো, যেটা মরিচা ধরে গেছে। অভ্রর একটু মনে খটকা লাগল—আসলে কী আছে এই রুমে? গার্ডটা কি আমার থেকে কিছু লুকানোর চেষ্টা করল? এই বলে সে আবার তার রুমে চলে গেল। তারপর ফ্রেশ হয়ে রাতের খাবার খেয়ে কিছুক্ষণ পর শুয়ে পড়ল। এক সময় খেয়াল করল, জানালা দিয়ে আসা চাঁদের আলোয় পাশের তালাবদ্ধ রুমের ভেতর একটা ছায়া নড়ছে (এখানে বলে রাখা ভালো, অভ্রর রুমের জানালা দিয়ে ৩০৭ নম্বর রুমের জানালা দেখা যেত)। ছায়াটা ঠিক মানুষের মতো মনে হলো—কখনো দাঁড়িয়ে, কখনো হাঁটছে, ঘুরে বেড়াচ্ছে রুমটার ভিতর। এসব কিছু অভ্র জানালা দিয়েই দেখছিল, আর ঘাবড়াতে শুরু করল। হঠাৎ তার মনে ভয় ঢুকে গেল, কিন্তু সে ভাবল, রুমটা তো অনেকদিন যাবত তালাবদ্ধ, ভিতরে তাহলে কী দেখলাম? এই বলে চোখ কচলে আবার তাকাতেই দেখে কিছুই নেই। সবটাই ছিল তার মনের ভ্রম।
কিন্তু রাত যত বাড়তে লাগল, তার কানে আসতে লাগল ফিসফিসানি—যেন দূরের কোনো কণ্ঠ কথা বলছে। অভ্র সাহস করে দরজাটা হালকা ফাঁক করে করিডোরে উঁকি দিল, কিন্তু ফাঁকা করিডোরে শুধু ভাঙা টিউব লাইটের ঝিঁঝিঁ শব্দ। তখন তার মনে পড়ল গার্ডের সেই কথা—“করিডোরে রাত বিরাতে বের হবেন না।” কথাটা মনে হতেই সঙ্গে সঙ্গে দরজাটা লাগিয়ে দিয়ে চুপচাপ বিছানায় বসে পড়ল। কিছুক্ষণ পর সে ঘুমিয়ে পড়ল।
পরদিন সকালে হোস্টেলের পুরোনো ছাত্রদেরকে অভ্র সব কাহিনি খুলে বলল। তারা বলল—
“এই হোস্টেলে নাকি এক সময় এক ছাত্রকে খুন করা হয়েছিল, ঠিক ওই রুমে… কক্ষ নম্বর ৩০৭। তারপর থেকে মাঝরাতে জানালায় ছায়া দেখা যায়।”
অভ্র মুচকি হেসে বলল—
“আমাকে দেখে কি পাগল মনে হয় তোমাদের? এসব কুসংস্কার! পুরোনো হোস্টেল বলে তোমরা ভূতের গল্প বানিয়েছ।”
“বাহ! আইডিয়াটা দারুণ—মানুষকে বোকা বানানোর জন্য। তবে আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব। কী আছে এই ৩০৭ নম্বর রুমে, রহস্য আমি বের করবই।”
কথাগুলো বললেও ভিতরে ভিতরে এক অদ্ভুত অস্বস্তি জমে রইল অভ্রর মনে।
গত রাতের সেই ছায়াটা কি আসলেই কিছু ছিল,
নাকি সবটাই তার মনের ভুল?অভ্র কি পারবে এই রহস্যের জট খুলতে , আর কি এমন লুকিয়ে আছে এই ৩০৭ কক্ষের সাথে জানতে হলে অপেক্ষা করুন পর্ব ২ এর জন্য ।
6 Comments -
Friends
শায়লা এ্যামিন
@shaylaaemin945gmail-com
Tanvir Hosen
@tanvirhosen
Rubel Ahmed
@rubelahmed
Burhanuddin
@burhanuddin
মো: নাজমুল আখতার
@faith
পংকজ প্রিয়ম
@pankajpriyom
জান্নাতুল জাকারিয়া
@eef2a2a8aad9e8543cebf8778da7e620
ভাস্কর
@vaskarchou
merajul islam
@merajulislam



পুরোনো হোস্টেল আর রহস্যময় রুম নম্বর ৩০৭—গল্পের শুরুতেই এক ধরণের থ্রিল অনুভব করছি। অভ্রর যুক্তিবাদী মনের সাথে অতিপ্রাকৃত ঘটনার লড়াই দেখতে মুখিয়ে আছি। দ্বিতীয় পর্ব দ্রুত চাই…………………