Profile Photo

Abul Hasan TuhenOffline

  • abulhasantuhen
  • Profile picture of Abul Hasan Tuhen

    Abul Hasan Tuhen

    1 month, 2 weeks ago

    নাটক:মেঘ রোদ্দুর (প্রথম পর্ব)

    রচনা : আবুল হাসান তুহিন

    কাহিনী সংক্ষেপ: হাশেম আলী, একজন বৃদ্ধ রিক্সাওয়ালা। শহরের রোদে-ঘামে দিন কাটে তার, কিন্তু তার চোখে একটাই স্বপ্ন—মেয়ে রুবিকে মানুষ করা। রুবি তার একমাত্র সন্তান, যার চোখে জ্বলজ্বলে আগুন, যার বইয়ের পাতায় ভবিষ্যতের ছায়া। হাশেম আলী রিক্সা চালিয়ে, কষ্ট করে, মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করান। পাড়ার লোকজন হাসে, বলে “রিক্সাওয়ালার মেয়ে কি আর ডাক্তার হবে?” কিন্তু তিনি চুপচাপ স্বপ্ন বুনে যান।রুবি পড়াশোনায় অসাধারণ। স্কুলে GPA 5 পায়, শিক্ষকরা প্রশংসা করে, পাড়ার লোকজন অবাক। সেই আলো ছড়িয়ে পড়ে কলেজে, যেখানে এক সুদর্শন ছেলে রাফি তার প্রতি আকৃষ্ট হয়। রুবির সরলতা, মেধা, আর আত্মবিশ্বাসে মুগ্ধ হয়ে রাফি তাকে ভালোবাসতে শুরু করে। ধীরে ধীরে সম্পর্ক গড়ে ওঠে, এবং একদিন রাফি তার পরিবারকে রাজি করিয়ে রুবিকে বিয়ে করে।বিয়ের দিন হাশেম আলী চোখে জল নিয়ে মেয়েকে বিদায় দেন। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির বাস্তবতা ছিল কঠিন। রুবির অতীত, তার স্বপ্ন, তার রিক্সাওয়ালার বাবাকে ঘিরে শুরু হয় অবহেলা। রাফির মা বাবা তাকে তিরস্কার করে, রাফিও ধীরে ধীরে দূরে সরে যায়। একদিন, রুবিকে তালাক দিতে চায় রাফি। ভাঙা হৃদয়ে, কিন্তু আত্মসম্মানে অটল রুবি বাবার কাছে ফিরে আসে।হাশেম আলী তাকে জড়িয়ে ধরে বলেন, “তুই হারিসনি, তুই ফিরে এসেছিস নিজের কাছে।” রুবি আবার পড়াশোনা শুরু করে, দিন-রাত এক করে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়। অবশেষে, সে ডাক্তারি চান্স পায়। শহর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে খবর—রিক্সাওয়ালার মেয়ে ডাক্তার হয়েছে।এদিকে হাশেম আলী বৃদ্ধ হয়ে পড়েছেন। শরীর আর রিক্সা টানতে পারে না। রিক্সার মালিক বকাঝকা করে, ঘরের মালিক ভাড়া চায়। রাস্তায় বসে থাকেন, কেউ রিক্সায় ওঠে না। সমাজ তাকে তাচ্ছিল্য করে। ঠিক তখনই রুবি ফিরে আসে—মেডিকেল ইউনিফর্মে, চোখে দৃঢ়তা।

    সে বাবাকে নিয়ে যায় নিজের নতুন ফ্ল্যাটে। বলে, “এই ঘর আপনার, আব্বা। এবার আমি চালাবো আমাদের জীবন।” হাশেম আলী চোখে জল নিয়ে বলেন, “তুই আমার স্বপ্নের পূর্ণতা।”শেষ দৃশ্যে, রুবি একটি ছোট হাসপাতাল খুলেছে—“হাশেম আলী ফ্রি ক্লিনিক”। উদ্বোধনের দিন সে বলে, “এই হাসপাতাল আমার বাবার নামে, যিনি রিক্সা চালিয়ে আমাকে মানুষ করেছেন।” হাশেম আলী হুইলচেয়ারে বসে, মুখে শান্তির হাসি নিয়ে চোখ বন্ধ করেন। রিক্সার চাকা থেমে গেছে ঠিকই, কিন্তু সেই চাকার ঘূর্ণনেই এক জীবন ভাগ্য চাকা এগিয়ে গেছে, এক মেয়ে স্বপ্ন ছুঁয়েছে, আর এক পিতা ইতিহাস হয়ে গেছে।

    চরিত্র লিপি

    ১।হাশেম আলী ৬০রিক্সাওয়ালা,রুবির বাবা
    ২। রুবি- ২০ হাশেম আলীর মেয়ে,মেধাবী ছাত্রী
    ৩।জরিনা -৫০- রুবির মা , সরল সোজা
    ৪।রাফি- ২৫ উচ্চবিত্ত , রুবির প্রেমিক ও স্বামী
    ৫। মিলি- ৪০ গৃহিণী, রাফির মা,অহংকারী
    ৬। রহিম -৪০- ঘর মালিক , রুক্ষ,
    ৭। মিরাজ -৩৫ রিক্সার মালিক
    ৮। মহিউদ্দিন- ৫০রাফি বাবা | কঠোর,
    ৯। আসলাম- ৪৫ চা বিক্রেতা, সহানুভূতিশীল
    ১০। প্যাসেঞ্জার-১
    ১১। প্যাসেঞ্জার-২

    দৃশ্য :০১।। দিন।। রাস্তার মোড়ে।। আউটডোর
    চরিত্র: হাশেম
    [ফ্রেমে দেখা যায় শহরের রাস্তায় হাশেম আলী রিক্সা চালিয়ে ফিরছে, বেশ গরম পড়ায় ঘামে ভেজা শরীর, মুখে ক্লান্তি, কিন্তু চোখে স্বপ্ন]
    হাশেম ‌‌ : ( স্বগত):
    আজ প্যাসেঞ্জার ভালোই ছিল।দশটা ভালো ভাড়া টেনেছি। রুবির পরীক্ষার ফি দেয়ার কথা মেয়েটা আমার লেখাপড়ায় ভালো কষ্ট হলেও লেখাপড়া খরচ আমার চালিয়ে যেতে হবে। ওর চোখে যে আলো, সেটা আমি হারাতে পারবো না। আজ যা গরম পড়েছে শরীরে কুলোই উঠতি পারছি না, যাই বাড়ির দিকে যাই বিকেল বেলা আবার বের হব রিক্সা নিয়ে, রিক্সার মালিকের ভাড়াতো দিতে হবে।
    (হাসেম আলী রিক্সা চালিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দেয়, রিকশা আস্তে আস্তে বেশ দূর পর্যন্ত চলে যাবে ) cut to

    দৃশ্য :০২-ক।। দিন।। চায়ের দোকন।। আউটডোর
    চরিত্র: রাফি, আসলাম
    [ফ্রেমে দেখা যায় রাফি মোটরসাইকেল নিয়ে তার দোকানের সামনে এসে দাঁড়াবে এবং চায়ের অর্ডার করবে, ওই পথ দিয়ে রুবি যাবে]
    আসলাম : (আসলাম চিরকুমার চা বানাচ্ছে আর গান করছে) “প্রেম একবার এসেছিল জীবনে”
    রাফি : (রাফি মোটরসাইকেল চালিয়ে এসে থামবে এবং চায়ের অর্ডার করবে) আসলাম ভাই, তোমার মনে এখনো যে রং আছে। এক কাপ চা দাও মালাইচা।
    আসলাম : এ কথা আর বলতে প্রেম তো করনি , প্রেম যে করেছে সেই মরেছে। আর যারা দাগা খেয়েছে সেই বোঝে। যাক সে কথা তুমি যেন কি চা বললে?
    রাফি : এক কাপ মালাই চা। জলদি দাও । দেরি করলে লাইন কেটে যাবে।
    আসলাম : দিচ্ছি। মনে হচ্ছে খোকা বাবু লাভ লাইনে পড়েছে। চালিয়ে যাও। “এক বুক জ্বালা নিয়ে, বন্ধু তুমি / কেন একা বয়ে বেড়াও”( গান গাইবে চা বানাবে এবং রাফিকে দেবে)
    রাফি : (চা খাবে এবং রাস্তার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে নজর রাখবে inter cut রুবি দূর থেকে আসবে)
    আসলাম ভাই, টাকা এসে দিচ্ছি।
    আসলাম : এগিয়ে যাও, লেট করলি দেরি হয়ে যাবে।(রাফি বাইক স্টার্ট দেবে এগিয়ে যায়)cut to
    ## #intercart: হাসেম আলী রিকসা চালিয়ে যাচ্ছে।
    দৃশ্য :০২-খ।। দিন।। চায়ের দোকন।। আউটডোর
    চরিত্র: রাফি, রুবি
    [ফ্রেমে দেখা যায় রুবি হেঁটে আসছে , রাফি মটর সাইকেল চালিয়ে তার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলবে]
    রাফি : বাইকের পিছনে উঠো , তোমার সাথে জরুরি কথা আছে।
    রূবি : বাইকে উঠতে হবে না, যা বলার এখানে বলেন।
    রাফি : এ ভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বললে খারাপ দেখায়। বাইকে ওঠো, কথা শেষে তোমার বাড়ির সামনে নামিয়ে দেব।
    রুবি : আপনার সাথে বাইকের পিছনে উঠলেও তো খারাপ দেখাবে। তাছাড়া —-।
    রাফি : আহা অযথা কথা বাড়িয়ে কি লাভ! ঝটপট বাইকে উঠো। প্লিজ লক্ষ্মী মেয়ের মতো বাইকে উঠো। ( রুবি বাইকে উঠে, রাফি বাইক চালিয়ে এগিয়ে যায়)
    ## intercart: হাসেম আলী রিক্সা চালিয়ে যাচ্ছে।

    দৃশ্য :০২-খ।। দিন।। চায়ের দোকন।। আউটডোর
    চরিত্র: রাফি, রুবি
    [ফ্রেমে দেখা যায় রাফি বাইক চালিয়ে আসে পিছনে রুবি, বাইক থেকে নেমে ওরা কথোপকথন শুরু করে mute shot]
    রুবি : দেখুন আপনার সব কথা আমি শুনলাম আমার পারিবারিক অবস্থা সম্পর্কে আপনাকে জানতে হবে। আপনার আমার মাঝে ব্যবধানটা অনেক। তাছাড়া আমি লেখাপড়া শিখে নিজের পায়ে দাঁড়াবো।
    রাফি : শোনো আমি সবকিছু জেনে বুঝে তারপর অগ্রসর হয়েছি তুমি লেখাপড়া শিখবে ভালো কথা তোমার সব ইচ্ছা আমি পূরণ করে দেব কোন সমস্যা হবে না।
    রুবি : আপনি বলেছেন আমি ভেবে দেখব তবে আপাতত একটা অনুরোধ আমার সামনে পরীক্ষা এর ভেতর আপনি আমাকে ডিস্টার্ব করবেন না প্লিজ। এখন আমাকে যেতে হবে (রবি সামনের দিকে এগিয়ে যায় রাফি ওকে থামাই)
    রাফি : ওকে তুমি যা বলেছ তাই হবে কিন্তু তোমাকে পৌঁছে দেই। প্লিজ রাগ করো না। কি হলো বাইকে ওঠো। (জোর করে বাইকে উঠিয়ে নেয়) Cut to

    দৃশ্য :০৩।। দিন।। বাড়ির সামনে।। আউটডোর
    চরিত্র: হাশেম, রুবি, জরিনা
    [হাসেম আলী রিক্সা রেখে ঘরের সামনে এসে রুবিকে দেখে, সে স্কুলের ইউনিফর্ম পরে দাঁড়িয়ে আছে]

    রুবি : আব্বা, তুমি আজ সকাল সকাল বাড়িতে চলে আসলে যে, তোমার শরীর খারাপ হয়নি তো! আমার ফরম ফিলাপের ফি দিতে হবে।

    হাশেম : (হাসি মুখে) আজ সকাল থেকে ভালো প্যাসেঞ্জার ছিল বেশ কয়েকটা ভালো ভাড়া পেয়েছি। পরীক্ষার ফি টাকা জোগাড় হয়ে গেছে তাই চলে আসলাম। তুই তো আমার স্বপ্ন। তুই পড়বি, বড় হবি, এই রিক্সার চাকায় বদলে যাবে ভাগ্যের চাকা।

    জরিনা : (একটু উপহাস করে) বাপ মেয়ের যত সব আদিখ্যেতা, রিক্সাওয়ালার মেয়ে আবার ডাক্তার হয় নাকি? দিবা স্বপ্ন, মেট্রিক পাশ করলেই দেখে শুনে একটা বিয়ে দিয়ে দাও! ঝামেলার চুকে যাবে । এই তুই যা স্কুলের ড্রেসটা খোল আর তুমি হাত মুখ ধুয়ে আসো খবার বেড়ে দিচ্ছি। (জরিনা গজ গজ করতে করতে ঘরের ভেতর চলে যায়)

    হাসেম : ( চুপ থাকে, চোখে জল আসে, কিন্তু মুখে হাসি ধরে রাখে) শোন মা তোর মায়ের কোথায় মন খারাপ করিস নে তুই লেখাপড়া ভালো, আমার যতক্ষণ পর্যন্ত সাধ্য আছে তোকে লেখাপড়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাব কোন চিন্তা করিস না যা, স্কুলের জামা পাল্টে ফেল। (রুবি ঘরেরভেতরে চলে যায়, হাশেম গামছায় মুখ মুছতে মুছতে হাত মুখ ধোয়ার জন্য সামনের দিকে যায়) cut to

    দৃশ্য ।। ০৪।। দিন।।রাফিদের বাড়ি।। ইনডোর
    চরিত্র: রাফি, মহিউদ্দিন, মিলি
    [সবাই ডাইনিং টেবিলে বসে চা নাস্তা খাচ্ছে]
    মহিউদ্দিন: (বিস্ময় ভাবে) আজ সূর্য কোথা থেকে উঠেছে! সারাদিন কোথায় থাকো কি কর তোমার তো দেখা সাক্ষাৎ পাওয়া যায় না! ভাগ্যক্রমে তোমাকে নাস্তার টেবিলে পেয়ে গেলাম ব্যাপারটা কি?
    রাফি : না তেমন কিছু নয় আব্বু এক জায়গায় যেতে হবে তাই সকাল সকাল উঠেছি।
    মহিউদ্দিন: পড়াশোনাটাও তো ঠিকমতো শেষ করতে পারলে না! কি করবে সেটাও বললে না ! এভাবে কতদিন পার করবে শুনি?
    রাফি : তুমি তো আছো, তুমি থাকতে আমার কিসের চিন্তা?
    মিলি : ওর সাথে এত কথা না বলে ঘাড়ের পরে একটা জোয়াল উঠিয়ে দাও। দেখবে সুরসুর করে সোজা হয়ে গেছে।
    রাফি : ঘাড়ের উপর জোয়াল কি মা?
    মিলি : নাও তোমার আদরের ছেলেরে এবার বুঝিয়ে দাও জোয়াল কি?
    মহিউদ্দিন: (একটু হেসে) আসলে তোর মা বলতে চাচ্ছে জোয়াল হচ্ছে দায়িত্ব‌ । গরু দিয়ে যখন লাঙ্গল চাষে তার ঘাড়ের পরে দেখিস না বাঁশ দিয়ে আটকে রাখে । এর মানে এটা হচ্ছে তার ঘাড়ের উপর বোঝা চাপিয়ে দেওয়া।
    রাফি : এত ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে না বলে সরাসরি বললে তো হয়।
    মিলি : আমি বলেছি দেখে শুনে একটা বিয়ে দিয়ে দাও। আর একটা ব্যবসা ধরিয়ে দাও । ব্যাস ।
    মহিউদ্দিন: বুঝতে পেরেছি মাঝে মাঝে দায়িত্ব চাপিয়ে দিতে হয়। নাহলে নিজের স্বইচ্ছাই কেউ দায়িত্ব নেয় না।
    রাফি : (লজ্জা পেয়ে বেরিয়ে যায়) আমি বেরচ্ছি।
    মিলি : ছেলে মনে হয় লজ্জা পেয়েছে।
    মহিউদ্দিন: আমিও বের হচ্ছি।
    মিলি : সাবধানে যেও।যেটা বললাম মাথায় রেখো। (মহিউদ্দিন বেরিয়ে যাবে) Cut to

    দৃশ্য ।। ০৫।।দিন।। নির্জন স্থান।। আউটডোর
    চরিত্র: হাসেম আলী, কয়েকজন
    [ফ্রেমে দেখা যায় হাসেম আলী রিক্সা নিয়ে বসে আছে কোন প্যাসেঞ্জার পাচ্ছে না]
    হাসেম : (স্বগত) মেয়েটা অনেক রাত পর্যন্ত লেখা পড়া করে তারে ভালোমন্দ কিছু খেতে দেবো! কিন্তু টাকা পয়সা না হলে কোথা থেকে দেবো! এদিকে গত মাসের ঘর ভাড়া এখনো বাকি। বাড়িওয়ালা বারবার তাগাদা দেচ্ছে। এখন আমার রিক্সায় সচরাচার কেউ উঠতে চায় না। (একজন প্যাসেঞ্জার আসে)
    প্যাসেঞ্জারে-১ : এই রিক্সা কি আপনার? কিছু মালামাল নিতে হবে।
    হাসেম : হ্যাঁ আমার, কোথায় কোথায় যেতে হবে?
    প্যাসেঞ্জারে-১: না থাক আপনিও মালামাল উঠানামা করতে পারবেন না। (অন্য একটা রিকশা ডেকে নিয়ে চলে যায়)
    হাসেম : (আর একজন প্যাসেঞ্জার আসে)
    ভাই কোথায় যাবেন? আমার রিক্সায় আসেন ।

    প্যাসেঞ্জারে-২: না আপনার রিক্সায় যাওয়া যাবে না বৃদ্ধ মানুষ। তাল সামলাতে পারবেন না কোথায় এক্সিডেন্ট করবেন তার ঠিক নেই, আমি অন্য রিক্সায় যাচ্ছি।
    হাসেম : (স্বগত) বয়স হলে সবাই তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে। (হতাশায় চেয়ে থাকে) Cut to

    দৃশ্য ।। ০৬।।দিন।। রাস্তার মোড়।। আউটডোর
    চরিত্র: রাফি, রুবি
    [ ফ্রেমে দেখা যায় রাফি বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রুবি পাশ কাটিয়ে চলে যায় , দুজনের শুধু চোখাচোখি হয়ে। কারণ ডিস্টার্ব করতে মানা]

    দৃশ্য ।। ০৭।।দিন।। বাড়ির উঠান ।। আউটডোর
    চরিত্র: হাসেম , রহিম
    [রহিম ঘর ভাড়ার জন্য আসবে বকাবকি করবে]
    রহিম : হাসেম ভাই আছো নাকি?
    হাসেম : কে ? (বাইরে এসে) ও আপনি? কই একটা চেয়ার দাও , রহিম ভাই এসেছে।
    রহিম : না বসতে আসিনি? দুই মাসের ঘর ভাড়া বাকি, টাকা দেন। আমি চলে যাই।
    হাসেম : কি করবো ভাই একটু বেকায়দায় পড়িছি, কয়েক দিন পরে দিয়ে দেবো।
    রহিম : আপনি মুরুব্বি মানুষ বেশি কথা বলতে পারব না দুই-একদিনের মধ্যে ঘর ভাড়া দিয়ে দেবেন আমারও তো চলতে হয়।
    হাসেম : রাগ করবেন না ভাই আপনি না দেখলে দেখবে কে? শহরে আসার পর থেকেই তো আপনাদের এখানে থাকি। সেই যে আপনার আব্বা বেঁচে থাকতে এসেছি।
    রহিম : সে তো সব জানি কিন্তু কি করবো বলেন?
    টাকাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন আমি এখন আসি।
    (হাশেম অসহায়ের মত তাকিয়ে থাকে রহিম চলে যায়) cut to

    দৃশ্য ।। ০৮।।রাত।। রুম ।।ইনডোর
    চরিত্র: রাফি
    [ ফ্রেমে দেখা যায় রাফি বসে বসে ভাবছে]
    রাফি : (স্বগত) আগামীকাল এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হবে। রুবি নিশ্চয়ই ভালো ফলাফল করবে। রুবি খুব মেধাবী, ও চায় ওর স্বপ্ন পূরণ করতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে। আর আমি চাই ওকে একান্ত করে কাছে পেতে। বিয়ে করে ঘরে আনতে। কিন্তু আমার বাবা-মা ওকে মেনে নেবে? আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যত বাঁধা বিপত্তি থাকুক না কেন আমি ওকে বিয়ে করবই। (Cut to)

    দৃশ্য ।। ০৯।।দিন ।। বাড়ি ।। আউটডোর
    চরিত্র: হাসেম, রুবি, জরিনা
    [ ফ্রেমে দেখা রুবি খুশিতে বাড়ির ভেতর প্রবেশ করবে]
    রুবি : মা আব্বা তোমরা কোথায়? (হাসেম জরিনা ঘর থেকে বেরিয়ে)
    হাসেম : এই যে মা আমরা আছি।
    জরিনা : কি পাশ করছিস।
    রুবি : কি বলছো মা শুধু কি পাস জিপিএ ৫ পেয়েছি আমি।
    জরিনা : জিপি ফাইভ সে আবার কি রে বাবা? আগে আমরা জানতাম ফাস্ট ডিভিশন সেকেন্ড ডিভিশন পায় কি সব ফাইভ বলছিস তুই।
    রুবি : মা তুমি অতসব বুঝবে না এখন রেজাল্ট এভাবেই হয়।
    হাসেম : তুই আমার মুখ উজ্জ্বল করেছিস রে মা।
    আজ আমি সত্যিই নিজেকে একজন গর্বিত পিতা বলে মনে হচ্ছে। কত কষ্ট বুকের মধ্যে চাপা ছিল সেই কষ্টটা তুই আজ ভুলিয়ে দিলিরে মা ভুলিয়ে দিলি। (আনন্দে কাঁদবে)
    রুবি : ভুলে যাও আব্বা তোমার পিছনে যত কষ্ট আছে। আমি তোমার মুখ উজ্জ্বল করবো দেখে নিও আমি ডাক্তার হব।
    জরিনা : গরিবের আবার ঘোড়ার রোগ একজনের মানুষ করে জমি জায়গা বেঁচে বিদেশে পাঠিয়েছে তার কোন খোঁজ নেই কোথায় কোন বড় লোকের মেয়ের বিয়ে করে ঘর সংসার করছে এখন আমাদেরকে চেনেই না আর একজন ডাক্তার হবে!
    হাসেম : হ্যাঁ একটু থামোই না মেয়েটার খুশির সংবাদ তাকে না হয় উৎসাহ দেবে তা না তুমি ভর্ৎসনা না করছো এটা ঠিক না। আমি বিকেলে মিষ্টি কিনে এনে পাড়া প্রতিবেশীদের সবাইরে খাওয়াবো।
    জরিনা : গ্রামে বাকি যে জমিটুকু আছে সেগুলো বেঁচে আনো মেয়েকে ডাক্তার বানাও কোন কোন বড় লোকের ছেলের হাত ধরে চলে যাবে।আর আমাদের না খেয়ে মরতে হবে দেখে নিও। (গজ গজ করতে করতে ঘরের মধ্যে চলে যায়, বাপ মেয়ে দুজনে হেসে ওঠে, হাসেম মেয়ের মাথায় হাত দিয়ে সান্ত্বনা দেয়)
    হাসেম : তুই আমার আলো। তোর আলোতেই আমার অন্ধকার ঘরটা আজ আলোকিত। যা মা হাত মুখ ধুয়ে আয় আজ একসাথে বসে খাবো। ( দুজনে হাত মুখ ধুতে চলে যায়)
    Cut to
    দৃশ্য ।। ১০।।রাত।। রুম ।।ইনডোর
    চরিত্র: রাফি
    [ ফ্রেমে দেখা যায় রাফি বসে বসে ভাবছে]
    রাফি 🙁 স্বগত) আগামীকাল রুবির সাথে দেখা করব আমার ফাইনাল ডিসিশনটা জানিয়ে দেবো।
    ও লেখাপড়া করছে করুক তাতে কোন সমস্যা নেই আমরা বিয়েটা করে রাখবো এবং আমি ওর লেখাপড়া করার সহযোগিতা করব।
    Cut to
    দৃশ্য ।। ১১।।দিন ।। রাস্তার মোড়।।আউডোর
    চরিত্র: রাফি, রুবি
    [ ফ্রেমে দেখা যায় রাফি বাইক থামিয়ে অপেক্ষা করছে, রুবি দূর থেকে হেঁটে আসছে]
    রাফি : কেমন আছো আমার হৃদয়ের রাণী, পরীক্ষার রেজাল্ট বের হলো, কলেজে ভর্তি হলে, এবার শর্তটা উইথড্র (Withdraw) করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। আমার আজ্ঞা মঞ্জুর করুন।
    রুবি : এখনো আরো ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে অবুঝ যুবক।
    রাফি : তা হয়না, মহারানী , আমার প্রেম জোয়ারে,
    দোলা লেগেছে, সেই জোয়ারে ভাসিয়ে দেবো ময়ূরপঙ্খী নাউ, তুমি দাও সাঁড়া দাও।
    রুবি : সাঁড়া না হয় দিলাম কিন্তু ময়ূরপঙ্খী নাউয়ে এখন উঠার সময় হয়নি যুবক। তোমার খেয়ালি মনে এটা শুধু আবেগের দোলা, শান্ত হও , হয়েও না উতলা। আমিতো আছি তোমার প্রেমের প্রদীপ হাতে। অন্ধকারের যাত্রাপথের বাঁধা পেরিয়ে তবেই তো আমি আসবো।
    রাফি : শোন এই রাস্তায় দাঁড়িয়ে সব কথা বলা যায় না, চলো আমরা একটা রেস্টুরেন্টে যাই, আজকে তোমাকে মিষ্টিমুখ করাবো। তারপর ফাইনাল ডিসিশনটা জানাবো। বাইকে ওঠো। এত দ্বিধা কেন ?ওঠো। (রুবি বাইকে ওঠে, বাইক নিমিষেই দূরে চলে যায়)

    দৃশ্য ।।১২ ।। দিন।।রাফিদের বাড়ি।। ইনডোর
    চরিত্র: রাফি, মহিউদ্দিন, মিলি
    [সবাই ডাইনিং টেবিলে বসে চা নাস্তা খাচ্ছে]
    মহিউদ্দিন : কি ব্যাপার রাফি চারিদিকে তোমাকে নিয়ে কানাঘুষা শুনছি! বিষয়টা কি?
    রাফি : যা শুনেছো বিষয়টা সত্যি। আমি আর রুবি কোট মেরেজ করেছি।
    মহিউদ্দিন : জাতপাত না দেখে এমন একটা কাজ করতে পারলে। এখন মানসম্মান নিয়ে টানাটানি।
    রাফি : সবদিক দিয়ে সবাই হানডেট পারসেন হয়না আব্বু। মেয়েটির দেখতে সুন্দর, সেই সাথে অত্যন্ত মেধাবী, একটু সাপোর্ট করলে অনেক দূর এগুতে পারবে।
    মহিউদ্দিন : তুমি আবেগ এই ঘটনা ঘটিয়েছো, মোহ কেটে গেল, তখন আফসোস করবে।
    মিলি : কোথাকার কোন মেয়ে কে জানে শেষে পচা শামুকে পা কাটলে। এর খেসারত তিলে তিলে দিতে হবে।
    রাফি : মা রুবি অনেক ভালো মেয়ে। তোমার পছন্দ হবে।
    মহিউদ্দিন: ঘটনা যখন ঘটিয়ে ফেলেছো, বাড়িতে নিয়ে এসো। এখন ঘরে বসে থাকলে চলবে না কিছু তো করতে হবে।
    রাফি : রুবির ইচ্ছা ডাক্তারী পড়া । ওকে ডাক্তারী পড়িয়ে আমি একটা প্রাইভেট হাসপাতাল তৈরি করব। সেখানে দুজন মিলে হাসপাতাল পরিচালনা করবো।
    মিলি : গাছে কাঁঠাল আর গোঁফে তেল দিলে তো চলবে না আগে ঘরে তুলে আনো দেখি কোন বংশের মেয়ে কি স্ট্যাটাস তার পর দেখা যাবে।
    রাফি : কালকে রুবিকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসবো।
    মহিউদ্দিন: আমি কোন আনুষ্ঠানিকতা করতে পারবো না তুমি নিজের মতো করেছো নিজের মত সব ব্যবস্থা করবে যাও। (রাফি বেরিয়ে যায়)
    Cut to
    দৃশ্য ।। ১৩।।দিন ।। রুমিদের বাড়ি ।। আউটডোর
    চরিত্র: রাফি, রুবি, হাসেম, জরিনা
    [ ফ্রেমে দেখা যায়, একটি প্রাইভেট কার থেকে রাফি নামবে, হাসেম একটি চেয়ারে বসে আছে, রাফি বাড়ির ভেতর আসবে সে রুবিকে নিতে এসেছে]
    রাফি : আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন?
    হাসেম : আলাইকুম সালাম, আলহামদুলিল্লাহ। রুবি মা এই দিকে আয় । দেখ কে এসেছে।
    রুবি : আসছি আব্বা।
    হাসেম : একটা চেয়ার আন, ছেলেটাকে বসতে দে। (রুবি একটা চেয়ার নিয়ে বাইরে আসে, হতভম্ব হয়ে যায়)
    রুবি : কি ব্যাপার আপনি? মানে তুমি!
    রাফি : তোমাকে নিতে এসেছি। বাড়িতে জানাজানি হয়ে গেছে। আব্বা মা তোমাকে নিয়ে যেতে বলেছেন।
    রুবি : তা কি করে হয়। তাছাড়া আব্বা মাকে এ ভাবে ফেলে রেখে কিভাবে যাবো।
    হাসেম : ছেলেটা কি সব বলছে?
    রুবি : আব্বা আমরা একটা ভুল করে ফেলেছি, আমি আর ও কোর্ট ম্যারেজ করেছি।
    হাসেম : এত বড় একটা কথা গোপন করলি মা!
    রুবি : (কাছে এসে): আব্বা আমি জানি তুমি কষ্ট পেয়েছো। আমাদের ক্ষমা করে দাও , রাফি আমাকে সম্মান করে, ভালোবাসে। আমিও ওকে ভালোবেসে ফেলেছি। আমি ওর সঙ্গে সুখী হবো।
    হাসেম : (চোখে জল)তুই সুখী হলেই আমার জীবন সার্থক। কিন্তু মনে রাখিস, নিজের স্বপ্নকে কখনো হারিয়ে ফেলিস না।
    জরিনা : আমি বলেছিলাম না এই যে কষ্ট করে লেখা পড়া শিখাচ্ছো, একদিন বড় লোকের ছেলের হাত ধরে চলে যাবে। সত্যি হলো তো।
    রুবি : মা আমাকে ভুল বুঝোনা। তোমরা কথা বলো আমি ব্যাগ গুছিয়ে আনি। (ঘরের ভিতরে যায়)
    রাফি : আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন,
    জরিনা : সন্তানের জন্য সব বাবা মা দোয়া করে।
    আমার মেয়েটাকে দেখে শুনে রেখো বাবা।
    (রুবি ব্যাগ নিয়ে বাইরে আসে)
    রাফি : আমার উপর ভরসা রাখবেন। চলো রুবি।
    হাসেম :(মেয়েকে বিদায় দিচ্ছেন) জীবনের তাগিদে রিক্সার চাকা অনেক দূর ঘুরিয়েছি, শুধু তোর জন্য। আজ তুই নিজের পথে হাঁটবি। আমি জানি, তুই হারবি না।”
    রুবি :(রুবি কাঁদতে কাঁদতে বাবাকে জড়িয়ে ধরে) আব্বা তুমি আমার সবকিছু। আমি যতদুর থাকি না বাপ মেয়ের ভালোবাসা কখনো মলিন হবে না। মা আমার জন্য দোয়া করো। (বিদায় নিয়ে বাড়ির পাশে রাখা প্রাইভেট কারে উঠে, রাফি স্টার্ট দেয়। গাড়ি গাড়ি দূরে মিলিয়ে যায়, হাসেম এবং জরিনা এক দুশ্চিন্ত চেয়ে থাকে) Cut to

    দৃশ্য ।। ১৪।। রাত ।। রাফির রুম ।। ইনডোর
    চরিত্র: রাফি, রুবি,
    [ ফ্রেমে দেখা যায় চিন্তা মগ্ন ভাবে রুবি বসে আছে রাফি রুমে ঢুকে কথা বলবে]
    রাফি : কি ভাবছো? আমার বাবা-মায়ের কথায় কষ্ট পেওনা। আমরা যেহেতু নিজেরা বিয়ে করেছি কড়া কথা বলতে পারে। তোমার অতীত আমার গর্ব। তুমি শুধু আমার স্ত্রী না, তুমি আমার অনুপ্রেরণা।
    রুবি : (নিচু স্বরে) না তেমন কিছু মনে করিনি।
    রাফি : রাত অনেক হয়েছে। চলো ডিনার করে আসি। (দুজনে ডিনার করতে বেরিয়ে যায়) Cut to

    চলবে —-

    3
    1 Comment
    • সুনিপুণ চিত্রনাট্য এবং জীবনমুখী গল্পের জন্য শুভকামনা। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম!

Abul Hasan Tuhen

Friends

Skip to toolbar